বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে বাংলাদেশকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ চেয়ে করা জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগ এনে এই আবেদন করেছিলেন ভারতের এক আইনশিক্ষার্থী। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর আপত্তি তোলেন। আদালত বলেন, এই মামলায় যে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে, তা পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। শুনানির শুরুতেই বেঞ্চ আবেদনটির প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং মন্তব্য করেন যে আদালতকে কোনো বিদেশি দেশের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে বা ভারতের বিচারিক সীমার বাইরে গিয়ে তদন্ত করতে বলা যায় না। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা বা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে না। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে আবেদনকারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধেও নির্দেশনা চেয়েছেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো রিট এখতিয়ার নেই। বেঞ্চ আবেদনকারীকে সতর্ক করে জানান, এই ধরনের মামলা পিআইএল এখতিয়ারের অপব্যবহার এবং এতে বিচারিক সময় নষ্ট হওয়ায় ভারী জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। শুনানিকালে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বিসিসিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত হয়ে জানান যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকেও মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। বেঞ্চ বারবার আবেদনকারীকে সতর্ক করেন যে আদালত বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট জারি করতে পারে না কিংবা ভারত সরকারকে কোনো নির্দিষ্টভাবে অন্য দেশের সঙ্গে আচরণ করতে নির্দেশ দিতে পারে না। প্রধান বিচারপতি জোর দিয়ে বলেন, কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া কল্পনা বা ব্যক্তিগত ধারণার ওপর ভর করে পিআইএল দায়ের করা যায় না। আদালত আবেদনকারীর সেই যুক্তিও খারিজ করে দেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের একটি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করেন। বেঞ্চ মন্তব্য করেন, ভারতীয় সাংবিধানিক আদালত পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করে না। বেঞ্চের ধারাবাহিক আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত আবেদনকারী পিআইএলটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আবেদন প্রত্যাহার করা হলে প্রধান বিচারপতি তাকে গঠনমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, এ ধরনের আবেদন আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় ও অকারণে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সূত্র: এনডিটিভি
১৩৩ রানের পুঁজি পেলো রাজশাহী; ১৩৪ রানের টার্গেটে চট্টগ্রাম

১৩৩ রানের পুঁজি পেলো রাজশাহী; ১৩৪ রানের টার্গেটে চট্টগ্রাম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে সন্ধ্যায় মুখোমুখি হয়েছিলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানে অলআউট হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ফলে ফাইনালে উঠতে ১৩৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ম্যাচের শুরুতে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। দেখে-শুনে ব্যাট করতে থাকেন রাজশাহীর দুই ওপেনার। তবে জুটিটা বড় হয়নি। ৩০ রানে থামে উদ্বোধনী জুটি। ১৯ বলে ২১ রান করে আউট হন সাহিবজাদা ফারহান। আর ৩৭ বলে ৪১ রান আসে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট থেকে। পরের পাঁচজন ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত ৮, মুশফিকুর রহিম ০, আকবর আলি ৩, জিমি নিশাম ৬ ও রায়ান বার্ল ৩ রান করে আউট হন। এরপর ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তোলেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। মাত্র ১৫ বলে দুটি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৩৫ রান। তাতেই মিরপুরের মতো মন্থর গতির পিচে মোটামুটি একটি সংগ্রহ পায় রাজশাহী। এদিকে রিপন মণ্ডল ১০ ও বিনুরা ৩ রান করেন। আর ১ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান মুরাদ। চট্টগ্রামের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদী হাসান ও আমির জামাল। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন পাঁচজন বোলার।
বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ

বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ ভারতের কাছে হেরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। ঘুরে দাঁড়াতে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল যুবাদের। কিন্তু বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। আজ টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে শুরুতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ইকবাল হোসেন ইমনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন হুগো ভোগ। ৮ রান করে এই ওপেনার সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ১১ রানের উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় কিউইরা। আরিয়ান মানকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক টম জুনস দলকে ভিত গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। শুরুর পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫১ রান তুলে তারা। পাওয়ার প্লের পরপরই ম্যাচে হানা দেয় বৃষ্টি। এরপর কয়েক দফা বৃষ্টি কমলে মাঠ কর্মীরা মাঠ প্রস্তুত করার চেষ্টা করেন। তবে থেমে থেমে বৃষ্টি আসায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি। ম্যাচ পরিত্যাক্ত হওয়ায় এক পয়েন্ট করে পেয়েছে দুই দলই। বাংলাদেশ সবমিলিয়ে ২ ম্যাচ খেলে এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে।
শেষ বলে ছক্কা- কোয়ালিফায়ারে সিলেট বিদায় রংপুরের

শেষ বলে ছক্কা- কোয়ালিফায়ারে সিলেট বিদায় রংপুরের শেষ বলে জয়ের জন্য সিলেটের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। ব্যাটিংয়ে ছিলেন ক্রিস ওকস, বোলিংয়ে রংপুরের ফাহিম আশরাফ। অফ স্টাম্পের বাইরের বল কভার অঞ্চলের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন ওকস। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মাতে সিলেট শিবির, আর এবারের বিপিএল শেষ হয়ে যায় রংপুরের। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতেই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে সিলেটের বোলাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই তাওহীদ হৃদয়, ডেভিড মালান, লিটন দাস ও কাইল মেয়ার্সকে হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। চার ব্যাটারের সম্মিলিত অবদান ছিল মাত্র ১৭ রান। এরপর খুশদিল শাহ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ১৯ বলে ৩০ রান করেন তিনি, হাঁকান তিনটি ছক্কা। তাকে সঙ্গ দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে খুশদিল ফিরতেই আবার চাপে পড়ে রংপুর। রিয়াদ ২৬ বলে ৩৩ রান করলেও অপরপ্রান্তে নুরুল হাসান সোহান বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রানেই থামে রংপুরের ইনিংস। সিলেটের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন খালেদ আহমেদ। তিনি ১৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। ক্রিস ওকস নেন ২ উইকেট, খরচ করেন ১৫ রান। নাসুম আহমেদও ১২ রানে নেন ২ উইকেট। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও সিলেটের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। দলীয় ২ রানে তৌফিক খান আউট হলে চাপ তৈরি হয়। পারভেজ হোসেন ইমন ১২ বলে ১৮ রান করে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আরিফুল ইসলাম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় রংপুর। এরপর অধিনায়ক মিরাজ ও স্যাম বিলিংস ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস সাজান। আঁটসাঁট বোলিংয়ে সহজে রান তুলতে পারেননি তারা। মিরাজ ২৩ বলে ১৮ রান করে ফিরলে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষদিকে বিলিংস ৪০ বলে ২৯ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। শেষ ওভারে সমীকরণ নেমে আসে ৯ রানে। মঈন আলী আউট হলে চাপ চরমে ওঠে। তবে শেষ বলের নাটকীয় ছক্কায় সব চাপ উড়িয়ে দিয়ে সিলেটকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ক্রিস ওকস।
আইসিসির অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিলে মানা হবেনা-যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

আইসিসির অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিলে মানা হবেনা-যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা কিছু দিন ধরেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চলছে নাটকীয়তা। তবে বাংলাদেশও তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার বিপক্ষে তারা। আজ সচিবালয়ে এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইসিসি যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপের কাছে মাথা নত করে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয়, আমরা সেই অযৌক্তিক শর্ত মানব না। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে কি খেলবে না? এই প্রশ্নের উত্তর আসছে। আগামীকাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসি।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে আসর শুরু করা নিগার সুলতানা জ্যোতি-স্বর্ণা আক্তারদের দল আজ পাপুয়া নিউগিনিকে ৩০ রানে পরাজিত করেছে। এই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে বাংলাদেশ। নেপালের কীর্তিপুরে ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাপুয়া নিউগিনি শুরুতে ভালো লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়। একপর্যায়ে ৩ উইকেটে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯৮ রান। তবে শেষ দিকে একের পর এক রান আউটে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দলটি। শেষ পর্যন্ত ১৩৮ রানেই থামে পাপুয়া নিউগিনির ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা খাতুন ছাড়া বাকি ৬ বোলারই একটি করে উইকেট নেন।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইস্যুতে যে সিদ্ধান্ত নিলো পাকিস্তান

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইস্যুতে যে সিদ্ধান্ত নিলো পাকিস্তান আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে দল পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে শক্ত অবস্থান নিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও আপাতত স্থগিত করেছে তারা। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতে দল না পাঠানোর বিষয়ে বিসিবির সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক ও বৈধ বলে মনে করছে পিসিবি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তান দলের সব ধরনের প্রস্তুতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যদি সম্মানজনক কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এমনকি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে না খেলার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে টিম ম্যানেজমেন্টকে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়োজক দেশ হওয়ার অজুহাতে কোনো দলের ওপর চাপ বা হুমকি প্রয়োগ করা উচিত নয় এমন নীতিগত অবস্থানেই রয়েছে বোর্ডটি। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পিসিবি জানায়, শ্রীলঙ্কার ভেন্যু পাওয়া না গেলে তারা বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতেও প্রস্তুত। সংকট সমাধানে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। তবে ভারতীয় ক্রিকেটভিত্তিক পোর্টাল ক্রিকবাজ জানায়, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড তাদের নির্ধারিত গ্রুপ পরিবর্তনে রাজি নয়। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘বি’-তে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, ওমান ও আয়ারল্যান্ডের সব ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডিতে। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। ভারত সফরে বিসিবির অনীহার প্রেক্ষিতে আইসিসি আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে। একই সঙ্গে আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতে না যায়, তাহলে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্কটল্যান্ডকে বদলি দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আইসিসির।
সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরিতে: হাসানের ঝড়ের পর তাওহীদের কারিশমা

সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরিতে: হাসানের ঝড়ের পর তাওহীদের কারিশমা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির ঘটনা নতুন নয়। আগের আসরগুলোতে একই ম্যাচে দুই ইনিংসে দুই সেঞ্চুরির নজির রয়েছে। তবে বিপিএলের দ্বাদশ আসরে এবারই প্রথম এমন দৃশ্য দেখা গেল। রোববার রাউন্ড রবিন লিগের শেষ দিনে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরিতে দেন রংপুর রাইডার্সের তাওহীদ হৃদয়। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। তবে দিন শেষে হাসিটা টিকিয়ে রাখতে পারেননি হাসান। বড় ব্যবধানে হেরেছে তার দল নোয়াখালী। প্রথমে ব্যাটিং করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে। জবাবে রংপুর রাইডার্স ১৯.৪ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে থেকে লিগ শেষ করেছে রংপুর। ফলে তারা দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে। পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠতে হলে রংপুরকে ম্যাচটি জিততে হতো মাত্র ৭.১ ওভারে, যা ছিল কার্যত অসম্ভব। তাই স্বাভাবিক ছন্দেই রান তাড়া করে দলটি। ওপেনিং জুটিতে ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয় ৭৮ রানের জুটি গড়েন। যদিও মালান ছিলেন অনেকটাই দর্শকের ভূমিকায়। ১৭ বলে মাত্র ১৫ রান করেন তিনি। অন্যপ্রান্তে তাওহীদ আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। ২৭ বলেই ফিফটি তুলে নেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। তিন নম্বরে নামা লিটন দাস ইনিংসের শুরুতে মেহেদী হাসান রানার হাতে জীবন পেলেও ধীরগতির ইনিংস খেলেন। তবে তাওহীদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে রানের গতি কমেনি। আগের ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকা তাওহীদ এবার সেঞ্চুরির অপেক্ষা ঘোচান। ৫৭ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি শেষ হয় ১০৯ রানে। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাট ঝাঁকিয়ে উদযাপনের পর হেলমেট খুলে মাঠে সিজদাহ দেন তিনি। পরে হাসান মাহমুদের স্লোয়ারে বোল্ড হয়ে ফেরেন। লিটন দাস অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন। ৩৫ বলে ৩৯ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ২টি চার ও ১টি ছক্কা। এর আগে নোয়াখালীর ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন হাসান ইসাখিল। সিলেটে অভিষেক ম্যাচে ৬০ বলে ৯২ রান করে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা এই ব্যাটসম্যান ঢাকায় এসে অপেক্ষার অবসান ঘটান। রংপুরের বিপক্ষে ইনিংসের শেষভাগে ঝড় তুলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ইনিংসের শুরুতে ছিলেন বেশ ধীর। প্রথম ৮ বলে তার রান ছিল মাত্র ১। তৃতীয় ওভারে নাহিদ রানার বিপক্ষে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। এরপর ফাহিম আশরাফের বলে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারলেও ডট বলের কারণে রান তুলতে সময় নেন। ফিফটি করতে লাগে ৫০ বল। তবে ফিফটির পর একেবারেই রূপ বদলে যায় তার ব্যাটিং। পরের ২০ বলে হাঁকান ৭টি বাউন্ডারি, যার মধ্যে ৬টিই ছিল ছক্কা। নার্ভাস নাইন্টিজে বিচলিত না হয়ে আকিফ জাভেদের ওভারে টানা দুই ছক্কা হাঁকান। অনসাইডে আলতো ঠেলে দুই রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হাসান। শেষ পর্যন্ত ৭২ বলে ৪টি চার ও ১১টি ছক্কায় ১০৭ রান করেন তিনি। ৩৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক হায়দার আলীর সঙ্গে ৭৪ বলে ১৩৭ রানের জুটি গড়েন হাসান ইসাখিল। যা এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। হায়দার আলী ৩২ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন, তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা। হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরির আলো শেষ পর্যন্ত ম্লান করে দেয় তাওহীদ হৃদয়ের সেঞ্চুরি। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে রংপুরের এই ব্যাটসম্যানের হাতেই।
বিপিএল: প্রথম ও তৃতীয় দল চূড়ান্ত, দ্বিতীয় ও চতুর্থ দলের অপেক্ষা

বিপিএল: প্রথম ও তৃতীয় দল চূড়ান্ত, দ্বিতীয় ও চতুর্থ দলের অপেক্ষা রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের ঘোড়া শেষ পর্যন্ত শীর্ষেই থাকল। শনিবার রাতে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে রাউন্ড রবিন লিগের অষ্টম জয় নিশ্চিত করেছে তারা। আগে থেকে শীর্ষে ছিল। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী নিজেদের অবস্থান এমন জায়গায় নিয়েছে যেখানে বাকিদের আর আসার সুযোগই নেই। তাতে এলিমিনেটর ম্যাচ নিশ্চিত হয়েছে তাদের। কিন্তু প্রতিপক্ষ কে? নিশ্চিত হবে আজ। বিপিএলের রাউন্ড রবিন লিগের শেষ দিনের খেলা আজ। দুইটি ম্যাচের পর চূড়ান্ত হবে এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ারের লাইনআপ। ছয় দলের টুর্নামেন্টে সেরা চারে উঠতে পারেনি ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। প্রতিযোগিতার এক ম্যাচ আগে তারা ছিটকে গেছে। সেরা চারে উঠেছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর। এদের মধ্যে প্রথম দল রাজশাহী। তৃতীয় দল সিলেট। দ্বিতীয় ও চুতর্থ অবস্থানে কে থাকবে তা জানা যাবে আজ। রোববার দুপুরে মিরপুর শের-ই-বাংলায় মুখোমুখি হবে নোয়াখালী ও রংপুর। সন্ধ্যায় খেলবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। রংপুর নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে পয়েন্ট হবে ১২। তারা দ্বিতীয় স্থানে উঠে যেতে পারে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে টপকে। শর্ত আছে, রান রেট ভালো থাকতে হবে। সন্ধ্যার মধ্য চট্টগ্রাম ঢাকাকে হারালে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা দ্বিতীয় স্থানেই থাকবে। এছাড়া দুই দলের কেউই যদি না জেতে তাহলে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় এবং রংপুর চতুর্থ দল থাকবে। শীর্ষ দুইয়ে থাকতে পারলে ফাইনাল খেলার একাধিক সুযোগ পাওয়া যায়। সেই সুযোগটি নিশ্চিতভাবে রংপুর ও চট্টগ্রাম হাতছাড়া করতে চাইবে না। এলিমিনেটর ম্যাচ যারা হারবে তারা চলে যাবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। যারা জিতবে তারা চলে যাবে ফাইনালে। তৃতীয় ও চতুর্থ দল খেলবে প্রথম কোয়ালিফায়ার। এই ম্যাচের বিজয়ী দল খেলবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। ম্যাচের বিজয়ী দল এরপর খেলবে ফাইনাল।
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে হাত না মেলানো অনিচ্ছাকৃত: বিসিবি

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে হাত না মেলানো অনিচ্ছাকৃত: বিসিবি বাংলাদেশ ও ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ম্যাচে টসের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলেও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জিম্বাবুয়ের বুলাওয়ায়োতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসের সময় ভারতের অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রের সঙ্গে হাত মেলাননি বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক শুরু হয়। তবে ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও অনভিপ্রেত। বিসিবির ব্যাখ্যায় বলা হয়, অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম টস করতে পারেননি। সে কারণে সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার টসে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। ওই সময় মুহূর্তের জন্য মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ায় প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলানো হয়নি। বিসিবি স্পষ্ট করে জানায়, এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ দলের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান, অবজ্ঞা কিংবা নেতিবাচক মনোভাবের প্রশ্নই ওঠে না। ক্রিকেটীয় শিষ্টাচার ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির একটি মৌলিক অংশ, যা কোনোভাবেই লঙ্ঘিত হয়নি। ঘটনাটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে বোর্ড। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে টিম ম্যানেজমেন্টকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে মাঠে ও মাঠের বাইরে প্রতিটি আচরণে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব, পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা তাদের দায়িত্ব। বিসিবি আরও জানায়, ক্রিকেটের মূল্যবোধ রক্ষা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন যে কোনো পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য শর্ত। এ বিষয়ে বোর্ড কোনো আপস করতে রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত বিসিবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে সব ক্ষেত্রেই ক্রিকেটের চেতনা ও নৈতিকতার প্রতি তারা সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।