সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মিসর। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে হামলার নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “সৌদি আরবের নিরাপত্তা আরব ও মিসরের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।” দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কায়রোর অবস্থানও বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। আজ বিমানবন্দরটিতে চালানো হামলায় দু’জন নিহত এবং আটজন আহত হন বলে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘনের শামিল। এতে নির্বিচার ও দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে আকাশপথে চলাচল, বিভিন্ন স্থাপনা এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বিবৃতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি মিসরের দ্ব্যর্থহীন বিরোধিতার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে কায়রো।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে এ হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিমানবন্দর ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। মিসরের বিবৃতিতে হামলার জন্য দায়ী পক্ষের পরিচয় কিংবা হামলার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ঘটনার দায় কার, সে বিষয়ে এই বিবৃতির ভিত্তিতে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে দেখার যে অবস্থান মিসর জানিয়েছে, তা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে কায়রোর উদ্বেগকে তুলে ধরে।