দুয়ের জোড়া গোলে ফ্রান্সের দাপুটে জয়

দুয়ের জোড়া গোলে ফ্রান্সের দাপুটে জয় ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে দুর্দান্ত জয়ের পর দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে ফ্রান্স। যেখানে পুরো একাদশই বদলে ফেলেন কোচ দিদিয়ের দেশম। স্কোয়াডের গভীরতাই যেন মেলে ধরলেন তিনি। সেই দল উপহার দিল দারুণ পারফরম্যান্স। তাতে সফলই হলেন ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী কোচ। দেজিরে দুয়ের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে কলম্বিয়াকে হারাল ফরাসিরা। ব্রাজিলের বিপক্ষে শুরুর একাদশে কিলিয়ান এমবাপে থাকলয়েও ফ্রান্সের বিপক্ষে মাথে নামেন বদলি হিসেবে ৭৮ মিনিটে। এই ম্যাচে গোল না পাওয়ার স্পর্শ করা হয়নি ফ্রান্সের হয়ে অলিভিয়ে জিরুর করা সর্বোচ্চ ৫৭ গোলের রেকর্ড। অবস্থান করছেন এখনও এক গোল দূরে। হাঁটুর চোট থেকে সেরে ওঠার পথে রয়েছেন এমবাপে, যে কারণে ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও কিছু ম্যাচে খেলতে পারেননি। তুরামের অ্যাসিস্টে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন দুয়ে। এরপর ৭৭ মিনিটে কলম্বিয়ার হয়ে ব্যবধান কমান জ্যামিন্তন কামপাস। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স গত জুনের পর থেকে কোনো ম্যাচ হারেনি এবং বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান করছে দুইয়ে। অন্যদিকে ১৩ নম্বরে থাকা কলম্বিয়া এর আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রথম গোল পাওয়ার দিনে হ্যাটট্রিকেরও সুযোগ ছিল দুয়ের সামনে। তবে ২০ বছর বয়সী এই উইঙ্গারকে ৬৩ মিনিটে তুলে হুগো একিতিকেকে নামান দেশম। এ ছাড়া কিলিয়ান এমবাপেসহ তিনি আরও চারটি বদলি নামান। বিপরীতে কলম্বিয়া তুলে নেয় হামেস রদ্রিগেজ ও লুইস দিয়াজকে লাতিন দেশটি কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ৭৭ মিনিটে। কামপাজ সতীর্থের পাস বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন। বদলি নামা ফরাসি অধিনায়ক এমবাপেও একবার বল জালে জড়ান। তবে গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। তার আরেকটি শট গোললাইন থেকে ফেরান কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার। তবে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেতে অসুবিধা হয়নি ফ্রান্সের। দুই জয় নিয়েই তারা ফিফার মার্চ উইন্ডো শেষ করল। বিপরীতে, ফ্রান্সের আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল কলম্বিয়া।
রোহিত-রিকেল্টনের তাণ্ডবে রেকর্ড জয় মুস্বাইয়ের

রোহিত-রিকেল্টনের তাণ্ডবে রেকর্ড জয় মুস্বাইয়ের দীর্ঘ এক যুগের অবসান। ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের দেখা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেল্টনের তাণ্ডবে রেকর্ড গড়েই জিতল মুম্বাই। ২৯ মার্চ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আইপিএলের অন্যতম সফল এই দুই দল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান সংগ্রহ করে কলকাতা। জবাব দিতে নেমে রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেলটনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে ১৯.১ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মুম্বাই। আইপিএল ইতিহাসে এটিই মুম্বাইয়ের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। এর আগে ২০২১ সালের টুর্নামেন্টে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ২১৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি। আর এই জয়ে ১৩ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে আসরের প্রথম ম্যাচ জিতল তারা। বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই কলকাতাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেল্টন। দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ৬ ওভারে ৮০ রান করে ফেলে মুম্বাই। পরে একই ছন্দে এগিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৭১ বলে ১৪৮ রান যোগ করেন তারা। প্রায় ৯ মাস পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ২৩ বলে আইপিএল ক্যারিয়ারের ৫০তম ফিফটি করেন রোহিত। আইপিএলে এটিই তার দ্রুততম ফিফটি। অন্য প্রান্তে ঝড় তোলা রিকেল্টন ২ চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মেরে ২৪ বলে করেন ফিফটি। দ্বাদশ ওভারে বৈভব অরোরার বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন রোহিত। ৬টি করে চার-ছক্কায় ৩৮ বলে তিনি করেন ৭৮ রান। এ নিয়ে কলকাতার বিপক্ষে তার রান হলো ১ হাজার ১৬১। আইপিএলে এত দিন নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান ছিল বিরাট কোহলির, পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১ হাজার ১৫৯। এরপর সূর্যকুমার যাদব বেশি কিছু করতে পারেননি। ৩ চারে ৮ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার। অনুকূল রায়ের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রান আউট হন রিকেল্টন। ফেরার আগে ৪ চারের সঙ্গে ৮ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রান করেন প্রোটিয়া উইকেটকিপার-ব্যাটার। পরে জয় পেতে তেমন বেগ পায়নি মুম্বাই। ৪ চারে ১৪ বলে ২০ রান করে আউট হন তিলক বর্মা। আর ১১ বলে ১৮ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে ঝড় তোলেন কলকাতার দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও অজিঙ্কা রাহানে। দুজন মিলে মাত্র ৩২ বলে গড়েন ৬৯ রানের জুটি। ৬ চার ও ২ ছক্কায় মাত্র ১৭ বলে ৩৭ রান করে ফেরেন অ্যালেন। তিন নম্বরে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। ১০ বলে ১৮ রান করে ফিরলে ভাঙে ২১ বলে ৪০ রানের জুটি। অন্য প্রান্তে তাণ্ডব চালিয়ে যান রাহানে। ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মেরে ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন কলকাতা অধিনায়ক। পঞ্চাশের পর অবশ্য তেমন কিছু করতে পারেননি রাহানে। সব মিলিয়ে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৪০ বলে ৬৭ রান করে আউট হন অভিজ্ঞ ব্যাটার। এরপর ঝড় তোলেন আঙ্কৃশ রঘুবংশী ও রিঙ্কু সিং। দুজনের জুটিতে আসে ৩০ বলে ৬০ রান। মাত্র ২৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে আউট হন রঘুবংশী। ২১ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু। মুম্বাইয়ের হয়ে ৩৯ রানে ৩ উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর
বিশ্বকাপ ‘দমন-পীড়ন ও স্বৈরতন্ত্রের মঞ্চে’ পরিণত হতে পারে

বিশ্বকাপ ‘দমন-পীড়ন ও স্বৈরতন্ত্রের মঞ্চে’ পরিণত হতে পারে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুরু হতে দুই মাসের বেশি সময় বাকি রয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ সময় একটায় এ ম্যাচ শুরু হবে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপ ‘দমন-পীড়নের মঞ্চ এবং স্বৈরাচারী কার্যকলাপের মঞ্চে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে উঠে এসেছে। বিশ্বকাপে অধিকার রক্ষা ও দমনপীড়ন মোকাবিলায় তিনটি আয়োজক দেশের ভক্ত, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, শ্রমিক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য সংস্থাটির ভাষায় ‘গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিগুলোর’ বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে, যা বিশ্বকাপে প্রভাব বিস্তার করবে। আজ লন্ডনভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থার ‘মানবতার জয় আবশ্যক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ভক্ত, খেলোয়াড় এবং অন্যান্য সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য ফিফা এবং আয়োজক দেশসমহূকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও ফিফা প্রত্যেকর জন্য ‘নিরাপদ, অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের অধিকার প্রয়োগে স্বাধীনতা নিশ্চিতের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে অ্যামনেস্টি বলছে, এই প্রতিশ্রুতি তিনটি আয়োজক দেশের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব পরিস্থিতির ‘তীব্র বিপরীত’, যেখানে নিউ জার্সিতে ফাইনালসহ ৭৮টি ম্যাচ ১১টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থার’ সম্মুখীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আগ্রাসী নির্বাসন প্রচেষ্টা, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ‘আধাসামরিক ধাঁচের’ অভিযানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আইসিই-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গত মাসে ‘বিশ্বকাপের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হবে বলে জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে আইসিই-এর আগ্রাসন বিরোধী অভিযানের প্রতিবাদকারী দুই মার্কিন নাগরিককে হত্যার ঘটনায় সৃষ্ট ক্ষোভ সত্ত্বেও এ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছিল। এর সঙ্গে উচ্চ মাত্রার সহিংসতার জবাবে মেক্সিকোর প্রতিক্রিয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। অ্যামনেস্টি বলেছে, বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী আইভরি কোস্ট, হাইতি, ইরান এবং সেনেগালে নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও ইউরোপ জুড়ে থাকা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এছাড়া আয়োজক শহরগুলোর কোনো পরিকল্পনাতেই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর সমর্থকদের নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো উদ্যোগের বিষয়টি উল্লেখ করেনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই বিশ্বকাপটি ফিফার একসময়কার ‘মাঝারি ঝুঁকির’ টুর্নামেন্ট থেকে অনেক দূরে এবং টুর্নামেন্টের মূল প্রতিশ্রুতি ও আজকের বাস্তবতার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান পূরণের জন্য জরুরি প্রচেষ্টার ঘাটতি রয়েছে। ফিফা এই মাসের শুরুতে বলেছিল, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ইরানের উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপে সব দলের অংশগ্রহণে ‘নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী’ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও গত বছর ট্রাম্পকে নতুন সৃষ্ট ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদানের সিদ্ধান্তের জন্য তীব্র সমালোচিত হয়েছে। অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ ককবার্ন বলেন, ফিফা বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় করলেও, ভক্ত, সম্প্রদায়, খেলোয়াড়, সাংবাদিক এবং কর্মীদের এর মূল্য দিতে বাধ্য করা যায় না।ফুটবল এই মানুষগুলোরই—সরকার, ফিফা বা স্পনসরদের নয়—এবং এই টুর্নামেন্টের কেন্দ্রবিন্দুতে তাদের অধিকারই থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ১৬টি আয়োজক শহরের মধ্যে মাত্র চারটি পক্ষ এখন পর্যন্ত তাদের মানবাধিকার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। যারা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেছে, তাদের কোনোটিতেই নিপীড়নমূলক অভিবাসন প্রয়োগ থেকে সুরক্ষার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। বিশ্বকাপের বাস্তবতা যেন এর মূল প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে, তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান তিনি।
ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন কার্যক্রম শুরু

ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন কার্যক্রম শুরু মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের নিজস্ব শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েলি ঘনিষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এই হুমকির পর নিরাপত্তার খাতিরে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এইউবি) সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ রিমোট বা অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই পথে হেঁটেছে লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি। তারা তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আসা ব্যাপক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তারাও আগামী দুই দিন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই যুদ্ধের শুরু থেকেই অনলাইনে পাঠদান করছে। কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিনই কাতারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিস্টেন্স লার্নিং বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আইআরজিসির এই সরাসরি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার সংকটের মুখে পড়েছে। ইরানি হামলার সরাসরি হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে লেবানন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখন ঘরবন্দি অবস্থায় অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের ডামাডোলে হঠাৎ করে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষণাগারের কাজ এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং শিক্ষাবিদগণ জানিয়েছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে শিক্ষাঙ্গনকে টেনে আনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অনেক শিক্ষার্থীই এখন নিরাপত্তার অভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ছাড়াল ১১৬ ডলার

তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ছাড়াল ১১৬ ডলার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান-কে ঘিরে চলমান সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। আজ সকালে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে এই অবস্থানে পৌঁছায়। এর আগে ১৯ মার্চ সাময়িকভাবে দাম ১১৯ ডলার ছুঁয়েছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই উত্থানের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংঘাতের উত্তাপ আরও বেড়ে যায়, যখন ইরান সম্ভাব্য মার্কিন স্থল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুতির ঘোষণা দেয়। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দেয়। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান জোরদার করে ইসরায়েল। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দিলে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হয়। ফলে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব এশিয়ার শেয়ার বাজারেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক-উভয় সূচকেই ৪ শতাংশের বেশি পতন দেখা যায়, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক দেশকে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ না ছাড়লে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। যদিও তিনি একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে ১৫ দফা প্রস্তাবও দিয়েছেন এবং পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় আলোচনা এগোতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে তেহরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা শর্ত দিয়েছে-ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রণালির ওপর নিজেদের অধিকার স্বীকৃতি দিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধার না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং তা ১২০ ডলার অতিক্রম করার আশঙ্কাও রয়েছে। জ্বালানি বাজারে বর্তমান সরবরাহ সংকটকে তারা ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তবে উত্তেজনার মাঝেও সীমিত আকারে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ইরান ধীরে ধীরে তাদের কিছু মিত্র দেশের জাহাজকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দিচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, তাদের ২০টি পতাকাবাহী জাহাজকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গত সপ্তাহে বলেছেন যে, ইরান মালয়েশীয় জাহাজগুলোকে প্রণালিটি অতিক্রম করার অনুমতি দিয়েছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সাতটি অ-ইরানি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা বুধবারের পাঁচটি এবং মঙ্গলবারের চারটি জাহাজের চেয়ে বেশি। তবে যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, এখন সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এখনো সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিউবায় রাশিয়ার তেল সরবরাহে আপত্তি নেই ট্রাম্পের

কিউবায় রাশিয়ার তেল সরবরাহে আপত্তি নেই ট্রাম্পের তেহরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কড়াকড়ির পরও কিউবায় মস্কো তেল পাঠালে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এমন সময়ে এই মস্তব্য করেছেন, যখন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি রুশ তেল ট্যাঙ্কার কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শিপিং ট্র্যাকার মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, ‘আনাতোলি কলোদকিন’ নামের জাহাজটি ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছে। জাহাজটি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কিউবার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল এবং মঙ্গলবারের মধ্যে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মাতানজাস বন্দরে নোঙর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডায় তার মার-এ-লাগো এস্টেট থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে বিমানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কিউবার দিন শেষ, তাদের শাসনব্যবস্থা খারাপ, তাদের নেতৃত্ব খুবই খারাপ ও দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তারা এক জাহাজ তেল পাক বা না পাক, তাতে কিছু যায় আসবে না। তিনি আরও বলেন, আমি বরং তেল ঢুকতে দিতে চাই। রাশিয়া হোক বা অন্য কেউ। কারণ, সাধারণ মানুষের গরম, ঠান্ডা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধার জন্য জ্বালানি দরকার। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর কিউবা তাদের প্রধান আঞ্চলিক মিত্র এবং তেল সরবরাহকারীকে হারিয়েছে। এরপর ট্রাম্প কিউবায় তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন এবং দ্বীপটি ‘দখল’ করার কথাও ইঙ্গিত দেন।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতদারি রোধে ৩৮৬ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতদারি রোধে ৩৮৬ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতদারি রোধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে মোট ৩৮৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে। এসব অভিযানে ২১৪টি মামলা দায়ের করা হয় এবং সর্বমোট ৯ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া নীলফামারী জেলায় ৩ জনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন বলেও জানানো হয়। কোথাও অনিয়ম লক্ষ করা গেলে বা সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পেলে ভিজিলেন্স টিমের নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জুনে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন, পাবে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুরা

জুনে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন, পাবে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুরা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে এক মাসব্যাপী বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করবে সরকার। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুরা এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা পাবে। আজ সকালে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশিদ। তিনি বলেন, হামের রুটিন টিকাদান চলছে। দেশে চলমান হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি নিয়মিত (রুটিন) টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে অতিরিক্ত উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত হবে। হালিমুর রশিদ আরও বলেন, এখন ৯ মাস বয়সি শিশুরা হামের ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ ও ১৫ মাসের শিশু সেকেন্ড ডোজ পায়। তবে ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিক সংক্রমিত শিশুদের বিবেচনায় এনে বয়সসীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্যাম্পেইন শুরুর আগে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অভিভাবকদের জানানো হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভি থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, টিকা ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে টিকা সরবরাহ শুরু হয়েছে; পর্যায়ক্রমে সিরিঞ্জসহ অন্যান্য সরঞ্জামও পৌঁছাবে। ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাইক্রোপ্ল্যানের মাধ্যমে কোন এলাকায় কতজন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর আগে, রবিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ ছুটির দিন ও ক্লাসের পর খোলা রাখার নির্দেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ ছুটির দিন ও ক্লাসের পর খোলা রাখার নির্দেশ দেশের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ সংরক্ষণ, যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শেষে এবং ছুটির দিনগুলোতে মাঠগুলো স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। আজ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এক আদেশে মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত পত্রের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই আদেশে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো পত্রে মন্ত্রণালয় জানায়, সারাদেশে শহর ও গ্রাম পর্যায়ে খেলাধুলার মাঠ নির্ধারণ ও ব্যবহারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির ১ম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পত্রে আরও বলা হয়, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান খেলার মাঠগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এবং সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে আশপাশের ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলার সুবিধার্থে মাঠগুলো উন্মুক্ত রাখতে হবে। মাউশি অধিদপ্তর থেকে জারি করা আদেশটি দেশের সকল অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতকারীকে ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতকারীকে ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানী তেলের সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র অবৈধভাবে তেল মজুত ও পাচারের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এবং বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করতে চায়। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘অবৈধ মজুদদারিদের জন্য আমরা পাম্পগুলোতে বাড়তি সরবরাহ করেও চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। মার্চের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ সরবরাহ করেছি। আগের বছর এই সময় দৈনিক ১২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। এই বছরের একই সময়ে দৈনিক ২৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি তেল সরবরাহ করা হলেও সামাল দেওয়া যায়নি। কারণ একদিকে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে তেল নিতে পাম্পে ভিড় করছেন, অন্যদিকে অবৈধ মজুদদাররা তেল মজুদ করছেন। যার ফলে গত ৬ মার্চ থেকে ফের আগের বছরের মতো তেল সরবরাহ দেওয়া হয়। পরে ঈদের আগে আগে আবার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি তেল সরবরাহ দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায়নি।’ বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন প্রতিটি জেলায় ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করে নজরদারি করা হচ্ছে। পাম্পগুলোতে তদারকি বাড়াতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাম্পে কতটুকু তেল বরাদ্দ পাওয়ার কথা ও কতটুকু পাচ্ছে এগুলো তদারকি করবেন ট্যাগ অফিসাররা। পাশাপাশি সারা দেশেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা আদায়ের সঙ্গে করাদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যাঁরা অবৈধ মজুদদারির তথ্য দিচ্ছে, তাদের এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’