চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর ড্র অনুষ্ঠিত

চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর ড্র অনুষ্ঠিত ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে উত্তেজনা আরো বেড়ে গেল। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে, আর ড্র থেকেই মিলেছে একাধিক মহারণের ইঙ্গিত। ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলো একে অপরের বিপক্ষে পড়ায় নকআউট পর্ব জমে উঠতে যাচ্ছে শুরু থেকেই। সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটি। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে এই দুই দলের দ্বৈরথ চ্যাম্পিয়নস লিগে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। দুই ফেভারিটের একজনকে বিদায় নিতে হবে শেষ ষোলোর পরই। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন খেলবে পিএসজি খেলবে চেলসির বিপক্ষে। গ্রীষ্মের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি এখনও টাটকা—সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে ইউরোপের মঞ্চে। ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল মুখোমুখি হবে গালাতাসারায়ের। আর লিগ পর্বে শতভাগ জয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল পাবে কঠিন প্রতিপক্ষ বায়ার লেভারকুজেনকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী গানার্সরা। স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা সফরে যাবে সেন্ট জেমস’ পার্কে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নিউক্যাসল ইউনাইটেড। জার্মান শক্তি বায়ার্ন মিউনিখ লড়বে ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তার বিপক্ষে। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জায়গা করে নেওয়া আতালান্তা যে সহজ প্রতিপক্ষ নয়, সেটি ভালোভাবেই জানে বায়ার্ন। অন্য ম্যাচগুলোতে মুখোমুখি হচ্ছে, আতলেতিকো মাদ্রিদ বনাম টটেনহাম এবং বোদো/গ্লিম্ট বনাম স্পোর্টিং সিপি। দুই লেগ মিলিয়ে নির্ধারিত হবে কোয়ার্টার ফাইনালের আট দল। প্রথম লেগ অনুষ্ঠিত হবে ১০ ও ১১ মার্চ, আর লেগ ১৭ ও ১৮ মার্চ।
টেন্ডুলকারের আউট নিয়ে ২২ বছর পর মুখ খুললেন বাকনার

টেন্ডুলকারের আউট নিয়ে ২২ বছর পর মুখ খুললেন বাকনার আম্পায়ারিং জীবনে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্টিভ বাকনার। যার ফলে ভুগতে হয়েছে ব্যাটারদের। আর সাবেক আম্পায়ার স্টিভ বাকনারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার সবচেয়ে বেশি হতে হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারকে। জামাইকান আম্পায়ার অবশেষে নিজের ভুল স্বীকার করলেন। ২২ বছর আগে শচীনের এক বিতর্কিত আউট নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ৭৯ বছর বয়সী স্টিভ বাকনার। ২০০৩-০৪ সালে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটাচ্ছিলেন শচীন। কিন্তু ব্রিসবেনে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে মাত্র ৩ রানে আউট হন মাস্টার ব্লাস্টার। জেসন গিলেসপি, অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সোজা আঙুল ওপরে তুলে দেন বাকনার। শচীন নিজেও অবাক হয়ে যান। বলের পিচ ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। আর উইকেটের অনেকটা ওপরে। বাকনারের মতো আম্পায়ারের চোখে এ রকম ভুল হওয়ার কথা নয়। অনেকে বলেন- তিনি শচীনকে দেখলে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ আউট দিতেন। সেই ঘটনা নিয়ে বাকনার এখন বলেন, শচীনের ওই এলবিডব্লিউটা ভুল ছিল। কিন্তু এখনো ওই একটা আউট নিয়ে কথা বলে অনেকেই। কেন আমি ওকে আউট দিয়েছিলাম? ও কি সত্যিই আউট ছিল? এ ধরনের কথাবার্তা চলতেই থাকে। কিন্তু জীবনে ভুলভ্রান্তি হয়। আমি সেই ভুলটা মেনে নিয়েছি। জীবন নিজের পথে এগিয়ে গেছে। যদিও ভুল স্বীকার করলেও বাকনার ক্ষমা চাইতে নারাজ। কিন্তু ঘটনা হলো— শুধু এই একটা ঘটনা নয়, শচীনের বিরুদ্ধে এ রকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সৌরভ গাঙ্গুলিসহ অনেক ভারতীয় ব্যাটারই বাকনারের ভুলের শিকার। আবার বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের ক্ষেত্রে ঘটনাটা উল্টো। বছর কয়েক আগে ২০০৮ সালের সিডনি টেস্টের ভুল স্বীকার করেছিলেন তিনি। এবার বাকনার মেনে নিলেন ব্রিসবেনের ভুল।
বিশ্বকাপে যে দেশের বিপক্ষে খেলতে চান না মেসি

বিশ্বকাপে যে দেশের বিপক্ষে খেলতে চান না মেসি ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপকে সামনে রেখে শুরু হয়ে গেছে কাউন্টডাউন। উত্তর আমেরিকার মাটিতে বসতে যাওয়া ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর এই আসরে শিরোপা রক্ষার মিশনে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যার নেতৃত্বে থাকতে পারেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে নতুন মিশনের আগে এক প্রতিপক্ষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছার কথা খোলাখুলিই জানালেন মেসি। সেই দলটি হলো মেক্সিকো। সাবেক সতীর্থ ও বর্তমানে টিগ্রেস ইউএএনএলের গোলরক্ষক নাহুয়েল গুজমানের সঙ্গে ‘মিরো দে আতরাস’ পডকাস্টে আলাপকালে ২০২২ বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করেন মেসি। কাতারে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়টি ছিল আর্জেন্টিনার জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর আরেকটি পরাজয় মানেই বিদায়। এমন চাপ নিয়েই মাঠে নেমেছিল দলটি। মেসি বলেন, ‘আমরা সত্যি বলতে ভয় নিয়েই সেই ম্যাচ খেলতে নেমেছিলাম।’ ইতিহাসে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। তবু মেসির মতে, মেক্সিকো সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। বল দখলে রাখার ক্ষমতা, ছন্দ নষ্ট করার কৌশল এবং সমর্থকদের তুমুল সমর্থন সব মিলিয়ে তারা যে কোনো দলকে চাপে ফেলতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। স্বাগতিক হিসেবে উত্তর আমেরিকার দলগুলো বাড়তি সমর্থন পাবে। সেই বাস্তবতায় টুর্নামেন্টের শুরুতেই মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলতে চান না আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে প্রায়ই আমাদের দেখা হয়, আর বেশির ভাগ সময়ই সেটা হয় বাঁচা-মরার ম্যাচে। এবার তোমাদের (মেক্সিকো) ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দারুণ সুযোগ। তবে আশা করি এবার আমাদের মুখোমুখি হতে হবে না।’ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামার আগে মেসির এই মন্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও বড় মঞ্চে চাপ ও হিসাব-নিকাশের বাইরে কেউ নয়।
এভারটনকে হারিয়ে শীর্ষ চারে ম্যানইউ

এভারটনকে হারিয়ে শীর্ষ চারে ম্যানইউ এভারটনের মাঠে কঠিন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাসলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগে সোমবার এভারটনকে ১-০ গোলে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষ চারে ওঠে গেছে রেড ডেভিলরা। এভারটনের মাঠ হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে প্রথম হাফে বল নিজেদের দখলে রাখলেও, আক্রমণে তেমন গোছানো ছিল না ম্যানইউর। স্বাগতিক এভারটনও সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হওয়ায় গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট। বিরতির পর ম্যাচের গতি বাড়ে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। এই সময় তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল এভারটন। তবে সব পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে ৭১তম মিনিটে। বদলি হিসেবে নামার মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় এক দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জয়সূচক গোলটি করেন বেঞ্জামিন শেস্কো। এরপর দুই দলই কিছু চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা মেলেনি। প্রথম দেখায় ১-০ ব্যবধানে হারার প্রতিশোধটা এভাবেই সুদে-আসলে তুলে নিল ম্যানইউ।২৭ ম্যাচ শেষে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের চার নম্বরে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সমান ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে রয়েছে এভারটন। অন্যদিকে ২৮ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষে অবস্থান করছে।
লেভান্তেকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা

লেভান্তেকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে আবারও পাল্টে গেল দৃশ্যপট। লেভান্তের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের দাপুটে জয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের হোঁচট খাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে কাতালানরা। এখন তাদের হাতে এক পয়েন্টের লিড। মৌসুমের শুরুতে একই প্রতিপক্ষকে হারাতে শেষ মুহূর্তের গোলের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু পরপর দুটি হার আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরালেও ন্যু ক্যাম্পে দলটি খেলেছে দৃঢ়তা আর ছন্দে ভর করে। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সা। এরপর সুযোগ আসে একের পর এক। রাফিনিয়া ও রবার্ট লেভানদোভস্কি সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। তবে আধাঘণ্টা পেরোতেই দ্বিতীয় গোল। লামিন ইয়ামাল, বের্নাল ও ক্যানসেলোর দারুণ সমন্বয়ে তৈরি সুযোগ থেকে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ছয় গজ বক্সে ভেসে আসা বল ঠেলে জালে পাঠান। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর লিগে গোল পেলেন নেদারল্যান্ডসের এই মিডফিল্ডার। শেষবার গোল করেছিলেন গত বছরের জানুয়ারিতে। বিরতির পরও দাপট ছিল বার্সার। কর্নার থেকে ক্যানসেলো ও গার্সিয়ার হাফ চান্স, লেভানদোভস্কি ও দানি অলমোর প্রচেষ্টা; সব মিলিয়ে চাপ ধরে রাখে তারা। গোলরক্ষক ম্যাট রায়ান কয়েকটি সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। শেষ ২৫ মিনিটে কোচ হানসি ফ্লিক একসঙ্গে তিন পরিবর্তন এনে নতুন গতি যোগ করেন। মাঠে নামেন ফার্মিন লোপেজ, ফেরান তোরেস ও চোট কাটিয়ে ফেরা পেদ্রি। ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে লোপেজ যেন ঝড় তুলে দেন। প্রায় পঁচিশ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের প্রচণ্ড শটে বল জড়িয়ে যায় জালের কোণে। গোলরক্ষক রায়ান শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় বড় জয়। এই জয়ে এক পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। টানা দুটি হারের পর এমন পারফরম্যান্স দলটির আত্মবিশ্বাসে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। এখন চাপটা রিয়াল মাদ্রিদের কাঁধে।
শাস্তি পাচ্ছেন না লিওনেল মেসি করেননি নিয়মভঙ্গ

শাস্তি পাচ্ছেন না লিওনেল মেসি করেননি নিয়মভঙ্গ লস অ্যাঞ্জেলেসে ৩–০ গোলে হারের পর ক্ষুব্ধ দেখা যায় ইন্টার মায়ামি তারকা লিওনেল মেসিকে। ম্যাচ চলাকালীন তাকে রেফারির সঙ্গে কথা-কাটাকাটি করতে দেখা যায়। খেলা শেষের পরও তাকে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়, যার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ শেষে দেখা যায়, রেফারি দল স্টেডিয়ামের ভেতরে তাদের কক্ষে প্রবেশ করছে। ওই সময় মেসিও তাদের দিকে এগিয়ে যান। ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্ত। তবে সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ তাকে ধরে ফিরিয়ে আনেন এবং দুজন একসঙ্গে নিজেদের দলের কক্ষে ফিরে যান। অনেকের ধারণা ছিল, মেসি রেফারিদের কক্ষে প্রবেশ করেছেন, যা করলে তাকে ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারত। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালায় মেজর লিগ সকার কর্তৃপক্ষ। প্রথমদিকে স্পষ্ট ছিল না, মেসি আসলে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন কি না। তবে তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানায়, তিনি কর্মকর্তাদের বিশ্রামকক্ষে প্রবেশ করেননি এবং নিয়মভঙ্গের মতো কোনো কাজও করেননি। ম্যাচ শেষে কোনো কর্মকর্তাও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। এদিকে ‘মায়ামি হেরাল্ড’-এর সাংবাদিক মিচেল কুপম্যান জানান, মেসি যে দরজা দিয়ে গিয়েছিলেন সেটি রেফারিদের কক্ষ ছিল না এবং সেটি নিষিদ্ধ এলাকাও নয়। রেফারিদের কক্ষ ছিল সিঁড়ি বেয়ে ওপরে, আলাদা দরজা ও সতর্কতামূলক চিহ্নসহ। ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো ম্যাচ শেষে মেসিকে রেফারির ওপর ক্ষুব্ধ হতে দেখেননি বলে জানান। তার ভাষায়, ‘না, আমি কিছু দেখিনি। ম্যাচ শেষ হতেই আমি কক্ষে চলে যাই। বর্তমানে শৃঙ্খলা কমিটির পক্ষ থেকে কোনো শাস্তির ঘোষণা আসেনি। সাধারণত পরবর্তী ম্যাচ সপ্তাহের আগেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তদন্তে নিয়মভঙ্গের প্রমাণ না পাওয়ায় মেসি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যাচ্ছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে তিনি পরবর্তী ম্যাচে দলের হয়ে মাঠে নামতে পারবেন।
নাটকের রাতে শীর্ষে ফিরল পিএসজি

নাটকের রাতে শীর্ষে ফিরল পিএসজি ফরাসি লিগ আঁ-র শিরোপা দৌড়ে নতুন মোড়। ঘরের মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেসে দুর্বল মেত্জকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আবারও শীর্ষে উঠেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে এই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী লেন্স। শুরুতে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও মোনাকোর কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বসে তারা। দিনের শুরুতে পিএসজির চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে ছিল লেন্স। ঘরের মাঠে দ্বিতীয়ার্ধে ২-০-তে এগিয়ে থেকেও আগস্টের পর প্রথমবার হোম লিগ ম্যাচে হার দেখল তারা। এতেই শীর্ষস্থান পুনর্দখলের সুবর্ণ সুযোগ পায় ফরাসি জায়ান্টরা। মেৎজের বিপক্ষে তিন মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন দিজিরে দুয়ে। ওয়ারেন জায়ের-এমেরির লম্বা পাস ধরে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে গিয়ে জাল খুঁজে নেন তরুণ ফরোয়ার্ড। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। কর্নার থেকে লুকাস হার্নান্দেজের হেড গোলরক্ষক ঠেকালেও লাইনের কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দেন তিনি। শেষ দিকে গঞ্জালো রামোস জোরালো ফিনিশে নিজের মৌসুমের ১১তম গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। মোনাকোর মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগে ৩-২ জয়ে জোড়া গোল করা দুয়ে আজ শুরু থেকেই ছিলেন একাদশে। চোটে থাকা উসমান দেম্বেলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে বিশ্রাম দেন কোচ লুইস এনরিকে। আগামী বুধবারই মোনাকোর বিপক্ষে প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগ। ১১ ম্যাচ বাকি থাকতে পিএসজি এখন লেন্সের চেয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে। তৃতীয় স্থানে থাকা লিঁও রোববার স্ট্রাসবুর্গকে হারাতে পারলে শীর্ষের সঙ্গে ব্যবধান ছয়ে নামাতে পারবে।
নতুন মৌসুমের শুরুতেই সনের দাপটে ম্লান মেসি

নতুন মৌসুমের শুরুতেই সনের দাপটে ম্লান মেসি মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নতুন মৌসুমের শুরুতেই বৈশ্বিক দুই সুপারস্টারের লড়াই। কিন্তু আলোটা কেড়ে নিলেন সন হিউং-মিন। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে লস অ্যাঞ্জেলেস ৩-০ গোলে হারিয়েছে মেসির ইন্টার মায়ামিকে। আর আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসি ম্যাচে ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের প্রথম পূর্ণ মৌসুম খেলতে নামা দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা শুরু থেকেই ছিলেন প্রাণবন্ত। প্রথমার্ধে ডেভিড মার্টিনেজের গোলের যোগান দেন সন। পরে ডেনিস বুয়াঙ্গা ও বদলি নাথান অর্ডাজ ব্যবধান বাড়িয়ে নিশ্চিত করেন দাপুটে জয়। ম্যাচটি দেখতে মেমোরিয়াল কলিসিয়ামে প্রায় ৭৬ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা এমএলএস ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপস্থিতি। তবে যারা মেসির জাদু দেখতে এসেছিলেন, তাদের জন্য রাতটি ছিল হতাশার। বল দখলে এগিয়ে থেকেও এলএএফসির গোলমুখে তেমন হুমকি তৈরি করতে পারেনি মায়ামি। দুই সপ্তাহ আগে প্রীতি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং চোট পাওয়ার পর পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়া মেসিকে ছন্দহীনই দেখিয়েছে। শুরুটা দারুণ ছিল এলএএফসির। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বারবার চাপে ফেলে মায়ামিকে। একবার বুয়াঙ্গার পাসে একক প্রচেষ্টায় সুযোগ পেলেও শট নিতে ব্যর্থ হন সন। তবে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল বলের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করলে তা যায় সনের কাছে। ডিফেন্ডারদের ঢিলেঢালা রক্ষণে সময় পেয়ে ডানদিকে মার্টিনেজকে পাস দেন তিনি। ভেনেজুয়েলান তরুণ প্রথম স্পর্শেই বল জড়িয়ে দেন জালে। বিরতির আগে প্রায় একই ভঙ্গিতে আবারও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন মার্টিনেজ। আর প্রথমার্ধের একমাত্র স্পষ্ট সুযোগে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয় মায়ামি। মেসিও মাঝমাঠ থেকে খেলা সাজানোর চেষ্টা করেন, নেন দূরপাল্লার শট। একপর্যায়ে রায়ান পোর্তেউসের সঙ্গে সংঘর্ষে মুখ থুবড়ে পড়েন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তবে দ্রুতই উঠে দাঁড়ালে স্বস্তি ফেরে সমর্থকদের মাঝে। চাপ সামলে ধৈর্যের ফল পায় এলএএফসি। নিজেদের অর্ধ থেকে টিমোথি টিলম্যানের উঁচু থ্রু পাস ধরে বুয়াঙ্গা প্রথমে হেডে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল তোলেন, পরে ঘুরে জালে পাঠান। ম্যাচ কার্যত সেখানেই শেষ। শেষদিকে সন আরেকটি অ্যাসিস্টের সম্ভাবনা তৈরি করলেও বুয়াঙ্গা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর করতালির মধ্যেই তুলে নেওয়া হয় সনকে। এরপর বদলি নামা নাথান অর্ডাজ মায়ামির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে এলএএফসির জয় নিশ্চিত করেন।
সামিত সোমের ছবি দিয়ে মাতৃভাষা দিবসে অংশ নিলো ফিফাও

সামিত সোমের ছবি দিয়ে মাতৃভাষা দিবসে অংশ নিলো ফিফাও সারা বিশ্বে আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গন ও মহান শহীদ ও মাতৃভাষা দিবস বিশেষভাবে পালন করছে। ফিফা বিশ্বকাপের ফেসবুক পেজ থেকে অংশ নিয়েছে মাতৃভাষা দিবসে। কানাডিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশি তারকা ফুটবলার সামিত সোমের ছবি দিয়ে তারা ক্যাপশনে লিখেছে ‘ভিন্ন ভাষায় একই আবেগ।’ পাশে ফুটবল ও ভালোবাসার ইমোজি দেওয়া হয়েছে। আর সামিতের ছবিতেও বাংলা ভাষায় লেখা হয় ‘ফুটবলই আমাদের ভাষা।’ অর্থাৎ, বাংলা ভাষার মাধ্যমে ফুটবলেরও নিজস্ব ভাষা আছে সেটাই স্মরণ করিয়ে দিলো ফিফা। অবশ্য ফিফার ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে প্রাইভেসি ‘কাস্টম’ করে, কেবল বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সম্ভবত পোস্টটি দেখতে পারবেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী হামজা চৌধুরীর পথ ধরে আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। বিশ্বফুটবলে তারা নতুন করে তুলে ধরছেন লাল-সবুজের পতাকা। তারই প্রতীকি চিত্র ফুটে উঠল ফিফা বিশ্বকাপের পেজে সামিত সোমের ছবি ব্যবহারে! এর আগে বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষার অধিকার, তাদের স্মৃতি চিরদিন বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। শহীদদের রক্তে রাঙানো একুশ আমাদের গৌরব, আমাদের পরিচয়। নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), ‘তারুণ্যের নব চেতনায় একুশ রবে সকলের অনুপ্রেরণায়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।
এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গেলেন নান্দাইলের ৩ কন্যা

এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গেলেন নান্দাইলের ৩ কন্যা ময়মনসিংহের নান্দাইলের হতদরিদ্র পরিবারের তিন কন্যা আজ নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার আলো ছড়াচ্ছেন। জাতীয় নারী ফুটবল দলের হয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন আফঈদা খন্দকার-ঋতুপর্ণা চাকমাদের সঙ্গে। সেখানে আগামী ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত তিন শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর। জানা যায়, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে নতুন এক সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করে প্রথমবারের মতো এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে লড়াই করতে গেল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আর এই দলে রয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের তিন কন্যা। অভিজ্ঞতা ও অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে চীন, কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের পার্থক্যটা যোজন যোজন। তবুও ভালো খেলার প্রত্যয় নিয়ে শিষ্যদের নিয়ে রওনা হয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। ৩ মার্চ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। ৬ মার্চ দ্বিতীয় ম্যাচে তিনবারের শিরোপাজয়ী উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ৯ মার্চ প্রতিপক্ষ পাঁচবার এশিয়ান কাপ খেলা উজবেকিস্তান। ২৬ সদস্যের দলে রয়েছেন- নান্দাইলের নারী ফুটবল দলের রত্ম গোলরক্ষক মিলি আক্তার, স্ট্রাইকার হালিমা আক্তার ও মীডফিল্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতি। বাছাই পর্বে এই জন ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের বাড়ি তিনটি ভিন্ন ইউনিয়নে। চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বারুইগ্রাম গ্রামের কলা বিক্রেতা মো. সামছুল হকের মেয়ে মিলি আক্তার এই দলের দ্বিতীয় গোলরক্ষক। অথচ সেই ঘর থেকেই উঠে এসে মিলি এখন জাতীয় গর্ব। ২০২২ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের পর আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলে সুযোগ পেয়ে চাকরিও পান। তার পারফরম্যান্সে চলতি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বেও দলে জায়গা পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। অপর দিকে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের মেয়ে প্রীতি মিডফিল্ডে খেলেন। বাবা আবুল কালাম আকন্দ একজন হতদরিদ্র কৃষক। ২০১৮ সালে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় নান্দাইলের পাঁচরুখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭, ১৯ ও সর্বশেষ জাতীয় দলে জায়গা পান। অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করে তাক লাগান। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে এশিয়ান বাছাইপর্বে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের মেয়ে হালিমা আক্তার। বাবা দুলাল মিয়া একজন হতদরিদ্র মানুষ। তিন বোনের মধ্যে হালিমা দ্বিতীয়। ছোট বোন পান্নাও স্থানীয় পর্যায়ের একজন পরিচিত ফুটবলার। হালিমা ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। এর বাইরে ভুটান, জর্ডান ও দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই মধ্যমাঠে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করছেন।