কলকাতার দ্বিতীয় জয়ে হায়দরাবাদের তৃতীয় হার

কলকাতার দ্বিতীয় জয়ে হায়দরাবাদের তৃতীয় হার আইপিএলের এবারের আসর দারুণ এক জয় দিয়ে শুরু করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রথম ম্যাচে তারা রাজস্থান রয়্যালসকে ৪৪ রানে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছিল। কিন্তু এরপর টানা তিন হারের স্বাদ পেল তারা। সবশেষ বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) রাতে তাদের ৮০ রানে হারিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইডেন গার্ডেন্সে এদিন কেকেআর আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান করে। এরপর ১৬.৪ ওভারে তারা হায়দরাবাদকে অলআউট করে মাত্র ১২০ রানে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে ২২ রানে ৩টি উইকেট নেন। বৈভব অরোরা ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ২৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। আন্দ্রে রাসেল ১.৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট নেন। এছাড়া হরিষত রানা ও সুনীল নারিন ১টি করে উইকেট নেন। কলকাতার বোলিং তোপে হায়দরাবাদের মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের কোটায় রান করতে পারেন। তার মধ্যে হেনরিখ ক্লাসেন ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ রান করেন। ১ চার ও ২ ছক্কায় কামিন্দু মেন্ডিস করেন ২৭ রান। নিতিশ কুমার রেড্ডি ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৯ ও প্যাট কামিন্স ২ চারে করেন ১৪ রান। তার আগে কলকাতার ইনিংসে ফিফটির দেখা পান ভেঙ্কটেশ আয়ার ও অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। ভেঙ্কটেশ ২৯ বলে ৭টি চার ও ৩ ছক্কায় ৬০ রান করেন। রঘুবংশী ৩২ বলে ৫টি চার ও ২ ছক্কায় করেন ৫০ রান। এছাড়া আজিঙ্কা রাহানে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৮ এবং রিংকু সিং ১৭ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৩২ রান করেন। বল হাতে হায়দরাবাদের মোহাম্মদ শামি, প্যাট কামিন্স, জিশান আনসারি, হর্ষল প্যাটেল ও কামিন্দু মেন্ডিস ১টি করে উইকেট নেন। এই জয়ে ৪ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে অবস্থান নিয়েছে কেকেআর। ৪ ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানি তথা দশম স্থানে আছে হায়দরাবাদ।

আইপিএলে দুই হাতে বোলিং করে ইতিহাস গড়লেন কামিন্দু

আইপিএলে দুই হাতে বোলিং করে ইতিহাস গড়লেন কামিন্দু শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার কামিন্দু মেন্ডিসকে ‘সব্যসাচী ক্রিকেটার’ বললে মোটেও বাড়িয়ে বলা হবে না। বাঁ ও ডান—দুই হাতেই সমান দক্ষতায় বোলিং করতে পারেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছে চমৎকার ব্যাটিং দক্ষতাও। গতকাল ইডেন গার্ডেন্সে নিজের সেই অনন্য গুণের পরিচয় দিয়ে আইপিএলে রেকর্ড গড়লেন এই অলরাউন্ডার। ২৬ বছর বয়সী কামিন্দু মেন্ডিস আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে দুই হাতে বোলিং করার নজির গড়েছেন। তাও আবার নিজের অভিষেক ম্যাচেই! শুধু বোলিং করেই ক্ষান্ত হননি, একটি উইকেটও তুলে নিয়েছেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলা এই অলরাউন্ডার। ম্যাচটিতে মাত্র একটি ওভার বল করেন কামিন্দু। ১৩তম ওভারে তিনি তিনটি বল করেন বাঁ হাতে এবং বাকি তিনটি ডান হাতে। ওই ওভারের চতুর্থ বলেই তার শিকার হন কলকাতার তরুণ ব্যাটার অঙ্কৃশ রঘুবংশী, যাকে দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফিরিয়ে দেন হার্শাল প্যাটেল। তবে এমন ঐতিহাসিক কীর্তির দিনে জয় ধরা দেয়নি কামিন্দুর দলের হাতে। কলকাতার কাছে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ব্যাট হাতেও কামিন্দু রেখেছেন অবদান—দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন তিনি। শৈশব থেকেই দুই হাতে বোলিংয়ের অভ্যাস শৈশব থেকেই দুই হাতে বোলিংয়ের অভ্যাস গড়ে তোলেন কামিন্দু মেন্ডিস। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এই বিশেষ দক্ষতা দেখিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর জাতীয় দলেও তা অব্যাহত রাখেন। ২০২3 সালে ভারতের দুই তারকা ব্যাটার সূর্যকুমার যাদব ও ঋষভ পন্তের বিপক্ষেও দুই হাতে বোলিং করেন তিনি। কামিন্দুই প্রথম নন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কামিন্দু প্রথম নন যিনি দুই হাতে বল করেছেন। এমন কীর্তির প্রথম নজির পাওয়া যায় ১৯৫৮ সালে, কিংস্টনে অনুষ্ঠিত টেস্টে। পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার মোহাম্মদ হানিফ দুই হাতে বল করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ওই ম্যাচেই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স খেলেছিলেন ঐতিহাসিক ৩৬৫ রানের ইনিংসটি, যা ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল। এছাড়া ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে দুই হাতে বল করে নজর কাড়েন শ্রীলঙ্কার হাশান তিলকরত্নে, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের নারী দলের প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেন। দুই হাতে বোলিং করা এমন বিরল প্রতিভার আধিকারী কামিন্দু মেন্ডিস এখন শুধুই নজর কাড়ছেন না, বরং ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের আলাদা জায়গাও করে নিচ্ছেন।

পাঁচ টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলবে ভারত

পাঁচ টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলবে ভারত চলতি বছর ঘরের মাঠে ভারতের সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বিসিসিআই। সূচিতে দেখা গেছে ২০২৫ সালে নিজেদের মাঠে ভারত চারটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। আইপিএল শেষে ভারত পাঁচ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড সফরে যাবে। এরপর ভারত ঘরের মাঠে আতিথ্য দিবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেটি অক্টোবর ও নভেম্বরে। ২ অক্টোবর আহমেদাবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরু হবে টেস্ট সিরিজ। দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায় ১৪ অক্টোবর থেকে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাকে আতিথ্য দিবে ভারত। সেখানে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তারা টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের টেস্ট সিরিজে গৌহাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

৮ গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে ফাইনালে রিয়াল

৮ গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে ফাইনালে রিয়াল রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে স্প্যানিশ কোপা ডেল রের সেমিফাইনাল প্রথম লেগে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ফুটবলপ্রেমীরা ধরেই নিয়েছিল মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে অনায়াস জয় পাবে লস ব্লাঙ্কোসরা। কিন্তু সবার ভাবনা আর কল্পনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ উপহার দিলো সোসিয়েদাদ। কয়েক দফা এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তারা অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে ৪-৪ গোলে ড্র করে রিয়ালের সঙ্গে। প্রথম লেগে জয় পাওয়া রিয়াল দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে ফাইনালে নাম লেখায় ১২০ মিনিট শেষে। এদিন ম্যাচের ১৬ মিনিটেই লিড নেয় সোসিয়েদাদ। এ সময় হেডে পাবলো মারিনের বাড়িয়ে দেওয়া বল পেয়ে ডান পায়ের শটে গোল করেন সোসিয়েদাদের আন্দের বার্নেছেয়া। ৩০ মিনিটের মাথায় ভিনিসিউস জুনিয়রের বাড়িয়ে দেওয়া বল ডি বক্সের সামনে পেয়ে যান এন্ড্রিক। তখন তার সামনে ছিলেন কেবল সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক। তার মাথার ওপর দিয়ে বল মেরে গোল করে সমতা ফেরান এন্ড্রিক। তাতে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। বিরতির পর ৭২ মিনিটে ডেভিড আলবা নিজেই নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন। তাতে আবারও এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ। ৮০ মিনিটে মাইকেল ওয়ারজাবাল গোল করে ব্যবধান ১-৩ করে ফেলেন। তবে ৮২ মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়রের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে জুদ বেলিংহ্যাম গোল করে ব্যবধান কমান (২-৩)। আর ৮৬ মিনিটে ওরেলিয়াঁ চুয়ামেনি গোল করে সমতা ফেরান (৩-৩)। তাতে ধরা নেওয়া হচ্ছিল রিয়াল দুই লেগ মিলিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে যাচ্ছে। কিন্তু যোগ করা সময়ে (৯০+৩) সোসিয়েদাদের ওয়ারজাবাল নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে আবারও দলকে এগিয়ে নেন (৩-৪)। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা থাকায় অতিরিক্ত সময়ে যায় ম্যাচ। আর সেই অতিরিক্ত সময়ের ১১৫ মিনিটের মাথায় অ্যান্তোনিও রুদিগার কর্নার থেকে আসা বলে হেড নিয়ে জালে জড়িয়ে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন। নিশ্চিত করেন দলের সেমিফাইনাল। এ নিয়ে ৪১তম বারের মতো কোপা ডেল রের সেমিফাইনালে উঠলো রিয়াল। সবশেষ ২০২২-২০২৩ মৌসুমে তারা ফাইনাল খেলেছিল এবং ২০তম শিরোপা জিতেছিল এই টুর্নামেন্টের শিরোপা। অন্যদিকে সোসিয়েদাদ সবশেষ ২০১৯-২০২০ মৌসুমে ফাইনাল খেলে দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল। রিয়াল মাদ্রিদ ২৬ এপ্রিলের ফাইনালে হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা নতুবা নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে পাবে। প্রথম লেগে বার্সা ও অ্যাটলেটিকো ৪-৪ গোলে ড্র করেছে। আজ অ্যাটলেটিকোর মাঠে ফিরতি লেগের লড়াইয়ে নামবে তারা।

ওয়ানডে সিরিজও হারল পাকিস্তান

ওয়ানডে সিরিজও হারল পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ওয়ানডে সিরিজেও শোচনীয় পরাজয় বরণ করল পাকিস্তান।  তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের ২৯২ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৯ রানের মধ্যেই হারায় তিন উইকেট। এরপর ৩২ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় রিজওয়ানের দল। তবে ফাহিম আশরাফ ও নাসিম শাহর লড়াকু ইনিংসের কারণে পাকিস্তান অন্তত ২০৮ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছে।  বুধবার হ্যামিলটনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ড ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। নেপিয়ারে প্রথম ম্যাচে ৭৩ রানে জয়ের পর এ ম্যাচেও দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে কিউইরা। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান ২৯৩ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় পাকিস্তান। মাত্র ৯ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন আবদুল্লাহ শফিক, ইমাম-উল-হক ও বাবর আজম। এরপর ৩২ রানের মধ্যে অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার উইকেট হারালে চাপে পড়ে দল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্রিজে আসেন ফাহিম আশরাফ। তাইব তাহিরের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও তাহির ১৩ রান করে আউট হন। এরপর মোহাম্মদ ওয়াসিমও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ৭২ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় পাকিস্তান। কিন্তু এখান থেকে লড়াই চালিয়ে যান ফাহিম আশরাফ। হারিস রউফ, আকিব জাভেদ ও নাসিম শাহকে নিয়ে ১০২ রান যোগ করেন তিনি। নবম উইকেট হিসেবে ৭৩ রান করে আউট হন এই অলরাউন্ডার। দলীয় রান তখন ১৭৪। এরপর নাসিম শাহ শেষ উইকেট জুটিতে দলের স্কোর দুইশ পার করেন। ৪৪ বলে ৫১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। কিউইদের হয়ে বিধ্বংসী বোলিং করেছেন সিয়ার্স। মাত্র ৫৯ রান খরচায় পাঁচ উইকেট শিকার করেন তিনি। মিচেল হে-র দুর্দান্ত ইনিংস  এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউজিল্যান্ড ভালো সূচনা করে। ৬ ওভারে ৫৪ রান তোলে স্বাগতিকরা। তবে এরপর ১৩২ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় দলটি। এসময় দলের হাল ধরেন মিচেল হে ও মোহাম্মদ আব্বাস। দুজন মিলে ৮০ বলে ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ৭৮ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকেন মিচেল হে, শেষ বলে সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজন ছিল ৫ রান, কিন্তু চার মেরে ৯৯ রানেই থামেন তিনি। অপরাজিত থেকে ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই কিউই ব্যাটার। মোহাম্মদ আব্বাস ৬৬ বলে ৪১ রান করেন, আর টেল এন্ডারদের নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে তিনশোর কাছাকাছি নিয়ে যান হে। পাকিস্তানের হয়ে ওয়াসিম জুনিয়র ও সুফিয়ান মুকিম দুটি করে উইকেট শিকার করেন। এভাবে দুই ফরম্যাটের সিরিজেই ব্যর্থতার মুখ দেখল পাকিস্তান, যেখানে ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো।

ঈদ শুভেচ্ছায় যে বার্তা দিলেন ক্রিকেটাররা

ঈদ শুভেচ্ছায় যে বার্তা দিলেন ক্রিকেটাররা দেশব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন ক্রিকেটাররা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত-সমর্থক ও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তাও দিচ্ছেন ক্রিকেটাররা। এই যেমন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা তামিম ইকবাল লিখেছেন, ‘‘এই ঈদে আল্লাহ আপনার সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও সুখ বয়ে আনুক। ঈদ মোবারক।’’অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘‘আসসালামু আ’লাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ। তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম! আল্লাহ আমাদের সকল প্রার্থনা, ইবাদত ও ভালো কাজ কবুল করুক। আমাদের ও আমাদের পাপসমূহ মার্জনা করুক এবং আমাদের ইহকাল ও পরকালিন জীবনে সাফল্য দান করুক।’’অবসর ঘোষণা দেওয়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একবাক্যে লিখেছেন, ‘‘ঈদের সুন্দর সকাল।’’তারকা অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ লিখেছেন, ‘‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।’’তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ লিখেছেন, ‘‘আসসালামুআলাইকুম, সবাইকে ঈদুল ফিতরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক টু এভরিওয়ান।’’স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের একটি ছবি দিয়ে লিটন কুমার দাস লিখেন, ‘‘আমাদের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদ মোবারক। আশা করি এই উপলক্ষ আমাদের সবাইকে আরও বিনয়ী ও একে অপরের প্রতি সহায়ক হতে সাহায্য করবে। আমরা সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়তে পারি।’’পেসার শরীফুল ইসলাম লিখেছেন, ‘‘ঈদ মোবারক। তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম!’’

অভিষিক্ত অশ্বিনীর বলে, রায়ানের ব্যাটে মুম্বাইর প্রথম জয়

অভিষিক্ত অশ্বিনীর বলে, রায়ানের ব্যাটে মুম্বাইর প্রথম জয় প্রথমে অভিষিক্ত অশ্বিনী কুমার বল হাতে ৩ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটিং লাইনআপে ধ্বস নামান। এরপর রায়ান রিকেলটন ৪টি চার ও ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেলে দলকে অনায়াস এক জয় উপহার দেন। যা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রথম জয়, টানা দুই ম্যাচ হারের পর। সোমবার (৩১ মার্চ) রাতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কলকাতা আগে ব্যাট করতে নেমে অশ্বিনীর বোলিং তোপে ১৬.২ ওভারে মাত্র ১১৬ রানে অলআউট হয়। জবাবে রিকেলটন ও সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটে ভর করে ১২.৫ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ১১৭ রানের মামুলি টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৫.২ ওভারেই ৪৬ রান তুলে ফেলে মুম্বাই। এই রানে রোহিত ফিরেন ১ ছক্কায় ১৩ রান করে। তবে আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রিকেলটন ছিলেন অটল। চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে তিনি মাত্র ৩৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। যেখানে ছিল ৪টি চার ও ৪ ছক্কার মার। দলীয় ৯১ রানের মাথায় উইল জ্যাক ১ ছক্কায় ১৬ রান করে ফেরার পর সূর্যকুমার এসে ঝড় তোলেন। মাত্র ৯ বলে ৩টি চার ও ২ ছক্কায় স্কাই অপরাজিত ২৭ রানের ইনিংস খেলে ৪৩ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই দলকে জয়ের বন্দরে নোঙর করান। তার সঙ্গে ৪১ বলে ৪টি চার ও ৫ ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন রিকেলটন। বল হাতে কলকাতার আন্দ্রে রাসেল ২.৫ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন। তার আগে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে কলকাতা। কিন্তু অভিষিক্ত পেসার অশ্বিনীর বোলিং তোপের মুখে পড়ে। অশ্বিনী ৩ ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। শুধু তাই নয়, অভিষেক ম্যাচে নিজের করা প্রথম বলেই তিনি আজিঙ্কা রাহানের উইকেট শিকার করেন। এরপর রিংকু সিং, মানিশ পান্ডে ও আন্দে রাসেলের উইকেট নেন তিনি। দীপক চাহার ২ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট, হার্দিক পান্ডিয়া, ভিনেশ পাথুর ও মিচেল স্যান্টনার। ব্যাট হাতে কলকাতার অঙ্গকৃষ রখুবংশী ১৬ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন। রামানদীপ সিং ১২ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান। এছাড়া মানিশ পান্ডে ১৯, রিংকু সিং ১৭ ও আজিঙ্কা রাহানে করেন ১১ রান। অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচসেরা হন অশ্বিনী কুমার। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স উঠে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে। আর কলকাতা নেমে গেছে তলানিতে।

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন সাকিব

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন সাকিব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ মেতেছেন ঈদের আনন্দে। ব্যতিক্রম নন তারকারাও। বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টারবয় সাকিব আল হাসানও সামিল হয়েছেন ঈদ আনন্দে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন। যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি কোনো পোস্ট দেননি। তবে তার স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির ‘ঈদ মুবারক’ লিখে পারিবারিক একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যায় হাস্যোজ্জ্বল সাকিব হালকা গোলাপী রঙের একটি পাঞ্জাবি পরেছেন। তার স্ত্রী শিশির, বড় মেয়ে আলাইনা হাসান অব্রি, ছোট মেয়ে এরম হাসান এবং  ছেলে আইজাহ আল হাসান একই রঙের পোশাক পরেছেন। ৫০ মিনিটে শিশিরের এই পোস্টে ৫০ হাজার রিঅ্যাকশন এসেছে। যার অধিকাংশ লাভ রিঅ্যাকশন।

ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হামজা-তামিম-শান্তরা

ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হামজা-তামিম-শান্তরা সারা বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর। দিনটি আনন্দ এবং ভালোবাসার এক অনন্য মুহূর্ত।  দিনটি উপলক্ষে দেশের ক্রীড়াঙ্গন থেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া তারকারা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।   ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা হামজা চৌধুরী থেকে শুরু করে বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্তরা সবাই জানিয়েছেন ঈদের শুভেচ্ছা। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং চেলসি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। সম্প্রতি আলোড়ন তুলে বাংলাদেশ ফুটবলে অভিষেক হয় হামজা চৌধুরীর। ভারতের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ডে ফিরে গেলেও, নিজ দেশের সমর্থকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি হামজা। এক ভিডিও বার্তায় হামজা বলেছেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। সবার সঙ্গে দ্রুত আবার দেখা হবে। ’ আল নাসরে খেলার সুবাদে মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতিকে ভালোবেসে ফেলেছেন রোনালদো। তাইতো জোব্বা পরে, সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে সবার সঙ্গে ঈদ উৎসবে সামিল হন পরতুগিজা উইঙ্গার। ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, এই বিশেষ সময়টি আপনি ও আপনার পরিবারের জন্য আনন্দ, শান্তি ও সুখ বয়ে আনুক। এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, ‘ঈদ মোবারক সবাইকে। আশা করি সবাই পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন।  টাইগারদের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল পবিত্র ঈদে ভক্ত ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুঃসময়ে তার পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ আড্ডার ছবি পোস্ট করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সমর্থকদের উদ্দেশে ভালোবাসা রাঙানো পোস্ট করেছেন ক্রিকেটার মুমিনুল হক। পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছে রোনালদোর ক্লাব আল নাসর ও সৌদি আরবের আরেক ক্লাব আল হিলাল। বরাবরের মতো এবারও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসি। এছাড়া ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে পোস্ট করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিসিবির চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন জাহানারা

বিসিবির চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন জাহানারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেছেন অলরাউন্ডার জাহানারা আলম। জাতীয় দলে খেলার জন্য এখনো মানসিক ভাবে ফিট না হওয়ায়, জাহানারার অনুরোধে ক্রিকেট বোর্ড তাকে চুক্তি থেকে বাদ দেয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহানারা। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেতন-ভাতা পাবেন জাহানারা। মার্চ থেকে তিনি আর চুক্তিতে থাকছেন না। গত ৭ মার্চ জাহানারার বর্তমান অবস্থা জানতে তাকে বিসিবির নারী বিভাগ থেকে মেইল করা হয়। সেই সময় জাহানারা বিসিবিকে জানান, তিনি এখনো খেলার মতো অবস্থায় নেই। তাই যেন তাকে চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়। মুঠোফোনে জাহানারা বলেন, “আমি আরও আগেই জানিয়েছিলাম চুক্তিতে না রাখতে। কিছুদিন আগে আমার কাছে মেইল করে বিসিবি। আমি জানিয়েছি, এখনো জাতীয় দলে খেলার অবস্থা নেই। কিছু সময় লাগবে। আর চুক্তিতে যেন না রাখে সেটাও বলেছি।” সিডনি ক্রিকেট ক্লাবের আমন্ত্রণে জাহানারা অস্ট্রেলিয়া যান। সেখানে ক্লাবটির হয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলছেন বাংলাদেশি এই তারকা ক্রিকেটার।