শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১০ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: June 26, 2026
June 26, 2026
জাতীয়
জাতীয়

দেশের ১৪ ফলে জিআই সনদ ব্র্যান্ডিং-অর্থনীতিতে নতুন আশা

Published: June 26, 2026 at 01:16 PM
দেশের ১৪ ফলে জিআই সনদ ব্র্যান্ডিং-অর্থনীতিতে নতুন আশা

বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে ফলের তালিকায় আমের আধিপত্য বেশি। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বেশকিছু সুপরিচিত আঞ্চলিক ফল ও কলা। সব মিলিয়ে জিআই পাওয়া ফলের সংখ্যা এখন ১৪টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আইনি স্বীকৃতির ফলে ফলগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে উৎসভিত্তিক ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ। একই সঙ্গে বাজারে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিও নিশ্চিত হচ্ছে।


টাঙ্গাইল শাড়িসহ ১৪ পণ্য পেল জিআই সনদ

ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই হলো এমন এক আইনি স্বীকৃতি, যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ পরিবেশ, মাটি, আবহাওয়া ও উৎপাদন ঐতিহ্যের কারণে গড়ে ওঠা পণ্যকে অন্য সব অনুরূপ পণ্যের থেকে আলাদা পরিচয় দেয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট জাতের ফল অন্য অঞ্চলে উৎপাদিত হলেও, জিআইভুক্ত অঞ্চলের ফলের স্বাদ, ঘ্রাণ, আকার ও সংরক্ষণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্বকীয় হয়।


তালিকায় স্থান পাওয়া ১৪ ফল

দেশের জিআই তালিকায় রয়েছে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘ফজলি আম’, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘খিরসাপাত আম’, মেহেরপুরের ‘হিমসাগর আম’, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘আশ্বিনা আম’, নওগাঁর ‘নাক ফজলি আম’ এবং রংপুরের ‘হাড়িভাঙা আম’। এছাড়া মাগুরার ‘হাজরাপুরি লিচু’, দিনাজপুরের ‘বেদানা লিচু’ এবং গাজীপুরের ‘কাঁঠাল’ জিআই পেয়েছে। অষ্টগ্রাম / জিআই সনদে পনিরের কদর বাড়ছে পাশাপাশি মেহেরপুরের ‘মেহের সাগর কলা’, নরসিংদীর ‘অমৃত সাগর কলা’ ও ‘লটকন’, টাঙ্গাইলের ‘মধুপুরের আনারস’ এবং বরিশালের ‘আমড়া’ এখন বাংলাদেশি জিআই পণ্য। ‘জিআই আম বেল্ট’ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা জিআই স্বীকৃতির ফলে দেশের ফল অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ফজলি, খিরসাপাত, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আশ্বিনা ও হাড়িভাঙাসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আমের জাত জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় দেশের আমকেন্দ্রিক অঞ্চলে একটি শক্তিশালী ‘জিআই আম বেল্ট’ গড়ে উঠছে। এর মাধ্যমে শুধু দেশের বাজারে আমের ব্র্যান্ড মূল্যই বাড়ছে না, বরং মৌসুমজুড়ে বিভিন্ন সময়ে উন্নত মানের ও প্রিমিয়াম মূল্যের আম বাজারজাতকরণের একটি কার্যকর পরিকল্পনাও তৈরি হচ্ছে।অনুরূপভাবে লিচু, লটকন ও কাঁঠালের মতো সম্ভাবনাময় ফলগুলোর জিআই স্বীকৃতি এসব পণ্যের জন্য বিশেষায়িত বাজার, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং স্থানীয় ঐতিহ্য ও উৎসকেন্দ্রিক ‘কৃষি-পর্যটন’ (Agro-tourism) বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।