ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন ভারতের যুবারা

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন ভারতের যুবারা বৈভব সূর্যবংশির তাণ্ডবে ৪১২ রানের বিশাল লক্ষ্য দেওয়ার পর ভারতের যুবাদের অভিনন্দন জানানো শুরু হয়ে গিয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত বিফলে যায়নি সেই অভিনন্দন। ১০০ রানের ব্যবধানের ইংল্যান্ডের যুবাদের হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) হারারের স্পোর্টস গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের অধিনায়ক আয়ুশ মহাত্রে। বৈভব সূর্যবংশির ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসে ৪১১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় আসরের সবচেয়ে সফল দলটি। বিস্ময়বালক সূর্য গড়েন মাত্র ১৪ বছর বয়সে আইসিসির ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টের কোনো ফাইনালে দ্রুততম সেঞ্চুরি করার রেকর্ড। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩১১ রান পর্যন্ত করতে পেরেছে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল। লক্ষ্যটা অতিমাত্রায় বড় হয়ে যাওয়ায় বিফলে গেছে ক্যালেব ফ্যালকনারের ৬৭ বলে ১১৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস। চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেননি তিনি। সবশেষ ব্যাটার হিসেবে তাকে ফিরিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। ৬৬ ও ৪৫ মাঝারি মানের ইনিংস খেলেন বেন ডওকিন্স ও বেন মায়েস। অধিনায়ক থমাস রেউ ৩১ ও ২৮ রান আসে জেমস মিন্টোর ব্যাট থেকে। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন অ্যাম্ব্রিশ। দুটি করে পেয়েছেন দিপেশ ও কনিষ্ক। সমান একটি করে খিলান ও আয়ুশ। এর আগে, ফাইনালে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ইংল্যান্ডের যুবাদের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে খেললেন ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। তার গড়ে দেওয়া ভিতে ৫০ ওভার ব্যাটিং করে ভারতের যুবাদের সংগ্রহ ৪১১ রান। তবে ভারতের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। দলীয় ২০ রানে আউট হন ওপেনার অ্যারন জর্জ (৯)। এরপর অধিনায়ক আয়ুশ মহাত্রের সঙ্গে সূর্য জুটি গড়েন ১৪২ রানের। দলীয় ১৬২ রানে আয়ুশ ৫৩ রান করে ফিরলে ভাঙে জুটি। অধিনায়কের বিদায়ের পরপরই ৫৫ বলে সেঞ্চুরি আদায় করে নেন সূর্যবংশি। ইংল্যান্ডের বোলারদের পিটিয়ে পার করেন নিজের ব্যক্তিগত দেড়শো রানও। দলীয় ২৫১ রানে সূর্য আউট হওয়ার আগে খেলেন ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস ১৫ চার ও ১৫ ছক্কায়। সূর্যের তাণ্ডবে ১৩.২ ওভারে দলীয় ১০০ রান পূর্ণ করে। এরপর মাত্র ২১.৪ ওভারে দুশো রান ছাড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করে ভারতের যুবারা দাঁড় করায় ৪১১ রানের বিশাল সংগ্রহ। বাকি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন অভিজ্ঞান কুণ্ডু। ২০ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন কনিষ্ক চৌহান। ৩২ ও ৩০ রান আসে ত্রিবেদি ও মালহোতরার ব্যাট থেকে। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন জেমস মিন্টো। সমান দুটি করে সেবাস্টিয়ান মরগ্যান ও অ্যালেক্স গ্রিন। একটি উইকেট পেয়েছেণ ম্যানি লামসডেন।

বাংলাদেশ ঠিকই করেছে’ ভারত ইস্যুতে বললেন কিংবদন্তি

বাংলাদেশ ঠিকই করেছে’ ভারত ইস্যুতে বললেন কিংবদন্তি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেখানে এবার প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানালেন ইংল্যান্ড কিংবদন্তি ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাসের হুসেইন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাকেও প্রশংসা করেছেন। স্কাই স্পোর্টসের এক পডকাস্টে মাইক অ্যাথারটনের সঙ্গে আলাপকালে নাসের হুসেইন বলেন, ‘আমি আসলে বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অটল থাকায় খুশি। তারা তাদের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আর পাকিস্তানের বিষয়টাও আমার ভালো লেগেছে রাজনৈতিক হলেও তারা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারত সফরে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা ও ভারতে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। ঘটনার সূত্রপাত হয় ৩ জানুয়ারি, যখন বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেয়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার নেয়। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। নাসের হুসেইনের মতে, আইসিসি বা ভারতকে চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই পাকিস্তানের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে তো কাউকে বলতে হবে এই রাজনীতি অনেক হয়েছে, এবার ক্রিকেটে ফিরে যাই। বাস্তবতা হলো, পাকিস্তান আইসিসি বা ভারতকে যে জায়গায় আঘাত করতে পারে, তা হলো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অর্থনৈতিক দিক। বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক শক্তি হিসেবে ভারতের ভূমিকাও তুলে ধরেন নাসের হুসেইন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ভারতীয় সমর্থকরা বলতে পারেন, ‘আমাদের টাকা আছে’। কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। বারবার যদি বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে কোণঠাসা করা হয়, তাদের ক্রিকেট দুর্বল হবে। তখন ভারত-বাংলাদেশ বা ভারত-পাকিস্তানের সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো একপেশে হয়ে যাবে।

৮০ বলে ১৭৫ বৈভবের, রেকর্ডবুকে তোলপাড়

৮০ বলে ১৭৫ বৈভবের, রেকর্ডবুকে তোলপাড় একজন বৈভব সূর্যবংশী। যেদিন ব্যাট হাতে ক্রিজে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে যান, সেদিন গড়েন অংসখ্য রেকর্ড। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম ইনিংসের অর্ধেক সময় ব্যাট করলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। সেঞ্চুরির পর সুযোগ ছিল ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার। কিন্তু ব্যাটিংয়ে অধিক আগ্রাসনের কারণে থেমেছেন ১৭৫ রানে। এরপরও গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। জিম্বাবুয়ের হারারে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে টস জিতে ব্যাট করতে নামে ভারত। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ২০ রান। দ্বিতীয় উইকেটে নামেন দলনেতা আয়ুস মাত্রে। তাকে নিয়েই নিজের ব্যাটিং আগ্রাসন বৈভব সূর্যবংশী। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে ইংলিশ বোলারদের তুলোধূনো করতে থাকেন তিনি। ফাইনালে বৈভবের ইনিংসটি থামে ৮০ বলে ১৭৫ রানে। ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা। এর মাধ্যমে তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে দেড়শ রান ছোঁয়ার কীর্তিও গড়েন। বিহারের ১৪ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান ব্যাটার গড়েছেন ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম শতকের রেকর্ডও। এর আগে ২০২২ সালে উগান্ডার বিপক্ষে ৬৯ বলে শতক করেছিলেন রাজ অঙ্গদ বাওয়া। সূর্যবংশীই প্রথম ভারতীয় ব্যাটার, যিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৬০ বলের কমে শতক করলেন। শুধু তাই নয়, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালেও এটাই সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এছাড়া বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ রান ও দ্রুততম দেড়শ রানের রেকর্ডটিও নিজের অধীনে করে নিলেন ১৪ বছরের এই বাঁহাতি ব্যাটার। ভারতের হয়ে যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসটিও বৈভবের দখলে। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল রাজ বাওয়ার। উগান্ডার বিপক্ষে ১৬২ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে সূর্যবংশীর ব্যাট ছিল আরও ভয়ংকর। তিনি আসরে মোট ৩০টি ছক্কা হাঁকিয়ে ভেঙেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের আগের রেকর্ড (১৮ ছক্কা)। এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন মানদণ্ড এখন তার নামেই। সব মিলিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দ্রুততম শতকের তালিকায় সূর্যবংশী উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার উইল মালাইজুক। মাত্র ৫১ বলে শতক করেছিলেন তিনি। সূর্যবংশীর নিচে রয়েছেন পাকিস্তানের কাসিম আকরাম ও ইংল্যান্ডের বেন মায়েস।

বাংলাদেশ না থাকলেও বিশ্বকাপে থাকছেন আতহার আলী

বাংলাদেশ না থাকলেও বিশ্বকাপে থাকছেন আতহার আলী নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ভারতে ম্যাচ না খেলার অনুরোধ জানিয়েছিল, তবে আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। বৈশ্বিক এই আসরে বাংলাদেশ দল না থাকলেও দেশটির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন আতহার আলী খান। আইসিসির মেগা ইভেন্টটির ধারাভাষ্যকার প্যানেলে আছেন তিনি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ধারাভাষ্যকার প্যানেল ঘোষণা করেছে আইসিসি। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য এই মেগা ইভেন্টের ধারাভাষ্য কক্ষে থাকছেন ক্রিকেট বিশ্বের সাবেক কিংবদন্তি ও বর্তমান তারকারা। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান। আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টজুড়ে মোট ৫৫টি ম্যাচে এই ধারাভাষ্যকারদের বিভিন্ন ম্যাচে ব্যবহার করা হবে। আইসিসি ডট টিভির সম্প্রচারে থাকবে প্রাক্‌-ম্যাচ অনুষ্ঠান, ইনিংস বিরতির বিশ্লেষণ, ম্যাচ শেষে আলোচনা ও প্রতিদিনের হাইলাইটস শো। নকআউট পর্ব ও ৮ মার্চের ফাইনাল পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টের উত্তাপ ধরা পড়বে এসব অনুষ্ঠানে। এবারের বিশ্বকাপের ধারাভাষ্য প্যানেলে আছেন ৪০ জন। এই প্যানেলের নেতৃত্ব দেবেন রবি শাস্ত্রী, নাসের হুসেইন, ইয়ান স্মিথ এবং ইয়ান বিশপের মতো কিংবদন্তিরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন ২০২১ সালের বিশ্বকা জয়ী অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। এ ছাড়া সাবেক বিশ্বজয়ীদের মধ্যে থাকছেন দিনেশ কার্তিক, কুমার সাঙ্গাকারা, স্যামুয়েল বদ্রি, রবিন উথাপ্পা এবং কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ইয়ন মরগান, ওয়াসিম আকরাম, সুনীল গাভাস্কার, ম্যাথু হেইডেন এবং রমিজ রাজার মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ডেল স্টেইন, মাইকেল আথারটন, ওয়াকার ইউনিস এবং সাইমন ডুলের মতো আইকনিক কণ্ঠস্বরগুলোও মাঠের লড়াইয়ের বিশ্লেষণ করবেন। বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্য থেকেও থাকছেন বিশেষ কয়েকজন। সদ্য আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ধারাভাষ্যে অংশ নেবেন। এ ছাড়া ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসও আছেন তালিকায়।

বাংলাদেশ না থাকায় কলকাতায় বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ধস!

বাংলাদেশ না থাকায় কলকাতায় বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ধস! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে শেষ মুহূর্তে ভারতে খেলতে আপত্তি জানানোয় আসন্ন বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। টাইগারদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোয় আগেই ইডেনে দর্শকখরার আশঙ্কা করা হয়েছিল। অবশেষে সেটিই সত্যি হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিই হচ্ছে না ইডেনে। টিকিটের লাইনে চার-পাঁচ জনের বেশি মানুষ দেখাই যাচ্ছে না। আরও জানা যাচ্ছে, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সামনে অফলাইন টিকিটের যে স্টলগুলো দেওয়া হয়েছে, সেখানে হাতে গুনে ছ’জনের বেশি দেখা যায়নি। ইডেন গার্ডেন্সে সব মিলিয়ে ৬৫ হাজার দর্শকাসন। অথচ সব ম্যাচ মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২১ হাজার টিকিটও বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। য়েস্ট ইন্ডিজ বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৯১৭টি। স্কটল্যান্ড-ইতালি ম্যাচে মাত্র ৩৪৮টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড ম্যাচে ২০৭৫ টিকিট কিনেছেন দর্শকরা। ইংল্যান্ড-ইতালি ম্যাচে টিকিট বিক্রির সংখ্যা ৪৯৭০। ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইতালির খেলা দেখতে আসবেন এখনও পর্যন্ত ১২৪৮ জন। সুপার এইট এবং সেমিফাইনাল মিলিয়ে মোট ৯০০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। গ্রুপ পর্বে ভারতের কোনও ম্যাচ দেওয়া হয়নি ক্রিকেটের নন্দনকাননে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশ না আসায় যে আগ্রহ ছিল দর্শকদের, সেটাও চলে গিয়েছে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) অবশ্য ক্ষতি হচ্ছে না। ম্যাচ আয়োজন করার যে মূল্য তারা পাচ্ছে তাতেই খরচ উঠে আসছে। মাঠে দর্শক আনার জন্য বাড়তি কিছুও করা হচ্ছে না। বিশ্বকাপকে ঘিরে শহরে কোনও আগ্রহ নেই ক্রিকেটপ্রেমীদের। বরং ঘরোয়া লিগের ম্যাচ ঘিরে অনেক বেশি চর্চা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে দুঃসংবাদ পেল ভারত

বিশ্বকাপ শুরুর আগে দুঃসংবাদ পেল ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে শনিবার। এবারের আসরের আয়োজক দেশ ভারত ও শ্রীলংকা। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে দুঃসংবাদ ভারতীয় ক্রিকেট দল। চোটে পড়েছেন দলটিরর তারকা পেসার হার্ষিত রানা। মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্পোর্টস অ্যাকাডেমি মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে ভারত। সেখানে হার্ষিত মাত্র এক ওভার বল করে ১৬ রান দেন এবং এর পরই অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচের বাকি সময়ে আর মাঠে ফেরেননি। নিজের করা একমাত্র ওভারটিতে হার্ষিতকে চোটে ভুগতে দেখা যায়। দুইবার তিনি রান-আপ নেওয়ার সময় মাঝপথে থেমে যান। কিছুক্ষণ পরই তাকে হাঁটু চেপে ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়। হার্ষিতের চোট নিয়ে তার সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে হার্ষিতের চোট কতটা গুরুতর, তা নিয়ে চিন্তা থাকছে। এদিকে অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দরেরও চোট রয়েছে। তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা আগে থেকেই ছিল। এবার হার্ষিতের চোট ভারতের দুশ্চিন্তা আরও বাড়াল। তবে তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হল, চোট সারিয়ে মাঠে ফিরেছেন তিলক বর্মা।

ভারত ম্যাচ না খেললে মামলা হতে পারে, পিসিবিকে আইসিসির সতর্কবার্তা

ভারত ম্যাচ না খেললে মামলা হতে পারে, পিসিবিকে আইসিসির সতর্কবার্তা ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় আর্থিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত না হলে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল সম্প্রচারক জিওস্টার আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ এখনো লিখিতভাবে আইসিসিকে জানানো হয়নি। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে পিসিবি সূত্র জানিয়েছে, ভারত ম্যাচ বর্জনের কারণে আইসিসি পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব অংশীদারিত্ব থেকে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেটে নিতে পারে। সেই অর্থ সম্প্রচারককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পিসিবি সূত্র আরও জানায়, অবস্থান পরিবর্তন না করলে শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, সম্প্রচারকের পক্ষ থেকে সরাসরি মামলার মুখেও পড়তে হতে পারে বোর্ডকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হচ্ছে শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি।

পাল্লেকেলের ফাঁদেই আটকাল স্বাগতিকরা, প্রস্তুতির সিরিজে নিখুঁত ইংল্যান্ড

পাল্লেকেলের ফাঁদেই আটকাল স্বাগতিকরা, প্রস্তুতির সিরিজে নিখুঁত ইংল্যান্ড আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হয়েও প্রস্তুতির মঞ্চে চরম হতাশার ছবি দেখল শ্রীলঙ্কা। নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে একটিও ম্যাচ জিততে না পেরে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো দাসুন শানাকার দলকে। মঙ্গলবার পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত শেষ টি-টোয়েন্টিতে কম রানের ম্যাচে নিজেদের তৈরি স্পিন-নির্ভর উইকেটেই আটকে গেল স্বাগতিকরা। ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে সিরিজ শেষ হয় ৩-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে। এই সিরিজের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছে পাল্লেকেলেতে। তবে প্রতিটি ম্যাচে উইকেটের আচরণ ছিল ভিন্ন। প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির কারণে ওভার কমলেও স্পিন খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল তুলনামূলক ব্যাটিং-বান্ধব। আর শেষ ম্যাচে স্পিনারদের আধিপত্যই ঠিক করে দেয় ফলাফল। প্রথমে লঙ্কান বোলাররা ইংল্যান্ডকে চাপে ফেললেও পরে সেই একই ফাঁদে নিজেরাই পড়েন স্বাগতিক ব্যাটাররা। এর আগে দুই দল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতেও পরের দুই ম্যাচে হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ায় শ্রীলঙ্কা। টি-টোয়েন্টিতে এসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। এই নিয়ে ইংল্যান্ডের কাছে টানা ১১টি টি-টোয়েন্টিতে হারল শ্রীলঙ্কা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এটি তাদের ইংলিশদের বিপক্ষে দ্বিতীয় হোয়াইটওয়াশ। ঘরের মাঠে প্রথম। এর আগে ২০২১ সালে ইংল্যান্ডে একই পরিণতি হয়েছিল। শেষ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ৬০ রান তুলতেই ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে হ্যারি ব্রুকের দল। সেই ধাক্কা সামলে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন স্যাম কারান। ৪৮ বলে ৫৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ছয়টি চার ও একটি ছক্কা। এছাড়া জস বাটলার করেন ২৫ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৮। শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন দুষ্মন্ত চামিরা। মাত্র ২৪ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েন তিনি। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। ইনিংসের তৃতীয় বলেই শূন্যরানে ফিরে যান ওপেনার কামিল মিশারা। পাথুম নিশাঙ্কা আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা জাগালেও ২৩ রানেই থেমে যান। পাওয়ারপ্লেতে ৪৬ রান তুলে লঙ্কানরা ম্যাচে থাকলেও মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট হারানোয় সেই সম্ভাবনা ফিকে হয়ে যায়। ৬২ রানের মধ্যে পভন রত্ননায়েক ও কুশল মেন্ডিস ফিরে গেলে চাপ আরও বাড়ে। কামিন্দু মেন্ডিস ও জানিথ লিয়ানাগে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট হয়নি। শেষ ছয় উইকেট পড়ে যায় মাত্র ২৬ রানের ব্যবধানে। ইংল্যান্ডের বোলিংয়ে বড় ভূমিকা রাখেন স্পিনাররা। জ্যাকব বেথেল নেন চারটি উইকেট। আর উইল জ্যাকস শিকার করেন তিনটি। ম্যাচ ও সিরিজসেরার পুরস্কার উঠেছে স্যাম কারানের হাতেই। ব্যাটে-বলে তার অবদানই এই সিরিজে ইংল্যান্ডের নিখুঁত সাফল্যের প্রতিচ্ছবি। বিশ্বকাপের আগে যেখানে প্রস্তুতির আত্মবিশ্বাস গড়ার কথা ছিল, সেখানে ঘরের মাঠে এমন পরাজয় শ্রীলঙ্কার জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়েই রইল।

চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল

চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল এমিরেটস স্টেডিয়ামে উত্তেজনার আগুন জ্বলেনি পুরোটা সময়। ম্যাচটা এগোচ্ছিল ধীর গতিতে, আক্রমণের ধারও ছিল না তেমন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চেলসির এগিয়ে থাকার কথা। কিন্তু ফুটবলে যে শেষ বাঁশি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে শেখায় তা আবারও প্রমাণ করল আর্সেনাল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে এসে দৃশ্যপট বদলে দেন কাই হাভার্টজ। ৯৭ মিনিটে ডেকলান রাইসের লম্বা পাস ধরে বক্সে ঢুকে ওয়ান-অন-ওয়ানে গোলরক্ষককে কাটিয়ে জাল কাঁপান জার্মান তারকা। ওই এক গোলেই ১-০ জয় নিশ্চিত হয় গানারদের। প্রথম লেগের ৩-২ জয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ৪-২ অ্যাগ্রিগেটে লিগ কাপের ফাইনালে উঠল মিকেল আর্তেতার দল। ম্যাচে বলের ৫৫ শতাংশ দখল নিয়ে এগিয়ে ছিল চেলসি। শটও নিয়েছে বেশি, ১১টি, এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ২টি। আর্সেনাল শট নিয়েছে ৬টি, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ২টি। তবুও শেষ হাসি লালদের। প্রথমার্ধে দু’দলই ছিল সতর্ক। ১৮ মিনিটে আর্সেনাল সুযোগ পেলে চেলসির গোলরক্ষক পিয়েরো ইনকাপিয়েরের জোরালো শট রুখে দেন। বিরতির ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট ঠেকান কেপা আরিজাবালাগা। দ্বিতীয়ার্ধে গতি বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত গোল মিলছিল না কারও। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই হতাশ হয়ে চেলসি সমর্থকদের একটি অংশ মাঠ ছাড়তে শুরু করে। কয়েক মিনিট পর সেই হতাশা পূর্ণতা পায় হাভার্টজের গোলে। এই জয়ে এমিরেটসে চেলসির বিপক্ষে আর্সেনালের অপরাজেয় ধারা আরও লম্বা হলো। দুই দলের সর্বশেষ ১০ দেখায় জয় নেই স্টামফোর্ড ব্রিজের দলটির।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ : টুর্নামেন্ট সেরা কাকে দেখছেন পন্টিং

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ : টুর্নামেন্ট সেরা কাকে দেখছেন পন্টিং আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান অভিশেক শার্মা। তার ধারেকাছে আপাতত নেই কেউ। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তাকে রানের তালিকায় সবার ওপরে দেখছেন রিকি পন্টিং। অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির ধারণা, টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জিতে নেবেন ভারতের এই আগ্রাসী ওপেনার। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যখন ভারত শিরোপা জয় করে, অভিশেকের তখন ভারতের হয়ে অভিষেকই হয়নি। বিশ্বকাপের পরপর জিম্বাবুয়ে সফর দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার শুরু। প্রথম ম্যাচে শূন্যতে ফিরলেও পরের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেন ৪৬ বলে। সেই থেকে ছুটছেন তিনি ম্যাচের পর ম্যাচ বোলারদের কচুকাটা করে। ২ সেঞ্চুরি ও ৮ ফিফটিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার রান ১ হাজার ২৯৭। ব্যাটিং গড় ৩৭.০৫, স্ট্রাইক রেট ১৯৪.৭৪।  বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান হলেও খুব অভিজ্ঞ এখনও তিনি নন। তবে বড় আসরে অভিজ্ঞতা যে তার বাধা নয়, সেটি প্রমাণ করেছেন মাস চারেক আগে এশিয়া কাপেই। ভারতের শিরোপা জয়ের পথে সর্বোচ্চ রান করে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন তিনি। এবার আইসিসি রিভিউয়ে পন্টিং বললেন, এশিয়া কাপের পুনরাবৃত্তি বিশ্বকাপেও অভিশেক করতে দেখছেন তিনি। পন্টিং বলেন, হি ইজ আ স্টার। আমার মনে হয়, এটা (অভিজ্ঞতার ঘাটতি) তার জন্য সত্যিকারে ইতিবাচক হবে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান স্কোরার হতে পারে সে, সম্ভাব্য প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্টও।  আমি তাকে এতটাই ভালো মনে করি। সত্যি যদি সে এটা করতে পারে, ভারতকে হারানো হবে আরও বেশি কঠিন। যদি সে না পারে, তাহলে তারা (ভারত) হবে অন্য যে কোনো দলের মতোই নড়বড়ে। এই বিশ্বকাপে ভারতের জন্য তাকে আমি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।”ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভিশেক সংস্পর্শ পেয়েছিলেন পন্টিংয়ের। তরুণ সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যানের প্রতিভার আলো তখনই দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ছিলাম তার প্রথম আইপিএল কোচ। ১৭ বছর বয়সে দিল্লির হয়ে আমার সঙ্গেই তার অভিষেক এবং তাৎক্ষণিক প্রভাব রেখেছিল। আমার মনে হয়, প্রথম বলেই চার বা ছক্কা মেরেছিল বোলারের মাথার ওপর দিয়ে সোজা ব্যাটে ধ্রুপদি শটে এবং পোজ ধরে রেখেছিল। ওই ১৭ বছর বয়সেই বোঝা যাচ্ছিল, তার ভেতরে বাড়তি বিশেষ কিছু আছে। তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে দিল্লি থেকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি আকুতি করেছি, করেছি এবং করেছি যে, ‘দয়া করে এটা করবেন না, তাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে, নিশ্চিত এক সুপারস্টার হতে যাচ্ছে সে…। সেটিই সে হয়েছে। তাকে নিয়ে এবার আমার আশা প্রবল। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ২০১৮ আসরে আইপিএলে অভিষেক হয় অভিশেকের। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ছয় নম্বরে নেমে প্রথম বলেই চার মারেন মোহাম্মাদ সিরাজের বলে। সেদিন চার ছক্কায় ১৯ বলে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। সেবার দিল্লির হয়ে তিন ম্যাচ খেলার পর তাকে পরের মৌসুমে দলে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সেখান থেকে এই দলের হয়েই তিনি খেলেছেন সাত মৌসুমে। সবশেষ দুই মৌসুমে তার ব্যাট ছিল উত্তাল। ২০২৪ আসরে ২০৪.২১ স্ট্রাইক রেটে রান করেন তিনি ৪৮৪, যে পারফরম্যান্স তার জন্য খুলে দেয় জাতীয় দলের দুয়ার। ২০২৫ আসরে ৪৩৯ রান করেন ১৯৩.৩৯ স্ট্রাইক রেটে।