গোমস্তাপুরে ১১ জন মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা

গোমস্তাপুরে ১১ জন মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় সড়ক পরিবহন আইন অমান্য করার দায়ে ১১ জন মোটরসাইকেল চালককে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নে পৃথক দুটি অভিযানে এসব জরিমানা করা হয়। মোট ৭ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। একটি অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী। তিনি ৮টি মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অপরদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা রুমা পৃথক অভিযানে ৩টি মামলায় ১ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র না থাকা, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে এসব জরিমানা করা হয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬৬ ও ৯২(ক) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়। অভিযান চলাকালে মোটরসাইকেল চালকদের লাইসেন্স হালনাগাদ রাখা ও হেলমেট ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাম্পের তেল মজুতের সীমা নির্ধারণে মাঠে নেমেছে বিএসটিআই

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাম্পের তেল মজুতের সীমা নির্ধারণে মাঠে নেমেছে বিএসটিআই চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল মজুত বা ‘ডেড স্টক’ নিয়ে গ্রাহক ও পাম্প মালিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে মাঠে নেমেছে বিএসটিআই। তেলের রিজার্ভ ট্যাংকে কতটুকু তেল অবশিষ্ট রাখা বাধ্যতামূলক—তা নির্ধারণে রাজশাহী বিএসটিআই’র একটি বিশেষজ্ঞ দল পাম্পগুলো পরিদর্শন শুরু করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলার বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থিত মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দলটি ডিজেল ও পেট্রোলের রিজার্ভ ট্যাংক পরীক্ষা করে। পরিদর্শন শেষে সেখানে ডিজেলের জন্য ১৬৩২ লিটার এবং পেট্রোলের জন্য ৭৫০ লিটার ‘ডেড স্টক’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। রাজশাহী বিএসটিআই’র সহকারী পরিচালক আজিজুল হাকিম জানান, ফিলিং স্টেশনে কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সংরক্ষণ করা প্রযুক্তিগতভাবে জরুরি। এই পরিমাণের নিচে নেমে গেলে পাম্প পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় গ্রাহকরা ট্যাংক প্রায় খালি হয়ে গেলেও মেশিন চালু রাখার দাবি করেন, কিন্তু এতে মিটার রিডিং ঠিক থাকলেও গ্রাহক প্রকৃত পরিমাণ তেল নাও পেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি কমাতে ইতোমধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন পাম্পে ‘ডেড স্টক’ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং একই কার্যক্রম চাঁপাইনবাবগঞ্জেও চলছে। পরিদর্শনের সময় বিএসটিআই’র মেট্রোলজি বিভাগের পরিদর্শক জয় কুমার ঘোষ, সংশ্লিষ্ট পাম্পের ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং পাম্পের স্বত্বাধিকারী আলমগীর মুরশেদ শিমুলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে হাম, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সেবায় চাপ বেড়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ২৯৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যা নির্ধারিত শয্যার তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে—যাদের মধ্যে ১৯ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে। আগের দিন ভর্তি ছিল ৭৪ জন। সুস্থ হয়ে ১৩ জন হাসপাতাল ছেড়েছে, আর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো নমুনার মধ্যে ৩১টি রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৫ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব শিশু নিয়মিত টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যেই বেশি হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগামী মে মাসে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু হবে। এবার ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে, যেখানে আগে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে দুই ধাপে টিকা দেওয়া হতো। অন্যদিকে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতকের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন নবজাতক ভর্তি ছিল, নতুন করে এসেছে ৭ জন। সুস্থ হয়ে ১২ জন ছাড়পত্র পেয়েছে, বর্তমানে ভর্তি আছে ২৫ জন। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত একদিনে ২৯ জন এই সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে সেখানে ৬৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড, নবজাতক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে। স্বজনদের উপস্থিতিতে ওয়ার্ডগুলোতে ভ্যাপসা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া উল্লেখযোগ্য। আক্রান্ত শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিমুদ্দীনের দাফন সম্পন্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিমুদ্দীনের দাফন সম্পন্ন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কসিমুদ্দীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে দাফনের পূর্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বালিয়াডাঙ্গা ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে স্থানীয় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে রোববার তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এবং স্ট্রোক করেন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি দুই ছেলে, চার মেয়ে এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। মো. কসিমুদ্দীন ১৯৪০ সালের ১ জুলাই বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে বীরত্বের পরিচয় দেন। ভোলাহাটের মুশরিভুজা বিদ্যালয়ে সংঘটিত সম্মুখযুদ্ধের বর্ণনা নিয়ে প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র’ গ্রন্থে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন।
শিবগঞ্জে ট্রাক-ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান পরিবহন মালিক সমিতির সভা

শিবগঞ্জে ট্রাক-ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান পরিবহন মালিক সমিতির সভা শিবগঞ্জে জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান পরিবহন মালিক সমিতির উপজেলা শাখার বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ দুপুরে শিবগঞ্জ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া এলাকায় সংগঠনের উপজেলা কার্যালয় চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, সভাপতিগোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও সড়ক সম্পাদক আনারুল ইসলামসহ অন্যরা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়বুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য নিয়ামত খাঁন ও দুরুল আমিনসহ অন্যরা। বক্তারা লেন, পরিবহন সেক্টরে যানবাহনগুলোর মধ্যে ট্রাক ও ট্যাংকলরী গুরুত্বপূর্ণ বাহন। মালামাল সারাদেশে পৌঁছে দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এসব পরিবহন। আর এসব পরিবহনের শ্রমিকদের কল্যাণেই গঠিত এই সংগঠন। মালিক ও নেতারা আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সবার কল্যাণ হবে। নিজেদের কল্যানে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। এছাড়া ট্রাক- ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বক্তারা।
ঈদের ছুটিতে স্কুলে চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২, ৩টি টিভি উদ্ধার

ঈদের ছুটিতে স্কুলে চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২, ৩টি টিভি উদ্ধার ঈদের ছুটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ সংলগ্ন ইউনাইটেড স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের তৃতীয় তলার মাািল্টমিডিয়া শ্রেণী কক্ষে দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। দু’জনের মধ্যে পেশাদার মূল চোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে। আটকরা হলেন-জেলা শহরের রামকৃষ্টপুর বানিপাড়া মহল্লার ইয়াকুব আলী টুকানের ছেলে আবদুল্লাহ এবং আরামবাগ মাদ্রাসাপাড়া মহল্লার এলাম হোসেনের ছেলে রহিম আলী। পুলিশ জানায়, গতকাল এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া ৩টি ৪০ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি। বিকালে মুল চোর আবদুল্লাহকে আদালতে তোলা হলে তিনি চুরিতে জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিম্লেষণ করে প্রথমে আবদুল্লাহ ও পরে তাঁর সহযোগি রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাল অধিকারী বলেন, গত ১৭ মার্চ গ্রীল ও দরজা ভেঙ্গে চুরি করে আবদুল্লাহ। সে স্কুলের ৩টি টিভি ও ১টি আইপিএস সিষ্টেম নিয়ে যায় যার মূল্য ৩ লক্ষাধিক টাকা। এছাড়া সে চুরির জন্য একাধিক গ্রীল ও দরজা ভেঙ্গে ৬০ হাজার টাকার ক্ষতিও করে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাফিজ উদ্দিন।
সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল

সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম, শ্বসকষ্টের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সবমিলিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৬৫০ জন রোগী ভর্তি আছেন বলে খোদ তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬ জন শিশু। তাদের মধ্যে ছেলে ১৩ জন ও মেয়ে ৩ জন। এর আগের দিন ভর্তি ছিল ৭১ জন। তাদের মধ্যে ৪১ জন ছেলে ৩০ জন মেয়ে। তাদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায় ৭ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়েসহ ১১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৭৪ জন রোগী ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ৪৫ জন ছেলে ও ২৯ জন মেয়ে রয়েছে। হামে আক্রান্তদের সিংহভাগই শিশু। সূত্রটি আরো জানায়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৬৬ জন রোগী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সিভিল সার্জন অফিসের ডায়রিয়া বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৬৮ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে জেলা হাসপাতালেই ভর্তি আছেন ৬৯ জন রোগী। অপরদিকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী রয়েছেন। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ব্যবস্থা চালু না থাকায় কোনো রোগীর অবস্থা খারাপ হলেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হামে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন— হামের পরীক্ষা একমাত্র ঢাকার মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে হয়। আমরা এখানকার রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিদের কাছে দিচ্ছি। তারা মহাখালী নিয়ে যাচ্ছেন। পরীক্ষা রিপোর্ট তিন মাস পর পাওয়া যায়। কিন্তু ততদিন তো রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে থাকা যায় না। তাই আমরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র রয়েছে। তিনি আরো জানান, অন্যবার রোজার মাসে রোগীর সংখ্যা কমে যায়। কিন্তু এবার বাড়ছে। হাম ছাড়াও ডায়রিয়া ও শ্বসকষ্টজনিত রোগীও প্রচুর। বর্তমানে হামের রোগীদের জন্য ৮ জন নার্স নিযুক্ত করা হয়েছে এবং শিশু ওয়ার্ডে ২ জন বিশেষজ্ঞ ও ১ জন মেডিকেল অফিসারসহ তিনজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াটা পর্যন্ত রোগী দেখার সময় হলেও বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রোগী দেখছেন। বর্তমানে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৫০ জন। এদিকে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান তার ফেসবুক আইডিতে রোগীদের অভিভাবকদের নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেন, “আমরা আসলেই অদ্ভুত এক জাতি। ২ মাস আগে যখন ৫-৭টা ঝঁংঢ়বপঃবফ গবধংষবং (হাম) সাসপেকটেড হাম আক্রান্ত বাচ্চা ভর্তি থাকতো, তখন মাত্র এ কয়টা রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। এই রোগের লক্ষণ কমতে বেশ সময় লাগে, এজন্য অভিভাবকরা অভিযোগ, ঝগড়া, অশালীন আচরণ করতেই থাকতেন। ডাক্তার, নার্সের সাথে ঝগড়া, বেড পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে অভিভাবকরা একে অপরের সাথে একরকম যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। কিন্তু গত ৩ সপ্তাহে চিত্র বদলে গেছে। অভিভাবকরা রোগটা সম্পর্কে বুঝতে শিখেছেন, ধৈর্য ধরতে শিখে গেছেন। মনের ভিতর তীব্র ভয়, শঙ্কা থাকলেও ধৈর্য সহকারে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং হাসপাতালের নিয়ম মানছেন। অভিভাবক রা একে অপরকে সহযোগিতা করছেন, খাবার ভাগ করে খাচ্ছেন, বিছানা শেয়ার করছেন, একে অপরকে কাউন্সেলিং করছেন। অভূতপূর্ব চিত্র। মহান আল্লাহ এই অসুখ থেকে আমাদের রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।” প্রসঙ্গত, হামের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে— প্রথমে জ্বর হয় ও শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে বা হালকা ব্যথা লাগে। প্রথম এক-দুই দিন তীব্র জ্বরও হতে পারে। চোখ-মুখ ফুলে উঠতে পারে। চোখ লাল হয়ে যেতে পারে, চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে এবং হাঁচিও হতে পারে। শরীরে ছোট ছোট লালচে গুটি/ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং দ্রুতই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সময় বিশেষত শিশুরা কিছুই খেতে চায় না এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে।
হরিনগর তাঁতপল্লী থেকে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহারিকা দাস

হরিনগর তাঁতপল্লী থেকে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহারিকা দাস এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর কৃষি অনুষদের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিহারিকা দাস জাপানের কাগোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য MONBUKAGAKUSHO স্কলারশিপে মনোনীত হয়েছেন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে তাকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সফিকুল বারী। সভাপতিত্ব করেন কৃষি অনুষদের ডিন ড. মো. মাহাবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন— এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. মো. মেহেদী হাসান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সাহেব আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম। উপাচার্য বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছে। শিক্ষার্থীরা আজ দেশের সীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের মেধার পরিচয় দিচ্ছে।” তিনি আরো বলেন, “নিহারিকার এই সাফল্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, সমগ্র জাতির জন্য গৌরবের। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের মেধাবী এই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসবে এবং জাতীয় অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।” চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম হরিনগর তাঁতিপাড়া। সেখানকার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া নিহারিকা দাস। একসময় যার কাছে নিজের শহরের গণ্ডি পেরোনোটাই ছিল কঠিন, আজ সেই মেয়েই পাড়ি জমাচ্ছেন হাজার মাইল দূরের দেশ জাপানে, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে। জাপান সরকারের সম্মানজনক স্কলারশিপে তিনি সুযোগ পেয়েছেন দেশটির কাগোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার। এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কৃষি অনুষদের ১৬তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী নিহারিকার পথচলা কিন্তু এতটা সহজ ছিল না। একটা সময় নানা চাপে তার পড়াশোনা প্রায় থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছিল। ঠিক সেই সময় তার পাশে দাঁড়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, বুঝতে পেরে সাহস জোগান পরিবারের সদস্যরা। আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে ঘুরে দাঁড়ান নিহারিকা। সেই পথ ধরেই তার আজকের এই সাফল্য। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে অনেকটায় আবেগঘন কণ্ঠে নিহারিকা বলেন, “একটা সময় মনে হয়েছিল, হয়তো আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব না। কিন্তু স্যারদের সহযোগিতা আর পরিবারের সমর্থন আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। আজ জাপানে পড়তে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।” নিজ গ্রাম, নিজ শহর ও দেশ ছেড়ে সেই স্বপ্ন যাত্রার প্রাক্কালে নিহারিকা তাই বলেই গেলেন, “আগামীতে দেশের জন্য অবশ্যই কিছু করতে চাই।” নিহারিকার বাবার নাম সুবোধ চন্দ্র দাস ও মাতার নাম লিলি রানী দাস। তারা দুই বোন। ছোট বোন শ্রেয়া এবার এইচএসসিতে অধ্যয়নরত। নিহারিকা তার স্বপ্ন পূরণে সকলের আশীর্বাদ কামনা করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিম উদ্দিনের ইন্তেকাল, রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিম উদ্দিনের ইন্তেকাল, রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বোর্ডঘর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিম উদ্দিন(৮৬) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি ওই এলাকার মৃত সিরাজ উদ্দীনের ছেলে। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাদীণ অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ৪ মেয়ে সহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বোর্ডঘর প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বালিয়াডাঙ্গা ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের পর বালিয়াডাঙ্গা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকরামুল হক নাহিদ,সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সূকোমল চন্দ্র দেবনাথ সহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
গোমস্তাপুরে পেট্রোল পাম্প মালিকদের নিয়ে ইউএনওর মতবিনিময়

গোমস্তাপুরে পেট্রোল পাম্প মালিকদের নিয়ে ইউএনওর মতবিনিময় গোমস্তাপুরে পেট্রোল পাম মালিক ও ট্যাগ অফিসারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। আজ সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার পেট্রোল পামের মালিক ও ৭ টি পাম্পে নিযুক্ত ট্যাগ অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন। জ্বালানি তেলের চলমান সংকট পরিস্থিতি পেট্রোল পাম্পগুলোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্যাদি বিতরণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ৭টি পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন। তিনি আরোও বলেন,অনিয়ম ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মতবিনিময় সভায় কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।