ইনিংস ও ২৭৩ রানে হেরে ধবলধোলাই বাংলাদেশ

ইনিংস ও ২৭৩ রানে হেরে ধবলধোলাই বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টেস্টে যেভাবে উইকেটের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা তাতে হার নিশ্চিতই ছিল। দেখার বিষয় ছিল, ব্যবধানটা কতটুকু কমাতে পারবেন মুশফিকুর রহিম-নাজমুল হোসেন শান্তরা। ব্যবধানটা শেষ পর্যন্ত থেমেছে ইনিংস ও ২৭৩ রানে। ধবলধোলাই হওয়ার ম্যাচে এতটাই বাজে খেলেছে বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ফলো-অন এড়াতে পারেনি। ফলো-অন এড়াতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩৭৬ রান। বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলে করেছে মোট ৩০২ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দেড় শ রান পার করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেটিও করতে পারেনি। ১৫৯ রানের বিপরীতে টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট ১৪৩ রানে। প্রথম ইনিংসে ৮ জন ব্যাটারের বিপরীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। ঘরের মাঠে স্বাগতিকদের ধসিয়ে দিল প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে অল্পতে অলআউট করতে শুরুটা করেছেন সেনুরান মুতুসামি। ৪ উইকেট নিয়ে বাঁহাতি স্পিনার শুরুটা করলেও শেষটা করেছেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজ। ৫৯ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেছেন ১০ নম্বর ব্যাটার হাসান মাহমুদ। ইনিংস ও ২৭৩ রানের হারে বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয় টেস্টে। আগের সর্বোচ্চেও বাংলাদেশের নাম। প্রতিপক্ষের মাঠ ব্লুমফন্টেইনে ২০১৭ সালে ইনিংস ও ২৫৪ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বড় ব্যবধানের হারটাই সব মিলিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় পরাজয়। ২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকায় ইনিংস ও ৩১০ রানের সর্বোচ্চ হারটি হেরেছিল বাংলাদেশ। এ জয়ে একটা অপেক্ষা ঘুচেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০১৪ সালের পর এশিয়ার মাটিতে সিরিজ জিতেছে প্রোটিয়ারা। সিরিজ হিসেবে ৫ সিরিজ পর। ১৭৭ রানের ইনিংস খেলা টনি ডি জর্জির ম্যাচসেরার বিপরীতে সিরিজে ১৪ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন কাগিসো রাবাদা।
আবারও নোপালকে কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

আবারও নোপালকে কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হিমালয়ের পাদদেশে আবারও উড়লো বাংলাদেশের পতাকা। আরও একবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরলো বাংলাদেশের মেয়েরা। অক্ষুন্ন রাখলো শিরোপা। আবারও সেই নেপালকে হারিয়ে। আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ‘নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪’ এ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এমন জয়ে দুটি গোলই করেন ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা। এর আগে ২০২২ সালে এই নেপালকেই ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সাবিনা-তহুরারা। এবার তাদের ঝুলিতে উঠলো আরও একটি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা। এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। তবে বিরতির পর পরই (৫২ মিনিটে) এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এ সময় আক্রমণে ওঠে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। নেপালের ডি বক্সের সামনে বল পেয়ে যান বাংলাদেশের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তিনি বাড়িয়ে দেন সামনে থাকা তহুরা খাতুনকে। তহুরা বল বাড়িয়ে দেন ডি বক্সের ভেতরে। দৌড়ে গিয়ে সেটাতে কোনোরকমে ডান পা লাগিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তাকে রুখতে আসা নেপালের গোলরক্ষক ও আরেকজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় সেখানেই ভূপাতিত হন। তবে বেশিক্ষণ এগিয়ে থাকতে পারেনি বাটলারের শিষ্যরা। ৫৬ মিনিটেই নেপাল ফেরায় সমতা। এ সময় মাঝমাঠের সামনে বল পেয়ে যান নেপালের প্রীতি রাই। তিনি চিকন করে বাড়িয়ে দেন সামনে থাকা আমিশা কারকিকে। তিনি বলকে অনুসরণ করে ঢুকে পড়েন ডি বক্সের মধ্যে। তখন তার সামনে ছিলেন কেবল বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা। তাকে পরাস্ত করে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান আমিশা। ৬১ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। এ সময় সাবিত্রা ভান্ডারি বাংলাদেশের গোলররক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। দূরের পোস্টে তার নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ৮১ মিনিটে এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এ সময় বামদিকে থ্রো পায় বাংলাদেশ। থ্রো থেকে শামসুন্নাহার সিনিয়রের বাড়িয়ে দেওয়া বল পেয়ে যান ঋতুপর্ণা। একটু সামনে এগিয়ে বাম পায়ে লম্বা শট নেন। সেটি নেপালের গোলরক্ষক আনজিলার হাত ছুঁয়েও জালে প্রবেশ করে।
চরম অস্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করলো বাংলাদেশ

চরম অস্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করলো বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টেস্টে চরম অস্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। আলোক স্বল্পতার কারণে এই দিনের খেলা শেষ হয়েছে আগেভাগেই। তার আগেই মাত্র ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। উইকেটে আছেন মমিনুল হক (৬) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৪)। এর আগে ৬ উইকেটে ৫৭৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে ৫৩৭ রানে। ইনিংসে প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ওপেনার সাদমান ইসলামকে তুলে নেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা। ডাউন লেগের বলে উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেইনের হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটার। ৬ বলে ০ রানে বিদায় নেন সাদমান। সর্বশেষ ৩ ইনিংসে দুইবারই ডাক মারলেন সাদমান। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪ বলে খেলে ০ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। ওই টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ বলে মাত্র ১ রান করেন সাদমান। টিকতে পারেননি জাকির হাসানও। তিনিও হন রাবাদার শিকার। ৮ বলে মাত্র ২ রান করে বিহাইন্ড দ্য উইকেটে ভেরেইনের হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটার। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ডেন পিটারসনের চতুর্থ বলে কভার ড্রাইভে চার হাঁকান ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। পরের বলেই দ্বিতীয় স্লিপে এইডেন মার্করামের হাতে ধরা পড়েন এই ডানহাতি। এরপর নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে হাসান মাহমুদকে নামায় বাংলাদেশ। পরের ওভারে আউট হয়ে যান হাসানও। কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে খেই হারানোর আগে ৭ বলে ৩ রান করেন ডানহাতি ব্যাটার। এর আগে ৩ সেঞ্চুরি আর ২ ফিফিটিতে ৫৭৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। উইয়ান মুলদার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর তাদেরকে ডেকে নেন অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। মুলদারের সঙ্গে ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন সেনুসান মুথুসামি। ১৪৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাইজু্ল ইসলামকে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুলদার। ষষ্ঠ উইকেটে ১৫০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি করেন মুলদার ও মুথুসামি। এই ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো বাকি দুই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার হলেন টনি ডি জর্জি (১৭৭) ও ত্রিস্টান স্টাবস (১০৬। মুথুসামির সঙ্গে ফিফটি করা অন্য ব্যাটার হলেন ডেভিড বেডিংহাম (৫৯)। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম একাই নেন বাকি ৫ উইকেট। এ নিয়ে ১৪তম বার টেস্টের এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার। বাকি এক উইকেট নেন পেসার নাহিদ রানা।
চট্টগ্রাম টেস্টে দুই উইকেট বাংলাদেশের, জর্জি-স্টাবসের সেঞ্চুরি

চট্টগ্রাম টেস্টে দুই উইকেট বাংলাদেশের, জর্জি-স্টাবসের সেঞ্চুরি চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম দিনে শেষে চালকের আসনে দক্ষিণ আফ্রিকা। পুরো তিন সেশনে মাত্র দুই উইকেটের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন দুই প্রোটিয়া ব্যাটার টনি ডি জর্জি ও ট্রিস্টান স্টাবস। এই দুই ব্যাটারের সেঞ্চুরিতে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান সংগ্রহ করেন প্রথম দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। আজ চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। টাইগার বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন তারা। ৬৯ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। ইনিংসের ১৮তম ওভারে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ৫৫ বলে ৩৩ রান করা মার্করামকে সাজঘরে ফেরান স্পিনার তাইজুল ইসলাম। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে ১৪৬ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন ডি জর্জি। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। চা বিরতির পর পর সেঞ্চুরি তুলে নেন স্টাবস। ১৯৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৮১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান সংগ্রহ করে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জর্জি ১৯৮ বলে ১৪১ ও বেলিংহাম ২৫ বলে ১৮ রানে অপরাজিত আছেন।
ভিনিসিউসকে টপকে ব্যালন ডি’অর জিতলেন রদ্রি

ভিনিসিউসকে টপকে ব্যালন ডি’অর জিতলেন রদ্রি ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার নিয়ে এমন নাটকীয়তা নিকট অতীতে আর হয়নি। পুরস্কার বিতরণের কয়েক ঘণ্টা আগে শুরু হয় নাটকীয়তা, এর মাঝেই রিয়াল মাদ্রিদ ঘোষণা দেয় অনুষ্ঠান বয়কটের। আলোচনা-সমালোচনার ধাপ পেরিয়ে ঘোষণা হয় ২০২৪ সালের বর্ষসেরা ফুটবলারের নাম। তাতে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিউস জুনিয়রকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো বর্ষসেরার খেতাব জিতে নিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি। সোমবার (২৮ অক্টোবর) প্যারিসে জমকালো অনুষ্ঠানে রদ্রির হাতে তুলে দেওয়া হয় ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’- এর এই সেরার পুরস্কার। রদ্রির হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন ১৯৯৫ সালের সেরা ফুটবলার জর্জ ওয়েহ। এর মধ্যে দিয়ে ফুরালো স্পেনের ছয় দশকের আক্ষেপ। সবশেষ ১৯৬০ সালে পুরস্কারটি জিতেছিলেন লুইস সুয়ারেজ। ব্যালন ডি’অরের এবারের তালিকায় ছিলেন না লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন না এ দুজন। ফলে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস। গত মৌসুমে রিয়ালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। সোমবার শুরু হয় নাটকীয়তা। ব্যালন ডি’অরের ১২ জনের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে সবার ওপরে দেখা যায় ভিনিসিউসের নাম। খানিক পরই জানা যায়, ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের জন্য প্যারিসে যাচ্ছেন না রিয়াল মাদ্রিদের কেউ, কারণ ক্লাবটি বুঝতে পেরেছে, ভিনিসিউস নয়, বর্ষসেরার পুরস্কারটি পাচ্ছেন রদ্রি। রদ্রির পারফরম্যান্সও বেশ উজ্জ্বল ছিল গত মৌসুমে। সিটির টানা চতুর্থ প্রিমিয়ার লিগ জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। গত জুলাইয়ে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের শিরোপা জয়েও এই স্প্যানিয়ার্ড রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সিটির হয়ে ২০২৩-২৪ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০ ম্যাচে ৯ গোল ও ১৪ অ্যাসিস্ট করেন। এদিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়েদের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আইতানো বনমাতি। গত মৌসুমে বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগা এফ, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। স্পেনের নেশন্স লিগ জয়েও তার ছিল উল্লেখযোগ্য অবদান। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ২৬ গোল করার পাশাপাশি তিনি অ্যাসিস্ট করেন ১৮টি।
ডি জর্জির সেঞ্চুরি, আরও এক হতাশার সেশন বাংলাদেশের

ডি জর্জির সেঞ্চুরি, আরও এক হতাশার সেশন বাংলাদেশের প্রথম সেশনও ছিল হতাশার। তবুও সেখানে প্রাপ্তি ছিল তাইজুল ইসলামের এনে দেওয়া একটি উইকেট। কিন্তু সেটিই প্রাপ্তি হয়ে থাকলো দ্বিতীয় সেশনের পরও। কারণ মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থেকে চা বিরতি অবধি সময়টাতে কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এর মাঝে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন প্রোটিয়া ওপেনার টনি ডি জর্জি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিনের চা বিরতি অবধি এক উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান করেছে প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশ এদিন শুরু করে দুই পেসার নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদকে দিয়ে। প্রথম ম্যাচে এক পেসার নিয়ে খেলার পর এ ম্যাচের একাদশে ফেরানো হয় নাহিদকে। এছাড়া আরও দুটি বদল আনতে হয়; জাকের আলি ও লিটন দাসের অসুস্থতায় সুযোগ পান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও জাকির হাসান। সকালের শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। অবশ্য পেসারদের প্রথম স্পেল থেকেই উইকেট পেতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু সপ্তম ওভারে টনি ডি জর্জির ক্যাচ ছেড়ে দেন উইকেটরক্ষক অঙ্কন। অভিষিক্ত অঙ্কনের জন্য অবশ্য সুযোগটা ছিল বেশ কঠিন। বাঁদিকে অনেকটা ঝাঁপিয়েও ক্যাচ নিতে পারেননি তিনি। এরপর পুরো প্রথম ঘণ্টায় কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। ১৬তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকেও বোলিংয়ে নিয়ে আসেন শান্ত। তিনি উইকেট না পেলেও সাফল্যের দেখা পান আরেক স্পিনার তাইজুল। তার বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে আলগা শটে মিড অনে দাঁড়ানো মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দেন এইডেন মার্করাম। ৫৫ বলে ৩৩ রান করেছিলেন তিনি। একরকম উপহার হিসেবে পাওয়া মার্করামের উইকেট নিয়েই বাকি সেশন সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথম সেশনে এমন হতাশার পর দ্বিতীয়টিতে ভালো কিছু করা জরুরি ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু উল্টো হতাশা বেড়েছে আরও। এই সেশনে স্টাবস হাফ সেঞ্চুরি ও জর্জি পেয়েছেন শতকের দেখা। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন উদ্বোধনী ব্যাটার জর্জি। পঞ্চম টেস্টে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি ছিল স্টাবসের। এই সেশনে বাংলাদেশ উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা জাগাতে পেরেছিল একবারই। তাইজুল ইসলামের বল ক্রিস্তিয়ান স্টাবসের ব্যাটের একদম পাশ দিয়ে যায়। তখন তাইজুলের মনে হয়েছিল, বল লেগেছে ব্যাটারের ব্যাটে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও তার ওপর ভরসা করে রিভিউ নেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, ব্যাটে লাগেনি বল। ৫০ ওভারের মধ্যে দ্বিতীয় রিভিউ নষ্ট করে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে প্রোটিয়ারা ৯৪ রান তুলেছে।
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-নেপাল

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-নেপাল নারী সাফে গত ফাইনালের মতো এবারও প্রতিপক্ষ হিসাবে নেপালকে পেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল রাতে কাঠমান্ডুতে নাটকীয় সেমিফাইনাল ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর সরাসরি টাইব্রেকিংয়ে নেপাল ৪-২ গোলে হারায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। দুই দফায় খেলা বন্ধ ছিল। একবার লাল কার্ড ইস্যুতে। নেপালের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার রেখাকে লাল কার্ড দেখান ভুটানের রেফারি। এ নিয়ে ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। খেলা শুরু হলে নেপাল ১০ জন নিয়েই লড়াই করে গোল হজম করে। ৫২ মিনিটে ভারতের সঙ্গীতা গোল করেন, ১-০। গোলের পর কিকঅফ করেই গোল করে নেপাল। কিন্তু ভুটানি রেফারি ওম চোকি সেই গোল বাতিল করেন। প্রতিবাদে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। নেপালের ফুটবলাররা মাঠের সাইড লাইনে চলে যান। এ নিয়ে ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। পরে নেপালের সিনিয়র কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাদের ফুটবলাররা গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে খেলায় নামে। ৫ মিনিটের মধ্যে নেপাল গোল করে পুরো ম্যাচের নাটক বদলে দেয়।
প্রতিপক্ষের হামলায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সমর্থকের মৃত্যু

প্রতিপক্ষের হামলায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সমর্থকের মৃত্যু প্রতিপক্ষের হামলায় ব্রাজিলের এক ফুটবল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গেল রোববার সকালে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে এই ঘটনা ঘটেছে। ওই সমর্থকরা যখন খেলা শেষে বাসে করে ফিরে যাচ্ছিলেন তখন রাস্তার পাশে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ওই হামলায় কমপক্ষে আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তি ক্রুজেইরো দলের সমর্থক ছিলেন। ওই দিন ক্রুইজেরো মুখোমুখি হয়েছিল অ্যাথলেটিকো পারানায়েন্সের। ম্যাচে ক্রুইজেইরো ৩-০ ব্যবধানে হার মানে। ম্যাচ শেষে ওই সমর্থক বাসে করে বেলো হরিজন্তেতে ফিরছিলেন। ব্রাজিলের ফেডারেল রোড পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া সমর্থকের বয়স ৩০ বছর। এর বেশি তথ্য তারা দিতে পারেননি। একটি ভিডিওতে দেখা যায় বাসে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ক্রুইজের বেশ কিছু সমর্থক মাটিতে পড়ে আছেন। তাদের লাঠিসোটা দিয়ে পেটাচ্ছে অ্যাথলেটিকোর সমর্থকরা। এই ঘটনায় ক্রুজেইরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশের পাশাপাশি এই হামলা ও হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যদিও সাওপাওলো ভিত্তিক ক্লাব অ্যাথলেটিকো পারানায়েন্স এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি কিংবা মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
অধিনায়কত্ব নিতে পুরোটাই তৈরি আছি: তাইজুল

অধিনায়কত্ব নিতে পুরোটাই তৈরি আছি: তাইজুল অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ দল চট্টগ্রামের বিমান ধরার আগে এমন খবরে আবারও ক্রিকেটাঙ্গন আলোচনার তুঙ্গে। সেই আলোচনা আরও বেগবান করলেন তাইজুল ইসলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগের দিন সোমবার (২৮ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে আসেন তাইজুল। যেখানে আসার কথা অধিনায়ক কিংবা কোচের মধ্য থেকে। প্রথা ভেঙে তাইজুলের আসাটা কিছুটা ব্যতিক্রমও বটে। স্বভাবতই তাইজুলের সংবাদ সম্মেলন হয়ে উঠলো শান্তময়। ঘুরে ফিরে আসে একই প্রশ্ন। না বোধক উত্তরে বারবার এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন এসে পড়ে তার কাঁধে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অধিনায়কত্ব নিতে প্রস্তুত কি না? বাঁহাতি এই স্পিনারের সংক্ষিপ্ত কিন্তু আত্মবিশ্বাসী উত্তর, ‘যেহেতু ১০ বছর ধরে খেলেছি, অধিনায়কত্ব নিতে পুরোটাই তৈরি।’ সাকিব আল হাসান না থাকায় প্রথম টেস্ট থেকে আলোচনায় আছেন তাইজুল। প্রথম ইনিংসে দ্রুততম দুই’শ উইকেটের কীর্তি গড়ার পর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, ‘তাইজুল তার প্রাপ্য সম্মান পান না।’ তামিমের মূল কথা ছিল, তাইজুল যে ধরণের পারফরম্যান্স করেন সে অনুযায়ী ফোকাসে থাকেন না। এদিন সংবাদ সম্মেলনে আসাটা তাইজুল যে দলে আলাদা গুরত্ব পাচ্ছে সেটার প্রমাণ বহন করে। সাকিব-তামিম ছাড়া তাইজুল এখন দলে বিবেচিত হচ্ছেন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে। সেই হিসেবে দলের পরিকল্পনায় তার যুক্ত থাকার সময় হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নে তাইজুলের উত্তর, ‘যদি ব্যক্তিগতভাবে বলেন, ইম্প্লিমেন্ট করতে পারি। কিন্তু আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আপনি কতটুকু নিচ্ছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ; সেটা টিমমেট হোক আর সেটা আমার দেশের জনগন হোক।’ ‘আমার কাছে মনে হয় অনেক ক্ষেত্রে মাঠে যখন বিভিন্ন পরিস্থিতি আসে, আমি যখন বল করি বা একটা স্পিনার যখন বল করে অনেক সময় ফিল্ড পজেশন বলেন বা একটা ব্যাটারকে কীভাবে সেট আপ করবো; এই হেল্পগুলো আমি কখন কখনও করে থাকি। অধিনায়ক আমাকে জিজ্ঞেস করে। এই সুযোগগুলো আসে, আমি চেষ্টা করি’ -আরও যোগ করেন তাইজুল। ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টনে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাইজুলের। এখন পর্যন্ত ১০ বছরে খেলেছেন ৪৮টি টেস্ট। সাকিবের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে তিনি ২০০ উইকেটের মাইলফলক অর্জন করেন। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ৭ উইকেটে হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামীকাল থেকে।
ফাইনালে আবারও নেপালকে পেল বাংলাদেশ

ফাইনালে আবারও নেপালকে পেল বাংলাদেশ দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২২ সালের নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। দুই বছর পর শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আবারও ফাইনালে উঠেছেন সাবিনা-তহুরারা। ফাইনালে আবারও সেই নেপালকে পেয়েছে তারা। রোববার (২৭ অক্টোবর) রাতে ঘটনাবহুল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে নেপালের মেয়েরা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলের সমতা নিয়ে শেষ হয়েছিল। অবশ্য নির্ধারিত সময় বললে ভুল হবে। ৯০ মিনিটের খেলা নানাকাণ্ডে আর ঘটনায় গড়িয়েছিল ১৭৫ মিনিট পর্যন্ত। যেটার শুরুটা হয়েছিল নেপালের একজন ফুটবলারের লাল কার্ড দেখা নিয়ে। সেটা আসলেই লাল-কার্ড পাওয়ার মতো ছিল কিনা সেটা নিয়ে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। এরপর একের পর এক কাণ্ডে ও ঘটনায় খেলা বন্ধ ও শুরু হতে থাকে। ৬২ মিনিটে ভারতের সঙ্গীতা বাসফোরি ডি বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। তবে ৮৮ মিনিটে নেপালের তারকা খেলোয়াড় সাবিত্রা ভান্ডারি পাল্টা আক্রমণে অসাধারণ গোল করে সমতা ফেরান। এই সমতা নিয়ে ১৭৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ যায়। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ভারত তাদের প্রথম শট মিস করে। এরপর নেপালের গোলরক্ষক ভারতের চতুর্থ শট রুখে দিয়ে নেপালকে ৪-২ ব্যবধানের জয় এনে দেন। বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও নেপাল। বাংলাদেশের সামনে দ্বিতীয় শিরোপার হাতছানি। অন্যদিকে নেপালের সামনে প্রথম শিরোপা জয়ের।