নতুন কয়েকটি শক্তির উত্থান, পুরোনো পরাশক্তির আধিপত্য এবং অসংখ্য স্মরণীয় কীর্তির মধ্য দিয়ে গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস শেষ হয়েছে । ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদ ১০টি ক্রীড়া ও ছয়টি প্যারা ক্রীড়ায় ২১৫টি পদক ইভেন্টে অংশ নেন। ১ হাজার ১৬৮টি পদক বিতরণের পর সবচেয়ে সফল দল হিসেবে আসর শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট ত্রয়োদশ কমনওয়েলথ গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পদক তালিকায় শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৭০টি স্বর্ণ, ৪৫টি রৌপ্য ও ৫৬টি ব্রোঞ্জ। সব মিলিয়ে তাদের মোট পদক ১৭১টি। সাঁতারেই অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৩৭টি স্বর্ণপদক। ছয়টি ইভেন্টে তারা পূর্ণ পোডিয়ামও দখল করেছে। লানি প্যালিস্টার একাই চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ জিতে আসরের অন্যতম সেরা তারকা হয়েছেন।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২৯টি স্বর্ণ, ৪৫টি রৌপ্য ও ৩৬টি ব্রোঞ্জ। মোট ১১০টি পদক নিয়ে তারা শক্ত অবস্থান ধরে রাখে। তৃতীয় স্থানে থাকা কানাডা জিতেছে ১৯টি স্বর্ণ, ২০টি রৌপ্য ও ২৩টি ব্রোঞ্জ। মোট পদক ৬২টি।
আয়োজক স্কটল্যান্ড নিজেদের মাটিতে ১১টি স্বর্ণ, ১৪টি রৌপ্য ও ১৯টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৪৪টি পদক জিতে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেছে।
ভারত জিতেছে ১৩টি স্বর্ণ, ১৭টি রৌপ্য ও ৯টি ব্রোঞ্জ। মোট ৩৯টি পদক নিয়ে তারা চতুর্থ স্থানে রয়েছে। বক্সিংয়ে ১৪টি শিরোপার মধ্যে সাতটি জিতে সবচেয়ে সফল দেশ হয়েছে ভারত। এছাড়া প্যারা ক্রীড়ায়ও তিনটি স্বর্ণসহ সাতটি পদক জিতেছে ভারতীয় অ্যাথলেটরা।
নাইজেরিয়া এবারের গেমসে শুধু পদকই জেতেনি, বিশ্বরেকর্ডও গড়েছে। প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ফোলাশাডে ওলুওয়াফেমিয়াও ও রিটা ফের্দিনান্দ নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেন। নারীদের এফ৪২ ডিসকাসে গুডনেস নওয়াচুকুও বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতেছেন।
ছোট দেশগুলোর মধ্যেও ছিল উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ডমিনিকার থিয়া লাফন্ড নারীদের ট্রিপল জাম্পে স্বর্ণ জিতে দেশটির ইতিহাসে প্রথম কমনওয়েলথ গেমস স্বর্ণপদক এনে দেন। বাহামাস, লেসোথো, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশও ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখেছে।
এবারের গেমসে বাংলাদেশের অর্জনের খাতা রয়ে গেছে শূন্য। চারটি ডিসিপ্লিনে ১৫ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিলেও কোনো পদক জিততে পারেননি তারা। সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন বক্সার রাকিব হোসেন। পুরুষদের ৫৫ কেজি ব্যান্টামওয়েটের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে পদকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও অস্ট্রেলিয়ার জায়ে ডিক্সনের কাছে হেরে বিদায় নেন তিনি। সাঁতারে সামিউল ইসলাম রাফি ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং গড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে কোনো ইভেন্টেই বাংলাদেশের কেউ ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেননি।
গ্লাসগো ২০২৬ শেষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার নিরঙ্কুশ আধিপত্য, ভারতের শক্ত অবস্থান, নতুন কয়েকটি দেশের ঐতিহাসিক সাফল্য এবং ভবিষ্যতের একঝাঁক তারকার উত্থানের মধ্য দিয়ে। পদকের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় শিক্ষা, কমনওয়েলথ গেমসে প্রতিযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।