প্রথমবার বিগ ব্যাশে বাবর আজম

প্রথমবার বিগ ব্যাশে বাবর আজম বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাট হাতে বহুবার তোলপাড় করা বাবর আজম এবার অস্ট্রেলিয়ার জমজমাট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) পা রাখতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন গুঞ্জনের পর অবশেষে এই পাকিস্তানি তারকাকে নিজেদের স্কোয়াডে টেনে নিয়েছে সিডনি সিক্সার্স। নতুন মৌসুমে (২০২৫) তাকে দেখা যাবে গোলাপি জার্সিতে। এটাই বাবরের প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশে খেলার অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। সিডনি সিক্সার্সের সঙ্গে তার এই চুক্তিটি হয়েছে প্রি-সাইনিং অপশনের মাধ্যমে, যেখানে প্রতিটি দল আন্তর্জাতিক ড্রাফট শুরুর আগেই একজন বিদেশি ক্রিকেটারকে দলে নিতে পারে। ১৯ জুন শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ড্রাফটের আগেই সিক্সার্স বাবরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাবরের মতো বিশ্বমানের অভিজ্ঞ একজন টপ অর্ডার ব্যাটারকে পাওয়ার অর্থই হলো দলে গভীরতা ও ভারসাম্য বাড়ানো। এই তারকার সঙ্গে একই দলে থাকছেন স্টিভ স্মিথ, শন অ্যাবটের মতো অভিজ্ঞ অজি খেলোয়াড়রা, যা দলের শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। গত মৌসুমে একমাত্র সিডনি সিক্সার্সই ছিল এমন দল, যারা কোনো বিদেশি তারকাকে আগেভাগে দলে নেয়নি। এবার তারা সেই ঘাটতি পূরণ করল বাবরের মতো একজন ক্রিকেট সেনসেশনকে নিয়ে।তবে বাবরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকবার। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে তার জায়গা এখন অনিশ্চিত, ব্যাটেও অনুজ্জ্বল সময় কাটছে। তবু, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন এই চ্যালেঞ্জ বাবরের জন্য এক নতুন দরজা খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।চুক্তির পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় বাবর জানান, “এটা আমার জন্য দারুণ এক সুযোগ। বিগ ব্যাশ বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি লিগ এবং সিডনি সিক্সার্স একটি সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই দলে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। আমি চাই দলের জয়ে অবদান রাখতে, ভক্তদের ভালোবাসা কুড়াতে এবং এই অভিজ্ঞতা আমার পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে।” অস্ট্রেলিয়ায় বাবরের প্রথম আগমনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই পাকিস্তানি ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে। অনেকেই বলছেন, হয়তো এটাই সেই ‘নতুন শুরু’, যেটা বাবরের ক্যারিয়ার আবার উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।
নতুন যাত্রায় পুরনো অভিজ্ঞতার আলোয় পথ চলতে চান মিরাজ

নতুন যাত্রায় পুরনো অভিজ্ঞতার আলোয় পথ চলতে চান মিরাজ বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আজ দায়িত্ব পেয়ে প্রথবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন। সেখানে তিনি কীভাবে কাজ করবেন, নেতৃত্বে কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে চান, তরুণদের কিভাবে কাজে লাগাবেন, কোন অভিজ্ঞতা তাকে পথ দেখাবে সেটা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে কথা বলেন নতুন এই অধিনায়ক। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা না থাকলেও দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা মিরাজকে তৈরি করেছে। তিনি জানান, “বাংলাদেশ দলে (ওয়ানডেতে) আমার অভিষেক হয়েছিল মাশরাফি ভাইয়ের অধীনে। আমি (খেলোয়াড় হিসেবে) অনেক অধিনায়ককে পেয়েছি। এটা আমার জন্য ভালো লাগার বিষয় যে তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। যেটা আমি হয়তো আমার এই অধিনায়কত্বের সময়ে কাজে লাগাতে পারব।” তিনি আরও বলেন, “তারা যেভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন, শক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন, সে জিনিসগুলো আমি অনুসরণ করেছি যে কীভাবে নিতেন। অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতিতে শক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় নিজের। অনেক সময় পক্ষে আসবে, অনেক সময় আসবে না। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত কীভাবে নিচ্ছি, সেটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।” নেতৃত্বে যেমন অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করা। সেই দিকটাও ভেবেছেন মিরাজ, “যারা জুনিয়র আছে, তাদেরকে অবশ্যই পারফর্ম করতে হবে ওই পরামর্শগুলো দেব। আমরা যখন প্রথমে ঢুকেছিলাম, বড় ভাইয়েরা আমাদেরকে যেভাবে সাহায্য করেছে, চেষ্টা করব ওভাবে সাহায্য করার জন্য। ড্রেসিংরুমটাকে ওভাবে রাখার জন্য। যেন যেই ড্রেসিংরুমে থাকে না কেন, সে যেন অনুভব না করে আমি একা, আমার সঙ্গে সবাই আছে।”নেতৃত্বের ভার গ্রহণ করে শুধু মাঠের দায়িত্ব নয়, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ গঠন ও ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরির কথা বললেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার দেখার পালা, এই তরুণ নেতার হাতে ওয়ানডে দলে কতটা বদল আসে।
বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমে গেছে, ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার ক্রীড়াঙ্গন

বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমে গেছে, ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার ক্রীড়াঙ্গন ওমানের বিপক্ষে ড্রয়ের মাধ্যমে শেষ হয়ে গেছে ফিলিস্তিনের বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বপ্নযাত্রা। মাঠের লড়াইয়ের পরিসমাপ্তির সময় গাজায় মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ।যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, তারা আবার মাঠে ফিরতে পারলেও তাতে লাগবে অন্তত এক দশক। খান ইউনুসে নিজের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরের ভেতর ৭৫ বছর বয়সী শাকের সাফি হাত বুলিয়ে দেখছিলেন তার ছেলে মোহাম্মদের পুরনো ছবি। মোহাম্মদের হাতে গড়া জুনিয়র ফুটবল দলের ট্রফি, মেডেল, দলের হাডল করা মুহূর্তের ছবি—সব এখন স্মৃতিচিহ্ন, এক অসমাপ্ত স্বপ্নের নীরব সাক্ষী।২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর, ইসরায়েলি এক বিমান হামলায় নিহত হন মোহাম্মদ সাফি—একজন ফুটবল কোচ এবং শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক। গাজার স্কুল ও স্থানীয় ক্লাবে বছরের পর বছর ধরে কিশোর ফুটবলারদের গড়ে তুলেছিলেন তিনি। আল-আকসা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারীরিক শিক্ষায় স্নাতক মোহাম্মদ ছিলেন দক্ষিণ গাজার আল-আমাল ফুটবল ক্লাবের প্রধান কোচ। ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের মাঝে তার সুনাম ছিল অপরিসীম।শাকের বলেন, “আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করার। সে বিশ্বাস করত—খেলা তরুণদের হতাশা থেকে বের করে আনতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ তার আগেই থামিয়ে দিল তাকে। ”মোহাম্মদের স্ত্রী নীরমীন ও তাদের চার সন্তান—শাকের জুনিয়র (১৬), আমির (১৪), আলমা (১১) ও তাইফ (৭)—আজ শূন্যতা আর কষ্ট নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদের কাছে বাবার শেষ ফুটবল, কোচিংয়ের নোটবইই এখন একমাত্র সম্বল। ছোট্ট তাইফ যখন জিজ্ঞাসা করে, “আমাদের কাছ থেকে বাবাকে কেন কেড়ে নিল ওরা?” তখন মায়ের চোখে জল ঝরে।“সে রাজনীতিবিদ ছিল না, স্বপ্নবাজ ছিল,” বলেন নীরমীন। “আন্তর্জাতিক রেফারি হতে চেয়েছিল, মাস্টার্স করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে মেরে ফেলা হলো, কারণ সে ছিল জীবনের প্রতীক। ” খেলাধুলার বদলে এখন শুধু বেঁচে থাকার লড়াই, গাজায় যারা এখনও বেঁচে আছে, তাদের কাছে খেলাধুলা এখন বিলাসিতা। বেঁচে থাকাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।২০ বছর বয়সী ইউসুফ আবু শাওয়ারিব, রাফাহর প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের গোলরক্ষক। মে ২০২৪-এ নিজের ঘর ছেড়ে আশ্রয় নেন খান ইউনুস স্টেডিয়ামে—যেখানে একসময় খেলতেন ম্যাচ।আজ সে মাঠে নেই ফুটবলারের ছায়া, বরং সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শরণার্থীদের তাঁবু।“এই জায়গায় আমার কোচ আমাকে ম্যাচের আগে ব্রিফ করতেন। এখন আমি এখানে পানির জন্য অপেক্ষা করি, কিক অফের জন্য নয়,” বলেন ইউসুফ। আজ তার রুটিন কেবল মাঝেমধ্যে নিজের তাঁবুতে হালকা অনুশীলন। জার্মানিতে খেলার স্বপ্ন কিংবা খেলাধুলা নিয়ে উচ্চশিক্ষার চিন্তা—সব এখন অতীত।ধ্বংসের মাঝেও কিছু আশা টিকে আছে। ফিলিস্তিনের অ্যাম্পিউটি ফুটবল দলের প্রধান কোচ শাদি আবু আরমানা যুদ্ধের আগে ছয় মাসব্যাপী একটি প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা করেছিলেন।তার ২৫ জন খেলোয়াড় ও পাঁচ সদস্যের কোচিং স্টাফ নিয়ে দলটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। ২০১৯ সালে তারা ফ্রান্সে অংশ নিয়েছিল, আবার ২০২৩ সালের নভেম্বর ও ২০২৫ সালের অক্টোবরের জন্য পরিকল্পনা ছিল।“এখন তো একসঙ্গে জড়ো হওয়াটাই সম্ভব না,” বলেন শাদি। “সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে—হোম, মাঠ, গিয়ার, কিছুই নেই। খেলোয়াড়দের অনেকেই পরিবারের সদস্য হারিয়েছে, কেউ কেউ নিজের বাড়িও। ” তিনি বলেন, “যুদ্ধ থেমে গেলেও, আমরা যা হারিয়েছি তা ফিরিয়ে আনতে বছর লাগবে। এটা শুধু থেমে যাওয়া নয়, এটা একেবারে ‘মুছে ফেলা’। ফিলিস্তিন অলিম্পিক কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আসআদ আল-মাজদালাওয়ি বলেন, গাজার ক্রীড়াব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে। কমপক্ষে ২৭০টি ক্রীড়া স্থাপনা আঘাতপ্রাপ্ত, যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ৮১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। “গাজার ক্রীড়া অবকাঠামোর প্রতিটি স্তরে হামলা হয়েছে—অলিম্পিক অফিস, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রম—সবকিছু,” বলেন আল-মাজদালাওয়ি। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়ন নাঘাম আবু সামরা, ১৯৯৬ সালের অলিম্পিকে পতাকা বহনকারী মাজেদ আবু মারাহিল, জাতীয় ফুটবল কোচ হানি আল-মাসদার এবং অ্যাথলেটিকস কোচ বিলাল আবু সামান। “এটা শুধু ক্ষতি নয়, এটা এক ধরনের নির্মূল প্রক্রিয়া,” বলেন আল-মাজদালাওয়ি। “প্রতিটি খেলোয়াড় ছিল একেকটি কমিউনিটির স্তম্ভ। তারা সংখ্যা নয়, তারা প্রতীক ছিল—আশা, ঐক্য ও সংগ্রামের প্রতীক। ” আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতা আর সহনীয় নয়, আল-মাজদালাওয়ির মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠনগুলো শুধু নীরবই নয়, বরং একপ্রকার দায় এড়িয়ে চলেছে। তিনি বলেন, “প্রাইভেটভাবে অনেকে সমবেদনা প্রকাশ করে, কিন্তু সিদ্ধান্তের স্তরে এসে ইসরায়েল যেন আইনের ঊর্ধ্বে। খেলাধুলার নিয়ম বা মানবাধিকার—সবই এখানে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। ” তিনি বলেন, “আমরা ১৯৯৪ সাল থেকে এই ক্রীড়া কাঠামো গড়ে তুলেছি। জ্ঞানের স্তর, পেশাদারি, অবকাঠামো—সব ছিল। এখন তা কয়েক মাসেই ধ্বংস হয়ে গেছে। ” যুদ্ধ এখনও চলছে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তবুও শাকের সাফি, ইউসুফ, শাদি—তারা সবাই বিশ্বাস করেন, একদিন খেলাধুলা আবার হয়ে উঠবে তাদের অস্তিত্ব, আশা আর জীবনের পরিচয়। “এখন তো শুধু কামনা করি, আগামীকাল যেন খাওয়ার কিছু পাই,” বলেন ইউসুফ। “যুদ্ধ শুধু মাঠ ভাঙেনি, আমাদের ভবিষ্যৎও গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ” তিনি যখন পোড়া স্টেডিয়ামের দিকে তাকান, তখন তা শুধুই সাময়িক আশ্রয় নয়—একটা জাতিগত ‘মুছে ফেলার’ প্রতীক।
ফিফা র্যাংকিংয়ে বড় লাফ বাংলাদেশের মেয়েদের

ফিফা র্যাংকিংয়ে বড় লাফ বাংলাদেশের মেয়েদের নারী ফুটবলের র্যাংকিং প্রকাশ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। যেখানে ৫ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। মার্চে প্রকাশিত র্যাংকিংয়ে ১৩৩ নম্বরে ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ প্রকাশিত র্যাংকিংয়ে ১২৮ নম্বরে উঠে এসেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। বাংলাদেশের মেয়েরা মে মাসে নারী ফিফা উইন্ডোতে জর্ডানে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে। স্বাগতিক জর্ডান ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ড্র করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যথাক্রমে ৩৯ ও ৫৯ ধাপ এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়া ও জর্ডানকে রুখে দেওয়ায় বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং পয়েন্ট ১০৯২ থেকে বেড়ে ১০৯৯.৩৬ হয়েছে। এতেই ৫ ধাপ উন্নতি হয়েছে র্যাংকিংয়ে। নারী র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবারের র্যাংকিংয়ে সর্বোচ্চ ৭ ধাপ উন্নতি হয়েছে মিশরের। সবচেয়ে বেশি ৫ ধাপ অবনমন সংযুক্ত আরব আমিরাতের। র্যাংকিংয়ের শীর্ষ পাঁচে আছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, জার্মানি, ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড।চার ধাপ উন্নতি করে ব্রাজিলের মেয়েরা চার নম্বরে এবং এক ধাপ পিছিয়ে পাঁচে নেমেছে ইংল্যান্ড। দুই ধাপ পিছিয়ে জাপান সাত, এক ধাপ পিছিয়ে কানাডা আট এবং এক ধাপ এগিয়ে ফ্রান্সের মেয়েরা ১০ নম্বরে উঠেছে।
মেসিকে তুলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন স্কালোনি

মেসিকে তুলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন স্কালোনি দল তখনও পিছিয়ে, গোলের খোঁজে মরিয়া আর্জেন্টিনা। ঠিক এমন এক মুহূর্তে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হলো লিওনেল মেসিকে! কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনির এমন সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন অনেকেই। তবে ম্যাচ শেষে স্কালোনি জানালেন, সিদ্ধান্তটা একান্তই মেসির ইচ্ছে মতো হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে নিজেদের মাঠে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৫তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াস। ৭৮তম মিনিটে তখনও ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা, আর ঠিক তখনই মেসিকে তুলে এসেকিয়েল পালাসিওসকে মাঠে নামান স্কালোনি। সবচেয়ে বড় চমক ছিল এই বদলিতেই। চোট না থাকলে সাধারণত পুরো ম্যাচ খেলা মেসিকে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময় তুলে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে কোচ জানালেন, সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি মেসির সম্মতিতেই। স্কালোনির ভাষ্য, ‘সে সাধারণত মাঠ ছাড়ে না। কিন্তু যখন দেখল আমরা দুটি পরিবর্তন আনছি, তখন সে নিজেই বলল, তাকে তুলে নেওয়াই ভালো হবে। তাই আমরা তাকে পরিবর্তন করি। না হলে আমি কখনোই এমন করতাম না। আপনারা জানেন, আমি এসব বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিই। ’মেসির মাঠ ছাড়ার তিন মিনিট পরই থিয়াগো আলমাদার দারুণ এক গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। গত মার্চে চোটের কারণে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে পারেননি মেসি। তবে ওই দুই ম্যাচ জিতে মূলপর্বের টিকিট নিশ্চিত করে নেয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই মাসের বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে জয় পাওয়া ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের দায়িত্ব শেষ করে এখন ক্লাব ফুটবলে মনোযোগ দেবেন ৩৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার সকালে আল আহলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামি।
টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের দুইয়ে আদিল রশিদ

টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের দুইয়ে আদিল রশিদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন আদিল রশিদ। টি-টোয়েন্টি বোলারদের আইসিসি র্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফির পেছনে এখন মাত্র ১৩ রেটিং পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন ইংলিশ লেগ স্পিনার। আইসিসির সর্বশেষ সাপ্তাহিক হালনাগাদে দেখা যায়, ডাফির রেটিং পয়েন্ট ৭২৩, আর রশিদের ৭১০। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও টি-টোয়েন্টির শীর্ষ বোলার ছিলেন রশিদ। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করতে বড় ভূমিকা ছিল তার। শেষ ম্যাচে ৩০ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি আগের দুটি ম্যাচেও একটি করে উইকেট নেন তিনি। এই পারফরম্যান্সে তিনি র্যাংকিংয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও ভারুন চক্রবর্তীকে ছাড়িয়ে যান। ইংল্যান্ডের আরেক পেসার ব্রাইডন কার্স তিন ম্যাচে দুটি উইকেট নিয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৫২তম স্থানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার উন্নতি করেছেন ৩ ধাপ, অবস্থান করছেন ৬৬তম স্থানে (যৌথভাবে)। ব্যাটিং র্যাংকিংয়েও এসেছে বড় পরিবর্তন। টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। তবে ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দিয়েছেন সবচেয়ে বড় লাফ। শেষ ম্যাচে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে এক ধাক্কায় ৪৮ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১৬তম স্থানে। হ্যারি ব্রুক ৬ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৮ নম্বরে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শাই হোপ ১৪ ধাপ উন্নতি করে এখন আছেন ১৫তম স্থানে। শেষ ম্যাচে ৭৯ রান করে র্যাংকিংয়ে ৮ ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে এসেছেন রভম্যান পাওয়েল।
প্রাণান্তকর চেষ্টার পরও হারলো বাংলাদেশ

প্রাণান্তকর চেষ্টার পরও হারলো বাংলাদেশ এএফসি বাছাইপর্বের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলো বাংলাদেশ।ম্যাচের আগে বাংলাদেশের হামজা-সমিত-ফাহামেদুলরা যেমন আলোচনায় ছিলেন, ঠিক তেমনি স্বাগতিকদের জন্য ভয়ের কারণ ছিলেন সিঙ্গাপুরের ইখসান ফান্দি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সেই ফান্দি-ই দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করলেন। দীর্ঘদিন পর জাতীয় স্টেডিয়ামে ফুটবল ফিরেছে। ঘরের মাঠে ফুটবল ফেরার ম্যাচে অবশ্য গত ৪ জুন ভুটানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে গড়বড় করে ফেললেন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। জাতীয় স্টেডিয়ামে যে ম্যাচটি নিয়ে ছিলো চরম উত্তেজনা, সেই ম্যাচটাই হেরে গেলো স্বাগতিকরা। আজকের এ ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের মাঝে উন্মাদনা ছিলো অনেক আগে থেকেই। কেননা, ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কিছুই বটে। কানাডা প্রবাসী সমিত সোমের অভিষেক হয়েছে এই ম্যাচে। অন্যদিকে হামজা চৌধুরী, ফাহামেদুল ইসলামের মতো খেলোয়াড় দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় রাতারাতি পাল্টে গেছে বাংলাদেশ দল। ক’দিন আগেও কী এত শক্তিশালী ছিলো বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল, নিশ্চই না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলার হামজা চৌধুরী বাংলাদেশ দলে যোগ দেওয়ার পরেই যেনো দর্শকদের উন্মাদনা বেড়ে গেলো বহু গুণ। তারপর যোগ দিলেন ইতালির লিগে খেলা ফাহামেদুল ইসলাম ও কানাডার লিগে খেলা সমিত সোম। আর তার সঙ্গে সঙ্গে সমর্থকদের প্রত্যাশাও যেনো বেড়ে গেলো আরও কয়েকগুণ। তবে সমর্থকদের সেই প্রত্যাশায় যেনো গুড়ে বালি। বাংলাদেশের ফুটবল মাঠে এমন দৃশ্য ঠিক কবে দেখেছেন, হয়তো মনেও নেই। এত দর্শক সবশেষ কোন ম্যাচে হয়েছিলো, তাও হয়তো খেয়াল করতে পারবেন না। বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচে সমর্থকরা যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলেন মাঠে খেলা দেখতে, তাদের সেই প্রত্যাশা অবশ্য পূরণ হয়নি। সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। আবার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একটা গোল হজম করে স্বাগতিকরা। গ্যালারি তখন একেবারে নিশ্চুপ। সেই নিরবতা ভাঙলো ম্যাচের ৬৭ মিনিটে। দর্শকদের সে কি চিৎকার, একেবারে গলা ফাটানো। কারণটা হলো, হামজার বাড়ানো বল থেকে সিঙ্গাপুরের গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে গোল করেন রাকিব হোসেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছে সিঙ্গাপুর। বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগও তৈরি করেছে, তবে তা কাজে আসেনি। সময়ে সময়ে আবার বাংলাদেশও নাড়া দিয়েছে সিঙ্গাপুরের ঘরে। মাঝেমধ্যে ফাহামেদুল-সমিতরাও ভীতি ধরিয়েছেন প্রতিপক্ষের মনে। ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণে ঢুকে পড়ে সিঙ্গাপুর। গোলকিপার মিতুল বল ফিস্ট করতে গিয়ে পারেননি। বক্সের মধ্য থেকে হেড দিয়ে সিঙ্গাপুরের একজন বল দেন ডান দিকে। সেখান থেকে তিনি বল দেন বাঁ পাশে। শট নেন সিঙ্গাপুরের সং উই ইয়াং। হামজা চৌধুরী অনেক দূর থেকে দৌড়ে এসে গোল বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারেননি। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের ডেরায় বেশ কয়েকবার হানা দিয়েছিলো সমিত-ফাহামেদুলরা। তবে বাংলাদেশের আক্রমণের উৎস যেনো সমিত সোম। প্রথমার্ধে কমপক্ষে পাঁচটি আক্রমণের উৎস ছিলেন সমিত। কিন্তু তার দারুণভাবে বাড়ানো পাসগুলো কাজে লাগাতে পারেননি রাকিব-ফাহামেদুলরা। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে বড় বাঁচা বেঁচে যায় বাংলাদেশ। সতীর্থের ক্রস থেকে দারুণ এক হেড করেছিলেন ইখসান ফান্দি। তবে পোস্ট ঘেঁষে সেটি বেরিয়ে যায়। খেলার প্রথম ২০ মিনিটে আক্রমণে এগিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। ফাহামেদুল ইসলাম ও শাকিল আহাদ একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু রাকিব হোসেন কাজে লাগাতে পারেননি। পাল্টা আক্রমণে সিঙ্গাপুরও দুটি সুযোগ তৈরি করেছিলো। তারাও সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ইকসান ফান্দি। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া সিঙ্গাপুরের এক ফরোয়ার্ডের শট বাংলাদেশের গোলকিপার মিতুল ঠেকালেও ভালোভাবে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বক্সের মধ্যেই বল পেয়ে যান ফান্দি। দূরের পোস্টে তার নেওয়া শট ঠেকাতে পারেননি মিতুল মারমা। ৬৭ মিনিটে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরীর বাড়ানো বল পেয়ে সিঙ্গাপুরের গোলকিপারকে বোকা বানান রাকিব হোসেন। শেষ ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডেরায় একের পর এক আক্রমণ করেছে স্বাগতিকরা। হামজা-সমিতদের আক্রমণ ঠেকাতে রীতিমতো ঘাম ঝরেছে সফরকারীদের। তবে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাদের।
২৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরানের অবসর

২৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরানের অবসর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন নিকোলাস পুরান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠা এই বাঁহাতি বোর্ডকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন ইতোমধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত-সমর্থকদের জন্য দিয়েছেন আবেগঘন বার্তাও। পুরান এমন সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন, যখন তার সামনে এখনও অনেক বছর খেলার সুযোগ ছিল। সম্প্রতি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩৬ বছর বয়সে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন, হেনরিখ ক্লাসেনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেন ৩৩ বছর বয়সে। সেখানে পুরানের বিদায় যেন আরও বেশি প্রশ্ন ছুড়ে দিল ক্রিকেট ভক্তদের মনে। তার বিদায়ের পেছনে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অতিমাত্রায় ব্যস্ততাকে। বিশ্বের নানা প্রান্তে বছরজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগে খেলে বেড়ানো এই ব্যাটসম্যান অনেকদিন ধরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে ছিলেন। এমনকি চলতি ইংল্যান্ড সফরেও ছিলেন না স্কোয়াডে। তখন দলের অধিনায়ক শাই হোপ বলেছিলেন, আপাতত না খেললেও ভবিষ্যতে পুরানকে বিবেচনায় রাখা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কেবল এই সফর নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধ্যায়ই শেষ করে দিলেন পুরান। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল পুরানের। তবে শুরুটা ছিল হতাশাজনক। তিন ম্যাচ ব্যর্থতার পর তিনি দলের বাইরে চলে যান। এরপর দুই বছরের বেশি সময় অপেক্ষার পর ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামেন আবার। মাঠে ফিরেই নিজেকে প্রমাণ করেন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে। অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে ওঠেন ক্যারিবিয়ান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সীমিত ওভারে দলের সেরা পারফর্মার হিসেবে। টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, সর্বোচ্চ রান ও সবচেয়ে বেশি ছক্কার মালিক তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০৬ ম্যাচে ২ হাজার ২৭৫ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৩৯। ক্যারিয়ারে ১৩টি ফিফটি করেছেন, সর্বোচ্চ ইনিংস ৯৮ রানের। ওয়ানডেতে ২০১৯ সালে অভিষেকের পর ৬১ ম্যাচে করেছেন ১ হাজার ৯৮৩ রান, গড় ৩৯.৬৬ এবং স্ট্রাইক রেট প্রায় ১০০। রয়েছে ৩টি সেঞ্চুরি ও ১১টি ফিফটির ইনিংস। মূলত উইকেটরক্ষক হলেও মাঝে মাঝে হাত ঘুরিয়ে নিয়েছেন উইকেটও। ওয়ানডেতে রয়েছে ৬টি উইকেট। নেতৃত্ব দিয়েছেন ওয়ানডেতে ১৭ ও টি-টোয়েন্টিতে ২৩ ম্যাচে। বিদায়বার্তায় পুরান জানিয়েছেন, অনেক ভাবনার পরই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘অনেক চিন্তা ও ভেবে দেখার পর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের ভালোবাসার এই খেলাটি আমাকে এতকিছু দিয়েছে এবং দিয়ে যাবে। আনন্দ, অভিপ্রায়, অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান। ’ ‘মেরুন জার্সি গায়ে চাপানো, জাতীয় সংগীতের জন্য মাঠে দাঁড়ানো এবং মাঠে নামার পর নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া। এসব আমার জন্য কতটা, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়াও ছিল অনেক বড় সম্মান এবং সবসময় তা আমার হৃদয়ের খুব কাছে থাকবে। ’ তিনি আরও জানান, ‘যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্য আমার ভালোবাসা মিইয়ে যাবে না। সামনের পথচলার জন্য এই দল ও এই অঞ্চলের প্রতি আমার কেবল শুভকামনাই থাকবে। ’পুরান অবসরের ঘোষণা দিলেও ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ইতিহাস বলে, ভবিষ্যতে বড় কোনো আসর বা বিশ্বকাপে অবসর ভেঙে খেলায় ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ডোয়াইন ব্রাভো, আন্দ্রে রাসেলদের মতো তাকেও হয়তো আবার দেখা যেতে পারে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। তবে আপাতত পুরানের পথচলায় বিশ্রামের ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা, বিশেষ করে যখন তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের হারানো গৌরব খুঁজে পেতে।
আইসিসি ‘হল অব ফেমে’ একসঙ্গে সাত কিংবদন্তি

আইসিসি ‘হল অব ফেমে’ একসঙ্গে সাত কিংবদন্তি ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের সম্মানে অনন্য এক সন্ধ্যা দেখা গেল লন্ডনের ঐতিহাসিক অ্যাবি রোড স্টুডিওসে। ‘আ ডে উইথ দ্য লেজেন্ডস’ শিরোনামে আয়োজনটি স্মরণীয় হয়ে থাকল ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে। আইসিসি তাদের ‘হল অব ফেম’-এ এবার একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করল সাতজন কিংবদন্তিকে। সংখ্যায় বেশি বলেই সংস্থাটি এটিকে বলছে ‘মেগা ইনডাকশন। ’ নতুন এই সদস্যরা হলেন: মাহেন্দ্র সিং ধোনি, ম্যাথু হেইডেন, হাশিম আমলা, গ্রায়েম স্মিথ, ড্যানিয়েল ভেটোরি, সারাহ টেইলর ও সানা মির। এর মাধ্যমে আইসিসি হল অব ফেমের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১২২ জনে। আগের সদস্য, সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভোটে নির্বাচিত হয় এই তালিকা। সবসময় এমন জমকালো আয়োজন দেখা যায় না আইসিসির পক্ষ থেকে। অনেক সময় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সেরে নেওয়া হয় সম্মাননা প্রদান। কিন্তু এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের আগেই জাঁকজমকপূর্ণভাবে হল অব ফেমে স্বাগত জানানো হলো ক্রিকেটের সাত তারকাকে। তাদের নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মাহেন্দ্র সিং ধোনি তো একাই ইতিহাস! সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি যে ফিনিশারের সংজ্ঞা নতুন করে লিখেছেন, তা এখনো আদর্শ হয়ে আছে অনেক তরুণ ক্রিকেটারের কাছে। একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে তিনটি ভিন্ন আইসিসি ট্রফি জেতার রেকর্ডটি আজও অটুট। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এছাড়া ধোনির নেতৃত্বেই ভারত প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠেছিল টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে। কিপার হিসেবে তার প্রতিভা এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে তার ভূমিকা তাকে বানিয়েছে অনন্য এক প্রতীক। ধোনি খেলেছেন ৯০ টেস্ট, ৩৫০ ওয়ানডে ও ৯৮ টি-টোয়েন্টি। হাশিম আমলা ছিলেন রানের কারিগর। উইলো থেকে যেন ছন্দ বের করতেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। দেশের হয়ে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির কৃতিত্বও তার। টেস্ট ও ওয়ানডেতে একসময় ছিলেন বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। আমলার ক্যারিয়ার সংখ্যার বিচারে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি ছিল মাধুর্যে ভরপুর। তারই সতীর্থ গ্রায়েম স্মিথ ক্রিকেট দুনিয়ায় পরিচিত ছিলেন একাধারে সাহসী অধিনায়ক ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে। মাত্র ২২ বছর বয়সে নেতৃত্বের ভার কাঁধে তুলে নেন, আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে যান শীর্ষে। টেস্টে সর্বাধিক ম্যাচে অধিনায়কত্ব ও সর্বোচ্চ জয় সংখ্যার রেকর্ড আজও তার দখলে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন ছিলেন দুর্দান্ত ওপেনার। দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য ২০০১ সালে ভারতের মাটিতে দারুণ পারফরম্যান্সের পর নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নেন। তার ব্যাটিংয়ে ছিল দাপট ও ধারাবাহিকতা। প্রতিপক্ষের জন্য এক আতঙ্ক ছিলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেটোরি শুধু দলের প্রাণভোমরাই ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ৪ হাজার টেস্ট রান ও ৩০০ উইকেটের ডাবল রয়েছে তার নামের পাশে, যা বলেই দেয় ভেটোরির সুন্দর পারফরম্যান্সের কথা। স্পিনে তার কৌশল, পাশাপাশি নিচের সারিতে ব্যাটিংয়ের কার্যকারিতা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য ছিল অমূল্য সম্পদ। নারী ক্রিকেটেও এবার জায়গা পেল দুই তারকা। ইংল্যান্ডের সারাহ টেইলর কিপার হিসেবে গড়েছেন ইতিহাস। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নিজের জাত চিনিয়ে নারী দলের ব্যাটিং লাইনআপে হয়ে ওঠেন অমূল্য রত্ন। দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অংশ তিনি। অন্যদিকে পাকিস্তানের সানা মির নারী ক্রিকেটের পথিকৃত। দেশের হয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি হল অব ফেমে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের নারী দলকে, এনে দিয়েছেন এশিয়ান গেমসের দুটি সোনা।
কোচের বিরুদ্ধে রাজার বর্ণবাদের অভিযোগ

কোচের বিরুদ্ধে রাজার বর্ণবাদের অভিযোগ জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটার সিকান্দার রাজা দেশটির স্থানীয় কোচ ব্লেসিং মাফুওয়ার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ করেছেন। মেট্রোপলিটন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এই অলরাউন্ডার। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে সাময়িকভাবে ওই কোচকে বহিস্কার করা হয়েছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করেছে। রাজার দাবি, মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রাজাকে ইঙ্গিত করে বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন কোচ। যা মোটেও ভালোভাবে নেননি তিনি। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদও করেছেন। পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ্য, ‘‘দোষী প্রমাণিত হলে তাকে দিয়ে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক যেন বর্তমানে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কারও এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হতে হয়।” গত ১ জুন ওল্ড হারারিয়ান্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠের ঘটনা সেটি। ভিনিয়া কাপের ম্যাচে ওল্ড হারারিয়ান্সের হয়ে রাজা খেলছিলেন রেইনবো ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে। ম্যাচে রাজার দল ১৪২ রানে জয় পায়। রাজা ৫৬ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন। রাজার অভিযোগের পর রেইনবো ক্রিকেট ক্লাবের কোচকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ক্লাবটির কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ‘‘বর্ণবাদের অভিযোগকে আমরা কখনও হালকা করে নেই না। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত করব আমরা।”