টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডার ম্যাচের তদন্ত করছে আইসিসি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডার ম্যাচের তদন্ত করছে আইসিসি সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ নিয়ে ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু)। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে দুটি আলাদা তদন্ত করছে আকসু। ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া অঙ্গনে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। কানাডার একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র অনুষ্ঠান ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’-এর ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রে এসব অভিযোগ উঠে আসে। শুক্রবার কানাডার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিতে ৪৩ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি প্রচারিত হয়। ঐ তথ্যচিত্রে কানাডা ক্রিকেটের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার নিয়ে অভিযোগ আনা হয়। তথ্যচিত্র অনুসারে, সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড-কানাডা ম্যাচ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে কানাডা। জবাবে ২৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয় কিউইরা। কানাডার বোলিং ইনিংসের পঞ্চম ওভার নিয়ে তদন্তে নেমেছে আকসু। ঐ ওভার বোলিং করেন কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া। বোলিংয়ে এসে প্রথম ডেলিভারিতে নো ও তৃতীয় বলে লেগ সাইড দিয়ে ওয়াইড দেন তিনি। ১৫ রান দিয়ে ওভার শেষ করেন বাজওয়া। আরেকটি তদন্ত হল, কানাডার তৎকালীন কোচ খুররম চৌহানের টেলিফোন কল রেকর্ড নিয়ে। কল রেকর্ড থেকে জানা যায়, জাতীয় দলে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এক বিবৃতিতে আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তীকালীন জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্র এফগ্রেভ ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘সিবিসিতে প্রচারিত অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে আকসু অবগত। তবে প্রামাণ্যচিত্রে তোলা অভিযোগগুলো নিয়ে এ মুহূর্তে মন্তব্য করার সুযোগ নেই আকসুর। তিনি আরও বলেন, ‘আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু) তিনটি মূল কাজ করে থাকে। সেগুলো হল- তথ্য সংগ্রহ, প্রতিরোধ ও শিক্ষা এবং তদন্ত। এই কাজগুলো একত্রে পরিচালিত হয় এবং কোথাও খেলার সততা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে- বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি পাওয়া গেলে এই তিনটি প্রক্রিয়া একই সঙ্গে কার্যকর করা হয়।
১৫ বছর পর ওয়ানডে খেলতে আসছে অজিরা, সূচি চূড়ান্ত

১৫ বছর পর ওয়ানডে খেলতে আসছে অজিরা, সূচি চূড়ান্ত আগেই চূড়ান্ত ছিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বিষয়টি। তবে মাঠে গড়ানোর আগে এই সিরিজের সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের সূচি অনুযায়ী সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে ২ জুন বাংলাদেশে পা রাখার কথা ছিল অজিদের। তবে এদিন বাংলাদেশে আসছে না অস্ট্রেলিয়া। সিরিজটি ৫ জুন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে নেয়া হয়েছে ৯ জুন। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের পরের দুই ম্যাচ ১১ ও ১৪ জুন। এরপর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই সিরিজের তিনটি ম্যাচই গড়াবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ২০০৬ ও সবশেষ ২০১১ সালে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল তারা। ২০১১ সালে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজিদের কাছে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। এর আগে ২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের দলের কাছে হাবিবুল বাশারের দলও একই ব্যবধানে হেরেছিল। তবে টি-টোয়েন্টিতে পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে। ২০২১ সালে একমাত্র দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এসে টাইগারদের কাছে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এবারের সফরে দুই দল তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার দর্শকদের জন্যও রয়েছে সুখবর। আগের সফরে সম্প্রচার জটিলতার কারণে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজটি অস্ট্রেলিয়ার দর্শকরা দেখতে পারেননি। তবে চলতি সপ্তাহে নতুন সম্প্রচার স্বত্ব চুক্তি হওয়ায় এবার আর সেই সমস্যা থাকছে না। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত কোনো সাদা বলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ অস্ট্রেলিয়ায় সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।
বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়ে আউট সাইফ

বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়ে আউট সাইফ মাত্র ১ রানে হেনরি নিকলসের হাত ফসকে জীবন পান সাইফ হাসান। এমন সুযোগ নষ্ট হতে দেননি বাংলাদেশের ওপেনার। ১৯তম ওভারে চার বলে ক্লার্কসনকে তিনটি বাউন্ডারি মেরে ৫৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করলেন তিনি। তার ৮ চার ও ১ ছয়ে সাজানো ফিফটিতে বাংলাদেশ একশ পার করে ১৮.৪ ওভারে। কিছুক্ষণ পর সাইফ আউট হয়ে গেছেন। ২২.৩ ওভারে উইলিয়াম ও’রোর্কের বলে ক্লার্কসনের ক্যাচ হন তিনি ৭৬ বলে ৫৭ রান করে। ৩ উইকেটে ১১৪ রান স্বাগতিকদের। চতুর্থ ওভারে জোড়া ধাক্কা লাগলেও বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ায়। প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের ২৪৭ রানের জবাবে তারা পাওয়ার প্লেতে করেছিল ৫২ রান। ২ উইকেট হারাতে হয়েছে। নিউজিল্যান্ড প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেটে করেছিল ৩৮ রান। ২১ রানে ২ উইকেট পড়ার পর বাংলাদেশের হয়ে ওই সময় সাইফ ও লিটন দাস ব্যাটিং করছিলেন যথাক্রমে ১৮ ও ১৫ রানে। দুজনেই উইকেটে বেশ সেট হয়ে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে রেখেছেন। বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে বিস্ময়করভাবে। চার বল শেষে তাদের স্কোর ৫, কিন্তু দুই ওপেনার সাইফ ও তানজিদ হাসান তামিম তখনো রানের খাতা খোলেননি। ইনিংসের পঞ্চম বলে রানের খাতা খোলেন সাইফ। তানজিদ শেষ বলে প্রথম রানের দেখা পান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে নাথান স্মিথের তৃতীয় বলে নিকলসের হাত ফসকে ১ রানে জীবন পান সাইফ। নিউজিল্যান্ড পেসার তার পরের ওভারে পরপর দুটি উইকেট তুলে নেন। তানজিদকে ২ রানে বোল্ড করেন। পরের বলে গোল্ডেন ডাক মারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন স্মিথ। যদিও লিটন দাসকে ফিরিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি তিনি। চতুর্থ ওভারে মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২১ রানে ২ উইকেট পড়ে তাদের। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। হেনরি নিকলস ও ড্যান ফক্সক্রফটের ফিফটির পরও ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানে থামে কিউইদের ইনিংস। বাংলাদেশকে করতে হবে ২৪৮ রান।
নিউজিল্যান্ড সিরিজে ম্যাচ বাই ম্যাচ ভাবনায় মিরাজ

নিউজিল্যান্ড সিরিজে ম্যাচ বাই ম্যাচ ভাবনায় মিরাজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সকাল ১১টায় শুরু হবে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচ। আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের লক্ষ্য সামনে রেখে এই সিরিজকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ দল। সিরিজ শুরুর আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সিরিজের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং টার্গেটটা ওভাবে সেট করা উচিত না। যেহেতু আমাদের তিনটা ম্যাচ আছে, সিরিজ বিবেচনায় আমাদের প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচটা ভালো ক্রিকেট খেলে জিততে চেষ্টা করব।’ নিউজিল্যান্ড দলে নিয়মিত একাদশের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় না থাকলেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না মিরাজ। তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড দলকে ছোট করে দেখার কোনো কিছুই নেই। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের প্রত্যেকটা ম্যাচে আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা চেষ্টা করব সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব আমাদের পক্ষে রেজাল্ট আনতে। আমরা যদি সিরিজ জিততে পারি এটা আমাদের জন্য অনেক একটা বড় অর্জন হবে। যেহেতু আমাদের র্যাংকিংয়ের একটা বিষয় আছে আর আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজটা।’ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে নেতৃত্বে পরিবর্তন ও অস্থিরতা থাকলেও সেটি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেনি বলে মনে করেন অধিনায়ক। এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘শেষ তিন সপ্তাহ আমরা খুবই ভালো প্র্যাকটিস করেছি এবং পেশাদার প্লেয়ার হিসেবে আসলে বাইরে কী হয় এটা আমাদের উপর প্রভাব ফেলে না। কারণ আমাদের কাজ হলো পারফর্ম করা এবং আমার কাছে মনে হয় যে শেষ তিন সপ্তাহ যেভাবে প্র্যাকটিস হয়েছে বাইরে কী হয়েছে এটা আমরা কখনোই চিন্তা করিনি।’
অবশেষে আইপিএলে ফিরছেন কামিন্স

অবশেষে আইপিএলে ফিরছেন কামিন্স দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে মাঠে ফেরার দ্বারপ্রান্তে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সিডনিতে সর্বশেষ স্ক্যানের পর তাকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা দল ও সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর। ব্লু মাউন্টেন্সে পরিবারসহ ছুটি কাটানোর সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভক্তের মন্তব্যের জবাবে কামিন্স জানান, শুক্রবার তার ভারতে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২৫ এপ্রিল জয়পুরে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরার লক্ষ্য ঠিক করেছেন এই পেসার। আইপিএলের চলতি আসরের শুরুর আগে একবার দলের সঙ্গে যোগ দিলেও তখন তার খেলার সম্ভাবনা ছিল না। মূলত সতীর্থদের সঙ্গে সময় কাটাতেই তিনি দলে যোগ দিয়েছিলেন। পরে আবার দেশে ফিরে যান ৩২ বছর বয়সী এই তারকা। গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময় প্রথমে কোমরে অস্বস্তি অনুভব করেন কামিন্স। পরবর্তীতে আগস্টে তার কোমরের হাড়ে চাপজনিত চোট ধরা পড়ে, যা তাকে প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে রেখেছে। গত নয় মাসে তিনি খেলতে পেরেছেন মাত্র একটি ম্যাচ—অ্যাশেজের অ্যাডিলেইড টেস্ট। ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকায় অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই আসর থেকেও ছিটকে পড়েন কামিন্স। ফলে আইপিএলেও এতদিন মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইশান কিষান। পাঁচ ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে দলটি, যেখানে সমান পয়েন্ট থাকা কয়েকটি দলের মধ্যে রানরেটে এগিয়ে তারা। কামিন্সের প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার জন্যও বড় স্বস্তির খবর। তবে তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টে বাড়তি নজর রাখবে জাতীয় দলের নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। আগামী আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু করে পরবর্তী ১১ মাসে প্রায় ২০টি টেস্ট ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এদিকে চোট কাটিয়ে সম্প্রতি মাঠে ফিরেছেন কামিন্সের দীর্ঘদিনের বোলিং সঙ্গী জশ হেইজেলউডও। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলে সর্বশেষ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
বাংলাদেশকে জবাব দিতে পূর্ণ শক্তির পরিকল্পনায় নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশকে জবাব দিতে পূর্ণ শক্তির পরিকল্পনায় নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। আজ প্রথমবারের মতো অনুশীলনও করেছে তারা। পরে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসেন কোচ রব ওয়াল্টার। সেখানে কথা বলেছেন প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দলের পেস ইউনিট নিয়ে। স্পিনিং উইকেট বানানোর দরকার নেই বলেও মনে করেন তিনি। অতীতে স্পিন নির্ভর উইকেট বানিয়ে সফরকারীদের ফাঁদে ফেলার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। তবে গেল মাসে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পিন সহায়ক উইকেটের বদলে স্পোর্টিং উইকেটে বানিয়েছিল টাইগাররা। আসন্ন সিরিজেও বাংলাদেশের স্পিন উইকেট বানানোর প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন এই কোচ। ওয়াল্টার বলছিলেন, ‘আসলে আমার মনে হয় বাংলাদেশের দলের দারুণ কিছু পেসার রয়েছে। তাদের মনে হয় স্পিন উইকেট বানানোর দরকার নেই। ফলে আমাদের নিজেদের শক্তিমত্তা অনুযায়ী প্ল্যান করে মাঠে তা কাজে লাগাতে হবে।’ ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন মোকাবিলা করতেই হবে। ফলে নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে। আমরা এখানের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পিচ দেখেছি, একদমই ভিন্নরকম স্পিন পেসের লড়াই মনে হয়েছে। আমরা নিজেদের দুই ধরনের উইকেটের জন্যই প্রস্তুত রেখেছি।’ পরে বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে ওয়াল্টার জানান, ‘অবশ্যই ভিন্ন ধরনের কন্ডিশন এখানে। আমরা চেষ্টা করছি সবকিছু বুঝে নিতে। এখানে অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় তো লাগবে। প্রথম ম্যাচের আগে যে কয়দিন সময় পেয়েছি তা হয়ত ভালোভাবে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তবে এখানে শ্রীলঙ্কায় ‘এ’ দলের সিরিজ খেলে অনেকে এসেছে। সব মিলিয়ে ভালোই লাগছে।’ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ১৭ এপ্রিল। ২০ তারিখ একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। এরপর চট্টগ্রামে ২৩ এপ্রিল ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ। একই মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হবে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল। দুই দলের শেষ টি-টোয়েন্টি হবে ২ মে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
ডোপিং পরীক্ষায় যুক্ত হলেন অভিষেক-অক্ষর

ডোপিং পরীক্ষায় যুক্ত হলেন অভিষেক-অক্ষর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা এবং অক্ষর প্যাটেল। ফাইনালে অভিষেকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দারুণ সূচনা করেছিল স্বাগতিকরা। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টে বল হাতে নৈপ্যুনের পাশাপাশি অসাধারণ ফিল্ডিং করেছেন অক্ষর প্যাটেল। বিশ্বকাপ শেষে অভিষেক সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং অক্ষর দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (নাডা) বা জাতীয় ডোপিং বিরোধী সংস্থা তাদের ডোপিং পরীক্ষার তালিকা যুক্ত করেছে। স্মৃতি মান্ধানা এবং শ্রেয়াস আইয়ারের পরিবর্তে এই দুই ক্রিকেটারকে তাদের অবস্থান জানাতে হবে এবং ডোপ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় তাদের উপস্থিতি থাকতে হবে। অভিষেক শর্মা এবং অক্ষর প্যাটেল হলেন নাডা-রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুলে সর্বশেষ যুক্ত হওয়া খেলোয়াড়। এই দীর্ঘ তালিকায় বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ভারতীয় ক্রিকেটারসহ ৩৪৮ জন ক্রীড়াবিদ রয়েছেন। অভিষেক শর্মা এবং অক্ষর প্যাটেল ছাড়াও দেশটির টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিল এই তালিকার অন্যতম হাই-প্রোফাইল নাম। উল্লেখ্য, ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (নাডা) বিভিন্ন ক্রীড়া শাখার অ্যাথলিটদের ওপর নজর রাখে। এর প্রধান কাজ হলো খেলোয়াড়রা মাঠে তাদের পারফরম্যান্স উন্নত করার জন্য কোনো নিষিদ্ধ ড্রাগ গ্রহণ করছে কিনা তা পরীক্ষা করা।অ্যান্টি-ডোপিং টেস্টিং পুল হলো সেইসব অ্যাথলিটদের একটি তালিকা, যাদেরকে নাডার কাছে তাদের অবস্থান জানাতে এবং প্রতিদিন একটি পূর্ব-নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুল এর কোনো অ্যাথলিট যদি এই শর্তগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে নাডা তাকে ডোপিং লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে এবং সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এভাবে অ্যান্টি-ডোপিং টেস্টিং পুল নাডাকে শুধুমাত্র ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের মূল ভিত্তি রক্ষা করতেই সাহায্য করে না, বরং অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি দিতেও সহায়তা করে।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা আইসিসির

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা আইসিসির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আসন্ন নারী টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড ৮.৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৫ কোটি টাকা) প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে। ইংল্যান্ডে জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে আগের আসরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এবারের আসরে দলসংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২ করা হয়েছে এবং গ্রুপপর্বের ম্যাচও ২০ থেকে বেড়ে ৩০টিতে উন্নীত হয়েছে। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২.৩৪ মিলিয়ন ডলার, যা আগের আসরের সমান। রানার্স-আপ দল পাবে ১.১৭ মিলিয়ন ডলার। সেমিফাইনালে পরাজিত দুই দল প্রত্যেকে পাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। গ্রুপপর্বে প্রতিটি জয়ের জন্য থাকবে ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার পুরস্কার। তবে এবার একটি বড় পরিবর্তন হলো—নকআউট পর্বে উঠতে না পারা দলগুলোর জন্য আলাদা পজিশনভিত্তিক পুরস্কার বাতিল করা হয়েছে। ফলে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা কিছু দল আগের তুলনায় কম অর্থ পেতে পারে। প্রতিটি দলের জন্য ন্যূনতম অংশগ্রহণ ফি ১১২,৫০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৪৭,৫০০ ডলার করা হয়েছে। এতে নকআউট পর্বে পৌঁছানো দলগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। সেমিফাইনালে হারা দল পাবে অন্তত ৯২২,৫০০ ডলার, রানার্স-আপ পাবে অন্তত ১,৪১৭,৫০০ ডলার, চ্যাম্পিয়ন দল পাবে কমপক্ষে ২,৫৮৭,৫০০ ডলার। ২০২৩ সালে আইসিসি পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের জন্য সমান পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলেই ২০২৪ আসরে পুরস্কার তহবিলে বিশাল বৃদ্ধি দেখা যায়, যা ২.৪৫ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৭.৯৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে চলতি বছরের ১২ জুন, যেখানে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে এজবাস্টনে। ফাইনাল ৫ জুলাই, ঐতিহ্যবাহী লর্ডস স্টেডিয়ামে।
আম্পায়ারকে বল না দেওয়ায় শাস্তি ডেভিডের, জরিমানা হার্দিকের

আম্পায়ারকে বল না দেওয়ায় শাস্তি ডেভিডের, জরিমানা হার্দিকের আইপিএলের শুরু থেকেই ব্যাট হাসছে টিম ডেভিডের। তাতে গ্যালারির চতুর্দিকে বলকে পাঠিয়ে দর্শকদের দিচ্ছেন নির্মল আনন্দ। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে গতকালের ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার দিয়েছেন বিনোদন। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২১২.৫০ স্ট্রাইকরেটে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস খেলেছেন ডেভিড। পরে তার ঝোড়ো ইনিংসটিও পেয়েছে পূর্ণতা। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ১৮ রানের জয় পেয়েছে তার দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়লেও পরে ডেভিডকে শুনতে হয়েছে দুঃসংবাদ। আম্পায়ারের নির্দেশনা অমান্য করায় শাস্তি পেতে হয়েছে তাকে। শুধু ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানাই নয়, ৩০ বছর বয়সী ব্যাটারের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে ১টি ডিমেরিট পয়েন্টও। ম্যাচে একবার নয়, আম্পায়ারের নির্দেশনা দুইবার অমান্য করেছেন ডেভিড। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরু ইনিংসের ১৮তম ওভারে। বল পরিবর্তন করার পর আম্পায়ার তা চাইলে ডেভিড না দিয়ে পরিবর্তিত বলকে সিম অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষার জন্য ছুঁড়ে মারেন তিনি। আর দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০তম ওভারে। এবারও তিনি আম্পায়ারের নিদের্শনা মানেননি। এরই শাস্তি হিসেবে আইপিএল আচরণবিধির ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরিমানা করেন ম্যাচ রেফারি। ডেভিড শাস্তি মেনে নেওয়ায় শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। এদিকে, হার্দিক পান্ডিয়ার হয়েছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। ম্যাচ হারার পর জরিমানা গুনেছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানস অধিনায়ক। মন্থর ওভার রেটের কারণে ১২ লাখ রুপি জরিমানা দিতে হয়েছে তাকে।
লাবুশেনের ব্যাটে হায়দ্রাবাদের টানা জয়

লাবুশেনের ব্যাটে হায়দ্রাবাদের টানা জয় মারনাস লাবুশেনের ৫৩ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংসে পিসিএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ছয় উইকেটে হারিয়ে হায়দ্রাবাদ কিংসমেন। এতে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে টেবিলের ছয় নম্বরে উঠে এলো লাবুশেনের নেতৃত্বাধীন দলটি। রবিবার ১২ এপ্রিল করাচিতে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় হায়দরাবাদ। ডেভন কনওয়ে এবং সামির মিনহাসের ব্যাটে ভালো শুরু পায় ইসলামাবাদ। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৫৬ রান। মোহাম্মদ আলির বলে বোল্ড হয়ে ২২ রান করে ফেরেন মিনহাস। এরপর কনওয়েকে সঙ্গ দিতে আসেন মোহাম্মদ ফাইক। তাদের জুটি বেশি দীর্ঘ হয়নি। ১৪ বলে ১৮ রান করে ফেরেন ফাইক। এরপর জাতীয় দলের সতীর্থ চ্যাপম্যানকে নিয়ে এগোতে থাকেন কনওয়ে। তবে দলীয় ১০৫ রানে আউট হন কনওয়ে, করেন ৪৫ রান। এরপর চ্যাপম্যান ছাড়া আর কেউ বলার মতো রান করতে পারেনি। এই কিউই ব্যাটার ৩০ বলে ৪২ করেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানে থামে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের ইনিংস। হায়দরাবাদের হয়ে ১৮ রানে ৪ উইকেট নেন আসিফ মেহমুদ। ২ উইকেট পান মোহাম্মদ আলী। আর একটি উইকেট নেন গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদও ভালো শুরু পায়। মাআজ সাদাকাত ও অধিনায়ক লাবুশেনের ব্যাট থেকে আসে ৫০ রান। সাদাকাত ৩০ করে ফিরলে লাবুশেনের সঙ্গে জুটি বাধেন সাইম আইয়ুব। এই দুইজন মিলে গড়েন ৬০ রানের জুটি। আইয়ুব ৩৫ করে ফিরলেও দলকে জয়ের দিকে নিতে থাকেন অজি ব্যাটার লাবুশেন। মাঝে ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেই, ম্যাক্সওয়েল ক্রিজে নামার পর সব সমীকরণ সহজ হয়ে যায়। অভিজ্ঞ এই অজি অলরাউন্ডার ৯ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। লাবুশেন থাকেন ৬১ রানে অপরাজিত। ১১ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় হায়দরাবাদ। ইসলামাবাদের হয়ে দুইটি করে উইকেট নেন গ্রিন ও ফাহিম আশরাফ।