অবসরের কথা জানিয়ে দিলেন নেইমার

অবসরের কথা জানিয়ে দিলেন নেইমার ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বর্তমানে সান্তোসে খেলা এই তারকা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষেই তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোট-আঘাত তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর সম্প্রতি তিনি আবার ফিরেছেন। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার বক্তব্য নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে তার ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফার এখনো পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ফি হিসেবে বিবেচিত। তবে পিএসজি অধ্যায়ের পর চোট-সংকট তাকে ধারাবাহিকভাবে মাঠের বাইরে রেখেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ালেও হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি মৌসুমের শুরু মিস করেন। গত সপ্তাহে তিনি পুনর্বাসন শেষে মাঠে ফেরেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না সামনে কী হবে। ডিসেম্বর এলে হয়তো অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারি।  সবকিছু নির্ভর করবে আমার মন কী বলে তার ওপর। এখন থেকে দিন ধরে, ধাপে ধাপে এগোব।’ তার এই মন্তব্যে জোরাল হয়েছে জল্পনা—২০২৬, কিংবা চলতি বছরের শেষেই কি পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন নেইমার? জাতীয় দলের হয়ে ৭৯ গোল করে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। তিনি কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে এই রেকর্ড গড়েন। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দলে জায়গা করে নেওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলেও স্বীকার করেছেন নেইমার। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলে ফিরতে কঠোর পরিশ্রম করছেন এই ফরোয়ার্ড। নেইমার বলেন, ‘এই বছরটি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোস নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও এটি বিশ্বকাপের বছর। আমি নিজের সেরাটা দিতে চাই।’

বিশ্বকাপজয়ী ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

বিশ্বকাপজয়ী ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ানের সফরসঙ্গী হিসেবে গতকাল ঢাকায় পৌঁছান তিনি। আগামীকাল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এই তারকা ফুটবলার। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় এবং তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিকা) যৌথভাবে এই সফরের আয়োজন করেছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে প্রথম রমজানের ইফতারে অংশ নেবে এবং ক্যাম্পের আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত নয়টি বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত একটি বিদ্যালয় পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে প্রতিনিধি দলের। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার আগে ওজিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শহীদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের একটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। তুর্কি সরকারের আওতাধীন টিকা প্রকল্পের মাধ্যমে শহীদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নমূলক কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

রমজানে ইংলিশ ফুটবলের ২ প্রতিযোগিতায় থাকছে ইফতার বিরতি

রমজানে ইংলিশ ফুটবলের ২ প্রতিযোগিতায় থাকছে ইফতার বিরতি পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইংল্যান্ডের শীর্ষ দুই ফুটবল প্রতিযোগিতা ‘প্রিমিয়ার লিগ’ ও ইংলিশ ফুটবল লিগে’ আগের মতোই ম্যাচ চলাকালে সংক্ষিপ্ত বিরতির সুযোগ পাবেন খেলোয়াড়রা। এই বিরতিতে মুসলিম খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়ালরা ইফতার করতে পারবেন। আসছে রমজান মাসজুড়ে মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। যুক্তরাজ্যে এ সময় সূর্যাস্ত সাধারণত বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে হয়। ফলে শনিবার সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটের কিক-অফ ও রোববার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের ম্যাচগুলোতেই মূলত বিরতির প্রয়োজন হতে পারে। ম্যাচের মাঝখানে খেলা থামিয়ে দেওয়া হবে না। এই বিরতি কোনোভাবেই দলীয় ড্রিঙ্কস ব্রেক বা কৌশলগত টাইম-আউট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

৫০০তম গোল হ্যারি কেইনের

৫০০তম গোল হ্যারি কেইনের বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে একের পর এক গোল করেই যাচ্ছেন ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন। শনিবার রাতেও করেছেন জোড়া গোল। ওয়েডার ব্রেমেনের বিপক্ষে এই জোড়া গোলে অনন্য একটি মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ৫০০তম গোল করলেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ভর করে রেলিগেশন শঙ্কায় থাকা ভের্ডার ব্রেমেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। শনিবারের এই জয়ে বুন্দেসলিগার শীর্ষে নিজেদের ছয় পয়েন্টের ব্যবধান অটুট রেখেছে বায়ার্ন। ম্যাচের ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কেইন। চার মিনিট পরই বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে পোস্টে লেগে বল জালে জড়িয়ে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। জোড়া গোল করার পর চলতি মৌসুমে বুন্দেসলিগায় কেইনের গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬টিতে, যার মধ্যে ৯টি এসেছে পেনাল্টি থেকে। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে লিওন গোরেৎজকা তৃতীয় গোল করে বায়ার্নের বড় জয় নিশ্চিত করেন। প্রথমার্ধ শেষে গোড়ালির সামান্য সমস্যার কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মাঠ ছাড়েন বায়ার্নের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ার। দ্বিতীয়ার্ধে তার জায়গায় নামেন জোনাস উরবিগ। এই জয়ের ফলে দুই সপ্তাহ পরের গুরুত্বপূর্ণ ‘ডার ক্লাসিকার’-এ বায়ার্নকে টপকানো বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ডর্টমুন্ড শুক্রবার মাইনৎসকে ৪-০ গোলে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ লিগ জয় পেয়েছে। আগামী ম্যাচে তারা আরবি লেইপজিগের মাঠে খেলবে, অন্যদিকে বায়ার্ন মুখোমুখি হবে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের। অন্য ম্যাচে, হফেনহাইম ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে। বায়ার লেভারকুসেন সেন্ট পাউলিকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ যোগ্যতা অর্জনের স্থান, অর্থাৎ চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। এছাড়া হামবুর্গ এসভি ইউনিয়ন বার্লিনকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে এবং আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে।

থাইল‌্যান্ড যাচ্ছে ‘এ’ দল

থাইল‌্যান্ড যাচ্ছে ‘এ’ দল এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার ওমেন্স টুর্নামেন্ট খেলতে আগামীকাল দুপুরে থাইল‌্যান্ড যাবে বাংলাদেশ ‘এ’ নারী ক্রিকেট দল। জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটারকে নিয়ে সাজানো হয়েছে স্কোয়াড। দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ দল নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এই প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘বি’-এ। প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও থাইল‌্যান্ডকে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেপাল। বাংলাদেশের প্রথম ম‌্যাচ ১৪ ফেব্রুয়ারি। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুপুর ২টায় ম‌্যাচটি শুরু হবে। পরের দুই ম‌্যাচ যথাক্রমে থাইল‌্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। ১৬ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ম‌্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ২০ ফেব্রুয়ারি দুটি সেমিফাইনাল একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। ২২ ফেব্রুয়ারি হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম‌্যাচ।     ফাহিমা খাতুন (অধিনায়ক), শামীমা সুলতানা, ইশাম তানজিম, রুবয়া হায়দার ঝিলিক, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা, শরিফা খাতুন, শারমীন সুলতানা, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ঞা, সাদিয়া আক্তার, ফারজাহা ইয়াসমিন, সানজিদা আক্তার মেঘলা, তেজ নাহার, লতা মন্ডল, সুমাইয়া আক্তার ও ফাতেমা জাহান। স্টান্ড বাই: দিশা বিশ্বাস, মিষ্টি রানী সাহা, হালিমাতুল সাদিয়া ও হাবিবা ইসলাম পিংকি।

দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও জিততে পারলো না চেলসি

দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও জিততে পারলো না চেলসি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে দুই গোলের লিড নেওয়ার পরও জয় ধরে রাখতে পারেনি চেলসি। ২-২ গোলের ড্রয়ে প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সেরা চারে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করেছে লন্ডনের ক্লাবটি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে জোয়াও পেদ্রোর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বিরতির পর লিড আরও বাড়ান কোল পালমার। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল চেলসির হাতেই। তবে চেলসির ভুলেই ম্যাচে ফিরে আসে লিডস। মোইসেস কাইসেদো বক্সের ভেতর জেডেন বোগলেকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় অতিথিরা। স্পট-কিক থেকে লুকাস নেমেচা গোল করে ব্যবধান কমান। সমতায় ফেরার গোলটি আসে চেলসির রক্ষণভাগের চরম ভুলে। জশ আচেমপং, মালো গুস্তো ও গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সুযোগ নেন নোয়া ওকাফর। সহজ টোকায় জালে বল জড়িয়ে লিডসকে সমতায় ফেরান তিনি। নতুন কোচ লিয়াম রোজেনিয়রের অধীনে প্রিমিয়ার লিগে টানা চার ম্যাচ জিতেছিল চেলসি। কিন্তু এই ড্রয়ের ফলে তাদের জয়যাত্রায় ছেদ পড়ল। পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্র করায় চেলসি পঞ্চম স্থানেই থাকছে। অন্যদিকে এই ড্রয়ের ফলে লিডস ইউনাইটেড টটেনহামকে পেছনে ফেলে লিগ টেবিলের ১৫তম স্থানে উঠে এসেছে।

শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়ালো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়ালো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইস্ট লন্ডনের বৃষ্টিভেজা রাতে নাটকীয় সমতায় শেষ হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের লড়াই। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বেঞ্জামিন সেস্কোর গোলে হার এড়িয়ে ১-১ ড্র করে মাইকেল ক্যারিকের দল। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চার ম্যাচেই জয় পেয়েছিলেন ক্যারিক। তবে টানা জয়ের ধারায় এবার ছেদ পড়লেও শেষ মুহূর্তের গোল অন্তত এক পয়েন্ট এনে দিয়েছে ইউনাইটেডকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক ওয়েস্ট হ্যাম। বিরতির পাঁচ মিনিট পর লুক শ’ ডুয়েল জিততে ব্যর্থ হলে সুযোগ নেন চেক মিডফিল্ডার তোমাস সাউচেক। কোবি মাইনুর নজর এড়িয়ে নিকট পোস্টে নিখুঁত শটে দলকে লিড এনে দেন তিনি। নুনো এসপিরিতো সান্তোর দল তখন টানা পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ জয়ের পথে এগোচ্ছিল। প্রথমার্ধে অবশ্য ইউনাইটেডই এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল। কর্নার থেকে লুক শ’র কাছ থেকে পাওয়া বলটি গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা। পরে কাসেমিরো হেড করে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। ম্যাচের শেষদিকে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় ইউনাইটেড। অবশেষে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফল মেলে। বদলি হিসেবে নামা গ্রীষ্মকালীন সাইনিং বেঞ্জামিন সেস্কো দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে জোরালো শটে ওয়েস্ট হ্যাম গোলরক্ষক ম্যাডস হারমানসেনকে পরাস্ত করেন।

আবারও রোনালদোকে ছাড়াই আল নাসরের জয়

আবারও রোনালদোকে ছাড়াই আল নাসরের জয় টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই মাঠে নেমেছে আল-নাসর। তাকে স্কোয়াডে বাইরে রাখা হলেও জয় ঠিকই পেয়েছে ক্লাবটি। আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আল নাসর। শুক্রবার সৌদি প্রো লিগে ম্যাচের শেষ দিকে সাবেক লিভারপুল ফরোয়ার্ড সাদিও মানে ও অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের গোলে জয় নিশ্চিত করে দলটি। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে আল নাসরের ঘরের দর্শকদের একটি অংশ রোনালদোর প্রতি সমর্থন জানায়। উঁচিয়ে ধরেন তার নাম ও সাত নম্বর লেখা হলুদ প্ল্যাকার্ড। গত সোমবার ৪১ বছর বয়সী রোনালদো আল-রিয়াদের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচেও খেলেননি। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ বোলা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) যেভাবে ক্লাব পরিচালনা করছে, তাতে অসন্তুষ্ট হয়ে রোনালদো খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বিবিসি স্পোর্টসকে সৌদি প্রো লিগ জানিয়েছে, ক্লাবের বিকাশ ও লক্ষ্যে রোনালদোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সঙ্গে এটিও যোগ করেছে, ‘কোনো ব্যক্তি, যত বড় তারকাই হোন না কেন, নিজের ক্লাবের বাইরে সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারেন না।’ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে আল-নাসরে যোগ দেন রোনালদো। বছরে ১৭ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড বেতনের কারণে তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়ে পরিণত হন। লিগে ২০ ম্যাচ শেষে আল-নাসর এক পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে আছে আল-হিলাল।

চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল

চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল এমিরেটস স্টেডিয়ামে উত্তেজনার আগুন জ্বলেনি পুরোটা সময়। ম্যাচটা এগোচ্ছিল ধীর গতিতে, আক্রমণের ধারও ছিল না তেমন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চেলসির এগিয়ে থাকার কথা। কিন্তু ফুটবলে যে শেষ বাঁশি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে শেখায় তা আবারও প্রমাণ করল আর্সেনাল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে এসে দৃশ্যপট বদলে দেন কাই হাভার্টজ। ৯৭ মিনিটে ডেকলান রাইসের লম্বা পাস ধরে বক্সে ঢুকে ওয়ান-অন-ওয়ানে গোলরক্ষককে কাটিয়ে জাল কাঁপান জার্মান তারকা। ওই এক গোলেই ১-০ জয় নিশ্চিত হয় গানারদের। প্রথম লেগের ৩-২ জয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ৪-২ অ্যাগ্রিগেটে লিগ কাপের ফাইনালে উঠল মিকেল আর্তেতার দল। ম্যাচে বলের ৫৫ শতাংশ দখল নিয়ে এগিয়ে ছিল চেলসি। শটও নিয়েছে বেশি, ১১টি, এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ২টি। আর্সেনাল শট নিয়েছে ৬টি, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ২টি। তবুও শেষ হাসি লালদের। প্রথমার্ধে দু’দলই ছিল সতর্ক। ১৮ মিনিটে আর্সেনাল সুযোগ পেলে চেলসির গোলরক্ষক পিয়েরো ইনকাপিয়েরের জোরালো শট রুখে দেন। বিরতির ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট ঠেকান কেপা আরিজাবালাগা। দ্বিতীয়ার্ধে গতি বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত গোল মিলছিল না কারও। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই হতাশ হয়ে চেলসি সমর্থকদের একটি অংশ মাঠ ছাড়তে শুরু করে। কয়েক মিনিট পর সেই হতাশা পূর্ণতা পায় হাভার্টজের গোলে। এই জয়ে এমিরেটসে চেলসির বিপক্ষে আর্সেনালের অপরাজেয় ধারা আরও লম্বা হলো। দুই দলের সর্বশেষ ১০ দেখায় জয় নেই স্টামফোর্ড ব্রিজের দলটির।

ভুল, ভাগ্য আর নৈপুণ্যের দোলাচলে পয়েন্ট হারাল ম্যানসিটি

ভুল, ভাগ্য আর নৈপুণ্যের দোলাচলে পয়েন্ট হারাল ম্যানসিটি দুই অর্ধের দুই ভিন্ন গল্প। প্রথম ভাগে একের পর এক ভুলে বিপর্যস্ত স্বাগতিকরা। আর বিরতির পর দৃঢ় মানসিকতায় ঘুরে দাঁড়ানো এক লড়াকু দল। সব মিলিয়ে রবিবারের নাটকীয় এক সন্ধ্যায় পূর্ণ তিন পয়েন্ট হাতছাড়া হলো ম্যানচেস্টার সিটির। আর শেষ হাসিটা ঠিকই তুলে নিল টটেনহ্যাম। নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় টটেনহ্যাম। মাঝমাঠে ঢিলেমি আর রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানায় সিটি। এরই ফল হিসেবে ম্যাচের প্রথম ভাগেই দুইবার জাল কাঁপে স্বাগতিকদের। প্রথম গোলটি আসে দ্রুত আক্রমণ থেকে। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় শট, গোলরক্ষকের আর কিছু করার ছিল না। বিরতির ঠিক আগে আবারও নিজেদের ভুলে সর্বনাশ ডেকে আনে টটেনহ্যাম। বল হারানোর পর নিখুঁত পাসে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অতিথিরা। প্রথমার্ধ শেষে গ্যালারিতে তখন সিটির জয়গান। কিন্তু ফুটবল যে নব্বই মিনিটের খেলা, সেটা আবারও প্রমাণিত হয় বিরতির পর। দ্বিতীয়ার্ধে একেবারেই বদলে যাওয়া চেহারায় মাঠে নামে টটেনহ্যাম। আক্রমণে গতি, মাঝমাঠে চাপ আর দর্শকদের উৎসাহ; সব মিলিয়ে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা শুরু হয়। সেই চেষ্টায় ভাগ্যের সহায়তাও মেলে। বক্সের ভেতরে ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল জড়িয়ে যায় নিজের জালেই। হঠাৎ করেই ম্যাচে প্রাণ ফিরে পায় স্বাগতিকরা। সমতায় ফেরার ক্ষুধা তখন চোখেমুখে। আর সেটার পূর্ণ রূপ দেখা যায় মাঝপথে। ডান দিক থেকে ভেসে আসা এক ক্রসে নিখুঁত দৃষ্টি আর অসাধারণ ভারসাম্যে পিছন ফিরে পা বাড়িয়ে জালে বল পাঠান সোলাঙ্কি। গোলটি শুধু স্কোরলাইন সমান করেনি, পুরো স্টেডিয়ামকে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরপর সময় গড়িয়েছে উত্তেজনায়। দুই দলই জয়ের খোঁজে আক্রমণ চালিয়েছে। কখনো সিটির নিয়ন্ত্রিত বিল্ডআপ, কখনো টটেনহ্যামের দ্রুত পাল্টা হানা। কিন্তু শেষ বাঁশি পর্যন্ত আর কোনো গোল আসেনি। এই ড্রয়ের ফলে শিরোপা লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল সিটি। জয়ের হাতছানি পেয়েও শেষ পর্যন্ত দুটি মূল্যবান পয়েন্ট ফেলে আসতে হলো তাদের। অন্যদিকে লিগে ধারাবাহিকতা না থাকলেও এমন একটি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে পয়েন্ট আদায় টটেনহ্যামকে অন্তত আত্মবিশ্বাসের রসদ জোগাল।