বিশ্বকাপে যে দেশের বিপক্ষে খেলতে চান না মেসি

বিশ্বকাপে যে দেশের বিপক্ষে খেলতে চান না মেসি ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপকে সামনে রেখে শুরু হয়ে গেছে কাউন্টডাউন। উত্তর আমেরিকার মাটিতে বসতে যাওয়া ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর এই আসরে শিরোপা রক্ষার মিশনে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যার নেতৃত্বে থাকতে পারেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে নতুন মিশনের আগে এক প্রতিপক্ষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছার কথা খোলাখুলিই জানালেন মেসি। সেই দলটি হলো মেক্সিকো। সাবেক সতীর্থ ও বর্তমানে টিগ্রেস ইউএএনএলের গোলরক্ষক নাহুয়েল গুজমানের সঙ্গে ‘মিরো দে আতরাস’ পডকাস্টে আলাপকালে ২০২২ বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করেন মেসি। কাতারে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়টি ছিল আর্জেন্টিনার জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর আরেকটি পরাজয় মানেই বিদায়। এমন চাপ নিয়েই মাঠে নেমেছিল দলটি। মেসি বলেন, ‘আমরা সত্যি বলতে ভয় নিয়েই সেই ম্যাচ খেলতে নেমেছিলাম।’ ইতিহাসে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। তবু মেসির মতে, মেক্সিকো সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। বল দখলে রাখার ক্ষমতা, ছন্দ নষ্ট করার কৌশল এবং সমর্থকদের তুমুল সমর্থন সব মিলিয়ে তারা যে কোনো দলকে চাপে ফেলতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। স্বাগতিক হিসেবে উত্তর আমেরিকার দলগুলো বাড়তি সমর্থন পাবে। সেই বাস্তবতায় টুর্নামেন্টের শুরুতেই মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলতে চান না আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে প্রায়ই আমাদের দেখা হয়, আর বেশির ভাগ সময়ই সেটা হয় বাঁচা-মরার ম্যাচে। এবার তোমাদের (মেক্সিকো) ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দারুণ সুযোগ। তবে আশা করি এবার আমাদের মুখোমুখি হতে হবে না।’ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামার আগে মেসির এই মন্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও বড় মঞ্চে চাপ ও হিসাব-নিকাশের বাইরে কেউ নয়।

সেমিফাইনাল খেলতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতের করণীয়

সেমিফাইনাল খেলতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতের করণীয় ঘরের মাঠের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেকায়দায় ভারত। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সূর্যকুমার যাদবের দল সুপার এইটে এক হারেই সেমিফাইনাল খেলা নিয়ে শঙ্কায় পড়ে গেছে। ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ে সুপার এইটের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০৭ রানের বিশাল জয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হার আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বড় জয়ের ফলে ভারতের নেট রান রেট (এনআরআর) ভালো রাখতে বাকি ম্যাচগুলো বড় ব্যবধানে জিততেই হবে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে শিমরন হেটমেয়ারের ৩৪ বলে ৮৫ রান এবং রোভম্যান পাওয়েলের দ্রুতগতির অর্ধশতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রান করে। জবাবে জিম্বাবুয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে এবং লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থাকতেই থেমে যায়। গুদাকেশ মোতি ৪টি উইকেট নেন। ভারত আগামীকাল চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে। একই দিনে গ্রুপ ১-এর অন্য ম্যাচে আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ভারতের সেমিফাইনাল ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে এই ম্যাচের ফলের ওপর। দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে ভারতের পথ কিছুটা সহজ হবে।

জয়ের লক্ষ্যে আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পাকিস্তান

জয়ের লক্ষ্যে আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে সেমিফাইনাল দৌড়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে আজ শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান। সুপার এইট পর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। পরিসংখ্যান বলছে, এই ফরম্যাটে দুই দলের ৩১ বারের লড়াইয়ে ইংলিশরা জয় পেয়েছে ২০টিতে। বিপরীতে পাকিস্তানের জয় মাত্র ৯টি ম্যাচে। বাকি দুই ম্যাচের একটি টাই এবং অন্যটি পরিত্যক্ত হয়েছে।

নারী বিশ্বকাপে একই গ্রুপে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারত

নারী বিশ্বকাপে একই গ্রুপে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারত জুন-জুলাইয়ে বাংলাদেশ অংশ নেবে দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বাছাইপর্বে সাত ম্যাচের সাতটি জিতে অপরাজিত দল হিসেবে বাংলাদেশ পেয়ে গেছে বিশ্বকাপের টিকিট। প্রথমবারের মতো নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২ দল অংশ নেবে। সব মিলিয়ে ম্যাচ গড়াবে ৩৩টি। ১২ জুন টুর্নামেন্ট শুরু হবে। ২৪ দিনের রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা শেষ কবে ৫ জুলাই। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হবে ফাইনাল ম্যাচ। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি আজ ঘোষণা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল। বাংলাদেশ পড়েছে গ্রুপ ‘এ’-তে। যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানকে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে – লর্ডস, ওল্ড ট্রাফোর্ড, হেডিংলি, এজবাস্টন, হ্যাম্পশায়ার বোল, দ্য ওভাল এবং ব্রিস্টল।

এভারটনকে হারিয়ে শীর্ষ চারে ম্যানইউ

এভারটনকে হারিয়ে শীর্ষ চারে ম্যানইউ এভারটনের মাঠে কঠিন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাসলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগে সোমবার এভারটনকে ১-০ গোলে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষ চারে ওঠে গেছে রেড ডেভিলরা। এভারটনের মাঠ হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে প্রথম হাফে বল নিজেদের দখলে রাখলেও, আক্রমণে তেমন গোছানো ছিল না ম্যানইউর। স্বাগতিক এভারটনও সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হওয়ায় গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট। বিরতির পর ম্যাচের গতি বাড়ে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। এই সময় তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল এভারটন। তবে সব পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে ৭১তম মিনিটে। বদলি হিসেবে নামার মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় এক দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জয়সূচক গোলটি করেন বেঞ্জামিন শেস্কো। এরপর দুই দলই কিছু চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা মেলেনি। প্রথম দেখায় ১-০ ব্যবধানে হারার প্রতিশোধটা এভাবেই সুদে-আসলে তুলে নিল ম্যানইউ।২৭ ম্যাচ শেষে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের চার নম্বরে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সমান ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে রয়েছে এভারটন। অন্যদিকে ২৮ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষে অবস্থান করছে।

বিশ্বকাপের মাঝপথে সূচিতে পরিবর্তন, নতুন ব্যাখ্যা আইসিসির

বিশ্বকাপের মাঝপথে সূচিতে পরিবর্তন, নতুন ব্যাখ্যা আইসিসির চলতি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ঘিরে সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, সহ–স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনালে উঠলে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে নিজেদের মাঠেই খেলতে পারবে। তবে তা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষ ও পাকিস্তানের ফলাফলের ওপর। সুপার এইটের লাইনআপ চূড়ান্ত হওয়ার পর অংশীজনদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় সেমিফাইনালের ভেন্যু–সংক্রান্ত বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, প্রথম সেমিফাইনাল থাকবে ‘ফ্লোটিং’ অবস্থায়—ম্যাচটি হবে হয় কলম্বোতে, নয়তো কলকাতায়। বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠলে তারা ৪ মার্চ কলম্বোতে সেমিফাইনাল–১ খেলবে। পাকিস্তান শেষ চারে না উঠলেও শ্রীলঙ্কা উঠলে এবং তাদের প্রতিপক্ষ ভারত না হলে ম্যাচটি কলম্বোতেই হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা, দুই দলই যদি সেমিফাইনালে না ওঠে, তাহলে সেমিফাইনাল–১ হবে কলকাতায় এবং সেমিফাইনাল–২ মুম্বাইয়ে। ভারত সেমিফাইনালে উঠলে তারা মুম্বাইয়েই খেলবে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ছাড়া যে দলই হোক। তবে ভারত–পাকিস্তান সেমিফাইনাল হলে ম্যাচটি হবে কলম্বোতে। আর যদি ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা তিন দলই সেমিফাইনালে না ওঠে, তাহলে সুপার এইটের গ্রুপ–১ চ্যাম্পিয়ন খেলবে গ্রুপ–২ রানার্স–আপের বিপক্ষে কলকাতায়। অন্য সেমিফাইনালে গ্রুপ–২ চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে গ্রুপ–১ রানার্স–আপের, মুম্বাইয়ে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান, দুই দলই সুপার এইটের গ্রুপ–২ এ রয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে সেমিফাইনাল হওয়ার সুযোগ নেই। গত নভেম্বরে ঘোষিত সূচিতে পাকিস্তান সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠলে কলম্বোকে ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা নকআউটে উঠলে কী হবে, তা স্পষ্ট ছিল না। নতুন ব্যাখ্যায় সেই ধোঁয়াশা কেটেছে। সব মিলিয়ে সমীকরণ পরিষ্কার—শ্রীলঙ্কা শেষ চারে উঠতে পারলে এবং প্রতিপক্ষ ভারত না হলে, ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা জোরালো। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সুপার এইটের ফলাফলের ওপর।

লেভান্তেকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা

লেভান্তেকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে আবারও পাল্টে গেল দৃশ্যপট। লেভান্তের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের দাপুটে জয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের হোঁচট খাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে কাতালানরা। এখন তাদের হাতে এক পয়েন্টের লিড। মৌসুমের শুরুতে একই প্রতিপক্ষকে হারাতে শেষ মুহূর্তের গোলের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু পরপর দুটি হার আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরালেও ন্যু ক্যাম্পে দলটি খেলেছে দৃঢ়তা আর ছন্দে ভর করে। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সা। এরপর সুযোগ আসে একের পর এক। রাফিনিয়া ও রবার্ট লেভানদোভস্কি সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। তবে আধাঘণ্টা পেরোতেই দ্বিতীয় গোল। লামিন ইয়ামাল, বের্নাল ও ক্যানসেলোর দারুণ সমন্বয়ে তৈরি সুযোগ থেকে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ছয় গজ বক্সে ভেসে আসা বল ঠেলে জালে পাঠান। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর লিগে গোল পেলেন নেদারল্যান্ডসের এই মিডফিল্ডার। শেষবার গোল করেছিলেন গত বছরের জানুয়ারিতে। বিরতির পরও দাপট ছিল বার্সার। কর্নার থেকে ক্যানসেলো ও গার্সিয়ার হাফ চান্স, লেভানদোভস্কি ও দানি অলমোর প্রচেষ্টা; সব মিলিয়ে চাপ ধরে রাখে তারা। গোলরক্ষক ম্যাট রায়ান কয়েকটি সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। শেষ ২৫ মিনিটে কোচ হানসি ফ্লিক একসঙ্গে তিন পরিবর্তন এনে নতুন গতি যোগ করেন। মাঠে নামেন ফার্মিন লোপেজ, ফেরান তোরেস ও চোট কাটিয়ে ফেরা পেদ্রি। ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে লোপেজ যেন ঝড় তুলে দেন। প্রায় পঁচিশ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের প্রচণ্ড শটে বল জড়িয়ে যায় জালের কোণে। গোলরক্ষক রায়ান শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় বড় জয়। এই জয়ে এক পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। টানা দুটি হারের পর এমন পারফরম্যান্স দলটির আত্মবিশ্বাসে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। এখন চাপটা রিয়াল মাদ্রিদের কাঁধে।

শাস্তি পাচ্ছেন না লিওনেল মেসি করেননি নিয়মভঙ্গ

শাস্তি পাচ্ছেন না লিওনেল মেসি করেননি নিয়মভঙ্গ লস অ্যাঞ্জেলেসে ৩–০ গোলে হারের পর ক্ষুব্ধ দেখা যায় ইন্টার মায়ামি তারকা লিওনেল মেসিকে। ম্যাচ চলাকালীন তাকে রেফারির সঙ্গে কথা-কাটাকাটি করতে দেখা যায়। খেলা শেষের পরও তাকে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়, যার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ শেষে দেখা যায়, রেফারি দল স্টেডিয়ামের ভেতরে তাদের কক্ষে প্রবেশ করছে। ওই সময় মেসিও তাদের দিকে এগিয়ে যান। ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্ত। তবে সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ তাকে ধরে ফিরিয়ে আনেন এবং দুজন একসঙ্গে নিজেদের দলের কক্ষে ফিরে যান। অনেকের ধারণা ছিল, মেসি রেফারিদের কক্ষে প্রবেশ করেছেন, যা করলে তাকে ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারত। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালায় মেজর লিগ সকার কর্তৃপক্ষ। প্রথমদিকে স্পষ্ট ছিল না, মেসি আসলে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন কি না। তবে তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানায়, তিনি কর্মকর্তাদের বিশ্রামকক্ষে প্রবেশ করেননি এবং নিয়মভঙ্গের মতো কোনো কাজও করেননি। ম্যাচ শেষে কোনো কর্মকর্তাও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। এদিকে ‘মায়ামি হেরাল্ড’-এর সাংবাদিক মিচেল কুপম্যান জানান, মেসি যে দরজা দিয়ে গিয়েছিলেন সেটি রেফারিদের কক্ষ ছিল না এবং সেটি নিষিদ্ধ এলাকাও নয়। রেফারিদের কক্ষ ছিল সিঁড়ি বেয়ে ওপরে, আলাদা দরজা ও সতর্কতামূলক চিহ্নসহ। ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো ম্যাচ শেষে মেসিকে রেফারির ওপর ক্ষুব্ধ হতে দেখেননি বলে জানান। তার ভাষায়, ‘না, আমি কিছু দেখিনি। ম্যাচ শেষ হতেই আমি কক্ষে চলে যাই। বর্তমানে শৃঙ্খলা কমিটির পক্ষ থেকে কোনো শাস্তির ঘোষণা আসেনি। সাধারণত পরবর্তী ম্যাচ সপ্তাহের আগেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তদন্তে নিয়মভঙ্গের প্রমাণ না পাওয়ায় মেসি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যাচ্ছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে তিনি পরবর্তী ম্যাচে দলের হয়ে মাঠে নামতে পারবেন।

ভারতীয় ওপেনারকে ‘স্লগার’ বলায় ব্যাখ্যা দিলেন আমির

ভারতীয় ওপেনারকে ‘স্লগার’ বলায় ব্যাখ্যা দিলেন আমির পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মাকে ‘স্লগার’ বলায় তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। স্বীকার করেছেন, অনেকেই তার এই মন্তব্য পছন্দ করেননি। তবে তিনি বলেন, কাউকে ছোট করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর সুপার এইট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর একটি পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলে কথা বলেন আমির। আমির আগে মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্ব ক্রিকেটে এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার অভিষেক শর্মার ডিফেন্সিভ টেকনিক যথেষ্ট নয় এবং কঠিন কন্ডিশনে মানসম্মত বোলারদের বিপক্ষে তিনি সমস্যায় পড়তে পারেন। সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। এবার আমির বলেন, “আমি একজন বোলারের দৃষ্টিকোণ থেকে তার টেকনিক নিয়ে কথা বলেছি। ‘স্লগার’ শব্দটি ব্যবহার করায় মানুষ কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু আমার উদ্দেশ্য তাকে অপমান করা ছিল না। তার টেকনিক এমন যে ভালো বোলারা তাকে ফাঁদে ফেলতে পারে। সে যে ১৪ রান করেছে, সবই এক পাশে খেলেছে। যেসব বল মেরেছে, সেগুলো ছিল খারাপ ডেলিভারি। কিন্তু যখন কাগিসো রাবাদা ভালো লাইন-লেংথে বল করা শুরু করল, তখন সে মানিয়ে নিতে পারেনি।’ তবে অভিষেকের প্রশংসাও করেন আমির। ‘সে ভালো খেলোয়াড়। টানা তিনটি শূন্য করার পরও তার ইতিবাচক মানসিকতা একই আছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকের উদ্দেশে প্রকাশ্য বার্তাও দেন আমির। তিনি বলেন, ‘আমার বার্তা যদি তার কাছে পৌঁছায়, আমি বলব—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তোমার টেকনিক ধরা পড়ে যায়। একটু ধৈর্য ধরো, বলের মেরিট অনুযায়ী খেলো, তাহলে আরো ভালো করবে। তার দক্ষতা আছে, এখন সে কিভাবে তা ব্যবহার করবে সেটাই আসল বিষয়।’ গ্রুপ পর্বে পেটের সংক্রমণে ভোগার পর সুপার এইট ম্যাচে ১২ বলে ১৫ রান করেন অভিষেক। একটি ছক্কা ও একটি চার মারলেও দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের গতি ও ভ্যারিয়েশনে অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মার্কো ইয়ানসেনের স্লোয়ার বলে আউট হন। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ১৮.৫ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট এখনো অভিষেকের পাশে রয়েছে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালে ২১ ম্যাচে ৮৫৯ রান করে দলকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছিলেন অভিষেক। সহকারী কোচ রায়ান টেন ডুশাট বলেন, কোচিং স্টাফের কাজ হবে তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। ভারত তাদের পরবর্তী সুপার এইট ম্যাচে ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে। এখন দেখার বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে অভিষেক শর্মাকে একাদশে রাখা হয় কিনা।

ক্রিকেটার শেখ মেহেদী মা হারালেন

ক্রিকেটার শেখ মেহেদী মা হারালেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসানের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তার মা মমতাজ বেগম রবিবার সকালে খুলনায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে। বিসিবি শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘মমতাজ বেগমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা শেখ মেহেদী হাসান এবং তার পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও সহানুভূতি জানাচ্ছি। শেখ মেহেদী টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডেও ছিলেন তিনি। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ শ্রীলংকা থেকে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার চেষ্টা করলেও আইসিসি সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি। মেহেদী ২০১৮ সালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে অভিষেক করেন। এ ফরম্যাটে ৭০ ম্যাচে ৬৮ ইনিংসে ২৪.০৫ গড়ে ৬৮ উইকেট নিয়েছেন এবং ওভারপ্রতি ৬.৭৩ রান দিয়েছেন। ব্যাট হাতে ৪৮ ইনিংসে ১১.৮৬ গড়ে ৪২৭ রান করেছেন, স্ট্রাইকরেট ১০১.১৮। ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে ৩১.১৪ গড়ে ১৪ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ১২২ রান, গড় ১৫.২৫ করেছেন তিনি।