শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 04, 2026
September 04, 2026
বিনোদন
বিনোদন

৭৩ বসন্তে আজও অমলিন যার কণ্ঠের জাদু

Published: September 04, 2026 at 11:18 AM
৭৩ বসন্তে আজও অমলিন যার কণ্ঠের জাদু

বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পা দিয়েছেন এই বরেণ্য শিল্পী।

পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতজীবনে চলচ্চিত্রের গানসহ অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে।

১৯৫৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া সাবিনা ইয়াসমিন শৈশব থেকেই বেড়ে উঠেছেন সংগীতের আবহে। পরিবার থেকেই সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা পান তিনি। দীর্ঘ সাধনা ও চর্চার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন স্বতন্ত্র কণ্ঠশিল্পী হিসেবে।

প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা কিংবা দেশাত্মবোধ—বিভিন্ন আবেগের গান তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে আলাদা মাত্রা।  কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধতা ছড়ানো এই শিল্পীকে বলা হয় গানের পাখি, সুরের সম্রাজ্ঞী।

১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

সময়ের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম প্রধান পরিচয়।

সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে রেকর্ড হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি গান। এর মধ্যে দেড় হাজারের বেশি চলচ্চিত্রের গান রয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে দীর্ঘ এই উপস্থিতি তাঁকে দেশের সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পীতে পরিণত করেছে।

চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গানেও সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান অনন্য।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার নানা গান তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তাঁর গাওয়া দেশাত্মবোধক গানগুলো আজও শ্রোতাদের মধ্যে একই রকম আবেগ তৈরি করে।

সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও প্রযুক্তিতে এসেছে নানা পরিবর্তন। বদলেছে শ্রোতাদের গান শোনার মাধ্যমও। রেডিও ও টেলিভিশনের যুগ পেরিয়ে গান এখন পৌঁছে গেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু মাধ্যম বদলালেও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের আবেদন কমেনি। 

দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি। এ ছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন একাধিকবার। সংগীতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবিনা ইয়াসমিন ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যা এক বিরল রেকর্ড। চলচ্চিত্রের গানে তাঁর অবদান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে সাবিনা ইয়াসমিন শুধু গানই করেননি, তৈরি করেছেন বাংলা গানের এক সমৃদ্ধ অধ্যায়। তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের স্মৃতিতে জীবন্ত। তাই ৭২ পেরিয়ে ৭৩ বছরে পা দিলেও বাংলা গানে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের দীপ্তি আজও একইভাবে উজ্জ্বল।