এবার ‘রাকা’ চরিত্রে পর্দা কাঁপাবেন আল্লু অর্জুন, ৯ ভাষায় পোস্টার প্রকাশ

এবার ‘রাকা’ চরিত্রে পর্দা কাঁপাবেন আল্লু অর্জুন, ৯ ভাষায় পোস্টার প্রকাশ তেলেগু সুপারস্টার আল্লু অর্জুন এবং ব্লকবাস্টার পরিচালক অ্যাটলির প্রথম কোলাবোরেশন নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এতদিন ছবিটি ‘এএ২২এক্সএ৬’ (AA22xA6) নামে পরিচিত থাকলেও, অবশেষে বুধবার অভিনেতার ৪৪তম জন্মদিনে ছবিটির আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিনেমাটির নাম রাখা হয়েছে ‘রাকা’। জন্মদিনের উপহার হিসেবে আল্লু অর্জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির ফার্স্ট লুক পোস্টার শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে এক বিধ্বংসী এবং ভয়ংকর অবতারে দেখা গেছে। কৌতূহলের বিষয় হলো, নির্মাতারা হিন্দি, ইংরেজি এবং আরও পাঁচটি আঞ্চলিক ভাষাসহ মোট ৯টি ভিন্ন ভাষায় এই পোস্টারটি প্রকাশ করেছেন, যা একটি প্যান-ইন্ডিয়া রিলিজের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। প্রকাশিত পোস্টারটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আল্লু অর্জুনকে এখানে চেনার উপায় নেই। কৃত্রিম মেকআপ বা প্রস্থেটিক্সের ব্যবহারে তাকে অনেক বয়স্ক দেখানো হয়েছে। চোখে গাঢ় কাজল এবং উলের পোশাকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা একটি বিশাল নখ বা থাবা তার চরিত্রটির ভয়াবহতার আভাস দিচ্ছে। পোস্টারের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, সীমাহীন এক কল্পনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন। সান পিকচার্স প্রযোজিত এই সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশন ড্রামাটি গত এপ্রিলে আল্লু অর্জুনের ৪৩তম জন্মদিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এটি অভিনেতা ও পরিচালক অ্যাটলির প্রথম কাজ। গুঞ্জন রয়েছে, ‘রাকা’ ছবিতে আল্লু অর্জুন চারটি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেন—দাদু, বাবা এবং দুই ছেলে। গল্পটি দুটি সমান্তরাল মহাবিশ্বের ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে, যদিও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। এই বিগ বাজেট ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করছেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। পিঙ্কভিলার রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘রাকা’ ছবির জন্য আল্লু অর্জুন প্রায় ১৭৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, পাশাপাশি লভ্যাংশের ১৫ শতাংশ অংশীদারত্বের চুক্তিও রয়েছে। অন্যদিকে, পরিচালক অ্যাটলি এই সিনেমার জন্য ১০০ কোটি রুপি নিচ্ছেন। রিপোর্টটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলচ্চিত্রটির মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৮০০ কোটি রুপি, যার মধ্যে প্রায় ২০০ কোটি রুপি উৎপাদন খরচ এবং ২৫০ কোটি রুপি ভিজ্যুয়াল এফেক্টস বা ভিএফএক্সের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ‘রাকা’ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় এবং প্রতীক্ষিত প্রজেক্ট হতে চলেছে।

সালমান শাহ হত্যা : সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৪ মে

সালমান শাহ হত্যা : সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৪ মে কিংবদন্তি চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ মে দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন। এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন— সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন। মোহাম্মদ আলমগীর এজহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বড় পর্দায় বিনামূল্যে আসছে রাহুলের ‘ছবিওয়ালা’

বড় পর্দায় বিনামূল্যে আসছে রাহুলের ‘ছবিওয়ালা’ শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অনুরাগীদের জন্য সুখবর, রাহুলের অপ্রকাশিত কাজ পরিচালক শুভ্রজ্যোতি বাপ্পার সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’ বড় পর্দায় বিনামূল্যে দেখানো হবে। পরিচালক জানান, ছবিটি কোনও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মুক্তি পাচ্ছে না; এটি রাহুলের প্রতি শিল্পী ও সহকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। সিনেমায় রাহুলকে দেখা যাবে একজন ফটোগ্রাফার ও শিল্পী বিশ্বকর্মার চরিত্রে, যিনি তার নান্দনিক দক্ষতা সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। তাঁর কাজ অন্যদের চোখে ঠিকমত প্রাধান্য পায় না, কেবল মৃত মানুষের ছবি তোলার দিকে তার মনোযোগ থাকে। অর্থকষ্ট সামলাতে স্ত্রী মালা (দেবলীনা দত্ত) কারখানায় কাজ করে সংসার চালান। পরিচালক বাপ্পা বলেন, ছবিতে রাহুল একজন শিল্পীর সংগ্রাম দেখিয়েছেন। চরিত্রটি জীবদ্দশায় স্বীকৃতি পাননি, কাকতালীয়ভাবে সেই স্বীকৃতি আসে মৃত্যুর পর। শেষ দৃশ্যটি যেখানে চরিত্রটি জলে ডুবে মারা যায়, বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে আরও ভারাক্রান্ত। প্রাথমিকভাবে ছবির নাম ছিল ‘নেগেটিভ’, পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ছবিওয়ালা’। পরিচালক আবেগপ্রবণভাবে বলেন, ‘রাহুল শুধু একজন প্রতিভাবান অভিনেতা নন, তিনি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য গাইড ও অনুপ্রেরণা। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওঁর কাছে আজীবন ঋণী থাকব।’ সিনেমার মিউজিক করেছেন সৌম্যঋত, টাইটেল ট্র্যাকের কণ্ঠ দিয়েছেন রূপম ইসলাম, এছাড়া সোমলতা আচার্য ও জোজো মুখোপাধ্যায়ের গানও রয়েছে। ছবিটিকে শিল্পী ও দর্শকদের মাঝে রাহুলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিনামূল্যে বড় পর্দায় দেখানো হবে।

রাহা থেকে ‘রামায়ণ’ বিতর্কে রণবীর

রাহা থেকে ‘রামায়ণ’ বিতর্কে রণবীর বলিউডের ‘চকলেট বয়’ ইমেজ ঝেড়ে ফেলে রণবীর কাপুর এখন পুরোপুরি মগ্ন পৌরাণিক মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ নিয়ে। পর্দার শ্রীরামচন্দ্র হয়ে উঠতে গত কয়েক মাস ধরেই কঠোর পরিশ্রম করছেন তিনি। তবে এই ছবির নেপথ্যে রণবীরের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কোনো পরিচালক বা চিত্রনাট্য নয়, বরং তার আদরের মেয়ে রাহা কাপুর।  সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রণবীর নিজেই জানিয়েছেন, কীভাবে শুটিংয়ের রামায়ণ আর জীবনের রাহা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। রণবীর জানান, শুটিং থেকে বাড়ি ফিরে তিনি নিয়মিত রাহাকে রামায়ণের গল্প শোনান। ছোট্ট রাহা সেই গল্পে এতটাই মজে থাকে যে, বাবা বাড়ি ফেরামাত্রই তার জিজ্ঞাসার অন্ত থাকে না। রণবীরের কথায়, ‘রাহা এখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘আজ কি তুমি হনুমানের সঙ্গে শুটিং করলে?’ কিংবা ‘আজ সীতার সঙ্গে কী করলে?’ মেয়ের এই কৌতূহল আমাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।’ রণবীর শুরুতে এই ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার মনে হয়েছিল, রামের মতো এমন একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ চরিত্রের জন্য তিনি সম্ভবত মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। কিন্তু রাহার জন্মের পর জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। পরিচালক নীতিশ তিওয়ারির দুই পর্বের এই ‘রামায়ণ’ নির্মিত হচ্ছে প্রায় ৪০০০ কোটি রুপি বাজেটে। যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি হতে যাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছবির প্রথম পর্ব ২০২৬ সালের দীপাবলিতে এবং দ্বিতীয় পর্ব ২০২৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তবে ছবির টিজার প্রকাশের পর থেকেই বলিউড পাড়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিতর্ক উসকে দিয়েছেন নির্মাতা সঞ্জয় গুপ্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একটি রহস্যময় পোস্টে লেখেন, ‘পাহাড় খুঁড়ে ইঁদুর বেরোল।’ নেটিজেনদের ধারণা, রামায়ণের টিজার দেখেই তিনি এমন খোঁচা দিয়েছেন। সঞ্জয় আরও একটি পোস্টে ভিএফএক্স সংস্থা ডিএনইজি-র দিকে ইঙ্গিত করে লেখেন, ‘অস্কার আসলে ভিএফএক্স কোম্পানি নয়, টেকনিশিয়ানরা জেতে।’ যদিও বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

নোরা ফাতেহির গান নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না

নোরা ফাতেহির গান নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না নোরা ফাতেহির নতুন গান ‘সরকে চুনর তেরি’ নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। গানটির কুরুচিপূর্ণ কথা এবং দৃশ্যায়ন নিয়ে জল গড়িয়েছে ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন পর্যন্ত। এই ঘটনায় গত ৭ এপ্রিল নোরাকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। হাজিরা এড়ালেও পার পাচ্ছেন না এই আইটেম গার্ল; কমিশন তাকে শেষবারের মতো সশরীরে হাজির হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রহাটকরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ শুনানিতে নোরার অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৭ এপ্রিল। একই ইস্যুতে শুধু নোরাই নন, বিপাকে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্তও। তাকে আগামী ৮ এপ্রিল আলাদাভাবে তলব করেছে কমিশন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বিতর্কিত গানটির গীতিকার রাকিব আলম, পরিচালক প্রেম এবং প্রযোজনা সংস্থা কেভিএন প্রোডাকশনসের প্রতিনিধি গৌতম কেএম ও সুপ্রীত। শুনানির এক পর্যায়ে গানের কথা ও সুর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝাড়েন বিজয়া রহাটকর। এদিকে কমিশনের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে নতি স্বীকার করেছেন ছবির নির্মাতারা। তারা ইতোমধ্যেই জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন বিষয়বস্তু নির্মাণে আরও সতর্ক থাকারও আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

মা হারালেন জেরিন খান

মা হারালেন জেরিন খান বলিউডের ভাইজান সালমান খানের হাত ধরে রূপালি পর্দায় পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী জেরিন খান। ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাইয়ে সবসময় ছায়ার মতো পাশে পেয়েছিলেন যাকে, সেই প্রিয় মাকে হারালেন তিনি। দীর্ঘদিনের লড়াই থামিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেত্রীর মা পারভীন খান। আজ সকালে ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পারভীন খান। আজ সকাল ১০টার দিকে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেই এ শোক সংবাদ ভক্তদের জানিয়েছেন জেরিন। কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন পারভীন খান। মায়ের অসুস্থতার কারণে গত বছর থেকেই কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলেন জেরিন। নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিয়েছিলেন মায়ের সেবায়। মাঝেমধ্যেই মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে ভক্তদের কাছে প্রার্থনা চাইতেন এই অভিনেত্রী। মায়ের প্রতি গভীর অনুরাগের কথা জানিয়ে মাসকয়েক আগে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জেরিন লিখেছিলেন, ‘আমি প্রতি মুহূর্তে আমার মায়ের ওপর নির্ভরশীল। মাকে ছাড়া আমি এক পা-ও চলতে পারি না। মা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, তার জন্য সবাই প্রার্থনা করুন।’ মায়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন জেরিন। বলিউডে অভিষেকের পর বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করলেও ক্যারিয়ারে খুব একটা শক্ত অবস্থান গড়তে পারেননি তিনি। তবে পর্দা বা পর্দার বাইরে সবসময় ব্যক্তিজীবনের সরলতা আর মায়ের প্রতি তার ভালোবাসার কারণে আলোচনায় থাকতেন এই অভিনেত্রী।

জন্মদিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, ভয়ংকর রূপে আল্লু অর্জুন

জন্মদিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, ভয়ংকর রূপে আল্লু অর্জুন দক্ষিণী মেগাস্টার আল্লু অর্জুনের জন্মদিন মানেই ভক্তদের কাছে অন্যরকম এক উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রিয় নায়ককে একনজর দেখতে তার হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসের বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার অনুরাগী। তবে অভিনেতার ৪৫তম জন্মদিনের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক পর্যায়ে ভক্তদের ওপর লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় হায়দরাবাদ পুলিশ। গ্তকাল মধ্যরাত থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা আল্লুর বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন। হাতে প্রিয় তারকার ছবি, ফেস্টুন আর আতশবাজি নিয়ে ভক্তদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জনসমুদ্রে পরিণত হলে সেখানে মোতায়েন করা পুলিশ হিমশিম খেতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে ভিড় সামলে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ভক্তরা ব্যারিকেড ভেঙে অভিনেতার বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে, যা ওই এলাকায় রীতিমতো আতঙ্কের সৃষ্টি করে। প্রিয় নায়ককে শুভেচ্ছা জানাতে এসে এমন মারমুখী অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হবে, তা ভাবেননি অনেক অনুরাগীই। এদিকে জন্মদিনের এই ডামাডোলের মধ্যেই ভক্তদের জন্য বড় সারপ্রাইজ দিয়েছেন ‘পুষ্পা’ খ্যাত এই তারকা। প্রকাশ পেয়েছে তার আগামী সিনেমা ‘রাকা’-র প্রথম ঝলক। টিজারে ন্যাড়া মাথায় রাগী লুকে ধরা দিয়েছেন আল্লু, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এই ছবিতে আল্লুর বিপরীতে প্রথমবারের মতো পর্দায় দেখা যাবে বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে। প্রায় ৮০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সিনেমা। ন্যাড়া মাথা তীক্ষ্ণ নখ লোমশ দেহ এবং প্রায় পশুসদৃশ এক চরিত্রে দেখা দিয়েছেন তিনি। এই নতুন লুক ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে তুমুল কৌতূহল তৈরি করেছে। গত দুই বছর ধরে এই বৃহৎ প্রকল্পের চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছেন নির্মাতা অ্যাটলি। বিশৃঙ্খলা আর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রেশ থাকলেও, প্রিয় তারকার নতুন সিনেমার ঝলক দেখে উচ্ছ্বাস থামছে না ভক্ত মহলে। বক্স অফিসে ‘পুষ্পা’র ম্যাজিকের পর এবার ‘রাকা’ দিয়ে আল্লু অর্জুন নতুন কোনো রেকর্ড গড়েন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 সিনেমার প্রচারে ছেঁড়া-ফাটা পোশাক পরে অক্ষয় 

 সিনেমার প্রচারে ছেঁড়া-ফাটা পোশাক পরে অক্ষয়  সিনেমা মুক্তির আগে ‘মেথড ড্রেসিং’ এখন বলিউডে বেশ জনপ্রিয় ট্রেন্ড। চরিত্র বা ছবির থিম অনুযায়ী সাজপোশাক বেছে নিয়ে প্রচারে হাজির হন তারকারা। তবে এবার সেই ট্রেন্ডে নতুন মাত্রা যোগ করলেন অক্ষয় কুমার। আসন্ন ছবি ‘ভূত বাংলা’-র প্রচারে সোমবার একেবারে আলুথালু, ছেঁড়া-ফাটা পোশাকে দেখা গেল তাকে। পরনে ছিল ছেঁড়া কোট-শার্ট, মুখে অগোছালো দাড়ি। পুরো লুকটাই ছিল চমকে দেওয়ার মতো। এমন হাইভোল্টেজ প্রচার অনুষ্ঠানে অক্ষয়ের এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত সবাই। পাপারাজ্জিদের প্রশ্নের জবাবে অবশ্য নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় অক্ষয় বলেন, ‘ভূতেরাই আমাকে সাজিয়েছে!’ তার এই মন্তব্যে মুহূর্তেই হাসির রোল পড়ে যায় অনুষ্ঠানে। পরে অবশ্য আসল কারণও জানান তিনি। ছবির হরর-কমেডি থিমের সঙ্গে মিল রেখেই এই বিশেষ লুক নিয়েছেন বলে জানান অভিনেতা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন প্রিয়দর্শন। দীর্ঘদিন পর আবারও এই পরিচালক-অভিনেতা জুটি একসঙ্গে কাজ করছেন, যা দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। ‘ভূত বাংলা’-র গল্প মঙ্গলপুর নামের এক রহস্যময় গ্রামকে কেন্দ্র করে। সেখানে বিয়ে মানেই ভয়। কারণ বিয়ের সানাই বাজলেই নাকি অশুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটে! এক প্রাচীন প্রাসাদে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে এক যৌথ পরিবার কী ভয়ংকর ও অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, সেই নিয়েই এগিয়েছে ছবির কাহিনি। হাসি, ভয় আর রহস্যের মিশেলে তৈরি এই ছবিটি আগামী ১৬ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে।

ধনী ব্যবসায়ীকে বিয়ের গুঞ্জনের কড়া জবাব তৃষার

ধনী ব্যবসায়ীকে বিয়ের গুঞ্জনের কড়া জবাব তৃষার ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চলা নানা জল্পনা ও গুঞ্জনের কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি নিজেই। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে অভিনেতা বিজয়ের সঙ্গে তৃষার উপস্থিতি এবং বিজয়ের স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণলিঙ্গমের বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ইন্টারনেটে আলোচনার ঝড় ওঠে। এরই মাঝে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, তৃষা অভিনয়জগৎ থেকে বিদায় নিতে চলেছেন এবং নতুন কোনো প্রজেক্টে সই করছেন না। এইসব বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিক্রিয়ায় নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিদ্রূপাত্মক এক পোস্ট দিয়েছেন তৃষা। সেখানে তিনি লিখেছেন, শুনলাম আমি নাকি সিনেমা ছেড়ে দিয়েছি, এক ধনী ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেছি এবং আমার চারটি যমজ সন্তান আছে যাদের বয়স কাল দুই বছর পূর্ণ হয়েছে! আরও কিছু যোগ করার আছে কি, নাকি আজকের মতো গালগল্পের কোটা পূরণ হয়েছে? বিজয়ের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন বিজয় তার এক রাজনৈতিক সমাবেশে পরোক্ষভাবে এই অভিযোগগুলো খণ্ডন করেছেন। অন্যদিকে তৃষাও চুপ থাকেননি; তাকে লক্ষ্য করে অভিনেতা পার্থিবানের করা মন্তব্যেরও মোক্ষম জবাব দিয়েছেন তিনি। এর আগে ভালোবাসা এবং মানসিক শান্তি নিয়ে বেশ কিছু রহস্যময় পোস্ট শেয়ার করেছিলেন তৃষা। একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, তিনি এখন জীবনের এমন একপর্যায়ে আছেন যেখানে তর্কে জড়ানোর চেয়ে নীরব থাকাকেই বেশি শ্রেয় মনে করেন। শান্তি বজায় রাখা যে সঠিক হওয়ার চেয়েও জরুরি, সেই বার্তাই ছিল তার লেখায়। বিজয় এবং তৃষা জুটি তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে পরিচিত। ‘গিল্লি’, ‘তিরুপাচ্চি’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার ‘লিও’ পর্যন্ত তাদের অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বর্তমানে তৃষা তার পরবর্তী তামিল সিনেমা ‘কারুপ্পু’-এর মুক্তির অপেক্ষায় আছেন, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা সুরিয়া। অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন চর্চায় ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও তৃষার এই সাহসী অবস্থানকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।

শুরু হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক ‘ভিলেজ সোসাইটি’

শুরু হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক ‘ভিলেজ সোসাইটি’ বৈশাখী টিভিতে শুরু হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘ভিলেজ সোসাইটি’। প্রচার হবে সপ্তাহে তিন দিন মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে। প্রথম পর্ব প্রচার হবে ৭ এপ্রিল। প্রত্যয় হাসানের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন হোসাইন ইমরান। পর্ব পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন মাহফুজ খান। ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করেছেন- আশরাফ সুপ্ত, সবুজ আহমেদ, জান্নাতুল মাওয়া, স্পর্শিয়া মিম, সাবা সুস্মিতা, আমিন আজাদ, আজমাইন ইলহাম, উজ্জল মাহমুদ , সঞ্জীব আহমেদ, পারভেজ সুমন, সোনিয়া স্বপ্ন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর, এফ এইচ শান, জাস মান্নাত, হেদায়েত নান্নু, তাবাসসুম মিথিলা, রিজভিনা মৌসুমি, এম কে এইচ পামির, নিশি আনজুম, তাওহিদুল ইসলাম তাইফ ও স্মৃতি আক্তার প্রমুখ। নাটকের কাহিনি হলো- সমাজে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা ভূত না হলেও ভীষণ রকমের অদ্ভুত। যার যেখানে থাকার কথা সে যেন সেখানে থেকেও ভূতের মতো অদৃশ্য, আবার যার যে কাজ করার কথা সে সেই কাজ তো করছেই না বরং অদ্ভুত আর উদ্ভট সব কাণ্ডকারখানা করছে। এই ধরনের মানুষ বিভিন্ন গ্রামে দুয়েকজন করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও কাকতালীয়ভাবে মধুপুর গ্রামে একসঙ্গে এমন অদ্ভুত বেশ কিছু মানুষের বসবাস। এই অদ্ভুত মানুষগুলোর স্বভাব, আচরণ, প্রকৃতি, পেশা, নেশা আর উদ্ভট সব কাণ্ডকারখানা নিয়েই মধুপুর গ্রামের জীবনের গল্প। যদিও মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, দ্বন্দ্ব, সংকট-এর মতো সকল উপকরণই প্যারালালভাবে তাদের জীবনে আরও বেশি তীব্র, আরও বেশি স্পর্শকাতর। গ্রামের মানুষগুলো অদ্ভুত আর উদ্ভট হলেও তারা খুব সহজ আর সরল। দিনশেষে সবাই ভালো মানুষ। কিন্তু আস্তে আস্তে এই গ্রামে ঢুকতে থাকে নতুন নতুন মানুষ আর তাদের ভেতর তখন শুরু হয় ভিলেজ পলিটিক্স, হিংসা, কোন্দল, মারামারি, খুনোখুনি যা অন্যসব স্বাভাবিক গ্রামের অস্বাভাবিক ঘটনা। উদ্ভট আর এই অসাধারণ সরল মানুষগুলো ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠতে থাকে। এভাবেই এগিয়ে চলে ‘ভিলেজ সোসাইটি’ নাটকের কাহিনি।