আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গোলরক্ষক হুগো গাত্তি আর নেই

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গোলরক্ষক হুগো গাত্তি আর নেই আর্জেন্টিনার ইতিহাসখ্যাত গোলরক্ষক হুগো ওরল্যান্ডো গাত্তি আর নেই। স্থানীয় সময় রবিবার (২০ এপ্রিল) ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। লাতিন আমেরিকার ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা কনমেবল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত দুই মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন গাত্তি। কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতির বদলে নতুন করে দেখা দেয় নিউমোনিয়া, কিডনি জটিলতা ও হৃদরোগ। এসব জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত তার পরিবার তাকে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ‘এল লোকো’ নামে পরিচিত গাত্তি ছিলেন একেবারে আলাদা ঘরানার গোলরক্ষক। সাহসী, উদ্ভট এবং অনেক সময় অপ্রচলিত কৌশলে খেলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতেন তিনি। আর্জেন্টাইন লিগে সর্বোচ্চ ৭৬৫ ম্যাচ খেলার রেকর্ড আজও তার দখলে। ২৬ বছরের দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ারে (১৯৬২–১৯৮৮) তিনি বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। যার মধ্যে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ১৯৭৭ সালে জিতেছেন কোপা লিবার্তাদোরেস। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, আজকের ‘সুইপার কিপার’ কনসেপ্ট— যেখানে গোলরক্ষক গোলপোস্ট ছেড়ে খেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন— এর শুরুটা গাত্তির হাত ধরেই হয়েছিল। তার সেই সময়ের সাহসী খেলার ধরণ আধুনিক ফুটবলের জন্য ছিল এক নতুন ধারা। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম শিরোপা জয়ের দলে মূল গোলরক্ষক হিসেবে তার জায়গা নিশ্চিত থাকলেও হাঁটুর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। গাত্তি ছিলেন শুধু একজন ফুটবলার নন— তিনি ছিলেন একজন স্পষ্টভাষী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। একবার তিনি দিয়েগো মারাডোনাকে ঠাট্টা করে ‘গর্ডিতো’ (মোটা) বলেন। এর জবাবে পরের ম্যাচে মারাডোনা তার বিপক্ষে চারটি গোল করে দেন। এমন অনেক ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন গাত্তি, যা তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।  তার মৃত্যুতে বিশ্ব ফুটবল হারিয়েছে এক সাহসী, বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে, যিনি যুগ গড়েছেন নিজের মতো করে।

কাবাডি টেস্ট সিরিজে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশ নারী দলের

কাবাডি টেস্ট সিরিজে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশ নারী দলের শক্তিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে নেপাল নারী দল। এসএ গেমস ও এশিয়ান গেমসে নেপালের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল।  এছাড়া শারীরিক গড়নেও এগিয়ে নেপাল দল। ম্যাচে এই সুবিধা বেশ ভালোভাবে কাজ লাগিয়েছে তারা। শেষ পর্যন্ত ৪১-১৮ পয়েন্টে বাংলাদেশকে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেপাল। আগামীকাল একই ভেন্যুতে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। শুরু থেকেই পয়েন্ট বাড়িয়ে নিতে থাকে স্বাগতিক দল। বোনাস পয়েন্টে এগিয়ে যায় তারা। পাশাপাশি প্রথমার্ধে একটি লোনা পায় নেপাল। ১৮-৬ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে নেপাল। দ্বিতীয়ার্ধেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। একই ছন্দে খেলে ম্যাচ নিজেদের আয়ত্তে রাখে নেপাল। এই অর্ধে আরও দুটি লোনা পায় নেপাল। বাংলাদেশের এই পরাজয়ের জন্য ভ্রমণ ক্লান্তি ও ইনজুরিকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ দলের কোচ শাহনাজ পারভিন মালেকা। ‘আমরা গতকালই ঢাকা থেকে এখানে এসেছি। তাই সেভাবে বিশ্রামের সময় পাইনি। এছাড়া আমাদের দুই থেকে তিনজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে আছে। এই ম্যাচ থেকে যে সমস্যাগুলো আমরা বুঝতে পেরেছি আশা করছি সেগুলো কাটিয়ে পরের ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো কিছু করব। নেপাল নিয়মিত অনুশীলনে ছিল। কিন্তু আমরা ঈদের কারণে ছুটিতে গিয়েছিলাম। তাই আমাদের অনুশীলনের কিছুটা ঘাটতি ছিল। তবে আশা করছি আগামীকালের ম্যাচে আজকের তুলনায় অনেক ভালো খেলবে বাংলাদেশ দল।

অশ্রুসিক্ত চোখে আবারও মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেইমারকে

অশ্রুসিক্ত চোখে আবারও মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেইমারকে সান্তোসে আজ বিশেষ ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ক্লাবটির মাঠে নিজের ১০০তম ম্যাচ রাঙাতে শুরুর একাদশেই ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। তবে এই উপলক্ষ রাঙানোর আগেই পুরোনো চোট ঝেঁকে বসল। অশ্রুসিক্ত চোখেই ছাড়তে হলো মাঠ। নেইমারের এই বিশেষ ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা কম ছিল না ভক্ত-সমর্থকদেরও। গ্যালারিতে তারা ভিড় করে এই ব্রাজিলিয়ানের ম্যাজিক দেখার জন্য। তবে আতলেতিকো মিনেইরোর বিপক্ষে নামার আগে দেখা যায় দুই উরুতেই টেপ পেচিয়েছেন তিনি। ৩৪তম মিনিটে গিয়ে খান বড় ধাক্কা। বাঁ উরুতে হাত রেখে খোড়াতে থাকেন তিনি। বদলির জন্য নির্দেশ করেন মাঠ থেকেই। তখন বসেই পড়েন তিনি।  এরইমধ্যে তার চোখ দিয়ে পানি গড়াতে দেখা যায়। ভক্তরাও নিশ্চুপ হয়ে পড়েন। তাকে সান্ত্বনা দিতে থাকেন গ্যালারি থেকেই। কিন্তু আর উঠতে পারেননি। দুজনের সহায়তায় কার্টে বসে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। সেসময় দর্শকরা বিপুল করতালিতে সাহস দেন নেইমারকে। পরে ডাগআউটে কাঁদতে দেখা যায় নেইমারকে। পায়ে বরফ লাগিয়ে বসে থাকেন তিনি। নেইমারের এই চোট নিত্যদিনে সঙ্গী। এই কারণেই আল হিলাল ছাড়তে হয়েছে তাকে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসের হয়ে মাঠে নামেন তিনি। এরপর টানা সাত ম্যাচ খেলেন এই ব্রাজিলিয়ান। গত ২ মার্চ করিঞ্চাসের বিপক্ষে চোটে পড়েন আবার। ছয় সপ্তাহ পর ফের মাঠে ফেরেন তিনি। তবে সুখকর হয়নি এবারের প্রত্যাবর্তনও। আনুষ্ঠানিকভাবে চোটের বিষয়ে এখনও জানা যায়নি কিছুই।

রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে দাঁড়াবেই, বিশ্বাস মার্সেলোর

রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে দাঁড়াবেই, বিশ্বাস মার্সেলোর এক শতাংশ সম্ভাবনাকে একশ শতাংশতে পরিণত করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বার বার ঘুরে দাঁড়ানোর উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে তাদের। এই ইতিহাসের সাক্ষী ক্লাবটির কিংবদন্তি মার্সেলোও। সবসময়ের মতো এবারও আর্সেনালের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াবে নিজের সাবেক ক্লাব। এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে রিয়াল। প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে পিছিয়ে আছে তারা। সেমিফাইনাল থেকে অনেকটাই দূরে থাকলেও প্রত্যাবর্তন করবে ক্লাবটি, এমনটাই জানান মার্সেলো। মেক্সিকোর ক্লাবে খেলা এই ফুটবলার ইএসপিএনকে বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদেক কখনোই বিবেচনার বাইরে রাখা যাবে না। যদিও তিন গোল মানে অনেক বড় কিছু। তবে রিয়াল মাদ্রিদকে ভাবনায় রাখতেই হবে এবং আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে, তারা ঘুরে দাঁড়াবে। রিয়াল মাদ্রিদ কেবল রিয়াল মাদ্রিদই এবং তারা সবসময় ঘুরে দাঁড়ায়। ’ঘরের মাঠেই আর্সেনালকে আতিথ্য দেবে রিয়াল। আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভক্তদের পাশাপাশি পরিবেশ হবে তাদের নাগালেই। এখানেই হয়েছে অনেক প্রত্যাবর্তন। তাইতো আর্সেনালের বিপক্ষেও রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোয় আত্মবিশ্বাসী মার্সেলো। তিনি বলেন, ‘ফিরতি লেগ হচ্ছে বার্নাব্যুতে। সমর্থকেরা দারুণ প্রেরণা জোগাবে এবং ফুটবলাররা আত্মবিশ্বাসী যে, তারা পারবে। অবশ্যই আমরা জানি না, মাঠে ফলাফল কী হবে। তবে আমাদের সবটুকু বিশ্বাস আছে, রিয়াল মাদ্রিদ পারবে ঘুরে দাঁড়াতে। ’

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা ক্লাবের মালিকানা কিনলেন মদ্রিচ

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা ক্লাবের মালিকানা কিনলেন মদ্রিচ রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন কাসেমিরো, টনি ক্রুস ও লুকা মদ্রিচ। এর মধ্যে কাসেমিরো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পাড়ি জমিয়েছেন। আর ক্রুস নিয়েছেন অবসর। তবে লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে ৩৯ বছর বয়সেও মাঠ মাতিয়ে যাচ্ছেন মদ্রিচ। তবে থামতে হবে তাকেও। তার আগেই একটি ক্লাবের মালিকানা কিনেছেন ক্রোয়াট তারকা। মাঠের ক্যারিয়ার শেষ করেও যে ফুটবলে থাকছেন মদ্রিচ, তা নিশ্চিত হওয়া গেল এখনই। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় স্তরের লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের একটি ক্লাবের মালিকানা কিনেছেন ক্রোয়েশিয়ান এই মিডফিল্ডার। সোয়ানসি নামক ক্লাবটি অবশ্য সুবিধাজনক স্থানে নেই। ৪২ ম্যাচ শেষে তারা ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে টেবিলের দশ নম্বরে।  মদ্রিচ ছাড়াও এই ক্লাবটির মালিকানায় রয়েছেন অ্যান্ডি কোলম্যান, ব্রেট ক্রাভাট, নাইজেল মরিস ও জেসন কোহেন। তবে কে কত শতাংশের মালিক, তা এখনও জানা যায়নি। মূলত গত নভেম্বরে পরিবর্তন হয় ক্লাবের মালিকানা। যে কারণে ক্লাব এখনও ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। যার ছাপ পড়েছে খেলাতেও।

১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরছে অলিম্পিকে: ৬টি করে দল পুরুষ ও নারী বিভাগে

১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরছে অলিম্পিকে: ৬টি করে দল পুরুষ ও নারী বিভাগে ২০২৮ সালের ‘লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসে’ পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অংশ নেবে ছয়টি করে দল। অলিম্পিকে নতুন যে পাঁচটি খেলার সংযোজন হয়েছে, তার মধ্যে ক্রিকেট অন্যতম। প্রতিটি দল ১৫ সদস্যের স্কোয়াড নিয়ে অংশ নেবে। অলিম্পিক কমিটির প্রকাশিত অফিসিয়াল সূচি অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগের জন্যই বরাদ্দ থাকবে ৯০ জন করে খেলোয়াড়ের কোটা। তবে এখনো ঠিক হয়নি কোন নিয়মে দলগুলো অলিম্পিকে জায়গা পাবে কিংবা বাছাই প্রক্রিয়া কেমন হবে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এবারের আয়োজক দেশ, তারা সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাকি দলগুলোর জন্য সুযোগ কমে যাবে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কারা খেলবে সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, অলিম্পিকে ক্যারিবীয় দ্বীপগুলো আলাদা আলাদা দেশ হিসেবে অংশ নেয়। যেমনটা তারা কমনওয়েলথ গেমসেও করে। ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে নারী টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছিল বার্বাডোস। তারা ছিল তখনকার আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট ‘টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ব্লেজ’-এর চ্যাম্পিয়ন। ক্রিকেটের অলিম্পিকে ফেরা হলো বহু বছর পর। সর্বশেষ ১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকে ক্রিকেট ছিল। এরপর দীর্ঘদিন বাদে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে মুম্বাইয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটকে আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আগেই জানা গিয়েছিল, ‘এলএ অলিম্পিকে’ দলগত খেলাগুলোতে ছয়টি করে দল খেলবে — পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই। এবার সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের প্রস্তাবে বলেছিল, নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দল বাছাই করা যেতে পারে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যেই তা চূড়ান্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দল, যারা এখনো আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয়, তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আইওসি’র ক্রীড়া পরিচালক কিট ম্যাককনেল বলেছিলেন, ‘‘সাধারণত আয়োজক দেশগুলো দলগত খেলায় একটি দল দেয়। এরপর বাকি দলগুলো নির্ধারিত হয় বিশ্ব শক্তি ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বিবেচনায়। কোটা অনুযায়ী এ ভারসাম্য বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’’

বায়ার্নের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরল ইন্টার মিলান

বায়ার্নের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরল ইন্টার মিলান ঘরের মাঠে আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও বায়ার্ন মিউনিখ পেরে ওঠেনি ইন্টার মিলানের সঙ্গে। পিছিয়ে গিয়ে সমতায় ফিরলেও শেষ মুহূর্তে ব্যবধান গড়ে দিলেন দাভিদ ফ্রাত্তেসি। দারুণ জয়ে প্রথম লেগে এগিয়ে থাকল ইন্টার মিলান। গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্নকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার। প্রথমার্ধে লাওতারো মার্তিনেসের তারা গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান থমাস মুলার। তিন মিনিটের মধ্যে লিড পুনরুদ্ধার করে দলকে জেতান ফ্রাত্তেসি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শুরু থেকেই আক্রমণ চালাতে থাকে বায়ার্ন। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিল না তারা। উল্টো ৩৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় ইন্টার। বাস্তোনির ক্রস থেকে ব্যাক হিলে মার্তিনেসকে বল বাড়ান মার্কাস থুরাম। দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। বিরতির পর লড়াই চলে লম্বা সময়। ৮৫তম মিনিটে গিয়ে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান মুলার। কোনার্ড লাইমারের বাইলাইন থেকে বাড়ানো বল আলতো টোকায় জালে পাঠান জার্মান তারকা। তবে তিন মিনিট পর ফের এগিয়ে যায় ইন্টার। কার্সেলোন অগাস্তুর আড়াআড়ি ক্রসে গোলমুখ থেকে দারুণ শটে গোল করেন ফ্রাত্তেসি। এই গোলেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় ইন্টারের। ফিরতি লেগে তাদের মাঠেই আগামী ১৬ এপ্রিল লড়াই করবে বায়ার্ন।

মেসির গোলে হার এড়াল ইন্টার মায়ামি

মেসির গোলে হার এড়াল ইন্টার মায়ামি প্রথমার্ধে দুইবার জালে বল পাঠাল ইন্টার মায়ামি। তবে লাভ হয়নি। উল্টো যোগ করা সময়ে হজম করে বসে তারা। তিন মিনিটের মধ্যেই অবশ্য শোধ করে ফেলে ক্লাবটি। হারের কবল থেকে দলকে রক্ষা করেন লিওনেল মেসি। মেজর লিগ সকারের ম্যাচে আজ টরন্টো এফসির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মায়ামি। টরন্টোর হয়ে ফেডেরিকো বের্নারদেশি দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর মায়ামিকে সমতায় ফেরান আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। যদিও ড্র করে তার দল শীর্ষস্থান থেকে নিচে নেমে গিয়েছে। তবে এক ম্যাচ কম খেলেছ তারা। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর সমান তালেই লড়াই চালাতে থাকে দুদল। এর মধ্যে ২৪তম মিনিটে সুযোগ পান মেসি। তবে বক্স থেকে তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। ৪০তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবে ভিএআর সেটি বাতিল করে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে টরন্টোকে এগিয়ে নেন ফেডেরিকো। ইনসিনিয়ের পাস বক্সের ভেতর থেকে জালে পাঠান ইতালিয়ান উইঙ্গার। তিন মিনিট পর মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। বক্সের একটু সামনে সেগোভিয়ার পাস ডান পায়ে ঠেকিয়ে বাঁ পায়ের ভলিতে জাল খুঁজে নেন তিনি। লিগের চলতি মৌসুমে মেসির তৃতীয় গোল এটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোল হলো ছয়টি। বিরতির পর লড়াই চলতে থাকে আগের মতোই। তবে গোলের দেখা পায়নি কেউই। ফলে ড্র নিয়ে ১৪ পয়েন্টে দুইয়ে মায়ামি। এক ম্যাচ বেশি খেলা কলম্বাস ক্রু ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে।

প্রিমিয়ার লিগে দ্রুততম অবনমনে রেকর্ড সাউদাম্পটনের

প্রিমিয়ার লিগে দ্রুততম অবনমনে রেকর্ড সাউদাম্পটনের ৩১ ম্যাচে স্রেফ ২ জয়! সঙ্গে ৪ ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত রেলিগেশন হয়েছে সাউদাম্পটনের। গতকাল টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের হারে রেলিগেশন নিশ্চিত হয়েছে ক্লাবটির। লন্ডনে প্রথমার্থেই জোড়া গোল করে টটেনহ্যামের জন্য জয় সহজ করে দেন ব্রেন্নান জনসন। ত্রয়োদশ মিনিটে জে স্পেন্সের দারুণ এক কাটব্যাক থেকে প্রথম গোলটি করেন তিনি। ৪২তম মিনিটে করেন পরের গোলটি। সতীর্থের ক্রস থেকে আসা বল হেডে জনসনকে বাড়ান ম্যাডিসন। সহজেই সেটি জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। বিরতির পর অবশ্য শেষ মুহূর্তে গিয়ে গোল পায় সাউদাম্পটন। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোলটি করেন ম্যাথিউস ফার্নান্দেস। পাঁচ মিনিট পর আরও একটি গোল হজম করে বসে রেলিগেসনে যাওয়া দলটি। পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন ম্যাথিস টেল। একইসঙ্গে সাত ম্যাচ আগেই রেলিগেসন নিশ্চিত হয়ে যায় সাউদাম্পটনের।

৬ ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা উদযাপন পিএসজির

৬ ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা উদযাপন পিএসজির ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে প্রথম ক্লাব হিসেবে শিরোপা জয় নিশ্চিত করেছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। ঘরের মাঠে অঁজেকে ১-০ গোলে হারিয়ে ছয় ম্যাচ হাতে রেখেই টানা চতুর্থবারের মতো ‘লিগ আঁ’র শিরোপা জিতে নিয়েছে তারা। শনিবারের এই জয়ে লুইস এনরিকের দল পয়েন্ট টেবিলে এমন এক জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে আর কোনো দল তাদের টপকাতে পারবে না।পিএসজির একমাত্র গোলটি করেন ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ডিজায়ার ডউ। দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে জানুয়ারির নতুন রিক্রুট খিচা কাভারাস্কেইয়ার নিখুঁত ক্রসে ডউ দূরের পোস্টে ভলিতে গোলটি করেন, যা তার লিগে এই মৌসুমের পঞ্চম গোল। রেকর্ড ও পরিসংখ্যান এই শিরোপা পিএসজির ইতিহাসে ১৩তম, যা ফ্রান্সের লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে শুরু করে এটি তাদের ১১তম লিগ জয়। দলের অধিনায়ক মার্কিনিওস ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০টি ফরাসি লিগ শিরোপা জিতেছেন। মার্কিনিওস বলেন, “এটা পাগলামি, আমি খুবই খুশি। এতদিন ধরে শীর্ষ দলে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের লক্ষ্য সবকিছু জেতা, এবং এই শিরোপাগুলো ইতিহাসে লেখা থাকবে। ” দলীয় পারফরম্যান্স প্রথমার্ধে গোল না এলেও পিএসজি পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখায়। গনসালো রামোস একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল পাননি। পরে কচ লুইস এনরিক একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন, যার মধ্যে মৌসুমের সেরা স্কোরার উসমানে ডেম্বেলেকে নামানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধে অঁজের রক্ষণ বেশ শক্ত ছিল, কিন্তু গোলের ঘাটতি পিএসজির উল্লাসে বাধা হয়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়ামে ধ্বনিত হয়—”আমরা চ্যাম্পিয়ন”। লুইস এনরিকের সাফল্য গত মৌসুমে কিলিয়ান এমবাপ্পে ক্লাব ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর অনেকেই পিএসজির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু লুইস এনরিক তার মেধা ও কৌশলে প্রমাণ করেছেন, বড় তারকা ছাড়াও দল গড়া যায়। এই মৌসুমে তিনি লিগে মাত্র দুটি ম্যাচে হেরেছেন, এবং শিরোপা জয়ের পর খেলোয়াড়রা তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে উদযাপন করেন। মাঠের পাশে দেখা যায় তাকে ক্লাব পরিচালক লুইস ক্যাম্পোসের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে। পরবর্তী লক্ষ্য এখন পিএসজির নজর থাকবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অ্যাস্টন ভিলা।