বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 02, 2026
September 02, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

শাটডাউন ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত, ৩৭০-৪৮ ভোটে বাজেট বিল পাস মার্কিন হাউসে

Published: September 02, 2026 at 08:57 AM
শাটডাউন ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত, ৩৭০-৪৮ ভোটে বাজেট বিল পাস মার্কিন হাউসে

যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য সরকারি শাটডাউন এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় একটি স্বল্পমেয়াদি সরকারি অর্থায়ন বিল পাস করেছে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। ৩৭০-৪৮ ভোটে পাস হওয়া বিলটির মাধ্যমে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অর্থের সংস্থান করা হয়েছে। এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে কংগ্রেসে পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন না হওয়ায় সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছর শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর। এর আগে কংগ্রেসকে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত পূর্ণ অর্থবছরের জন্য প্রয়োজনীয় ১২টি নিয়মিত বরাদ্দ বিলের কোনোটিই সম্পূর্ণভাবে অনুমোদন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সম্ভাব্য অচলাবস্থা ঠেকাতে অস্থায়ী অর্থায়নের পথ বেছে নিয়েছে কংগ্রেস।মঙ্গলবারের ভোটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের সদস্যরাই বড় সংখ্যায় বিলটির পক্ষে ভোট দেন। হাউসের সরকারি ভোটের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৩ জন রিপাবলিকান, ১৭৬ জন ডেমোক্র্যাট এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৯ জন রিপাবলিকান ও ২৯ জন ডেমোক্র্যাট। ১৪ জন সদস্য ভোটদানে অংশ নেননি।


বিলটি H.R. 6500, যা Continuing Appropriations and Extensions Act, 2027 নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে বিদ্যমান সরকারি ব্যয়ের কাঠামো মূলত অব্যাহত রেখে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন চালু রাখা হবে। এর ফলে ১ অক্টোবর থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অর্থ বন্ধ হয়ে যাওয়ার তাৎক্ষণিক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।এর আগে গত ৮ আগস্ট মার্কিন সিনেটও বিলটি অনুমোদন করেছিল। ফলে মঙ্গলবার হাউসে পাস হওয়ার পর বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পর এটি আইনে পরিণত হবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অস্থায়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করবে।তবে এই ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাজেট সংকটের সমাধান হয়নি। বরং বড় ধরনের সিদ্ধান্ত কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসকে এখন ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৭ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ ১২টি বরাদ্দ বিল নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। ফলে বছরের শেষ দিকে আবারও সরকারি অর্থায়ন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক দর-কষাকষি শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এই পরিস্থিতির রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের ঠিক আগে সরকারি শাটডাউন হলে তার প্রভাব ফেডারেল কর্মী, সরকারি সেবা এবং অর্থনীতিতে পড়তে পারে। অতীতের শাটডাউনগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই এবার অন্তত নির্বাচন পর্যন্ত সরকার সচল রাখার পথ বেছে নিয়েছেন। বিলটিতে কিছু নির্দিষ্ট খাতের জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের ব্যবস্থাও রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন নির্মাণ অব্যাহত রাখতে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রয়েছে বলে কংগ্রেসের সদস্যদের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে।


তবে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর হয়নি। রিপাবলিকানদের একটি অংশ বিলটির কিছু নীতিগত বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও সরকারি অর্থ বরাদ্দ ও প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে ঘিরে অসন্তোষ রয়েছে। তারপরও সম্ভাব্য শাটডাউন এড়ানোর প্রশ্নে হাউসে ব্যাপক দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়া গেছে।

ফলে মঙ্গলবারের ভোটকে আপাতত সরকারি শাটডাউন ঠেকানোর বড় রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। ডিসেম্বরের ১১ তারিখ ঘনিয়ে এলে আবারও একই প্রশ্ন সামনে আসবে—কংগ্রেস কি শেষ পর্যন্ত ২০২৭ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদনে সক্ষম হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও শাটডাউনের আশঙ্কার মুখে পড়তে হবে?