আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গোলরক্ষক হুগো গাত্তি আর নেই

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গোলরক্ষক হুগো গাত্তি আর নেই আর্জেন্টিনার ইতিহাসখ্যাত গোলরক্ষক হুগো ওরল্যান্ডো গাত্তি আর নেই। স্থানীয় সময় রবিবার (২০ এপ্রিল) ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। লাতিন আমেরিকার ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা কনমেবল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত দুই মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন গাত্তি। কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতির বদলে নতুন করে দেখা দেয় নিউমোনিয়া, কিডনি জটিলতা ও হৃদরোগ। এসব জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত তার পরিবার তাকে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ‘এল লোকো’ নামে পরিচিত গাত্তি ছিলেন একেবারে আলাদা ঘরানার গোলরক্ষক। সাহসী, উদ্ভট এবং অনেক সময় অপ্রচলিত কৌশলে খেলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতেন তিনি। আর্জেন্টাইন লিগে সর্বোচ্চ ৭৬৫ ম্যাচ খেলার রেকর্ড আজও তার দখলে। ২৬ বছরের দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ারে (১৯৬২–১৯৮৮) তিনি বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। যার মধ্যে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ১৯৭৭ সালে জিতেছেন কোপা লিবার্তাদোরেস। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, আজকের ‘সুইপার কিপার’ কনসেপ্ট— যেখানে গোলরক্ষক গোলপোস্ট ছেড়ে খেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন— এর শুরুটা গাত্তির হাত ধরেই হয়েছিল। তার সেই সময়ের সাহসী খেলার ধরণ আধুনিক ফুটবলের জন্য ছিল এক নতুন ধারা। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম শিরোপা জয়ের দলে মূল গোলরক্ষক হিসেবে তার জায়গা নিশ্চিত থাকলেও হাঁটুর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। গাত্তি ছিলেন শুধু একজন ফুটবলার নন— তিনি ছিলেন একজন স্পষ্টভাষী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। একবার তিনি দিয়েগো মারাডোনাকে ঠাট্টা করে ‘গর্ডিতো’ (মোটা) বলেন। এর জবাবে পরের ম্যাচে মারাডোনা তার বিপক্ষে চারটি গোল করে দেন। এমন অনেক ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন গাত্তি, যা তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।  তার মৃত্যুতে বিশ্ব ফুটবল হারিয়েছে এক সাহসী, বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে, যিনি যুগ গড়েছেন নিজের মতো করে।

কাবাডি টেস্ট সিরিজে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশ নারী দলের

কাবাডি টেস্ট সিরিজে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশ নারী দলের শক্তিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে নেপাল নারী দল। এসএ গেমস ও এশিয়ান গেমসে নেপালের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল।  এছাড়া শারীরিক গড়নেও এগিয়ে নেপাল দল। ম্যাচে এই সুবিধা বেশ ভালোভাবে কাজ লাগিয়েছে তারা। শেষ পর্যন্ত ৪১-১৮ পয়েন্টে বাংলাদেশকে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেপাল। আগামীকাল একই ভেন্যুতে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। শুরু থেকেই পয়েন্ট বাড়িয়ে নিতে থাকে স্বাগতিক দল। বোনাস পয়েন্টে এগিয়ে যায় তারা। পাশাপাশি প্রথমার্ধে একটি লোনা পায় নেপাল। ১৮-৬ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে নেপাল। দ্বিতীয়ার্ধেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। একই ছন্দে খেলে ম্যাচ নিজেদের আয়ত্তে রাখে নেপাল। এই অর্ধে আরও দুটি লোনা পায় নেপাল। বাংলাদেশের এই পরাজয়ের জন্য ভ্রমণ ক্লান্তি ও ইনজুরিকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ দলের কোচ শাহনাজ পারভিন মালেকা। ‘আমরা গতকালই ঢাকা থেকে এখানে এসেছি। তাই সেভাবে বিশ্রামের সময় পাইনি। এছাড়া আমাদের দুই থেকে তিনজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে আছে। এই ম্যাচ থেকে যে সমস্যাগুলো আমরা বুঝতে পেরেছি আশা করছি সেগুলো কাটিয়ে পরের ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো কিছু করব। নেপাল নিয়মিত অনুশীলনে ছিল। কিন্তু আমরা ঈদের কারণে ছুটিতে গিয়েছিলাম। তাই আমাদের অনুশীলনের কিছুটা ঘাটতি ছিল। তবে আশা করছি আগামীকালের ম্যাচে আজকের তুলনায় অনেক ভালো খেলবে বাংলাদেশ দল।

টেল এন্ডারদের ব্যাটে বাড়ছে জিম্বাবুয়ের লিড

টেল এন্ডারদের ব্যাটে বাড়ছে জিম্বাবুয়ের লিড টেল এন্ডারদের ব্যাটে বাড়ছে জিম্বাবুয়ের লিড। বিশেষ করে এনগারাবা-মুজারাবানি জুটি। দুজনে ৩৬ রান যোগ করেছেন। ১৬ বলে ১৭ রানের ক্যামিও খেলে সাজঘরে ফেরেন মুজারবানি। এখন এনগারাবার সঙ্গী নাইউচি। লিড ৭২। এবার মিরাজের শিকার মাসাকাদজা লম্বা সময় ধরে উইকেটে ছিলেন মাসাকাদজা। চল্লিশের বেশি বল খেলে ভোগাচ্ছিলেন। অবশেষে পরাস্ত হলেন মিরাজের ঘূর্ণিতে। বড় শট খেলতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করেন। শর্ট মিডে অসাধারণ ক্যাচ ধরেন শান্ত। ৪২ বলে ৭ রান করেন মাসাকাদজা। মিরাজের এটি তৃতীয় উইকেট। ক্রিজে এনগারাবার সঙ্গী মুজারাবানি। মিরাজের ঘূর্ণিতে মায়াভোর বিদায় মিরাজের ঘূর্ণিতে পরাস্ত মায়াভো। বল পিচড হয়েই সোজা লাগে পায়ে। ব্যাট চালাতে কিছুটা দেরি করে ফেলেন মায়াভো। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেননি। ৩৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ক্রিজে মাসাকাদজার সঙ্গী এনগারাবা। পিছিয়ে থেকে চা-বিরতিতে বাংলাদেশ প্রথম সেশনে চার উইকেট নিলেও দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ২ উইকেট নিতে পেরেছেন নাহিদ রানারা। লিড নিয়ে সেশন শেষ করেছে জিম্বাবুয়ে। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে তাদের লিড ২২ রান। মায়াভো ৩১ ও মাসাকাদজা ২ রানে অপরাজিত। লিড ১৩ রান। লিড এনে দিয়ে সাজঘরে উইলিয়ামস জিম্বাবুয়েকে লিড এনে দিয়ে বিদায় নিলেন উইলিয়ামস। তার ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫৯ রান। মিরাজকে ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন বাউন্ডারি লাইনে। উইলিয়ামস এক প্রান্তে আগলে রাখেন। বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান তিনি। আউট হওয়ার পর যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না এই বাঁহাতি ব্যাটারের। মিরাজের এটি প্রথম উইকেট। ক্রিজে মায়াভোর সঙ্গী মাসাকাদজা। বাংলাদেশের রান টপকে জিম্বাবুয়ের লিড প্রথম ইনিংসে করা বাংলাদেশের ১৯১ রান টপকে গেছে জিম্বাবুয়ে। ৫২.৪ ওভারে মিরাজকে চারের মারে লিড টপকে যায় সফরকারীরা। নতুন ব্যাটার মায়াভোকে সঙ্গে নিয়ে এগোচ্ছেন ফিফটি হাঁকানো উইলিয়ামস। দ্বিতীয় সেশনে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ উইকেট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। মাধেভেরেকে বোল্ড করে খালেদের ব্রেক থ্রু ফিফট স্ট্যাম্পে করা খালেদের ব্যাক অব লেন্থের ডেলিভারি রুখতে গিয়ে বিপাকে পড়েন মাধেভেরে। বল ব্যাটে লেগে আঘাত করে উইকেটে। ২৪ রানে ফেরেন মাধেভেরে। ভেঙে যায় ৪৮ রানের জুটি। লম্বা বিরতির পর ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে স্বস্তি ফেরালেন খালেদ। ক্রিজে উইলিয়ামসের সঙ্গী মায়াভো। উইলিয়ামসের ফিফটি, লিডের পথে এগোচ্ছে জিম্বাবুয়ে আরভিন ফেরার পর মাধেভেরের সঙ্গে জুটি গড়ে এগোতে থাকেন উইলিয়ামস। দুজনের জুটির ফিফটির আগে ফিফটি তুলে নেন উইলিয়ামস। ৮৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান এই বাঁহাতি। দুজনের জুটিতে ভর করে লিডের পথে এগোচ্ছে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় সেশনে এখন পর্যন্ত কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। রানার তোপে প্রথম সেশন বাংলাদেশের বিনা উইকেটে ৫৭ রানে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল জিম্বাবুয়ে। প্রথম সেশন শেষ হতে হতে তাদের উইকেট পড়ে যায় চারটি। বাংলাদেশ থেকে এখনো পিছিয়ে আছে ৫৮ রানে। নাহিদা রানা শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক বোলিং করে যাচ্ছেন। একাই নিয়েছেন ৩ উইকেট। ১ উইকেট নেন হাসান। উইলিয়ামস ৩৩ ও মাধভেরে ৪ রানে ব্যাট করছেন। জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরালেন রানা তৃতীয় উইকেটের পতনের পর প্রতিরোধ গড়েন আরভিন-উইলিয়ামস। দুজনে এগোচ্ছিলেন সাবলীলভাবে। কয়েকটা হাফ চান্স দিলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। অবশেষে নাহিদ রানা এসে জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরান। রানার ব্যাক অব লেন্থ ডেলিভারিতে খোঁচা দেন আরভিন। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৯ বলে ৮ রান। ক্রিজে উইলিয়মাসের সঙ্গী মাধভেরে। রানার পর হাসান, স্ট্যাম্প উড়লো ওয়েলচের রানার শর্ট বলে পরাস্ত হন দারুণ খেলতে থাকা বেনেট। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে, জাকের আলীর হাতে। তার ব্যাট থেকে আসে ৫৬ রান। নিজের প্রথম ফিফটি পেয়েছেন ৫৬ বলে। বেনেটের আউটের পরই সাজঘরে ফেরেন নিক ওয়েলচ। হাসানের তোপে স্ট্যাম্প উড়ে যায় তার। শন উইলিয়ামস-ক্রেইগ আরভিন প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। দুজনের ব্যাটে ২৪.৫ ওভারে শতরানের ঘর স্পর্শ করে জিম্বাবুয়ে। দিনের শুরুতেই নাহিদ রানার আঘাত উইকেটের খোঁজে মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। অবশেষে দেখা মিলল। নাহিদ রানার শর্ট বলে পরাস্ত হলেন ওপেনার কারান। লেগ স্ট্যাম্পে ছোঁড়া শর্ট বলে এক্সট্রা বাউন্স হয়েছিল, জায়গা থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন কারান। কিন্তু দেরি হয়ে যায়, বল খোঁচা লেগে চলে যায় শর্ট লেগে। ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন মমিনুল হক। ১৬ রানে ফিরলেন কারান, ৬৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ক্রিজে বেনেটের সঙ্গী ওয়েলচ। এগিয়ে থেকে জিম্বাবুয়ের শুরু  সিলেট টেস্টের প্রথম দিন বাংলাদেশের ভালো যায়নি। ব্যাটে-বলে দারুণ দিন কেটেছে জিম্বাবুয়ের। গতকাল শেষ বিকেলে বাংলাদেশ কোনো উইকেট নিতে পারেনি। ১২৪ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমেছে সফরকারীরা। বেনেট ৪০ ও কারান ১৬ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছেন। লড়াইয়ে থাকতে হলে বাংলাদেশের দ্রুত উইকেট নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই প্রথম দিন শেষে এগিয়ে জিম্বাবুয়ে  যেই উইকেটে খাবি খেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা সেখানে আলো ছড়িয়েছে জিম্বাবুয়ে। স্কোরবোর্ড ৬৭ রান জমা করে দিন শেষ করে সফরকারীরা। বেনেট ৪০ ও কারান ১৭ রানে অপরাজিত আছেন। চার বোলার ১৪.১ ওভার বোলিং করে কোনো উইকেটের দেখা পাননি। এর আগে ১৯১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশে ১৯১! চা বিরতিতে যাওয়ার আগে জাকের-হাসান প্রতিরোধ গড়েছিলেন। বিরতির পর দুজনে এসে লড়াই করতে থাকেন। এগোচ্ছিলেন সাবলীলভাবে। হঠাৎ আউট হন হাসান। ১৯ রানে হাসান আউট হলে ভাঙে জাকেরর সঙ্গে গড়া জুটি। এরপর জাকেরও ফেরেন ২৮ রানে। এই জুটি ভাঙার পর বাংলাদেশ মাত্র ৪ রান করতে পারে। দ্বিতীয় সেশনে ৫ উইকেট হারিয়ে মূলত বাংলাদেশের ছন্দপতন ঘটে। সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন মমিনুল হক। ৪০ আসে শান্তর ব্যাট থেকে। সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন মুজারাবানি-মাসাকাদজা।

৭ উইকেট হারিয়ে ধুকছে বাংলাদেশ

৭ উইকেট হারিয়ে ধুকছে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম সেশনটা ভালো কাটলেও, দ্বিতীয় সেশনে বিপদে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৪ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় টাইগাররা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ  ৫৬ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮২রান। প্রথম সেশনে ২ উইকেটে ৮৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে ৫ উইকেট হারিয়ে ৭০ রান যোগ করতে পারে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩১ রানের সূচনা করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। এরপর ১ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফিরেন জয় ও সাদমান। নবম ওভারের চতুর্থ বলে জিম্বাবুয়ের পেসার ভিক্টর নিয়ুচির বলে আউট হন ১টি চারে ১২ রান করা সাদমান। ১১তম ওভারের চতুর্থ বলে নিয়ুচির দ্বিতীয় শিকার হন জয়। ২টি চারে ১৪ রান করেন জয়। ৩২ রানে ২ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন মোমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে ১২৮ বল খেলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন তারা। ৬টি চারে ৪০ রান করেন শান্ত। পাঁচ নম্বরে নেমে ৪ রানে আউট হন মুশফিকুর রহিম। এরপর ১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় মোমিনুল ৫৬, মেহেদি হাসান মিরাজ ১, তাইজুল ইসলাম ৩ রানে আউট হন। ১৪৬ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর দ্বিতীয় সেশনে আর কোন উইকেট পড়তে দেননি জাকের আলি ও হাসান মাহমুদ। জাকের ২৭ ও হাসান ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। জিম্বাবুয়ের ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৩টি, ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিয়ুচি ২টি করে উইকেট নেন।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পাকিস্তানকে ১৭৯ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পাকিস্তানকে ১৭৯ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ টানা তিন জয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচ গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারল তারা। ফলে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই বিশ্বকাপে যাবে, এই সমিকরণ নিয়ে খেলতে নেমেছে নিগার সুলতানার দল। কিন্তু ভালো সংগ্রহ তুলতে পারেনি তারা। আজ লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে টস জিতে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে তারা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে করেছে ১৭৮ রান। তৃতীয় ওভারে ফারজানা হককে হারিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের ইনিংস। অভিজ্ঞ এই ওপেনার ফেরেন শূন্য রানে। আরেক ওপেনার দিলারাও ভালো করতে পারেননি। ১৩ রানে উইকেট হারান তিনি। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন নিগার সুলতানাও। টাইগ্রেস অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে স্রেফ ১ রান। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়েন শারমিন ও রিতু মনি। দুজনে যোগ করেন ৪৪ রান। শারমিন ২৪ রানে ফিরলে ভেঙে যায় এই জুটি। এরপর নাহিদার সঙ্গে ফের ৪৪ রানের জুটি গড়েন রিতু। তবে ফিফটির আগেই উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। ৪৮ রানে হারান উইকেট। আর নাহিদার ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। শেষদিকে লড়ে যান ফাহিমা খাতুন। তাকে সঙ্গ দিতে এসে বাকিরা দ্রুত উইকেট হারালেও তিনি থেকে যান অপরাজিত। ৫৩ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার।

চোটে ফিলিপস, গুজরাটে তার বদলি শানাকা

চোটে ফিলিপস, গুজরাটে তার বদলি শানাকা গ্লেন ফিলিপসের চোটের কারণে কপাল খুলল শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার দাসুন শানাকার। আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ডাক পেয়েছেন তিনি। ৭৫ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্যেই তাকে কিনে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্জাইজিটি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে গিয়ে কুঁচকিতে চোট পান ফিলিপস। যে কারণে দশ দিন আগেই ছিটকে যেতে হয়েছে তাকে। ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডে উড়াল দিয়েছেন দুর্দান্ত ফিল্ডিং করা এই কিউই অলরাউন্ডার। শানাকা এর আগেও খেলেছেন গুজরাটের হয়ে। ২০২৩ সালে দলটির হয়ে তিন ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২৬ রান। আগামীকাল দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে মাঠে নামবে গুজরাট। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা দিল্লির বিপক্ষে শানাকা একাদশে থাকবেন কিনা তা দেখা যাবে কালকেই।

বিক্রি হয়নি বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ মিডিয়া স্বত্ব

বিক্রি হয়নি বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ মিডিয়া স্বত্ব বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। তাই এই দু’দলের মধ্যকার আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভি। গতকাল বিটিভির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল সিলেট টেস্ট দিয়ে শুরু হতে যাওয়া সিরিজটির জন্য মিডিয়া স্বত্ব অংশীদার পেতে ভুগছিল বিসিবি। সেই সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির জন্য গত ১৯ মার্চ আর্থিক প্রস্তাবনা ও এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্টসহ (ইওআই) উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেছিল বিসিবি। কিন্তু ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে কোনো দরপত্র পায়নি তারা।

তানভীরের ঘূর্ণির পর সাইফ-সৌম্যর ব্যাটে মোহামেডানের হার

তানভীরের ঘূর্ণির পর সাইফ-সৌম্যর ব্যাটে মোহামেডানের হার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) সুপার লিগে নিজের প্রথম ম্যাচে হার দেখেছে শিরোপার অন্যতম দাবিদ্বার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এই হারে দুইয়ে থেকে সুপার লিগে আসা মোহামেডানের হারে শিরোপার রেসে পিছিয়ে যায় মোহামেডান। তানভীর ইসলামের ঘূর্ণি জাদু আর সাইফ হাসান-সৌম্য সরকারের ব্যাটে ভর করে বৃষ্টি বিঘ্নিত এই ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। মিরপুর শের-ই-বাংলায় টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ২৯.১ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৭ রান করে মোহামেডান। বৃষ্টির বাধায় সাদাকালো ক্লাবটি আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারেনি। চার ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে বৃষ্টি আইনে রূপগঞ্জের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২২ ওভারে ৯৩ রান। ১৩.১ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মোহামেডান। সাইফ হাসান ৪৪ বলে ৫৫ ও সৌম্য সরকার ৩৩ বলে ৩৬ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। প্রথম ওভারেই শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম। এরপর আর উইকেট ফেলতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে উইকেটের মিছিলে শুরু থেকে ধুঁকতে থাকে মোহামেডান। ১০০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন আনিসুল ইসলাম। আর কেউ বিশের বেশি রান করতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১২ রান। তিনিও দায়িত্ব নিতে পারেননি। রূপগঞ্জের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন তানভীর। ২ উইকেট নেন চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান নেন ২ উইকেট। ১ উইকেট করে নেন শরিফুল ইসলাম-টিপু সুলতান।

বিশ্বকাপে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশর সংগ্রহ ২২৭

বিশ্বকাপে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশর সংগ্রহ ২২৭ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উড়ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। টানা তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে তারা। তবে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছে নিগার সুলতানার দল। শুরুটা ভালো করলেও শেষদিকে দ্রুত উইকেট হারায় তারা। যদিও লড়ার মতোই সংগ্রহ হয়েছে তাদের। আজ লাহোর সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২২৭ রান। এই রান ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাড়া না করতে পারলে ফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে বিশ্বকাপও নিশ্চিত করবে তারা। বাংলাদেশের শুরুটা হয় সোবহানা মোস্তারিকে (৬) হারিয়ে। এই ধাক্কা অবশ্য সামলে নেন ফারজানা হক ও শারমিন আক্তার। দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ১১৮ রানের জুটি। তবে ২৮তম ওভারে ফারজানাকে বিদায় করে এই জুটি ভেঙে দেন আলিয়া অ্যালেইন। ৪২ রানে ফেরেন বাংলাদেশি ওপেনার। এদিকে ৫৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করে নেন শারমিন। এরপর ইনিংস খুব বেশি লম্বা করতে পারেননি। ৭৯ বলে ১০ চারে ৬৭ রান করে বিদায় নেন তিনি। চারে নামা নিগার সুলতানা ব্যর্থ হন আজ। তার ব্যাট থেকে আসে স্রেফ ৫ রান। এরপর দ্রুত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে লড়েন নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান। নাহিদা ২৫ রান করে উইকেট হারালেও রাবেয়া ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৪ উইকেট নেন অ্যালেইন। দুটি করে উইকেট নেন হেইলি ম্যাথিউস ও আফি ফ্লেচার।

অশ্রুসিক্ত চোখে আবারও মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেইমারকে

অশ্রুসিক্ত চোখে আবারও মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেইমারকে সান্তোসে আজ বিশেষ ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ক্লাবটির মাঠে নিজের ১০০তম ম্যাচ রাঙাতে শুরুর একাদশেই ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। তবে এই উপলক্ষ রাঙানোর আগেই পুরোনো চোট ঝেঁকে বসল। অশ্রুসিক্ত চোখেই ছাড়তে হলো মাঠ। নেইমারের এই বিশেষ ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা কম ছিল না ভক্ত-সমর্থকদেরও। গ্যালারিতে তারা ভিড় করে এই ব্রাজিলিয়ানের ম্যাজিক দেখার জন্য। তবে আতলেতিকো মিনেইরোর বিপক্ষে নামার আগে দেখা যায় দুই উরুতেই টেপ পেচিয়েছেন তিনি। ৩৪তম মিনিটে গিয়ে খান বড় ধাক্কা। বাঁ উরুতে হাত রেখে খোড়াতে থাকেন তিনি। বদলির জন্য নির্দেশ করেন মাঠ থেকেই। তখন বসেই পড়েন তিনি।  এরইমধ্যে তার চোখ দিয়ে পানি গড়াতে দেখা যায়। ভক্তরাও নিশ্চুপ হয়ে পড়েন। তাকে সান্ত্বনা দিতে থাকেন গ্যালারি থেকেই। কিন্তু আর উঠতে পারেননি। দুজনের সহায়তায় কার্টে বসে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। সেসময় দর্শকরা বিপুল করতালিতে সাহস দেন নেইমারকে। পরে ডাগআউটে কাঁদতে দেখা যায় নেইমারকে। পায়ে বরফ লাগিয়ে বসে থাকেন তিনি। নেইমারের এই চোট নিত্যদিনে সঙ্গী। এই কারণেই আল হিলাল ছাড়তে হয়েছে তাকে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসের হয়ে মাঠে নামেন তিনি। এরপর টানা সাত ম্যাচ খেলেন এই ব্রাজিলিয়ান। গত ২ মার্চ করিঞ্চাসের বিপক্ষে চোটে পড়েন আবার। ছয় সপ্তাহ পর ফের মাঠে ফেরেন তিনি। তবে সুখকর হয়নি এবারের প্রত্যাবর্তনও। আনুষ্ঠানিকভাবে চোটের বিষয়ে এখনও জানা যায়নি কিছুই।