বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কথিত সহিংসতার অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লির হাইকোর্ট। খবর এনডিটিভি’র। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আদালত এই জনস্বার্থ মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানান এবং এই ধরণের আবেদনকে ‘আদালতের সময় নষ্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ পিটিশনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। আদালত সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে বা বৈদেশিক নীতি কী হবে, তা সরকারের নির্বাহী বিভাগের বিষয়। এই ধরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার আদালতের নেই। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো আদালত বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্য কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর নির্দেশ জারি করতে পারে না। মামলাটিতে শুধু ভারত সরকার নয়, বরং আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং এমনকি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছিল। এতে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত বলেন, ভারতীয় আদালতের কোনো রিট এক্তিয়ার বিদেশি কোনো ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কাজ করে না। এই ধরণের মামলাকে জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার বলেও সতর্ক করেন আদালত। শুনানি চলাকালীন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)-এর পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আবেদনে ভিত্তিহীনভাবে বিদেশি বোর্ডগুলোকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। আবেদনকারী জনৈক ল’স্টুডেন্ট (আইন শিক্ষার্থী) তার সপক্ষে পাকিস্তানের একটি আদালতের রায়ের উদাহরণ টানলে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সাংবিধানিক আদালতগুলো পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা বা আইনশাস্ত্র অনুসরণ করে না।’ আদালত আবেদনকারীকে সতর্ক করে বলেন যে, বিচারিক সময় নষ্ট করার জন্য বড় অংকের জরিমানা করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনকারী মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে আদালত পরামর্শ দেন, ‘এই ধরণের অবাস্তব পিটিশন দাখিল না করে গঠনমূলক কাজে মন দেওয়া উচিত। ’
সুপার সিক্সে যেতে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে যুবাদের

সুপার সিক্সে যেতে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে যুবাদের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বি গ্রুপে খেলতে নেমে বড় চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় এখন হিসাব-নিকাশ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে জুনিয়র টাইগারদের জন্য। বুলাওয়েতে কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু হলেও টানা বৃষ্টিতে খেলা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ম্যাচটি সংক্ষিপ্ত করে ৪৭ ওভারে নামানো হলেও মাঠে খেলা হয়েছে মাত্র ১০ ওভার। এই সময়ে নিউজিল্যান্ড ১ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তোলে। এরপর আবার বৃষ্টি নামলে আম্পায়াররা ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। ফলে দুই দলই পায় এক পয়েন্ট করে। এর আগে একই মাঠে ১৭ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৮ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন মাত্র এক, অবস্থান গ্রুপ বি’র তৃতীয় স্থানে। গ্রুপ থেকে সুপার সিক্সে উঠবে তিনটি দল। ভারত ইতোমধ্যে পরের পর্ব নিশ্চিত করেছে। তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ ২৪ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বাংলাদেশের সামনে এখন আর কোনো বিকল্প নেই। ২৩ জানুয়ারি হারারেতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। সেই ম্যাচে হার বা পরিত্যক্ত হলেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি পিসিবির

বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি পিসিবির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৬ কে ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা আরও গভীর হলো। বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছার পক্ষে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান নিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঠিক একদিন আগে, মঙ্গলবার আইসিসিকে চিঠি দিয়ে পিসিবি জানায়, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে না খেলার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থানকে তারা সমর্থন করে। ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইসিসিকে পাঠানো ওই চিঠির অনুলিপি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের কাছেও পাঠিয়েছে পিসিবি। এমন অবস্থায় আজ বুধবার আইসিসি বোর্ডের জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এবং ম্যাচ ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিসিবি ইতোমধ্যেই নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তাদের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও আইসিসি এখন পর্যন্ত সূচি পরিবর্তনে অনড় অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে বিসিবির সঙ্গে একাধিক বৈঠকেও একই বার্তা দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশ্বকাপের সূচি বদলানো হবে না। বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবির সমর্থনে জাতীয় দল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা গ্রুপপর্বের ম্যাচ খেলতে ভারতে যাবে না। এই ইস্যুতে সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত সপ্তাহান্তে ঢাকায়। তবে আলোচনার পরও দুই পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় সংকট কাটেনি। ২১ জানুয়ারি, অর্থাৎ বুধবারকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়সীমা ধরা হয়েছে, বিশ্বকাপ শুরুর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতে। এমন প্রেক্ষাপটে পিসিবির হঠাৎ সম্পৃক্ততা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল- বাংলাদেশের ম্যাচ পাকিস্তানে আয়োজনের প্রস্তাব কিংবা পরিস্থিতি আরও জটিল হলে পাকিস্তানের নিজস্ব অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার কথাও নাকি ভাবছে পিসিবি। যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, এমনকি ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রশ্নেরও জবাব দেয়নি তারা। এই অচলাবস্থার সূত্রপাত হয়েছিল আইপিএল ২০২৬ ঘিরে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে। সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না পেলেও বাংলাদেশ–ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। এর পরপরই বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়- জাতীয় দল ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলবে না। পরিস্থিতি ক্রমেই ঘনীভূত হয়েছে। এমনকি বিষয়টি বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তার মন্তব্য ঘিরে খেলোয়াড় অসন্তোষ তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে চলমান বিপিএলেও। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের ঠিক আগে এসে ক্রীড়ার গণ্ডি পেরিয়ে বিষয়টি এখন স্পষ্টভাবেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতায় রূপ নিয়েছে। এখন সব নজর আইসিসি বোর্ড সভার দিকে। এই সংকটের শেষটা কোন পথে যায়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে বাংলাদেশকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ চেয়ে করা জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগ এনে এই আবেদন করেছিলেন ভারতের এক আইনশিক্ষার্থী। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর আপত্তি তোলেন। আদালত বলেন, এই মামলায় যে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে, তা পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। শুনানির শুরুতেই বেঞ্চ আবেদনটির প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং মন্তব্য করেন যে আদালতকে কোনো বিদেশি দেশের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে বা ভারতের বিচারিক সীমার বাইরে গিয়ে তদন্ত করতে বলা যায় না। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা বা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে না। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে আবেদনকারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধেও নির্দেশনা চেয়েছেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো রিট এখতিয়ার নেই। বেঞ্চ আবেদনকারীকে সতর্ক করে জানান, এই ধরনের মামলা পিআইএল এখতিয়ারের অপব্যবহার এবং এতে বিচারিক সময় নষ্ট হওয়ায় ভারী জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। শুনানিকালে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বিসিসিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত হয়ে জানান যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকেও মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। বেঞ্চ বারবার আবেদনকারীকে সতর্ক করেন যে আদালত বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট জারি করতে পারে না কিংবা ভারত সরকারকে কোনো নির্দিষ্টভাবে অন্য দেশের সঙ্গে আচরণ করতে নির্দেশ দিতে পারে না। প্রধান বিচারপতি জোর দিয়ে বলেন, কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া কল্পনা বা ব্যক্তিগত ধারণার ওপর ভর করে পিআইএল দায়ের করা যায় না। আদালত আবেদনকারীর সেই যুক্তিও খারিজ করে দেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের একটি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করেন। বেঞ্চ মন্তব্য করেন, ভারতীয় সাংবিধানিক আদালত পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করে না। বেঞ্চের ধারাবাহিক আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত আবেদনকারী পিআইএলটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আবেদন প্রত্যাহার করা হলে প্রধান বিচারপতি তাকে গঠনমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, এ ধরনের আবেদন আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় ও অকারণে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সূত্র: এনডিটিভি
১৩৩ রানের পুঁজি পেলো রাজশাহী; ১৩৪ রানের টার্গেটে চট্টগ্রাম

১৩৩ রানের পুঁজি পেলো রাজশাহী; ১৩৪ রানের টার্গেটে চট্টগ্রাম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে সন্ধ্যায় মুখোমুখি হয়েছিলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানে অলআউট হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ফলে ফাইনালে উঠতে ১৩৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ম্যাচের শুরুতে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। দেখে-শুনে ব্যাট করতে থাকেন রাজশাহীর দুই ওপেনার। তবে জুটিটা বড় হয়নি। ৩০ রানে থামে উদ্বোধনী জুটি। ১৯ বলে ২১ রান করে আউট হন সাহিবজাদা ফারহান। আর ৩৭ বলে ৪১ রান আসে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট থেকে। পরের পাঁচজন ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত ৮, মুশফিকুর রহিম ০, আকবর আলি ৩, জিমি নিশাম ৬ ও রায়ান বার্ল ৩ রান করে আউট হন। এরপর ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তোলেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। মাত্র ১৫ বলে দুটি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৩৫ রান। তাতেই মিরপুরের মতো মন্থর গতির পিচে মোটামুটি একটি সংগ্রহ পায় রাজশাহী। এদিকে রিপন মণ্ডল ১০ ও বিনুরা ৩ রান করেন। আর ১ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান মুরাদ। চট্টগ্রামের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদী হাসান ও আমির জামাল। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন পাঁচজন বোলার।
বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ

বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ ভারতের কাছে হেরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। ঘুরে দাঁড়াতে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল যুবাদের। কিন্তু বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। আজ টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে শুরুতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ইকবাল হোসেন ইমনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন হুগো ভোগ। ৮ রান করে এই ওপেনার সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ১১ রানের উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় কিউইরা। আরিয়ান মানকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক টম জুনস দলকে ভিত গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। শুরুর পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫১ রান তুলে তারা। পাওয়ার প্লের পরপরই ম্যাচে হানা দেয় বৃষ্টি। এরপর কয়েক দফা বৃষ্টি কমলে মাঠ কর্মীরা মাঠ প্রস্তুত করার চেষ্টা করেন। তবে থেমে থেমে বৃষ্টি আসায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি। ম্যাচ পরিত্যাক্ত হওয়ায় এক পয়েন্ট করে পেয়েছে দুই দলই। বাংলাদেশ সবমিলিয়ে ২ ম্যাচ খেলে এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে।
শেষ বলে ছক্কা- কোয়ালিফায়ারে সিলেট বিদায় রংপুরের

শেষ বলে ছক্কা- কোয়ালিফায়ারে সিলেট বিদায় রংপুরের শেষ বলে জয়ের জন্য সিলেটের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। ব্যাটিংয়ে ছিলেন ক্রিস ওকস, বোলিংয়ে রংপুরের ফাহিম আশরাফ। অফ স্টাম্পের বাইরের বল কভার অঞ্চলের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন ওকস। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মাতে সিলেট শিবির, আর এবারের বিপিএল শেষ হয়ে যায় রংপুরের। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতেই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে সিলেটের বোলাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই তাওহীদ হৃদয়, ডেভিড মালান, লিটন দাস ও কাইল মেয়ার্সকে হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। চার ব্যাটারের সম্মিলিত অবদান ছিল মাত্র ১৭ রান। এরপর খুশদিল শাহ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ১৯ বলে ৩০ রান করেন তিনি, হাঁকান তিনটি ছক্কা। তাকে সঙ্গ দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে খুশদিল ফিরতেই আবার চাপে পড়ে রংপুর। রিয়াদ ২৬ বলে ৩৩ রান করলেও অপরপ্রান্তে নুরুল হাসান সোহান বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রানেই থামে রংপুরের ইনিংস। সিলেটের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন খালেদ আহমেদ। তিনি ১৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। ক্রিস ওকস নেন ২ উইকেট, খরচ করেন ১৫ রান। নাসুম আহমেদও ১২ রানে নেন ২ উইকেট। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও সিলেটের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। দলীয় ২ রানে তৌফিক খান আউট হলে চাপ তৈরি হয়। পারভেজ হোসেন ইমন ১২ বলে ১৮ রান করে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আরিফুল ইসলাম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় রংপুর। এরপর অধিনায়ক মিরাজ ও স্যাম বিলিংস ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস সাজান। আঁটসাঁট বোলিংয়ে সহজে রান তুলতে পারেননি তারা। মিরাজ ২৩ বলে ১৮ রান করে ফিরলে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষদিকে বিলিংস ৪০ বলে ২৯ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। শেষ ওভারে সমীকরণ নেমে আসে ৯ রানে। মঈন আলী আউট হলে চাপ চরমে ওঠে। তবে শেষ বলের নাটকীয় ছক্কায় সব চাপ উড়িয়ে দিয়ে সিলেটকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ক্রিস ওকস।
আইসিসির অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিলে মানা হবেনা-যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

আইসিসির অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিলে মানা হবেনা-যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা কিছু দিন ধরেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চলছে নাটকীয়তা। তবে বাংলাদেশও তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার বিপক্ষে তারা। আজ সচিবালয়ে এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইসিসি যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপের কাছে মাথা নত করে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয়, আমরা সেই অযৌক্তিক শর্ত মানব না। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে কি খেলবে না? এই প্রশ্নের উত্তর আসছে। আগামীকাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসি।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে আসর শুরু করা নিগার সুলতানা জ্যোতি-স্বর্ণা আক্তারদের দল আজ পাপুয়া নিউগিনিকে ৩০ রানে পরাজিত করেছে। এই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে বাংলাদেশ। নেপালের কীর্তিপুরে ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাপুয়া নিউগিনি শুরুতে ভালো লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়। একপর্যায়ে ৩ উইকেটে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯৮ রান। তবে শেষ দিকে একের পর এক রান আউটে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দলটি। শেষ পর্যন্ত ১৩৮ রানেই থামে পাপুয়া নিউগিনির ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা খাতুন ছাড়া বাকি ৬ বোলারই একটি করে উইকেট নেন।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইস্যুতে যে সিদ্ধান্ত নিলো পাকিস্তান

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইস্যুতে যে সিদ্ধান্ত নিলো পাকিস্তান আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে দল পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে শক্ত অবস্থান নিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও আপাতত স্থগিত করেছে তারা। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতে দল না পাঠানোর বিষয়ে বিসিবির সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক ও বৈধ বলে মনে করছে পিসিবি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তান দলের সব ধরনের প্রস্তুতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যদি সম্মানজনক কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এমনকি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে না খেলার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে টিম ম্যানেজমেন্টকে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়োজক দেশ হওয়ার অজুহাতে কোনো দলের ওপর চাপ বা হুমকি প্রয়োগ করা উচিত নয় এমন নীতিগত অবস্থানেই রয়েছে বোর্ডটি। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পিসিবি জানায়, শ্রীলঙ্কার ভেন্যু পাওয়া না গেলে তারা বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতেও প্রস্তুত। সংকট সমাধানে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। তবে ভারতীয় ক্রিকেটভিত্তিক পোর্টাল ক্রিকবাজ জানায়, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড তাদের নির্ধারিত গ্রুপ পরিবর্তনে রাজি নয়। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘বি’-তে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, ওমান ও আয়ারল্যান্ডের সব ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডিতে। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। ভারত সফরে বিসিবির অনীহার প্রেক্ষিতে আইসিসি আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে। একই সঙ্গে আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতে না যায়, তাহলে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্কটল্যান্ডকে বদলি দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আইসিসির।