ভুটানকে ৭ গোল দিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ভুটানকে ৭ গোল দিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন এবারের আসরে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে জোড়া গোলে ম্যাচ জয়ের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন। সেমিফাইনালেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন। এবার করলেন হ্যাটট্রিক। তার হ্যাটট্রিকে তৃতীয়বারের মত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল। সপ্তম আসরের প্রথম সেমিফাইনালে আজ তারা হারিয়েছে ভুটানকে। সাফের আগের আসরের সেমিফাইনালে ভুটানকে পেয়েছিল বাংলাদেশ! সেবার তাদের পাত্তাই দেয়নি বাংলার বাঘিনীরা, প্রতিপক্ষকে আট উড়িয়ে দিয়েছিল। সেই স্মৃতি যেন আবারো কাঠমান্ডুতে ফেরাল লাল-সবুজের দল। এবার ৭-১ গোলের বিশাল জয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছে গেল বর্তমান শিরোপাধারীরা। ২০১৬ ও ২০২২ সালের আসরে ফাইনাল খেলেছিলো বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে রানার্স-আপ হলেও, ২০২২ সালে প্রথমবারের মত শিরোপা জিতেছিলো বাংলাদেশ।
‘এক যুগ’ পর ভারতের সিরিজ হার, নিউজিল্যান্ডের ইতিহাস

‘এক যুগ’ পর ভারতের সিরিজ হার, নিউজিল্যান্ডের ইতিহাস তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারতকে ৮ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয়টিতেও লড়াই করে তারা। জয় পায় ১১৩ রানে। ফলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় সফরকারীরা। সঙ্গে গড়ে ইতিহাসও। ভারতের মাটিতে এটি তাদের প্রথম সিরিজজয়। অপরদিকে ১২ বছর পর সিরিজ হারার তিক্ত স্বাদ পেল ভারত। পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৫৯ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ১৫৬ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত। পরে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ২৫৫ রান যোগ করে কিউইরা। ফলে ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৫৯ রান। কিন্তু তৃতীয় দিনে সেই রান তুলতে পারেনি স্বাগতিকরা। গুটিয়ে যায় ২৪৫ রানেই। তৃতীয় দিনের শুরুতেই দ্বিতীয় ইনিংস খেলা নিউজিল্যান্ড নিজেদের দলীয় সংগ্রহ দুইশ পার করে। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে তারা। শুরুটা হয় টম ব্লান্ডেলকে দিয়ে। জাদেজার বলে বোল্ড হয়ে তিনি ফেরেন ৪১ রানে। বাকি ২৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। কেবল অপরাজিত থাকেন গ্লেন ফিলিপস। ৮২ বলে ৪৮ রান করেন তিনি। বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই রোহিত শর্মাকে হারায় ভারত। স্যান্টনারের বলে তিনি ক্যাচ দেন উইল ইয়ংকে। ফেরেন ৮ রান করে। এই বোলারের দারুণ বোলিংয়ে অবশ্য বাকিরাও ঠিকঠাক দাঁড়াতে পারছিলেন না। কেবল ইয়াশাসবি জায়সাওয়াল মারকুটে থেকে রান বাড়াচ্ছিলেন। অপরপ্রান্তে শুভমান গিল এসে ২৩ রান করে বিদায় নেন। টিকতে পারেননি বিরাট কোহলিও। ৪০ বলে ১৭ রান করে উইকেট হারান তিনি। রিশভ পন্থ অবশ্য রানের খাতা খোলার আগেই রান আউট হয়ে বিদায় নেন। ৪১ বলে ৫০ স্পর্শ করা জায়সাওয়াল আশা জাগালেও তাকে টিকতে দেননি স্যান্টনার। তার বল ড্যারিল মিচেলের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় নেন ভারতীয় ওপেনার। খেলে যান ৬৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংস। এরপর বাকিরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। যদিও শেষদিকে লড়েন রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি টিকে থাকেন শেষ পর্যন্ত। তবে আজাজ প্যাটেলের কাছে পেরে ওঠেননি। ৮৪ বলে তার ৪২ রানের ইনিংস শেষ হলে ইতিহাস গড়া হয় নিউজিল্যান্ডের। দলটির হয়ে একাই ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন স্যান্টনার। আজাজ দুটি ও গ্লেন ফিলিপস পান একটি উইকেট।
মেসির গোল ছাড়াই জিতলো মিয়ামি

মেসির গোল ছাড়াই জিতলো মিয়ামি লিওনেল মেসি যেন স্বপ্নের ফর্মে। জাতীয় দল আর ক্লাব-টানা দুই ম্যাচে করেছেন হ্যাটট্রিক। ফলে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্রথম প্লে-অফে সবার চোখ ছিল আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ওপর। এবার অবশ্য গোল পাননি মেসি। তবে দলের সেরা তারকার গোল ছাড়াই জিতেছে ইন্টার মিয়ামি। ঘরের মাঠে আটালান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মিয়ামির জয় ২-১ গোলে। এতে করে এমএলএসে তিন ম্যাচের প্লে-অফ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মেসির দল। দাপট দেখিয়ে খেলা ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই লুইস সুয়ারেজের গোলে এগিয়ে যায় মিয়ামি। ৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মেসির শট কোনোরকমে ঠেকান আটলান্টা গোলরক্ষক ব্রাড গুজান। ২৬ মিনিটে আবারও দুর্দান্ত সেভ করে মেসিকে গোলবঞ্চিত করেন তিনি। ৩৯ মিনিটে সাবা লবঝানিজের গোলে সমতা ফেরায় আটালান্টা। বিরতির পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে মিয়ামি। ৫২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন মেসি। তবে ৬০ মিনিটে জর্দি আলবার গোল আসে মেসির সহায়তায়ই। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মিয়ামি।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান শান্ত!

বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান শান্ত! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে তিন ফরম্যাটের নেতৃত্ব ছাড়তে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’র প্রতিবেদনে এসেছে এমন খবর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শান্তকে তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তার নেতৃত্বেই খেলতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। তবে শান্ত নাকি এরই মধ্যে বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছেন নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ অনুমোদন দিলেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন শান্ত। ক্রিকবাজকে বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, সে আমাদের জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর অধিনায়কত্ব করতে প্রস্তুত নয়।’ শান্ত ক্রিকবাজকে এ বিষয়ে বলেন, ‘দেখা যাক কী হয় (নেতৃত্ব ইস্যুতে)। আমি সভাপতির (বিসিবি) কাছ থেকে জবাব শোনার অপেক্ষায়।’ বিসিবির একজন পরিচালক নাকি শান্তকে অনুরোধ করেছিলেন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে। তবে সেটার সম্ভাবনা কম। কেননা জানা গেছে, শান্ত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরই টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন। পরে তিনি তিন ফরম্যাটেরই নেতৃত্ব ছাড়ার কথা ভাবেন। সাম্প্রতিকসময়ে শান্তর নেতৃত্ব নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। তার অনেক সিদ্ধান্তই আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। সেইসঙ্গে ব্যাট হাতে ব্যর্থতা তো আছেই। যদিও অধিনায়ক হিসেবে পরিসংখ্যান খুব একটা খারাপ না শান্তর। দলকে নয়টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনটিতে জয় এবং ছয়টি হার। পাকিস্তানের মাটিতে তাদের প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্বও আছে। ওয়ানডেতে ৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জিতিয়েছেন তিনটিতে, হার ছয়টি। টি-টোয়েন্টিতে শান্তর অধীনে ২৪ ম্যাচ খেলে ১০টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত যদি শান্ত অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন, তবে ওয়ানডে এবং টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজ ও টি-টোয়েন্টিতে তাওহিদ হৃদয়কে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপে ৭ গোলে বাংলাদেশের কাছে হারলো ম্যাকাও

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপে ৭ গোলে বাংলাদেশের কাছে হারলো ম্যাকাও এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপে ম্যাকাওকে গোল বন্যায় ভাসাল বাংলাদেশ। নুরুল হুদা ফয়সাল একাই করেন চার গোল। আজ নমপেনের প্রিন্স স্টেডিয়ামে ম্যাকাওয়ের জালে ৭ গোল উড়িয়ে দিয়েছেন সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যরা। বিপরীতে একটি গোলও হজম করতে হয়নি। ম্যাচের ৪০ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন নুরুল হুদা ফয়সাল। সতীর্থের পাস ধরে বক্সে ঢুকে তিন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। পরে হ্যাটট্রিকের স্বাদও পান এই ফরোয়ার্ড। বিরতির পর ৬৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোহাম্মদ মানিক। ৭১ মিনিটে বাঁ প্রান্তের ক্রসে রিফাত কাজী কোনাকুনি শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন। দুই মিনিট পরই ম্যাকওয়ের হয়ে আত্মঘাতী গোল ট্যাং টিন। বাকিটা সময় কেবল আধিপত্য দেখান ফয়সালই। বাকি তিনটি গোলই আসে তার কাছ থেকে। বড় জয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকলো বাংলাদেশ। বাছাইপর্বের দশটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও সেরা পাঁচ রানার্সআপ দল আগামী বছর চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। কম্বোডিয়ায় বাছাইপর্বে তিন ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৬। এর আগে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক কম্বোডিয়ার কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২৭ অক্টোবর আসরের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ভুটান-বাংলাদেশ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ভুটান-বাংলাদেশ নেপালে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ খেলবে ভুটানের বিপক্ষে। আগামী রবিবার শেষ চারের লড়াইয়ে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। একই দিনে আরেক সেমিফাইনালে খেলবে ভারত এবং নেপাল। গতকাল রাতে প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে গত সাফেও সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। ৮-০ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গত বুধবার রাতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দশরথে ‘বি’ গ্রুপে দুটি ম্যাচ বাকি ছিল। ভুটান ১৩-০ গোলে হারিয়েছে মালদ্বীপকে। আর স্বাগতিক নেপাল ৬-০ গোলে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। গোল গড়ে নেপাল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তারা ‘এ’ গ্রুপ রানার্স আপ ভারতের বিপক্ষে খেলবে আর ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ খেলবে ভুটানের বিপক্ষে।
উইকেট বুঝতে ভুল করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট!

উইকেট বুঝতে ভুল করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট! মিরপুর টেস্টে দুই দলের মোট ৩৩ উইকেট পড়েছিল। এর মধ্যে ১৬টিই পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ও বাংলাদেশ দলের পেসাররা। প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট (৩+৬) দখল করে বাংলাদেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছেন। কাইল ভেরেইনের শতক আর অলরাউন্ডার উইয়ান মুলদারের হাফসেঞ্চুরি দক্ষিণ আফ্রিকার ভিত শক্ত করে দিয়েছিল। এরপর জয়ের পথে আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন রাবাদা। ডানহাতি এই পেসারের বিধ্বংসী বোলিংয়ের কাছেই হেরে গেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি গড়ার পথ বন্ধ করেন রাবাদা। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই নাজমুল হোসেন শান্তর দলের ‘বারোটা’ বাজিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার প্রথম স্পেলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে ফিরিয়ে টপঅর্ডারে ভাঙন ধরান রাবাদা। মাঝে যে দুইজন নতুন করে ইনিংস সাজানোর চেষ্টা করছিলেন, সেই মাহমুদুল হাসান জয় ও মুশফিকুর ফিরিয়ে আবার বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেন রাবাদা। আজ বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে প্রথমে নাইম হাসান, পরে মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের সব আশা ভঙ্গ করেন রাবাদা। তৃতীয় দিনের শেষ দিকে অষ্টম উইকেটে ৩৩ রানের জুটি করে আশা জাগান মিরাজ ও নাইম। অনেকেরই আশা ছিল, এই জুটি আরও ঘণ্টা খেললে বাংলাদেশ ১৬০-১৭০ রানের রানে লিড নিতে পারবে। তখন হয়তো লড়াই জমে উঠবে। কিন্তু চতুর্থ দিন সকালে নতুন বল হাতে সংহারমূর্তি ধরে টাইগার সমর্থকদের আশা ভেঙে চুরমার করেন রাবাদা। এটা দিবালোকের মত পরিষ্কার যে, দুই ব্যাটার ভেরেইনে ও মুলদারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শক্ত ভীত গড়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে পেসার রাবাদার দুর্দান্ত বোলিংয়েই। কিন্তু যে পিচে রাবাদা ম্যাচের ভাগ্য লিখে দিলেন, শেরে বাংলার সেই উইকেটে স্বাগতিক বাংলাদেশ মাঠে নামলো একমাত্র পেসার হাসান মাহমুদকে নিয়ে! শুরুর ওই ভুলেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। তারপর ৮ ব্যাটার নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে অলআউট হওয়ায় ঘটেছে সর্বনাশ।সেখান থেকে আর উঠে আসা সম্ভব ছিল না। সম্ভব হয়নিও। প্রশ্ন উঠেছে, কেন বাংলাদেশ ৮ ব্যাটার ও ৪ স্পিনারের সঙ্গে মাত্র একজন পেসার নিয়ে দল সাজিয়েছিল? তবে কি বাংলাদেশের ধারণা ছিল, শেরে বাংলার পিচ হবে ব্যাটারদের স্বর্গ? একটা সময় গিয়ে স্পিনারদের সাহায্য করবে; পেসারদের করার কিছুই থাকবে না! ম্যাচ শেষে মেহেদী হাসান মিরাজের কথা শুনে মনে হলো সেটাই। ডানহাতি অলরাউন্ডা স্বীকার করলেন, বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট উইকেট চিনতে ভুল করেছিল। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা উঠলো এভাবে যে, বাংলাদেশের পরিকল্পনা কী ছিল? এক পেসার নিয়ে খেলাটা টেকনিক্যাল ব্লান্ডার ছিল? উত্তরে মিরাজ বোঝানোর চেষ্টা করলেন, তাদের ধারণা ছিল মিরপুরের উইকেট হবে টার্নিং। মিরাজ বলেন, ‘আমরা যেমন আশা করেছিলাম মিরপুরের উইকেটে টার্নিং হবে। আমরা স্পিনাররা ডমিনেট করবো। এখানে মিরপুরে স্পিনাররা ডমিনেট করে। কিন্তু কন্ডিশনটা অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। ওরাও ভালো বল করেছে। আমাদের হাসান মাহমুদও ভালো বল করেছে। আমরা স্পিনাররা ভালো করলে, আমি আর নাইম ভালো বল করলে এই প্রশ্ন আসতো না। বিশেষ করে আমার কাছে দল চায় ৫-৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতাবো, সেটা করতে পারিনি। ওখান থেকে ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছি।’
‘বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছেন, সবার সাকিব ভাইয়ের পাশে থাকা উচিত’

‘বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছেন, সবার সাকিব ভাইয়ের পাশে থাকা উচিত’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে খেলে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তাকে নিয়ে স্কোয়াডও ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারণে আসতে পারেননি। টেস্ট শুরুর আগে তার আসা না আসার বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিন বাংলাদেশের হারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ম্যাচ। টেস্ট শেষেও আলোচনায় ছিলেন সাকিব। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতে এগিয়ে যায় প্রোটিয়া শিবির। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মলেনে সাকিবের কাছে তার বিদায়ী টেস্ট নিয়ে মেহেদি হাসান মিরাজের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। সাকিব বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছে মন্তব্য করে মিরাজ আহ্বান করেছেন সাকিবের পাশে থাকার জন্য, ‘সাকিব ভাইয়ের ইস্যুটা তো আমরা সবাই জানি। তিনি কেন আসেননি বা খেলতে পারেনি এটা আমার মনে হয় না কারো কাছে অজানা। অবশ্যই সাকিব ভাই একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়।’ ‘তিনি বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছে। আমরা সবাই এটা জানি। এটা অস্বীকার করতে পারব না। যেহেতু সে একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আমার কাছে মনে হয়, সবাই তার পাশে থাকা উচিত’-আরও যোগ করেন মিরাজ। ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের আগে সাকিব জানিয়েছিলেন দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলতে চান। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে ফিরবেন দেশে। স্কোয়াড ঘোষণার পর সাকিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুবাই আসার পর তাকে সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা দেশে আসার জন্য নিরুৎসাহিত করেন। সাকিব আর আসেননি, তার পরিবর্তে হাসান মুরাদকে নেওয়া হয়। এই নিয়ে আন্দোলনের ঘটনাও ঘটেছে। সাকিব বিরোধী-সাকিব ভক্তদের মধ্যে হয়েছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সবশেষে হোম অব ক্রিকেটকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ফেলা হয়। সাকিবের অবরর্তমানে তার জায়গায় সবচেয়ে বেশি এসেছে মিরাজের নাম। বাংলাদেশ অধিনায়কও বলেছিলেন, মিরাজের উপর তাদের ভরসা আছে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৭ রানের ইনিংস খেলে মিরাজ প্রমাণও দিয়েছেন হাতেনাতে। কিন্তু মিরাজ কী নিজেকে সাকিবের বিকল্প হিসেবে ভাবছেন? ‘আপনারা সবাই এই কথাটা বলেন যে—সাকিব ভাইয়ের জায়গায় আমি! তিনি বাংলাদেশের অনেক বড় অর্জন করেছেন, ১৭ বছর ধরে দেশের হয়ে খেলছেন। একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার। আমি মাত্র ১-২ বছর হলো রান করা শুরু করেছি, আর উনি শুরু থেকেই রান করেছেন।’ ‘সাকিব ভাইয়ের জায়গায় সাকিব ভাই, আমার জায়গায় আমি। এক খেলোয়াড়কে আরেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে তুলনা না করাই বেস্ট। আর আমি ব্যাট করি সাত-আট নম্বরে। আর উনি ব্যাট করতেন টপ অর্ডারে। তো আমার যখন সময় আসবে আমি চেষ্টা করব দলের প্রয়োজনে ভালো ক্রিকেট খেলার।’
চেন্নাই, কানপুরের পর মিরপুরেও বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

চেন্নাই, কানপুরের পর মিরপুরেও বিধ্বস্ত বাংলাদেশ হারের চিত্রনাট্য লেখা হয়ে গেছে প্রথম ইনিংসেই। ব্যাটারদের ব্যর্থতার মিছিলের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনশর বেশি রান করেও হার ঠেকানো যায়নি। তৃতীয় দিনই শেষ হতে পারতো ম্যাচ। সেটা না হওয়ায় বৃষ্টিকে ধন্যবাদ দিতে পারে বাংলাদেশ। চেন্নাই থেকে কানপুর হয়ে মিরপুর; দেশ বদলায়, বদলায় ভেন্যু, কিন্তু বদলায় না ফল কিংবা পারফরম্যান্স। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ হারে ৭ উইকেটে। চতুর্থ দিন মাত্র ১০৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম সেশনেই ৩ উইকেট হারিয়ে জিতে যায় প্রোটিয়ারা। কদিন আগেই ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে চতুর্থ দিনে হারের পর কানপুরে দুইদিন বৃষ্টির পেটে গেলেও বাংলাদেশের হার ঠেকানো যায়নি। ঘরের চেনা মাঠ মিরপুরও যেন ঠিক তাই। দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গেলো। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। সাকিব আল হাসানের আসা না আসাকে ঘিরে এই টেস্ট ছিল আলোচনার কেন্দ্রতে, নিরাপত্তার চাদরে ঢীক রাখা হয়েছিল শের-ই-বাংলার আশপাশ। বাইরে তুমুল আলোচনা থাকলেও মাঠের ক্রিকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর দল শুধু সমালোচনাই উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৬ রান করে স্বাগতিক শিবির। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ৩০৮ রান। ২০২ রানে পিছিয়ে খেলতে নেমে বাংলাদেশ তোলে ৩০৭ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০৬। ত্রিস্টান স্টাবস ৩০ ও রায়ান রিকেলটন ১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন টনি ডি জর্জি। অধিনায়ক এইডেন মার্করামের ব্যাট থেকে আসে ২০ রান। ডেবিড বেডিংহ্যাম করেন ১২ রান। ৩ উইকেটই জমা হয় প্রথম ইনিংসে ফাইফার পাওয়া তাইজুল ইসলামের ঝুলিতে। সব মিলিয়ে তিনি পেয়েছেন ৯টি উইকেট। এর আগে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা উড়িয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিরোধ গড়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ-জাকের আলী। দুজনে ১৩৮ রানের জুটি গড়ে পাল্টা আক্রমণে লিড এনে দেন। জাকের আলী অভিষেক ফিফটির পর ফিরলেও মিরাজ ছিলেন ভরসা হয়ে। তৃতীয় দিন ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারলেও চতুর্থ দিন একবারে ভালো যায়নি। দিনের শুরুতে মাত্র ২৫ মিনিটে ৩ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ইনিংস হার এড়াতে পারাটা বাংলাদেশের সাফল্য বলা যায়। চতুর্থ দিন তৃতীয় বলে নাঈম হাসান ফেরেন ১৬ রানে। নতুন ব্যাটার তাইজুল এসেও টিকতে পারেননি। ৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। শেষ ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ। আক্ষেপ মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না। সর্বোচ্চ ৯৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশি ব্যাটারদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর এটি। এ ছাড়া মাহমুদুল হাসান জয় ৪০, মুশফিকুর রহিম ৩৩ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩ রান করেন। লিটন দাস ব্যর্থ ছিলেন প্রথম ইনিংসের মতো। তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৭ রান। রানের খাতা খুলতে পারেননি মুমিনুল হক। ১ রান করেন সাদমান ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৩০০ উইকেটের কীর্তি গড়া কাগিসো রাবাদা নেন সর্বোচ্চ ৬ উইকেট। এ ছাড়া ৩ উইকেট নেন কেশব মহারাজ।
অভিযোগের স্ট্যাটাসের পর পুরস্কৃত তাইজুল

অভিযোগের স্ট্যাটাসের পর পুরস্কৃত তাইজুল ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে যথেষ্ট গুরুত্ব ও প্রাপ্য সম্মান সে সবসময় পায় না। ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেও নায়কের মর্যাদা সেভাবে অনেক সময় পায় না। তবু নিজের কাজটুকু করে গেছে, দিনের পর দিন, বছরের পর বছর’-তাইজুল ইসলামের দ্রুততম ২০০ উইকেটের কীর্তির পর অভিযোগের সুরে এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে সাকিব আল হাসানের রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম ২০০ উইকেটের কীর্তি অর্জন করেন তাইজুল। ৮৪ ইনিংসে উইকেটের ডাবল সেঞ্চুরি করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। সাকিবের লেগেছে ৯১ ইনিংস। তামিমের এমন অভিযোগের পরই যেন ঘুম ভাঙে টিম ম্যানেজমেন্টের। দলের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) পুরস্কৃত করা হয় তাইজুলকে। একই সঙ্গে সতীর্থরা তাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। কিন্তু কী পুরস্কার সেটি নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না কেউই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ম্যানেজমেন্টের এক কর্তা বলেন, ‘তাইজুলকে দলের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। অর্থ হতে পারে, ক্রেস্ট হতে পারে। কিন্তু আমরা এটা এই মুহুর্তে প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। ম্যাচ শেষে আমাদের আরও পরিকল্পনা আছে।’ সেই স্ট্যাটাসে তামিম আরও লিখেছেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, বিশ্ব ক্রিকেটেও যথেষ্ট আলোচনা তাকে নিয়ে হয় না। অথচ অনেক গ্রেট বোলারের চেয়েও কম টেস্ট খেলে ২০০ উইকেট হয়ে গেল তার। বড় কোনো দলের ক্রিকেটার হলে হয়তো তাকে নিয়ে আলোচনা আরও বেশি হতো।’ ‘তার পরিসংখ্যান বলে, গত ১০ বছরে বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা স্পিনারদের একজন সে। তার পারফরম্যান্স, একাগ্রতা ও নিবেদন বলে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সে অমূল্য এক সম্পদ। আবারও অভিনন্দন তাইজুল। পথের এখনো অনেক বাকি।’ শুধু তাই নয় তামিমের পর তাইজুলকে শুভকামনা জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তও। বাংলাদেশ অধিনায়ক লেখেন, ‘বছরের পর বছর ধারাবাহিক পারফর্ম করে দলের জন্য অবদান রেখেছেন আপনি। ফরম্যাট যেটাই হোক সেখানে আপনার থেকে সেরাটাই পেয়েছে দল। দলের জন্য আপনি সবসময় নিজের সেরাটা দিয়েছেন, আশা করি সামনে এর থেকেও বেশি দিবেন। ২০০ উইকেটের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা, ২০০ কে দ্রুত ৩০০-৪০০ হতে দেখতে চাই।’