সিঙ্গাপুর-ভিয়েতনাম ম্যাচের দল ঘোষণা, ফিরলেন কারা

সিঙ্গাপুর-ভিয়েতনাম ম্যাচের দল ঘোষণা, ফিরলেন কারা সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ঘোষিত দলে নতুন কোনো মুখ না থাকলেও দলে ফিরেছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার, যা দলকে বাড়তি শক্তি জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভুটানের বিপক্ষে দেশের জার্সিতে খেলেছিলেন তিনি। এরপর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। প্রায় দেড় বছর পর আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নিলেন বসুন্ধরা কিংসের এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার। এ ছাড়া স্কোয়াডে ফিরেছেন ফাহমিদুল ইসলাম, আরমান ফয়সাল ও মিরাজুল ইসলাম। তারা কেউই সর্বশেষ গত নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে দলে ছিলেন না। মিরাজুল ইসলামের অভিষেক হয়েছিল ২০২৪ সালে ভুটানের বিপক্ষে, সেটিই এখন পর্যন্ত তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অন্যদিকে আরমান ফয়সাল সর্বশেষ খেলেছেন গত বছরের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে। একই ম্যাচে মাঠে ছিলেন ফাহমিদুল ইসলামও, তবে কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের বিপক্ষে ঘরের ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।বাংলাদেশ স্কোয়াড : গোলকিপার : মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান ডিফেন্ডার : তারিক কাজী, রহমত মিয়া, শাকিল আহাদ, আবদুল্লাহ ওমর, জায়ান আহমেদ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন মিডফিল্ডার : কাজেম শাহ, শেখ মোরছালিন, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, শমিত সোম, হামজা চৌধুরী ফরোয়ার্ড : আরমান ফয়সাল, সুমন রেজা, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ, ফাহমিদুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম আগামী ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। এরপর ৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আজ রাতেই দলের ভিয়েতনামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে একটি জয় পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, যা এসেছে গত নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে। অন্য ম্যাচগুলোতে দুই ড্র ও দুই হারে মোট ৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে দলটি।

৯০০তম গোল তবুও বিদায় মেসির ইন্টার মায়ামির

৯০০তম গোল তবুও বিদায় মেসির ইন্টার মায়ামির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৯০০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন লিওনেল মেসি। যদিও তার দল ইন্টার মিয়ামি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। ন্যাশভিলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে তারা বাদ পড়ে। ১৮ মার্চ ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটে গোল করে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে মিয়ামিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মেসি। তবে ৭৪তম মিনিটে ন্যাশভিলের ক্রিস্টিনা এসপিনোজা সমতা ফেরান। এর ফলে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ১-১। ম্যাচের বাকি সময় মিয়ামিকে আটকে রেখে টেনেসির দলটি অ্যাওয়ে গোলের সুবিধায় কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। মেসির গোলের পর যে ম্যাচটি উদযাপনের রাত হওয়ার কথা ছিল, সেটাই মিয়ামির জন্য হয়ে যায় হতাশার। এটি ছিল ফোর্ট লডারডেলের চেজ স্টেডিয়ামে ক্লাবটির শেষ ম্যাচ। ২০২৩ সালে ফ্লোরিডায় যোগ দেওয়ার পর থেকে মেসির এমএলএস চ্যাম্পিয়নদের হয়ে গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ৮১। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা কাতালান জায়ান্ট বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২টি, পিএসজির হয়ে ৩২টি এবং আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১১৫টি গোল করেছেন। ৯০০তম গোলটি আসে তার পেশাদার ফুটবলের প্রথম গোলের প্রায় ২১ বছর পর। ২০০৫ সালে ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে আলবাসেতের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ে তিনি প্রথম গোলটি করেছিলেন। ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে বিবেচিত মেসি এখনো পেছনে ফেলতে পারেননি চির-প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে, যার ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা বর্তমানে ৯৬৫।  

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্সেনাল

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্সেনাল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল। শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে জার্মানির বায়ার লেভারকুসেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে মিকেল আর্তেতার দল। গ্তকাল রাতে লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। বল দখলে লেভারকুসেন এগিয়ে থাকলেও সুযোগ তৈরিতে অনেকটাই এগিয়ে ছিল আর্সেনাল। পুরো ম্যাচে ২০টি শট নেয় তারা, যার মধ্যে ১৩টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে লেভারকুসেনের ১০টি শটের মধ্যে মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোল পাচ্ছিল না আর্সেনাল। তবে ৩৬ মিনিটে জট খোলে। লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ডের বাড়ানো পাস পেয়ে এবেরেশি এজের শটে বল জালে জড়ায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল তার প্রথম গোল। বিরতির আগে আর গোল না হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাগতিকদের হাতেই। দ্বিতীয়ার্ধে লেভারকুসেন সমতা ফেরাতে চেষ্টা করলেও আর্সেনালের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। ৬৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেকলান রাইস। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট পোস্ট ছুঁয়ে জালে ঢুকে গেলে ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষদিকে কয়েকটি আক্রমণ করেও গোল করতে পারেনি লেভারকুসেন। ফলে ফিরতি লেগে ২-০ এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় জার্মান ক্লাবটি। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ পর্তুগালের স্পোর্টিং সিপি। তারা নরওয়ের বোডো গ্লিমটকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই।

ফিফার সঙ্গে চুক্তি করল ইউটিউব

ফিফার সঙ্গে চুক্তি করল ইউটিউব জুন-জুলাইয়ে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। যা নিয়ে ফুটবলভক্তদের উন্মাদনা আগে থেকেই ছিল, সেটিকে কাজে লাগিয়ে নিত্য-নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। মাঠে বসে সরাসরি খেলা দেখতে টিকিট বিক্রি চলছে অনলাইনে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া ম্যাচের টিকিটমূল্য ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এরই মাঝে স্ক্রিনের সামনে খেলা উপভোগ করা দর্শকদের জন্য নতুন পদক্ষেপ নিলো ফিফা। যদিও এর সেই উদ্যোগের নেপথ্যে কতটুকু দর্শক চাহিদা মিটবে আর কতটুকু বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত সেই আলোচনা রয়েছে। বিশ্বকাপ নিয়ে সামাজিক ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের সঙ্গে চুক্তি করেছে ফিফা। যার অধীনে বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের অংশবিশেষ যোগাযোগমাধ্যমটিতে সম্প্রচার করা হবে। ফিফা বলছে, ‘গেম-চেঞ্জিং পার্টনারশিপ’ হিসেবে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট সম্প্রচারে উৎসাহিত করা হবে স্বত্বধারীদের। ম্যাচের শুরুর ১০ মিনিট মূলত একধরনের ‘টিজার’ হিসেবে কাজ করবে, যা তরুণদের আগ্রহ বাড়িয়ে পরে টিভির মতো প্রচলিত মাধ্যমে পুরো ম্যাচ দেখতে উদ্বুদ্ধ করবে। ফিফা জানিয়েছে, সম্প্রচার স্বত্বধারীরা কিছু নির্দিষ্ট ম্যাচ তাদের ইউটিউবে চ্যানেলে দেখাতে পারবে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আরও বেশি দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি এবং এই প্রতিযোগিতা দেখতে উদ্বুব্ধ করবে তাদের। সেখানে উল্লেখ থাকবে বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচ কবে–কোথায় দেখানো হবে। তবে ঠিক কত টাকা মূল্যে ফিফা-ইউটিউবের এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটি প্রকাশ করা হয়নি। ফিফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে– নিজেদের বিশ্বকাপ আর্কাইভের কিছু অংশ শেয়ার করা হবে, ‘যার মধ্যে থাকবে অতীতের ম্যাচ ও ফুটবল ইতিহাসের আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত।’ এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপেও ইউটিউব ছিল ফিফার নিম্নস্তরের স্পন্সর। সে চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ‘ক্রিয়েটররা মাঠে উপস্থিত থেকে ফিফা বিশ্বকাপের নেপথ্যের দারুণ সব মুহূর্ত ধারণ করবে।’ এ ছাড়া বিশ্বকাপজুড়ে ইউটিউব কন্টেন্ট নির্মাতাদেরও নিজেদের মতো করে বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ করা ও সম্প্রচারে ব্যাপক অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল আগেই। বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেবে। তিনটি দেশের ১৬ ভেন্যুতে হবে টুর্নামেন্টের ১০৪ ম্যাচ। অথচ আগের আসরগুলোয় সর্বোচ্চ ম্যাচ হয়েছিল ৬৪টি করে। ১২ গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে প্রতিযোগী দলগুলো। বোঝাই যাচ্ছে কতটা ঠাসা সূচিতে বুঁদ হতে যাচ্ছে ফুটবলবিশ্ব। গ্রুপপর্ব থেকে শীর্ষ দুটি দল যাবে রাউন্ড অব ৩২–এ। বাকি ৮টি স্লট পূর্ণ হবে গ্রুপপর্বের লড়াইয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা ৮ দল নিয়ে। এরপর ক্রমান্বয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিন, ৮ দলের কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ১৯ জুলাই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সহজ গ্রুপে পড়েছে। ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল পেয়েছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে। আর্জেন্টিনার ‘জে’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান। ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে মরক্কোর (১৪ জুন) সঙ্গে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও দুই দলের গ্রুপে দেখা হয়েছিল, ৩-০ গোলে জিতেছিল সেলেসাওরা। আর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ আলজেরিয়ার (১৭ জুন) বিপক্ষে।

স্কোয়াডে জায়গা না পেয়ে হতাশ নেইমার

স্কোয়াডে জায়গা না পেয়ে হতাশ নেইমার ব্রাজিল জাতীয় দলে আবারও ডাক না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করা এই তারকা ফুটবলার জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ফিরতে এবং বিশ্বকাপে খেলতে তিনি এখনও আশাবাদী, তবে সিদ্ধান্ত তার হাতে নেই। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়ার পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে আছেন নেইমার। সেই চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও পুরোপুরি ফিট না থাকায় তাকে আবারও দলে রাখা হয়নি। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য যে দল ঘোষণা করেছেন, সেখানে প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পাননি এই ফরোয়ার্ড। আগামী ২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে এবং ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এই দুটি ম্যাচই বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড় বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সেই সুযোগেও নেইমারকে দলে না রাখায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছেন তিনি। স্কোয়াড ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় নেইমার বলেন, তিনি আবার জাতীয় দলে ফিরতে চান এবং বিশ্বকাপ খেলাই তার বড় লক্ষ্য। তবে তিনি স্বীকার করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচিং স্টাফের। দলে থাকুন বা না থাকুন, ব্রাজিলের জন্য সমর্থন সবসময় থাকবে বলেও জানান তিনি। নিজের হতাশার কথাও লুকাননি এই ৩৪ বছর বয়সী ফুটবলার। স্কোয়াডে নিজের নাম না দেখে তিনি ‘হতাশ ও বিষণ্ন’ হয়েছেন বলে জানান। তবুও হাল ছাড়ছেন না নেইমার। তার কথায়, অনুশীলন ও ম্যাচ খেলে তিনি নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং এখনও বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার আশা শেষ হয়ে যায়নি। নেইমারকে দলে না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আনচেলত্তি বলেছেন, তিনি এখনও শতভাগ ফিট নন। কোচের মতে, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে নিজের সেরা খেলাটা দেখাতে পারলেই আবার জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফুটবলার। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে ক্লাবের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে নেইমারের সামনে। সেই ম্যাচগুলোতে ভালো পারফরম্যান্স এবং চোটমুক্ত থাকতে পারলে আবারও ব্রাজিল দলে ফেরার দরজা খুলতে পারে তার জন্য।

ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজরে ‘মেসি’

ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজরে ‘মেসি’ ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ ক্লাবের নজরে এখন ফরাসি তরুণ ফুটবলার রায়ানে মেসি। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার প্রতিভা মুগ্ধ করেছে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোকে। তবে এত আগ্রহের মধ্যেও তাকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় রেখেছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব নিওমে ধারে খেলছেন রায়ানে মেসি। তিনি মূলত চেলসির সিস্টার ক্লাব স্ট্রাসবুর্গের খেলোয়াড়। চেলসির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্লুকো তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেই তাকে বিভিন্ন ক্লাবে ধারে পাঠানো হচ্ছে। প্যারিসে জন্ম নেওয়া এই উইঙ্গারকে ২০২৪ সালে ফরাসি ক্লাব দিজোঁ থেকে দলে নেয় ব্লুকো। তার আগেই তিনি ফ্রান্সের বিখ্যাত ফুটবল একাডেমি ক্লেয়ারফন্টেইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে নজর কাড়েন। গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য অল্প বয়সেই তাকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে দিজোঁর একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর দ্রুতই উন্নতি করতে থাকেন মেসি। ১৬ বছর বয়সেই ক্লাবটির হয়ে সিনিয়র দলে অভিষেক ঘটে তার। এরপর অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য তাকে ধারে পাঠানো হয় পাও এফসি এবং বর্তমানে তিনি খেলছেন নিওমে। তার ধারাবাহিক উন্নতির কারণে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব ইতোমধ্যে তার খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ, স্পেনের বার্সেলোনা এবং ফ্রান্সের পিএসজি তাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে চেলসির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্লুকো পরিষ্কার করে জানিয়েছে, রায়ানে মেসিকে ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং ভবিষ্যতে তাকে বড় মঞ্চে তুলে আনতেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে তারা।পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী মৌসুমে তাকে স্ট্রাসবুর্গের মূল দলে খেলানোর কথা ছিল। তবে তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে সেই পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তনও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিষ্প্রভ মেসি, ড্র করল মায়ামি

নিষ্প্রভ মেসি, ড্র করল মায়ামি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ন্যাশভিল এসসির মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছে ইন্টার মায়ামি। এ ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি ছিলেন নিষ্প্রভ। প্রতিপক্ষের মাঠে বৃহস্পতিবার ভোরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিল মেসির মায়ামি, তবে আক্রমণে তুলনামূলক বেশি দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিক ন্যাশভিল। মায়ামি ৫৯ শতাংশ বল দখলে রেখে মোট পাঁচটি শট নেয়, যার মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ন্যাশভিল ১১টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মেসি বাঁ দিক দিয়ে দৌড়ে এসে একটি জোরালো শট নেন। তবে দারুণ দক্ষতায় সেটি রুখে দেন ন্যাশভিলের গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়াক। এটাই ছিল ম্যাচে মেসির একমাত্র লক্ষ্যে রাখা শট। ৬৫ মিনিটে গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পায় ন্যাশভিল। কর্নার থেকে আসা বলে রিড বেকার-হোয়াইটিং হেড নিলেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যই থাকে ম্যাচের ফল। ন্যাশভিলের বিপক্ষে এর আগে দারুণ ফর্মে ছিলেন মেসি। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছিলেন তিনি। সেই সময় ১২ গোলের পাশাপাশি পাঁচটি সহায়তাও করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে এবার গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচটি ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মায়ামিকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ভাগ্য নির্ধারণ হবে দ্বিতীয় লেগে। সেই ম্যাচে ফ্লোরিডার চেজ স্টেডিয়ামে ন্যাশভিলকে আতিথ্য দেবে মেসির মায়ামি।

পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার মুখে ভিনিসিয়ুস

পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার মুখে ভিনিসিয়ুস রিয়াল মাদ্রিদের বড় জয়ের রাতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পেনাল্টি মিস করার কারণে ম্যাচ শেষে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে এই ফরোয়ার্ডকে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করে দলকে এগিয়ে দেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল করার সুযোগ পায় রিয়াল মাদ্রিদ। পেনাল্টি পেলে স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে তার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। এই পেনাল্টি মিসের পরই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ম্যাচ শেষে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল উইঙ্গার স্টিভ ম্যাকম্যানামান ভিনিসিয়ুসের পেনাল্টি নেওয়ার কৌশল নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। ম্যাকম্যানামান বলেন, “আমি এ ধরনের পেনাল্টি পছন্দ করি না। যদি ‘পানেনকা’ স্টাইলে নেন, তাহলে গোল করতেই হবে। কারণ জোরে মারলে গোলরক্ষক ঠেকাতে পারে। এভাবে শট নেওয়ার মানে হলো একটু দেখানো। এটা খুবই বাজে পেনাল্টি ছিল। ম্যাচ যদি তখন ০-০ থাকত, সে কখনোই এমনভাবে পেনাল্টি নিত না ‘যদিও পেনাল্টি মিস করেছেন ভিনিসিয়ুস, তবু ম্যাচের সামগ্রিক চিত্র ছিল রিয়াল মাদ্রিদের দাপট। ভালভার্দের হ্যাটট্রিকে শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে স্পেনের এই ক্লাবটি।

অ্যাতলেতিকোয় বিধ্বস্ত টটেনহাম, আতালান্তাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন

অ্যাতলেতিকোয় বিধ্বস্ত টটেনহাম, আতালান্তাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো পর্বের প্রথম লেগে দুই ভিন্ন ম্যাচে একই রকম গল্প দেখা গেল। একদিকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইংলিশ ক্লাবকে বিধ্বস্ত করেছে অ্যাতলেতিকো, অন্যদিকে ইতালিয়ান প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। মাদ্রিদের মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে টটেনহামকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে অ্যাতলেতিকো। ম্যাচের শুরুতেই গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির একের পর এক ভুলে বিপর্যয়ে পড়ে টটেনহাম।  প্রথম ১৫ মিনিটেই তিন গোল হজম করে বসে দলটি। ৬ মিনিটে কিনস্কির ভুল থেকে বল পেয়ে যান হুলিয়ান আলভারেজ, তার পাস থেকে গোল করেন মার্কোস লরেন্তে। এরপর ১৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান আঁতোয়ান গ্রিয়েজমান। এর এক মিনিট পর আবারও কিনস্কির ভুলে সহজ গোল পান আলভারেজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিনস্কিকে তুলে মাঠে নামানো হয় গুলিয়েলমো ভিকারিওকে। কিন্তু কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ৪–০ করেন রবিন লে নরমান্ড। পরে পেদ্রো একটি গোল শোধ করলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলভারেজ। শেষদিকে ডমিনিক সোলান্কে গোল করে ব্যবধান কমান। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল অ্যাতলেতিকো। অন্য ম্যাচে ইতালির আতালান্তার মাঠে গোল উৎসব করেছে বায়ার্ন। আতালান্তাকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে জার্মান জায়ান্টরা। এই জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মাইকেল ওলিসে। দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। এ ছাড়া গোল করেন জসিপ স্ট্যানিসিস, সের্জ গানাব্রি, নিকোলাস জ্যাকসন ও জামাল মুসিয়ালা। শেষদিকে মারিও প্যাসিালিক একটি সান্ত্বনার গোল করলেও তাতে বড় পরাজয় এড়াতে পারেনি আতালান্তা। প্রথম লেগের এমন বড় জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বায়ার্ন মিউনিখও।

সিটি তারকার ‘প্রেমে’ পড়েছেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ

সিটি তারকার ‘প্রেমে’ পড়েছেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ দীর্ঘদিন ধরেই মুগ্ধ ম্যানচেনস্টার সিটি তারকা রদ্রিতে। সিটির এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে ভবিষ্যতে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে দেখতে চান তিনি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠ শক্তিশালী করার জন্য রদ্রিকেই সবচেয়ে উপযুক্ত খেলোয়াড় মনে করেন পেরেজ। মাঝমাঠ থেকে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং দলকে ভারসাম্য দেওয়ার মতো একজন সংগঠক মিডফিল্ডারের খোঁজেই ছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এমনকি ক্লাবের ভেতরে পেরেজ নাকি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘যদি রদ্রি না হয়, তাহলে নতুন করে কাউকে সই করানোর প্রয়োজন নেই।’  তবে এই সম্ভাব্য ট্রান্সফার সহজ নয়। কারণ রদ্রির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে তাকে দলে ভেড়াতে চাইলে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে রিয়ালকে। ক্লাব ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, রদ্রির ফুটবল দক্ষতার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্ব ও পেশাদার মনোভাবও মুগ্ধ করেছে পেরেজকে। মাঠের বাইরে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ এবং পেশাদার ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও রিয়াল সভাপতির কাছে তাকে আরো বিশেষ করে তুলেছে। এদিকে সিটির হয়ে আবারও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলতে ফিরছেন রদ্রি। ম্যাচের পাশাপাশি এই সফরকে ঘিরে ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য ট্রান্সফার আলোচনা শুরু হয় কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।