২০ টাকার সম্মানী থেকে চলচ্চিত্রের ইতিহাস- রাজ্জাকের পথচলা

২০ টাকার সম্মানী থেকে চলচ্চিত্রের ইতিহাস- রাজ্জাকের পথচলা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রাজ্জাক একটি আবেগের নাম, এক নির্ভরতার প্রতীক। অথচ তার শুরুটা ছিল নিতান্তই সাধারণ। ‘রতন লাল বাঙালি’ সিনেমায় একজন পকেটমারের ছোট্ট চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়েছিলেন তিনি। পরে ‘শিলালিপি’ ছবির একটি গানের দৃশ্যে অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র ২০ টাকা সম্মানী। সেই সামান্য অর্থই বাড়িয়ে দিয়েছিল আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্ন দেখার সাহস। তখন কেউ কল্পনাও করেননি, একদিন তিনিই হবেন বাংলা সিনেমার অবিসংবাদিত নায়ক। ১৯৪১ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার নাকতলা এলাকার এক জমিদার পরিবারে জন্ম রাজ্জাকের। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। সচ্ছল পরিবেশে বেড়ে উঠলেও অভিনয়ের প্রতি টান জন্ম নেয় স্কুলজীবনেই। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক শিক্ষকের অনুরোধে মঞ্চনাটকে অভিনয় করে নজর কাড়েন। সুদর্শন চেহারা ও সহজাত অভিনয়গুণে ধীরে ধীরে থিয়েটারপাড়ায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সেখান থেকেই মাথায় ঢুকে পড়ে সিনেমার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন নিয়েই পাড়ি জমান তৎকালীন বম্বেতে। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। ফিরে আসেন কলকাতায়। জীবনের এই সময়েই তার জীবনে আসেন খায়রুন্নেসা—যিনি হয়ে ওঠেন তার শক্তি ও আশ্রয়। ২০ বছর বয়সে বিয়ে, এক বছরের মধ্যেই সন্তান লাভ। এর পরপরই শুরু হয় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। জন্মভূমি ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পূর্ব বাংলায় চলে আসেন রাজ্জাক। কমলাপুরে ৮০ টাকা মাসিক ভাড়ার বাসায় নতুন জীবনের শুরু। দেশান্তরিত হলেও স্বপ্ন ছাড়েননি। ঢাকায় থিয়েটার ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষের খোঁজে ঘুরে বেড়ান তিনি। নির্মাতা আব্দুল জব্বার খানের সঙ্গে পরিচয় রাজ্জাকের জীবনে বড় মোড় এনে দেয়। তাঁর সহায়তায় কামাল আহমেদের ‘উজালা’ সিনেমায় সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন রাজ্জাক। জীবিকার তাগিদে তখন টিভি নাটকে অভিনয় করতেন। সপ্তাহে আয় হতো ৬০–৬৫ টাকা, অথচ সংসারের খরচ ছিল প্রায় ৬০০ টাকা। সন্তানদের দুধ জোগাড় করতেই সব টাকা শেষ হয়ে যেত। অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই উপোস থাকতে হয়েছে। সংগ্রামের মাঝেই ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা দিয়ে জায়গা করে নেন মূলধারার সিনেমায়। ১৯৬৫ সালে ‘আখেরি স্টেশন’ সিনেমায় সহকারী স্টেশনমাস্টারের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকার চলচ্চিত্রে তার আত্মপ্রকাশ। এরপর একের পর এক ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে করতে আসে জীবনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সিনেমায় প্রথমবার নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রাজ্জাক। একসময়ের ‘এক্সট্রা’ রাতারাতি হয়ে ওঠেন দর্শকপ্রিয় নায়ক। ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেন তিনি। সত্তর ও আশির দশকে রাজ্জাক হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত নায়ক। ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘রংবাজ’, ‘স্বরলিপি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’সহ অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বাংলা সিনেমাকে নিয়ে যান নতুন উচ্চতায়। তাঁর রোমান্টিক উপস্থিতিতে মুগ্ধ হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাট। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও রেখেছেন সাফল্যের ছাপ। ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন রাজ্জাক। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার।
মেয়ের ছবি তুলতেই রেগে গেলেন বিপাশা

মেয়ের ছবি তুলতেই রেগে গেলেন বিপাশা ছবি শিকারিদের দৌরাত্ব্যে বিপর্যস্ত বলিউডের নায়ক-নায়িকারা। পরিবার-প্রিয়জনের সঙ্গে হোক বা সন্তানের সঙ্গে, তাদের দেখা গেলেই ক্যামেরা রীতিমতো তাক করে ‘এক্সক্লুসিভ’ ছবি বা ভিডিও পাওয়ার জন্য। আর তাতেই বিরক্তির মাত্রা এমন চরমে পৌঁছায় যে মাঝেমাঝেই তা নিয়ে গর্জে ওঠেন তারকারা। এবার সেই তালিকায় উঠে এলে বাঙালি কন্যা ও বলিউড নায়িকা বিপাশা বসুর। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে বান্দ্রায় মেয়ে দেবীকে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন বিপাশা। কোলে ছিল তার সন্তান। গাড়ি থেকে নামামাত্রই বিপাশার কোলে তার মেয়েকে দেখামাত্রই ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ঝলক দিয়ে ওঠে। তা বুঝতে পেরেই রীতিমতো মেজাজ হারান বিপাশা। ওই সময় রীতিমতো প্রতিবাদ করেন বিপাশা। মেয়ের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে ক্যামেরা থেকে আড়াল করে মুখে বিরক্তি নিয়ে বিপাশা ওই ফটোগ্রাফারকে বলেন, ‘কে আপনি?’ প্রশ্ন ছুড়েই তাড়াতাড়ি লিফটের দিকে পা বাড়ান তিনি। তার পিছনেই দেখা যায় তার স্বামী করণ সিং গ্রোভারকেও। ক্যামেরা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনিও। বলে রাখা ভালো, এর আগে বিপাশাকে ক্যামেরাবন্দি করে তার আমূল পাল্টে যাওয়া চেহারা নিয়ে নানা ট্রোল ও মিম হয়েছে সামাজিকমাধ্যমে। সেক্ষেত্রেও একটা বড় ভূমিকা ছিল পাপারাজ্জিদের। ক্যামেরাবন্দি করা বিপাশার বিভিন্ন ভিডিও সেইসময় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে পাপারাজ্জিদের থেকে সন্তানকে আড়াল করার এমন ঘটনা ঘটেছে দীপিকা পাড়ুকোনের ক্ষেত্রেও। মেয়ে দুয়াকে নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় বিনা অনুমতিতে মেয়ে দুয়ার ছবি ক্যামেরাবন্দি করলে রীতিমতো বিরক্ত হয়েছিলেন দীপিকা।
আমি মন থেকে বিবাহিত

আমি মন থেকে বিবাহিত রিনা দত্ত, কিরণ রাওয়ের সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার পর বলিউড অভিনেতা আমির খানের একাকীত্ব নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। মাঝে অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখের সঙ্গে তার নাম জড়ালেও সেটি গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের নতুন সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করলেন আমির খান। প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন টিনসেল টাউনের আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ৬০ পেরিয়ে ৬১ বছরে পা রাখা এই অভিনেতা। গৌরীর সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে আমির বলেন, গৌরী ও আমি দুজনেই এই সম্পর্ককে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা পরস্পরের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার কথায় স্পষ্ট, এই সম্পর্ক কেবল আবেগের নয়, দায়িত্ব ও বিশ্বাসের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আবেগপ্রবণ হয়ে আমির আরও বলেন, আমি মন থেকে ইতোমধ্যেই গৌরীর সঙ্গে বিবাহিত। তবে সামাজিক নিয়মকানুন কিংবা আনুষ্ঠানিক বিয়ের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি। আমিরের ভাষায়, বিয়ের মতো যে ধরনের নিয়মকানুন থাকে, সেগুলো সময়মতো আপনাদের জানাব। আমাদের সম্পর্কটা আরও কিছুটা সামনে এগিয়ে যাক। জানা গেছে, বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী গৌরী স্প্র্যাট পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে স্বাবলম্বী। তিনি এক পুত্রসন্তানের জননী। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ে আমির খানের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। দুজনের বয়সের ব্যবধান ১৪ বছর হলেও তাদের সম্পর্কের রসায়নে তা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
ট্রলিং নিয়ে মুখ খুললেন বুবলী, চাইলেন সাইবার ক্রাইমের সহযোগিতা

ট্রলিং নিয়ে মুখ খুললেন বুবলী, চাইলেন সাইবার ক্রাইমের সহযোগিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত ট্রলিংয়ের শিকার হন অভিনয়শিল্পীরা। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম বুবলী। বিষয়টি নিয়ে সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহযোগিতা চাইলেন তিনি। সম্প্রতি একটি শোরুম উদ্বোধন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বুবলী বলেন, আমার কাছে খুব দুঃখ লাগে যে ইদানিং মেয়েরা মেয়েদেরকে বেশি ট্রলিং করে। অনেক হিজাব পরা নারী আছেন, বলতে বাধ্য হচ্ছি- তারাও অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন। আমার মনে হয়, এটা আমাদের ইসলামকে অবমাননা করা। কারণ, আমাদের ইসলামে গিবত করাকে সবচেয়ে বেশি জঘন্য কাজ বলে গণ্য করা হয়। এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহযোগিতা কামনা করে নায়িকা বলেন, শিল্পীদের দেশের বাইরে ছোট করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি মনে করি, দেশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের দ্রুত এই বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো মা হচ্ছেন বুবলী, এমন গুঞ্জন বাজারে ছড়িয়েছে। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রহস্য রেখেছেন তিনি। বলেছেন, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকতেই পারে, আমি তাকে সম্মান করি। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য আলাদা সময় ও উপলক্ষ থাকা প্রয়োজন।
সুখবর দিলেন সোনম কাপুর

সুখবর দিলেন সোনম কাপুর কাপুর পরিবারে আবারও খুশির জোয়ার। দুই বছর আগে পুত্রসন্তান বায়ুর আগমনের পর এবার দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর। নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বেবি বাম্পের ছবি শেয়ার করে এই ঘোষণা দেন অনিল-কন্যা। শুধু সুখবর দিয়েই থামেননি সোনম; বরাবরের মতো নিজের ফ্যাশন সেন্স দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনদের। সাধারণত গর্ভাবস্থায় ঢিলেঢালা পোশাকের চল থাকলেও সোনম বেছে নিয়েছেন সাহসের সঙ্গে শরীরের বাঁক ফুটিয়ে তোলা একটি ‘বডি-ফিটেড’ কালো পোশাক। বোন রিয়া কাপুরের স্টাইলিংয়ে সোনমের এই ‘ম্যাটারনিটি লুক’ ছিল আভিজাত্যে ভরপুর। হাই-নেক ক্রপ টপ, ডাবল কলার ব্লেজার আর পেন্সিল-ফিট ম্যাক্সি স্কার্টে তিনি যেন এক আধুনিক দেবীর প্রতিচ্ছবি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আনন্দ আহুজাকে বিয়ে করেন সোনম। ২০২২ সালে তাদের কোলজুড়ে আসে প্রথম সন্তান বায়ু। বর্তমানে ৪০ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মাতৃত্বের স্বাদ নিতে যাওয়া এই অভিনেত্রী তার সাহসিকতা ও আভিজাত্যের জন্য অনুরাগীদের প্রশংসায় ভাসছেন।
রেগে গিয়ে সহ-অভিনেতার গায়ে হাত তুলেন পূজা?

রেগে গিয়ে সহ-অভিনেতার গায়ে হাত তুলেন পূজা? তামিল সিনেমা ‘মুগামুড়ি’র মাধ্যমে অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ করেন ভারতের দক্ষিণী অভিনেত্রী পূজা হেগড়ের। অবশ্য মডেলিংয়ে তার আগেই পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউডেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মহেঞ্জোদরো’ সিনেমাতে হৃতিক রোশনের বিপরীতে দেখা য়ায় পূজাকে। সালমান খানের বিপরীতে ‘কিসি কি ভাই কিসি কি জান’-এও অভিনয় করেন তিনি। এই পূজাই নাকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বড় এক তারকাকে চড় কষান! বিতর্কের সূত্রপাত এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এক পুরুষ সহ-অভিনেতার সঙ্গে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা নাকি প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি ‘প্যান-ইন্ডিয়া’ সিনেমার শুটিং চলছিল। এতে তার সহ-অভিনেতা অনুমতি ছাড়াই পূজার ভ্যানিটি ভ্যানে ঢুকে পড়েন এবং অশোভন আচরণ করেন। আরও দাবি করা হয়, ওই ঘটনায় পূজা তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানান এবং পরে সিনেমার নির্মাতাদের জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে তিনি ওই অভিনেতার সঙ্গে আর কাজ করবেন না। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয় অভিনেত্রী নাকি সহ-অভিনেতাকে চড়ও মারেন। এর পরই সামাজিকমাধ্যমে পূজাকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন কেউ। আবার অনেকে সেই সহ-অভিনেতার খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। এরপরই ইন্ডাস্ট্রির ট্র্যাকার রমেশ বালা জানান, পূজার নামে ছড়িয়ে পড়া এই সাক্ষাৎকার সম্পূর্ণ ভুয়া। তার কথায়, এই বক্তব্যের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। যাচাই না করা তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানান তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বড় বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করলেও সে ভাবে হিট সিনেমা নেই পূজার ঝুলিতে। সামনে থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে ‘জয়নয়াগন’ সিনেমায় দেখা যাবে পূজাকে।
আমরা অভিভাবকতুল্য একজন মানুষকে হারালাম: শাকিব খান

আমরা অভিভাবকতুল্য একজন মানুষকে হারালাম: শাকিব খান পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য, কিংবদন্তি অভিনেতা ও বিশিষ্ট নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। প্রিয় শিল্পীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকেই। দেশের শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খান শোক প্রকাশ করে একটি পোস্ট দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। জাভেদের সাদা-কালো একটি ছবি পোস্ট করে শাকিব খান লেখেন, “চলে গেলেন চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নৃত্যপরিচালক, শ্রদ্ধেয় ইলিয়াস জাভেদ। তার প্রয়াণে আমরা হারালাম শুধু একজন শিল্পীকে নয়, হারালাম একজন অভিভাবকতুল্য মানুষকেও।”শরীরিভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও জাভেদ বেঁচে থাকবেন তার কর্মে। এ তথ্য উল্লেখ করে শাকিব খান লেখেন, “তিনি আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেও পর্দায় ও শিল্পাঙ্গনে রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি ও অবদান, যা তাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঁচিয়ে রাখবে। তার সৃষ্টিকর্ম ও অনুপ্রেরণা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাভেদ। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার ও হৃদরোগে ভুগছিলেন বর্ষীয়ান এই শিল্পী। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, “আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। এক পর্যায়ে বাসায় রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছিল। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স নিয়মিত এসে তাকে দেখতেন। সকালে নার্সরা এসে জানান, তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।” ষাটের দশকে নৃত্য পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন ইলিয়াস জাভেদ। কায়সার পাশা পরিচালিত উর্দু ভাষার সিনেমা ‘মালান’–এ প্রথম নৃত্য পরিচালনা করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়া জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমায় শাবানার বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রায় দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন জাভেদ। নব্বই দশক পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ছিলেন দর্শকপ্রিয় নায়ক। জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহজাদী, নিশান, রাজকুমারী চন্দ্রভান, কাজল রেখা, সাহেব বিবি গোলাম, নরম গরম, তিন বাহাদুর, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, চোরের রাজা, জালিম রাজকন্যা প্রভৃতি।
বিমানবন্দরে দুই টন সোনা ও ইমরান হাশমির ‘তাসকারি’

বিমানবন্দরে দুই টন সোনা ও ইমরান হাশমির ‘তাসকারি’ নীরজ পাণ্ডে নির্মিত নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘Taskaree : The Smugglers Web’ তাসকারি, মুম্বাই বিমানবন্দরের কাস্টমস বিভাগের ভেতরের জটিল ও রহস্যময় জগৎকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রায় দুই হাজার একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিদিন লাখো যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। সেই বিশাল ব্যবস্থার আড়ালেই সক্রিয় একটি শক্তিশালী চোরাচালান চক্র এবং তাদের মোকাবেলায় নিয়োজিত সৎ ও সাহসী কিছু কর্মকর্তার টানটান লড়াই তুলে ধরা হয়েছে সিরিজটিতে। এ বছরে মুক্তি পাওয়া সিরিজগুলোর মধ্যে আলোচনায় রয়েছে এটি। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুপারিনটেনডেন্ট অর্জুন মীনা (ইমরান হাশমি), যিনি একসময় বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন দক্ষ কর্মকর্তাকে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি বিশেষ দল। তাদের লক্ষ্য—চোরাচালান সম্রাট বড়া চৌধুরী (শরদ কেলকর) পরিচালিত সুসংগঠিত অপরাধচক্রকে ভেঙে দেওয়া। এই পুরো অভিযানের তদারকিতে থাকেন অর্থমন্ত্রীর নিযুক্ত প্রতিনিধি প্রকাশ কুমার (অনুরাগ সিনহা), যাকে সবাই একজন সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তা হিসেবেই জানে। দায়িত্ব নেওয়ার পরই কুমার দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে সক্রিয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে বদলি করেন। এরপর তিনি পুনরায় কাজে ফেরান তিনজন বরখাস্ত হওয়া কিন্তু বিশ্বস্ত অফিসারকে—অর্জুন মীনা, রবি গুজ্জর (নন্দীশ সান্ধু) এবং মিতালী শর্মা (অমৃতা খানভিলকর)। মীনা দলের কৌশলবিদ, রবি সাহসী ও নীতিবান ফিল্ড অফিসার, আর মিতালী দক্ষতা দেখান উচ্চমূল্যের পণ্য শনাক্ত ও দ্রুত কাস্টমস তল্লাশিতে। দলটি শুরুতে ছোট আকারে অবৈধ চালান আটকাতে থাকে। যাত্রী, লাগেজ ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা চোরাচালান চক্রের কাজের ধরন বোঝার চেষ্টা করে। ভেতরের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও অচেনা শক্তির কারণে প্রতিটি অভিযানই হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। রবির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ছিল তার তথ্যসূত্র প্রিয়া (জোয়া আফরোজ)। প্রিয়া নিয়মিতভাবে চালানের সময়, রাহুলসহ গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গতিবিধি এবং শেঠের ডানহাত সুরেশের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করত। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই দলটি সফলভাবে চোরাচালানকারীদের চাল আগেভাগে বুঝে নিতে পারত। দলটি যখন একের পর এক সাফল্য পেতে শুরু করে, তখন বড়া চৌধুরী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘুষের প্রস্তাব দেয় এবং কর্মকর্তাদের পরিবারকে হুমকি দিতে শুরু করে। উত্তেজনার চূড়ান্ত মুহূর্ত আসে, যখন চৌধুরীর নির্দেশে রবি গুজ্জরকে হত্যা করা হয়। ঠিক তখনই প্রকাশ পায় ভয়ংকর সত্য—যাকে সবাই সৎ কর্মকর্তা মনে করেছিল, সেই প্রকাশ কুমার আসলে ব্যাংককে বড়া চৌধুরীর সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছিল। অথচ পুরো সিরিজে প্রকাশকেই প্রধান হিরো মনে হবে। দ্বিতীয় এপিসোড থেকে এই সিরিজের সামনে থেকে সরতে মন চাইবে না।
স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে হিরণ
স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে হিরণ নীরবে, অনেকটা আড়ালেই দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা থেকে দূরে, বেনারসে গিয়ে চার হাত এক হয়েছে বলে দাবি। বিষয়টি সামনে আসে যখন হিরণ নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের একাধিক ছবি শেয়ার করেন। শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, কনে হিসেবে রয়েছেন ২০১৯ সালের মিস ইস্ট ইন্ডিয়া ঋতিকা গিরি। লাল বেনারসিতে, হাতে শাঁখা-পলা ও সোনার গয়নায় সজ্জিত ঋতিকার সিঁথিতে সিঁদুর পরানোর ছবিও পোস্ট করেছেন হিরণ। নিজে পরেছিলেন হলুদ পাঞ্জাবি। পরবর্তী একটি ছবিতে রিসেপশনের ঝলকও দেখা যায়— অফ-হোয়াইট সিল্ক শাড়ি ও লাল ব্লাউজে কনে, আর কালো জ্যাকেটে বর। সামনে সাজানো কেক। তবে এই দ্বিতীয় বিয়ের খবর সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা-র সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। পেশায় ব্যবসায়ী অনিন্দিতা একটি ক্যাফে পরিচালনার পাশাপাশি ডিজাইনার শাড়ি, গয়না ও এথনিক সামগ্রীর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কী বোঝালেন হিরণ, তিনি অন্যদের মতো নন? হিরণের শেয়ার করা বিয়ের ছবির কমেন্ট সেকশনেই এক নারীর মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। ওই মন্তব্যে দাবি করা হয়, ডিভোর্স না নিয়েই দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন হিরণ। মন্তব্যে লেখা, “তুমি এখনও আমার বান্ধবী অনিন্দিতার সঙ্গে বিবাহিত। ডিভোর্স হয়নি। কী করে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারো?” যদিও এই মন্তব্যের সত্যতা বা অভিযোগের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— আদৌ কি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়? এই বিষয়ে অভিনেতা বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, বিয়ের ছবি প্রকাশের পর যেখানে একদিকে শুভেচ্ছা বার্তা আসছে, অন্যদিকে সেখানে উঠছে গুরুতর প্রশ্নও। হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের বাস্তব সত্য কী, তা জানতে আপাতত তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে টলিউড ও রাজনৈতিক মহল।
৪২ বছর পর একসঙ্গে ফিরছেন রঞ্জিত-চিরঞ্জিত ও প্রসেনজিৎ!

৪২ বছর পর একসঙ্গে ফিরছেন রঞ্জিত-চিরঞ্জিত ও প্রসেনজিৎ! ১৯৮৪ সালে মুক্তি পায় অঞ্জন চৌধুরী পরিচালিত ‘শত্রু’। সেই সময় সিনেমাটি বক্স অফিসে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিল। সেখানে একত্রে দেখা গিয়েছিল রঞ্জিত মল্লিক, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। দীর্ঘ ৪২ বছর পর রঞ্জিত মল্লিক ও চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর সঙ্গে নতুন সিনেমার ঘোষণা করলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এত বছর পর এই ত্রয়ীকে আবারও বড়পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়ে গেছে হইচই। রোববার (১৮ জানুয়ারি) মুক্তি পেয়েছে এসভিএফ প্রযোজিত এবং চন্দ্রাশিস রায় পরিচালিত সিনেমা ‘বিজয়নগরের হীরে’ সিনেমার ট্রেলার। এই অনুষ্ঠানেই এই বোমা ফাটালেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। জানালেন তার ইচ্ছে তিনি চিরঞ্জিত চক্রবর্তী এবং রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে কাজ করবেন আবার। ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানে যখন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি আর চিরঞ্জিত চক্রবর্তী আবার একসঙ্গে কাজ করবেন কিনা? সেই প্রশ্নের জবাবে বুম্বাদা বলেন, আমরা একটা সিনেমা করব, খুব শিগগিরই। এটা আমার অনেকদিন ধরে ইচ্ছে, আমি দীপক দা (চিরঞ্জিত চক্রবর্তী), রঞ্জিত দা একসঙ্গে সিনেমা করব। তার কথার রেশ ধরেই চিরঞ্জিত চক্রবর্তীও বলেন, হ্যাঁ, এটা অনেকদিন ধরে বলছে। প্রসঙ্গত, ২৫ বছর পর ‘বিজয়নগরের হীরে’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজির এই চতুর্থ সিনেমাটি আগামী ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পাবে। সিনেমাটিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং চিরঞ্জিত চক্রবর্তী ছাড়াও থাকবেন আরিয়ান ভৌমিক, রাজনন্দিনী পাল, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, অনুজয় চট্টোপাধ্যায়, প্রমুখ।