সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৫ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: June 29, 2026
June 29, 2026
জাতীয়
জাতীয়

তিস্তা ব্যারেজ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়, তিস্তাপাড়ে আনন্দের জোয়ার

Published: June 29, 2026 at 12:02 PM
তিস্তা ব্যারেজ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়, তিস্তাপাড়ে আনন্দের জোয়ার

জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর  এমন প্রত্যয়ে তিস্তাপাড়ে মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার দেখা দিয়েছে।  তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে যারা এতদিন আন্দোলন করেছেন তাদের মাঝেও স্বস্তি এসেছে। জনপ্রতিনিধি থেকে আরাম্ভ করে সাধারণ মানুষের মাঝে আশার সঞ্চয় হয়েছে।  আজ দুপুরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচার হলে তিস্তা নদীর দুই পাড়ের মানুষ আনন্দে মেতে উঠেন। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি, কৃষি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, শিক্ষা এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সারা বছর যেন কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ পান, সেজন্য সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর পরপরই তিস্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।


তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানি ও তিস্তা নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, বর্তমান সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এর স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর। উত্তরাঞ্চলের পানির অধিকার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের সংসদ সদস্যরা, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের দুটি বড় কনসার্ন হচ্ছে পদ্মা ও তিস্তা নদী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে সংসদ ভবন থেকে মুঠোফোনে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত পরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরী করতে হবে। জাতীয় বাজেটে যেহেতু তিস্তা নিয়ে কোনো বরাদ্দ নেই।  তাই দ্রুত পরিকল্পনা প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। 


রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামছুজামান সামু প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞকা প্রকাশ করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে প্রদানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাস্তাবায়ন হলে এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। খরা মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার, বর্ষায় দুইকূল প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য দেখতে হবে না। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঘোষণায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে রয়েছে।  মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেকের বৈঠকে পাশ করে কাজ শুরু করতে হবে। 


গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান, কাউনিয়া উপজেলার আসাদুজ্জামানসহ অনেকেই আনন্দ প্রতাশ করে বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী শত শত মানুষকে নিঃশ্ব করে দেয়। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ ঘুচবে।  জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানি পাওয়া যায় ৮০০ থেকে এক হাজার কিউসেক।  তখন তিস্তার চারিদিকে দেখা যায় ধুধু বালুচর। পানির অভাবে তিস্তা নদীর আশেপাশের এলাকায় পানি অনেক নীচে নেমে গেছে। পানির অভাবে অকোজো হয়ে পড়ার উপক্রম দেশের বৃহত্তম তিস্তা সেচ প্রকল্প। ভারত তিস্তার উজানে গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে তিস্তা প্রকল্পে প্রতিবছরই পানির ঘাটতি দেখা দেয়। আবার বর্ষাকালে বিপদসীমা অতিক্রম করলে পানি প্রবাহ বেড়ে যায় ৪ লাখ কিউসেকে। প্রবল পানির তোড়ে ব্যারেজ ও আশপাশের অঞ্চল ঝুঁকির মুখে পড়ে। তখন ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি গেট রাতদিন খুলে রেখেও পানি সরানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শুকনো ও বর্ষা দুই মৌসুমে তিস্তা অববাহিকার মানুষের সময় কাটে দীর্ঘশ্বাসে। শুকনো মৌসুমে ভারতে পানির ওপর নির্ভরতা থাকায় তিস্তা অববাহিকার ৫ জেলা নীলফামরী, লালমনির হাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় পানির জন্য হাহাকার দেখা দেয়।  তিস্তা নিয়ে সরকারের মহা-পরিকল্পনা বাস্তাবায়ন হলে শুকনো মৌসুমে ভারতে কাছে পানির জন্য হাত পাততে হবে না।  এছাড়া তিস্তা নদীকে ঘিরে প্রায় ১২০০ কিলোমিটারের বেশি খাল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব খালে পানি ধরে রাখতে পারলে সারা বছর জুড়ে এই পানি ব্যবহার করা যাবে। নদীতে বারো মাস পানি থাকলে কৃষিকাজ থেকে আরাম্ভ করে এঅঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে। সেই সাথে পাল্টে যাবে দেশের চেহারা।