কষ্টের জয়ে শেষ ষোলোতে ইন্টার, বরুসিয়াও নকআউট পর্বে

কষ্টের জয়ে শেষ ষোলোতে ইন্টার, বরুসিয়াও নকআউট পর্বে ফুটবল রোমাঞ্চের আরেকটি পাতা যুক্ত হলো ক্লাব বিশ্বকাপে। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইতালির জায়ান্ট ইন্টার মিলান শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জায়গা করে নিলো নকআউট পর্বে। গোলশূন্য ৭০ মিনিটের পর হঠাৎ করেই বদলে গেল ম্যাচের মোড়। রিভার প্লেটের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে নাম লেখাল চ্যাম্পিয়নস লিগ রানার্সআপরা। দ্বিতীয়ার্ধে ৬৬ মিনিটে রিভার প্লেটের লুকাস মার্টিনেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনের দলে পরিণত হয় তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৯ বছর বয়সী ফ্রান্সেসকো এসপোসিতো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ৭২ মিনিটে। এটি ছিল ইন্টারের হয়ে তার মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম গোল, নতুন প্রতিভার ঝলক যেন অনিবার্য! দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বাস্তোনি। এরই মধ্যে রিভার প্লেটকে আরও বড় ধাক্কা দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন গঞ্জালো মন্তিয়েল। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা দলটি। এই জয়ে ইন্টার মিলান গ্রুপ-‘ই’ এর শীর্ষে থেকে জায়গা করে নিলো শেষ ষোলোয়। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিলিয়ান পাওয়ারহাউস ফ্লুমিনেজ। উল্লেখ্য যে, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে খেলতে আসা ব্রাজিলিয়ান চারটি ক্লাবই জায়গা পেয়েছে নকআউটে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সব ক্লাব এবার ছিটকে গেছে গ্রুপ পর্বেই। অন্যদিকে, জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডও নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোর টিকিট। উলসান এইচডির বিপক্ষে ড্যানিয়েল সেভেনসনের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলই ছিল যথেষ্ট তাদের জয়ের জন্য। এই জয়ে গ্রুপ-‘এফ’ জয় করে তারা শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে আটালান্টার।
টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের পঁচিশে বাংলাদেশ

টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের পঁচিশে বাংলাদেশ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক টেস্ট অধিনায়কের কড়া সমালোচনা, ‘টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ২৫ বছর উদযাপন! এটা কেমন উদযাপন? স্ট্যাটাস পাওয়ার উদযাপন করার কী আছে? টেস্ট খেলছে পৃথিবীর আর কোনো দেশ কী এমন উদযাপন করে। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ২৫ বছর…তো এই ২৫ বছরে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট কতটুকু এগিয়েছে? কালেভাদ্রে কয়েকটি ম্যাচ জেতা বাদে কখনো কী এই ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা ছিল। এসব বাদ দিয়ে মাঠের ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়াই উচিত।’’সাবেক টেস্ট অধিনায়কের এমন ঝাঁজালো বক্তব্য আসলে টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের উদযাপনের স্রেফ সমালোচনা করাই নয়, বরং আসল জায়গায় বিসিবির কাজ না করার একটি চিত্রও বটে। এই উদযাপন হচ্ছে চলমান সপ্তাহজুড়ে। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম ঘুরে আজ সমাপণী দিনে সবচেয়ে বড় আয়োজন মিরপুর হোব অব ক্রিকেটে। ২৫ বছর আগে, ২০০০ সালের ২৬ জুন আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ হয় বাংলাদেশ। রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল অনূর্ধ্ব-১২ সিক্স-এ-সাইড টুর্নামেন্ট, চিত্রাঙ্কন ও ধারাভাষ্য প্রতিযোগিতা, ‘হিট দা স্টাম্প’ চ্যালেঞ্জসহ নানান আয়োজন। ২০০০ সালের ২৬ জুন টেস্ট স্বীকৃতি পাওয়ার পর ভারতের বিপক্ষে ১০ নভেম্বর প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম প্রথম টেস্টে শতক হাঁকান। সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন নাঈমুর রহমান দূর্জয়। ঢাকা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে স্কোয়াডে ছিলেন মোহাম্মদ রফিক, হাসিবুল হোসেন, আকরাম খান, এনামুল হক, খালেদ মাসুদ পাইলট, হাবিবুল বাশার, আল শাহরিয়ার রোকন, জাভেদ ওমর বেলিম, ফাহিম মুনতাসির, মেহেরাব হোসেন, শাহরিয়ার হোসেন, বিকাশ রঞ্জন দাস, রাজিন সালেহ, মঞ্জুরুল ইসলাম। আজ তাদের সংবর্ধনা দেবে বিসিবি। নানা কারণে অনেকেই থাকবেন না। যারা থাকবেন তাদের দেওয়া হবে বিশেষ ব্লেজার ও সম্মাননা। দেশজুড়ে নানা আয়োজনে রজতজয়ন্তী উদযাপনের দুটি কারণও ব্যাখ্যা করেছেন আমিনুল, ‘‘প্রোগ্রামটা আমরা দুইটা কারণে করেছি, একটা হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটের ২৫ বছর উদযাপন। আরেকটা হচ্ছে দেশব্যাপী বহু জায়গায় ক্রিকেট ঘুমিয়ে ছিল, তাদের একটা ওয়াকআপ কল দেওয়া। এটা আমরা অত্যন্ত সফলভাবে করতে পেরেছি।’’ যেভাবে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন ১৯৭৭ সালের ২৬ জুলাই আইসিসির সহযোগী সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ। আইসিসি ট্রফি জয়ের পর ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশ অর্জন করে ওয়ানডে স্টাটাস। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ টেস্ট স্টাটাসের জন্য আবেদন করেছিল। সে সময়ে পাঁচটি দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিলেও চারটি দেশ আরো পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেয়। তাতে ভেস্তে যায় সেই আবেদন। তবে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ স্কটল্যান্ড এবং পাকিস্তানকে হারালে টেস্ট স্টাটাস অর্জনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্নভাবে লবিং অব্যাহত থাকে। যেই কাজটা তখন বেশ সিদ্ধহস্তে করেছিলেন ক্রিকেটের দুই মহারথী সাবের হোসেন চৌধুরী ও সৈয়দ আশরাফুল হক। পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য কাজটা আরো সহজ হয় তখন আইসিসি সভাপতি ছিলেন জগমোহান ডালমিয়া। যিনি সব সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের শুভাকাঙ্খী ছিলেন। মূলত তার আমল থেকেই বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২০০০ সালের ২৬ জুন আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। ক্রিকেট-তীর্থ লন্ডনের লর্ডসের লং রুমে আইসিসির নতুন সভাপতি অস্ট্রেলিয়ার ম্যালকম গ্রে বাংলাদেশকে দশম টেস্ট দল হিসেবে বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করেন। লর্ডসে যখন সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তখন বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা। ব্যাস, এরপরই পুরো দেশে শুরু হয়ে যায় উৎসব। পরদিন ঢাকাসহ সারাদেশে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জোয়ার লেগে যায়। শুরু হয়ে যায় নতুন এক পথ চলা।
অস্বস্তিতে দিন পার বাংলাদেশের

অস্বস্তিতে দিন পার বাংলাদেশের কলম্বো টেস্টের প্রথম দিনেই ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ৮ উইকেটে ২২০ রানে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। অস্বস্তিতে দিন পার করেছে সফরকারীরা। উল্টো অবস্থা স্বাগতিক শিবিরে। বাংলাদেশকে চাপে রেখে হাসি ফুটেছে শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমে। ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম দিনেই প্রবল চাপে বাংলাদেশ। আউট হওয়া আট ব্যাটসম্যানের মধ্যে কেউই ফিফটির ছোঁয়া পাননি। চল্লিশের ঘরে যেতে পেরেছেন কেবল সাদমান ইসলাম। এছাড়া ত্রিশে গিয়ে আটকে গিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। টপ ও মিডল অর্ডার থেকে বড় স্কোর না আসায় ব্যাটিংয়ে দিনটা একদমই বাজে গেছে বাংলাদেশের। তাইজুল ইসলাম ৯ ও ইবাদত হোসেন ৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। উইকেট গলের মতো ব্যাটিং বান্ধব নয়। বল টার্ন করেছে। পেসারদের জন্য সুইং ছিল। বোলাররা উইকেট থেকে সুবিধা আদায় করতে পারছেন। নতুন বলে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই সাফল্য পায়। ১০ বল খেলে কোনো রান না করে বোল্ড হন এনামুল হক বিজয়। সিরিজে এটি তার দ্বিতীয় ডাক। এরপর মুমিনুল ও সাদমান দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি। আলগা শটে ধনাঞ্জয়ার বলে কাভারে ক্যাচ দেন মুমিনুল। ২১ রানে ফেরেন তিনি। ভালো করেননি গলে জোড়া সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৮ রানে। সাদমান একপ্রান্ত আগলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ফিফটি ছোঁয়ার পথেই ছিলেন। কিন্তু ৪ রান দূরে থাকতে নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন। ৯৩ বলে ৭ চারে ৪৬ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি। এরপর মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের লড়াই শুরু হয়। ইনিংসের শুরুতে দুজনই জীবন পেয়েছিলেন। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। তাদের জুটিও তেমন বড় হয়নি। লিটন ব্যক্তিগত ৩৪ রানে ধানুশার বলে মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ দেন। সঙ্গী হারানোর পর মুশফিকুর ৩৫ রানে একই বোলারের বলে আউট হন। পরে লড়াই করেন মিরাজ ও নাঈম। তাদের দুজনের ব্যাটে দুইশ অতিক্রম করার পথে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয় ১৯৭ রানে মিরাজ ৩১ রানে আউট হলে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। ভরসা হয়ে আশা দেখাচ্ছিলেন নাঈম। কিন্তু ২৫ রানে তাকে বোল্ড করেন আসিথা ফার্নান্দো। বোলারদের নৈপূণ্যে শ্রীলঙ্কা কলম্বোর এসএসি মাঠে প্রথম দিন দাপট দেখিয়েছে। বাংলাদেশ আড়াইশ রান করতে পারলে কিছুটা আত্মবিশ্বাস পাবে। লেজের ব্যাটসম্যানদের সুবাদে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে কিনা সেটাই দেখার।
প্রবাসীদের নিয়ে বাফুফের ট্রায়াল, থাকবে ক্লাবগুলোও

প্রবাসীদের নিয়ে বাফুফের ট্রায়াল, থাকবে ক্লাবগুলোও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আয়োজনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামী ২৭ থেকে ৩০ জুন অনুষ্ঠিত হবে প্রবাসী ফুটবলারদের জন্য বিশেষ ট্রায়াল প্রোগ্রাম ‘বিএফএফ নেক্সট গ্লোবাল স্টার’। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার লক্ষ্যে এই ট্রায়ালে অংশ নিতে ১৯টি দেশ থেকে আসছেন ৫১ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার। এ উপলক্ষে আজ মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের ঈগল হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাফুফে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদি, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু, কামরুল হাসান হিলটন, সাঈদ হাসান কাননসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনে জাহেদি জানান, হামজা চৌধুরী, সামিত সোম, ফাহমেদুল ইসলামের মতো তারকা প্রবাসী ফুটবলারদের বাংলাদেশ দলে খেলার পর অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন। বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের মধ্যে এখন দেশের হয়ে খেলার প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাদের সেই সুযোগ করে দিতেই বাফুফে আয়োজন করেছে ‘নেক্সট গ্লোবাল স্টার’ ট্রায়াল প্রোগ্রাম। তিনি আরও জানান, খেলোয়াড়দের আনতে বাফুফে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। বরং, তারা নিজেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের খরচে বাংলাদেশে এসেছেন জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে। এই ট্রায়ালের মাধ্যমে জাতীয় দলের জন্য প্রতিভাবান প্রবাসী ফুটবলার বাছাই করা হবে। যারা ভবিষ্যতে হামজা বা সামিতদের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে নিতে পারবে। তবে অংশগ্রহণকারী সবাইকে জাতীয় দলে নেওয়া সম্ভব হবে না। তাই বাফুফে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই ট্রায়ালে ক্লাবগুলোকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে। যাতে তারা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে নিজেদের দলে ভেড়াতে পারে। শুধু ক্লাব নয়, দেশের সব ফুটবলপ্রেমীদের জন্যই ট্রায়ালটি সরাসরি মাঠে থেকে দেখার সুযোগ থাকবে বলেও জানায় বাফু
কলম্বোয় বৃষ্টির আগে নড়বড়ে বাংলাদেশ

কলম্বোয় বৃষ্টির আগে নড়বড়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় বছরের এ সময় বৃষ্টি-বাদলা হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। বৃষ্টির কারণে বহু ম্যাচ ভেসে যাওয়ার ঘটনাও আছে। বাংলাদেশ দলের এবারের শ্রীলঙ্কা সফরেও যে বৃষ্টি বড় ভূমিকা রাখবে, সেটি জানাই ছিল। গলে প্রথম টেস্টের একটা অংশ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। কলম্বোতেও প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টির বাগড়া। তবে সকালের সেশনে বৃষ্টি ছিল না। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম সেশনে ২ উইকেটে ৭১ রান করতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রথম উইকেটটি যায় শুরুর দিকেই, দলীয় ৫ রানে। টানা তৃতীয়বারের মতো ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশ দলের ওপেনার এনামুল হক বিজয়। আজকে রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আসিথা ফার্নান্ডোর বলে ১০ বল খেলে বোল্ড হয়ে ফেরেন শূন্য রানে। যদিও বোল্ড হওয়ার আগে দুইবার জীবন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। চলতি সিরিজে সবমিলিয়ে তিন ইনিংসে ৪০ বল খেলে ৪ রান করতে পেরেছেন এই ডানহাতি। শুরুর ওই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম। কিন্তু রান তুলতে হিমশিম খাচ্ছিলেন দুজনেই। তাদের জুটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টায় থাকা মুমিনুল ব্যক্তিগত ২১ রানে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার প্রথম বলেই কভারে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এরপর সাদমান দায়িত্ব নিয়ে খেলছিলেন। কিন্তু তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। যদিও প্রথম ইনিংসে আর উইকেট পড়তে দেননি তারা। আগের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো এই বাঁহাতি আজ ফিরেছেন মধ্যাহ্ন বিরতির পরেই। ৩১ বলে ৮ রান করে উইকেটকিপার কুশল মেন্ডিসের হাত ধরা পড়েন তিনি। ফিফটির দিকে ছুটতে থাকা সাদমান এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ফিফটি থেকে ৪ রান দূরে থামে তার লড়াই। ৯৩ বলে ৭ চারে ৪৬ রান করা সাদমান বিদায় নেওয়ার পর ক্রিজে আসেন লিটস দাস। তাদের লড়াই শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই নামে বৃষ্টি। মাঝে একবার বৃষ্টি থামলে কভার সরানো হয়। কিন্তু মিনিট দশেকের মধ্যে আবার বৃষ্টি পড়তে শুরু হলে খেলা বন্ধ রাখা হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৩.২ ওভারে ৪ উইকেটে ৯০ রান করেছে বাংলাদেশ। মুশফিক ৭ ও লিটন ৮ রানে ব্যাট করছেন।
তৃতীয় ওপেনার হিসেবে দলে নাঈম শেখ, সৌম্যকে কড়া বার্তা

তৃতীয় ওপেনার হিসেবে দলে নাঈম শেখ, সৌম্যকে কড়া বার্তা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ১৬ জনের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য সরকার। তার পরিবর্তে দলে তৃতীয় ওপেনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপের পর দল থেকে বাদ পড়েন নাঈম। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে রানবন্যা বইয়ে দিয়ে প্রায় দুই বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক আশরাফুল হোসেন লিপু দল ঘোষণা করেন। নাঈম শেখের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “দেখুন, দল নির্বাচনের আগে আমরা এই মুহূর্তে একটা ‘বেস্ট পসিবল কম্বিনেশন’ ভাবি। সেই ভাবনার সময় ওপেনারের জায়গা তো একটা স্পেশালিস্ট জায়গা। তখন একজন বিকল্প ওপেনারের কথা চিন্তা করতে হয়। “সাধারণত দলে তিনজন ওপেনার থাকে। সেই আলোকে আমাদের যখন চিন্তা করতে হয়েছে, তখন এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো ও উপলব্ধ (available) খেলোয়াড় হিসেবে নাঈম শেখকেই আমরা বেছে নিয়েছি।” — আরও যোগ করেন লিপু। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ২০২৩–২৪ মৌসুমে নাঈম শেখ পাঁচ শতাধিক রান করেন। ২০২৪ সালের আসরে ১টি সেঞ্চুরি ও ৪টি ফিফটিতে তিনি করেন ৫৩৬ রান। চলতি বছরের প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ১১ ইনিংসে ২টি সেঞ্চুরি ও ২টি ফিফটিতে তার সংগ্রহ ছিল ৬১৮ রান। স্ট্রাইক রেট ছিল চোখে পড়ার মতো—১২১.৮৯। নাঈমের ব্যাটিংয়ের ধরনে পরিবর্তন এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচক, যা তার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। পাশাপাশি সৌম্য সরকারকেও দিয়েছেন কড়া বার্তা। চোট এবং সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় তাকে না রাখার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। প্রধান নির্বাচক বলেন, “সৌম্য সরকার একজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। ১০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি যেন নিজেকে প্রস্তুত রাখেন—এটাই প্রত্যাশা। আমরা চাই বড় পরিসরে তিনি দলের সার্বিক সাফল্যে ভূমিকা রাখুন। তাকে আমরা ভুলে যাইনি। তবে তাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে আসতে হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে।”
অনিশ্চয়তার মুখে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ

অনিশ্চয়তার মুখে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠে দেখা যাবে ৪৮ দল। তার এশিয়ার শক্তিশালী দল ইরান ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে তাদের অংশগ্রহণ। কিন্তু মাঠের লড়াই জিতে বিশ্বকাপের টিকিট পেলেও এখন তাদের সামনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষ রাজনীতি ও ভিসা জটিলতা। এই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে তিনটি দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ফাইনালসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। আর এখানেই শুরু হয়েছে সমস্যা। ওয়াশিংটনের কড়া ভিসা নীতি, সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব একত্রে জটিল করে তুলেছে ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা। চলতি বছরের মার্চে উজবেকিস্তানের সঙ্গে ড্র করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইরান। কিন্তু ভিসা না পেলে যুক্তরাষ্ট্রে নকআউট পর্বে খেলাই অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়াবে। এমন পরিস্থিতিতে ফিফা ও আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ইরান যদি ‘গ্রুপ এ’-তে পড়ে, তাহলে প্রাথমিক ম্যাচগুলো হতে পারে মেক্সিকোতে। কিন্তু শেষ ষোলোতে গেলে ম্যাচ পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে—যেখানে ভিসা পাওয়া দারুণ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে ইরানি খেলোয়াড়দের জন্য। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল আছে ১২টি দেশের ওপর, যার মধ্যে রয়েছে ইরান। যদিও ক্রীড়াজগতের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, এখনো নিশ্চিত কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনে আগে রাশিয়া ও যুগোস্লাভিয়া যেমন নিষিদ্ধ হয়েছিল ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটতে পারে কি না তা নিয়েই শঙ্কা ফুটবলমহলে। শুধু জাতীয় দল নয়, ভিসা সমস্যা তাড়া করছে ক্লাব ফুটবলেও। ইন্টার মিলানের ইরানি স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি ক্লাব বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও ভিসা জটিলতায় যুক্তরাষ্ট্রে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা সত্ত্বেও তাকে তেহরান থেকে বের করে আনা যায়নি। এখনও পর্যন্ত ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কিংবা মার্কিন প্রশাসন কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে বিশ্বকাপে ইরানের উপস্থিতি আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছেই।
চমক রেখেই শ্রীলঙ্কা সিরিজের ওয়ানডে দল ঘোষণা বিসিবির

চমক রেখেই শ্রীলঙ্কা সিরিজের ওয়ানডে দল ঘোষণা বিসিবির শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়ক করে ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। যেখানে বড় চমক মোহাম্মদ নাঈম শেখের অন্তর্ভুক্তি। দুই বছর পর দলে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পুরো স্কোয়াডে একমাত্র চমক বলতে গেলে সেটাই। বাকি সবক্ষেত্রেই চেনা মুখেদের ওপর ভরসা রেখেছে বিসিবি। এ ছাড়া চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পেসার তাসকিন আহমেদও। আজ মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন দল ঘোষণা করেন।
বিতর্কিত কান্ড করে শাস্তির মুখে ভারতের সহ-অধিনায়ক

বিতর্কিত কান্ড করে শাস্তির মুখে ভারতের সহ-অধিনায়ক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ভারতের সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্ত। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে প্রকাশ্য অসন্তোষ দেখিয়ে তিনি আইসিসির আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পন্তকে শাস্তির মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে। ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৬১তম ওভারে। মোহাম্মদ সিরাজের করা ওভারের পঞ্চম বলে হ্যারি ব্রুক একটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর পন্ত বলের অবস্থা নিয়ে আপত্তি জানান এবং আম্পায়ার পল রাইফেলের কাছে বল বদলের আবেদন করেন। রাইফেল গজ দিয়ে বল পরীক্ষা করে জানান, বলে কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে পন্ত বিরক্তি প্রকাশ করে বলটি ব্যাকহ্যান্ডে মাটিতে ছুঁড়ে দেন এবং সেখান থেকে সরে দাঁড়ান। ঘটনার পরপরই পরবর্তী ওভারে আম্পায়ারদের বল পরীক্ষা করতে দেখা যায় এবং শুবমান গিল ও যশপ্রীত বুমরাহকেও আম্পায়ারদের সঙ্গে আলোচনায় জড়াতে দেখা যায়।
শেষ টেস্ট খেলতে গল থেকে কলোম্বোতে বাংলাদেশ দল

শেষ টেস্ট খেলতে গল থেকে কলোম্বোতে বাংলাদেশ দল দাপট দেখিয়েও গল টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগারদের। এবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে চোখ নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। আজ দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু কলোম্বোতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। দলের সঙ্গে সকল ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফের সদস্যরা সেখানেই পৌঁছেছেন। কলোম্বো পৌঁছে অবশ্য ক্রিকেটাররা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঘুরে ফিরে দেখছেন ক্রিকেটাররা। কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও। আগামীকাল থেকে মাঠের অনুশীলনে নামার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। আগামী দুইদিন অনুশীলন শেষে আগামী ২৫ জুন সিরিজের শেষ টেস্টে মাঠে নামবে দুই দল। শেষ টেস্টে দলে দেখা যাবে মেহেদী হাসান মিরাজকে। কলম্বো টেস্ট নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক শান্ত। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এই ম্যাচ আত্মবিশ্বাস দেবে। মিরাজ সুস্থ আছে পুরোপুরি। আশা করি পরের ম্যাচে খেলতে পারবে। কন্ডিশন ভিন্ন হবে। ওই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা খুব কম প্লেয়ারেরই আছে। মুশফিক (মুশফিকুর রহিম) ভাইয়ের সম্ভবত ১ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এছাড়া আর কেউ খেলেনি। কন্ডিশনে বুঝে টিম কম্বিনেশন হবে। ব্যাটিং অইখানে যাওয়ার পর বুঝতে পারব। এই ম্যাচ অবশ্যই দলকে আত্মবিশ্বাস দেবে।’