বলিউডে সু-অভিনেত্রী হিসেবে বেশ সুখ্যাতি রয়েছে তাপসী পান্নুর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো তাকে মোটেও সন্তুষ্ট করতে পারেনি, যা তার কথাতেই ফুটে উঠেছে। গত কয়েক মাসে মুক্তি পাওয়া একঘেয়ে ধারার সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে তাপসী জানান, এই ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করার চেয়ে অভিনয়জীবন থেকে অবসর নেওয়াকে তিনি শ্রেয় মনে করবেন। যদিও সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট চলচ্চিত্র বা অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করেননি তাপসী। তবে তার বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ার পরপরই নেটাগরিকদের বড় একটি অংশ দাবি করছেন, এই মন্তব্যের মূল নিশানা ছিল সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘টক্সিক’ ছবি এবং এর তারকা কিয়ারা আদভানি।
চলচ্চিত্র সাংবাদিক সুচিন মেহরোত্রার সঙ্গে কথা বলার সময় তাপসী পান্নু নিজের ক্যারিয়ারের সূচনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এক দশক আগে যখন তিনি তার অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন, তখন মূলধারার হিন্দি চলচ্চিত্র ছিল বৈচিত্র্যময় এবং কোনো একক নির্দিষ্ট ধারায় সীমাবদ্ধ ছিল না। সেই প্রেক্ষাপটের জন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করে তাপসী বলেন, যদি এমন একসময় হতো যেখানে কেবল এই একধরনের কনটেন্টই তৈরি হচ্ছে, তবে তার মতো কারও হয়তো এখানে কোনো ক্যারিয়ারই তৈরি হতো না। গত কয়েক মাসে প্রেক্ষাগৃহে আসা কিছু চলচ্চিত্র দেখার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হওয়া এক কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, বর্তমানে যেভাবে নির্দিষ্ট ধাঁচের সিনেমা নির্মিত হচ্ছে, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি কোনোভাবেই এর অংশ হতে চান না। এমন ধরনের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তাপসী রসিকতা ও ক্ষোভের সুরে যোগ করেন, এগুলো দেখার পর তার মনে হয়েছিল এবার হয়তো তার অবসর নেওয়ার সময় এসেছে।
তাপসী পান্নু অবশ্য স্বীকার করেছেন যে বাজারে এসব চলচ্চিত্রের একটি নির্দিষ্ট দর্শকশ্রেণি বা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে কেবল দর্শকপ্রিয়তার টানে তিনি অন্ধভাবে নিজেকে এমন কাজে সঁপে দিতে পারেন না। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এই অভিনেত্রী বলেন, তিনি তার অভিনয় পেশাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন, তবে অন্ধভাবে এতটা ভালোবাসেন না যে এই ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে হবে। নিজের ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে তিনি জানান, এমন এক কাজের ঝুলি বা ফিল্মোগ্রাফি তিনি তৈরি করতে চান যা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে। পরিবর্তনশীল সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যুগ বা ধারার পরিবর্তন হবে, কিন্তু একজন শিল্পীর কাজের তালিকা অপরিবর্তিত থাকবে। আজ থেকে ১০ বছর পর যেন পেছনের কাজের দিকে ফিরে তাকিয়ে নিজের পছন্দগুলোর জন্য কোনো লজ্জাবোধ বা সংকোচ না হয়, তেমন চলচ্চিত্রেই তিনি কাজ করতে চান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাপসী পান্নুর এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শুরু হয় জোর চর্চা ও নেটিজেনদের নানান প্রতিক্রিয়া। নেটিজেনদের একাংশ মন্তব্য করেছেন, তাপসী নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তো এই ধরনের সিনেমাতেই অভিনয় করেছিলেন, তাই এখন নতুন করে দেওয়ার মতো কিছু না পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং কিয়ারা আদভানির উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের সঙ্গে তার তুলনা টেনে তাকে কান্না থামানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্য একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, কিয়ারা অন্তত বড় পর্দায় এসব অভিনয় করেছেন, যেখানে তাপসীর ‘হাসিন দিলরুবা’র মতো ছবি এসেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন যে, তাপসী যদি নিজের নীতি অনুযায়ী কাজ করতে পারেন তবে অন্য অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রেও একই স্বাধীনতা প্রযোজ্য হওয়া উচিত, আর তা না হলে তার সত্যি সত্যিই অভিনয় থেকে অবসর নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ চলচ্চিত্রটি কেভিএন প্রডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের ব্যানারে ভেঙ্কট কে নারায়ণ এবং অভিনেতা যশ যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন। কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় নির্মিত ও চিত্রায়িত এই ছবিটি পরবর্তীতে হিন্দি, তেলেগু, তামিল ও মালায়লাম ভাষায় ডাব করা হয়। গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই তারকাবহুল চলচ্চিত্রে নয়নতারা, হুমা কুরেশি, কিয়ারা আদভানি, তারা সুতারিয়া এবং রুকমিণী বসন্ত অভিনয় করেছেন।
বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তি পেলেও প্রেক্ষাগৃহে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে ছবিটি এবং প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনেও এটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।