বল হাতে উজ্জ্বল রিশাদ, তবুও হারলো হোবার্ট

বল হাতে উজ্জ্বল রিশাদ, তবুও হারলো হোবার্ট বিগ ব্যাশের চ্যালেঞ্জার ম্যাচে সিডনি সিক্সার্সের হেরেছে রিশাদ হোসেনের হোবার্ট হারিকেন্স। ৫৭ রানের জয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে উঠেছে সিডনি সিক্সার্স। দল হারলেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন রিশাদ। ২ উইকেট শিকার করেন এই টাইগার লেগ স্পিনার। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন হোবার্টের অধিনায়ক বেন ম্যাকডারমোট। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৯৮ রান করে সিডনি সিক্সার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ রানের ইনিংসটি খেলেন স্টিভেন স্মিথ। জোয়েল ডেভিস করেন ২৭ রান। এছাড়া ড্যানিয়াল হিউজ ১৩, জশ ফিলিপস ১৫, মোজেস হেনরিকস ১৯ ও জ্যাক এডওয়াডর্স ১৫ রান করেন। হোবার্টের হয়ে তিনটি উইকেট নেন রিলে মেরেডিথ। এছাড়া ৪ ওভার বোলিং করে ৩৩ রান খরচায় ২ উইকেট নেন রিশাদ। রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে হোবার্ট। উইকেটের ধারা থামাতে পারেনি দলটি। এতে করে ১৭ ওভার ২ বলে ১৪১ রানেই গুটিয়ে যায় হোবার্ট। ব্যাট হাতে ৮ বলে ১১ রান করেন রিশাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক ম্যাকডারমোট।
বিপিএলের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী

বিপিএলের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী আজ ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামছে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের। আজ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওওয়ারিয়র্স। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক মেহেদী হাসান। এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টার পর হেলিকপ্টারে করে ট্রফি নিয়ে মাঠে নামেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক আকবর আলি। পরে মাঠের মাঝে নির্ধারিত জায়গায় নিয়ে রাখেন তারা।
নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ

নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নামিবিয়াকে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সুপার সিক্স পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। সুপার সিক্সের শীর্ষ চারে থাকলে জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসরে খেলার সুযোগ নিশ্চিত হবে নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন দলটির। আজ বৃহস্পতিবার নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে নামিবিয়া ১৭.৫ ওভারে ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। তিন স্পিনারের শক্তিশালী বোলিংয়ে সহজে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পাঁচ দলের গ্রুপে আগের দুই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ও পাপুয়া নিউগিনি হারিয়েছে। তৃতীয় ম্যাচে নামিবিয়া টসে জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। বাংলাদেশের ইনিংস শুরুতে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস আউট হলেও দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তারের দ্বিতীয় উইকেট জুটি দলের স্কোর বাড়ায়। চার ওভারে বাংলাদেশ ৩৪ রান সংগ্রহ করে। এরপর দুইজন ব্যাটসম্যান দ্রুত আউট হলেও চতুর্থ উইকেটে সোবহানা মোস্তারি ও নিগার সুলতানা ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলের ইনিংসকে শক্তিশালী করেন। মোস্তারি ২৩ বলে ২৭ এবং নিগার ২৯ বলে ২১ রান করেন। পরে স্বর্ণা আক্তারের ১৮ বলে ২৩ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ ১৩০ রানের গণ্ডি পার হয়। নামিবিয়ার ইনিংস শুরু হয় হতাশাজনকভাবে। প্রথম তিন ওভারে তারা মাত্র ২০ রান করে। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই রাবেয়া খান প্রথম উইকেট তুলে নেন, যা দলের ইনিংসে বড় ধাক্কা দেয়। নামিবিয়া ২ উইকেটে ৩১ রান করার পর পরবর্তী ৩৩ রানে তাদের ৮ উইকেট হারাতে হয়। রাবেয়া খান ৪ ওভারে ৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। ফাহিমা খাতুনও ৩.৫ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। তবে সবথেকে সফল স্পিনার ছিলেন সানজিদা আক্তার। ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে তিনি ম্যাচের মূল নায়ক হন। এ গ্রুপে তিন ম্যাচে তিন জয় পেয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ হবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২৪ জানুয়ারি।
বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে

বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) করা আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বুধবার অনুষ্ঠিত জরুরি বোর্ড সভায় আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপ আয়োজন হবে ভারতেই এবং বাংলাদেশকে সেই নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলতে হবে। বিসিবি বারবার ভারতের মাটিতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও আইসিসি তা গ্রহণ করেনি। সভায় আইসিসি জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে কোনো ধরনের বড় ঝুঁকি নেই। ১৬ সদস্যের বোর্ড সভার ১৪ জনই ভারতের পক্ষে মত দেন। ফলে ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার বা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ বদলানোর কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইসিসি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, টুর্নামেন্টের সফল আয়োজনের স্বার্থে তারা কোনো বিশেষ দেশের জন্য পুরো সূচি ওলটপালট করবে না। বিসিবিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা যদি ভারতের মাটিতে খেলতে না যায়, তবে তাদের জায়গায় বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করা হবে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে ভারতের মাটিতেই পা রাখতে হবে শান্ত-হৃদয়দের। আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার মূল্যায়ন করা হয়েছে। স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনাসহ সব প্রতিবেদনে ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশের জন্য বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আইসিসি মনে করছে, টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে সূচি পরিবর্তন বাস্তবসম্মত নয়। পাশাপাশি, কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি বদল করলে ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টগুলোর জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি হতে পারে। যা বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে আইসিসির নিরপেক্ষতা ও ইভেন্টের মান ক্ষুণ্ন করতে পারে। আইসিসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বিষয়টি সমাধানের জন্য বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিভিন্ন স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য বিসিবিকে দেওয়া হয়। আইসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ভেন্যু ও সূচি নির্ধারণে সব দলের জন্য একই নীতি প্রযোজ্য। নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে ঝুঁকি প্রমাণিত না হলে ভেন্যু বদলের সুযোগ নেই। এতে অন্য দল ও বিশ্বজুড়ে থাকা দর্শকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হবে এবং আইসিসির নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। আইসিসির এই অনড় অবস্থানের পর বল এখন বিসিবির কোর্টে। তবে ভারতের মাটিতে দল পাঠানোর বিষয়টি এখন কূটনৈতিক ও সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবিকে চূড়ান্তভাবে জানাতে হবে তারা আইসিসির এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ভারতের বিমানে উঠবে কি না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কথিত সহিংসতার অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লির হাইকোর্ট। খবর এনডিটিভি’র। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আদালত এই জনস্বার্থ মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানান এবং এই ধরণের আবেদনকে ‘আদালতের সময় নষ্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ পিটিশনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। আদালত সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে বা বৈদেশিক নীতি কী হবে, তা সরকারের নির্বাহী বিভাগের বিষয়। এই ধরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার আদালতের নেই। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো আদালত বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্য কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর নির্দেশ জারি করতে পারে না। মামলাটিতে শুধু ভারত সরকার নয়, বরং আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং এমনকি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছিল। এতে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত বলেন, ভারতীয় আদালতের কোনো রিট এক্তিয়ার বিদেশি কোনো ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কাজ করে না। এই ধরণের মামলাকে জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার বলেও সতর্ক করেন আদালত। শুনানি চলাকালীন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)-এর পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আবেদনে ভিত্তিহীনভাবে বিদেশি বোর্ডগুলোকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। আবেদনকারী জনৈক ল’স্টুডেন্ট (আইন শিক্ষার্থী) তার সপক্ষে পাকিস্তানের একটি আদালতের রায়ের উদাহরণ টানলে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সাংবিধানিক আদালতগুলো পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা বা আইনশাস্ত্র অনুসরণ করে না।’ আদালত আবেদনকারীকে সতর্ক করে বলেন যে, বিচারিক সময় নষ্ট করার জন্য বড় অংকের জরিমানা করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনকারী মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে আদালত পরামর্শ দেন, ‘এই ধরণের অবাস্তব পিটিশন দাখিল না করে গঠনমূলক কাজে মন দেওয়া উচিত। ’
সুপার সিক্সে যেতে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে যুবাদের

সুপার সিক্সে যেতে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে যুবাদের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বি গ্রুপে খেলতে নেমে বড় চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় এখন হিসাব-নিকাশ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে জুনিয়র টাইগারদের জন্য। বুলাওয়েতে কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু হলেও টানা বৃষ্টিতে খেলা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ম্যাচটি সংক্ষিপ্ত করে ৪৭ ওভারে নামানো হলেও মাঠে খেলা হয়েছে মাত্র ১০ ওভার। এই সময়ে নিউজিল্যান্ড ১ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তোলে। এরপর আবার বৃষ্টি নামলে আম্পায়াররা ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। ফলে দুই দলই পায় এক পয়েন্ট করে। এর আগে একই মাঠে ১৭ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৮ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন মাত্র এক, অবস্থান গ্রুপ বি’র তৃতীয় স্থানে। গ্রুপ থেকে সুপার সিক্সে উঠবে তিনটি দল। ভারত ইতোমধ্যে পরের পর্ব নিশ্চিত করেছে। তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ ২৪ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বাংলাদেশের সামনে এখন আর কোনো বিকল্প নেই। ২৩ জানুয়ারি হারারেতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। সেই ম্যাচে হার বা পরিত্যক্ত হলেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি পিসিবির

বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি পিসিবির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৬ কে ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা আরও গভীর হলো। বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছার পক্ষে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান নিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঠিক একদিন আগে, মঙ্গলবার আইসিসিকে চিঠি দিয়ে পিসিবি জানায়, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে না খেলার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থানকে তারা সমর্থন করে। ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইসিসিকে পাঠানো ওই চিঠির অনুলিপি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের কাছেও পাঠিয়েছে পিসিবি। এমন অবস্থায় আজ বুধবার আইসিসি বোর্ডের জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এবং ম্যাচ ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিসিবি ইতোমধ্যেই নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তাদের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও আইসিসি এখন পর্যন্ত সূচি পরিবর্তনে অনড় অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে বিসিবির সঙ্গে একাধিক বৈঠকেও একই বার্তা দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশ্বকাপের সূচি বদলানো হবে না। বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবির সমর্থনে জাতীয় দল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা গ্রুপপর্বের ম্যাচ খেলতে ভারতে যাবে না। এই ইস্যুতে সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত সপ্তাহান্তে ঢাকায়। তবে আলোচনার পরও দুই পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় সংকট কাটেনি। ২১ জানুয়ারি, অর্থাৎ বুধবারকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়সীমা ধরা হয়েছে, বিশ্বকাপ শুরুর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতে। এমন প্রেক্ষাপটে পিসিবির হঠাৎ সম্পৃক্ততা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল- বাংলাদেশের ম্যাচ পাকিস্তানে আয়োজনের প্রস্তাব কিংবা পরিস্থিতি আরও জটিল হলে পাকিস্তানের নিজস্ব অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার কথাও নাকি ভাবছে পিসিবি। যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, এমনকি ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রশ্নেরও জবাব দেয়নি তারা। এই অচলাবস্থার সূত্রপাত হয়েছিল আইপিএল ২০২৬ ঘিরে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে। সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না পেলেও বাংলাদেশ–ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। এর পরপরই বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়- জাতীয় দল ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলবে না। পরিস্থিতি ক্রমেই ঘনীভূত হয়েছে। এমনকি বিষয়টি বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তার মন্তব্য ঘিরে খেলোয়াড় অসন্তোষ তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে চলমান বিপিএলেও। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের ঠিক আগে এসে ক্রীড়ার গণ্ডি পেরিয়ে বিষয়টি এখন স্পষ্টভাবেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতায় রূপ নিয়েছে। এখন সব নজর আইসিসি বোর্ড সভার দিকে। এই সংকটের শেষটা কোন পথে যায়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে বাংলাদেশকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ চেয়ে করা জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগ এনে এই আবেদন করেছিলেন ভারতের এক আইনশিক্ষার্থী। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর আপত্তি তোলেন। আদালত বলেন, এই মামলায় যে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে, তা পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। শুনানির শুরুতেই বেঞ্চ আবেদনটির প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং মন্তব্য করেন যে আদালতকে কোনো বিদেশি দেশের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে বা ভারতের বিচারিক সীমার বাইরে গিয়ে তদন্ত করতে বলা যায় না। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা বা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে না। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে আবেদনকারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধেও নির্দেশনা চেয়েছেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো রিট এখতিয়ার নেই। বেঞ্চ আবেদনকারীকে সতর্ক করে জানান, এই ধরনের মামলা পিআইএল এখতিয়ারের অপব্যবহার এবং এতে বিচারিক সময় নষ্ট হওয়ায় ভারী জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। শুনানিকালে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বিসিসিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত হয়ে জানান যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকেও মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। বেঞ্চ বারবার আবেদনকারীকে সতর্ক করেন যে আদালত বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট জারি করতে পারে না কিংবা ভারত সরকারকে কোনো নির্দিষ্টভাবে অন্য দেশের সঙ্গে আচরণ করতে নির্দেশ দিতে পারে না। প্রধান বিচারপতি জোর দিয়ে বলেন, কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া কল্পনা বা ব্যক্তিগত ধারণার ওপর ভর করে পিআইএল দায়ের করা যায় না। আদালত আবেদনকারীর সেই যুক্তিও খারিজ করে দেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের একটি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করেন। বেঞ্চ মন্তব্য করেন, ভারতীয় সাংবিধানিক আদালত পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করে না। বেঞ্চের ধারাবাহিক আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত আবেদনকারী পিআইএলটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আবেদন প্রত্যাহার করা হলে প্রধান বিচারপতি তাকে গঠনমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, এ ধরনের আবেদন আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় ও অকারণে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সূত্র: এনডিটিভি
১৩৩ রানের পুঁজি পেলো রাজশাহী; ১৩৪ রানের টার্গেটে চট্টগ্রাম

১৩৩ রানের পুঁজি পেলো রাজশাহী; ১৩৪ রানের টার্গেটে চট্টগ্রাম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে সন্ধ্যায় মুখোমুখি হয়েছিলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানে অলআউট হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ফলে ফাইনালে উঠতে ১৩৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ম্যাচের শুরুতে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। দেখে-শুনে ব্যাট করতে থাকেন রাজশাহীর দুই ওপেনার। তবে জুটিটা বড় হয়নি। ৩০ রানে থামে উদ্বোধনী জুটি। ১৯ বলে ২১ রান করে আউট হন সাহিবজাদা ফারহান। আর ৩৭ বলে ৪১ রান আসে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট থেকে। পরের পাঁচজন ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত ৮, মুশফিকুর রহিম ০, আকবর আলি ৩, জিমি নিশাম ৬ ও রায়ান বার্ল ৩ রান করে আউট হন। এরপর ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তোলেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। মাত্র ১৫ বলে দুটি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৩৫ রান। তাতেই মিরপুরের মতো মন্থর গতির পিচে মোটামুটি একটি সংগ্রহ পায় রাজশাহী। এদিকে রিপন মণ্ডল ১০ ও বিনুরা ৩ রান করেন। আর ১ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান মুরাদ। চট্টগ্রামের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদী হাসান ও আমির জামাল। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন পাঁচজন বোলার।
বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ

বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ ভারতের কাছে হেরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। ঘুরে দাঁড়াতে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল যুবাদের। কিন্তু বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। আজ টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে শুরুতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ইকবাল হোসেন ইমনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন হুগো ভোগ। ৮ রান করে এই ওপেনার সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ১১ রানের উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় কিউইরা। আরিয়ান মানকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক টম জুনস দলকে ভিত গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। শুরুর পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫১ রান তুলে তারা। পাওয়ার প্লের পরপরই ম্যাচে হানা দেয় বৃষ্টি। এরপর কয়েক দফা বৃষ্টি কমলে মাঠ কর্মীরা মাঠ প্রস্তুত করার চেষ্টা করেন। তবে থেমে থেমে বৃষ্টি আসায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি। ম্যাচ পরিত্যাক্ত হওয়ায় এক পয়েন্ট করে পেয়েছে দুই দলই। বাংলাদেশ সবমিলিয়ে ২ ম্যাচ খেলে এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে।