২২ বছরের খরা কাটিয়ে সেমিফাইনালে মরক্কো
২২ বছরের খরা কাটিয়ে সেমিফাইনালে মরক্কো দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। রাবাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যামেরুনকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক মরক্কো। দুই অর্ধে দুটি গোল দীর্ঘ ২২ বছর পর সেমিফাইনালে পা রেখেছে মরক্কো। একটি করে গোল করে ব্রাহিম দিয়াজ ও ইসমাইল সাইবারি মরক্কোর হয়ে জয় নিশ্চিত করেন। পুরো ম্যাচে ক্যামেরুন খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। সবশেষ ২০০৪ নেশনস কাপের সেমিতে খেলেছিল দলটি। ২৬তম মিনিটে কর্নার থেকে আইয়ুব এল কাবির ফ্লিকে বল পেয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান ব্রাহিম দিয়াজ। উরুতে লেগে বল জালে প্রবেশ করলে টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার পঞ্চম গোল। দ্বিতীয়ার্ধে সেট পিস থেকেই আসে ইসমাইল সাইবারির গোল। ফ্রি-কিক থেকে আসা বল পেয়ে নিচু বাঁ-পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনল খেলা মরক্কোর সমর্থকরা নেশনস কাপের সেমির গ্যালারিতেও উন্মাতাল পরিবেশের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। সেই চিরচেনা আবহে ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের দল পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। এই জয়ের মাধ্যমে কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করল রেগরাগুইয়ের শিষ্যরা। এখন আর মাত্র দুই জয় দূরে মরক্কো। ১৯৭৬ সালের পর প্রথম মহাদেশীয় শিরোপা জয়ের হাতছানি।এটি মরক্কোর এটি টানা ২৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড। যা শুরু হয়েছিল ২০২৩ আফকনের শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়ার পর থেকে। আগামী বুধবার একই মাঠে সেমিফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হবে শনিবারের কোয়ার্টার ফাইনালে আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী।
বিশ্বকাপের আগে মুখোমুখি ব্রাজিল-ফ্রান্স, জেনে নিন সময়সূচি

বিশ্বকাপের আগে মুখোমুখি ব্রাজিল-ফ্রান্স, জেনে নিন সময়সূচি আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। মেগা এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের জিলেট স্টেডিয়ামে আগামী ২৬ শে মার্চ রাত ২টায় মাঠে নামবে ব্রাজিল-ফ্রান্স। ম্যাচটি হবে ‘রোড টু ২৬’ নামের নতুন আন্তর্জাতিক সিরিজের অংশ হিসেবে। এখন পর্যন্ত ১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। এর মধ্যে ফ্রান্স জিতেছে ৭টি ম্যাচ, ড্র হয়েছে ৬টি এবং ব্রাজিল জয় পেয়েছে ৫টিতে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে প্যারিসে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ‘রোড টু ২৬’ সিরিজে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে ক্রোয়েশিয়া ও কলম্বিয়া। একনজরে ‘রোড টু ২৬’-এর সম্পূর্ণ সূচি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী): তারিখ (বাংলাদেশ) ম্যাচ ভেন্যু সময় (বাংলাদেশ) ২৬ মার্চ, ২০২৬ ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স জিলেট স্টেডিয়াম, ম্যাসাচুসেটস রাত ২:০০টা ২৭ মার্চ, ২০২৬ কলম্বিয়া বনাম ক্রোয়েশিয়া ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়াম, ফ্লোরিডা ভোর ৫:৩০টা ২৯ মার্চ, ২০২৬ ফ্রান্স বনাম কলম্বিয়া নর্থওয়েস্ট স্টেডিয়াম, মেরিল্যান্ড রাত ১:০০টা ১ এপ্রিল, ২০২৬ ব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়া ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়াম, ফ্লোরিডা ভোর ৬:০০টা।
বিশ্বকাপের আগে টিকটকারদের দারুণ খবর দিলো ফিফা

বিশ্বকাপের আগে টিকটকারদের দারুণ খবর দিলো ফিফা আগামী ১৯ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে হবে বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্ট ঘিরে সরব থাকবে সোশ্যাল মিডিয়া। তবে টিকটক থাকবে একটি বিশেষ অবস্থানে। বিশ্বকাপে সোশ্যাল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে এটিকে প্রথম ‘পছন্দসই ভিডিও প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা। এবারের বিশ্বকাপে টিকটকের কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা বিশেষ অ্যাকসেস পাবেন। ফিফা বলেছে, বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারীরা টিকটক অ্যাপের ডেডিকেটেড হাবে থাকা ১০৪ ম্যাচের বিভিন্ন অংশ লাইভস্ট্রিম করতে পারবে। টুইটারে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। ফিফা বলেছে, ‘কন্টেন্ট ক্রিকেটরদের বৃহৎ অংশ ফিফার আর্কাইভাল ফুটেজ ব্যবহার ও নতুন করে তৈরি করতে পারবে।’ ফিফা ভক্তদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এবারের আসরে ভক্তরা পর্দার আড়ালের ও মাঠের ভেতরের এমন দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে বাছাই করা ভক্তদের জন্য টিকটক ইন অ্যাপের পক্ষ থেকে থাকবে কাস্টম স্টিকার, ফিল্টার্স ও গেমিফিকেশন ফিচারস। টিকটক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডাউনলোডেড অ্যাপ। যদিও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
রিশাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করল হোবার্ট

রিশাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করল হোবার্ট প্রথমবার বিগ ব্যাশ খেলতে নেমে স্পিন জাদু দেখিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি তারকা রিশাদ হোসেন। আরও একবার তার দুর্দান্ত স্পেলে টানা পঞ্চম জয় পেয়েছে হোবার্ট হারিকেন্স। এই লেগস্পিনার ৪ ওভারে ২৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন। যার সুবাদে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সকে ৩৭ রানে হারিয়েছে হোবার্ট। ১২ পয়েন্ট নিয়ে রিশাদের দলটি বিগ ব্যাশের শীর্ষে রয়েছে। আজ নিজেদের মাঠ বেলেরাইভ ওভালে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে হোবার্ট হারিকেন্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তারা ১৭৮ রান সংগ্রহ করে। এদিন ব্যাটিংয়ে নামা হয়নি রিশাদের। তবে তার সতীর্থ মিচেল ওয়েন ৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন। তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২টি চার ও ৪ ছক্কায়। হোবার্টের হয়ে কেউই বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। তবে বেশ কয়েকজন ক্যামিও ইনিংস খেলায় তারা চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়ে যায়। রেহান আহমেদ ১৭ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৯, ম্যাথু ওয়েড ১৯ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২৭ এবং নিখিল চৌধুরী ২৩ রান করেছেন। বিপরীতে অ্যাডিলেডের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন লুক উড ও জেমি ওভারটন। ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বড় বিপর্যয়ে পড়ে অ্যাডিলেড। ৮ রানেই তারা ৪ উইকেট হারায়। এর মধ্যে হোবার্টের অধিনায়ক নাথান এলিস ও রাইলি মেরেডিথের ভাগে গেছে ২টি করে। এর পরের ম্যাজিক রিশাদের। তিনি ৩ উইকেট নিয়ে অ্যাডিলেডের মেরুদণ্ড আরও ভেঙে দেন। যদিও একপ্রান্তে অটল ছিলেন লিয়াম স্কট। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ক্রিজ ছেড়েছেন। দল জিতলে ৫৮ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৯১ রান করা স্কট হতে পারতেন অ্যাডিলেডের নায়ক। তবে আর কেউই তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। স্কট ছাড়া অ্যাডিলেডের হয়ে দুই অঙ্কের (১১) ঘরে যেতে পেরেছেন কেবল লুক উড। এ ছাড়া দলটির আর কেউই দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি। ফলে স্কটের ৯১ রানের বাইরে বাকিরা মিলে করেছেন ৫০ রান। হোবার্টের হয়ে রিশাদ সর্বোচ্চ ৩ এবং মেরেডিথ ও এলিস ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রাজশাহীকে শেষ বলে হারাল চট্টগ্রাম

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রাজশাহীকে শেষ বলে হারাল চট্টগ্রাম রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে লো স্কোরিং ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জিতেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর দেওয়া ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ফল এসেছে একেবারে শেষ বলে। ১ বলে যখন আর দরকার ২ রান, ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায় কি না সেই প্রশ্নও জেগেছিল। তবে মাথা ঠান্ডা রেখে হাসান নেওয়াজ ২ রান নিয়ে ২ উইকেটে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে সাত ম্যাচে পঞ্চম জয় পেল টেবিল টপাররা। চলমান বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বের বদলে সেখানকার ম্যাচগুলো সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হচ্ছে। সেখানে আজ দিনের প্রথম ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে রাজশাহী। যার শুরুটা হয়েছিল শুরু থেকেই। দলীয় ২১ রানে ১৪ বলে ১৯ রান করা ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিমকে বোল্ড করে দেন চট্টগ্রামের স্পিনার তানভীর ইসলাম। এরপর রাজশাহী আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে শেষ পর্যন্ত উইকেটের মিছিল চলমান ছিল। নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তানজিদ হাসান তামিম উভয়েই দুই অঙ্কের ঘরে ছুঁতে ব্যর্থ। ওয়াসিম এবং এস মেহরবের করা সমান ১৯ রানই রাজশাহীর পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। এ ছাড়া আকবর আলি ১৭, মুশফিকুর রহিম ১৫ ও তানজিম হাসান সাকিব ১৪ রান করেন। ফলে খুব একটা চ্যালেঞ্জিং দলীয় সংগ্রহ পায়নি রাজশাহী। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন আমির জামাল। এ ছাড়া শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ২টি করে শিকার ধরেন। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে চট্টগ্রামও যথারীতি শুরু থেকে বিপর্যয়ে পড়ে। তবে টেস্ট মেজাজে হাসান নেওয়াজ একপ্রান্ত আগলে রাখাটা তাদের জন্য কাজে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ ছাড়া অধিনায়ক শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮, আসিফ আলি ২৫ বলে ২৭ এবং অ্যাডাম রসিংটন ১৭ রান করেছেন। শেষ ওভারে চট্টগ্রামের যখন ১০ রান প্রয়োজন, তখন রাজশাহীর পেসারদের বোলিং কোটা শেষ। ফলে আক্রমণে আনা হয় স্পিন অলরাউন্ডার মেহরবকে। ২০তম ওভারের প্রথম ৩ বলে মেহরব এক বাউন্ডারিসহ ৮ রান দেওয়ার পরের দুই ডেলিভারি ডট করেছেন। তিনি অবশ্য একটি রানআউট মিস না করলে ভিন্ন কিছুও হতে পারত। তবে জমে ওঠে লো স্কোরিং ম্যাচটি। শেষ বলে হাসান ২ রান নিয়ে জয় বাগিয়ে নেন চট্টগ্রামের পক্ষে। রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো। মেহরব নেন ২ উইকেট। এ নিয়ে ৭ ম্যাচে পঞ্চম জয় নিয়ে ১০ পয়েন্টে শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করল চট্টগ্রাম। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী চার নম্বরে রয়েছে। যথাক্রমে দুই-তিনে থাকা রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সের পয়েন্টও সমান ৮। তবে রংপুর ৫ এবং সিলেট ৮ ম্যাচ খেলেছে ইতোমধ্যে।
নাটকীয়তার শেষে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজশাহী

নাটকীয়তার শেষে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজশাহী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরের ১৯তম ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলিং তোপে মুখ থুবড়ে পড়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম। ব্যাট হাতে নেমে রাজশাহী নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১২৮ রান। পুরো ইনিংসে রাজশাহীর কোনো ব্যাটারই ২০ রানের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম ও এস এম মেহরব। মুশফিকুর রহিম ও রায়ান বার্ল দুই অঙ্কে পৌঁছালেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া আকবর আলী ১৬ বলে করেন ১৭ রান। শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিব ১৪ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রাজশাহীর নায়ক ওয়াসিম, নোয়াখালীর ষষ্ঠ হার

চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রাজশাহীর নায়ক ওয়াসিম, নোয়াখালীর ষষ্ঠ হার হারতে হারতে ক্লান্ত নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে আরো একটি পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। তাদের জয়ের নায়ক সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিম। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে দারুণ ব্যাটিং করেছেন ওয়াসিম। ৩৫ বলে ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৬০ রান করেন তিনি। বিপিএলে এর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ১ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। রান করেছিলেন ১। আজ রাজশাহীর জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নেমে বাজিমাত করলেন ওয়াসিম। তার বিস্ফোরক ইনিংসে রাজশাহী ৬ বল হাতে রেখে নোয়াখালীর দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে অতি সহজে। ৫ ম্যাচে এটি রাজশাহীর চতুর্থ জয়। চট্টগ্রাম ও রংপুরের মতো তাদেরও পয়েন্ট ৮। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নোয়াখালীর ইনিংস এগিয়েছে ধীর গতিতে। পাওয়ার প্লে’তে দুই ওপেনার শাহাদাত ও সৌম্য ৪১ রান জমা করতে পারেন। তবে আশার বিষয় এদিন শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েনি দলটি। এর আগে ওপেনিংয়ে তাদের সর্বোচ্চ রান হয়েছিল ২৪। সৌম্য ও শাহাদাত ৭.৫ ওভারে জমা করে ৫৭ রান। শাহাদাতকে (৩০) আউট করে রিপন মন্ডল ভাঙেন এই জুটি। তিনে নামা মাজ সাদাকাত সুবিধা করতে পারেননি। ১৩ বলে ৭ রান করে শান্তর শিকার হন। আরেক প্রান্তে সৌম্য এগিয়ে যান নিজের মতো করে। আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী দলের দাবি মিটিয়েছেন। মোহাম্মদ নবীর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়ার পথে সৌম্য তুলে নেন টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি। ৪০ বলে মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। এজন্য ৬ চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। ফিফটির পর আরেকটি ছয় আসে তার ব্যাট থেকে। কিন্তু থেমে যান ওই ছক্কাতেই। হাসান মুরাদের শর্ট বল উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়েন সৌম্য। ৪৩ বলে ৫৯ রানে আউট হন তিনি। সেখান থেকে নবীর ৩৫ এবং মাহিদুলের ১০ রানে নোয়াখালী বলার মতো ১৫১ রানের পুঁজি পায়। রাজশাহীর হয়ে বল হাতে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন রিপন মন্ডল। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো, শান্ত ও হাসান। জবাব দিতে নেমে ৫ ওভারে ৪৭ রান তুলে নেয় রাজশাহী। পেসার মেহেদী হাসান রানা তানজিদকে ফিরিয়ে ভাঙেন জুটি। কিন্তু আরেক প্রান্তে ওয়াসিম অনায়েস ব্যাটিংয়ে রান তুলতে থাকেন। নোয়াখালীর বোলাররা তার সামনে খুব কার্যকর হতে পারেননি। চার-ছক্কার স্রোত ছিল তার ব্যাটে। ২৯ বলে ফিফটি তুলে নিতে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকান ডানহাতি হার্ডহিটার। মাইলফলক ছোঁয়ার পর এগিয়ে যায় ব্যাট। কিন্তু তার ইনিংসটি কাটা পড়ে রান আউটে। দৌড়ে ২ রান নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। অবশ্য প্রান্ত বদলের সময় বোলারের সঙ্গে তার প্রায় সংঘর্ষ হয়ে যাচ্ছিল। তাতে নষ্ট হয় তার ছন্দ। ওয়াসিম ফেরার পর মুশফিকুর রহিমের ১৯ ও রায়ান বার্লের অপরাজিত ১৯ রানে রাজশাহীর জয় চলে আসে অতি সহজে। বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রানা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় তার একার লড়াই বৃথা যায়।
‘খালেদ অবাক করে দিয়েছিলেন সবাইকে’
‘খালেদ অবাক করে দিয়েছিলেন সবাইকে’ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার চট্টগ্রাম রয়্যালসের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য থেকে ১৪ রান দূরে থামে সিলেট টাইটান্স। তবে শেষ ওভারেও কিছুটা হলেও জয়ের সম্ভাবনা ছিল সিলেটের৷ মূলত দুর্দান্ত এক ক্যামিওতে প্রায় মিরাকল ঘটিয়ে দিচ্ছিলেন সিলেটের খালেদ। তার এমন ব্যাটিংয়ে অবাক হয়েছেন চট্টগ্রামের মাহমুদুল হাসান জয়। ১৮তম ওভারে খালেদ যখন ১১ নম্বর ব্যাটার হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন তখনও ১৩ বলে ৪২ রান প্রয়োজন সিলেটের। ১৯তম ওভারে শরিফুল ইসলামকে প্রথম দুই বলে মারেন টানা দুই ছক্কা। ওই ওভারে আরও এক চারে আসে ১৭ রান। শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৫ রানের। শেষ ওভার করতে তানভীর ইসলামকেও প্রথম বলে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে চতুর্থ বলে আউট হয়ে যান খালেদ। তার ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ২৫ রান। খালেদের এমন ব্যাটিং নিয়ে জয় বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই। খালেদ ভাই একটু সারপ্রাইজ করেই দিয়েছিল সবাইকে। আমাদের মেইন বোলার শরিফুল-তানভীর। ওদের কয়েকটা ভালো ছয় মেরে দিয়েছিল। একটু তো সারপ্রাইজ সবাই হয়ে গেছিল।’ বুধবার চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন জয়। প্রায় ২১০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন জাতীয় দলের এই ব্যাটার। নিজের ইনিংস নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচসেরা জয় বলেন, ‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই তখন মনে হয়েছিল উইকেট খুবই ভালো। মারলে হয়তোবা লাগবে। তাই আমি চেষ্টা করেছি।’
মোহামেডানের ‘আতা ভাই’ আর নেই
মোহামেডানের ‘আতা ভাই’ আর নেই ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের একনিষ্ঠ ও বর্ষীয়ান সমর্থক আতাউর রহমান আতা আর নেই। ক্রীড়াঙ্গনে তিনি ‘আতা ভাই’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে বুধবার রাত আনুমানিক ১১টায় নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার নামাজে জানাযা আজ বাদ যোহর টিকাটুলি জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি পরিবার-পরিজনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি স্টেডিয়ামে গলা ফাটিয়েছেন তার প্রিয় দল মোহামেডানের জন্য এবং দেশের ফুটবলের জন্য। তার কণ্ঠ, তার উপস্থিতি ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছিল দেশের ফুটবলের জন্য এক অনন্য প্রেরণা। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘তিনি শুধু মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সমর্থক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলের একজন প্রকৃত সৈনিক। ফুটবলের প্রতি তার এই অবদান ও ভালোবাসা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ আতা ভাইকে দেখা গেছে কখনো জাতীয় স্টেডিয়াম, কখনো মিরপুরে মোহামেডানের জন্য গলা ফাটাতে। তিনি পুরো গ্যালারি একাই মাতিয়ে রাখতেন। আবাহনীকে তীর্যক ভাষায় ভাষায় আক্রমণও করতেন। খেলা শুরুর আগেই বলতে থাকতেন ‘ওই আবাহনীর ভায়েরা, আজ তোমাদের তিন গোল দিয়ে দেবো।’ মোহামেডান হারতে থাকলেও তিনি সাদাকালো পতাকা দুলিয়ে চিল্লাতে থাকতেন। মনে হতো তার জন্মই হয়েছে আকাশি-নীলদের বিরোধিতা আর সাদা-কালোদের জন্য যুদ্ধ করতে।
বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়লেন ভারতীয় উপস্থাপক

বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়লেন ভারতীয় উপস্থাপক চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়েছেন ভারতীয় উপস্থাপক রিধিমা পাঠক। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তাকে উপস্থাপক প্যানেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবারের বিপিএলে উপস্থাপনা ও ধারাভাষ্য প্যানেলে ভিন্নতা এনেছিল বিসিবি। উপস্থাপক হিসেবে পাকিস্তানের জয়নব আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন ভারতের রিধিমা পাঠক। পাশাপাশি ধারাভাষ্যকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা এবং ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার ড্যারেন গফকে। তবে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রিধিমার বিপিএল যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। গত ৩ জানুয়ারি ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর জরুরি সভা ডাকে বিসিবি। এরপর নিরাপত্তা ইস্যুতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অপারগতার কথা জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু ভারত থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার দেশীয় অপারেটরদের মাধ্যমে আইপিএল সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এসব ঘটনার মধ্যেই বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে রিধিমা পাঠককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।