বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
ফের চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, ১ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু ২০ বছর পূর্তিতে ‘দ্য প্রেস্টিজ’ ফিরছে পর্দায়, দেখা যাবে আইম্যাক্সে টাইগার নয়, হামলাকারীদের নিশানায় ছিলেন সালমান: মুম্বাই পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শেষ হলো ৫ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব; মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের সুর রাজশাহীতে পরিত্যক্ত বস্তা থেকে ১০৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার বারী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার পূজা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে সমাপনপর্ব রাজধানীর ৩৩ পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন, নিরাপত্তায় ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ, কি খাবেন পুরো ডিম নাকি শুধু সাদা অংশ? ফেসবুকের ‘রিচ’ মেট্রিক বন্ধ হচ্ছে ৩১ অক্টোবর, আসছে ‘ভিউয়ারস’
Printed on: October 21, 2026
October 21, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

চার বছরে কার্বন নিঃসরণ ১৮ শতাংশ কমানোর আহ্বান জাতিসংঘের

Published: October 21, 2026 at 09:38 AM
চার বছরে কার্বন নিঃসরণ ১৮ শতাংশ কমানোর আহ্বান জাতিসংঘের

জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর অভিঘাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় ফিরে আসতে হলে আগামী চার বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (১৮ শতাংশ) কমাতে হবে। এছাড়া আগামী এক দশকের মধ্যে তা কমিয়ে আনতে হবে প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন হুঁশিয়ারি ও আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়নের যুগের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ ছিল, তার সময়সীমা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের মাত্রা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা এখনও সম্ভব।


ইউএনইপির বার্ষিক 'এমিসন গ্যাপ' শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বিশ্বনেতারা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও সে অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদি নীতি বা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ এর আগের বছরের প্রায় সমপর্যায়ে থেকে থমকে দাঁড়িয়েছে বা স্থবির রূপ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা একে সরাসরি কার্বন নিঃসরণের শীর্ষসীমা বলতে রাজি নন। কারণ, ভূ-রাজনীতির চরম অনিশ্চয়তা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত বিকাশ সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে এখনও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি রয়ে গেছে।


গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে পারলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। যদিও এই মাত্রার তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেও বিগত মাসগুলোর মতো তীব্র দাবাদাহ ঘন ঘন ঘটবে, তবুও তা পরিস্থিতিকে আরও চরম ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।


জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসেন সরকারগুলোর বিলম্বিত পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে সরকারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে যে সময় পার হয়ে যাচ্ছে। আমরা আগে বলতাম, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রায় থাকার জন্য যদি পরাক্রমশালী প্রচেষ্টা চালানো হয়, তবে এখনও সুযোগ রয়েছে। তবে এখন এটা পরিষ্কার যে সেই প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টাটি চালানো হয়নি। আমরা কেবল সময় নষ্ট করেছি এবং এখন সেই সুযোগের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মূল ভিত্তি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশা পুরোপুরি ছেড়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরও যোগ করেন, আমরা এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের সময়কালকে যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত করতে পারি। এখন তোয়ালে ফেলে দিয়ে হাল ছেড়ে দেওয়ার সময় নয়। এটি হচ্ছে কীভাবে দ্রুততম সময়ে আমরা আমাদের সঠিক পথে ফিরে আসতে পারি, সেই পথ খোঁজার লড়াই।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক অবস্থান পুরো প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে। চীন এর পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে পুনরায় প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং তাদের কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের দীর্ঘদিনের ধারা উল্টে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। জলবায়ু সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ক্লাইমেট অ্যানালিটিক্স'-এর প্রধান নির্বাহী বিল হেয়ার এই পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, প্রতিটি সরকারেরই দায়িত্ব রয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মতো বড় দেশগুলোর এখনই রাজনীতি বন্ধ করে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া উচিত। বর্তমানে তারা যেন জ্বলন্ত আগুনের দিকে তাকিয়ে তা অস্বীকার করছে এবং আগুনে আরও পেট্রোল ঢালছে; অন্যদিকে তাদের দেশের নাগরিকরাই তীব্র দাবাদাহ ও দাবানলের শিকার হচ্ছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের এই আপসহীন মনোভাব অন্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করেছে। গত নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির অধীনে দেশগুলোর নতুন ও জোরালো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা থাকলেও তা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। ইউএনইপির পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশগুলোর এই নতুন প্রতিশ্রুতিগুলো যদি শতভাগ বাস্তবায়িতও হয়, তাও বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে, যা বিশ্বের বহু অঞ্চলের জীবনযাত্রাকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে। আর বর্তমান জলবায়ু নীতি বজায় থাকলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বর্তমানে প্রতি পাঁচ বছরে যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসৃত হচ্ছে, তা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের পূর্বাভাসকে আরও ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে জলবায়ু ব্যবস্থার চরম বিপর্যয়কর 'টিপিং পয়েন্ট' বা সংকটময় বিন্দুগুলো স্পর্শ করার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিজ্ঞানীরা।


আফ্রিকা ভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক 'পাওয়ার শিফ্ট আফ্রিকা'-এর পরিচালক মোহাম্মদ অ্যাডো পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো সমাধান আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে। সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের বিকাশ সবার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে ঘটছে, তবুও সরকারগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসতে পারছে না। প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে, আর রাজনৈতিক নেতৃত্ব পিছিয়ে পড়ছে চরম ধীরগতিতে।


প্যারিস চুক্তির গ্লোবাল স্টকটেক-এর মাধ্যমে দেশের প্রতিশ্রুতিগুলোর ঘাটতি পূরণ করার কথা ছিল, যার পরবর্তী মূল্যায়ন ২০২৮ সালে নির্ধারিত। কিন্তু সম্প্রতি জাতিসংঘের ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এই বৈশ্বিক মূল্যায়নের আগে তাদের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে সরকারগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।


তবে এ বিষয়ে পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের পরিচালক এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জলবায়ু বিজ্ঞানী ইয়োহান রকস্ট্রম বলেন, আইপিসিসির প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সূচি নিয়ে বিবাদ যেন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপকে স্তব্ধ না করে। সব বর্তমান জাতীয় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলেও ২০৩৫ সালের মধ্যে বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ পৌঁছাবে প্রায় ৫০ গিগাটনে, যেখানে তা ৩৫ গিগাটনের নিচে থাকা উচিত। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অত্যন্ত স্পষ্ট। এই নিঃসরণের ব্যবধান কমানো এখন আর বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ঘাটতির বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।


একই সাথে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি দ্রুত উষ্ণায়ন সীমিত করার একটি কার্যকর পথ হিসেবে মিথেন গ্যাস হ্রাসের ওপর জোর দিয়েছে। কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে ৮০ গুণ বেশি শক্তিশালী এই গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমাতে পারলে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে তা তাত্ক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।