মমতার শোবার ঘরেই আমির আমার পোশাক বদলাত

মমতার শোবার ঘরেই আমির আমার পোশাক বদলাত নব্বই দশকের লাস্যময়ী ও সাহসী অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নি। অক্ষয় কুমার, আমির খান, সালমান খান, গোবিন্দ, সঞ্জয় দত্তের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে পর্দায় ঝড় তুলেছেন। গত বছর আলো ঝলমলে দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে সন্ন্যাসিনী হন এই অভিনেত্রী।অস্কারজয়ী সুরকার এ. আর. রহমানকে নিয়ে ভারতে চর্চা চলছে। কিছুদিন আগে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ শিল্পী বলেন “বলিউডে সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।” এই মন্তব্য তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এ.আর. রহমানকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নব্বই দশকে চলচ্চিত্র জগতের সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন মমতা কুলকার্নি। তার শোবার ঘরে আমির খান পোশাক বদলাতেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতা কুলকার্নি বলেন, “আমি নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ আমি নব্বই দশকে কাজ করেছি। বিশ্বাস করুন, আমরা কখনো এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবিনি। আমি আমির খানের সঙ্গে কাজ করেছি, শাহরুখ খানের সঙ্গেও কাজ করেছি; আমরা কখনো একে অপরের ধর্মের দিকে তাকাইনি। সত্যি বলতে এখন আমি আর কী বলব?সেই সময়ের কাজের পরিবেশ সম্পর্কেও জানান মমতা। শুটিং সেটে ভ্যানিটি ভ্যান ছিল না। উদাহরণ টেনে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমির খান আমার বাড়িতে আসত। আমরা যখন ‘বাজি’ সিনেমার শুটিং করছিলাম, তখন সে আমার বাড়িতে এসে বসত। অনেক সময় শুটিং চলাকালীন সে আমার শোবার ঘরে গিয়ে পোশাক বদলাত। কারণ তখন ভ্যানিটি ভ্যান ছিল না। এমন নয় যে, ‘ভ্যান আছে, সেখানে গিয়ে আমরা পোশাক বদলাব’। লোখন্ডওয়ালায় শুটিং থাকলে আমির সরাসরি আমার বাড়িতে চলে আসত এবং আমার শোবার ঘরেই পোশাক বদলাত। নব্বই দশকে কাজের পরিবেশটা একেবারেই আলাদা ছিল। মমতার ভাষায় “আমরা একে অপরের বাড়িতে যেতাম, সেখানেই তৈরি হতাম, তারপর সরাসরি শুটিং সেটে চলে যেতাম। ‘বাজি’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়, প্যাক-আপের পরও আমির খান আর আমি সরাসরি আমার বাড়িতে চলে আসতাম, আর সে আমার রান্নাঘরে গিয়ে চা বানাত। আমির-শাহরুখ খানের সঙ্গে বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে মমতা কুলকার্নি বলেন, “আমির খান ও শাহরুখ খানের সঙ্গে যখন ওয়ার্ল্ড ট্যুরে যেতাম, তখন আমরা একে অপরের বাড়িতে গিয়ে বসতাম। কেউ চা বানাত, কেউ রান্না করত। আমরা কখনো এসব নিয়ে ভাবিনি। কিন্তু এখন সত্যিই সবকিছু বদলে গেছে, সব বন্ধ হয়ে গেছে। একজন শিল্পী মানে একজন শিল্পী। দয়া করে এখানে ভেদাভেদ আনবেন না। সংগীত জগতের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মমতা কুলকার্নি। সুরকার এ.আর. রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনি যখন এ.আর. রহমানের কথা জিজ্ঞেস করেন, তখন বলব সবকিছুরই একটা সময় থাকে। সম্ভবত, আপনার ধরণের সংগীত এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। এখন খুব ভালো গায়ক-গায়িকাও কাজ পাচ্ছেন না, তারা বাড়িতে বসে আছেন। ১৯৯২ সালে রাজ কুমার ও নানা পাটেকরের ‘তিরঙ্গা’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন মমতা কুলকার্নি। নব্বই দশকে ‘করণ অর্জুন’, ‘ওয়াক্ত হামারা হ্যায়’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘সাবছে বড় খিলাড়ি’-এর মতো হিট সিনেমার নায়িকা তিনি।

জাতীয় পুরস্কার নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রত্যাখ্যান করলেন নির্মাতা

জাতীয় পুরস্কার নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রত্যাখ্যান করলেন নির্মাতা সম্প্রতি ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। ‘রক্তজবা’ সিনেমার জন্য ‘শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার’ হিসেবে নাম এসেছে পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার। তবে রাষ্ট্রীয় এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়ার খবরে আনন্দিত হওয়ার বদলে উল্টো বিব্রত বোধ করছেন এই নির্মাতা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে নিয়ামুল মুক্তা জানান, ‘রক্তজবা’ সিনেমাটি তিনি পরিচালনা করলেও এর চিত্রনাট্য তার লেখা নয়। এর প্রকৃত চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসান। অন্যের কাজের স্বীকৃতি নিজের নামে আসায় তিনি নৈতিকভাবে এটি গ্রহণ করতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরস্কারের তালিকায় নিজের নাম দেখে আমি বিব্রত। চিত্রনাট্য লিখেছেন তাসনীমুল হাসান, অথচ নাম এসেছে আমার! যে অর্জন আমার নয়, সেটি আমি কীভাবে গ্রহণ করব? তাই আমি এই পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করছি এবং চাইছি যার অবদান, তাকেই যেন যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ বছর আজীবন সম্মাননাসহ (মরণোত্তর) মোট ২৮টি বিভাগে ৩০টি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কারের দৌড়ে এবার সবচেয়ে এগিয়ে আছে রায়হান রাফী পরিচালিত ‘সুড়ঙ্গ’; সিনেমাটি একাই ৮টি বিভাগে ৯টি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। এরপর ৫টি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’।

আজহারিকে নিয়ে যা বললেন চিত্রনায়িকা বর্ষা

আজহারিকে নিয়ে যা বললেন চিত্রনায়িকা বর্ষা অনেকদিন ধরেই অভিনয়ে নেই চিত্রনায়িকা খাদিজা বর্ষা। ধর্মীয় আচার-রীতিও পালন করেন নিয়মিত। গত বছর ওমরাহ হজ পালন করতে মক্কায় যান, আর সেখান থেকে ফিরেই বড়সড় সিদ্ধান্ত নেন নায়িকা। জানান, সিনেমা ছেড়ে দেবেন তিনি। কারণ হিসেবে জানান, আগামীতে ছেলে-মেয়েরা বড় হবে, তাই এমন সিদ্ধান্ত। বলা যায়, নিজের কথা রেখেছেন নায়িকা। নতুন কোনো সিনেমাতে দেখা যাচ্ছে না বর্ষার নাম। তবে ফটোসেশন, বিভিন্ন ইভেন্টে মাঝে মাঝে ব্যস্ত দেখা যায় নায়িকাকে। এর পাশাপাশি অবসরে বই পড়েন তিনি। নিজের পছন্দ অনুযায়ী ধর্মীয় বইও পড়েন। এবার তেমনই একটি বই নিয়ে পোস্ট দিলেন বর্ষা; যেখানে সেই বইয়ের লেখক অর্থাৎ জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ দেন বর্ষা। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে আজহারির লেখা ‘এক নজরে কুরআন’ বইটির কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন বর্ষা। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল যে, ‘এক নজরে কুরআন’ বইটি পড়ার। ৩টি বই অর্ডার করেছিলাম, আজকে পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। আমার বোনদের জন্য ২টি। বর্ষা আরো লেখেন, জীবনে তেমন কিছুই জানি না, তবে এই ‘এক নজরে কুরআন’ পড়ে অনেক কিছু জানতে পারব ইনশাআল্লাহ। ধন্যবাদ জানাতে চাই আপনাকে ড. মিজানুর রহমান আজহারি, এই বইটি পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনার মঙ্গল করুন, আমিন। ২০১০ সালে ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় বর্ষার। এতে অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ভালোবেসে ঘর বাঁধেন এই তারকা জুটি। তাদের সংসারে আরিজ ইবনে জলিল ও আবরার ইবনে জলিল নামে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে।

নতুন ভার্সনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘ইয়ে দিল আশিকানা’

নতুন ভার্সনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘ইয়ে দিল আশিকানা’ ভ্যালেন্টাইন্স ডে মানেই প্রেম, আর সেই প্রেমে যদি মিশে যায় নস্টালজিয়া—তাহলে অভিজ্ঞতাটা হয়ে ওঠে আরও বিশেষ। সেই আবেগকেই ফিরিয়ে আনতে প্রায় ২৪ বছর পর আবার বড় পর্দায় ফিরছে ২০০২ সালের জনপ্রিয় রোমান্টিক ছবি ‘ইয়ে দিল আশিকানা’। নির্মাতা সংস্থা ট্রু এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড ঘোষণা করেছে, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ভ্যালেন্টাইন্স ডের ঠিক আগের দিন সিনেমাটি ফের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন করন নাথ ও জিভিধা শর্মা। পরিচালনায় ছিলেন কুকু কোহলি, যিনি ‘ফুল অউর কাঁটে’-র মতো হিট ছবির জন্য পরিচিত।  পুনর্মুক্তির ঘোষণার সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে ছবির একটি নতুন ট্রেলার, যেখানে আধুনিক উপস্থাপনার ছোঁয়া থাকলেও অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে ছবির আবেগ, রোমান্স ও নাটকীয়তা। নির্মাতাদের দাবি, আজকের দর্শকদের রুচির কথা মাথায় রেখে ছবিটি নতুন করে সম্পাদনা করা হয়েছে। তবে গল্পের মূল সুর—ভালোবাসা, ত্যাগ আর বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে প্রেমিকের লড়াই—সবই আগের মতোই থাকছে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র করণ, যে নিজের ভালোবাসা পূজাকে পাওয়ার জন্য সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গেও লড়াই করতে পিছপা হয় না। ছবিতে করন ও জিভিধার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন আদিত্য পাঁচোলি, রজত বেদি, জনি লিভার ও অরুণা ইরানি।  ট্রু এন্টারটেইনমেন্ট-এর শৈলেন্দ্র মাণ্ডোয়ারা জানান, এই ছবি ইচ্ছে করেই কখনও স্যাটেলাইট বা ওটিটিতে মুক্তি দেওয়া হয়নি। কারণ তাঁদের বিশ্বাস, ‘ইয়ে দিল আশিকানা’ বড় পর্দাতেই দেখার মতো সিনেমা। পরিচালক কুকু কোহলির মতে, রোমান্টিক ছবির দর্শক আজও বিপুল। নতুন প্রজন্মের দর্শকরাও এই ছবির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। অতীতের জনপ্রিয় সিনেমাকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, ‘ইয়ে দিল আশিকানা’-র পুনর্মুক্তি তারই অংশ। সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা, টাইমস অব ইন্ডিয়া

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: সেরা অভিনেতা নিশো, অভিনেত্রী পুতুল

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: সেরা অভিনেতা নিশো, অভিনেত্রী পুতুল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২০২৩) ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। ‌‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন আফরান নিশো, ‘সাঁতাও’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন আইনুন পুতুল। এবার যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চু। সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাঁতাও’। সিনেমাটির জন্য সেরা পরিচালকও নির্বাচিত হয়েছেন এই নির্মাতা। পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতা মনির আহমেদ শাকিল (সুড়ঙ্গ), অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা (ওরা সাতজন)। সেরা খল অভিনেতা আশীষ খন্দকার (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন), সেরা কৌতুক অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম (সুড়ঙ্গ)। সেরা শিশুশিল্পী লিয়ন (আম কাঁঠালের ছুটি), একই সিনেমার জন্য শিশুশিল্পী বিশেষ শাখায় পুরস্কৃত হয়েছে আরিফ হাসান আনাইয়া খান। সেরা সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরী (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন), সেরা গায়ক বালাম (ও প্রিয়তমা) সিনেমা (প্রিয়তমা), সেরা গায়িকা অবন্তী দেব সিঁথি (গোটা পৃথিবীতে খুঁজো, এ গাঁ ছুঁয়ে বলো) সিনেমা (সুড়ঙ্গ)। সেরা গীতিকার সোমেস্বর অলি (গান- ঈশ্বর) সিনেমা (প্রিয়তমা) এবং একই গানের জন্য সেরা সুরকার প্রিন্স মাহমুদ।  সেরা নৃত্য পরিচালক হাবিবুর রহমান (লাল শাড়ি)। সেরা কাহিনিকার ফারুক হোসেন (প্রিয়তমা), সেরা চিত্রনাট্যকার নিয়ামুল মুক্তা (রক্তজবা)। সেরা গল্পকার রায়হান রাফী ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা (সুড়ঙ্গ)। সেরা সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাবু (ওরা সাতজন)। সেরা শিল্পনির্দেশক শহীদুল ইসলাম (সুড়ঙ্গ), একই সিনেমার জন্য সেরা চিত্রগ্রাহক সুমন কুমার সরকার ও সেরা পোশাক ও সাজসজ্জা বিথী আফরিন। সেরা শব্দগ্রাহক সুজন মাহমুদ (সাঁতাও)। সেরা মেকআপম্যান সবুজ (প্রিয়তমা)। এ ছাড়া সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র চৈতালী সমদ্দার নির্মিত ‘মরিয়ম’। সেরা প্রামাণ্য চলচ্চিত্র এলিজা বিনতে এলাহী নির্মিত ‘লীলাবতি নাগ: দ্য রেবেল’।

নিজের ‘ডাকনাম’ প্রকাশ্যে আনলেন নুসরাত ফারিয়া

নিজের ‘ডাকনাম’ প্রকাশ্যে আনলেন নুসরাত ফারিয়া ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে নিজের অনুভূতি, ব্যক্তিজীবন ও কাজের কথা খানিকটা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, জীবনে উত্থান-পতন সব মানুষেরই থাকবে। তবে খারাপ সময়গুলো আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, কে আপন কে পর। নিজের ডাকনাম প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, পারিবারিকভাবে দেওয়া তার নাম নুসরাত জাহান ফারিয়া। মা আদর করে ডাকনাম রেখেছিলেন ‘সেতু’। পরিবারের অনেকে ফারিয়াকে সেতু নামেই সম্বোধন করেন। পডকাস্টে ফারিয়া আরও জানান, খুব শিগগিরই নতুন সিঙ্গেল নিয়ে আসছেন তিনি। এ ছাড়া নায়িকার জীবনের অজানা অনেক কথা জানা যাবে সেই পডকাস্টে। আগামীকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৮টায় মাছরাঙা টেলিভিশন এবং রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএম-এ প্রচার হবে ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’র দ্বিতীয় মৌসুমের নবম পর্ব। যেখানে অতিথি হয়ে এসেছেন নুসরাত ফারিয়া।

মুহূর্তে বদলে যাওয়া জীবনের কথা জানালেন ইমরান হাশমি

মুহূর্তে বদলে যাওয়া জীবনের কথা জানালেন ইমরান হাশমি বলিউডের কিসারখ্যাত অভিনেতা ইমরান হাশমি মানেই রোমান্টিক দৃশ্যের হাতছানি। তবে রুপালি পর্দার এ ‘সিরিয়াল কিসার’ বাস্তবজীবনে যে কতটা দায়িত্বশীল একজন বাবা, তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সবচেয়ে করুণ অধ্যায়ের কথা স্মরণ করেন এ অভিনেতা। কীভাবে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তার সাজানো জীবন এক নিমিষেই ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল, সে কথাও জানান তিনি। ইমরান হাশমি বলেন, দিনটি ছিল আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই। পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ লক্ষ্য করেন, পুত্র আয়ানের প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছে। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মনে। তিনি বলেন, দ্রুত আয়ানকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান আয়ানের শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যানসার। অতিদ্রুত করাতে হবে অস্ত্রোপচার। এ অভিনেতা বলেন, জীবনটা যেন ওই ১২ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গিয়েছিল আমার। সেই সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সব কিছু কেমন অচেনা হয়ে গেল। ছেলের এই অসুস্থতা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই বলে জানান ইমরান হাশমি। তিনি বলেন, ছেলের কষ্টের কথা শুনে শুরুতে ভেঙে পড়লেও পরে নিজেকে সামলে নেন তিনি। স্ত্রী ও পুত্রের সামনে পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, যেন তারা সাহস না হারায়।উল্লেখ্য, অভিনেতা ইমরান হাশমি এ যন্ত্রণার প্রতিটি মুহূর্ত তিনি তুলে ধরেন তার লেখা বই ‘দ্য কিস অব লাইফ’-এ।

অভিনয়ের ৩০ বছর শেষে রানী মুখার্জির নতুন শুরু

অভিনয়ের ৩০ বছর শেষে রানী মুখার্জির নতুন শুরু বলিউডে অভিনয়জীবনের তিন দশক পূর্ণ হওয়ার সময় নতুন ছবি ‘মর্দানি ৩’ নিয়ে বড় পর্দায় ফিরেছেন রানী মুখার্জি। শিবানী শিবাজি রায়ের চরিত্রে প্রায় তিন বছর পর দর্শকের সামনে আসা এই ছবিকে ঘিরে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবন, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও না-বলা গল্পের কথা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। নতুন ছবির মুক্তি ও অভিনয়জীবনের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে করণ জোহর এর সঙ্গে এক আড্ডায় অংশ নেন রানী মুখার্জি। সেখানে সহশিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক, ক্যারিয়ারের উত্থান পতন এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতিচারণা উঠে আসে। আড্ডার সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে শেষদিকে, যখন রানী ও আদিত্য চোপড়া র কন্যা আদিরার লেখা একটি চিঠি পড়ে শোনানো হয়। মেয়ের লেখা শুনে চোখে জল চলে আসে অভিনেত্রীর।মুম্বাইয়ের যশ রাজ ফিল্মস স্টুডিওতে আয়োজিত এ আয়োজনে কেক কেটে উদ্‌যাপন করা হয় রানীর তিন দশকের অভিনয়জীবন। ১৯৯৬ সালে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তখন তিনি ঠিক বুঝতেই পারেননি অভিনয়ের পথ কত দূর যাবে। মায়ের কথায় কাজে নেমে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। ক্যারিয়ারের শুরুতে ইন্ডাস্ট্রির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের আস্থার কথা তুলে ধরে রানী বলেন, আদিত্য চোপড়া, করণ জোহর, শাহরুখ খান ও আমির খান–এর বিশ্বাস তার পথচলাকে সহজ করেছে। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে টিনা চরিত্রে রানীর অভিনয়ের পেছনেও আদিত্য চোপড়ার পরামর্শ ছিল বলে জানান করণ জোহর, যা রানীর ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দেয়। নিজের উল্লেখযোগ্য কাজের প্রসঙ্গে রানী ‘ব্ল্যাক’ ছবিকে ‘লাইভ অ্যাক্টিং স্কুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সঞ্জয় লীলা বানসালি র নির্দেশনায় অমিতাভ বচ্চন এর সঙ্গে কাজ করা তাকে অভিনেত্রী হিসেবে সমৃদ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি। ‘সাথিয়া’ ছবির বাস্তব লোকেশন ও সিঙ্ক সাউন্ড তার অভিনয়ে বাস্তবতা এনেছিল বলেও স্মরণ করেন রানী। ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে স্বামী আদিত্য চোপড়ার সরলতা ও বিনয়কে তাদের সম্পর্কের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। গোপন বিয়ের স্মৃতিচারণায় করণ জোহর জানান, মাত্র ১৮ জন অতিথি নিয়ে সেই বিয়ে হয়েছিল এবং বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি নিজেও দারুণ চাপের মধ্যে ছিলেন। আড্ডার শেষ পর্যায়ে রানী বলেন, এই সময়টা তার কাছে এক ধরনের ‘পুনর্জন্ম’। তিন দশক পেরিয়েও নতুন করে শুরু করার অনুভূতি নিয়ে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে ‘মর্দানি ৩’-ই তার প্রথম ছবি। বক্তব্যেই স্পষ্ট, দীর্ঘ পথচলার পরও নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এই অভিনেত্রী।

চলচ্চিত্রের কালজয়ী গানের আসর

চলচ্চিত্রের কালজয়ী গানের আসর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান নিয়ে দেশের নন্দিত সংগীত সংগঠন ‘জলতরঙ্গ’ আয়োজন করছে ‘গান গেয়ে পরিচয়’ শীর্ষক সংগীত আসরের। আজ সন্ধ্যা ছয়টায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেন্দিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কালজয়ী গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিংবদন্তি সব গীতিকার, সুরকার, শিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রী। তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতেই এই আয়োজনটি করছে জলতরঙ্গ। এ বছর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পা দিয়েছে তার সাত দশকে। দীর্ঘ সত্তর বছরের পথপরিক্রমায় সংগীতের নানাবিধ রূপান্তর ঘটেছে। ষাট, সত্তর ও আশির দশকের যে ‘সোনালি যুগ’ তা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক অমূল্য সম্পদ। জলতরঙ্গ প্রত্যাশা করে, সোনালি যুগের মতোই এখনকার গানগুলোও সেই আবেদন তৈরি করুক। প্রযুক্তির ইতিবাচক কল্যাণে তা সত্যিকার অর্থেই উৎকর্ষ লাভ করুক। জলতরঙ্গের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তপনের সংগীত পরিচালনায় সংগঠনের শিল্পীরা চলচ্চিত্রের গানের বিভিন্ন তথ্যসহ ধারাবাহিকভাবে একুশটি গান পরিবেশন করবেন বলেও জানানো হয়। একক, দ্বৈত ও সমবেত কণ্ঠে পিচঢালা এই পথটারে, দুটি পাখি একটি ছোট্ট নীড়ে, ডাকে পাখি খোলো আঁখি, আবার এলো যে সন্ধ্যা, আমার বুকের মধ্যখানে, আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল, পাখির বাসার মতো দুটি চোখ তোমার, মানুষ ধর মানুষ ভজসহ কালোত্তীর্ণ সব গান পরিবেশন করবেন তারা।

যেভাবে শিসপ্রিয়া হয়ে উঠলেন অবন্তী সিঁথি

যেভাবে শিসপ্রিয়া হয়ে উঠলেন অবন্তী সিঁথি নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অবন্তী সিঁথি। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান সারেগামাপা খ্যাত এই শিল্পী সম্প্রতি বেশ কিছু গান গেয়ে আলোচনায় এসেছেন। ২০২৩ সালের তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল(২৯ জানুয়ারি) রাতে এ খবর পেয়ে চমকে গিয়েছিলেন এই গায়িকা। কম বয়সে ক্যারিয়ারে এমন প্রাপ্তি নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়েছেন অবন্তী সিঁথি। তার ভাষায় ‘যেকোনো মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একটা কাঙ্ক্ষিত বিষয়। শিল্পী হিসেবে এই স্বীকৃতি সর্বোচ্চ পাওনা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের খবর পাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করে অবন্তী সিঁথি বলেন, “টাইমলাইনে টাইপ করছি আর মুছে দিচ্ছি । লিখতে গিয়ে কেমন সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে । রোজকার দিনের মতো একটা দিন। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে রবিউল ইসলাম জীবন ভাইয়ের একটা টেক্সট, সাথে অভিনন্দন। ছবিটা খুলে কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে রইলাম। ভাবলাম, ঘুমের ঘোরেই আছি হয়তো! আবার দেখলাম, না সত্যিই আমার নাম! জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের প্রজ্ঞাপনে সেরা গায়িকা ক্যাটাগরিতে আমার নাম! চমকে গেলাম! আরেহ এ রকম তো স্বপ্ন দেখতাম, সত্যি হলো কি করে! জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অবন্তী সিঁথি বলেন, “যেকোনো মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একটা কাঙ্ক্ষিত বিষয়। শিল্পী হিসেবে এই স্বীকৃতি সর্বোচ্চ পাওনা। যারা আমাকে এই সম্মাননার যোগ্য মনে করেছেন তাদের কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা জানাই এই গানের স্রষ্টা তানজীব সরোয়ার এবং সাজিদ সরকারসহ ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীকে, এই গানের সাথে আমাকে যুক্ত করবার জন্যে।বিশেষ মুহূর্তে বাবা-মাকে স্মরণ করে অবন্তী সিঁথি বলেন, “বাবা-মা বেঁচে থাকলে আজ খুব খুশি হতেন। পরিশেষে আমার সকল অনুরাগী, শ্রোতা এবং শুভানুধ্যায়ীদের অফুরন্ত ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা, যাদের অনুপ্রেরণা এবং ভালোবাসায় আমি অবন্তী সিঁথি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে নির্বাচিতদের নামের তালিকা প্রকাশ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এক প্রজ্ঞাপনে ২৮ বিভাগে ৩০ চলচ্চিত্র, শিল্পী ও কলাকুশলীর নাম ঘোষণা করা হয়। এতে শ্রেষ্ঠ গায়িকা বিভাগে পুরস্কার পাচ্ছেন অবন্তী সিঁথি। ‘গা ছুঁয়ে বলো’ গানের জন্য সিঁথি এই পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। গানটি তার সঙ্গে দ্বৈতভাবে গেয়েছেন তানজীব সারোয়ার। গানটির কথা ও সুর করেছেন তানজীব সারোয়ার। এটি ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে। জামালপুরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অবন্তী সিঁথির। ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে তার সখ্য। জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক আর দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী থাকার সময় গান গেয়ে পরিচিতি পান। গিটার আর হারমোনিয়াম বাজানো ছোটবেলায় শিখেন। কলেজে পড়ার সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গান করতেন সিঁথি। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লোকগান ও নজরুলসংগীত গেয়ে জাতীয় পুরস্কার পান অবন্তী সিঁথি। এ ছাড়া ২০০৫ সালে ক্ল্যাসিক্যাল ও লোকসংগীত গেয়ে পেয়েছেন ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান স্বর্ণপদক’। ২০০৬ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাদ পড়েন সিঁথি। ২০১২ সালে আবারও এই প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। শেষ পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতায় সেরা দশে ছিলেন সিঁথি। ২০১৮ সালে ভারতীয় রিয়েলিটি শো সারেগামাপা-তে অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন এই শিল্পী।