রিশাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করল হোবার্ট

রিশাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করল হোবার্ট প্রথমবার বিগ ব্যাশ খেলতে নেমে স্পিন জাদু দেখিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি তারকা রিশাদ হোসেন। আরও একবার তার দুর্দান্ত স্পেলে টানা পঞ্চম জয় পেয়েছে হোবার্ট হারিকেন্স। এই লেগস্পিনার ৪ ওভারে ২৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন। যার সুবাদে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সকে ৩৭ রানে হারিয়েছে হোবার্ট। ১২ পয়েন্ট নিয়ে রিশাদের দলটি বিগ ব্যাশের শীর্ষে রয়েছে। আজ নিজেদের মাঠ বেলেরাইভ ওভালে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে হোবার্ট হারিকেন্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তারা ১৭৮ রান সংগ্রহ করে। এদিন ব্যাটিংয়ে নামা হয়নি রিশাদের। তবে তার সতীর্থ মিচেল ওয়েন ৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন। তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২টি চার ও ৪ ছক্কায়। হোবার্টের হয়ে কেউই বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। তবে বেশ কয়েকজন ক্যামিও ইনিংস খেলায় তারা চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়ে যায়। রেহান আহমেদ ১৭ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৯, ম্যাথু ওয়েড ১৯ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২৭ এবং নিখিল চৌধুরী ২৩ রান করেছেন। বিপরীতে অ্যাডিলেডের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন লুক উড ও জেমি ওভারটন। ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বড় বিপর্যয়ে পড়ে অ্যাডিলেড। ৮ রানেই তারা ৪ উইকেট হারায়। এর মধ্যে হোবার্টের অধিনায়ক নাথান এলিস ও রাইলি মেরেডিথের ভাগে গেছে ২টি করে। এর পরের ম্যাজিক রিশাদের। তিনি ৩ উইকেট নিয়ে অ্যাডিলেডের মেরুদণ্ড আরও ভেঙে দেন। যদিও একপ্রান্তে অটল ছিলেন লিয়াম স্কট। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ক্রিজ ছেড়েছেন। দল জিতলে ৫৮ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৯১ রান করা স্কট হতে পারতেন অ্যাডিলেডের নায়ক। তবে আর কেউই তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। স্কট ছাড়া অ্যাডিলেডের হয়ে দুই অঙ্কের (১১) ঘরে যেতে পেরেছেন কেবল লুক উড। এ ছাড়া দলটির আর কেউই দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি। ফলে স্কটের ৯১ রানের বাইরে বাকিরা মিলে করেছেন ৫০ রান। হোবার্টের হয়ে রিশাদ সর্বোচ্চ ৩ এবং মেরেডিথ ও এলিস ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রাজশাহীকে শেষ বলে হারাল চট্টগ্রাম

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রাজশাহীকে শেষ বলে হারাল চট্টগ্রাম রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে লো স্কোরিং ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জিতেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর দেওয়া ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ফল এসেছে একেবারে শেষ বলে। ১ বলে যখন আর দরকার ২ রান, ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায় কি না সেই প্রশ্নও জেগেছিল। তবে মাথা ঠান্ডা রেখে হাসান নেওয়াজ ২ রান নিয়ে ২ উইকেটে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে সাত ম্যাচে পঞ্চম জয় পেল টেবিল টপাররা। চলমান বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বের বদলে সেখানকার ম্যাচগুলো সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হচ্ছে। সেখানে আজ দিনের প্রথম ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে রাজশাহী। যার শুরুটা হয়েছিল শুরু থেকেই। দলীয় ২১ রানে ১৪ বলে ১৯ রান করা ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিমকে বোল্ড করে দেন চট্টগ্রামের স্পিনার তানভীর ইসলাম। এরপর রাজশাহী আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে শেষ পর্যন্ত উইকেটের মিছিল চলমান ছিল। নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তানজিদ হাসান তামিম উভয়েই দুই অঙ্কের ঘরে ছুঁতে ব্যর্থ। ওয়াসিম এবং এস মেহরবের করা সমান ১৯ রানই রাজশাহীর পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। এ ছাড়া আকবর আলি ১৭, মুশফিকুর রহিম ১৫ ও তানজিম হাসান সাকিব ১৪ রান করেন। ফলে খুব একটা চ্যালেঞ্জিং দলীয় সংগ্রহ পায়নি রাজশাহী। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন আমির জামাল। এ ছাড়া শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ২টি করে শিকার ধরেন। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে চট্টগ্রামও যথারীতি শুরু থেকে বিপর্যয়ে পড়ে। তবে টেস্ট মেজাজে হাসান নেওয়াজ একপ্রান্ত আগলে রাখাটা তাদের জন্য কাজে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ ছাড়া অধিনায়ক শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮, আসিফ আলি ২৫ বলে ২৭ এবং অ্যাডাম রসিংটন ১৭ রান করেছেন। শেষ ওভারে চট্টগ্রামের যখন ১০ রান প্রয়োজন, তখন রাজশাহীর পেসারদের বোলিং কোটা শেষ। ফলে আক্রমণে আনা হয় স্পিন অলরাউন্ডার মেহরবকে। ২০তম ওভারের প্রথম ৩ বলে মেহরব এক বাউন্ডারিসহ ৮ রান দেওয়ার পরের দুই ডেলিভারি ডট করেছেন। তিনি অবশ্য একটি রানআউট মিস না করলে ভিন্ন কিছুও হতে পারত। তবে জমে ওঠে লো স্কোরিং ম্যাচটি। শেষ বলে হাসান ২ রান নিয়ে জয় বাগিয়ে নেন চট্টগ্রামের পক্ষে। রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো। মেহরব নেন ২ উইকেট। এ নিয়ে ৭ ম্যাচে পঞ্চম জয় নিয়ে ১০ পয়েন্টে শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করল চট্টগ্রাম। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী চার নম্বরে রয়েছে। যথাক্রমে দুই-তিনে থাকা রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সের পয়েন্টও সমান ৮। তবে রংপুর ৫ এবং সিলেট ৮ ম্যাচ খেলেছে ইতোমধ্যে।
নাটকীয়তার শেষে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজশাহী

নাটকীয়তার শেষে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজশাহী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরের ১৯তম ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলিং তোপে মুখ থুবড়ে পড়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম। ব্যাট হাতে নেমে রাজশাহী নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১২৮ রান। পুরো ইনিংসে রাজশাহীর কোনো ব্যাটারই ২০ রানের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম ও এস এম মেহরব। মুশফিকুর রহিম ও রায়ান বার্ল দুই অঙ্কে পৌঁছালেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া আকবর আলী ১৬ বলে করেন ১৭ রান। শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিব ১৪ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রাজশাহীর নায়ক ওয়াসিম, নোয়াখালীর ষষ্ঠ হার

চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রাজশাহীর নায়ক ওয়াসিম, নোয়াখালীর ষষ্ঠ হার হারতে হারতে ক্লান্ত নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে আরো একটি পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। তাদের জয়ের নায়ক সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিম। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে দারুণ ব্যাটিং করেছেন ওয়াসিম। ৩৫ বলে ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৬০ রান করেন তিনি। বিপিএলে এর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ১ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। রান করেছিলেন ১। আজ রাজশাহীর জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নেমে বাজিমাত করলেন ওয়াসিম। তার বিস্ফোরক ইনিংসে রাজশাহী ৬ বল হাতে রেখে নোয়াখালীর দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে অতি সহজে। ৫ ম্যাচে এটি রাজশাহীর চতুর্থ জয়। চট্টগ্রাম ও রংপুরের মতো তাদেরও পয়েন্ট ৮। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নোয়াখালীর ইনিংস এগিয়েছে ধীর গতিতে। পাওয়ার প্লে’তে দুই ওপেনার শাহাদাত ও সৌম্য ৪১ রান জমা করতে পারেন। তবে আশার বিষয় এদিন শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েনি দলটি। এর আগে ওপেনিংয়ে তাদের সর্বোচ্চ রান হয়েছিল ২৪। সৌম্য ও শাহাদাত ৭.৫ ওভারে জমা করে ৫৭ রান। শাহাদাতকে (৩০) আউট করে রিপন মন্ডল ভাঙেন এই জুটি। তিনে নামা মাজ সাদাকাত সুবিধা করতে পারেননি। ১৩ বলে ৭ রান করে শান্তর শিকার হন। আরেক প্রান্তে সৌম্য এগিয়ে যান নিজের মতো করে। আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী দলের দাবি মিটিয়েছেন। মোহাম্মদ নবীর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়ার পথে সৌম্য তুলে নেন টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি। ৪০ বলে মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। এজন্য ৬ চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। ফিফটির পর আরেকটি ছয় আসে তার ব্যাট থেকে। কিন্তু থেমে যান ওই ছক্কাতেই। হাসান মুরাদের শর্ট বল উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়েন সৌম্য। ৪৩ বলে ৫৯ রানে আউট হন তিনি। সেখান থেকে নবীর ৩৫ এবং মাহিদুলের ১০ রানে নোয়াখালী বলার মতো ১৫১ রানের পুঁজি পায়। রাজশাহীর হয়ে বল হাতে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন রিপন মন্ডল। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো, শান্ত ও হাসান। জবাব দিতে নেমে ৫ ওভারে ৪৭ রান তুলে নেয় রাজশাহী। পেসার মেহেদী হাসান রানা তানজিদকে ফিরিয়ে ভাঙেন জুটি। কিন্তু আরেক প্রান্তে ওয়াসিম অনায়েস ব্যাটিংয়ে রান তুলতে থাকেন। নোয়াখালীর বোলাররা তার সামনে খুব কার্যকর হতে পারেননি। চার-ছক্কার স্রোত ছিল তার ব্যাটে। ২৯ বলে ফিফটি তুলে নিতে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকান ডানহাতি হার্ডহিটার। মাইলফলক ছোঁয়ার পর এগিয়ে যায় ব্যাট। কিন্তু তার ইনিংসটি কাটা পড়ে রান আউটে। দৌড়ে ২ রান নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। অবশ্য প্রান্ত বদলের সময় বোলারের সঙ্গে তার প্রায় সংঘর্ষ হয়ে যাচ্ছিল। তাতে নষ্ট হয় তার ছন্দ। ওয়াসিম ফেরার পর মুশফিকুর রহিমের ১৯ ও রায়ান বার্লের অপরাজিত ১৯ রানে রাজশাহীর জয় চলে আসে অতি সহজে। বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রানা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় তার একার লড়াই বৃথা যায়।
‘খালেদ অবাক করে দিয়েছিলেন সবাইকে’
‘খালেদ অবাক করে দিয়েছিলেন সবাইকে’ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার চট্টগ্রাম রয়্যালসের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য থেকে ১৪ রান দূরে থামে সিলেট টাইটান্স। তবে শেষ ওভারেও কিছুটা হলেও জয়ের সম্ভাবনা ছিল সিলেটের৷ মূলত দুর্দান্ত এক ক্যামিওতে প্রায় মিরাকল ঘটিয়ে দিচ্ছিলেন সিলেটের খালেদ। তার এমন ব্যাটিংয়ে অবাক হয়েছেন চট্টগ্রামের মাহমুদুল হাসান জয়। ১৮তম ওভারে খালেদ যখন ১১ নম্বর ব্যাটার হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন তখনও ১৩ বলে ৪২ রান প্রয়োজন সিলেটের। ১৯তম ওভারে শরিফুল ইসলামকে প্রথম দুই বলে মারেন টানা দুই ছক্কা। ওই ওভারে আরও এক চারে আসে ১৭ রান। শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৫ রানের। শেষ ওভার করতে তানভীর ইসলামকেও প্রথম বলে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে চতুর্থ বলে আউট হয়ে যান খালেদ। তার ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ২৫ রান। খালেদের এমন ব্যাটিং নিয়ে জয় বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই। খালেদ ভাই একটু সারপ্রাইজ করেই দিয়েছিল সবাইকে। আমাদের মেইন বোলার শরিফুল-তানভীর। ওদের কয়েকটা ভালো ছয় মেরে দিয়েছিল। একটু তো সারপ্রাইজ সবাই হয়ে গেছিল।’ বুধবার চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন জয়। প্রায় ২১০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন জাতীয় দলের এই ব্যাটার। নিজের ইনিংস নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচসেরা জয় বলেন, ‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই তখন মনে হয়েছিল উইকেট খুবই ভালো। মারলে হয়তোবা লাগবে। তাই আমি চেষ্টা করেছি।’
বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়লেন ভারতীয় উপস্থাপক

বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়লেন ভারতীয় উপস্থাপক চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়েছেন ভারতীয় উপস্থাপক রিধিমা পাঠক। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তাকে উপস্থাপক প্যানেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবারের বিপিএলে উপস্থাপনা ও ধারাভাষ্য প্যানেলে ভিন্নতা এনেছিল বিসিবি। উপস্থাপক হিসেবে পাকিস্তানের জয়নব আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন ভারতের রিধিমা পাঠক। পাশাপাশি ধারাভাষ্যকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা এবং ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার ড্যারেন গফকে। তবে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রিধিমার বিপিএল যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। গত ৩ জানুয়ারি ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর জরুরি সভা ডাকে বিসিবি। এরপর নিরাপত্তা ইস্যুতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অপারগতার কথা জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু ভারত থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার দেশীয় অপারেটরদের মাধ্যমে আইপিএল সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এসব ঘটনার মধ্যেই বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে রিধিমা পাঠককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
হ্যাটট্রিক জয়ে শীর্ষে রংপুর রাইডার্স

হ্যাটট্রিক জয়ে শীর্ষে রংপুর রাইডার্স শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দুই দলের লড়াইয়ে ৫ উইকেটের জয় পেয়ে চট্টগ্রামকে সরিয়েই শীর্ষে উঠে গেছে রংপুর। গ্তকাল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালস ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৯ রান। জবাবে রংপুর ৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। চট্টগ্রামের ইনিংসে ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন টানা তৃতীয় ম্যাচে ফিফটি করেন। তিনি ৪১ বলে ৫৮ রান করেন। তার সঙ্গে হাসান নাওয়াজের জুটিতে আসে ৬১ বলে ৮২ রান। বিপিএল অভিষেকে নাওয়াজ খেলেন দারুণ এক ইনিংস, ৩৮ বলে ৪৬ রান। শেষদিকে আমির জামাল ১০ বলে ১৯ এবং শেখ মেহেদি হাসান ৭ বলে ১৩ রান যোগ করলে লড়াইয়ের পুঁজি পায় চট্টগ্রাম। রংপুরের রান তাড়া শুরু হয় আগ্রাসী ভঙ্গিতে। কাইল মায়ার্স শুরু থেকেই আক্রমণে যান। তৃতীয় ওভারের পর ফ্লাডলাইট সমস্যায় খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকলেও খেলা শুরু হতেই ভয়ংকর রূপ নেন এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। তিনি মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান করে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। ডেভিড মালানের সঙ্গে তার জুটিতে ২৭ বলে আসে ৬১ রান। মালান পরে ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হলে ম্যাচে আবার চাপ বাড়ে রংপুরের ওপর। মায়ার্স ও মালান ফিরে যাওয়ার পর শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪১ রান। সেই চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আমির জামালের এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন তিনি। পরের ওভারে খুশদিল শাহ শরিফুল ইসলামকে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে জয়ের পথ সহজ করে দেন। মাহমুদুল্লাহ ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন, আর খুশদিল শাহ ১২ বলে ২২ রান করে আউট হন। ততক্ষণে জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে রংপুরের। এই জয়ের ফলে টানা তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল রংপুর রাইডার্স, আর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে শীর্ষস্থান হারাল চট্টগ্রাম রয়্যালস।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রস্তাব পেলেও ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রস্তাব পেলেও ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিসিবি কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বিপাকে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যকার দ্বৈরথ এখন ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান পড়তে যাচ্ছে ভারত। কারণ বাংলাদেশ যদি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যায়, তবে সম্প্রচার স্বত্ব ও টিকিট বিক্রিসহ বিভিন্ন খাত থেকে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়বে আয়োজক দেশটি। এই সংকট নিরসনে নজিরবিহীন এক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে ভারত। ভারত এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সাধারণত কোনো দেশের সরকারপ্রধানরা যে ধরনের নিচ্ছিদ্র প্রোটোকল ও নিরাপত্তা পান, টাইগারদের জন্য ঠিক সেই স্তরের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে চাইছে ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে এমন নজিরবিহীন নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিসিবির অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। জানা গেছে, আজই আইসিসির সাথে বিসিবির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আইসিসির মাধ্যমেই ভারতকে এই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করতে পারে। বিসিসিআই আশা করছে, সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো বিসিবি তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। তবে এখন পর্যন্ত বিসিবি তাদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের দল ভারতে নিরাপদ বোধ করছে না। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজের মতো তারকা ক্রিকেটারকে যেভাবে অসম্মানজনক উপায়ে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাতে ক্রিকেটারদের মানসিক নিরাপত্তা ও সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছে বোর্ড। এদিকে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধের যে সিদ্ধান্ত তথ্য মন্ত্রণালয় নিয়েছে তাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন জানিয়েছে বিসিবি। বোর্ড সভাপতি পরিষ্কার জানিয়েছেন, আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তবে আপাতত ভারতের মাটিতে পা না রাখার বিষয়ে বিসিবির মনোভাব অত্যন্ত কঠোর। এখন দেখার বিষয়- ভারতের দেওয়া এই রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল এর প্রস্তাবে বিসিবির মন গলে কি না, নাকি টাইগারদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাতেই সরিয়ে নিতে হয়।
মুস্তাফিজের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যা বলল আইপিএল কর্তৃপক্ষ

মুস্তাফিজের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যা বলল আইপিএল কর্তৃপক্ষ আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। তবে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বাংলাদেশি এই পেসারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। চুক্তি বাতিল হলেও কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না মুস্তাফিজ, এর পেছনের কারণ হিসেবে আইপিএলের বিমা নীতির কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মুস্তাফিজের মতো একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, তিনি কোনো ইনজুরি বা শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত নন, তিনি কেন পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন; এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট অঙ্গনে। এ বিষয়ে পিটিআইকে আইপিএল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আইপিএলের সব খেলোয়াড়ের চুক্তি বিমাকৃত থাকলেও সেই বিমার আওতা সীমিত। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি ক্রিকেটাররা সাধারণত টুর্নামেন্ট চলাকালে বা ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর ইনজুরিতে পড়লে বিমা সুবিধা পান। সে ক্ষেত্রে বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে মুস্তাফিজের চুক্তি বাতিল হয়েছে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এবং সেটিও রাজনৈতিক কারণে। ফলে এটি ইনজুরি বা ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্সসংক্রান্ত কোনো বিষয় নয়। এই কারণেই বিমা কোম্পানি কিংবা কেকেআর, কোনো পক্ষেরই মুস্তাফিজকে অর্থ পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছে সূত্রটি। আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা থাকলেও সেটি অত্যন্ত জটিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, আইপিএল পরিচালিত হয় ভারতীয় আইনের আওতায়।
হেড-স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার দাপট

হেড-স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার দাপট সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টের তৃতীয় দিনে ট্র্যাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথের ব্যাটে একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড। জো রুটের ঝলমলে সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রান করলেও, ২১৮ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়া দিন শেষে তুলে নেয় ৭ উইকেটে ৫১৮ রান। ফলে চতুর্থ দিনে ১৩৪ রানের লিড নিয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। দিনের শুরুতে ২ উইকেটে ১৬৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ট্র্যাভিস হেড নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নেসারের সঙ্গে গড়েন ৭২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। নেসার ৯০ বলে করেন ২৪ রান। পরে স্টিভ স্মিথের সঙ্গে দ্বিতীয় সেশনে আরও ৫৪ রান যোগ করেন হেড। ১৬৬ বলে ২৪ চার ও একটি ছক্কায় ১৬৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি আউট হলেও তখন ম্যাচ পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে। ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগে দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে ওঠেন স্টিভ স্মিথ। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে ৭১ এবং বেউ ওয়েবস্টারের সঙ্গে অপরাজিত ৮১ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তিনি। ২০৫ বলে ১২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন স্মিথ, যা ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৭তম সেঞ্চুরি। এই ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া গড়েছে সাতটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি যা টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মাঠে ইংল্যান্ডের দিনটি ছিল হতাশার; চারটি ক্যাচ ও একটি রানআউটের সুযোগ নষ্ট করে তারা। ম্যাথু পটস ২৫ ওভারে দেন রেকর্ড ১৪১ রান। ব্যক্তিগত কীর্তির দিক থেকেও দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন হেড ও স্মিথ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ডন ব্র্যাডম্যানের পরেই উঠে এসেছেন স্মিথ। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে অ্যাশেজে তিনটি সেঞ্চুরি করা প্রথম অস্ট্রেলীয় ওপেনার হিসেবে ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান ট্র্যাভিস হেড। পাশাপাশি, ৯৬ বছর পুরোনো ব্র্যাডম্যানের দ্রুততম দেড়শ রানের একটি রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। সব মিলিয়ে, এসসিজির তৃতীয় দিনটি ছিল পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটে, রেকর্ডে ও ম্যাচের গতিপথে।