শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 04, 2026
September 04, 2026
বিনোদন
বিনোদন

যারা পাশে ছিলেন না, তারাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন

Published: September 04, 2026 at 11:08 AM
যারা পাশে ছিলেন না, তারাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন


হলমালিকদের চরম অবহেলা ও বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অসহযোগিতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বক্স অফিসে অবিশ্বাস্য এক সফলতার গল্প তৈরি করেছে সদ্য মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ‘হনুমান অংশ’। গত ৭ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে আসার পর বড় বড় বাণিজ্যিক ছবির দাপটে পর্দার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলেও কেবল দর্শকের প্রশংসায় ভর করে ছবিটি এখন ৭৫ কোটি রুপির আয়ের দোরগোড়ায়। মাত্র ২ কোটি রুপি বাজেটে তৈরি এই স্বাধীন ধারার সিনেমাটির অপ্রত্যাশিত এই সাফল্য যখন গোটা বলিপাড়াকে চমকে দিয়েছে, ঠিক তখনই ইন্ডাস্ট্রির দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ছবির পরিচালক বিশাল।


ছবিটির এই দীর্ঘ ও নাটকীয় যাত্রা নিয়ে ‘দ্য রৌনক পডকাস্ট’-এ খোলামেলা কথা বলেছেন নির্মাতা বিশাল। তিনি জানান, মুক্তির শুরুতে দেশজুড়ে ৩৫০টিরও বেশি শো দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ‘হনুমান অংশ’। তবে সমসাময়িক বড় বড় বাণিজ্যিক রিলিজের কারণে চটজলদি তাদের স্ক্রিন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়। পিভিআর এবং আইনক্সের মতো নামীদামি মাল্টিপ্লেক্স প্রাঙ্গণগুলো তাদের শো চালাতে দ্বিধাবোধ করছিল। ফলে প্রাথমিক ২৫০টি শো থেকে রাতারাতি তা নেমে আসে মাত্র ২৫টিতে। 


স্ক্রিন সংখ্যা ও শো নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার পর একপ্রকার চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন পরিচালক। সিনেমাটি হয়তো আর টিকল না—এমন ভাবনার মাঝেই ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্ট তার মানসিকতা বদলে দেয়। সেখানে লেখা ছিল, ‌‘তুমি তোমার কাজ করে যাও, বাকিটা আমি দেখব।’ এই সাধারণ একটি বার্তাই তাকে প্রথম সপ্তাহের শেষে অলৌকিকভাবে অনুপ্রাণিত করে। গতানুগতিক প্রচারণার ওপর ভরসা না করে তিনি ও তার পুরো দল সরাসরি সাধারণ দর্শকদের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্বাধীনতা দিবসের আগের শুক্রবারে প্রধান অভিনেতা শোভিনভ সত্যা এবং সংগীত পরিচালক ঋষি পাঠককে নিয়ে সোজা সুরাটে হাজির হন বিশাল।


সুরাটের প্রেক্ষাগৃহে যখন একটিমাত্র শো চলছিল, ঠিক তখন সেখানে গিয়ে পৌঁছান তারা। পর্দার সামনে নির্মাতাদের দেখে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাস, কোলাকুলি ও আবেগে কেঁদে ফেলার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান হলমালিক নিজেই। এই অভাবনীয় জনস্রোত দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য হলমালিকদের ফোন করা শুরু করেন এবং ছবিটির শো সংখ্যা রাতারাতি বাড়িয়ে দেন। এরপর ভাদোদরা ও আলিগড়সহ বিভিন্ন শহরের সিনেমা হল ও মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করতে থাকে পুরো দল। আলিগড়ে একটি শো যোগ করার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার নজিরও তৈরি হয়। এর ওপর ভিত্তি করে সিনেমাটির প্রদর্শন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 


একই সময়ে মুক্তি পাওয়া ‘আওয়ারাপান ২’ এবং ‘বাটোয়ারা’-র মতো বড় বাজেটের ছবির বিপরীতে লড়াই করতে গিয়ে বলিপাড়ার কারও সমর্থন পাননি বলে স্পষ্ট অভিযোগ করেন বিশাল। সিনেমাটি এখন সফল হওয়ার পর যারা ফোন করে প্রশংসা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন, তাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানান, বিপদের দিনে তিনি যাদের কাছে সাহায্য চেয়ে পাননি, তারাই এখন সাধুবাদ জানাচ্ছেন। বিখ্যাত নির্মাতা মধুর ভাণ্ডারকর নিজে থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যার কাছে কোনো সাহায্যই চাওয়া হয়নি। কিন্তু যারা বিপদে পাশ থেকে সরে গিয়ে এখন ফোন দিচ্ছেন, তাদের নাম প্রকাশ করে আর বাড়তি প্রাধান্য দিতে চান না এই নির্মাতা।


বলিউডের বিদ্যমান সার্বিক পরিবেশকে অত্যন্ত অগোছালো ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যা দেন ‘হনুমান অংশ’-এর এই সফল পরিচালক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বলিপাড়ার বেশির ভাগ মানুষ নিজেরা জানেন না ঠিক কোন কাজটি সফল হবে, অথচ তারা অন্যদের জ্ঞান বিতরণ করতে ভালোবাসেন। বর্তমানে পুরো ইন্ডাস্ট্রি এমন কিছু বিভ্রান্ত মানুষে ভরে গেছে, যেখানে একদিকে রয়েছেন চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে সত্যিকারের সিনেমা বানাতে চাওয়া কিছু নির্মাতা, আর অন্যদিকে রয়েছেন কোনোপ্রকার পেশাদার আবেগ ছাড়া স্রেফ শখ মেটাতে আসা একদল মানুষ।