চুপিচুপি বিয়ে, নতুন গুঞ্জনে রামশা-খুশাল

চুপিচুপি বিয়ে, নতুন গুঞ্জনে রামশা-খুশাল পাকিস্তানে আলোচিত জুটি রামশা খান ও খুশাল খানকে ঘিরে নতুন করে বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পাকিস্তানি বিনোদন প্ল্যাটফর্ম গ্যালাক্সি ললিউডের এক ইঙ্গিতপূর্ণ আলোচনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়। শো-হোস্ট মোমিন আলী মুন্সি ও ইমান মুন্সি জানান, দেশের দুই জনপ্রিয় ‘এ-লিস্ট’ তারকা নাকি গোপনে বিয়ে করেছেন। এরপর থেকেই ভক্তরা বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করে রামশা-খুশালকেই সেই জুটি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কিছু ইঙ্গিত। জনপ্রিয় অভিনেত্রী আইমান খান একটি বিয়েসংক্রান্ত পোস্টে লাইক দিয়েছেন। একইভাবে জারা নূর আব্বাস-এর একটি লাইকও নেটিজেনদের চোখে ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ হিসেবে ধরা পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি রামশা বা খুশাল। তাদের নীরবতা গুঞ্জনকে আরও উসকে দিচ্ছে। অনেকের ধারণা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে তারা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনছেন না। উল্লেখ্য, ‘দুনিয়াপুর’ ও ‘বিরিয়ানি’র মতো প্রজেক্টে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে এই জুটির জনপ্রিয়তা তৈরি হয়, এবং পর্দার কেমিস্ট্রি থেকেই বাস্তব জীবনের ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন ছড়ায়।
‘শহরের নতুন অতিথি’ তে আসছেন গায়ক সাদী

‘শহরের নতুন অতিথি’ তে আসছেন গায়ক সাদী গায়ক শেখ সাদী ‘ললনা’ গান দিয়ে আলোচনায় আসেন। এবার অভিনেতা হিসেবে ছোট পর্দায় আসছেন তিনি। ‘শহরের নতুন অতিথি’ নামের একটি নাটকে দেখা যাবে তাকে। গৌতম কৈরী পরিচালিত এ নাটকে সাদীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। গানে সাফল্যের পর থেকেই বিভিন্ন সময় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন সাদী। চার বছর আগে দেশের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ‘সংশয়’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও আসে তার কাছে। সেই ছবির শুটিং এক দিন করেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। কারণ হিসেবে সাদী তখন উপলব্ধি করেছিলেন, অভিনয় শুধু আগ্রহের জায়গা নয়, এটি যথেষ্ট পরিশ্রম ও প্রস্তুতির বিষয়। পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়া বড় পর্দায় আসা ঠিক হবে না—এই ভাবনা থেকেই তিনি অভিনয় থেকে সরে দাঁড়িয়ে পুরো মনোযোগ দেন গানে। এর পরের সময়টা ছিল তার সংগীতজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একের পর এক গান প্রকাশ করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা পোক্ত করেন তিনি। বিশেষ করে ‘ললনা’ গানটি তাকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা—ইউটিউবে গানটির ভিউ ইতিমধ্যে ১৬৮ মিলিয়নের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটি ঘিরে তৈরি হয় অসংখ্য রিলস ও ট্রেন্ড, যা সাদীর পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়। অভিনয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাদী জানান, ‘শহরের নতুন অতিথি’ নাটকের গল্প শুনেই তার আগ্রহ তৈরি হয়। পাশাপাশি সহশিল্পী হিসেবে মাহিকে পাওয়াটাও তার জন্য আনন্দের ছিল। সাদী বলেন, ‘মাহির সঙ্গে আমার অনেক দিনের বন্ধুত্ব। শুটিং সেটে গিয়ে একদম অচেনা পরিবেশে কাজ করতে হয়নি। পরিচালকসহ পুরো টিমটাও খুব সহযোগিতাপূর্ণ ছিল। তাই প্রথম কাজ হিসেবে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই অভিনয়টা করতে পেরেছি।’ জানা গেছে, নাটকটির শুটিং হয়েছে ঢাকার উত্তরা ও সাভারের গোলাপ গ্রামে। প্রায় দুই মাস আগে এর কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান সাদী। এখন তিনি অপেক্ষা করছেন দর্শকের প্রতিক্রিয়ার জন্য। প্রথম কাজ হওয়ায় নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও কিছুটা কৌতূহল ও উত্তেজনা কাজ করছে তার মধ্যে। অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেন সাদী। তার ভাষায়, ‘আমি খুব বেশি নাটকে কাজ করতে চাই না। গল্প ভালো লাগলে, চরিত্রে কিছু করার সুযোগ থাকলে তবেই কাজ করব। আসলে আমি নিজেকে সিনেমার জন্য প্রস্তুত করতে চাইছি। নাটকটাকে সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছি। কয়েকটা কাজের মাধ্যমে অভিনয়টা শিখে নিতে চাই, তারপর সিনেমায় কাজ করার পরিকল্পনা আছে।’
মুম্বাইয়ের অনুষ্ঠানে সিদ্ধার্থ-কিয়ারার মুগ্ধতা ছড়ানো রসায়ন

মুম্বাইয়ের অনুষ্ঠানে সিদ্ধার্থ-কিয়ারার মুগ্ধতা ছড়ানো রসায়ন মুম্বাইয়ের এক অনুষ্ঠানে স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে হাজির হয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী কিয়ারা আধবানি। তাদের রসায়ন যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি কিয়ারার পরনের পোশাক নিয়ে নেটপাড়ায় বইছে আলোচনার ঝড়। অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর যথারীতি পাপারাৎসিরা তাদের ঘিরে ধরেন। প্রথমে দুজনে একসঙ্গে ক্যামেরায় পোজ দিলেও পরে কিয়ারাকে একা ছবি তোলার অনুরোধ করা হয়। তবে সেই অনুরোধ হাসিমুখেই নাকচ করে দেন নায়িকা। সিদ্ধার্থকে ছাড়া একা ছবি তুলবেন না জানিয়ে স্বামীর হাত ধরে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়েন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মুহূর্তের ভিডিওটি এখন রীতিমতো ভাইরাল। এদিন কিয়ারার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট ছিল বরাবরের মতোই রাজকীয়। তিনি বেছে নিয়েছিলেন ডিজাইনার মাসাবা গুপ্তার কালেকশনের একটি গোলাপি গুলপোস সিল্ক শাড়ি। সোনালি জরির এমব্রয়ডারি করা এই শাড়িটির দাম প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে তিনি পরেছিলেন হীরা, মুক্তা ও সোনার কাজ করা একটি মহারানি স্টাইল নেকলেস, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। পুরো সাজে সবচেয়ে বড় চমক ছিল কিয়ারার হাতের ব্যাগটি। ব্রাউন কালারের এই বিশেষ ‘হার্মেস কেলি পোশেত’ ব্যাগটির মূল্য প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা, যা তাঁর সামগ্রিক অবয়বে এনে দিয়েছিল রাজকীয় আভিজাত্য।
‘বাহুবলী ২’-এর রেকর্ড ভাঙার পথে ‘ধুরন্ধর ২’

‘বাহুবলী ২’-এর রেকর্ড ভাঙার পথে ‘ধুরন্ধর ২’ প্রেক্ষাগৃহের আয়ের তালিকায় এখনো অপ্রতিরোধ্য রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর ২’। গত ১৯ মার্চ মুক্তির পর থেকেই ছবিটি ধারাবাহিকভাবে নিজের সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে। মুক্তির ১৮ দিন পরেও দর্শকদের উন্মাদনা একটুও কমেনি। স্যাকনিল্কের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ১৮তম দিনে ছবিটি আয় করেছে ২৮.৭৫ কোটি রুপি। সপ্তাহের শেষভাগের ছুটির দিনগুলো আয় বাড়াতে সাহায্য করলেও, তৃতীয় সপ্তাহে এমন আয় প্রমাণ করে দর্শকদের প্রথম পছন্দ এখনো ‘ধুরন্ধর ২’। প্রতিদিনই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ছবিটি প্রথম সপ্তাহে আয় করে ৬৭৪ কোটি রুপি এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৬৩.৬৫ কোটি রুপি। ফলে ভারতে মোট স্থূল আয় দাঁড়িয়েছে ১,২০৯.৯৮ কোটি এবং নিট আয় ১,০১৩.৭৭ কোটি রুপি। এই গতিতে এগোতে থাকলে খুব শিগগিরই ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’-এর আজীবন আয়ের রেকর্ড (১,০৩০.৪২ কোটি) ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর (১,২৪৫.৭ কোটি) আয়কেও ছুঁতে পারবে কিনা, সেটিও এখন আলোচনায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত ‘ধুরন্ধর ২’ আয় ছাড়িয়ে গেছে ‘আরআরআর’ (৭৮২.২০ কোটি), ‘কেজিএফ: অধ্যায় ২’ (৮৫৯.৭০ কোটি), ‘জওয়ান’, ‘পাঠান’ এবং ‘অ্যানিমেল’-এর মতো বড় ছবিগুলোর মোট আয়ের হিসাব। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ‘ধুরন্ধর ২’ বিশ্বজুড়ে ১ হাজার কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করেছে। রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন আর মাধবন, অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, সারা অর্জুন এবং রাকেশ বেদি।
গায়ক নোবেল জামিন পেলেন

গায়ক নোবেল জামিন পেলেন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন পেয়েছেন গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমরান হোসেন বলেন, ‘গত ২ এপ্রিল ধার্য তারিখে নোবেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। আজকে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আসামির উপস্থিতিতে জামিন শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তার কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি গায়ক নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একই আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এই পরোয়ানার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন শুনানি শেষে আপসের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আদালতের হাজতখানা থেকে তিনি মুক্ত হন। এরপর গত ২ এপ্রিল আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। ওই দিন বাদীপক্ষে জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আসামি জামিনে গিয়ে শর্ত ভঙ্গ করেছে। এমনকি বাদীকে বাসায় নিয়ে মারধর করেছে। এই ঘটনায় আলাদা মামলাও হয়েছে।পরে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত বছরের ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনাননিয়া শবনম রোজ নামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন গায়ক নোবেল। পরে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। অন্য আসামিরা প্রতারণার কাজে নোবেলকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। নোবেল বাদে এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নোবেলের মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং পরিচিত মাসুদ রানা।
ওড়িশা পুলিশের দ্বারস্থ প্রিয়াঙ্কাসহ আর্টিস্ট ফোরাম

ওড়িশা পুলিশের দ্বারস্থ প্রিয়াঙ্কাসহ আর্টিস্ট ফোরাম টালিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। অভিনেতার মৃত্যুর ৭ দিন পর কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানার পর এবার ওড়িশার তালসারি মেরিন থানাতেও এফআইআর দায়ের করেছেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা। শুটিং চলাকালীন গাফিলতির অভিযোগ তুলে দায়ীদের শাস্তি এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে অভিযোগে। ইতোমধ্যে এফআইআরটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তদন্ত আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে কলকাতায় রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে শনিবার আর্টিস্ট ফোরাম রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। আর্টিস্ট ফোরামের দাবি, রাহুলের অকালমৃত্যুর দায় প্রযোজনা সংস্থারই। কলকাতায় তিনটি ধারায় এফআইআর করা হয়েছে। সেগুলো হল ৬১ (২), ১০৬(১) ২৪০ ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অনিচ্ছাকৃত খুন ও অপরাধ সংগঠিত হয়েছে জেনেও সে সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া। অভিযোগ জানাতে প্রিয়াঙ্কা সরকারের পাশে ছিলেন টালিউডের শীর্ষ তারকারা- চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, ভরত কল, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সৌরভ দাস, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, লাবণী সরকার, বিদীপ্তা চক্রবর্তীসহ অনেকে। একই দাবিতে শহরে প্রতিবাদ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশ নেন অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, জুন মালিয়া, অরিন্দম শীল, পিয়া সেনগুপ্ত ও ঋষি কৌশিকসহ আরও অনেকে। তারা রাহুলের সাদা-কালো ছবি হাতে নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামেন। পরে রাতে ওড়িশার তালসারি কোস্টাল থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে বৈঠক করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সৌরভ দাস ও ইন্দ্রাশিস রায়। দীর্ঘ বৈঠকের পর তারা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। ওড়িশা পুলিশের বালেশ্বর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবজ্যোতি দান জানিয়েছেন, এফআইআরটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু হবে। উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এর। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সমুদ্রের জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু। তবে অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শুটিং চলছিল এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়নি। ঘটনার এক সপ্তাহ পরও বহু প্রশ্নের উত্তর না মেলায়, প্রিয়াঙ্কা ও আর্টিস্ট ফোরামের এই আইনি পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের দাবি দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে ন্যায়বিচার।
কোরবানি ঈদে মুক্তি পাচ্ছে ‘মাসুদ রানা’প্রযোজকের ঘোষণা

কোরবানি ঈদে মুক্তি পাচ্ছে ‘মাসুদ রানা’প্রযোজকের ঘোষণা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তির পথে এগোচ্ছে ‘মাসুদ রানা’ সিনেমা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিনেমাটির মুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন প্রযোজক আব্দুল আজিজ। আর এ সপ্তাহেই প্রকাশ করা হবে ছবিটির ট্রেলার। প্রখ্যাত লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। প্রযোজনা করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। প্রযোজক আব্দুল আজিজ জানান, কাজী আনোয়ার হোসেন জীবদ্দশায় নিজেই সিনেমার চিত্রনাট্য অনুমোদন করে গিয়েছিলেন। গল্পটিকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে কোনো ধরনের কমতি রাখা হয়নি এবং এটি জাজের অন্যতম ব্যয়বহুল প্রজেক্ট। প্রায় পাঁচ বছর আগে সিনেমাটির বেশিরভাগ শুটিং শেষ হলেও বাকি ছিল একটি গান ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য। নানা জটিলতার কারণে কাজটি দীর্ঘদিন আটকে ছিল। তবে সম্প্রতি সেই জট কাটিয়ে আবার শুরু হয়েছে শুটিং। এখন শুধু এক দিনের শুটিং বাকি, যার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুমতির অপেক্ষা করা হচ্ছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, দৃশ্যধারণ শেষ হলেই দ্রুত সম্পাদনা, ডাবিংসহ সব কাজ সম্পন্ন করে এই মাসের মধ্যেই সিনেমাটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত করা হবে। এই সিনেমায় ‘মাসুদ রানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা। তার বিপরীতে ‘সোহানা’ চরিত্রে দেখা যাবে পূজা চেরি-কে, যিনি এ ছবিতে অ্যাকশন দৃশ্যেও অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ‘অবনিতা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৈয়দা তিথি অমনি। মাল্টিপ্লেক্সসহ দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বহুল প্রতীক্ষিত এই স্পাই থ্রিলার। ট্রেলার প্রকাশের মধ্য দিয়েই শুরু হবে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।
আমিও রক্তমাংসের মানুষ বলেই কাঁদলেন নিশো

আমিও রক্তমাংসের মানুষ বলেই কাঁদলেন নিশো ঈদে মুক্তি পাওয়া আফরান নিশো অভিনীত ‘দম’ সিনেমাটি দর্শকদের মাঝে যেমন সাড়া ফেলেছে, তেমনি হৃদয়ও ছুঁয়ে গেছে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই অভিনেতা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা বেশ আলোচনা তৈরি করেছে নিশোর ভক্তমহলে। সেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী পূজা চেরি, প্রযোজক রেদোয়ান রনি ও শাহরিয়ার শাকিল। তাদের সঙ্গে ছিলেন সিনেমার গল্পের সেই বাস্তব চরিত্র নূর যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নিশো। সিনেমার প্রেক্ষাপট ও নিজের চরিত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে নিশো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমিও তো রক্তমাংসের মানুষ।’ এইটুকু বলেই তিনি স্তব্ধ হয়ে যান এবং পরক্ষণেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিশো জানান, পর্দায় চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তোলার জন্য তিনি সরাসরি নূরের গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে নূরের বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের যাপিত জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প শুনেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পুনরায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নিশো বলেন, ‘ওরা মানুষ, তাদের কষ্টগুলো একদম সত্যি। আমি শুধু সেই জীবনটা অনুভব করার চেষ্টা করেছি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিনেমার এই শক্তিশালী গল্পই তাকে কাজটির প্রতি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ার চেষ্টা করেছেন। দর্শকদের প্রতি নিশোর বিশেষ অনুরোধ, তারা যেন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখেন এবং নূরের বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও হাহাকার অনুভব করেন। সত্য ঘটনার ছোঁয়ায় নির্মিত ‘দম’ সিনেমাটি ইতোমধ্যেই আয়ের দিক থেকে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে চরকি ও আলফা আই।
আভিজাত্যপূর্ণ সাদা গাউনে গ্ল্যামারাস মেহজাবীন

আভিজাত্যপূর্ণ সাদা গাউনে গ্ল্যামারাস মেহজাবীন পর্দায় সাবলীল অভিনয়, আর বাইরে গ্ল্যামারাস লুক- এসব নিয়ে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। সদ্য তার এক আভিজাত্যপূর্ণ উপস্থিতিতে ফের মুগ্ধ করেছে ভক্তদের। গত শুক্রবার আয়োজিত ‘লাক্স সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে অংশ নেন অভিনেত্রী। সেখান থেকে কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেন মেহজাবীন। সাদা রঙের স্টাইলিশ গাউনে তার এই নতুন লুক এখন ভক্তদের প্রশংসায় ভাসছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন মেহজাবীন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অফ-শোল্ডার সাদা একটি লং গাউন পরেছেন তিনি, যাতে রয়েছে আকর্ষণীয় কাজ। হাতে রুপালি রঙের ছোট ব্যাগ এবং মানানসই গয়নায় তাকে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস দেখাচ্ছিল। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, লাক্স গালার জন্য প্রস্তুত হওয়াটা মূল অনুষ্ঠানের মতোই রোমাঞ্চকর ছিল। সেই প্রতিক্ষা আর শক্তি- সবকিছু মিলে রাতটা ছিল চমৎকার। ছবিগুলোতে মেহজাবীনের মেকআপ ও হেয়ার স্টাইল ছিল মার্জিত, যা তার সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে গেছে। পোস্টের নিচে ভক্তরা তার এই সাজের প্রশংসা করছেন। আজ থেকে আরও ১৬ বছর আগে এই প্রতিযোগীতার মঞ্চে লড়াই করছিলেন মেহজাবীন চৌধুরী। ২০০৯ সালে তার মাথায় ওঠে লাক্স সুপারস্টারের মুকুট। এবারের প্রতিযোগীদের বিচারক ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সাত বছর পর, গত শুক্রবার আয়োজিত লাক্স সুপারস্টারের এই আসরের গালা নাইটে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণও করেন। এদিন তার বিশেষ পারফর্মেন্স ছিলো; বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন পুরস্কারও। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বড় পর্দাসহ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সদ্য মুক্তি পাওয়া ওয়েবফিল্ম ‘ক্যাকটাস’ এ দেখা গেছে তাকে। প্রীতম হাসানের বিপরীতে সেখানে তার অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে বেশ। সব মিলিয়ে দেশের শোবিজ অঙ্গনে অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছেন এই অভিনেত্রী।
এ টি এম শামসুজ্জামানের বড় মেয়ে মারা গেছেন

এ টি এম শামসুজ্জামানের বড় মেয়ে মারা গেছেন বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান-এর বড় মেয়ে কস্তুরি আর নেই। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি কস্তুরির মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। মুক্তি তার পোস্টে লেখেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন… বিশিষ্ট অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান মামার বড় মেয়ে কস্তুরি আপু গতকাল রাতে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন কস্তুরি। দ্রুত অবস্থার অবনতি হলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক, একই সঙ্গে শোকাহত দেশের বিনোদন অঙ্গনও। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও একবার স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কস্তুরি। এরপর কিছুটা সুস্থ থাকলেও হঠাৎ করেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে কিংবদন্তি অভিনেতা হিসেবে পরিচিত এ টি এম শামসুজ্জামান-এর পরিবারের এই শোকাবহ ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর বেদনা ও সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে।