৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপক্ষে উয়েফা প্রেসিডেন্ট

৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপক্ষে উয়েফা প্রেসিডেন্ট গেল মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া ফিফা কাউন্সিল সভায় আলোচনা হয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে। সেখানে স্পেন, মরক্কো ও উরুগুয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরটি ৬৪টি দল নিয়ে আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ইগনাসিও আলোনসো। ফুটবলকে আরও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মূলত এমন প্রস্তাব করেছিলেন তিনি। তবে ইউরোপ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার সেফেরিন আলোনসোর এমন প্রস্তাবকে বাজে বলে আখ্যায়িত করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলগ্রেডে উয়েফা সাধারণ কংগ্রেসের পুরুষ এবং নারী বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা করেছেন ২০৩৫ নারী বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য এবং ২০৩১ নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো। সেই কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন উয়েফা প্রেসিডেন্ট ও ফিফার সহ-সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন। কংগ্রেস শেষে সংবাদ সম্মেলনে উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির ৬৪ দল নিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এটি আশ্চর্যজনক। আমি মনে করি এটি একটি বাজে প্রস্তাব এবং আমি মনে করি এটি বিশ্বকাপের জন্য একটি ভালো দিক নয়। এছাড়াও আমাদের বাছাইপর্বের জন্যও ভালো দিক নয়।’ এছাড়াও প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন সেফেরিন। তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রস্তাবটিকে সমর্থন করছি না। আমি জানি না এটি কোথায় থেকে এসেছে। এটা অদ্ভুত যে ফিফা কাউন্সিলে এই প্রস্তাবের আগে আমরা কিছুই জানতাম না।’ এর আগে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৩০ সালে। ২০৩০ বিশ্বকাপ হবে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত টুর্নামেন্টটির শতবর্ষীয় আসর। আসরটিতে আয়োজক স্পেন, মরক্কো ও উরুগুয়ে হলেও বিশ্বকাপের শতবছর উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়েতে।
৮ গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে ফাইনালে রিয়াল

৮ গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে ফাইনালে রিয়াল রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে স্প্যানিশ কোপা ডেল রের সেমিফাইনাল প্রথম লেগে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ফুটবলপ্রেমীরা ধরেই নিয়েছিল মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে অনায়াস জয় পাবে লস ব্লাঙ্কোসরা। কিন্তু সবার ভাবনা আর কল্পনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ উপহার দিলো সোসিয়েদাদ। কয়েক দফা এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তারা অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে ৪-৪ গোলে ড্র করে রিয়ালের সঙ্গে। প্রথম লেগে জয় পাওয়া রিয়াল দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে ফাইনালে নাম লেখায় ১২০ মিনিট শেষে। এদিন ম্যাচের ১৬ মিনিটেই লিড নেয় সোসিয়েদাদ। এ সময় হেডে পাবলো মারিনের বাড়িয়ে দেওয়া বল পেয়ে ডান পায়ের শটে গোল করেন সোসিয়েদাদের আন্দের বার্নেছেয়া। ৩০ মিনিটের মাথায় ভিনিসিউস জুনিয়রের বাড়িয়ে দেওয়া বল ডি বক্সের সামনে পেয়ে যান এন্ড্রিক। তখন তার সামনে ছিলেন কেবল সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক। তার মাথার ওপর দিয়ে বল মেরে গোল করে সমতা ফেরান এন্ড্রিক। তাতে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। বিরতির পর ৭২ মিনিটে ডেভিড আলবা নিজেই নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন। তাতে আবারও এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ। ৮০ মিনিটে মাইকেল ওয়ারজাবাল গোল করে ব্যবধান ১-৩ করে ফেলেন। তবে ৮২ মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়রের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে জুদ বেলিংহ্যাম গোল করে ব্যবধান কমান (২-৩)। আর ৮৬ মিনিটে ওরেলিয়াঁ চুয়ামেনি গোল করে সমতা ফেরান (৩-৩)। তাতে ধরা নেওয়া হচ্ছিল রিয়াল দুই লেগ মিলিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে যাচ্ছে। কিন্তু যোগ করা সময়ে (৯০+৩) সোসিয়েদাদের ওয়ারজাবাল নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে আবারও দলকে এগিয়ে নেন (৩-৪)। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা থাকায় অতিরিক্ত সময়ে যায় ম্যাচ। আর সেই অতিরিক্ত সময়ের ১১৫ মিনিটের মাথায় অ্যান্তোনিও রুদিগার কর্নার থেকে আসা বলে হেড নিয়ে জালে জড়িয়ে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন। নিশ্চিত করেন দলের সেমিফাইনাল। এ নিয়ে ৪১তম বারের মতো কোপা ডেল রের সেমিফাইনালে উঠলো রিয়াল। সবশেষ ২০২২-২০২৩ মৌসুমে তারা ফাইনাল খেলেছিল এবং ২০তম শিরোপা জিতেছিল এই টুর্নামেন্টের শিরোপা। অন্যদিকে সোসিয়েদাদ সবশেষ ২০১৯-২০২০ মৌসুমে ফাইনাল খেলে দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল। রিয়াল মাদ্রিদ ২৬ এপ্রিলের ফাইনালে হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা নতুবা নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে পাবে। প্রথম লেগে বার্সা ও অ্যাটলেটিকো ৪-৪ গোলে ড্র করেছে। আজ অ্যাটলেটিকোর মাঠে ফিরতি লেগের লড়াইয়ে নামবে তারা।
৬৬ বছর পর আর্জেন্টিনার কাছে এতো বড় ব্যবধানে হারল ব্রাজিল

৬৬ বছর পর আর্জেন্টিনার কাছে এতো বড় ব্যবধানে হারল ব্রাজিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাস অনেক পুরনো। তাদের লড়াইও অনেক পুরনো। তাইতো এটা শৈল্পিক নাম পেয়েছে ‘সুপার ক্লাসিকো’। যেখানে লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। উত্তেজনার পারদ থাকে তুঙ্গে। তেমনই এক উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। প্রত্যাশা ছিল ডরিভাল জুনিয়রের শিষ্যরা আর্জেন্টিনার মাঠ থেকে একটি ভালো ফল নিয়ে আসবে। কিন্তু উল্টো লজ্জাজনক হারকে সঙ্গী করেছে তারা। ছুঁয়ে ফেলেছে ৬৬ বছরের পুরনো লজ্জাজনক হারের রেকর্ডকে। ১৯১৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অপরের মুখোমুখি হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত গেল ১১১ বছরে দল দুটি ১১৪ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এই লম্বা সময়ে আর্জেন্টিনার কাছে হাতে গোনা কিছু ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার মেনেছে ব্রাজিল। ১৯১৭ সালে কোপা আমেরিকার ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরেছিল সেলেসওরা। এরপর ১৯২৫ সালে সেই কোপা আমেরিকাতেই ৪-১ ব্যবধানে হার মানে ব্রাজিল। ১৯৩৯ সালে অবশ্য হারের ব্যবধান বেড়ে হয়েছিল ৫-১। সেটা অবশ্য কোপা জুলিও রোকাতে। ১৯৪০ সালে কোপা জুলিও রোকাতেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিল ব্রাজিল। একই বছর আরও একবার ৫-১ ব্যবধানে হেরেছিল হলুদ রঙের জার্সিধারীরা। অবশ্য ১৯৪৫ সালে কোপা জুলিও রোকায় আর্জেন্টিনাকে ৬-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিলও। ১৯৫৯ সালে কোপা আমেরিকার ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল ব্রাজিল। সেটাই ছিল ব্রাজিলের সবশেষ বড় ব্যবধানে হার আর্জেন্টিনার কাছে। ১৯৬০ কোপা জুলিও রোকায় প্রথমে আর্জেন্টিনার কাছে ৪-২ ব্যবধানে হারে ব্রাজিল। এরপর ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনাকে। একই বছর কোপা ডেল আটলান্টিকোতে ৫-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে দিয়েছিল সেলেসওরা। ২০১২ সালে এক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরেছিল ব্রাজিল। তবে বহু বছর পর আজ আরও একবার আর্জেন্টিনা চারবার ব্রাজিলের জালে বল জড়ালো। তাতে ৬৬ বছর পর আর্জেন্টিনার কাছে ৪-১ ব্যবধানে হার মানলো রাফিনিয়া-মারকিনহোসরা। তবে চারবার করে জালে বল জড়ানোর ঘটনা দুই দল এ পর্যন্ত মোট ১০ বার ঘটিয়েছে। তার মধ্যে আর্জেন্টিনা ৭ বার এবং ব্রাজিল ৩ বার। সাল ব্যবধান টুর্নামেন্ট ১৯১৭ আর্জেন্টিনা ৪-২ ব্রাজিল কোপা আমেরিকা ১৯২৫ আর্জেন্টিনা ৪-১ ব্রাজিল কোপা আমেরিকা ১৯৫৯ আর্জেন্টিনা ৪-১ ব্রাজিল কোপা আমেরিকা ১৯৬০ আর্জেন্টিনা ৪-১ ব্রাজিল কোপা আমেরিকা ১৯৬০ আর্জেন্টিনা ৪-২ ব্রাজিল কোপা জুলিও রোকা ১৯৬৮ ব্রাজিল ৪-১ আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ১৯৯৯ ব্রাজিল ৪-২ আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ২০০৫ ব্রাজিল ৪-১ আর্জেন্টিনা ফিফা কনফেডারেশন কাপ ২০১২ আর্জেন্টিনা ৪-৩ ব্রাজিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ২০২৫ আর্জেন্টিনা ৪-১ ব্রাজিল বিশ্বকাপ বাছাই পাঁচবার করে জালে বল জড়ানোর ঘটনা আছে তিনটি। তার মধ্যে আর্জেন্টিনা একবার ও ব্রাজিল দুইবার জড়িয়েছে। সাল ব্যবধান টুর্নামেন্ট ১৯৪০ আর্জেন্টিনা ৫-১ ব্রাজিল কোপা জুলিও রোকা ১৯৬০ ব্রাজিল ৫-১ আর্জেন্টিনা কোপা ডেল আটলান্টিকো ১৯৬৩ ব্রাজিল ৫-২ আর্জেন্টিনা কোপা জুলিও রোকা আর ৬ গোলের ব্যবধানে উভয় দলের জয় আছে মাত্র ২টা। সাল ব্যবধান টুর্নামেন্ট ১৯৪০ আর্জেন্টিনা ৬-১ ব্রাজিল কোপা জুলিও রোকা ১৯৪৫ ব্রাজিল ৬-২ আর্জেন্টিনা কোপা জুলিও রোকা
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্রাজিল দলে হতে পারে ৬ পরিবর্তন

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্রাজিল দলে হতে পারে ৬ পরিবর্তন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্রাজিল দলে আসতে পারে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন গোলরক্ষক আলিসন বেকার ও ডিফেন্ডার জেহসন। এছাড়া কার্ডজনিত কারণে থাকতে পারবেন না ব্রুনো গিমারেস ও গাব্রিয়েল মাগালিয়াস। এদিকে টেকটিক্যাল পরিবর্তনও আসবে। সবমিলিয়ে মোট ছয়টি পরিবর্তন আসতে পারে ব্রাজিল দলে। যেখানে টেকটিক্যাল পরিবর্তনে ভান্দেরসনের বদলে খেলবেন ওয়েজলি আর জোয়াও পেদ্রোর বদলে মাথেউস কুনিয়া খেলবেন। মাঠে নামার আগে আজ পরিবর্তনগুলোর ব্যাপারে কথা বলেছেন সেলেসাও কোচ দরিভাল জুনিয়র। তিনি বলেন, ‘আমাদের চারটি পরিবর্তন প্রয়োজন আর সেগুলো চিহ্নিত। এর বাইরেও আমরা দুটি পরবির্তন আনব। জোয়াওয়ের জায়গায় খেলবে মাথেউস কুইয়া। আর ভান্দেরসনের জায়গা নেবে ওয়েজলি। আর বাকি পরিবর্তনগুলো হবে আগের ম্যাচে তারা ছিটকে যাওয়ায়। ’ টেকটিক্যাল পরিবর্তন সম্পর্কে ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘আর্জেন্টিনা কী ফর্মেশনে খেলে এর ওপরও নির্ভর করবে অনেক কিছু। আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাশাপাশি আগের ম্যাচে মাথেউসও স্বাধীনভাবে খেলেছে। সে অ্যাটাকিং মিডফল্ডার এবং দ্বিতীয় স্ট্রাইকার। আর ওয়েজলি ভালো করছে। আশা করি ফ্লামেঙ্গোয় যেমন দেখিয়েছে জাতীয় দলেও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে। আর এই পজিশনে আর্জেন্টিনার নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড় নেই। ’আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় মনুমেন্তালে অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার লড়াই।
উয়েফা নেশন্স লিগের কোয়ার্টার সেমিফাইনালে পর্তুগাল

উয়েফা নেশন্স লিগের কোয়ার্টার সেমিফাইনালে পর্তুগাল উয়েফা নেশন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল পর্তুগাল। কিন্তু রোববার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে দ্বিতীয় লেগে অতিরিক্ত সময়ে ডেনমার্ককে ৫-২ গোলে হারিয়ে (দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩) সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রোনালদো-ত্রিনকাওরা। ম্যাচের ৭৬তম মিনিট পর্যন্ত পর্তুগালের বিদায়ের শঙ্কা ছিল। কারণ, ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের গোলে ডেনমার্ক ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। তবে পর্তুগালের ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও বদলি হিসেবে নেমে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফিরিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই তিনি আরও এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। আর শেষ দিকে গঞ্জালো রামোস গোল করে পর্তুগালকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দেন। অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই মাত্র তিন মিনিটের মাথায় পর্তুগাল এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এ সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পেনাল্টি পান। তবে তার নেওয়া শট দারুণভাবে রক্ষা করেন ডেনিশ গোলরক্ষক কাসপার স্মাইকেল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডেনমার্কের জোয়াকিম আন্দারসেন হেড করতে গিয়ে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ১-১ সমতায় ফিরে। বিরতির পর ৫৬ মিনিটে রাসমুস ক্রিস্টেনসেনের হেড পর্তুগালের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলে ডেনমার্ক আবার এগিয়ে যায় (২-১)। তবে ৭২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে রোনালদো ফিরতি শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান (২-২)। এর মাত্র চার মিনিট পরেই প্যাট্রিক ডরগু ও ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের সমন্বিত আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে ডেনমার্ক আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপরই নায়ক হয়ে ওঠেন ত্রিনকাও। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এবং অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে দুটি চমৎকার গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন (৪-৩)। এরপর ১০৫তম মিনিটে দিওগো জোটার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে শেষ মুহূর্তে রামোস খালি পোস্টে বল জড়িয়ে ৫-৩ ব্যবধানে দলের জয় নিশ্চিত করেন, নিশ্চিত করেন সেমিফাইনালে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জার্মানি। এই ম্যাচের মাধ্যমে পর্তুগাল ২০২ মিনিট গোল করতে না পারার খরা কাটায়। যা ২০২২ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের ১৮৮ মিনিট গোলশূন্য থাকার রেকর্ডের চেয়েও দীর্ঘ ছিল। তবে তাদের প্রথম গোলটি প্রতিপক্ষ আন্দারসেনের আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে আসে।
উরুগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কষ্টার্জিত জয়

উরুগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কষ্টার্জিত জয় উরুগুয়ের মাঠে আর্জেন্টিনাকে লড়াই করতে হয়েছে বেশ। জালের খোঁজে থাকতে হয়েছে লম্বা সময় ধরে। বিরতির পর ত্রাতা হয়ে আসলেন থিয়াগো আলমাদা। এই গোলেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের।বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আজ সকালে উরুগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। বিরতির পর একমাত্র গোলটি করেন আলমাদা। এতে বিশ্বকাপ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। আগামী ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১ পয়েন্ট আদায় করতে পারলেই বিশ্বকাপে যাবে তারা। লিওনেলে মেসি ছাড়া উরুগুয়ের মাঠে খেলতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। ১৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন পারেদেস। তবে সেটি সফল হয়নি। ৩৩তম মিনিটে সুযোগ পায় উরুগুয়ে। তবে জর্জিয়ান দে আরকায়েস্তার দ্রুতগতির শট ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। বিরতির পর ৪৮তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে আলমাদার শট ঠেকিয়ে দেন উরুগুয়ে গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর ফেদে ভালভার্দে শট নেন। তবে সেটিও প্রতিহত হয়। ৬৮তম মিনিটে গিয়ে ডেডলক ভাঙেন আলমাদা। হুলিয়ান আলভারেস থেকে পাওয়া বল দারুণ শটে জালে পাঠান তিনি। পরে আর কেউ ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার নিকো গঞ্জালেস। ১৩ ম্যাচে নয় জয় ও এক ড্রয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্জেন্টিনা। ২২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে এসেছে একুয়েডর। ২১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ব্রাজিল। ২০ পয়েন্ট নিয়ে পরের দুটি স্থানে যথাক্রমে উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে।
আলিসনকে হারাল ব্রাজিল

আলিসনকে হারাল ব্রাজিল কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলতে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছেন আলিসন বেকার। ব্রাজিল থেকে তাই তিনি ফিরে গেছেন লিভারপুলে। এদিকে চোটের কারণে নেই এদারসনও। অভিজ্ঞ দুই গোলরক্ষককে হারিয়ে বিপদেই পড়েছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে গতকাল বাংলাদেশ সময় সকালে কলম্বিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল। ওই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সংঘর্ষে মাথায় চোট পান দাভিনসন সানচেস ও আলিসন। দুজনকেই মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় কিছু সময়। পরে চিকিৎসকরা এসে দেখভাল করেন। সানচেস স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেও আলিসন শুশ্রুষা নিয়ে হেঁটে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচের পর জানা যায় আলিসনের চোট কতখানি। এক বিবৃতিতে লিভারপুল জানায়, ‘মার্সিসাইডে ফিরে আসছে আলিসন। সেখানে লিভারপুলের চিকিৎসকরা তার অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। ১৩ ম্যাচে ৬ জয় ও ৩ ড্রয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলেন তিন নম্বরে রয়েছে ব্রাজিল। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্জেন্টিনা। ২২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে একুয়েডর।
ভিনিসিয়ুসের অন্তিম মুহূর্তের গোলে বাঁচল ব্রাজিল

ভিনিসিয়ুসের অন্তিম মুহূর্তের গোলে বাঁচল ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের টেবিলে, এমনিতেই ব্রাজিলের অবস্থান ছিল নড়বড়ে। আজ সকালে যখন ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজানোর অপেক্ষায় ছিলেন রেফারি তখন কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলের সমতায় ছিল সেলেসাওরা। তবে একদম শেষ দিকে ত্রাতা হয়ে আসলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ফলে ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসল ব্রাজিল। তবে আজকের ম্যাচে জয় না পেলে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে যেতে হতো দরিভাল জুনিয়রের দলকে। ঘরের মাঠ মানে গারিনভা স্টেডিয়ামে অবশ্য দাপট দেখিয়েছে ব্রাজিলই।
সবার আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলো জাপান

সবার আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলো জাপান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাহরাইনের বিপক্ষে জয় পেল জাপান। এই জয়ে বিশ্বকাপও নিশ্চিত হয়ে গেল তাদের। একইসঙ্গে প্রথম দল হিসেবে তারা নিশ্চিত করলো ২০২৬ বিশ্বকাপ। এ নিয়ে টানা অষ্টমবারের মতো বৈশ্বিক এই মঞ্চে খেলবে তারা। আজ নিজেদের মাঠে এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে বাহরাইনকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে জাপান। দুটি গোলই হয় দ্বিতীয়ার্ধে। ডাইছি কামাডা দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তাকেফেসা কুবো। ২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে হবে প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। তাদের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে জাপান। বাছাইপর্বের সাত ম্যাচে ৬ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৯ পযেন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থাকা জাপান তিন ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপ। তাদের সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের ছয় দলের মধ্যে দুইয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া।
ব্রাজিল ম্যাচে নেই মেসি

ব্রাজিল ম্যাচে নেই মেসি দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। আসন্ন এই দুই ম্যাচের দলে নেই লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি আজ ২৬ সদস্যের স্কোয়াড দিয়েছেন। যেখানে নেই ইন্টার মায়ামি তারকা। মেসি ছাড়াও প্রাথমিক দলে থাকা আরো ৬ ফুটবলার- গনসালো মন্তিয়েল, ফ্রান্সিসকো ওর্তেগা, জিওভানি লো সেলসো, আলেহান্দ্রো গারনাচো, ক্লদিও এচেভেরি, পাওলো দিবালা নেই দলে। আগামী ২২ মার্চ উরুগুয়ের বিপক্ষে খেকবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে হবে ম্যাচটি। পরের ম্যাচে ২৬ মার্চ, ব্রাজিলের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আর্জেন্টিনা স্কোয়াড: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হেরেনিমো রুলি, ওয়ালতার বেনিতেজ, নাহুয়েল মলিনা, হুয়ান ফয়েথ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, হেরমান পেসেলা, লিওনার্দো বালেরদি, , নিকোলাস ওতামেন্দি, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস তালিয়াফিকো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল, এজেকিয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্তার, মাক্সিমো পেরোনে, জুলিয়ানো সিমিওনে, বেঞ্জামিন দমিনগেজ, থিয়াগো আলমাদা, নিকোলাস গঞ্জালেস, নিকোলাস পাজ, আনহেল কোরেয়া, হুলিয়ান আলভারেজ, লাওতারো মার্তিনেজ, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো