বুধবার ০৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৭ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: June 03, 2026
June 03, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

জাপানে মসজিদ উদ্বোধন করে বিপাকে পাকিস্তান

Published: June 03, 2026 at 09:38 AM
জাপানে মসজিদ উদ্বোধন করে বিপাকে পাকিস্তান

গত এপ্রিলে জাপানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ একটি মসজিদ উদ্বোধন করেন। জাপানের স্থানীয় প্রশাসনের দাবি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মসজিদটি জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের কাওয়াগোয়ে এলাকায় অবস্থিত। জাপানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানোর পর টোকিওতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস এই মসজিদ প্রকল্প থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য আসাহি শিম্বুনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাওয়াগোয়ে শহরের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বর্গমিটার পাহাড়ি বনভূমির ওপর এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় আইন অনুযায়ী এই অঞ্চলটি মূলত একটি নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এলাকা, যেখানে সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী ভবন নির্মাণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।  কাওয়াগোয়ে সিটি কর্পোরেশন এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, নগর পরিকল্পনা আইনের তোয়াক্কা না করে এবং নগর প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের বৈধ ছাড়পত্র বা অনুমতি না নিয়েই এই মসজিদ ভবনটি তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনার জল ঘোলা হওয়ার মূল কারণ হলো, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আয়োজিত মসজিদটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ অংশ নিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে। পাকিস্তান দূতাবাস গত ৩১ মে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা রাষ্ট্রদূতকে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন যে জাপানি আইন মেনে সব ধরণের সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়েছে এবং সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্রদূত সেখানে গিয়েছিলেন। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, স্থানীয় আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা এই ধরণের কোনো প্রকল্পের সাথে পাকিস্তান সরকারের বিন্দুমাত্র কোনো আর্থিক বা সাংগঠনিক সংযোগ নেই।


এদিকে জাপানের প্রাচীনতম ‘ইয়াশিও মসজিদ’ কমিটির প্রতিনিধি ৬২ বছর বয়সি পাকিস্তানি নাগরিক শাকিল শেখ মোহাম্মদ কাওয়াগোয়ের এই প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া এভাবে ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ করা মোটেও ভালো কাজ নয়।  তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় জাপানি অধিবাসীদের সাথে সুসম্পর্ক এবং দেশের আইন বজায় রাখার মাধ্যমেই কেবল একটি মসজিদের পবিত্র পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের জেরে টোকিওর পাকিস্তান দূতাবাস গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জাপানে বসবাসরত সকল পাকিস্তানি নাগরিককে ধর্মীয় স্থান নির্মাণের ক্ষেত্রে জাপানি আইন ও স্থানীয় সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।