গোমস্তাপুরের বিভিষণ সীমান্তে নারীসহ ৫ জন পুশইন গোমস্তাপুরের বিভিষণ সীমান্তে নারীসহ ৫ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। আজ সকালে ১৬ বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের বিভিষণ বিওপির সদস্যরা অবৈধ অনুপ্রবেশ দায়ে ওই সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে। পরে আটককৃতদের গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করে। আটককৃত ৫ জনের মধ্যে ২ জন নারী ও ৩ জন রয়েছে। আটককৃতরা হলেন, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার জামিলপারা গ্রামের লিপি লস্কর, সাদ্দাম লস্কর, ফিরোজা ও বাগেরহাটে মোল্লাহাটের কাঠাদূরের গ্রামের হায়দার সরদার। বিজিবি ও পুলিশ জানায়, উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিভিষণ সীমান্তের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের দেখতে পেয়ে ওই বিওপির টহলরত বিজিবির সদস্যরা আটক করে। পরে বিজিবি আটককৃতদের গোমস্তাপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। গোমস্তাপুর থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, আটককৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে ওসি জানিয়েছেন।

গোমস্তাপুরে ট্রাক থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

গোমস্তাপুরে ট্রাক থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু গোমস্তাপুরে ট্রাকে ধানের তুষের বস্তা লোড করার সময় ট্রাক থেকে পড়ে গিয়ে এত্তাব আলী নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গোমস্তাপুর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ইমামনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ট্রাক থেকে নামার সময় তিনি মাটিতে পড়ে আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হক জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

গোমস্তাপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

গোমস্তাপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা গোমস্তাপুরে উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে উপজেলা সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন— সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমি, গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আছহাবুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ, কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন, পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, রহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সোহরাব, আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম মোহাম্মদ মাসুম, চৌডালা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হাবিব, রাধানগর ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামিউল আলম শ্যামল, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ মহাতাব আলী, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজমসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। মাসিক সভায় আইনশৃঙ্খলাসহ উপজেলার সার্বিক বিষয়ে আলোচনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গায়েবানা জানাজা

শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গায়েবানা জানাজা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাদ আসর নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে ‘ছাত্র জনতার মঞ্চ’-এর ব্যানারে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আবুজার গিফারি। নামাজ শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় মুসল্লিরা তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। গায়েবানা জানাজায় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য মো. লতিফুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও মাওলানা আব্দুল মতিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। একইদিন বাদ আসর শিবগঞ্জ সরকারি মডেল হাই স্কুল মাঠেও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন মাওলানা ড. মো. কেরামত আলী। জানাজায় ছাত্র সংগঠন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদি ন্যায়, আদর্শ ও স্বার্থহীন রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা তরুণ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তারা তার আদর্শ ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। এছাড়াও শনিবার মাগরিবের নামাজ শেষে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর আহমদী বেগম (এবি) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন মান্দার পরাণপুর কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক ইমাম আব্দুল কাদের। জানাজায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।

গোমস্তাপুর ও নাচোলে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ

গোমস্তাপুর ও নাচোলে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে গমবীজ ও অন্যান্য উপকরণ সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গোমস্তাপুর : আজ সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। চলতি মৌসুমে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৭৫ জন কৃষকের মধ্যে গম ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে গমবীজ দেয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আছাবুর রহমান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াসিম আকরাম, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলসহ উপকারভোগী কৃষকরা। উল্লেখ্য, গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের ৩৫ জন, রাধানগর ইউনিয়নের ৩০ জন, রহনপুর ইউনিয়নের ৫ জন ও রহনপুর পৌরসভার ৫ জন উপকারভোগী কৃষককে গমবীজ দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিজন কৃষককে ২০ কেজি গমবীজ, ইউরিয়া ৩৫ কেজি, টিএসপি ২০ কেজি, এমওপি ১৮ কেজি, জিপসাম ১৭ কেজি, জিংক সালফেট ও বোরণ ১ কেজি করে, বীজ সংরক্ষণের ড্রাগ ৩টি ও ১টি সাইনবোর্ড দেওয়া হচ্ছে। নাচোল : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রবি মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে ১ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে হাইব্রিড ও উফশী ধানবীজ, গমবীজ এবং সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম রব্বানী সরদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রবি মৌসুমে এই কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে উপকরণ প্রদান করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১০০ জন কৃষককে ২ কেজি করে হাইব্রিড ধানবীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে। উফশী উন্নত ফলনশীল ধানচাষের জন্য ৮০০ কৃষক পাচ্ছেন ৫ কেজি করে উফশী জাতের ধানবীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি এবং ১০ কেজি করে এমওপি সার। গম আবাদের জন্য ১০০ জন কৃষককে দেওয়া হচ্ছে ২০ কেজি গমবীজ, ৩৫ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি টিএসপি, ১৮ কেজি এমওপি ও ৭ কেজি জিপসাম। এছাড়াও গমচাষের জন্য প্রণোদনাপ্রাপ্ত কৃষকদের বীজ সংরক্ষণের জন্য ৩টি ড্রাম ও একটি সাইনবোর্ড প্রদান করা হয়, যা কৃষকদের ফসল সংরক্ষণে আরো বেশি সাহায্য করবে।

একটি শোক সংবাদ—- গোমস্তাপুরে বাঙ্গাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আর নেই

একটি শোক সংবাদ—- গোমস্তাপুরে বাঙ্গাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আর নেই গোমস্তাপুরে উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আর নেই। আজ ভোর ৮ টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন – ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

গোমস্তাপুরে নানা কর্মসূচীতে মহান বিজয় দিবস পালিত

গোমস্তাপুরে নানা কর্মসূচীতে মহান বিজয় দিবস পালিত নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে গোমস্তাপুরে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। আজ সকালে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করে। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে ছিল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনী, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রহনপুর আহম্মদী বেগম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বীরমুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আনসার ও ভিডিপি’র সমন্বয়ে কুচকাওয়াজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সদস্যদের সংবর্ধনা, মসজিদ মন্দির ও গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা, খেলাধূলা, আলোচনাসভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শণ, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিকে, রহনপুর আহম্মদী বেগম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার ভূমি উম্মে সালমা রুমি, গোমস্তাপুর থানার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক, জেলার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার তাজুল ইসলাম সোনার্দী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস, বীরমুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন ও মোস্তফা কামালসহ অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন কর্মসূচী উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার সাকলাইন হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা.আব্দুল হামিদ, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজম, উপজেলা প্রকৌশলী আছহাবুর আলী, শিক্ষা অফিসার ইসাহাক আলী, প্রাণিসম্পদ অফিসার ওয়াসিম আকরাম, পল্লী উন্নয়ন অফিসার রাইসুল ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার জাহাঙ্গীর আরিফ প্রামানিক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আব্দুল আলিম,আনসার ভিডিপি অফিসার ফরহাদ আলম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আলোচনা শেষে মহান বিজয় দিবসে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

গোমস্তাপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ওসির মতবিনিময়

গোমস্তাপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ওসির মতবিনিময় গোমস্তাপুর থানায় নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। গতরাতে রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আহমদ, সহসভাপতি সফিকুল ইসলাম, সহসম্পাদক আল মামুন বিশ্বাস, গোমস্তাপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নুর মোহাম্মদ, গোমস্তাপুর স্বাধীন প্রেসক্লাব সভাপতি আলাউদ্দিন পারভেজ, গোমস্তাপুর স্মার্ট প্রেসক্লাব সভাপতি আঃ ওয়াদুদ, সাধারণ সম্পাদক সামিরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সাংবাদিক জাকির হোসেন সনি, শাহিন, তুহিন, এরশাদ আলী, কাবিরুল ইসলাম ও মনির আহমাদ সভায় অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় গোমস্তাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গৌরাঙ্গ এবং রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক শামিম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ওসি আব্দুল বারিক সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, রোড ডাকাতি প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল, গরু চুরি ও জুয়া বন্ধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অপরাধ দমনে পুলিশ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশইন, আটক ১৫ বাংলাদেশি

গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশইন, আটক ১৫ বাংলাদেশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিষণ সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার গভীর রাতে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। পরে রোববার ভোরে সীমান্ত এলাকায় টহলকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা তাদের আটক করে। বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের বিভিষণ সীমান্ত ফাঁড়ির কমান্ডার নায়েক সুবেদার আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন শিশু, নয়জন নারী ও চারজন পুরুষ রয়েছেন। তারা যশোর, নড়াইল, খুলনা ও মানিকগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি আরও জানান, ভোরে টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে ওই ১৫ জনকে আটক করে ক্যাম্পে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে সবাই বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর তাদের গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, পুশইনের শিকার এসব বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আগামীকাল ১১ ডিসেম্বর রহনপুর মুক্ত দিবস

আগামীকাল ১১ ডিসেম্বর রহনপুর মুক্ত দিবস আগামীকাল ১১ ডিসেম্বর গোমস্তাপুর উপজেলা সদর রহনপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১১ডিসেম্বর এ শহর হানাদার মুক্ত হয়। দিবসটি পালনে এবার নেই কোন কর্মসূচি। এই দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম সোনার্দী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এ এলাকা ৭ নং সেক্টরের অধীনে ছিল। ১৯৭১ সালে ১১ ডিসেম্বর চাঁড়ালডাঙ্গা এলাকার ১৩ জন রাজাকারকে ধরে ভোলাহাট থানায় জমা দেওয়া হয়। তিনি বাঙ্গাবাড়ী, আলিনগর এলাকার বিএলএফ কমান্ডার ছিলেন। তাঁর ক্যাম্প ছিল আলিনগর স্কুল ও কলেজের পেছনে। ১১ ডিসেম্বর আলমপুর ক্যাম্পের লেফটেনেন্ট রফিক, আনসার মোজাহিদ তুরফান,ক্যাপ্টেন আলতাফ, আনিসুরের নেতৃত্বে বিভিন্ন দিক থেকে প্রায় দুইশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা রহনপুর অভিমুখে রওনা হয়। এছাড়া মহানন্দা নদী পেরিয়ে বোয়ালিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা রহনপুরে প্রবেশ করে।মুক্তিযোদ্ধারা রহনপুরে প্রবেশের আগেই রাতে পাক সেনারা রহনপুর এবি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা তাঁদের সেনাক্যাম্প গুটিয়ে রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে করে পালিয়ে যায় এবং রহনপুর শহর মুক্ত হয় রহনপুর শহর মুক্ত হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা নাচোল-আমনুরা হয়ে রাজশাহী জোহা হলে অবস্থান নেয়। সেখানে তাঁরা আনন্দ মিছিল বের করে। ওই এলাকাগুলো মুক্ত করতে। রহনপুর পৌরসভার সাবেক কমান্ডার ও সেনা সার্জেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ বলেন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর নির্দেশে বোয়ালিয়া ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেছেন তিনি। তাঁর আনসারের ট্রেনিং ছিল। তিনি সম্মুখ যোদ্ধা ছিলেন। সেসময় তাঁর কাছে রাশিয়া এসএলআর অস্ত্র ছিল। ১০ ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের নির্দেশে বোয়ালিয়া এলাকার দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট কাইয়ুম ও লেঃ রশিদকে পাক বাহিনী উপর আক্রমনের নির্দেশ দেন। তারা সকলেই একত্রিত হয়ে রহনপুরের পাক সেনাক্যাম্পের দিকে এগিয়ে আসার আগেই তাঁরা ট্রেনে করে পালিয়ে যায়। রহনপুর শহর মুক্ত হয়। পরে তিনি রাজশাহী হয়ে সৈয়দপুর এলাকা মুক্ত করতে যান। সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল বলেন, রহনপুর মুক্তদিবস পালনে এবার নেই কোন কর্মসূচী।