বাংলাদেশকে অলআউট করে চ্যাম্পিয়ন ভারতের মেয়েরা

বাংলাদেশকে অলআউট করে চ্যাম্পিয়ন ভারতের মেয়েরা ১৩৫ রানের লক্ষ্যটা বড়ই ছিল বলা যায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্য। ভারতের মেয়েদের বোলিং তোপে মাত্র ৮৮ রানে অলআউট হয়েছে ফাহিমা খাতুনের দল। ৪৬ রানে জিতে আবারও এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত ‘এ’ দল। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ভারতের বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে ১০০ রানও করতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। ৮৮ রানে অলআউটে হয়েছ স্বপ্নভঙ্গ। ১১ ব্যাটারের ৭ জনই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেনি বাংলাদেশের। এরমধ্যে একজন ছিলেন কোনো বল না খেলে শূন্য রানে অপরাজিত। সর্বোচ্চ ২০ রান করেছেন শামিমা সুলতানা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান এসেছে শারমিন সুলতানার ব্যাটে। অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন করেছেন ১৪ রান। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন প্রেমা রাওয়াত। দুটি করে সোনিয়া মেনধিয়া ও তেনুজা কানওয়ার। একটি করে উইকেট গেছে সাইমা ঠাকুর, মিন্নু মানি ও রাধা যাদবের ঝুলিতে। এর আগে, বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে ১৩৫ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় ভারতের নারীরা। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের মেয়েরা। ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের মেয়েরা। ৪৪ রানেই তুলে নেয় ভারতের ৪টি উইকেট। এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় ভারতীয় মেয়েরা। তেজাল হাসাবনিস ও রাধা যাদবের ব্যাটে ৭৯ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ৩০ বলে ৩৬ রান করে রাধা যাদব আউট হয়ে গেলেও তেজাল হাসাবনিস ৩৪ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া ১৯ রান করেন দিনেশ ব্রিন্দা। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের হয়ে ফাহিমা খাতুন ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে একাই নেন ৪ উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন ফারজানা ইয়াসমিন ও ফাতিমা জাহান।

পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বৃষ্টির জয়

পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বৃষ্টির জয় এ রকম আবহাওয়ায় শ্রীলঙ্কা যে ক্রিকেটের জন্য আদর্শ নয়—এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড নারী দলের সাবেক অধিনায়ক সোফি ডিভাইন। গত বছর মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে যে ১০ ম্যাচ বৃষ্টির কবলে পড়েছিল, তার মধ্যে সাতটিরই ভেন্যু ছিল শ্রীলঙ্কা। সেই শ্রীলঙ্কায় এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বৃষ্টি জেঁকে বসেছে। আসরের গ্রুপ পর্বে একমাত্র যে ম্যাচটি (জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড) বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল, সেটির ভেন্যু ছিল শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়াম। আজ সুপার এইট পর্বের প্রথম ম্যাচটাও জিতে নিল বৃষ্টি। রিজার্ভ ডে না থাকায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সন্তুষ্ট থাকতে হলো পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে। এবার ভেন্যু শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অবিরাম বর্ষণে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। ফলে আম্পায়াররা ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

নাটকের রাতে শীর্ষে ফিরল পিএসজি

নাটকের রাতে শীর্ষে ফিরল পিএসজি ফরাসি লিগ আঁ-র শিরোপা দৌড়ে নতুন মোড়। ঘরের মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেসে দুর্বল মেত্জকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আবারও শীর্ষে উঠেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে এই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী লেন্স। শুরুতে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও মোনাকোর কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বসে তারা। দিনের শুরুতে পিএসজির চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে ছিল লেন্স। ঘরের মাঠে দ্বিতীয়ার্ধে ২-০-তে এগিয়ে থেকেও আগস্টের পর প্রথমবার হোম লিগ ম্যাচে হার দেখল তারা। এতেই শীর্ষস্থান পুনর্দখলের সুবর্ণ সুযোগ পায় ফরাসি জায়ান্টরা। মেৎজের বিপক্ষে তিন মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন দিজিরে দুয়ে। ওয়ারেন জায়ের-এমেরির লম্বা পাস ধরে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে গিয়ে জাল খুঁজে নেন তরুণ ফরোয়ার্ড। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। কর্নার থেকে লুকাস হার্নান্দেজের হেড গোলরক্ষক ঠেকালেও লাইনের কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দেন তিনি। শেষ দিকে গঞ্জালো রামোস জোরালো ফিনিশে নিজের মৌসুমের ১১তম গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। মোনাকোর মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগে ৩-২ জয়ে জোড়া গোল করা দুয়ে আজ শুরু থেকেই ছিলেন একাদশে। চোটে থাকা উসমান দেম্বেলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে বিশ্রাম দেন কোচ লুইস এনরিকে। আগামী বুধবারই মোনাকোর বিপক্ষে প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগ। ১১ ম্যাচ বাকি থাকতে পিএসজি এখন লেন্সের চেয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে। তৃতীয় স্থানে থাকা লিঁও রোববার স্ট্রাসবুর্গকে হারাতে পারলে শীর্ষের সঙ্গে ব্যবধান ছয়ে নামাতে পারবে।

নতুন মৌসুমের শুরুতেই সনের দাপটে ম্লান মেসি

নতুন মৌসুমের শুরুতেই সনের দাপটে ম্লান মেসি মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নতুন মৌসুমের শুরুতেই বৈশ্বিক দুই সুপারস্টারের লড়াই। কিন্তু আলোটা কেড়ে নিলেন সন হিউং-মিন। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে লস অ্যাঞ্জেলেস ৩-০ গোলে হারিয়েছে মেসির ইন্টার মায়ামিকে। আর আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসি ম্যাচে ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের প্রথম পূর্ণ মৌসুম খেলতে নামা দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা শুরু থেকেই ছিলেন প্রাণবন্ত। প্রথমার্ধে ডেভিড মার্টিনেজের গোলের যোগান দেন সন। পরে ডেনিস বুয়াঙ্গা ও বদলি নাথান অর্ডাজ ব্যবধান বাড়িয়ে নিশ্চিত করেন দাপুটে জয়। ম্যাচটি দেখতে মেমোরিয়াল কলিসিয়ামে প্রায় ৭৬ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা এমএলএস ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপস্থিতি। তবে যারা মেসির জাদু দেখতে এসেছিলেন, তাদের জন্য রাতটি ছিল হতাশার। বল দখলে এগিয়ে থেকেও এলএএফসির গোলমুখে তেমন হুমকি তৈরি করতে পারেনি মায়ামি। দুই সপ্তাহ আগে প্রীতি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং চোট পাওয়ার পর পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়া মেসিকে ছন্দহীনই দেখিয়েছে। শুরুটা দারুণ ছিল এলএএফসির। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বারবার চাপে ফেলে মায়ামিকে। একবার বুয়াঙ্গার পাসে একক প্রচেষ্টায় সুযোগ পেলেও শট নিতে ব্যর্থ হন সন। তবে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল বলের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করলে তা যায় সনের কাছে। ডিফেন্ডারদের ঢিলেঢালা রক্ষণে সময় পেয়ে ডানদিকে মার্টিনেজকে পাস দেন তিনি। ভেনেজুয়েলান তরুণ প্রথম স্পর্শেই বল জড়িয়ে দেন জালে। বিরতির আগে প্রায় একই ভঙ্গিতে আবারও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন মার্টিনেজ। আর প্রথমার্ধের একমাত্র স্পষ্ট সুযোগে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয় মায়ামি। মেসিও মাঝমাঠ থেকে খেলা সাজানোর চেষ্টা করেন, নেন দূরপাল্লার শট। একপর্যায়ে রায়ান পোর্তেউসের সঙ্গে সংঘর্ষে মুখ থুবড়ে পড়েন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তবে দ্রুতই উঠে দাঁড়ালে স্বস্তি ফেরে সমর্থকদের মাঝে। চাপ সামলে ধৈর্যের ফল পায় এলএএফসি। নিজেদের অর্ধ থেকে টিমোথি টিলম্যানের উঁচু থ্রু পাস ধরে বুয়াঙ্গা প্রথমে হেডে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল তোলেন, পরে ঘুরে জালে পাঠান। ম্যাচ কার্যত সেখানেই শেষ। শেষদিকে সন আরেকটি অ্যাসিস্টের সম্ভাবনা তৈরি করলেও বুয়াঙ্গা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর করতালির মধ্যেই তুলে নেওয়া হয় সনকে। এরপর বদলি নামা নাথান অর্ডাজ মায়ামির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে এলএএফসির জয় নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশের ২৩ ক্রিকেটার দ্য হান্ড্রেডের নিলামে  

বাংলাদেশের ২৩ ক্রিকেটার দ্য হান্ড্রেডের নিলামে   ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের আগামী আসরের নিলামের জন্য নাম লিখিয়েছেন প্রায় এক হাজার ক্রিকেটার। এই দীর্ঘ তালিকায় বাংলাদেশের ২৩ ক্রিকেটারও রয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছে, ক্রিকেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন এই প্রতিযোগিতায় খেলতে নাম লিখিয়েছেন। তবে সাকিব আল হাসান নাম দেননি। নিলামের জন্য নিবন্ধন করা ক্রিকেটারদের তালিকা নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। তালিকার ২১তম স্থানে নাম রয়েছেন মোস্তাফিজুর। তারকা এ পেসারের ভিত্তিমূল্য ১ লাখ পাউন্ড। আগামী ১১ ও ১২ মার্চ প্রথমবারের মত দ্য হান্ড্রেডের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। আগে প্লেয়ার ড্রাফটের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া হত। ২১ জুলাই শুরু হয়ে টুর্নামেন্ট চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। দ্য হান্ড্রেডের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। পাঁচটি আসর হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার এই প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাননি। এবার মোস্তাফিজুর দল পান কি না, সেটাই বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। শুধু মোস্তাফিজুরই নন, রিশাদ হোসেনকে নিয়েও আলোচনা আছে। দুজনই ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছন্দে আছেন। তাদের দিকে বাড়তি নজর পড়তে পারে দলগুলোর। বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য রিশাদ হোসেনের, ৭৫ হাজার পাউন্ড। বাকি ২১ জনেরই ভিত্তিমূল্য ৩১ হাজার পাউন্ড করে। দ্য হান্ড্রেডের নিলামে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা: মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, জাকের আলী, লিটন দাস, মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিম হাসান, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, হাসান মাহমুদ, রিপন মণ্ডল, মোহাম্মদ নাঈম, নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, শামীম হোসেন, পারভেজ হোসেন , নাজমুল হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকার।

সামিত সোমের ছবি দিয়ে মাতৃভাষা দিবসে অংশ নিলো ফিফাও

সামিত সোমের ছবি দিয়ে মাতৃভাষা দিবসে অংশ নিলো ফিফাও সারা বিশ্বে আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গন ও মহান শহীদ ও মাতৃভাষা দিবস বিশেষভাবে পালন করছে। ফিফা বিশ্বকাপের ফেসবুক পেজ থেকে অংশ নিয়েছে মাতৃভাষা দিবসে। কানাডিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশি তারকা ফুটবলার সামিত সোমের ছবি দিয়ে তারা ক্যাপশনে লিখেছে ‘ভিন্ন ভাষায় একই আবেগ।’ পাশে ফুটবল ও ভালোবাসার ইমোজি দেওয়া হয়েছে। আর সামিতের ছবিতেও বাংলা ভাষায় লেখা হয় ‘ফুটবলই আমাদের ভাষা।’ অর্থাৎ, বাংলা ভাষার মাধ্যমে ফুটবলেরও নিজস্ব ভাষা আছে সেটাই স্মরণ করিয়ে দিলো ফিফা। অবশ্য ফিফার ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে প্রাইভেসি ‘কাস্টম’ করে, কেবল বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সম্ভবত পোস্টটি দেখতে পারবেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী হামজা চৌধুরীর পথ ধরে আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। বিশ্বফুটবলে তারা নতুন করে তুলে ধরছেন লাল-সবুজের পতাকা। তারই প্রতীকি চিত্র ফুটে উঠল ফিফা বিশ্বকাপের পেজে সামিত সোমের ছবি ব্যবহারে! এর আগে বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষার অধিকার, তাদের স্মৃতি চিরদিন বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। শহীদদের রক্তে রাঙানো একুশ আমাদের গৌরব, আমাদের পরিচয়। নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), ‘তারুণ্যের নব চেতনায় একুশ রবে সকলের অনুপ্রেরণায়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গেলেন নান্দাইলের ৩ কন্যা

এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গেলেন নান্দাইলের ৩ কন্যা ময়মনসিংহের নান্দাইলের হতদরিদ্র পরিবারের তিন কন্যা আজ নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার আলো ছড়াচ্ছেন। জাতীয় নারী ফুটবল দলের হয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন আফঈদা খন্দকার-ঋতুপর্ণা চাকমাদের সঙ্গে। সেখানে আগামী ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত তিন শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর। জানা যায়, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে নতুন এক সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করে প্রথমবারের মতো এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে লড়াই করতে গেল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আর এই দলে রয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের তিন কন্যা। অভিজ্ঞতা ও অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে চীন, কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের পার্থক্যটা যোজন যোজন। তবুও ভালো খেলার প্রত্যয় নিয়ে শিষ্যদের নিয়ে রওনা হয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। ৩ মার্চ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। ৬ মার্চ দ্বিতীয় ম্যাচে তিনবারের শিরোপাজয়ী উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ৯ মার্চ প্রতিপক্ষ পাঁচবার এশিয়ান কাপ খেলা উজবেকিস্তান। ২৬ সদস্যের দলে রয়েছেন- নান্দাইলের নারী ফুটবল দলের রত্ম গোলরক্ষক মিলি আক্তার, স্ট্রাইকার হালিমা আক্তার ও মীডফিল্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতি। বাছাই পর্বে এই জন ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের বাড়ি তিনটি ভিন্ন ইউনিয়নে। চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বারুইগ্রাম গ্রামের কলা বিক্রেতা মো. সামছুল হকের মেয়ে মিলি আক্তার এই দলের দ্বিতীয় গোলরক্ষক। অথচ সেই ঘর থেকেই উঠে এসে মিলি এখন জাতীয় গর্ব। ২০২২ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের পর আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলে সুযোগ পেয়ে চাকরিও পান। তার পারফরম্যান্সে চলতি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বেও দলে জায়গা পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। অপর দিকে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের মেয়ে প্রীতি মিডফিল্ডে খেলেন। বাবা আবুল কালাম আকন্দ একজন হতদরিদ্র কৃষক। ২০১৮ সালে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় নান্দাইলের পাঁচরুখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭, ১৯ ও সর্বশেষ জাতীয় দলে জায়গা পান। অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করে তাক লাগান। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে এশিয়ান বাছাইপর্বে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের মেয়ে হালিমা আক্তার। বাবা দুলাল মিয়া একজন হতদরিদ্র মানুষ। তিন বোনের মধ্যে হালিমা দ্বিতীয়। ছোট বোন পান্নাও স্থানীয় পর্যায়ের একজন পরিচিত ফুটবলার। হালিমা ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। এর বাইরে ভুটান, জর্ডান ও দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই মধ্যমাঠে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করছেন।

‘বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশের ২ ক্রিকেটার কোমায় চলে গিয়েছিল’

‘বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশের ২ ক্রিকেটার কোমায় চলে গিয়েছিল’ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের মাটিতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ দল। এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিলেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।  বিশ্বকাপ খেলতে না পারার সেই কষ্ট নিয়ে এবার মুখ খুললেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুক্রবার মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘কলকাতা ও শ্রীলঙ্কাতে খেলা দেখার পরে মনে হলো যে উইকেটটা হয়তো আমাদের জন্য অনেক দারুণ হতো। আমরা হয়তো এই উইকেটে ভালো করতে পারতাম। খেলা যেরকম মান হচ্ছে সে অনুযায়ী আমার কাছে মনে হচ্ছে যে এখানে আমাদের ভালো করার অনেক সুযোগ ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন আফসোস করে তো লাভ নাই। টি-টোয়েন্টি দল হিসেবে আমাদের দলটা অনেক গোছানো ছিল এবং এই বিশ্বকাপটা ঘিরে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় যে উইকেটটাও আমাদের ফেভারে ছিল। সবদিক দিয়ে আমার মনে হয় যে আমাদের ভালো করার সুযোগ ছিল।’ দুই জন ক্রিকেটার বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় কোমাতে চলে গিয়েছিল বলেও জানালেন সালাউদ্দিন, আমি তো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় প্রায় কোমাতে চলে গেছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ওইটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। যে সে মাঠে আসছে এবং এসে আবার রান করেছে। সালাউদ্দিন বলেন, ‘একটা দলকে আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিয়েছেন। একটা মানুষ তো অনেক বছর ধরে স্বপ্ন দেখে একটা বিশ্বকাপ খেলার।

আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই

আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল ছিল অস্ট্রেলিয়া। অথচ তারাই বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে। শুধু তা-ই নয়, চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বড় দলগুলোর চোখে চোখ রেখে দারুণ লড়াই করেছে ছোট দলগুলোও। জমজমাট সেই লড়াই শেষে এখন সবার নজর সুপার এইট পর্বে। সেরা আট দলের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হচ্ছে আজ। পাল্লেকেলেতে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে দুই দলের পারফরম্যান্সেই ছিল ওঠানামা। ‘ডি’ গ্রুপ থেকে চার ম্যাচের তিনটিতে জয় পেয়ে সুপার এইটে ওঠে কিউইরা। একমাত্র হারটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তবে জয় পাওয়া তিন ম্যাচেও নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। একই চিত্র ছিল পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও। ‘এ’ গ্রুপ থেকে চার ম্যাচের তিনটিতে জয় পেলেও ভারতের বিপক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি দলটি। তাই আজ পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড—দুই দলই খুঁজবে নিজেদের সেরা ছন্দ। সুপার এইট শুরু হওয়ার দিনে সেমিফাইনালে কোন চার দল জায়গা করে নেবে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। সুপার এইট পর্ব ভাগ করা হয়েছে দুটি গ্রুপে। গ্রুপ ১-এ রয়েছে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। এই গ্রুপে সবচেয়ে বড় চমক জিম্বাবুয়ে, অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেরা আটে উঠেছে তারা। জিম্বাবুয়ের দাপটেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। তবে পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির মনে করেন, এই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেরা চারের লড়াইয়ে ভারতের চেয়েও এই দুই দলকে এগিয়ে রাখছেন তিনি। আমিরের ব্যাখ্যা, ‘আপনি যদি তাদের (ভারত) ম্যাচগুলো দেখেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়া প্রায় সব ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে ধস নেমেছে। সুপার এইটের ম্যাচগুলোতে চাপ আরো বাড়বে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে খেলছে, তারা যেকোনো দলকে হারাতে পারে।’ অন্যদিকে গ্রুপ-২ থেকে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন আমির। এই গ্রুপের অন্য দুই দল হলো ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।

অবসরের কথা জানিয়ে দিলেন নেইমার

অবসরের কথা জানিয়ে দিলেন নেইমার ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বর্তমানে সান্তোসে খেলা এই তারকা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষেই তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোট-আঘাত তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর সম্প্রতি তিনি আবার ফিরেছেন। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার বক্তব্য নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে তার ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফার এখনো পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ফি হিসেবে বিবেচিত। তবে পিএসজি অধ্যায়ের পর চোট-সংকট তাকে ধারাবাহিকভাবে মাঠের বাইরে রেখেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ালেও হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি মৌসুমের শুরু মিস করেন। গত সপ্তাহে তিনি পুনর্বাসন শেষে মাঠে ফেরেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না সামনে কী হবে। ডিসেম্বর এলে হয়তো অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারি।  সবকিছু নির্ভর করবে আমার মন কী বলে তার ওপর। এখন থেকে দিন ধরে, ধাপে ধাপে এগোব।’ তার এই মন্তব্যে জোরাল হয়েছে জল্পনা—২০২৬, কিংবা চলতি বছরের শেষেই কি পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন নেইমার? জাতীয় দলের হয়ে ৭৯ গোল করে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। তিনি কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে এই রেকর্ড গড়েন। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দলে জায়গা করে নেওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলেও স্বীকার করেছেন নেইমার। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলে ফিরতে কঠোর পরিশ্রম করছেন এই ফরোয়ার্ড। নেইমার বলেন, ‘এই বছরটি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোস নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও এটি বিশ্বকাপের বছর। আমি নিজের সেরাটা দিতে চাই।’