টানা চার জয়ে শীর্ষে গুজরাট

টানা চার জয়ে শীর্ষে গুজরাট আইপিএলের এবারের আসরে শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে গুজরাট টাইটান্স। প্রথম ম্যাচে হারলেও এরপর টানা চার জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন দলটি। সবশেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাতে রাজস্থান রয়্যালসকে ৫৮ রানে হারিয়েছে তারা। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ব্যাট ও বল—দু’দিকেই আধিপত্য দেখায় গুজরাট। আগে ব্যাট করে সাই সুদর্শনের ঝড়ো ইনিংস ও রাহুল তেওয়াটিয়া-রশিদ খানের ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে ভর করে তারা তোলে ৬ উইকেটে ২১৭ রান। জবাবে রাজস্থান ১৯.২ ওভারে থেমে যায় মাত্র ১৫৯ রানে। শুরুটা ভালো হয়নি গুজরাটের। অধিনায়ক শুভমন গিল মাত্র ২ রান করে আউট হন। তবে এরপর সাই সুদর্শন সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ব্যাটিংয়ে। প্রথমে জশ বাটলারের সঙ্গে ৮০ রানের জুটি গড়েন। পরে শাহরুখ খানের সঙ্গে ৬২ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ করেন। ৫৩ বলে ৮২ রানের অসাধারণ ইনিংসে তিনি মারেন ৮টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ দিকে তেওয়াটিয়ার ১২ বলে ২৪ এবং রশিদের ৪ বলে ১২ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে স্কোরটা বিশাল হয়ে ওঠে। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালস শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। যদিও অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন ও শিমরন হেটমায়ার কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। সঞ্জু ৪১ ও হেটমায়ার ৫২ রান করেন। রিয়ান পরাগের ব্যাট থেকে আসে ২৬ রানে। তবে অন্যদের ব্যর্থতায় ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় রাজস্থান। গুজরাটের প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা বল হাতে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। রশিদ খান ও সাই কিশোরের ঝুলিতে জমা পড়ে দুটি করে উইকেট। ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর দুটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা হন সুদর্শন। এই জয়ে ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে গুজরাট টাইটান্স। অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালস ৫ ম্যাচে ৩ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস, তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট।
দারুণ জয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারল বাংলাদেশ

দারুণ জয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারল বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নামার আগে নিজেদের প্রস্তুতি ভালোভাবেই সেরেছে বাংলাদেশ নারী দল। গতকাল পাকিস্তান ‘এ’ দলকে তারা হারায় ১৬৭ রানে। এর আগে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয়লাভ করেছিল তারা। গতকাল লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নিগার সুলতানা ও ফারজানা হকের ফিফটিতে ২৭৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। যা তাড়া করতে নেমে ১০৯ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান ‘এ’ নারী দল। আগের ম্যাচেও আড়াইশর বেশি রান তাড়া করে জিতেছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। ইশমা তানজিম ও শারমিন আক্তার দ্রুত বিদায় নেন। এই চাপ সামলে তৃতীয় উইকেটে ১০৯ রানের জুটি গড়েন দলের সবচেয়ে ফারজানা ও নিগার সুলতানা। ব্যক্তিগত পঞ্চাশ ছুঁয়ে মাঠ ছাড়েন ফারজানা। আর ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৭২ বলে ৭০ রান করেন অধিনায়ক নিগার। শেষদিকে ৮ চারে ৩৪ বলে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা। এছাড়া দিলারা আক্তারের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। পাকিস্তান ‘এ’ দলকে অল্প রানে আটকানোয় ২টি করে উইকেট নেন মারুফা আক্তার, রাবেয়া ও ফাহিমা খাতুন।
বায়ার্নের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরল ইন্টার মিলান

বায়ার্নের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরল ইন্টার মিলান ঘরের মাঠে আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও বায়ার্ন মিউনিখ পেরে ওঠেনি ইন্টার মিলানের সঙ্গে। পিছিয়ে গিয়ে সমতায় ফিরলেও শেষ মুহূর্তে ব্যবধান গড়ে দিলেন দাভিদ ফ্রাত্তেসি। দারুণ জয়ে প্রথম লেগে এগিয়ে থাকল ইন্টার মিলান। গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্নকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার। প্রথমার্ধে লাওতারো মার্তিনেসের তারা গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান থমাস মুলার। তিন মিনিটের মধ্যে লিড পুনরুদ্ধার করে দলকে জেতান ফ্রাত্তেসি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শুরু থেকেই আক্রমণ চালাতে থাকে বায়ার্ন। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিল না তারা। উল্টো ৩৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় ইন্টার। বাস্তোনির ক্রস থেকে ব্যাক হিলে মার্তিনেসকে বল বাড়ান মার্কাস থুরাম। দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। বিরতির পর লড়াই চলে লম্বা সময়। ৮৫তম মিনিটে গিয়ে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান মুলার। কোনার্ড লাইমারের বাইলাইন থেকে বাড়ানো বল আলতো টোকায় জালে পাঠান জার্মান তারকা। তবে তিন মিনিট পর ফের এগিয়ে যায় ইন্টার। কার্সেলোন অগাস্তুর আড়াআড়ি ক্রসে গোলমুখ থেকে দারুণ শটে গোল করেন ফ্রাত্তেসি। এই গোলেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় ইন্টারের। ফিরতি লেগে তাদের মাঠেই আগামী ১৬ এপ্রিল লড়াই করবে বায়ার্ন।
১৩০ রান তাড়ায় তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

১৩০ রান তাড়ায় তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫৯ বলে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। তার সেঞ্চুরির দিনে তার দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ১০ উইকেটে হারিয়েছে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে। আজ বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৩০ রান। সেই রান টপকে যায় মাত্র ১৮.৩ ওভারে। যেখানে তামিম একাই খেলেন ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। আগে ব্যাট করতে নেমে শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদী হাসানদের তোপে ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় পারটেক্স। সহজ লক্ষ্যে সাইফ হাসানকে নিয়ে ওপেন করতে নামেন তামিম। ১০৩ রানই এসেছে তামিমের ব্যাটে। সাইফ করেছেন ৫৩ বলে ২৬ রান।
মেসির গোলে হার এড়াল ইন্টার মায়ামি

মেসির গোলে হার এড়াল ইন্টার মায়ামি প্রথমার্ধে দুইবার জালে বল পাঠাল ইন্টার মায়ামি। তবে লাভ হয়নি। উল্টো যোগ করা সময়ে হজম করে বসে তারা। তিন মিনিটের মধ্যেই অবশ্য শোধ করে ফেলে ক্লাবটি। হারের কবল থেকে দলকে রক্ষা করেন লিওনেল মেসি। মেজর লিগ সকারের ম্যাচে আজ টরন্টো এফসির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মায়ামি। টরন্টোর হয়ে ফেডেরিকো বের্নারদেশি দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর মায়ামিকে সমতায় ফেরান আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। যদিও ড্র করে তার দল শীর্ষস্থান থেকে নিচে নেমে গিয়েছে। তবে এক ম্যাচ কম খেলেছ তারা। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর সমান তালেই লড়াই চালাতে থাকে দুদল। এর মধ্যে ২৪তম মিনিটে সুযোগ পান মেসি। তবে বক্স থেকে তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। ৪০তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবে ভিএআর সেটি বাতিল করে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে টরন্টোকে এগিয়ে নেন ফেডেরিকো। ইনসিনিয়ের পাস বক্সের ভেতর থেকে জালে পাঠান ইতালিয়ান উইঙ্গার। তিন মিনিট পর মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। বক্সের একটু সামনে সেগোভিয়ার পাস ডান পায়ে ঠেকিয়ে বাঁ পায়ের ভলিতে জাল খুঁজে নেন তিনি। লিগের চলতি মৌসুমে মেসির তৃতীয় গোল এটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোল হলো ছয়টি। বিরতির পর লড়াই চলতে থাকে আগের মতোই। তবে গোলের দেখা পায়নি কেউই। ফলে ড্র নিয়ে ১৪ পয়েন্টে দুইয়ে মায়ামি। এক ম্যাচ বেশি খেলা কলম্বাস ক্রু ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে।
প্রিমিয়ার লিগে দ্রুততম অবনমনে রেকর্ড সাউদাম্পটনের

প্রিমিয়ার লিগে দ্রুততম অবনমনে রেকর্ড সাউদাম্পটনের ৩১ ম্যাচে স্রেফ ২ জয়! সঙ্গে ৪ ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত রেলিগেশন হয়েছে সাউদাম্পটনের। গতকাল টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের হারে রেলিগেশন নিশ্চিত হয়েছে ক্লাবটির। লন্ডনে প্রথমার্থেই জোড়া গোল করে টটেনহ্যামের জন্য জয় সহজ করে দেন ব্রেন্নান জনসন। ত্রয়োদশ মিনিটে জে স্পেন্সের দারুণ এক কাটব্যাক থেকে প্রথম গোলটি করেন তিনি। ৪২তম মিনিটে করেন পরের গোলটি। সতীর্থের ক্রস থেকে আসা বল হেডে জনসনকে বাড়ান ম্যাডিসন। সহজেই সেটি জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। বিরতির পর অবশ্য শেষ মুহূর্তে গিয়ে গোল পায় সাউদাম্পটন। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোলটি করেন ম্যাথিউস ফার্নান্দেস। পাঁচ মিনিট পর আরও একটি গোল হজম করে বসে রেলিগেসনে যাওয়া দলটি। পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন ম্যাথিস টেল। একইসঙ্গে সাত ম্যাচ আগেই রেলিগেসন নিশ্চিত হয়ে যায় সাউদাম্পটনের।
১৫ বলের ঝড়ে দেশের ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ইমনের

১৫ বলের ঝড়ে দেশের ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ইমনের ঈদের লম্বা ছুটির পর মাঠের ফিরে প্রথম দিনটি দারুণভাবে রাঙিয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। আবাহনী লিমিটেডের এই ওপেনার মাত্র ২৩ বলে ৪ চার ও ৬ ছক্কায় ৬১ রান করেন। এই বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পথে ইমন ১৫ বলে তুলে নেন ফিফটি। যা দেশের ক্রিকেটে যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক আসরে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে তার ব্যাটে লন্ডভন্ড হয় শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। আগে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ৮৮ রানে অলআউট হয় তারা। জবাব দিতে নেমে ইমন ২২ গজে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। প্রথম ওভারে ৩ বল খেলার সুযোগ হয় তার। ১ রানের বেশি নিতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারে খোলস থেকে বেরিয়ে আসেন। রহমতউল্লাহর করা প্রথম বল ডটের পর দ্বিতীয় বলে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পান। ওভারের পরের চার বল চারটিই হাওয়ায় ভাসিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান। তাতে ৯ বলে তার রান হয় ২৯। পরের দুই বলে ১ রান পান ইমন। চতুর্থ ওভারে আবার চার ছক্কার স্রোত তার ব্যাটে। এবার আলী মোহাম্মদ ওয়ালিদের বলে ২টি করে চার ও ছক্কা হাঁকান। তাতে ১৫ বলে তার নামের পাশে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড যুক্ত হয়ে যায়। ফিফটি ছুঁতে ৬ ছক্কা ও ৩ চারের দেখা পান এই ওপেনার। প্রিমিয়ার লিগ তো বটেই, দেশের ক্রিকেটে এটি দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। এর আগে ২০১৯ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি আসরে শুভাগত হোম মিরপুরে ১৬ বলে ফিফটি ছুঁয়েছিলেন। শাইনপুকুরের হয়ে মোহামেডানের বিপক্ষে ১৬ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে রেকর্ডটি এতদিন ছিল যৌথভাবে ফরহাদ রেজা ও হাবিবুর রহমানের। ২০১৯ সালের প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ১৮ বলে ফিফটি করেন ফরহাদ।
৬ ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা উদযাপন পিএসজির

৬ ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা উদযাপন পিএসজির ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে প্রথম ক্লাব হিসেবে শিরোপা জয় নিশ্চিত করেছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। ঘরের মাঠে অঁজেকে ১-০ গোলে হারিয়ে ছয় ম্যাচ হাতে রেখেই টানা চতুর্থবারের মতো ‘লিগ আঁ’র শিরোপা জিতে নিয়েছে তারা। শনিবারের এই জয়ে লুইস এনরিকের দল পয়েন্ট টেবিলে এমন এক জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে আর কোনো দল তাদের টপকাতে পারবে না।পিএসজির একমাত্র গোলটি করেন ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ডিজায়ার ডউ। দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে জানুয়ারির নতুন রিক্রুট খিচা কাভারাস্কেইয়ার নিখুঁত ক্রসে ডউ দূরের পোস্টে ভলিতে গোলটি করেন, যা তার লিগে এই মৌসুমের পঞ্চম গোল। রেকর্ড ও পরিসংখ্যান এই শিরোপা পিএসজির ইতিহাসে ১৩তম, যা ফ্রান্সের লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে শুরু করে এটি তাদের ১১তম লিগ জয়। দলের অধিনায়ক মার্কিনিওস ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০টি ফরাসি লিগ শিরোপা জিতেছেন। মার্কিনিওস বলেন, “এটা পাগলামি, আমি খুবই খুশি। এতদিন ধরে শীর্ষ দলে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের লক্ষ্য সবকিছু জেতা, এবং এই শিরোপাগুলো ইতিহাসে লেখা থাকবে। ” দলীয় পারফরম্যান্স প্রথমার্ধে গোল না এলেও পিএসজি পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখায়। গনসালো রামোস একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল পাননি। পরে কচ লুইস এনরিক একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন, যার মধ্যে মৌসুমের সেরা স্কোরার উসমানে ডেম্বেলেকে নামানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধে অঁজের রক্ষণ বেশ শক্ত ছিল, কিন্তু গোলের ঘাটতি পিএসজির উল্লাসে বাধা হয়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়ামে ধ্বনিত হয়—”আমরা চ্যাম্পিয়ন”। লুইস এনরিকের সাফল্য গত মৌসুমে কিলিয়ান এমবাপ্পে ক্লাব ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর অনেকেই পিএসজির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু লুইস এনরিক তার মেধা ও কৌশলে প্রমাণ করেছেন, বড় তারকা ছাড়াও দল গড়া যায়। এই মৌসুমে তিনি লিগে মাত্র দুটি ম্যাচে হেরেছেন, এবং শিরোপা জয়ের পর খেলোয়াড়রা তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে উদযাপন করেন। মাঠের পাশে দেখা যায় তাকে ক্লাব পরিচালক লুইস ক্যাম্পোসের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে। পরবর্তী লক্ষ্য এখন পিএসজির নজর থাকবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অ্যাস্টন ভিলা।
৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপক্ষে উয়েফা প্রেসিডেন্ট

৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপক্ষে উয়েফা প্রেসিডেন্ট গেল মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া ফিফা কাউন্সিল সভায় আলোচনা হয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে। সেখানে স্পেন, মরক্কো ও উরুগুয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরটি ৬৪টি দল নিয়ে আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ইগনাসিও আলোনসো। ফুটবলকে আরও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মূলত এমন প্রস্তাব করেছিলেন তিনি। তবে ইউরোপ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার সেফেরিন আলোনসোর এমন প্রস্তাবকে বাজে বলে আখ্যায়িত করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলগ্রেডে উয়েফা সাধারণ কংগ্রেসের পুরুষ এবং নারী বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা করেছেন ২০৩৫ নারী বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য এবং ২০৩১ নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো। সেই কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন উয়েফা প্রেসিডেন্ট ও ফিফার সহ-সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন। কংগ্রেস শেষে সংবাদ সম্মেলনে উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির ৬৪ দল নিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এটি আশ্চর্যজনক। আমি মনে করি এটি একটি বাজে প্রস্তাব এবং আমি মনে করি এটি বিশ্বকাপের জন্য একটি ভালো দিক নয়। এছাড়াও আমাদের বাছাইপর্বের জন্যও ভালো দিক নয়।’ এছাড়াও প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন সেফেরিন। তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রস্তাবটিকে সমর্থন করছি না। আমি জানি না এটি কোথায় থেকে এসেছে। এটা অদ্ভুত যে ফিফা কাউন্সিলে এই প্রস্তাবের আগে আমরা কিছুই জানতাম না।’ এর আগে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৩০ সালে। ২০৩০ বিশ্বকাপ হবে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত টুর্নামেন্টটির শতবর্ষীয় আসর। আসরটিতে আয়োজক স্পেন, মরক্কো ও উরুগুয়ে হলেও বিশ্বকাপের শতবছর উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়েতে।
টানা তিন হারে হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান

টানা তিন হারে হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ হাতছাড়া করেছিল পাকিস্তান। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে পাকিস্তান। তবে শেষ রক্ষাও হয়নি মোহাম্মদ রিজওয়ানের দলের। শেষ ওয়ানডেতে ৪৩ রানে হেরে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। আজ মাউন্ট মঙ্গুনুইতে টস হেরে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। রিস মারিউ ও অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েলের ফিফটিতে ভর করে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৪ রান তোলে স্বাগতিকেরা। রিস মারিউ ৬১ বলে ৫৮ ও ব্রেসওয়েল ৪০ বলে ৫৯ রান করেন। এছাড়া ড্যারিল মিচেল ৪৩ ও হেনরি নিকোলস করেন ৩১ রান। পাকিস্তানের পক্ষে আকিফ জাভেদ নেন ৪টিম উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল হক। তৃতীয় ওভারে উইলিয়াম ও’রুর্কির শর্ট লেন্থের বল নরম হাতে খেলে দ্রুত সিঙ্গেল নিতে যান ইমাম। কিন্তু নন স্ট্রাইকে পোঁছানোর সময় কিউই ক্রিকেটারের থ্রো ইমামের হেলমেট গ্রিলের মধ্যে আটকে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ইমাম হেলমেট খুলে মাটিতে বসে পড়েন। ফিজিওরা তাকে সহায়তা করার জন্য আসেন। ইমামের চোয়ালে আঘাত লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, ব্যথার তীব্রতাও ছিল অনেক। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে করে মাঠ ছেড়ে যান তিনি। ৭ বলে ১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। আরেক ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক থিতু হয়েও ৫৬ বলে ৩৩ রানের মন্থর এক ইনিংস খেলে ড্রেসিংরুমে ফেরেন। বাবর আজম বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিয়ে ফেরেন ৫৮ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ৫০ রান করে। ৩২ বলে ৩৭ রান করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৩১ বলে ৩৩ রান আসে তায়্যেব তাহিরের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া বাকিরা সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের পেসার বেন সিয়ার্স ৯ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে শিকার করেছেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এটি তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগারই। ৪০ রান দিয়ে ডাফি নিয়েছেন ২ উইকেট।