বুধবার ০৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৭ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: June 03, 2026
June 03, 2026
খেলাধুলা
খেলাধুলা

শোককে শক্তিতে পরিণত করে ফাইনালে যেতে চায় বাংলাদেশ

Published: June 03, 2026 at 09:51 AM
শোককে শক্তিতে পরিণত করে ফাইনালে যেতে চায় বাংলাদেশ

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নের মিশন বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের। দুই ম্যাচ জিতলেই ইতিহাসটা লেখা হয়ে যাবে। সংশয় জেগেছে মেয়েদের সেমিফাইনাল হার্ডল পার হওয়া নিয়ে। ২০২২ ও ২০২৪ আগেরই দুই আসরে বাংলাদেশ ও নেপাল ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। দুই দেশের মেয়েরা আজ বুধবার সেমিফাইনালে লড়বে।  তবে মাঠের ফুটবলের চেয়েও এই মুহূর্তে লাল-সবুজের ড্রেসিংরুমের আবেগ ও মানসিক অবস্থাই বেশি আলোচনায়। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শিউলি আজিমের মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে বিষাদের সুর বাজছে। শোকের ছায়ায় মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে নির্ধারিত মাঠের অনুশীলন বাতিল করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে মঙ্গলবার বিকেলে গোয়ায় টিম হোটেলের কাছের সমুদ্রসৈকতে হালকা স্ট্রেচিং করে মেয়েরা। দলের ভেতরের কিছু মতানৈক্য ও সাম্প্রতিক কঠিন পরিস্থিতির যে মেঘ বাংলাদেশ দলকে ঘিরে ধরেছিল, সতীর্থ শিউলি আজিমের মায়ের আকস্মিক মৃত্যু তা যেন এক অপ্রত্যাশিত মোড় এনে দিয়েছে। শোকের ভারী চাদর মুহূর্তের মধ্যেই দলের ভেতরের মান-অভিমান আর দূরত্বকে আড়াল করে দিয়েছে। আজ ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ মাঠে নামবে শুধু নেপালের বিপক্ষে নয়, নিজেদের শোককে শক্তিতে পরিণত করার কঠিন মানসিক লড়াই নিয়েও।


ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে দলের অগোছালো রূপ ফুটে উঠেছিল। ড্রেসিংরুমের ভেতরের দূরত্ব, স্ট্রাইকার আনিকা রানীয়া সিদ্দিকীর সঙ্গে সতীর্থদের মাঠের বোঝাপড়ার অভাব এবং প্রস্তুতির সময় খেলোয়াড়দের মনোযোগের ঘাটতি দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। কিন্তু শিউলির মায়ের মৃত্যুর খবর সেই দূরত্বের দেয়াল যেন নিমেষেই মুছে দিয়েছে। সতীর্থের মায়ের মৃত্যুতে ফেসবুকে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তহুরা খাতুন। ফেসবুকে তিনি লেখেন- ‘আমরা যেন সবাই একটা পরিবার... একজনের দুঃখ যেন সবার দুঃখ হয়ে গেছে। এই বার্তাই প্রমাণ করে, সাময়িক মতানৈক্যের মধ্যেও দলটির ভেতরের পারস্পরিক টান এবং মানবিক সম্পর্ক এখনো অটুট। মাঠের অনুশীলন না হলেও শোককে শক্তিতে পরিণত করে সেমিফাইনালে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের বর্তমান অবস্থা ও আগামীকালের পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। শিউলির মায়ের মৃত্যুতে দলের সবার মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে কোচ বাটলার বলেন, ‘এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আজিম পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও প্রার্থনা পৌঁছে দেওয়া। শিউলি দলের বেশ অভিজ্ঞ, অত্যন্ত সম্মানিত এবং সবার প্রিয় একজন সদস্য।’ মাঠের অনুশীলন বাতিল হওয়ায় ম্যাচের আগে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন কোচ। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে অনেক সময় অতিরিক্ত অনুশীলন হয়ে যায়। তাই মাঠের অনুশীলন না হওয়াটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি না। আমরা আজ বলে লাথিও মারিনি। এর বদলে ভিডিও বিশ্লেষণ এবং এখানকার সতেজ পরিবেশ কাজে লাগাচ্ছি। সৈকতে আমরা হাঁটতে গিয়েছিলাম। এই বিরতিটা সবাইকে যা ঘটেছে তা নিয়ে ভাবার এবং জীবন যে কত ছোট ও নিষ্ঠুর হতে পারে, তা অনুধাবনের সুযোগ দিয়েছে।’


২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দলকে শোক কাটিয়ে মাঠে নামতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ সামলাতে মেয়েদের উজ্জীবিত করছেন বাটলার। দলের মানসিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েদের বলেছি, এখন এই দুঃখ, মর্মান্তিক ঘটনা এবং নেতিবাচক শক্তিকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। কাজটা অবশ্যই সহজ নয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের মেয়েদের মাঠে নেমে ভালো পারফরম্যান্স দেওয়ার এবং জয় ছিনিয়ে আনার যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে। আমরা পিছিয়ে থাকব না, কোনো চেষ্টাই বাকি রাখব না। জয়ের জন্য আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব।’ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ নেপালকে নিয়ে সতর্ক থাকলেও কোচ বাটলার মূলত নিজেদের খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও নেপালের বিপক্ষে খেলেছি, অনূর্ধ্ব-২০ দলেও খেলেছি। আমরা আমাদের হোমওয়ার্ক করেছি। তবে সত্যি বলতে, আমি নেপালকে নিয়ে চিন্তিত নই। আমাদের নিজেদের খেলায় উন্নতি করতে হবে।’


দলের রণকৌশল সম্পর্কে ধারণা দিয়ে বাটলার আরও বলেন, ‘মমিতার মতো খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে হোল্ডিং পিভট রোলে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। আমরা বসে বসে যদি, কিন্তু আর হয়তো নিয়ে ভাবব না। ইতিবাচকভাবে ম্যাচটি নিতে হবে, যাতে আমরা মাঠে গিয়ে তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারি। আমাদের সত্যিই গতিশীল ও মনোযোগী হতে হবে এবং আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামতে হবে।’