দুর্দান্ত বোলিংয়ে রশিদ খানকে টপকে রিশাদের বিশ্বরেকর্ড

দুর্দান্ত বোলিংয়ে রশিদ খানকে টপকে রিশাদের বিশ্বরেকর্ড ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ক্যারিবীয়দের ১৭৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। এই ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে রিশাদ গড়েছেন এক নয়, দুইটি বড় রেকর্ড। তিন ম্যাচের সিরিজে ১২ উইকেট শিকার করে রিশাদ ভেঙে দিয়েছেন আফগানিস্তানের রশিদ খানের বিশ্বরেকর্ড। এতদিন পর্যন্ত ওয়ানডের ৩ ম্যাচের কোনো সিরিজে স্পিনার হিসেবে সর্বোচ্চ ১১ উইকেট নিয়েছিলেন রশিদ খান ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। রিশাদ এবার সেটি টপকে গড়লেন নতুন ইতিহাস। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের হয়েও নতুন রেকর্ডের মালিক হয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ ছিলেন আরাফাত সানি। রিশাদ সেই রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন।

১৯ মাস পর ঘরের মাঠে টাইগারদের সিরিজ জয়

১৯ মাস পর ঘরের মাঠে টাইগারদের সিরিজ জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৮৩ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল টাইগাররা। এবার সেই রেকর্ড ভাঙতে না পারলেও ১৭৯ রানের জয় তুলে নিয়েছে তারা। ১৯ মাস পর ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জয় করেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২৪ সালের মার্চে ঘরের মাঠে শেষ ওয়ানডে সিরিজ জয় পেয়েছিল টাইগাররা। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে ধসে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ। ২৯৭ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩০.১ ওভার শেষে মাত্র ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে করে ২৯৬ রান, ৮ উইকেটের বিনিময়ে। এরপর ব্যাট হাতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নাসুম আহমেদ এবং রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণির সামনে ব্যাটারদের একের পর এক উইকেট হারাতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলেন আকিল হোসেইন, যিনি ১৫ বলে ২৭ রান করে মিরাজের কাছে উইকেট খুইয়ে আসেন। তার আগে কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্র্যান্ডন কিং করেন ১৮, কিসি কার্টি ১৫, এবং জাস্টিন গ্রিভসও ১৫ রানে থেমে যান। দলের অন্য ব্যাটাররা পুরোপুরি ব্যর্থ। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে আজকের দিনে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন। তারা দুজনেই ৩টি করে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম দিকেই চাপে ফেলে দেন। তানভীর ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে বাংলাদেশ জয় তুলে নেয় ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। পাশাপাশি, ২-১ ব্যবধানে ট্রফি নিজেদের ঘরেই রেখে দিচ্ছে টাইগার বাহিনী। এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সৌম্য-সাইফের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ওয়ানডেতে দারুণ সূচনা করে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান দুই ওপেনার। পাওয়ারপ্লেতে নিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি নিয়ে তারা রান তোলেন দ্রুত গতিতে। সাইফ হাসান ৭২ বলে ৮০ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৬টি ছক্কা। অপরপ্রান্তে সৌম্য সরকার আরও একবার দেখান তার স্বরূপ। ৮৬ বলে ৯১ রান করেন তিনি ৭টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে। দুজনের ১৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি দলকে এনে দেয় রানের দারুণ ভিত, যা ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশকে এগিয়ে দেয়। তবে এই জুটি ভাঙার পর ইনিংসের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে যায়। তাওহীদ হৃদয় ও নআজমুল হোসেন শান্ত চেষ্টা করেন ইনিংসকে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর কারণে বড় স্কোরের সম্ভাবনা কিছুটা কমে আসে। হৃদয় ৪৪ বলে ২৮ রান এবং শান্ত ৫৫ বলে ৪৪ রানে আউট হন। শেষ দিকে রিশাদ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও নাসুম আহমেদরা তেমন বড় অবদান রাখতে পারেননি। তবে শেষদিকে নুরুল হাসান সোহান ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জুটি গড়ে রানের চাকা সচল করার জোর চেষ্টা চালান। দলীয় ২৯৬ রানে ও ইনিংসের শেষ বলে ব্যক্তিগত ১৭ রানে ফেরেন মিরাজ। সোহান ৮ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ফলে ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৯৬ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন স্পিনার আকিল হোসেন। তিনি ৪ উইকেট নেন ৪১ রানের বিনিময়ে। এছাড়া আথানাজে নিয়েছেন ২ উইকেট। এছাড়া মতি ও চেজ পান একটি করে উইকেট।

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মরক্কো

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মরক্কো চিলির সান্তিয়াগোতে ফুটে উঠল আফ্রিকার নতুন ইতিহাস। আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিলো মরক্কো। ম্যাচের নায়ক ছিলেন ইয়াসির জাবিরি। ১২ আর ২৯ মিনিটে দলের হয়ে দুটি গোলই করেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড, যিনি মরক্কোর ফুটবলে লিখে দিলেন নতুন অধ্যায়। পুরো ম্যাচ জুড়ে বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার হাতে, কিন্তু মরক্কোর শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগের সামনে একবারও জাল খুঁজে পাননি তারা। জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি ও মাহের কারিজোরা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ তৃতীয়াংশে যথাযথ নির্ভুলতা ছিল না। টুর্নামেন্টে এই প্রথমবার পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা, আর সেই ভুলটাই তাদের শিরোপা হাতছাড়া করে দেয়। অন্যদিকে, মরক্কো দেখিয়েছে অসাধারণ ধৈর্য ও কৌশলগত ভারসাম্য। গোলরক্ষক ইব্রাহিম গোমিস করেছেন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ, আর ওথমান মাাম্মা ও ইয়াসির জাবিরি মিলে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ভুলের সুযোগ নিয়েছেন নিখুঁতভাবে। এটি শুধু একটি ট্রফি নয়, এটি মরক্কোর ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা। প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতে আফ্রিকার দেশটি প্রমাণ করল তাদের যুব ফুটবলের অসাধারণ অগ্রগতি। এই সোনালি প্রজন্ম যেন মরক্কোর ফুটবলের গর্ব হয়ে বিশ্বমঞ্চে লিখে গেল ইতিহাসের নতুন পাতা।

‘দিল্লিতে কুম্বলের ১০ উইকেট নেওয়ার পিচ মিরপুরের থেকেও খারাপ ছিল’

‘দিল্লিতে কুম্বলের ১০ উইকেট নেওয়ার পিচ মিরপুরের থেকেও খারাপ ছিল’ জিম লেকার, অনিল কুম্বলে, এজাজ পাটেল। ত্রয়ীর মধ‌্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। স্পিনে তিনজন হাত ঘুরান। ক্রিকেট বিশ্বে তারাই কেবল টেস্টে এক ইনিংসে ১০টি উইকেট পেয়েছেন। জিম লেকার ম‌্যানচেস্টারে। অনিল কুম্বলে দিল্লিতে। এজাজ মুম্বাইয়ে। প্রতিপক্ষ যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ভারত। বিংশ শতাব্দীর আগে এই অস্বাভাবিক সাফল‌্যের দেখা পেয়েছিলেন লেকার ও কুম্বরে। এজাজই কেবল বিংশ শতাব্দীর প্রতিনিধি। হঠাৎ এই আলোচনা কেন? কেনই বা ১০ উইকেট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনাটা উঠছে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের এক মন্তব‌্যকে ঘিরে। মিরপুর শের-ই-বাংলার উইকেট নিয়ে আলোচনা থামছে না। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর মিরপুরে আবার ফিরেছে ওয়ানডে। এ সময়ে গামিনি ডি সিলভার পরিবর্তে মিরপুরের দায়িত্বে টনি হেমিং। কিন্তু চিরচেনা মিরপুর পাল্টাতে পারেনি স্পিন দূর্গ। ধীর গতির, লো বাউন্সের উইকেট। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রীতিমত হিমশিম খেল। বাংলাদেশও ভুুগেছে। তাতেই উঠছে প্রশ্ন, এমন উইকেট খেলে লাভ কী? আর জয়েও কি প্রত‌্যাশিত লক্ষ‌্য পূরণ হলো? সময়ের কাছে সেই প্রশ্ন তোলা থাক। আগামীকাল মঙ্গলবার দুই দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে। দলের প্রতিনিধি হয়ে মুশতাক আহমেদ এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।  কিংবদন্তি স্পিনার পাকিস্তানের হয়ে লম্বা সময় খেলেছেন। ৯৬ এর বিশ্বকাপ জিতেছেন। লেগ স্পিনার হিসেবে সাফল‌্য টইটুম্বর। তার কাছেই জানতে চাওয়া হয়েছিল, এর চেয় বাজে উইকেট এর আগে তিনি দেখেছেন কি না? উত্তরে বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচ বলেছেন, ‘‘হ্যাঁ, অনেক (বাজে উইকেট)। আমার মনে আছে, দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে অনিল কুম্বলে এক ইনিংসে ১০ উইকেট পেয়েছিলেন। সেই উইকেটটি এর থেকেও খারাপ ছিল।’’ এমন উইকেটে মুশতাক নিজের সেরা সময়ে কত উইকেট পেতেন? সহজেই ৭, ৮, এমনকি ১০ উইকেট নিতে পারতেন? উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘‘না, সত্যি বলতে এটা ততটা সহজ নয়। যেমনটা ওই ভাই জিজ্ঞাসা করলেন, কখনও কখনও বেশি চাপের মধ্যে থাকতে হয় কারণ আপনাকে সেরাটা দিতে হবে। একজন তরুণ লেগ-স্পিনার হিসেবে আপনি নার্ভাস হতে পারেন। কোচিং দৃষ্টিকোণ থেকে আমার কথা হলো প্রক্রিয়া ধরে রাখা। এই পিচগুলো কখনও কখনও আপনাকে আপনার কমফোর্ট জোন এবং প্রক্রিয়া থেকে বের করে নিয়ে যেতে পারে।’’ এজন‌্য সেন্ট্রাল উইকেটে লম্বা সময় স্পিনাররা বল করেছেন। কারণ ব‌্যাখ‌্যা করতে গিয়ে মুশতাক বলেছেন, ‘‘এই ধরণের পিচে, আপনাকে খুব স্মার্ট এবং ফিল্ড পজিশন নিয়ে ধূর্ত হতে হবে। সঠিক ফিল্ড সেট করে আপনাকে ব্যাটসম্যানকে আউট করতে হবে, সে ফ্রন্ট-ফুট না ব্যাক-ফুট প্লেয়ার, এবং আপনার গতি (৮৫ বা ৯০+ কিমি/ঘন্টা) কেমন হবে, তা বুঝে বল করতে হবে। কোচ হিসেবে আমরা তাদের তথ্য দিই, এবং প্লেয়ারদের তা মাঠে কার্যকর করতে হয়।’’

মিরপুরের স্পিন-ফাঁদে নাকাল, নাসুমের জবাবে আকিলকে উড়িয়ে আনছে উইন্ডিজ

মিরপুরের স্পিন-ফাঁদে নাকাল, নাসুমের জবাবে আকিলকে উড়িয়ে আনছে উইন্ডিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ৭৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর স্কোয়াড শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের স্পিন আক্রমণকে আরও ধারালো করতে বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগেই দলের সঙ্গে যোগ দিতে আজ রাতেই তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সোমবার সংবাদমাধ্যমকে বিসিবির একজন কর্মকর্তা আকিলের দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত সিরিজের প্রথম ম্যাচে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মন্থর ও নিচু বাউন্সের উইকেটে দুই দলের স্পিনাররাই প্রধান ভূমিকা পালন করেন। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই স্কোয়াডে পরিবর্তন আনছে সফরকারীরা। এর আগে বাংলাদেশও নিজেদের স্পিন আক্রমণ শক্তিশালী করতে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের স্পিনার রিশাদ হোসেন ও তানভীর ইসলাম মিলে ৮ উইকেট শিকার করে স্বাগতিকদের জয়ের নায়ক ছিলেন। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনা খারি পিয়েরে ১০ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন এবং অফ স্পিনার রস্টন চেজ দুটি উইকেট পান। এদিকে, দলে আরও কিছু পরিবর্তন এনেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার র‍্যামন সিমন্ডস, যিনি এর আগে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তবে ওয়ানডে স্কোয়াডে থাকা দুই পেসার জেডিয়াহ ব্লেডস ও শামার জোসেফ দেশে ফিরে যাবেন। আরও জানা গেছে, টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার আগামী ২১ অক্টোবর দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

ব্যালন ডি’অরে বিজয়ী হওয়ার দৌড়

ব্যালন ডি’অরে বিজয়ী হওয়ার দৌড় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর -এর ৬৯তম আসরের বিজয়ী ঘোষণা হবে আজ। ফ্রান্সের প্যারিসে, ঐতিহাসিক থিয়েত্র দ্যু শাতলে মঞ্চে জমকালো আয়োজনে দেওয়া হবে এ বছরের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার। শুধু পুরুষ নয়, অনুষ্ঠানে সেরা নারী খেলোয়াড়, গোলরক্ষক, তরুণ ফুটবলার, সর্বোচ্চ গোলদাতা ও কোচদেরও সম্মাননা জানানো হবে। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যালন ডি’অর মানেই ছিল লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আধিপত্য। ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সর্বাধিক ৮ বার জিতেছেন মেসি এবং ৫ বার জিতেছেন রোনালদো, তিনি রেকর্ড ১৮ বার মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে এবারের আসরে নেই এই দুই মহাতারকার নাম। ২০২৫ ব্যালন ডি’অরের জন্য ৩২ জন পুরুষ ফুটবলারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন- জুড বেলিংহাম, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড, হ্যারি কেইন, রবার্ট লেভানডভস্কি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মোহামেদ সালাহ, ডেক্লান রাইস, ভার্জিল ফন ডাইক, পেদ্রির মতো তারকারা। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এগিয়ে আছেন দুজন। পিএসজির হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন উসমান দেম্বেলে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ ওয়ান ও ঘরোয়া কাপ সব মিলে পিএসজিকে ট্রেবল জেতাতে বড় ভূমিকা ছিল তার। মৌসুমে করেছেন ৩৫ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। ফলে ব্যালন ডি’অরের জন্য প্রথম ফেভারিট মনে করা হচ্ছে এই ফরাসি উইঙ্গারকে। মাত্র ১৮ বছর বয়সী বার্সা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালও আছেন আলোচনার কেন্দ্রে। বড় ম্যাচে গোল, অ্যাসিস্ট আর পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন তিনি। মেসির পরে বার্সেলোনার নতুন ১০ নম্বর জার্সিধারী হয়ে উঠেছেন দর্শকদের আবেগের প্রতীক। সোমবার রাতে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠান। সেরা খেলোয়াড়দের মুকুট উঠবে কার মাথায়, তা জানার জন্য ফুটবলবিশ্ব তাকিয়ে আছে প্যারিসের মঞ্চের দিকে।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে ‘নিষিদ্ধ’ করার পক্ষে উয়েফা

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে ‘নিষিদ্ধ’ করার পক্ষে উয়েফা গাজায় ধারাবাহিকভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের জাতীয় দল ও ক্লাব দলগুলোকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দিতে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। আগামীকাল নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব তোলা হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২। এই ভোটের ওপর নির্ভর করছে ইসরায়েলের ফুটবলের ভাগ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপা লিগে অংশ নেয়া ম্যাকাবি তেল আবিবের মতো ক্লাবগুলো এবং ইউরোপীয় বাছাইপর্বে খেলা ইসরায়েলি জাতীয় দল নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। কারণ, কাতারের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি দেশ উয়েফাকে এ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। কারণ, ইউরোপ ফুটবলের বেশির ভাগ স্পন্সরই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ইতিমধ্যেই ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি দলের বিরুদ্ধে খেলতে অনীহা দেখা দিয়েছে।

রোমাঞ্চকর জয় বাংলাদেশের; রাতে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

সুপার ফোরে রোমাঞ্চকর জয় বাংলাদেশের; রাতে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান এশিয়া কাপের সুপার ফোরে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতরাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ১৯ ওভার ৫বলে জয় নিশ্চিত করে। প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান দারুণ বোলিংয়ে নেন ৩ উইকেট। জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও সাইফ হাসানের ৪৫ বলে ৬১ রান এবং তাওহীদ হৃদয়ের ৩৭ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। শেষ ওভারে উত্তেজনা তৈরি হলেও নাসুম আহমেদের শান্ত সিঙ্গেলে ৪ উইকেট হাতে রেখে লক্ষে পৌছায় বাংলাদেশ। এদিকে রাজনীতি, কূটনীতি আর প্রতীকী দূরত্ব সবকিছু ছাপিয়ে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারে মতো মুখোমুখি হচ্ছে তারা। তবে এবার সুপার ফোরের ম্যাচে। ম্যাচটি শুরু হবে আজ রাত সাড়ে আটটায়। গ্রুপপর্বে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। তবে সেই ম্যাচে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটারদের হাত মেলাতে না চাওয়া, যাতে জড়িয়ে পড়ে ম্যাচ রেফারির নামও।

বিসিবি নির্বাচনের ভোট ৬ অক্টোবর

বিসিবি নির্বাচনের ভোট ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শুরুতে ৪ অক্টোবর নির্বাচনের কথা শোনা গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ অক্টোবর। আজ (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল (২২ সেপ্টেম্বর) খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। জেলা, বিভাগ ও ক্লাব মিলিয়ে মোট ১৭৪ জন কাউন্সিলর ভোট দেওয়ার যোগ্য। খসড়া তালিকা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারবেন ২৩ সেপ্টেম্বর, আর শুনানি হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। সব যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দুই দিন মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ সেপ্টেম্বর। পরদিন যাচাই শেষে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। কোনো আপত্তি থাকলে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে জমা দিতে হবে, আর একই দিনে বিকেলে হবে শুনানি। ১ অক্টোবর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় বেলা ১২টা পর্যন্ত, আর সেদিন বিকেল ২টায় প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা। এবারের নির্বাচনে থাকছে পোস্টাল ও ই-ব্যালটের সুযোগ। ১ অক্টোবর বিকেলে বিসিবির ওয়েবসাইটে ব্যালট আপলোড করা হবে। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তা অবশ্যই ৬ অক্টোবর দুপুর ২টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে কিংবা ই-মেইলে ([email protected] ) পৌঁছাতে হবে। মূল ভোটগ্রহণ হবে ৬ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ১৭৪ জন কাউন্সিলরের ভোটে নির্বাচিত হবেন বিসিবির ২৫ পরিচালক। ভোট শেষে সন্ধ্যা ৬টায় ঘোষণা করা হবে বিজয়ীদের নাম। এরপর সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হবে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন, আর রাত ৯টার মধ্যে ঘোষণা করা হবে বিসিবির নতুন সভাপতি ও সহ-সভাপতির নাম।

এশিয়া কাপ: রাতে সুপার ফোরের প্রথম লড়াইয়ে আজ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ

এশিয়া কাপ: রাতে সুপার ফোরের প্রথম লড়াইয়ে আজ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ এশিয়া কাপের জমজমাট আসরে গ্রুপ পর্বের হিসাবনিকাশ শেষ। এবার শুরু সুপার ফোরের মূল লড়াই। অংকের জটিল সমীকরণ মিলিয়ে এশিয়া কাপ ২০২৫ আসরের সুপার ফোরে উঠেছে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। এক কথায় বলতে গেলে শ্রীলঙ্কা আফগানিস্তানকে হারানোর কারণেই পরের ধাপে যেতে পেরেছে টাইগাররা। অর্থাৎ বাংলাদেশকে সেরা চারে খেলার সুযোগ করে দিতে শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। আজ সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে সুপার ফোর পর্ব। রাত ৮টায় দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘নাগিন ডার্বি’তে মুখোমুখি হবে দুই দল। এই ম্যাচ সামনে রেখে কিছুটা এগিয়ে রাখতে হয় শ্রীলঙ্কাকে। কারণ, তারা গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবগুলোই জিতেছে, যেখানে বাংলাদেশকেও হারিয়েছিল। অর্থাৎ লঙ্কানরা এখনো টুর্নামেন্টে অপরাজিত। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠেছে ভাগ্যের সহায়তায়। এছাড়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দুই লঙ্কান ব্যাটার কুশল মেন্ডিস ও কামিন্দু মেন্ডিস যেমন আক্রমণাত্মক ব্যাট করেছেন, তাও ভয়ের কারণ বাংলাদেশের। তবে গত সাত বছরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেভাবে লড়াই জমিয়ে তুলেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা, তাতে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে টাইগারদেরও। সেক্ষেত্রে ব্যাট হাতে ভালো করতে হবে টপ অর্ডারদের। দায়িত্ব নিতে হবে মিডলঅর্ডারে খেলা তাওহিদ হৃদয় জাকের আলী অনিক ও শামীম হোসেনদের। বল হাতে কারিশমা দেখাতে হবে মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাসুম আহমেদদের। বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ : তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান, জাকের আলী, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান। শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য একাদশ : পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস (উইকেটরক্ষক), কামিল মিশারা, কুশল পেরেরা, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), কামিন্দু মেন্ডিস, দাসুন শানাকা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ওয়েল্লালাগে, দুশমন্থ চামিরা, নুয়ান থুশারা। সুপার ফোরের প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট সঙ্গে আসায় বাংলাদেশকে এগোতে হলে জয় দিয়ে শুরু করাটা অপরিহার্য। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই জয় পেলে শুধু প্রতিশোধই নয়, ফাইনালের দৌড়েও বড় এক ধাপ এগিয়ে যাবে টাইগাররা।