ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কেমন

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কেমন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে আবহাওয়া। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার কলম্বোয় ১০০ শতাংশ মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ১৩ শতাংশ।ম্যাচ শুরু হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায়, টস অনুষ্ঠিত হবে সাড়ে ৬টায়। তবে সন্ধ্যা ৬টার দিকে—ম্যাচ শুরুর এক ঘণ্টা আগে— বৃষ্টির সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৪৯ শতাংশে। যদিও সন্ধ্যা ৭টার সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে ৯ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তবু আকাশ পুরোপুরি মেঘে ঢাকা থাকবে। রাত ১১টা পর্যন্ত একই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে কোনো রিজার্ভ ডে রাখা হয়নি। ফলে বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে দুই দলই পাবে এক পয়েন্ট করে, যা গ্রুপের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দুই দলই অপরাজিত। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়াকে হারিয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে রয়েছে। তাদের নেট রান রেট +৩.০৫০। অন্যদিকে পাকিস্তান নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে, তাদের নেট রান রেট +০.৯৩২। সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই যেমন রোমাঞ্চকর হওয়ার অপেক্ষায়, তেমনি কলম্বোর আকাশও হয়ে উঠেছে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের বড় অনিশ্চয়তা। এখন দেখার বিষয়, বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায় নাকি দর্শকরা উপভোগ করতে পারেন আরেকটি ঐতিহাসিক ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ।

জীবনে প্রথম ভোট দিলেন তামিম ইকবাল

জীবনে প্রথম ভোট দিলেন তামিম ইকবাল উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনের প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি বুথে তিনি ভোট প্রদান করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে তামিম ইকবাল তার ভাই ও সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবালকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সেনাবাহিনীর বিশেষ প্রটোকলে কেন্দ্রে নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের এই ভোটার গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি বুথে গিয়ে তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তামিম ইকবাল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। পরিবেশ খুবই ভালো লাগছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ ছিল। আশা করি, সবাই এমন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. এয়াছিন জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। ভোট প্রদান শেষে সেনাবাহিনীর একই প্রটোকলে কেন্দ্র ত্যাগ করেন এই ক্রিকেট তারকা।

অবশেষে চালু হচ্ছে মেয়েদের বিপিএল, শুরু কবে থেকে

অবশেষে চালু হচ্ছে মেয়েদের বিপিএল, শুরু কবে থেকে মেয়েদের বিপিএল করার চিন্তা আগে থেকেই ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। গত বছরই দেশের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক নারীদের এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল বিসিবি। তবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাটা এলো। বোর্ডের নারী উইং জানিয়েছে, মেয়েদের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউবিপিএল) প্রথম আসর হবে আগামী ৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডব্লিউবিপিএল দেশের নারী ক্রিকেটের পেশাদার উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রথম আসরে তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশ নেবে। এতে জাতীয় দলের শীর্ষ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিভারাও খেলবেন। প্রতিটি দলে ভারসাম্য ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় খেলোয়াড়দের ড্রাফট পদ্ধতির মাধ্যমে বাছাই করা হবে। এ ছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিদেশি পেশাদার খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে। এতে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়বে, বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি মিলবে এবং টুর্নামেন্টের মান আরো উন্নত হবে বলে আশা বিসিবির। ডব্লিউবিপিএলের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবির পরিচালক ও নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রুবাবা দৌলা। এই পরিষদ টুর্নামেন্টের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি, ড্রাফট নীতিমালা, খেলার ধরন, সূচি, ভেন্যু, সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানাবে বিসিবি।

পিএসএলের ৮ দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড

পিএসএলের ৮ দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এবারের আসর আগামী ২৬ মার্চ থেকে মাঠে গড়াবে। গতকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে পিএসএলের নিলাম। গতকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নিলামে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ হোসেন ইমন।  এবারের পিএসএল নিলামে দল পেয়েছেন মোট ১০৩ ক্রিকেটার। তবে রিটেইন ও সরাসরি চুক্তিসহ এবার দল পেয়েছেন মোট ১৪১ জন ক্রিকেটার। পিএসএলের ৮ দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড-  ইসলামাবাদ ইউনাইটেড- শাদাব খান, সালমান ইরশাদ, আন্দ্রিস গুস, ডেভন কনওয়, ফাহিম আশরাফ, মেহরান মুমতাজ, ম্যাক্স ব্রায়ান্ট, মার্ক চ্যাপম্যান, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মীর হামজা সাজ্জাদ, সামির মিনহাস, সামিন গুল, শামার জোসেফ, ইমাদ ওয়াসিম, রিচার্ড গ্লেসন, হায়দার আলী, মোহাম্মদ হাসনাইন, দীপেন্দ্র সিং আইরে। শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্স- স্টিভ স্মিথ, মোহাম্মদ নাওয়াজ, সালমান মির্জা, আহমেদ দানিয়াল, সাদ মাসুদ, শাহিবজাদা ফারহান, স্টিভ স্মিথ, জাহানজাইব সুলতান, অ্যাস্টন টার্নার, পিটার সিডল, তাবরাইজ শামসি, লাচলান শো, ডিলানো পটগিটার, জশ ফিপিপ, শান মাসুদ, মমিন কুমার, আওয়াইস জাফর। করাচি কিংস- মঈন আলী, খুশদিল শাহ, হাসান আলী, সাদ বেগ, আব্বাস আফ্রিদি, মঈন আলী, আজম খান, ডেভিড ওয়ার্নার, সালমান আলী আঘা, শহীদ আজিজ, মীর হামজা, অ্যাডাম জাম্পা, মোহাম্মদ হামজা, আকিব ইলিয়াস, খুজাইমা বিন তানভির, জনসন চার্লস, মোহাম্মদ ওয়াসিম, ইহসানউল্লাহ, রিজওয়ানউল্লাহ। কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স- আবরার আহমেদ, উসমান তারিক, হাসান নাওয়াজ, শ্যামল হোসেন, স্পেন্সার জনসন, রাইলি রুশো, ফয়সাল আকরাম, আরাফাত মিনহাস, জাহানদাদ খান, খাজা নাফে, ওয়াসিম আকরাম জুনিয়র, খান জেব, বিসমিল্লাহ খান, সাকিব খান, ব্রেট হ্যাম্পটন, স্যামুয়েল হার্পার, বেভন জ্যাকবস, সাউদ শাকিল, বেন ম্যাকডারমট, টম কারান। লাহোর কালান্দার্স- মুস্তাফিজুর রহমান, শাহীন শাহ আফ্রিদি, সিকান্দার রাজা, আব্দুল্লাহ শফিক, মোহাম্মদ নাইম, হারিস রউফ, উসামা মীর, ফখর জামান, উবাইদ শাহ, হাসিবউল্লাহ খান, মোহাম্মদ ফারুক, দাসুন শানাকা, পারভেজ হোসেন ইমন, আসিফ আলী, হুসাইন তালাত, তৈয়ব তাহির, গুড়াকেশ মোতি। পেশাওয়ার জালমি- অ্যারন হার্ডি, বাবর আজম, সুফিয়ান মুকিম, আব্দুল সামাদ, আলী রাজা, আমের জামাল, খুররাম শাহজাদ, মোহাম্মদ হারিস, খালিদ উসমান, আব্দুস সুবহান, জেমস ভিন্স, মাইকেল ব্রেসওয়েল, কুশাল মেন্ডিস, ইফতিখার আহমেদ, নাহিদ রানা, মির্জা তাহির বেগ। হায়দরাবাদ কিংসম্যান- সাইম আইয়ুব, উসমান খান, আকিফ জাভেদ, মাজ সাদাকাত, মার্নাস ল্যাবুশেন, মোহাম্মদ আলী, কুশাল পেরেরা, ইরফান খান নিয়াজি, হাসান খান, শায়ান জাহাঙ্গীর, ওটেনিল বার্টম্যান, হাম্মাদ আজম, রাইলি মেরিডিথ, শারজিল খান, আসিফ মাহমুদ, হুনাইন শাহ, রিজওয়ান মেহমুদ, সাদ আলী, তৈয়ব আরিফ। রাওয়ালপিন্ডি- মোহাম্মদ রিজওয়ান, জামান খান, ইয়াসির খান, স্যাম বিলিংস, নাসিম শাহ, রিশাদ হোসেন, ড্যারিল মিচেল, মোহাম্মদ আমির, আব্দুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, ডিয়ান ফরেস্টার, লরি ইভান্স, আসিফ আফ্রিদি, কামরান গুলাম, ফাওয়াদ আলী, মোহাম্মদ আমির খান, শাহজাইব খান।

ভারতের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবে পাকিস্তান : ফারহান

ভারতের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবে পাকিস্তান : ফারহান ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মহারণের আগে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে পাকিস্তান শিবির। বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পরই দলটি জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে তারা মাঠে নামবে ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩২ রানের জয়ের পর ম্যাচসেরা হওয়া ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান বলেছেন, ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচগুলোর মতোই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চায় পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে ফারহান বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলব। এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে যেমন খেলেছি, এবারও একইভাবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাই।’ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৭৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। ফারহান জানান, অনুশীলন থেকেই নিজের ছন্দ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এমনকি ম্যাচসেরা হওয়ার লক্ষ্যও আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপে অন্তত দুই থেকে তিনটি ম্যাচসেরা হওয়ার ব্যক্তিগত লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা বলেন, দল রান তাড়া করা এবং আগে ব্যাট করা—দুই পরিস্থিতিতেই প্রস্তুত। ‘আমরা চেষ্টা করি আগে ব্যাট করে গড়ের চেয়ে বেশি রান তুলতে এবং তা রক্ষা করতে। আমাদের ব্যাটিং অর্ডার নমনীয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কেউ উপরে বা নিচে খেলতে পারে,’ বলেন তিনি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অনেক বেশি গুছানো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে পাকিস্তান। ১৯০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে সেটি সফলভাবে রক্ষা করে দলটি। তবে অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, পাওয়ারপ্লে বোলিংয়ে আরো উন্নতির সুযোগ আছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে এখন সমর্থকদের উন্মাদনা তুঙ্গে। মাঠের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

২০২৮ যুব বিশ্বকাপের আয়োজক হতে পারে বাংলাদেশ!

২০২৮ যুব বিশ্বকাপের আয়োজক হতে পারে বাংলাদেশ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঠে চলছে। কিন্তু মাঠের বাইরের উত্তাপটাই এখন পর্যন্ত বেশি। ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচ খেলবে কিনা তা গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত ছিল না। রোববার লাহোরে আইসিসি, পিসিবি বৈঠকে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয়। পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত পাল্টেছে। তাতে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) রেখেছে ভূমিকা। সঙ্গে লাভবান হয়েছে বাংলাদেশও। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভির আমন্ত্রণে লাহোরে হুট করে গিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বড় সংবাদ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। হ্যাঁ, সংবাদটা বড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়াতে বিসিবিকে কোনো আর্থিক, ক্রিকেটীয় বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না বলে নিশ্চিত করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের যেন আর্থিক কোনো ক্ষতি না হয় সেই দিকটি পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে। তাহলেই ভারতের বিপক্ষে তারা খেলবে সেই শর্ত দিয়েছিল। আইসিসিও তা মেনে নিয়েছে। সঙ্গে বাড়তি পাওয়াও আছে। আইসিসি ২০৩১ সালের আগে বাংলাদেশকে আরেকটি আইসিসি ইভেন্টে আয়োজক করতে পারে। সেটা হতে পারে ২০২৮ যুব বিশ্বকাপ। মৌখিক যে আলাপ আলোচনা হয়েছে, বাংলাদেশ যুব বিশ্বকাপই পেতে পারে। এর আগে এই প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। তাছাড়া সাম্ভাব্য আইসিসি ইভেন্টে আছে যুব নারী বিশ্বকাপ। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ছেলেদের যুব বিশ্বকাপ আয়োজন করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এমনটিই শোনা গেছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও তা উঠে এসেছে। আইসিসির জন্য যুব বিশ্বকাপের আয়োজক নির্ধারণ করার কাজটা বরাবরই কঠিন। কেননা বড় দেশগুলো এই ইভেন্টের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অতীতের রেকর্ড তাই বলছে। ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো দেশ কখনই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক হয়নি। ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার প্রথম আসর বসেছিল অস্ট্রেলিয়াতে। ২০১২ সালে তারা সবশেষ আয়োজন করে। সেটাও ১৪ বছর আগে। আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে এই তিনটা দেশ অনেক বেশি আগ্রহী হয়, বিশেষ করে পুরুষদের আইসিসি ইভেন্টের ক্ষেত্রে। ‘বিগ থ্রি’ যাদেরকে বলা হয় তাদের অনাগ্রহে বাকিদের সুযোগ হয়। বাংলাদেশ ২০০৪ ও ২০১৬ সালে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে। শ্রীলঙ্কাও করেছে দুইবার। সবশেষ ২০ বছর আগে।বাংলাদেশে এই আয়োজন করা আইসিসির জন‌্য লাভজনক। কেননা বাংলাদেশে আয়োজন করার খরচটা কম। সঙ্গে আর্থিক লাভটাও হয়। দুই বছর পর আরেকটি যুব বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে আছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

অনড় সিদ্ধান্তে শাস্তি নয় পুরস্কার পাচ্ছে বাংলাদেশ

অনড় সিদ্ধান্তে শাস্তি নয় পুরস্কার পাচ্ছে বাংলাদেশ নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ। বৈশ্বিক এই আসরে না খেললেও বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করবে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি। উল্টো পুরস্কার হিসেবে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজক বাংলাদেশকে করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সংস্থাটি। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে আইসিসি। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানানোর পর গতকাল আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভা হয়। আজ রাতেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

খাদের কিনারা থেকে জয় ছিনিয়ে আনল পাকিস্তান

খাদের কিনারা থেকে জয় ছিনিয়ে আনল পাকিস্তান একটা সময় মনে হচ্ছিল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝি বিশ্বকাপ মিশন শেষ হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের। তবে ভক্তদের সব আশঙ্কা দূর করে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়েছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণ বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে নেদারল্যান্ডসকে ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রানে গুটিয়ে দেয় পাকিস্তান। তবে সহজ এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নদীর মতো বার বার বাঁক নিয়েছে পাকিস্তানের ইনিংস। এদিকে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ম্যাচ বয়কট করায় এই ম্যাচ জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না পাকিস্তানের জন্য। হারলেই বাদ—এমন সমীকরণ সামনে রেখে শেষ দিকে চাপে পড়ে উইকেট হারাতে থাকে বাবর আজমরা শেষ পর্যন্ত ফাহিম আশরাফের ১১ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।

সুপার এইটে যেতে ‘কিছুটা অসম্ভব মিশনে’ পাকিস্তান

সুপার এইটে যেতে ‘কিছুটা অসম্ভব মিশনে’ পাকিস্তান পাকিস্তানের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ম্যাচ দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বড় সমীকরণের সামনে পড়ে গেছে সালমান আলী আগা, দলের ক্রিকেটাররা। ভারতের বিপক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কার্যত ম্যাচ সংখ্যা চার থেকে নেমে এসেছে তিনে। পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে। পিসিবিও সেই সিদ্ধান্তের বাইরে যায়নি। ফলে ওই ম্যাচে সম্ভাব্য দুই পয়েন্ট আগেই হারিয়েছে পাকিস্তান। শুধু তাই নয় বড় ধাক্কা এসেছে নেট রান রেটেও। এই অবস্থায় সুপার এইটে যেতে হলে এখন প্রতিটি ম্যাচ জেতা ছাড়া বিকল্প নেই পাকিস্তানের সামনে। পাশাপাশি প্রতিটি জয় হতে হবে বড় ব্যবধানে। আজ নেদারল্যান্ডসের পর তাদের সামনে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া। তিন ম্যাচেই বড় ব্যবধানের জয় তুলতে হবে সালমান আলী আগার দলকে। কিন্তু পথটা মোটেও সহজ নয়। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী সদস্য দল হয়ে পূর্ণ সদস্য দলকে হারানোর নজির সবচেয়ে বেশি নেদারল্যান্ডসের। ২০২২ বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে হেরেই শেষ চারের স্বপ্ন ভেঙেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। পাকিস্তানেরও এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। সবশেষ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সুপার ওভারে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। ফলে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়ার বিপক্ষে প্রতিটি ম্যাচই এখন বাঁচা মরার লড়াই। এর মধ্যেই চোখ রাখতে হচ্ছে আকাশের দিকেও। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। মূল বিশ্বকাপে এমন হলে পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্তে সুপার এইটে ওঠার পথ এখন সত্যিই পাহাড়সম হয়ে গেছে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নদের জন্য।

বাংলাদেশ নেই, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ভয়াবহ ধস

বাংলাদেশ নেই, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ভয়াবহ ধস ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ। আর এর প্রভাব ভারত, আইসিসি ভালোভাবেই টের পাচ্ছে। বিশ্বকাপের আকর্ষণ অনেকটাই কমে গেছে। তার সরাসরি ছাপ পড়েছে টিকিট বিক্রিতে। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের চার ম্যাচের তিনটি ছিল কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। ভারতের গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশ না খেলায় কলকাতার দর্শকদের আগ্রহে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করায় কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীরা ওই তিন ম্যাচ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, কলকাতায় বিশ্বকাপ ম্যাচের টিকিট বিক্রিতে স্পষ্ট মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বাইরে টিকিট কাউন্টার প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এমন দর্শক সংকট আগে কখনো দেখা যায়নি। হতাশাজনক এই পরিস্থিতি স্থানীয় আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আজ উদ্বোধনী দিনের তিনটি ম্যাচের একটি অনুষ্ঠিত হবে ইডেনে, যেখানে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড। গতকাল পর্যন্ত এই ম্যাচের বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৯১৭টি টিকিট। অথচ ইডেন গার্ডেন্সের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৫ হাজার। ১৬ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড, ইতালি ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪৯৭০টি। আর ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ম্যাচের জন্য শুক্রবার পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ১২৪৮টি টিকিট। এই সংখ্যাগুলোই পরিষ্কার করে দিচ্ছে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে কত বড় ভুল করেছে আইসিসি।