এশিয়া কাপের আগে আরেকটি সিরিজ খেলতে চান লিটন

এশিয়া কাপের আগে আরেকটি সিরিজ খেলতে চান লিটন অবশেষে বিশ্রামের ফুরসত মিলেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের। শ্রীলঙ্কায় তিন ফরম্যাটের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ শেষ হওয়ার তিনদিনের মাথায় তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেমে পড়ে। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর আগামী এশিয়া কাপের আগে আর টাইগারদের কোনো সিরিজ নেই। আগস্টে ভারতের বিপক্ষে খেলার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে গেছে এক বছরের জন্য। সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে হতে পারে এশিয়া কাপ। তার আগপর্যন্ত খেলার সূচি নেই লিটন-শান্তদের সামনে। তবে আরেকটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের চেষ্টায় রয়েছে বিসিবি। শেষ পর্যন্ত যদি সেটিও না হয়, তাহলে স্কিল এবং ফিটনেস ক্যাম্প করবেন দেশের ক্রিকেটাররা। তাসকিন আহমেদ এবং লিটন দাসরাও অবশ্য সিরিজ খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে লিটন জানিয়েছেন, ‘(পাকিস্তান সিরিজ শেষে) পরে একটা সিরিজ হলে অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো হয়।’ এ ছাড়া বিসিবি সিরিজ আয়োজনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন তাসকিনও।

ইংল্যান্ডে ইতিহাস গড়ার পর ইনজুরিতে পন্থ

ইংল্যান্ডে ইতিহাস গড়ার পর ইনজুরিতে পন্থ ইংল্যান্ডের মাটিতে ব্যাট হাতে নজরকাড়া কীর্তি গড়েছেন রিশভ পন্থ। সফরকারী কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে ইতিহাসে প্রথমবার টেস্টে ইংল্যান্ডের মাটিতে এক হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছেছেন তিনি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে ব্রাইডন কার্সকে ছক্কা মেরে মাইলফলকটি ছুঁয়ে ফেলেন পন্থ। ইংল্যান্ড সফরে ২৪ ইনিংসে তার রান এখন ১,০১৮, গড় ৪৪.২৬। রয়েছে চারটি করে ফিফটি ও সেঞ্চুরি। সফরকারী কিপার-ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই কীর্তি আর কেউ গড়তে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৭৮ রান ভারতেরই মহেন্দ্র সিং ধোনির, ৭৭৩ রান করে তিনে আছেন অস্ট্রেলিয়ান রড মার্শ। দেশের বাইরে নির্দিষ্ট কোনো এক দেশে এক হাজার রান করা প্রথম কিপার-ব্যাটসম্যানও পন্থ। এই তালিকাতেও দুই নম্বরে আছেন তিনি নিজেই। অস্ট্রেলিয়ায় করেছেন ৮৭৯ রান। তবে মাইলফলক ছোঁয়ার কিছুক্ষণ পরই পান্তের জন্য দুঃসংবাদ। ক্রিস ওকসের ইয়র্কার পায়ে আঘাত হানলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ২৭ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান। তখন তিনি ৪৮ বলে ৩৭ রানে খেলছিলেন। পরে ফিজিওর চিকিৎসা নিয়েও ব্যাটিংয়ে ফিরতে পারেননি তিনি। টিভি ফুটেজে দেখা যায়, ডান পায়ের পাতা ফুলে গেছে এবং রক্ত ঝরছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে হাজার রান পূর্ণ করা ষষ্ঠ ভারতীয় ব্যাটসম্যান হয়েছেন পন্থ। এদিনই একই মাইলফলকে পৌঁছান ওপেনার লোকেশ রাহুল। আগেই এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন শচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, সুনিল গাভাস্কার ও বিরাট কোহলি। চলতি সিরিজেও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন পন্থ। চার ম্যাচে সাত ইনিংসে ৭৭ গড়ে তার রান ৪৬২, রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি।

বোনমাতির জাদুতে ইউরোর ফাইনালে স্পেন

বোনমাতির জাদুতে ইউরোর ফাইনালে স্পেন আইতানা বোনমাতির অতিরিক্ত সময়ের চোখ ধাঁধানো এক গোলে ইউরো ২০২৫-এর ফাইনালে উঠেছে স্পেন। সেমিফাইনালে তারা ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে জার্মানিকে। ফলে ২০২৩ নারী বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে ইউরো ফাইনালেও—স্পেন বনাম ইংল্যান্ড। পুরো ৯০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পর ১১৩তম মিনিটে জাদুকরী এক টার্ন নিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন দুইবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী বোনমাতি। তারপর দারুণ এক ফিনিশে জার্মান গোলরক্ষক অ্যান-ক্যাথরিন বার্গারকে পরাস্ত করেন তিনি। শেষ দিকে মরিয়া আক্রমণ চালায় জার্মানি। তবে স্পেনের গোলরক্ষক কাতা কোল দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে লেয়া শুলারের শট ফিরিয়ে দেন এবং নিশ্চিত করেন স্পেনের প্রথম ইউরো ফাইনাল। ২০২৩ নারী বিশ্বকাপে ওলগা কারমোনার একমাত্র গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। এবার সেই দুই দলের মধ্যে আবারও বড় মঞ্চে দেখা হচ্ছে। সেমিফাইনালে ম্যাচের প্রথমার্ধে স্পেন বলের দখল ধরে রাখলেও গোল পাননি, বরং ক্লারা বুল এবং জিওভানা হফম্যান কিছু দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন জার্মানির পক্ষে। দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন আরও দাপট দেখালেও, ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জন নিয়ে ১০০ মিনিট খেলা জার্মান রক্ষণ একটুও ভাঙেনি। ৯০ মিনিটের শেষ মুহূর্তে ক্লারা বুলের ডিফ্লেক্টেড এক শট কোলের মাথার ওপর দিয়ে গোল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু সময়মতো সেটি ফিরিয়ে দেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক। এরপর কার্লোটা ওয়ামসারের শটও ঠেকিয়ে দেন অসাধারণ দক্ষতায়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন সেই খেলোয়াড়, যিনি টানা দুবার বিশ্বের সেরা হয়েছেন—আইতানা বোনমাতি। তার নিখুঁত টার্ন ও গোলেই ইউরোর ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে উঠলো লা রোহা।

পাকিস্তানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় টাইগারদের

পাকিস্তানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় টাইগারদের বাজে শুরুর পর দলের হাল ধরলেন জাকের আলি অনিক ও মাহেদি হাসান। তাদের দারুণ জুটির পর দলকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন জাকের। দলকে এনে দেন লড়াকু সংগ্রহ। এই রান তাড়ায় নেমে পাকিস্তানের শুরুটাও হয় একইভাবে। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। দারুণ জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আজ পাকিস্তানকে ৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে টাইগাররা। সঙ্গে গড়েছে ইতিহাসও; প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সংস্করণে সিরিজ জিতেছে স্বাগতিক এই দল। মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। যা তাড়া করতে নেমে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১২৫ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। লম্বা সময় পর একাদশে সুযোগ পাওয়া নাঈম শেখকে হারিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের ইনিংস। দ্বিতীয় ওভারে ৩ রানে তিনি বিদায় নেন। দ্রুত ফেরেন লিটন দাসও। তার ব্যাট থেকে আসে ৮ রান। তাওহীদ হৃদয় নেমে রান আউট হয়ে ফেরেন শূন্য রানে। গত ম্যাচের নায়ক পারভেজ হোসেন ইমনও আজ জ্বলে উঠতে পারেননি। ১৪ বলে ১৩ রান করে শিকার হন পাকিস্তানের অভিষিক্ত পেসার আহমেদ দানিয়ালের। বড় ধাক্কা সামলে পঞ্চম উইকেটে জাকের আলির সঙ্গে জুটি গড়েন মাহেদি হাসান। ৪৯ বলে ৫৩ রানের জুটিতে দলকে তারা ম্যাচে ফেরান। কিন্তু উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে মাহেদি ৩৩ রানে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর একাই লড়েন জাকের আলি। ৪৬ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করে ইনিংসের শেষ ওভারে গিয়ে আউট হন ৫৫ রান করে। তার ৪৮ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১ চার ও ৫ ছক্কায়। পাকিস্তানের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন সালমান মির্জা, আব্বাস আফ্রিদি ও দানিয়াল। একটি করে উইকেট পান ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ নওয়াজ। রান তাড়ায় নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথম ওভারে সাইম আইয়ুবের রান আউট দিয়ে শুরুটা হয়। পরের ওভারে মোহাম্মদ হারিস বিদায় নেন শূন্য রানে। চতুর্থ ওভারে ফখর জামান (৮) শিকার হন শরিফুল ইসলামের। পঞ্চম ওভারে হাসান নওয়াজ ও মোহাম্মদ নওয়াজকে পরপর দুই বলে বিদায় করেন তানজিম হাসান সাকিব। অধিনায়ক সালমান আলি আগা ২৩ বলে ৯ রান করে শিকার হন মাহেদি হাসানের। প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে খুশদিল শাহ অবশ্য ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি। এরপর আব্বাস আফ্রিদি এসে ১৩ বলে করেন ১৯ রান। শেষদিকে জয়ের আশা জাগান ফাহিম আশরাফ। লড়তে থাকেন তিনি শেষ পর্যন্ত। ৩১ বলে ফিফটি হাকিয়ে রিশাদের বলে বোল্ড হলে ভেঙে যায় জয়ের স্বপ্ন। তার ৫১ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৪টি করে চার ও ছক্কায়। শেষ ওভারে মোস্তাফিজের বলে দানিয়াল বিদায় নিলে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ১১ বলে ১৭ রান করে অভিষিক্ত এই পাক ক্রিকেটার। বাংলাদেশের পক্ষে ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন শরিফুল। দুটি করে উইকেট নেন তানজিম ও মাহেদি। একটি করে পান রিশাদ ও মোস্তাফিজ।

পাকিস্তানকে ১৩৪ রানের লক্ষ্য দিল টাইগাররা

পাকিস্তানকে ১৩৪ রানের লক্ষ্য দিল টাইগাররা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েও জাকের আলীর দুর্দান্ত ফিফটির ওপর ভর করে লড়াকু স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ। আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টাইগাররা ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৩৩ রান। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই টাইগারদের ইনিংসে দেখা যায় ভাঙন। মাত্র ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। ওপেনার নাঈম শেখ (৩), অধিনায়ক লিটন দাস (৮), হৃদয় (০) ও পারভেজ হোসেন ইমন (১৩) ফিরে যান দ্রুতই। এই অবস্থায় ইনিংস গুছিয়ে নেন জাকের আলী ও শেখ মেহেদি হাসান। পঞ্চম উইকেটে গড়া তাঁদের ৫৩ রানের জুটি দলকে কিছুটা স্থিতি এনে দেয়। মেহেদি খেলেন ২৫ বলে ৩৩ রানের কার্যকরী ইনিংস, যাতে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। শেখ মেহেদির বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান শামীম পাটোয়ারি (১)। তবে অন্য প্রান্তে একাই লড়াই চালিয়ে যান জাকের। ইনিংসের শেষ ওভারে দুটি ছক্কা মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ৪৮ বলে ৫৫ রান করে। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা ও একটি চার। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ১৩৩ রানে। বোলিংয়ে পাকিস্তানের পক্ষে সবচেয়ে সফল ছিলেন সালমান মির্জা ও অভিষিক্ত আহমেদ দানিয়াল, দুজনেই নেন দুটি করে উইকেট। আব্বাস আফ্রিদি ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন। ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ নেওয়াজ পান একটি করে উইকেট। ম্যাচের শুরুতে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে শুরু হয় ম্যাচটি। মাঠে নামার আগে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দুই দল।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০এ সাগরিকার ৪ গোলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০এ সাগরিকার ৪ গোলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ‘এলেন, দেখলেন, জয় করলেন’। চিরকালীন প্রবাদটি মোসাম্মৎ সাগরিকার সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক। নিষেধাজ্ঞার জন্য তিন ম্যাচ ছিলেন না। আজ অলিখিত ফাইনালে ফিরেই ৪ গোল করেছেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ৪-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচ শেষে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই ছিল। শীর্ষস্থান ধরে রাখতে আজ নেপালের বিপক্ষে অন্তত ড্র করতে হতো স্বাগতিকদের। সহজ সমীকরণ মাথায় নিয়ে খেলতে নেমে নেপালকে ৪ গোল দিয়ে পূর্ণ ১৮ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। নেপাল দুই বার বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে ১২ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স আপ হয়েছে। সাগরিকা প্রথমার্ধে একটি এবং দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল করেন। সাগরিকার এটি টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। পরের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে এক গোল করছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে নেপালের ডিফেন্ডার সিমরানের সঙ্গে হাতাহাতি করে লাল কার্ড দেখেন। এতে পরের তিন ম্যাচ খেলতে পারেননি। আজ ফিরেই আবার হ্যাটট্রিক করলেন। সাগরিকার তিনটি গোলই বেশ বুদ্ধিদীপ্ত। ৮ মিনিটে মিডফিল্ড থেকে থ্রু বল পান সাগরিকা। নেপালের ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এগিয়ে যান বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড। নেপালের গোলরক্ষক বক্সের বাইরে এসে তাকে আটকাতে পারেননি। কোনাকুনি প্লেসিং শটে সাগরিকা বল জালে জড়ান। ৫২ মিনিটে বক্সের সামনে নেপালের তিন ডিফেন্ডারের মাঝে বল পান সাগরিকা। অসাধারণ দক্ষতায় বল রিসিভ করে খুব দ্রুত মুভ করে ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলেন। গোলরক্ষক পোস্ট থেকে বেরিয়ে আসেন। তার নাগাল পাওয়ার আগেই বল জালে পাঠান কুশলী ফরোয়ার্ড। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করতে বেশি সময় নেননি সাগরিকা। পাঁচ মিনিট পর বাংলাদেশ অর্ধ থেকে বাড়ানো এক লম্বা বলে সাগরিকা ডিফেন্ডারের সঙ্গে তাড়া করে পেয়ে যান। এবারও তিনি দারুণ দক্ষতায় বল জালে পাঠান চোখের পলকেই। গ্যালারীর সামনে গোল উদযাপন করেন। ৭৬ মিনিটে আবারো সাগরিকার গোল। এবার বলের যোগানদাতা মুনকি আক্তার। আজকের দিনটি পুরোটাই সাগরিকার। অলিখিত ফাইনালেল মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার চার গোলেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। নেপাল আগের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে সমতা এনেছিল। ঐ ম্যাচে বাংলাদেশের বৃটিশ কোচ পিটার বাটলার দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন করেছিলেন। এরপরই মূলত নেপাল খেলায় ফেরার সুযোগ পায়। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের জালে বলই পাঠাতে পারেনি প্রতিপক্ষ। প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে নেপালকে কোনো সুযোগই দেয়নি বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের উইকেট নিয়ে ‘অজুহাত’ মানতে নারাজ বাংলাদেশ

পাকিস্তানের উইকেট নিয়ে ‘অজুহাত’ মানতে নারাজ বাংলাদেশ অগ্রহণযোগ‌্য। আন্তর্জাতিক মানের নয়। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচ মাইক হেসনের পর্যবেক্ষণ এটি। রোববার প্রথম টি-টোয়েন্টি হারের পর হেসন সংবাদ সম্মেলনে এসে উইকেট নিয়ে কড়া মন্তব‌্য করেছেন। পাশাপাশি ব‌্যাটিংয়ে নিজেদের ব‌্যর্থতাও স্বীকার করেছেন। তবে প্রথম ম‌্যাচে হারের পেছনে হেসনের কাঠগড়ায় ‘উইকেটই’। ম‌্যাচে দু‌্যতি ছড়িয়ে একমাত্র ফিফটি তোলা বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন ইমন অবশ‌্য উইকেটে কোনো দোষ খুঁজে পাননি। বরং পাকিস্তানের কোচের অজুহাতকে উড়িয়ে দিয়েছেন। ম‌্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পারভেজ হোসেন বলেছেন, ‘‘নাহ, এমন কিছু মনে হয়নি (গ্রহণযোগ‌্য নয়)। আমরা ১১০ রান করছি ১৬ ওভারে। আমরা যদি ২০ ওভারও খেলতাম ১৬০ রান করতে পারতাম। তো আমার কাছে এমন কিছু মনে হয়নি। হতে পারে ওরা মানিয়ে নিতে পারিনি, আমরা মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছি।’’ উইকেট নিয়ে পারভেজের মূল‌্যায়ন এরকম, ‘‘বোলারদের জন্য মিরপুরের উইকেটে একটু বেনিফিট থাকে এটা স্বাভাবিক জিনিস।’’পাকিস্তানের ব‌্যাটসম‌্যানরা যেখানে ধীর গতির স্পিনিং উইকেটে খাবি খেয়েছে সেখানে পারভেজ বোলারদের তুলোধুনো করেছেন অনায়েসে। ম‌্যাচ সেরা নির্বাচিত এই ক্রিকেটার নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৩৯ বলে ৫৬ রান করেন ৩ চার ও ৫ ছক্কায়। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ তুলনামূলক সহজ কিনা জানতে চাইলে বলেছেন,‘‘ভালো করলে সবকিছুই সহজ মনে হয়। না, ওরাও আন্তর্জাতিক খেলছে। ওদেরও অনেক অভিজ্ঞ বোলার আছে।’’ পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯ বছর পর টি-টোয়েন্টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। লম্বা সময় পর জয়ে পরাজয়ের গেরো ছুটিয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা সিরিজে পাওয়া আত্মবিশ্বাসই এখানে কাজে লেগেছে বলে বিশ্বাস পারভেজের, ‘‘এমন কোনো আলোচনা হয়নি (৯ বছর পর জয়)। শেষ সিরিজটা ভালো খেলে এসেছি শ্রীলঙ্কা থেকে। সবাই চেষ্টা করছি আত্মবিশ্বাসটা বাড়িয়ে নিতে। সেখানেই আসলে খেলেছি।’’ আগামীকাল একই মাঠে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের মিশন। গত মে-জুনে পাকিস্তানে গিয়ে তিন ম‌্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার কী বদলা নিতে পারবে বাংলাদেশ?

মিচেল ওয়েনের জাদুকরী অভিষেকে অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয়

মিচেল ওয়েনের জাদুকরী অভিষেকে অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয় একটি অভিষেক কতটা স্বপ্নময় হতে পারে, সেটাই যেন প্রমাণ করে দিলেন মিচেল ওয়েন। ক্যারিবিয়ান সাগরের গর্জনের মাঝেই ব্যাটে-বলে নিজেকে মেলে ধরলেন এই অজি ক্রিকেটার। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ বল হাতে রেখেই হারিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে নিলেন হাতে। জ্যামাইকার ঐতিহ্যবাহী স্যাবাইনা পার্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ১৯০ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। ৭৮ রানে হারায় ৪ উইকেট। বিপদে তখন ক্যাঙ্গারুরা। কিন্তু সেখানেই হাল ধরেন অভিষিক্ত ওয়েন ও ক্যামেরন গ্রিন। দুই জনের ব্যাটে উঠে আসে ৮০ রানের ধ্বংসাত্মক জুটি। গ্রিন ২৬ বলে ৫১ রানের ঝড় তুলে ফেরেন। তবে তখনও রানের গতি থামেনি। ওয়েন ছিলেন আরও বিধ্বংসী। মাত্র ২৭ বলে করেন ৫০ রান, যেখানে ছিল ছয়টি ছক্কার মার। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে মাত্র তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে হাফ সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তিনি। শেষদিকে বেন ডারশুইস ও শন অ্যাবটের শান্ত নেতৃত্বে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। ৩ উইকেটের জয়ে সিরিজে শুভ সূচনা করলো অস্ট্রেলিয়া। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুটা করে দুর্দান্ত। অধিনায়ক শেই হোপ ৫৫ রানে দলকে গতি দেন। পরে রোস্টন চেজ ৬০ ও হেটমায়ার ৩৮ রানের ইনিংস খেলে স্কোরবোর্ডে আনে আতঙ্ক। ১৫ ওভার শেষে যে ইনিংসে ২০০ পেরোনোর সম্ভাবনা ছিল, সেই ইনিংসই থেমে যায় ১৮৯ রানে। কারণ? ডারশুইস নামক ঝড়! ৩৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ান মিডল অর্ডারে আঘাত হানেন তিনি। আর শেষ ৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ছন্দপতন ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে। আন্দ্রে রাসেল, যিনি দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন, ব্যাট হাতে ছিলেন নিস্প্রভ। মাত্র ৮ রানে থামেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এখন ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে। তবে এই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু একটাই, মিচেল ওয়েনের আগমনী বার্তা। যেটি যেন বলে দেয়, অজি ক্রিকেটে এক নতুন নক্ষত্রের উত্থান!

ভুটানের লিগে নতুন চ্যালেঞ্জে তহুরা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র

ভুটানের লিগে নতুন চ্যালেঞ্জে তহুরা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের দুই উদীয়মান তারকা তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়র এবার পা রাখতে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে। প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে কোনো লিগে অংশ নিতে ভুটানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তারা। ভুটানের নারী ফুটবল লিগে রয়্যাল থিম্পু কলেজ এফসির হয়ে মাঠে নামবেন এই দুই ফরোয়ার্ড। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তহুরা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দুজনেই ৩টি করে গোল করেছেন। তাদের এই উজ্জ্বল পারফরম্যান্সই হয়তো এনে দিয়েছে নতুন এই সুযোগ। বাংলাদেশও প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ভুটানে রওনা দেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে তহুরা লেখেন, ‘ভুটানের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছি। নতুন পথচলা শুরু হচ্ছে, সবাই দোয়া করবেন। ’ এ নিয়ে ভুটানের নারী লিগে খেলা বাংলাদেশি ফুটবলারের সংখ্যা দাঁড়াল ১২ জনে। প্রথম ধাপে সেখানে পাড়ি জমান জাতীয় দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও মাতসুশিমা সুমাইয়া। তারা বর্তমানে খেলছেন পারো এফসির হয়ে। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে যোগ দেন মারিয়া মান্দা, সানজিদা খাতুন, মাসুরা পারভীন, রুপনা চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও কৃষ্ণা রানী সরকার। থিম্পু সিটি ক্লাবের হয়ে খেলছেন সানজিদা, মারিয়া ও শামসুন্নাহার সিনিয়র। অন্যদিকে, ট্রান্সপোর্ট ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে নামছেন রুপনা, মাসুরা ও কৃষ্ণা। ভুটানের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে চলেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন আরও দুই ফুটবলার—তহুরা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিপক্ষে সর্বশেষ তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলামের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। লংকানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল টাইগাররা। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টিতে জয় ও ১৯টিতে হেরেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ একাদশ : লিটন দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন, তানজিদ হাসান, জাকের আলি, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, রিশাদ হোসেন, মাহেদি হাসান, তানজিম হাসান, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। পাকিস্তান একাদশ : সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), সাইম আইয়ুব, ফখর জামান, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), হাসান নাওয়াজ, মোহাম্মদ নাওয়াজ, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফ, আব্বাস আফ্রিদি, সালমান মির্জা ও আবরার আহমেদ।