বার্সাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে অস্বীকৃতি, সমালোচনার মুখে এমবাপ্পে

বার্সাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে অস্বীকৃতি, সমালোচনার মুখে এমবাপ্পে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। দলের প্রধান তারকাকে ফাইনালের জন্য বিশেষভাবে স্পেন থেকে উড়িয়ে আনা হয়। গুঞ্জন ছিল, ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়েই হলেও শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে ফরাসি এই সুপারস্টারকে। তবে প্রত্যাশার সেই দৃশ্য দেখা যায়নি। এল ক্লাসিকো ফাইনালে এমবাপে নামেন ম্যাচের শেষ দিকে, বদলি হিসেবে। মাঠে নেমেও দলের ভাগ্য বদলাতে পারেননি তিনি। ফাইনাল হারের পর এখন বির্তকিত এক কাণ্ড ঘটিয়ে উল্টো সমালোচনার মুখে পড়েছেন এমবাপে। স্প্যানিশ সাংবাদিক আলফ্রেদো মার্তিনেজের জানিয়েছেন, সুপার কাপ ফাইনালে হারের পর রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের বার্সেলোনাকে ‘গার্ড অব অনার’ না দিতে নির্দেশ দেন কিলিয়ান এমবাপে। কাতালান চ্যানেল এস্পোর্তো-থ্রি- এর ভিডিওতেও এমনটাই দেখা যায়। ফাইনালে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর রিয়াল মাদ্রিদের তারকারা সরাসরি বেঞ্চের দিকে চলে যান। তখন কোচ জাবি আলোনসোই তাদের জানান, বাধ্যতামূলক নয় এমন ‘গার্ড অব অনার’ বা স্পেনে যাকে ‘পাসিয়ো’ বলা হয়, সেটি দেওয়ার কথা। সেই সময় বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা বিজয়ী পদক নিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে মার্তিনেজের মতে, এমবাপেই সতীর্থদের ডাগআউটের দিকে নিয়ে যান। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, ১০ নম্বর জার্সিধারী এই ফরোয়ার্ড স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এবং গার্ড অব অনারে অংশ নিতে আগ্রহ দেখানো রাউল আসেনসিওর দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে অন্য এক সতীর্থের সঙ্গে কিছু বলছেন। এই ঘটনার জেরে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (টুইটার) একটি জনপ্রিয় অ্যাকাউন্ট এমবাপেকে ‘সর লুসার ’ বা ‘হার মেনে নিতে না পারা’ খেলোয়াড় বলে আখ্যা দেয় এবং সেই ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে এমবাপের এমন আচারণকে ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ লিখেছে। অনেক বার্সা সমর্থকদের কাছেও এই ঘটনা দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৭৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়ার বদলি নামেন এমবাপে। ২-৩ গোলে পিছিয়ে থাকা দলকে উদ্ধার করতে এসে শেষ মুহূর্তে সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করানোর খুব কাছে ছিলেন। তবে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের কাছে ফাইনাল হারের একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে লস ব্লাঙ্কোসরা।
ফাইনালের আগে এমবাপেকে নিয়ে সতর্ক রিয়াল কোচ

ফাইনালের আগে এমবাপেকে নিয়ে সতর্ক রিয়াল কোচ স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ দুই দলই। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচকে সামনে রেখে কিলিয়ান এমবাপের ফিটনেস নিয়ে অতিরিক্ত কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো। গত বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামতে পারেননি চোটের কারণেই। তবে শুক্রবার দলের সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছেন এল ক্লাসিকোর স্কোয়াডের অংশ নিসেবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে হাঁটুর চোটে পড়েন এমবাপে। যে চোট থেকে সেরে উঠতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগার কথা ছিল। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৯ গোল করেছেন তিনি। মৌসুমে মাদ্রিদের শীর্ষ গোলদাতাকে ব্যথানাশক ইনজেকশন দিয়ে খেলানো হতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নে আলোনসো জানান, ক্লাব কোনো তাড়াহুড়া করবে না। সংবাদ সম্মেলনে আলোনসো বলেন, ‘এটা এমন একটি সিদ্ধান্ত, যেটা কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় এবং চিকিৎসকদের মধ্যে আলোচনা করে নিতে হবে। আমাদের ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে হবে, আমরা কোন অবস্থায় আছি, কী জন্য খেলছি। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে আমরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কামিকাজে (বেপরোয়া) হই না। এটা হবে নিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি।”আলোনসো জানান, রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে গত সপ্তাহান্তের লা লিগা ম্যাচ এবং আতলেতিকোর বিপক্ষে ডার্বি মিস করার পর এমবাপে এখন অনেকটাই ভালো বোধ করছেন আগের চেয়ে। আলোনসো বলেন, ‘সে এখন অনেক ভালো আছে। আতলেতিকোর বিপক্ষে ম্যাচে সে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না, তাই আমরা তার প্রত্যাবর্তন ত্বরান্বিত করিনি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনায় ছিল ফাইনালে উঠতে পারলে এবং সে কেমন অনুভব করছে তা দেখে, তখন তাকে এখানে আনার বিষয়টি বিবেচনা করব। আজ সে যখন অনুশীলন করবে, তখন আমরা সব তথ্য পাব এবং বুঝতে পারব সে শুরুর একাদশে খেলতে পারবে কি না, নাকি সীমিত সময়ের জন্য নামবে।’ সুপার কাপ জিততে পারলে গত জুনে রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হবে আলোনসোর প্রথম শিরোপা। যা তার ওপর থাকা চাপও অনেকটাই কমাবে।
রোজেনিয়রের স্বপ্নময় শুরু, চার্লটনকে ৫-১ ব্যবধানে হারালো চেলসি
রোজেনিয়রের স্বপ্নময় শুরু, চার্লটনকে ৫-১ ব্যবধানে হারালো চেলসি চেলসির কোচ হয়েই প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে লিয়াম রোজেনিয়র শুরুটা করলেন দারুণ এক জয় দিয়ে। চার্লটন অ্যাথলেটিককে ৫-১ গোলে হারিয়ে নতুন কোচের অধীনে দারুণ শুরু করেছে ব্লুজরা। দ্য ভ্যালি স্টেডিয়ামে বিরতির আগমুহূর্তে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোলের সূচনা করেন জোরেল হাতো। সেই ব্যবধানে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাড়িয়ে দেন তোসিন আদারাবিওয়ো। চার্লটনের হয়ে মাইলস লিবার্ন এক সময় ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত মার্ক গিউ, পেদ্রো নেটো ও এনজো ফার্নান্দেজের গোল চেলসির বড় জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তাল ছিল দ্য ভ্যালি। লন্ডনের প্রতিবেশী ক্লাবকে চাপে ফেলতে মুখিয়ে ছিলো গ্যালারির চার্লটন সমর্থকরা। তবে ম্যাচ শুরুর পরপরই গ্যালারিতে এক চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ বিরতি পড়ে, যা কিছুটা হলেও স্টেডিয়ামের উত্তেজনা কমিয়ে দেয়। এই বিরতি শেষে দ্রুতই নিজেদের ছন্দ খুঁজে নেয় চেলসি। প্রথমার্ধে ৭৭ শতাংশ বল দখলে রেখে ছয়টি শট লক্ষ্যে রাখে। তবে চার্লটনের গোলকিপার উইল ম্যানিয়ন দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় চেলসি। চার্লটনের বক্সের সামনে বাউন্স করা বলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নিখুঁত ভলিতে গোল করেন হাতো। বিরতির পরপরই ম্যাচের ৫০ মিনিটে স্বাগতিকদের দুর্ভোগ বাড়ায় চেলসি। ফাকুন্দো বুয়োনানোট্টের নেওয়া প্রান্তিক ফ্রি-কিক দুর্দান্ত গতিতে নিকট পোস্টে পৌঁছালে তোসিন আদারাবিওয়ো হেডে বল জালে পাঠান। দুই গোল হজমের পর চার্লটন দমে যায়নি। কর্নার থেকে লয়েড জোন্সের হেড ফিলিপ ইয়োরগেনসেন ঠেকালেও ফিরতি বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল করেন মাইলস লিবার্ন। তাতে স্বাগতিক সমর্থকদের মনে স্বপ্ন জাগে প্রত্যাবর্তনের। গোল করেও মাত্র পাঁচ মিনিট পর আবারও গোল হজম করে বিপদে পড়ে চার্লটন। ৬২ মিনিটে আলেহান্দ্রো গারনাচোর শট থেকে আসা রিবাউন্ডে সুযোগ নিয়ে মার্ক গিউ তৃতীয় গোলটি করেন। এই গোলের হজম করে ভেঙে পড়ে চার্লটনের প্রতিরোধ। এস্তেভাওকে মাঠে নামানোর পর ডান প্রান্তে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে চেলসি। ম্যানিয়ন এস্তেভাও ও এনজো ফার্নান্দেজের শট ঠেকালেও লিয়াম ডেলাপ সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। ম্যাচ যখন শেষের পথে, দ্য ভ্যালি স্টেডিয়ামে হালকা কুয়াশা ভর করতে শুরু করে। ঠিক সেই সময়ই নৈপুণ্যের ছোঁয়ায় ব্যবধান বাড়ান পেদ্রো নেটো লয়েড জোন্সকে ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে নিকট কোনায় নিচু শটে জাল কাঁপান। এরপর এস্তেভাওকে বক্সে ফেলে দেওয়ায় গোলরক্ষক উইল ম্যানিয়নের বিরুদ্ধে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে এনজো ফার্নান্দেজ চেলসির বড় ৫–১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
২২ বছরের খরা কাটিয়ে সেমিফাইনালে মরক্কো
২২ বছরের খরা কাটিয়ে সেমিফাইনালে মরক্কো দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। রাবাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যামেরুনকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক মরক্কো। দুই অর্ধে দুটি গোল দীর্ঘ ২২ বছর পর সেমিফাইনালে পা রেখেছে মরক্কো। একটি করে গোল করে ব্রাহিম দিয়াজ ও ইসমাইল সাইবারি মরক্কোর হয়ে জয় নিশ্চিত করেন। পুরো ম্যাচে ক্যামেরুন খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। সবশেষ ২০০৪ নেশনস কাপের সেমিতে খেলেছিল দলটি। ২৬তম মিনিটে কর্নার থেকে আইয়ুব এল কাবির ফ্লিকে বল পেয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান ব্রাহিম দিয়াজ। উরুতে লেগে বল জালে প্রবেশ করলে টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার পঞ্চম গোল। দ্বিতীয়ার্ধে সেট পিস থেকেই আসে ইসমাইল সাইবারির গোল। ফ্রি-কিক থেকে আসা বল পেয়ে নিচু বাঁ-পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনল খেলা মরক্কোর সমর্থকরা নেশনস কাপের সেমির গ্যালারিতেও উন্মাতাল পরিবেশের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। সেই চিরচেনা আবহে ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের দল পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। এই জয়ের মাধ্যমে কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করল রেগরাগুইয়ের শিষ্যরা। এখন আর মাত্র দুই জয় দূরে মরক্কো। ১৯৭৬ সালের পর প্রথম মহাদেশীয় শিরোপা জয়ের হাতছানি।এটি মরক্কোর এটি টানা ২৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড। যা শুরু হয়েছিল ২০২৩ আফকনের শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়ার পর থেকে। আগামী বুধবার একই মাঠে সেমিফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হবে শনিবারের কোয়ার্টার ফাইনালে আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী।
বিশ্বকাপের আগে মুখোমুখি ব্রাজিল-ফ্রান্স, জেনে নিন সময়সূচি

বিশ্বকাপের আগে মুখোমুখি ব্রাজিল-ফ্রান্স, জেনে নিন সময়সূচি আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। মেগা এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের জিলেট স্টেডিয়ামে আগামী ২৬ শে মার্চ রাত ২টায় মাঠে নামবে ব্রাজিল-ফ্রান্স। ম্যাচটি হবে ‘রোড টু ২৬’ নামের নতুন আন্তর্জাতিক সিরিজের অংশ হিসেবে। এখন পর্যন্ত ১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। এর মধ্যে ফ্রান্স জিতেছে ৭টি ম্যাচ, ড্র হয়েছে ৬টি এবং ব্রাজিল জয় পেয়েছে ৫টিতে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে প্যারিসে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ‘রোড টু ২৬’ সিরিজে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে ক্রোয়েশিয়া ও কলম্বিয়া। একনজরে ‘রোড টু ২৬’-এর সম্পূর্ণ সূচি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী): তারিখ (বাংলাদেশ) ম্যাচ ভেন্যু সময় (বাংলাদেশ) ২৬ মার্চ, ২০২৬ ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স জিলেট স্টেডিয়াম, ম্যাসাচুসেটস রাত ২:০০টা ২৭ মার্চ, ২০২৬ কলম্বিয়া বনাম ক্রোয়েশিয়া ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়াম, ফ্লোরিডা ভোর ৫:৩০টা ২৯ মার্চ, ২০২৬ ফ্রান্স বনাম কলম্বিয়া নর্থওয়েস্ট স্টেডিয়াম, মেরিল্যান্ড রাত ১:০০টা ১ এপ্রিল, ২০২৬ ব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়া ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়াম, ফ্লোরিডা ভোর ৬:০০টা।
বিশ্বকাপের আগে টিকটকারদের দারুণ খবর দিলো ফিফা

বিশ্বকাপের আগে টিকটকারদের দারুণ খবর দিলো ফিফা আগামী ১৯ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে হবে বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্ট ঘিরে সরব থাকবে সোশ্যাল মিডিয়া। তবে টিকটক থাকবে একটি বিশেষ অবস্থানে। বিশ্বকাপে সোশ্যাল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে এটিকে প্রথম ‘পছন্দসই ভিডিও প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা। এবারের বিশ্বকাপে টিকটকের কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা বিশেষ অ্যাকসেস পাবেন। ফিফা বলেছে, বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারীরা টিকটক অ্যাপের ডেডিকেটেড হাবে থাকা ১০৪ ম্যাচের বিভিন্ন অংশ লাইভস্ট্রিম করতে পারবে। টুইটারে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। ফিফা বলেছে, ‘কন্টেন্ট ক্রিকেটরদের বৃহৎ অংশ ফিফার আর্কাইভাল ফুটেজ ব্যবহার ও নতুন করে তৈরি করতে পারবে।’ ফিফা ভক্তদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এবারের আসরে ভক্তরা পর্দার আড়ালের ও মাঠের ভেতরের এমন দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে বাছাই করা ভক্তদের জন্য টিকটক ইন অ্যাপের পক্ষ থেকে থাকবে কাস্টম স্টিকার, ফিল্টার্স ও গেমিফিকেশন ফিচারস। টিকটক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডাউনলোডেড অ্যাপ। যদিও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মোহামেডানের ‘আতা ভাই’ আর নেই
মোহামেডানের ‘আতা ভাই’ আর নেই ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের একনিষ্ঠ ও বর্ষীয়ান সমর্থক আতাউর রহমান আতা আর নেই। ক্রীড়াঙ্গনে তিনি ‘আতা ভাই’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে বুধবার রাত আনুমানিক ১১টায় নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার নামাজে জানাযা আজ বাদ যোহর টিকাটুলি জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি পরিবার-পরিজনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি স্টেডিয়ামে গলা ফাটিয়েছেন তার প্রিয় দল মোহামেডানের জন্য এবং দেশের ফুটবলের জন্য। তার কণ্ঠ, তার উপস্থিতি ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছিল দেশের ফুটবলের জন্য এক অনন্য প্রেরণা। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘তিনি শুধু মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সমর্থক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলের একজন প্রকৃত সৈনিক। ফুটবলের প্রতি তার এই অবদান ও ভালোবাসা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ আতা ভাইকে দেখা গেছে কখনো জাতীয় স্টেডিয়াম, কখনো মিরপুরে মোহামেডানের জন্য গলা ফাটাতে। তিনি পুরো গ্যালারি একাই মাতিয়ে রাখতেন। আবাহনীকে তীর্যক ভাষায় ভাষায় আক্রমণও করতেন। খেলা শুরুর আগেই বলতে থাকতেন ‘ওই আবাহনীর ভায়েরা, আজ তোমাদের তিন গোল দিয়ে দেবো।’ মোহামেডান হারতে থাকলেও তিনি সাদাকালো পতাকা দুলিয়ে চিল্লাতে থাকতেন। মনে হতো তার জন্মই হয়েছে আকাশি-নীলদের বিরোধিতা আর সাদা-কালোদের জন্য যুদ্ধ করতে।
নতুন বছরের শুরুটা সুখকর হলো না ম্যানসিটির

নতুন বছরের শুরুটা সুখকর হলো না ম্যানসিটির নতুন বছরের শুরুটা মোটেও সুখকর হলো না ম্যানচেস্টার সিটির জন্য। টানা ছয় ম্যাচ জয়ের পর বছরের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। সান্ডারল্যান্ডের ঘরের মাঠ ‘স্টেডিয়াম অফ লাইট’-এ গোলশূন্য ড্র করে মূল্যবান দুই পয়েন্ট হারিয়েছে সিটিজেনরা। এই হোঁচটের ফলে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে টেবিল টপার আর্সেনালের চেয়ে ৪ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ল তারা। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল এবং আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখালেও সান্ডারল্যান্ডের রক্ষণভাগ এবং বিশেষ করে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে ম্যানসিটি। ইতালিয়ান এই গোলরক্ষক একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে আর্লিং হালান্ড ও ফিল ফোডেনদের হতাশ করেছেন। সিটির মুহুর্মুহু আক্রমণগুলো দোন্নারুম্মার গ্লাভসে বন্দি হওয়ায় ক্লিন শিট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সান্ডারল্যান্ড। এই ড্রয়ের ফলে ১৯ ম্যাচ শেষে সিটির পয়েন্ট এখন আর্সেনালের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শিরোপা প্রত্যাশী আর্সেনাল বর্তমানে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে, যেখানে ম্যানচেস্টার সিটির সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, সিটির এই পয়েন্ট হারানো আর্সেনালকে মানসিকভাবে অনেক বেশি এগিয়ে দিল। ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটি বস পেপ গার্দিওলা কিছুটা হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘‘আমরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু ফিনিশিংটা ছিল হতাশাজনক। সান্ডারল্যান্ড রক্ষণে দারুণ শৃঙ্খলা দেখিয়েছে। শিরোপা জিততে হলে এমন ম্যাচগুলো থেকে পূর্ণ পয়েন্ট আদায় করা জরুরি।’’
পা নয়, মাথা নয়, পিঠ দিয়ে গোল করে আলোচনায় রোনালদো

পা নয়, মাথা নয়, পিঠ দিয়ে গোল করে আলোচনায় রোনালদো সৌদি প্রো লিগে রীতিমতো নাটকীয় এক রাতের সাক্ষী হলো বিশ্ব ফুটবল। টানা ১০ ম্যাচ জয়ের দুর্দান্ত সূচনা থেমে গেল আল-নাসরের। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে আল-ইত্তিফাকের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট খোয়াতে হলো তাদেরকে। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। একেবারে অদ্ভুত ভঙ্গিতে, পিঠে বল লাগিয়ে গোল করে চমকে দিলেন সবাইকে। এই ম্যাচে শুরু থেকেই উত্তেজনার পারদ ছিল চড়া। প্রথমার্ধে আল-ইত্তিফাক এগিয়ে যায় জর্জিনিও ওয়াইনালডামের নিখুঁত ফিনিশে। তবে বিরতির পরপরই ঘুরে দাঁড়ায় আল-নাসর। জোয়াও ফেলিক্সের পাওয়ারফুল শটে ম্যাচে সমতা ফেরে। নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় অতিথিদের আক্রমণ। এরপরই আসে সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্ত। আবারও শট নেন ফেলিক্স, কিন্তু বল সরাসরি লক্ষ্যে না গিয়ে হঠাৎই রোনালদোর পিঠে লেগে দিক পরিবর্তন করে জড়িয়ে যায় জালে। পুরোপুরি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন আল-ইত্তিফাকের গোলরক্ষক। ৪০ বছর বয়সেও গোলের সামনে রোনালদোর উপস্থিতি যে কতটা ভয়ংকর, তা যেন আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। যদিও এবার গোলটা এলো সবচেয়ে অপ্রচলিত উপায়ে। এই গোল রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল সেই বহু আলোচিত এক হাজার গোলের মাইলফলকের দিকে। পা নয়, মাথা নয়, পিঠে করা এই গোলটি নিশ্চিতভাবেই জায়গা করে নেবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অদ্ভুত অথচ স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর তালিকায়। তবে রোনালদোর ঝলকানিতেও হার মানতে রাজি ছিল না আল-ইত্তিফাক। ম্যাচের শেষ দিকে আবারও ওয়াইনালডাম গোল করে সমতা ফেরান, ২-২ স্কোরলাইনে থামে ম্যাচ। এর ফলে মৌসুমের শুরুতে টানা জয়ের রেকর্ড ভেঙে যায় আল-নাসরের। ড্র হলেও সৌদি প্রো লিগের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আল-নাসর। তবে শিরোপা দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপ যে এখন আরও বাড়বে, তা বলাই যায়। আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য এই ‘পিঠ দিয়ে করা গোল’ ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি বিস্ময়কর অধ্যায় হিসেবে, যা বহুদিন ধরেই স্মরণে থাকবে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।
৩৯ বছরে মোজাম্বিকের প্রথম জয়
৩৯ বছরে মোজাম্বিকের প্রথম জয় অবশেষে দীর্ঘ ৩৯ বছরের অপেক্ষা ফুরালো মোজাম্বিকের। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে গ্যাবনকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে মোজাম্বিক। ফলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে মাম্বাসরা। গ্যাবনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আফকনের মূল পর্বে খেলা মোট ১৬ ম্যাচের একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি মোজাম্বিক। অবশেষে সেই খরা মিটলো গতকাল রাতে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে মোজাম্বিক। প্রথম গোলের দেখা পায় দেশটি ফয়সাল বাংলের হেডে ৩৭ মিনিটে। মিনিট পাঁচেক পর ম্যাচের ৪২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জেনি কাটামো। প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে যাওয়া মোজাম্বিককে মনে হচ্ছিল ফেবারিট। কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েই রিবাউন্ড থেকে গোল করে গ্যাবনের হয়ে ব্যবধান কমান পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা মাঠে গড়ালে মোজাম্বিককে আবারও এগিয়ে দেন দিয়োগো ক্যালিলা। হেড থেকে গোল করে ব্যবধান আবারও দুই গোলের করেন তিনি। তবে চেষ্টা চালিয়ে যায় গ্যাবন। ৭৬ মিনিটে আরেকটি গোল করে তারা। কর্নার থেকে আসা আলগা বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান অ্যালেক্স মুকেতু-মুসুন্দা। শেষ ২০ মিনিটে দুই দলই মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও আর গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোজাম্বিক। এই জয়ের ফলে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১০২ নম্বরে থাকা মোজাম্বিক গ্রুপ ‘এফ’-এর লড়াইয়ে নতুন করে সমীকরণ তৈরি করেছে। তিন ম্যাচ শেষে তারা এখন সমান পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে শীর্ষে থাকা আইভরি কোস্ট ও ক্যামেরুনের সঙ্গেও তাদের পয়েন্টের ব্যবধান নেই। বিপরীতে, টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের কারণে গ্যাবনের নকআউট পর্বে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরের ম্যাচে ক্যামেরুনের মুখোমুখি হয়ে ইতিহাস গড়ার হাতছানি মোজাম্বিকের সামনে। আর গ্যাবনের জন্য পরিস্থিতি স্পষ্ট। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে আইভরি কোস্টকে হারানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।