বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
প্রথম সপ্তাহেই ৫৭৭ কোটি রুপি আয় করে ইতিহাস গড়লো রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ টাইফুন ‘চাম্পি’র কবলে তাইওয়ান, ২ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল পারফিউম ব্যবসায় সামান্থার বাজিমাত, আয় ছাড়াল ১২০ কোটি রুপি ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ জনের প্রাণহানি হলিউডের ঐতিহ্যবাহী সম্মাননা পাচ্ছেন টম ক্রুজ ‘আমার সাফল্য অনেকেই মেনে নিতে পারে না’, সমালোচকদের একহাত নিলেন রাশমিকা স্পেনের রাজপরিবারের সম্মাননা পাচ্ছেন মেসি আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে স্থায়ী কোচ নিয়োগ দিল কোস্টারিকা ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম ভেঙে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ অস্ট্রেলিয়ার মেগান শুট আবহাওয়া বদলাচ্ছে, বাড়ছে জ্বর-সর্দি ও ত্বকের সংক্রমণ, সতর্ক থাকবেন যেভাবে
Printed on: October 22, 2026
October 22, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ঋণের পাহাড়ে চাপা বিশ্ব, সুদেই বছরে খরচ ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

Published: October 22, 2026 at 11:20 AM
ঋণের পাহাড়ে চাপা বিশ্ব, সুদেই বছরে খরচ ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

বিশ্বজুড়ে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায়ের ঋণ দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। এই ঋণের পরিমাণ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ডলারের সমান। ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো।


অন্যদিকে, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে গত এক বছরে সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হয়েছে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। সামরিক খাতে বিশ্বব্যাপী ব্যয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের তুলনায়ও এই অর্থের পরিমাণ বেশি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসনের উচ্চমূল্য এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন না থাকার প্রতিবাদে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালের বিভিন্ন বিক্ষোভে কোথাও কোথাও সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে অনেক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেও পালিত হয়েছে।


এই পরিস্থিতিতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ পরিশোধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বছরের পর বছর ঋণ নিয়ে ব্যয় চালাতে গিয়ে ইউরোপের অনেক দেশ এখন বড় ঋণের বোঝায় জর্জরিত। একই সঙ্গে সেই ঋণের খরচও বেড়ে চলেছে।


ইউরোপে বিক্ষোভের কেন্দ্রে ফ্রান্স

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ফ্রান্স। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষা খাতে সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।


তবে জনঅসন্তোষের পাশাপাশি দেশটির আর্থিক পরিস্থিতিও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফ্রান্সের ঋণ নেওয়ার ব্যয় ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, নতুন ঋণ নিতে কিংবা পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন করতে দেশটিকে আগের তুলনায় বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। সরকারের আয়ের বড় অংশ যদি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়, তাহলে স্কুল, হাসপাতাল, পেনশন এবং অন্যান্য জনসেবামূলক খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ কমে যায়। এতে একদিকে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে, অন্যদিকে নাগরিকদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।


সরকার কীভাবে ঋণ নেয়?

ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারও প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি সরকার সাধারণত বন্ড বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে। সরকারি বন্ড মূলত সরকারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কেনা একটি ঋণপত্র। বিনিয়োগকারীরা বন্ড কিনে সরকারকে অর্থ দেন। বিনিময়ে সরকার তাদের নির্ধারিত হারে সুদ দেয় এবং মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।


উদাহরণ হিসেবে, কোনও বিনিয়োগকারী যদি একটি দেশের ১০ বছর মেয়াদি বন্ড ১০০ ইউরো দিয়ে কেনেন, তাহলে সরকারকে বন্ডের শর্ত অনুযায়ী সুদ দিতে হবে এবং ১০ বছর পর মূল ১০০ ইউরো ফেরত দিতে হবে। সুদের হার ২.৫ শতাংশ হলে: বিনিয়োগকারী বছরে ২.৫০ ইউরো পাবেন। ১০ বছরে মোট সুদ হবে ২৫ ইউরো।

•    সুদের হার ৫ শতাংশ হলে: বছরে সুদ হবে ৫ ইউরো। ১০ বছরে মোট সুদ দাঁড়াবে ৫০ ইউরো।

দুই ক্ষেত্রেই মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী মূল ১০০ ইউরো ফেরত পাবেন। তবে সুদের হার দ্বিগুণ হওয়ায় সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও দ্বিগুণ হয়ে যায়।


সরকারি ঋণের খরচ বোঝার ক্ষেত্রে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ড বা বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশিত বার্ষিক মুনাফার হার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই হার থেকে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কতটা আস্থাশীল, তারও একটি ধারণা পাওয়া যায়।


ঋণের সুদ বাড়লে সংকুচিত হয় সরকারি ব্যয়

বন্ডের বাজারমূল্য কমলে সাধারণত এর ইল্ড বেড়ে যায়। ফলে সরকারকে নতুন ঋণ নেওয়ার সময় বেশি সুদ দিতে হয়। পরিবারের ক্ষেত্রে যেমন গৃহঋণের সুদের হার বেড়ে গেলে মাসিক কিস্তির চাপ বাড়ে, তেমনি সরকারেরও ঋণ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সরকারি বাজেটে। ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ বরাদ্দ করতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক, সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশনের মতো খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমতে পারে। সরকারকে তখন কর বাড়ানো, অন্য খাতে ব্যয় কমানো কিংবা নতুন ঋণ নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়।


আল-জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরোপের প্রধান অর্থনীতিগুলোর ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের সুদের হার ২০০০-এর দশকের শুরুর পর এতটা উঁচু পর্যায়ে আর দেখা যায়নি। ইউরো চালুর পরপরই তখনকার বাজার পরিস্থিতিতে ঋণের খরচ বেশি ছিল। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ইউরোজোন ঋণসংকটের সময় গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের মতো আর্থিক চাপে থাকা দেশগুলোকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়েছিল। আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালের বন্ডের ইল্ড ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর দেশ দুটি আন্তর্জাতিক সহায়তা নিতে বাধ্য হয়েছিল।


বর্তমানে ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের সুদের হার প্রায় ৫ শতাংশ। বিপরীতে জার্মানির ক্ষেত্রে এই হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। দুই দেশের সুদের হারের এই ব্যবধান ইঙ্গিত দেয়, ফ্রান্সকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা জার্মানির তুলনায় বেশি মুনাফা দাবি করছেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের ঋণের সুদের হার এখন ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও বেশি। ইউরোজোন ঋণসংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ছিল এই দুটি দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের ঋণ নেওয়ার খরচই কেবল ফ্রান্সের চেয়ে বেশি।


সরকারি ঋণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, জিডিপির তুলনায় এগিয়ে জাপান

সরকারি ঋণের মোট পরিমাণের হিসাবে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে চীন, দেশটির সরকারি ঋণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ।


জাপানের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের অনুপাতে বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে দেশটি শীর্ষে রয়েছে। জাপানের সরকারি ঋণ দেশটির জিডিপির ১৯৯ শতাংশ।


অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০২ শতাংশ। ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ইতালির সরকারি ঋণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১৩৮ শতাংশ। আর জার্মানির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ৬৫ শতাংশ।


এখানে মোট ঋণের পরিমাণ এবং জিডিপির অনুপাতের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনও দেশের ঋণের অঙ্ক বড় হলেই তার অর্থনৈতিক ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হবে, এমন নয়। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বুঝতে অর্থনীতির আকার, সরকারের আয়, ঋণের সুদের হার এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হয়।


২০৩০ সালে ফ্রান্সের ঋণ জিডিপির ১২১.৮ শতাংশ হতে পারে

ফ্রান্সের সরকারি ঋণের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটির সরকারি ঋণ জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।


ঋণের এই সম্ভাব্য বৃদ্ধি দেশটির সরকারি অর্থব্যবস্থাকে টেকসই পথে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। কারণ, ঋণের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি সুদের হার উঁচু থাকলে প্রতিবছর বাজেট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ ঋণদাতাদের পরিশোধ করতে হবে।


এতে সরকারের হাতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং জনসেবার মান উন্নয়নে ব্যয় করার মতো অর্থ কমে যেতে পারে।


বছরে সুদেই ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

বৈশ্বিক ঋণের সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো এর সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো গত এক বছরে সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।


এই অঙ্কের ব্যাপ্তি বোঝাতে বলা যায়, এটি বিশ্বব্যাপী সামরিক খাতে ব্যয় করা ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি। একইভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তুলনায়ও সুদ পরিশোধের অঙ্ক বড়।


অর্থাৎ, বিপুল অর্থনৈতিক সম্পদ এখন ঋণ পরিশোধের ব্যয়ে আটকে যাচ্ছে। এই অর্থের একটি অংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো খাতে ব্যবহার করা গেলে অর্থনীতি ও জনজীবনে ভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়তে পারত।


তবে ঋণের সুদ পরিশোধ এবং এসব খাতে ব্যয় সরাসরি একে অপরের বিকল্প নয়। সরকারের রাজস্ব, বাজেটের কাঠামো এবং ঋণের শর্তের ওপর নির্ভর করে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।


সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়ে?

সরকারি ঋণের সুদের হার বেড়ে গেলে তার প্রভাব শুধু রাষ্ট্রীয় বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আর্থিক বাজারের মাধ্যমে তা সাধারণ মানুষের জীবনেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।


প্রথমত, সুদ পরিশোধের ব্যয় মেটাতে সরকার কর বাড়াতে পারে বা বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ কমাতে পারে। এর ফলে সরকারি স্কুল, হাসপাতাল, পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর চাপ বাড়তে পারে।


দ্বিতীয়ত, সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে গেলে বেসরকারি খাতেও ঋণের সুদের হার বাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে গৃহঋণ, গাড়ি কেনার ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধের খরচ বেড়ে যেতে পারে।


তৃতীয়ত, ঋণের সুদ ও অন্যান্য ব্যয় বাড়লে সরকার এবং পরিবার- উভয়েরই অন্যান্য খাতে ব্যয় করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় আগে থেকেই বেশি থাকলে এই চাপ সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।


ইউরোপের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, কম মজুরি, আবাসনসংকট এবং সরকারি সেবার ঘাটতির মতো একাধিক কারণ রয়েছে। ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ ও সুদের ব্যয় এসব সমস্যার সমাধানকে আরও জটিল করে তুলছে।


সুতরায় বলা যায়, ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ঋণ এবং বছরে ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সুদ পরিশোধের ব্যয় বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ঋণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সরকারি ব্যয় নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলেও ঋণের খরচ দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকলে সরকারের আর্থিক স্বাধীনতা সংকুচিত হতে পারে। একই সঙ্গে জনসেবা, বিনিয়োগ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।