ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক বছরেরও বেশি সময় আগে ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ১৪০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। আজ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ধারাবাহিক এই হামলার পাশাপাশি অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীরতর রূপ নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি জানায়, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। বর্তমানে অঞ্চলটির প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি আশ্রয়ের প্রয়োজন। গাজার কোনো হাসপাতালেই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু নেই এবং প্রায় ১৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের (সংকট-মাত্রার ক্ষুধা) চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন।
তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জোর দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, ‘ইসরায়েলি অপরাধের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যেতে দেওয়া যাবে না।’ অ্যামনেস্টি স্পষ্ট করে জানায়, গাজার ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার এবং ভুক্তভোগীদের মৌলিক অধিকারের ওপর ভিত্তি করেই হতে হবে। বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করে বলা হয়, বিশ্বনেতারা ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত ও আদেশ মেনে চলতে তারা দেশটির ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি।
মানবাধিকার সংস্থাটি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিশ্বের এই নিরবচ্ছিন্ন নীরবতা ও দায়হীনতার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ওপর আরও নৃশংসতা চালাতে ইন্ধন পাচ্ছে।