ক্লাব বিশ্বকাপে ‘আর্জেন্টিনার জার্সি’ ভাইরাল কোরিয়ান ক্লাব

ক্লাব বিশ্বকাপে ‘আর্জেন্টিনার জার্সি’ ভাইরাল কোরিয়ান ক্লাব ক্লাব বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাবগুলো দুর্দান্ত খেলছে। ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোকে তারা নাকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছে। তেমনি আজ উলসান হুন্দাইয়ের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্স। তবে এই ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল উলসানের জার্সি! দক্ষিণ কোরিয়ার ক্লাবটি এমন এক জার্সি পরে মাঠে নামে, যা দেখতে হুবহু আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পরিচিত জার্সির মতো। ওই জার্সিতে ছিল পাঁচটি আকাশি নীল রঙের স্ট্রাইপ, যার পটভূমি সাদা। জার্সির হাতায় ছিল জার্মান ব্র্যান্ডের ক্লাসিক থ্রি স্ট্রাইপ ডিজাইন। পুরো দলের শর্টস ও মোজাও ছিল সাদা রঙের। সব মিলিয়ে পুরো জার্সিটিই যেন ছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জার্সির প্রতিরূপ! জার্সির এই আকস্মিক পরিবর্তন ঘিরে শুরু হয় আলোচনা, বিশেষ করে ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে জিন-হিউন লি এবং শেষ দিকের সময়ে উম ওন-সাং গোল করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন উচ্ছ্বাসের বন্যা বইয়ে দেয় ভক্তরা। জার্সিটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার প্রধান কারণ ছিল, এই জার্সির সঙ্গে কোনো মিল নেই ক্লাবটির ঐতিহাসিক রঙের। ক্লাব বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দলটি নেমেছিল নীল-হলুদ রঙের জার্সিতে। ফলে হঠাৎ করে এমন সাদা-আকাশি রঙের জার্সি দেখে অবাক হয়ে যান আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। অনেকে মনে করেন, এটা যেন লাতিন আমেরিকার বিশ্বজয়ী দলের ছায়া। এদিকে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে খেলায় উলসানের এমন জার্সি পরাকে ঘিরে তৈরি হয় নানারকম মিমস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ বলেন, ‘এ যেন আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল!’। আবার কেউ লিখেছেন, ‘কোরিয়ান স্কালোনেতা মাঠে নেমে গেছে!’
ক্লাব বিশ্বকাপ: ১০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যিক লড়াই

ক্লাব বিশ্বকাপ: ১০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যিক লড়াই ফিফার নতুন সংস্করণের ক্লাব বিশ্বকাপ যেন শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক মঞ্চ। গত মার্চে ফিফা ঘোষণা করে, এবারের ৩২ দল নিয়ে আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপে বিজয়ী দল পাবে সর্বোচ্চ ১২৫ মিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ মাত্র এক মাসের টুর্নামেন্টে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ের সুযোগ! শুধু ম্যাচ জিতলেই মিলবে ২ মিলিয়ন ডলার। ‘অক্টাগনের ফুটবল বিভাগের প্রধান ফিল কার্লিং বলেন, ‘এটা এখনকার ফুটবলে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যুদ্ধ—আন্তর্জাতিক ভক্ত ধরে রাখা এবং তাদের অর্থে পরিণত করা। ‘এই মুহূর্তে ফুটবলে ট্যালেন্ট মানে টাকা, টাকা মানে নজর, নজর মানে স্পনসর, স্পনসর মানেই ক্লাবের অর্থনৈতিক ক্ষমতা, চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো ঐতিহ্য না থাকলেও ক্লাব বিশ্বকাপে আমেরিকার মাটিতে নিজেদের দেখানোর এই সুযোগকে বড় ক্লাবগুলো হাতছাড়া করতে চায় না। জার্সি বিক্রি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার বাড়ানো আর ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে ক্লাবগুলো নিজেদের আয়ের নতুন দ্বার খুঁজে পাচ্ছে। স্পোর্টস মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ টিম ক্রো বলেন, ‘এটা এখন আর ঐতিহ্যগত ভক্তদের মন জয় করার প্রশ্ন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য। ‘ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শীর্ষ ২০ ক্লাব ২০২৩-২৪ মৌসুমে বাণিজ্যিক খাত থেকে মোট ৪.২ বিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে—যার মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের আয় সর্বোচ্চ ৪১০ মিলিয়ন পাউন্ড। যুক্তরাষ্ট্রে এখনও লাখ লাখ মানুষ আছেন যাদের কোনো পছন্দের ফুটবল ক্লাব নেই। সেই বাজার দখলের এই সুবর্ণ সুযোগ মিস করতে চায় না রিয়াল মাদ্রিদের মতো ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো।আসলে যুক্তরাষ্ট্র হলো ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনমি। সেখানে একজন ফ্যান মানেই ভবিষ্যতের ক্রেতা, সাবস্ক্রাইবার এবং বিনিয়োগকারী। কেউ জানে না আগামী ১০ বছরে এই টুর্নামেন্ট কোথায় দাঁড়াবে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি, পিএসজি’র মতো ক্লাব যখন এতটা সিরিয়াস, তখন এটা শুধু ‘গ্রীষ্মকালীন প্রীতি ম্যাচ’ নয়, বরং ফুটবলের ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক রূপরেখার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
অসুস্থ এমবাপ্পেকে রেখে শার্লটে গেল রিয়াল মাদ্রিদ

অসুস্থ এমবাপ্পেকে রেখে শার্লটে গেল রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ। আজ রাতে শার্লটের ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকান ক্লাব পাচুকার মুখোমুখি হবে লস ব্লাঙ্কোরা। এই ম্যাচকে সামনে রেখে ফ্লোরিডা ছেড়ে নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটে পৌঁছেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে শার্লটগামী এই বিমানে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিছু দিন আগে পেটের পীড়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এমবাপ্পে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি তিনি। তাই ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে ফরাসি তারকাকে রেখেই শালর্টে গেছেন দলের বাকিরা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে রিয়ালের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এমবাপ্পের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে এএফপিকে রিয়ালের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘তার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে। তবে সে রোববারের ম্যাচটি খেলতে সতীর্থদের সঙ্গে বিমান ভ্রমণ করবে না।’শুধু এমবাপ্পে নয় এই ম্যাচে ডিফেন্ডার দানি কারভাহালকেও পাচ্ছেন না রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করায় ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অনিশ্চিত কারভাহাল। আগামী বৃহস্পতিবার ফিলাডেলফিডায় অস্ট্রিয়ান ক্লাব রেড বুল সাল্জবুর্গের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ম্যাচে এমবাপ্পেকে পাওয়ার আশায় আলোনসো। সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল কোচ বলেন, ‘সে হাসপাতাল থেকে ফিরেছে। সেরে উঠছে এবং উন্নতি করছে। আমরা তাকে সাল্জবুর্গের বিপক্ষে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’
অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট পেলো কানাডা

অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট পেলো কানাডা ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেলো কানাডা। আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বাহামাসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। গতকাল টস জিতে বাহমাসকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় কানাডা। কালিম সানা ও শিবম শর্মার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয় বাহামাস। ৩টি করে উইকেট নেনে কালিম সানা ও শিবম শর্মা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫ ওভার ৩ বলে জয় তুলে নেয় কানাডা। ১৪ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন দিলপ্রীত বাজওয়ার। এই জয়ে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে কানাডা। বাছাইপর্বে এখনও একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও আগেই নিশ্চিত হয়েছে তাদের টিকিট। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত খেলেছে কানাডা। প্রথম ম্যাচেই বারমুডাকে হারায় ১১০ রানে। এরপর কেম্যান আইল্যান্ডসকে ৫৯ রানে এবং বাহামাসকে আগেও হারায় ১০ উইকেটে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে অপরাজিত দলটি। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বসবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে। আয়োজক দুই দেশের পাশাপাশি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে—আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান। কানাডাসহ মোট ১৩টি দল নিশ্চিত হয়ে গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বাকি ৭টি দল নির্ধারিত হবে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব থেকে। ইউরোপ থেকে ২টি (৫-১১ জুলাই), আফ্রিকা থেকে ২টি (১৯ সেপ্টেম্বর-৪ অক্টোবর) এবং এশিয়া ও ইস্ট এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে ৩টি (১-১৭ অক্টোবর) দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।
ইংল্যান্ডে ভারতের রানবন্যা, ইতিহাস গড়লেন জয়সওয়াল-গিল

ইংল্যান্ডে ভারতের রানবন্যা, ইতিহাস গড়লেন জয়সওয়াল-গিল ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের রোমাঞ্চকর টেস্ট সিরিজ শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। যেখানে প্রথম দিনেই স্বাগতিক বোলারদের নাস্তানাবুদ করে শুভমান গিলের দল বড় পুঁজি পেয়েছে। হেডিংলিতে চলমান এই ম্যাচ দিয়ে অধিনায়ক গিলের অধ্যায় শুরু করল ভারত। যেখানে তিনি সামনে থেকেই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন যশস্বী জয়সওয়াল ও গিল। প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ইংলিশদের বিপক্ষে ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৫৯ রান। স্বাগতিক বেন স্টোকসের দল যে বাজবলের ক্রিকেটে দ্রুতগতিতে রান তোলার চেষ্টায় নামবে, তা তাদের সাম্প্রতিক টেস্টের ইতিহাসই বলে দিচ্ছে। তবে আগে ব্যাট করতে নামা ভারতের কাছ থেকেই তাদের একই ধাক্কা সামলাতে হলো। ৮৫ ওভার ব্যাট করে ৪.২২ গড়ে রান তুলেছেন গিল-জয়সওয়ালরা। ওপেনার জয়সওয়ালের ইতিহাসগড়া ইনিংস ১০১ রানে থামলেও, গিল অপরাজিত আছেন ১২৭ রানে। এ ছাড়া লোকেশ রাহুল করেন ৪২, ঋষভ পান্ত অপরাজিত ৬৫–তে। হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিনেই বেশকিছু রেকর্ড গড়েছে ভারত জয়সওয়াল ইংল্যান্ডে এদিন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন ভারতীয় এই তরুণ ওপেনার। অভিষেক দিনেই তিনি সেঞ্চুরি করেছেন। এ নিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি পেলেন। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার খেলতে নেমেই সেঞ্চুরির কীর্তি আছে তিন ভারতীয় ব্যাটারের– মোতগানহালি জয়সিমা, সুনীল গাভাস্কার ও জয়সওয়াল। আর ইংল্যান্ডে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেন ৬ জন। জয়সওয়াল ছাড়া বাকিরা হচ্ছেন– বিজয় মাঞ্জরেকার, আব্বাস আলি বেগ, সন্দ্বীপ পাতিল, সৌরভ গাঙ্গুলি ও মুরালি বিজয়। তবে জয়সওয়ালই একমাত্র ব্যাটার হিসেবে দুই ভূমিতেই একই কীর্তি গড়লেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত নিজের ভূখণ্ডসহ পাঁচ দেশে খেলতে নেমে চারটিতেই অভিষেক টেস্টে ৫০+ রানের ইনিংস খেললেন ভারতীয় এই ওপেনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরুটা হয়েছিল ১৭১ রান দিয়ে, ঘরের মাটিতে ৮০ (আরেক ইনিংসে ১৫), অস্ট্রেলিয়ায় ১৬১ (প্রথম ইনিংসে শূন্য) ও ইংল্যান্ডে ১০১ দিয়ে শুরুটা করলেন জয়সওয়াল। কেবল দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম টেস্টে করেন ১৭ ও ৫ রান। গিল চতুর্থ ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন শুভমান গিল। ১৯৫১ সালে বিজয় হাজারে (১৬৪*, ঘরের মাঠে), সুনীল গাভাস্কার ১৯৭৬ সালে (১১৬, নিউজিল্যান্ড), ২০১৪ সালে বিরাট কোহলি (১১৫, অস্ট্রেলিয়া) এবং শুভমান গিল (১০২*) যুক্ত হলেন তালিকায়।এ ছাড়া বিদেশ সফরের প্রথম দিনেই দুই ভারতীয় ব্যাটারের সেঞ্চুরি এ নিয়ে তৃতীয়বার দেখা গেল। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিপক্ষে ২০০১ সালে শচীন টেন্ডুলকার ও বীরেন্দর শেবাগ, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেখর ধাওয়ান ও চেতেশ্বর পূজারা এবং গিল-জয়সওয়াল ২০২৫ সালে প্রথম দিনেই করলেন জোড়া সেঞ্চুরি। ভারত গতকাল পুরো ৯০ ওভার না খেললেও ৩৫৯ রান তুলেছে স্কোরবোর্ডে। যা দেশের বাইরে টেস্টের প্রথম দিনে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে গলে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৩৯৯/৩ এবং ২০০১ সালে ব্লুমফন্টেনে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তারা ৩৭২/৭ করেছিল। এ ছাড়া পাকিস্তানের মুলতানে ২০০৪ সালে তুলেছিল ৩৫৬/২।
ইতিহাসের পাতায় শান্ত, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গড়লেন বিরল রেকর্ড

ইতিহাসের পাতায় শান্ত, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গড়লেন বিরল রেকর্ড শেষ কবে একজন বাংলাদেশি ব্যাটার টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন? উত্তরটা খোঁজা খুব একটা কঠিন না। ২০২৩ সালেই মাত্র দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৭৬ আর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ১২৪। এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল মুমিনুল হকের। তার কীর্তি ছিল এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই.২০১৮ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে। ১৭৬ রান করেছিলেন প্রথম ইনিংসে, দ্বিতীয় ইনিংসে তার উইলো থেকে আসে ১০৫ রান। নাজমুল শান্তর সামনে সুযোগ ছিল বাংলাদেশের প্রথম ‘অধিনায়ক হিসেবে’ টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা এবং প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘দুইবার’ একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়ার। গলের প্রথম টেস্টে শান্ত করেছেন এই দুটি রেকর্ডই। ৫ম দিনে লাঞ্চের আগে বৃষ্টি হানা দেয়। তার আগ পর্যন্ত করেন ৮৯ রান। লাঞ্চের পর ব্যাট করতে নেমে বাকি ১১ রান নেন দেখেশুনে। আরও ২২ বল খেলেন সেঞ্চুরি পূরণ করতে। সবমিলিয়ে টেস্টে এটি তার ৭ম সেঞ্চুরি। মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেরিয়ে শান্ত এখন বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে একই টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির ঘটনা ঘটে দেশের মাটিতে। শান্তর কীর্তিটা তাই একটু ভিন্ন। টাইগার অধিনায়ক তার এবারের জোড়া সেঞ্চুরি পেয়েছেন গলে, অর্থাৎ দেশের বাইরে। শান্তর কীর্তি হয়েছে আরও একটি। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি তার। নিজে অধিনায়ক থাকা অবস্থায় এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। সবচেয়ে বেশি ৪ সেঞ্চুরি আছে মুশফিকুর রহিমের। মুমিনুল হক, মোহাম্মদ আশরাফুল আর হাবিবুল বাশারের ছিল ২টি করে সেঞ্চুরি। সবমিলিয়ে টেস্ট ইতিহাসে দুইবার এক টেস্টে দুই সেঞ্চুরি পাওয়া ১৫তম ক্রিকেটার হলেন শান্ত। এদের মধ্যে ডেভিড ওয়ার্নার, রিকি পন্টিং ও সুনীল গাভাস্কারই কেবল ৩ বার করে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। একনজরে শান্তর যত কীর্তি : ১ম বাংলাদেশি হিসেবে দুইবার টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি ১ম বাংলাদেশি অধিনায়ক হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি দেশের বাইরে ১ম টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি টেস্ট ইতিহাসে মাত্র ১৫তম ব্যাটার হিসেবে দুইবার টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি মাত্র ১৬তম অধিনায়ক হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি
৩৭ ওভারে শ্রীলঙ্কার সামনে ২৯৬ রানের টার্গেট

৩৭ ওভারে শ্রীলঙ্কার সামনে ২৯৬ রানের টার্গেট নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরির অপেক্ষা করছিলেন, সেটা বোঝা গেল স্পষ্টভাবে। লাঞ্চের পর সেঞ্চুরি করতে সময় নিয়েছিলেন ২২ বল। এরপর ২৫ রান করেছেন মাত্র ৯ বলে। ১২৫ রানে নিজে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। দলের স্কোর হয়েছে ২৮৫। এমন সময়েই ইনিংসের ইতি টানেন শান্ত। শ্রীলঙ্কার সামনে টার্গেট ২৯৬। গল টেস্টের ৫ম দিনে খেলা বাকি ৩৭ ওভারের। এরমাঝে অবশ্য বৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে। শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ফল বের করতে চাইবে নাকি সময় পার করবে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে আগ্রাসী বল করতে চাইবে, সেটা অনেকটাই অনুমেয়। ৫ম দিনের খেলার শুরুতেও ১৮৭ রানের লিড ছিল বাংলাদেশের। অপরাজিত ছিলেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। দুজনের এদিনের শুরুটা ছিল সাবধানী আর ধীরগতির। সেখান থেকে অবশ্য বাংলাদেশ খুব একটা পিছিয়েও ছিল না। লাঞ্চের আগে বৃষ্টি হানা দেয়। তার ঠিক আগের বলে মুশফিক রানআউট হন ৪৯ রানে। শান্ত তখন সেঞ্চুরি থেকে ১১ রান দূরে। এই একটা সেঞ্চুরিই শান্তর নাম তুলতে পারতো বৈশ্বিক কিংবদন্তিদের রেকর্ডে। শান্ত তাই সাবধানী হয়েই খেললেন। ১১ রান করতে খরচ করেছেন ২২ বল। তবে অপরপাশে স্পিনের দুর্দান্ত সুইংয়ে বোকা হয়ে ফিরতে হয়েছে লিটন কুমার দাস এবং জাকের আলী অনিককে। এরপর নাইম সঙ্গ দিয়েছেন দারুণভাবে। সেঞ্চুরির পর শান্তও ছিলেন আগ্রাসী। শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশ জমা করে ২৯৫ রানের বড় এক লিড। দিনের বাকি সময়ে অন্তত হারতে হচ্ছে না এমন আভাস পেয়েই হয়ত ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত।
আরচ্যারিতে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়

আরচ্যারিতে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয় এশিয়ান কাপ আরচ্যারিতে বাংলাদেশের আরচ্যার আব্দুর রহমান আলিফ স্বর্ণ জিতেছেন। ফাইনালে জাপানের মিয়াতা গাকুতোকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে পরাজিত করেন আসিফ। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আজ শুক্রবার (২০ জুন) রিকার্ভ পুরুষ ব্যক্তিগত ইভেন্টের প্রথম সেটে আলিফ ২৮ স্কোর করেন। তার প্রতিপক্ষ জাপানি আরচ্যার মিয়াতা করেন ২৭ পয়েন্ট। তাতে বাংলাদেশের আলিফ ২-০ সেট পয়েন্টে লিড পায়৷ দ্বিতীয় সেটে আলিফ ২৯ আর জাপানি আরচ্যার ২৮ করলে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। পরের দুই সেটের একটি জিতলে শেষ সেট প্রয়োজন হতো না। বাংলাদেশের আরচ্যার আলিফ তৃতীয় ও চতুর্থ সেটে হেরে যান৷ মিয়াতার ২৮ ও ২৭ স্কোরের বিপরীতে আলিফ করেন ২৭ ও ২৬। ফলে ৪-৪ সেট পয়েন্টে সমতা আসে। পঞ্চম ও শেষ সেট শিরোপা নির্ধারণীতে পরিণত হয়। আলিফ শেষ সেটে ৩০ এর মধ্যে ২৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। জাপানি আরচ্যার মিয়াতা ২৬ পয়েন্ট পেলে আলিফ শেষ সেট জেতেন৷ এতে ৬-৪ সেট পয়েন্টে রিকার্ভ পুরুষ ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের স্বর্ণ নিশ্চিত হয়। আলিফ বাংলাদেশের উদীয়মান রিকার্ভ আরচ্যার। বিকেএসপির এই আরচ্যার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলছেন কয়েক বছর যাবত। এশিয়ান কাপ আরচ্যারির স্বর্ণ জয় তার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য। তার আগে বাংলাদেশের রোমান সানা এমন কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন৷
নিশাঙ্কার দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসে হতাশায় বাংলাদেশ

নিশাঙ্কার দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসে হতাশায় বাংলাদেশ ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন পাথুম নিশাঙ্কা। যদিও দুইশর ঘরে নিয়ে যেতে পারেননি নিজের ইনিংস। গল টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৬৮ রান। কামিন্দু মেন্ডিস ৩৭ ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ১৭ রানে আগামীকাল খেলতে নামবেন। বাংলাদেশ থেকে ১২৭ রানে এগিয়ে আছে তাদের দল। আজ ৯ উইকেটে ৪৮৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ থেমে যায় ৪৯৫ রানেই। ৮৮ বলে ফিফটি হাঁকানো নিশাঙ্কা ১৩৬ বলে পূর্ণ করে নেন দেশের মাটিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। নাঈমের বল সাদমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫৪ রানে ফেরেন এই লঙ্কান ব্যাটার। চারে নামা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস নেমেও ভালো শুরু করেন। নিশাঙ্কাকে সঙ্গ দিয়ে এগোতে থাকেন তিনি। হাসানের দারুণ ডেলিভারিতে স্টাম্প এলোমেলো হয়ে যায় তার। ২৫৬ বলে ২৩ চার ও এক ছক্কায় ১৮৭ রান করে ফেরেন তিনি।
আইনি লড়াইয়ে আবারও হার, ৫৩৯ কোটি রুপি গুনতে হবে বিসিসিআইকে

আইনি লড়াইয়ে আবারও হার, ৫৩৯ কোটি রুপি গুনতে হবে বিসিসিআইকে আইপিএলের দল কোচি টাস্কার্স কেরালার চুক্তি বাতিলের ঘটনায় আবারও বড় ধাক্কা খেলো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। সাবেক আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে চলমান মামলায় এবার আদালত বিসিসিআইকে দিতে বলেছেন প্রায় ৫৩৯ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ। বোম্বে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, কোচি ক্রিকেট প্রাইভেট লিমিটেডকে ৩৮৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি এবং রন্দেভু স্পোর্টস ওয়ার্ল্ডকে ১৫৩ কোটি ৫৪ লাখ রুপি পরিশোধ করতে হবে বিসিসিআইকে। কোচি টাস্কার্স কেরালার মালিকানা ছিল এই দুই প্রতিষ্ঠানের হাতে। মূলত ২০১৫ সালে এই মামলার জন্য আদালত যেসব সালিশকারীদের নিয়োগ দিয়েছিলেন, তাদের রায়ই এবার বহাল রাখা হয়েছে। ওই রায়ে বিসিসিআইকে প্রাথমিকভাবে ৫৫০ কোটি রুপি জরিমানা করার কথা বলা হয়েছিল। যদিও সে সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পক্ষ থেকে অর্থের বদলে আইপিএলে ফেরার সুযোগ চাওয়া হয়েছিল। বিসিসিআই তখন আপিল করে, যার ফল এসেছে এখন। ২০১০ সালে আইপিএলে অন্তর্ভুক্ত হয় কোচি টাস্কার্স কেরালা। তবে বিতর্কিতভাবে সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল দলটির বিরুদ্ধে। ২০১১ আসরে অংশ নিলেও একই বছর সেপ্টেম্বরে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। মূলত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি ফির ১০ শতাংশ। যার পরিমান প্রায় ১৫৬ কোটি রুপি। এই পরিমান অর্থ জমা না দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমগুলোতে তখন জানানো হয়, মালিকানা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এই বিলম্ব ঘটে। এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় দুই পক্ষের দীর্ঘ আইনি লড়াই, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি ১৪ বছরেও। বোম্বে হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ের বিরুদ্ধেও বিসিসিআই চাইলে আপিল করতে পারবে। এ জন্য তাদের হাতে সময় আছে ছয় সপ্তাহ।