চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ১০৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ১০৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডায়রিয়া পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। মাঝে দুয়েকদিন কিছুটা কমলেও পরে আবার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১০৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন অফিসের ডায়রিয়া বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৭০ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন ভর্তি হয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১৭ শিশু হাসপাতালে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১৭ শিশু হাসপাতালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমছে না হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিন বেশ কিছু শিশু নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এ নিয়ে রীতিমত ভাবিয়ে তুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগকে। জেলা প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা হাসপাতালের হামবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদেরকে হামবিষয়ক আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই হাসপাতালে পূর্বে রোগী ভর্তি ছিল ৬৭ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায় ২৩ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৮ জন শিশু রোগী। হামের এই বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, হামের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে— প্রথমে জ্বর হয় ও শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে বা হালকা ব্যথা লাগে। প্রথম এক-দুই দিন তীব্র জ্বরও হতে পারে। চোখ-মুখ ফুলে উঠতে পারে। চোখ লাল হয়ে যেতে পারে, চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে এবং হাঁচিও হতে পারে। শরীরে ছোট ছোট লালচে গুটি/ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং দ্রুতই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সময় বিশেষত শিশুরা কিছুই খেতে চায় না এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলাশহরের অক্ট্রয় মোড়ে চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহীনূর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিনূর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রণব কুমার দাশ। বক্তারা বলেন, যেখানে সুযোগ রয়েছে সেখানে গাছ লাগিয়ে এই কর্মসূচিকে সফল করতে হবে। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে একটি সবুজ ও বৃক্ষসমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গে আরও ২৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গে আরও ২৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই নতুন করে ২৫ থেকে ৩০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য বিভাগকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। জেলা হাসপাতালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ১৬ জন ছেলে ও ১১ জন মেয়ে। এর আগের দিনও একই সংখ্যক—২৭ জন শিশু—একই উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, হামের পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া, যা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিশুরা সাধারণত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারে অনীহা দেখা যায়।

গোমস্তাপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

গোমস্তাপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের বংপুর মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সচেতন নাগরিক সমাজ বংপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। এতে বক্তব্য দেন শিক্ষক মনিরুল ইসলাম, স্থানীয় জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন, সমাজসেবক দেলোয়ার হোসেন, সাদিকুল ইসলাম টুটুল, বিএনপি নেতা গোলাম রাব্বানী রকি, শহিদুল ইসলামসহ অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, বংপুর এলাকায় মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এলাকাটি মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। সহজলভ্যতার কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে এখানে মাদক সেবন করছে। এলাকাবাসী বাধা দিলে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বলেও অভিযোগ করা হয়। সমাবেশ থেকে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়, যাতে যুবসমাজ মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পায়। এর আগে একই স্থানে মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সী বালক-বালিকাদের জন্য মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২০২৬-এর আওতায় জেলা ক্রীড়া অফিসের উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন সুইমিং পুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া অফিসার আবু জাফর মাহমুদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার কর্মকার। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রশিক্ষক মো. খালেকুজ্জামান। এই কর্মসূচিতে মোট ৩০ জন সাঁতারু অংশগ্রহণ করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, ক্রীড়া সংগঠকসহ জেলা ক্রীড়া অফিস ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিবগঞ্জে কৃষকদের মাঝে পাট, মুগ, তিল বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ

শিবগঞ্জে কৃষকদের মাঝে পাট, মুগ, তিল বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ শিবগঞ্জে ৬৭০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। আজ বিকেলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে এসব বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আজিজ। এ সময় তিনি বলেন, সরকার জনকল্যাণে আন্তরিক, তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। দেশের আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রণোদনাগুলো সঠিকভাবে ব্যবহারের আহবান জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহাদৎ হোসেন ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল আজাদীসহ অন্যান্যরা। এর মধ্যে ৩৫০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ১ কেজি পাট বীজ, ৫ কেজি ডিএপি, ৫ কেজি এমওপি ও ১৭০ কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি মুগ বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ৫ কেজি এমওপি এবং ১৫০ কৃষককের প্রত্যেককে এক কেজি তিল বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার দেয়া হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিপ-১ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পাট, গ্রীষ্মকালীন মুগ ও তিল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন নবাগত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবু ছালেহ মো: মুসা জঙ্গী। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক উজ্জল কুমার ঘোষ, জেলা তথ্য কর্মকর্তা রূপ কুমার বর্মণসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ। স্বাগত বক্তব্য শেষে, সভায় উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলায় তেল সংকটে সৃষ্ট সমস্যা, বালুমহল, বিভিন্ন অফিসে কাজের জন্য অবৈধ লেনদেন, আমের মৌসুমে বাগানে অবৈধ ইটভাটা, আম সংরক্ষণ, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন, মুক্ত সাংবাদিকতা ও তথ্য প্রদানে সহযোগিতা, শহরের রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজি, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের গাড়িগুলোতে চাঁদাবাজি, নিয়মিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়, জেলার বিভিন্ন বাজারে মুল্যবৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার ও বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, মাদকের ব্যভহার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ভূমিসেবা, বিশ্বরোড় মোড়ে আমচত্বর, জেলায় গরু খামারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের গরুচুরি ও সমস্যা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা ও পানি সংকট, বর্তমানে জেলায় হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভোগের করণীয়, ভিক্ষুক পুনর্বাসন, আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা, গণমাধ্যমের জন্য সঠিক তথ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণ, সার ডিলার, সংকট, সমস্যা, পর্যটন খাত ইত্যাদি। সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। শেষে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো: মুসা জঙ্গী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রথম আলোর বিভাগীয় প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন দিলু, সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা মন্টু, দৈনিক গৌড়বাংলা ও রেডিও মহানন্দার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিব হোসেন, চাঁপাই দর্পণের প্রকাশক ও সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, সাপ্তাহিক সোনামসজিদের সম্পাদক জোনাব আলী, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মনোয়ার হোসন জুয়েল, ডাবলু কুমার ঘোষসহ জেলায় বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। শেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন নবাগত জেলা প্রশাসক।

গোমস্তাপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন

গোমস্তাপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন গোমস্তাপুরে মাদকবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের বংপুরে মোড়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সচেতন নাগরিক সমাজ বংপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাদক বিরোধী মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজসেবক দেলোয়ার হোসেন, সাদিকুল ইসলাম টুটুল, শহিদুল ইসলাম, শিক্ষক মনিরুল ইসলামসহ অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই বংপুর এলাকা মাদকের অভয়ারণ্য। হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। বিভিন্ন এলাকার লোকজন প্রতিদিন মাদক সেবন করতে আসছে এখানে। এলাকার লোকজন বাধা দিতে গেলে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এলাকার যুবসমাজ মাদকের কবলে পড়তে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগতি করা হলেও মাদক বিক্রি এখন বন্ধ করতে পারিনি তারা। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় মানববন্ধনে। মানববন্ধনের পূর্বে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

 শিবগঞ্জ সীমান্তে ফসল নষ্ট করছে ভারতীয় বন্য শুকরের পাল, জমি পাহারা দিতে গিয়ে আহত হচ্ছেন কৃষকরাও

শিবগঞ্জ সীমান্তে ফসল নষ্ট করছে ভারতীয় বন্য শুকরের পাল, জমি পাহারা দিতে গিয়ে আহত হচ্ছেন কৃষকরাও শিবগঞ্জ উপজেলায় কাঁটাতারের বেড়াবিহীন পদ্মা নদীর তীরবর্তী সীমান্তে বাংলাদেশী জমির ফসল ভারত থেকে আসা বন্য শুকরের পাল নষ্ট করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অনেক সময় শুকরের পাল সীমান্তের কৃষকদের আক্রমণ করে আহত করছে বলেও অভিযোগ করেছে সীমান্ত সূত্রগুলো। শুকরের পাল সন্ধ্যার পর অন্ধকার ঘনিয়ে আসলে বাংলাদেশে ঢুকে আবার ভোর হবার আগেই ফিরে যায় ওপারে ভারতের জঙ্গলে। এ অবস্থায় কৃষকরা রাত জেগে জমি পাহারা দিচ্ছেন। শুকর তাড়াতে সাহায্য নিচ্ছেন আলো ও বাদ্যযন্ত্রের উচ্চমাত্রার শব্দের। এছাড়াও বিভিন্ন উপায় বেছে নেয়া হচ্ছে শুকর তাড়াতে। সীমান্তের জনপ্রতিনিধি,কৃষি বিভাগ ও বিজিবি ভারতীয় শুকর সমস্যার কথা নিশ্চিত করেছে। মনাকষা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য সমির আলী বলেন, বহু আগে থেকেই শুকরের সমস্যা ছিল। তবে গত ৩/৪ বছর যাবত সীমান্তের তারাপুর,মন্ডলপাড়া, শিংনগর,পন্ডিতপাড়া সহ ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার সীমান্তের জমিতে এ সমস্যা আবার দেখা যাচ্ছে। শুকরের পালের আক্রমণে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন কৃষক। তাঁদের ককেজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে হয়েছে সম্প্রতি। দুবছর যাবত সমস্যাটা বেশি বেড়েছে। জমিতে এখন রয়েছে ভুট্টা,কলা, ধান ইত্যাদি ফসল। অনেক কৃষক তো ভয়ে ভুট্টা আবাদই ছেড়ে দিয়েছেন। সরিষার সময় সরিষা নষ্ট করেছে শুকরের পাল। প্রায় সারা বছরই তারা ফসলের ক্ষতি করে। ফসল যত না খায় তার চেয়ে বেশি নষ্ট করে। ধানক্ষেতে গড়াগড়ি করে ধানের ক্ষতি করে। বাংলাদেশী কৃষকদের হাতে মারাও পড়েছে বিশালদেহী কিছু শুকর। সাঁওতাল শিকারীরাও কিছু শুকর মেরেছে। তবে অত্যাচার চলছে। শিংনগর, মাসুদপুর বিওপি এলাকায় এ সমস্যা বেশী। বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ রুহুল আমীন বলেন, ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বিশ্বনাথপুর, বাখর আলী, নজিবটোলা, মালোপাড়া, ক্যাপড়াটোলা এলাকায় শুকরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কৃষক। গত দেড় বছরে অত্যাচার বেড়েছে। কাঁটাতারবিহীন পুরো সীমান্তজুড়েই রয়েছে ফসলি জমি। ফলে সীমান্তের সকল কৃষকই আক্রান্ত। এ সমস্যা নিয়ে বিজিবি,কৃষি বিভাগ সহ সংশ্লিস্টদের সাথে কথা বলেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। দূর্লভপুর ইউনিয়নের ৮ ন্ং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ শাহিদ কাদির বলেন, তাঁর ওয়ার্ডে পদ্মার চরাঞ্চলের গাইপাড়া,চর হাসানপুর, খাকসাপাড়া এলাকায় এ অত্যাচার চলছে। এখন ৩০/৩৫টি পর্যন্ত শুকরের পাল চীনা’র (এক প্রকার দানা শষ্য) ক্ষেতে ঢুকে পড়ে নষ্ট করছে এই ফসল। অন্য ফসলও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আহত হচ্ছেন কৃষকরা। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া বলেন, কৃষি বিভাগ সমস্যা সম্পর্কে অবহিত। মাঠ কর্মকর্তারা ফসল পরিদর্শণে এ সমস্যার প্রমাণ পেয়েছেন। কৃষকদের জমি বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা ও পাহারা দেবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সূযোগ হলে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে। দূর্লভপুর,মনাকষা ও বিনোদপুর এই তিন ইউনিয়নের সীমান্তে এ সমস্যা রয়েছে বলে জানান তিনি। সংশ্লিস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে.কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিজিবি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত। অনেক সময় টহল দলের সামনে পড়ে শুকরের পাল। তখন তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়। শুধু কাঁটাতারের বেড়া নেই এমন সীমান্তে এ সমস্যা। আবার যে সব কৃষক জমি বেড়া দিয়ে চাষ করেন তাদের এ সমস্যা নেই। বিষয়টি বিএসএফকেও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু বন্যপ্রাণীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সকলের জন্যই কঠিন। ৭১ বিএসএফ এর শোভাপুর ক্যাম্প এলাকায় জঙ্গল রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯বিজিবি মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল গোলাম কিবরিয়া কৃষকদের এ ব্যাপারে বিওপিতে যোগাযোগের পরামর্শ নেন। কৃষকদের সাঁওতালদের সাহায্য নেয়ার কথাও বলেন। তিনি বলেন, তাঁর আওতাধীন শিবগঞ্জ সীমান্তে এ সমস্যার ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ নেয়া হবে। জেলার ভোলাহাট সীমান্তেও এ সমস্যা রয়েছে বলেও জানান তিনি।