স্কোয়াডে জায়গা না পেয়ে হতাশ নেইমার

স্কোয়াডে জায়গা না পেয়ে হতাশ নেইমার ব্রাজিল জাতীয় দলে আবারও ডাক না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করা এই তারকা ফুটবলার জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ফিরতে এবং বিশ্বকাপে খেলতে তিনি এখনও আশাবাদী, তবে সিদ্ধান্ত তার হাতে নেই। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়ার পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে আছেন নেইমার। সেই চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও পুরোপুরি ফিট না থাকায় তাকে আবারও দলে রাখা হয়নি। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য যে দল ঘোষণা করেছেন, সেখানে প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পাননি এই ফরোয়ার্ড। আগামী ২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে এবং ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এই দুটি ম্যাচই বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড় বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সেই সুযোগেও নেইমারকে দলে না রাখায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছেন তিনি। স্কোয়াড ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় নেইমার বলেন, তিনি আবার জাতীয় দলে ফিরতে চান এবং বিশ্বকাপ খেলাই তার বড় লক্ষ্য। তবে তিনি স্বীকার করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচিং স্টাফের। দলে থাকুন বা না থাকুন, ব্রাজিলের জন্য সমর্থন সবসময় থাকবে বলেও জানান তিনি। নিজের হতাশার কথাও লুকাননি এই ৩৪ বছর বয়সী ফুটবলার। স্কোয়াডে নিজের নাম না দেখে তিনি ‘হতাশ ও বিষণ্ন’ হয়েছেন বলে জানান। তবুও হাল ছাড়ছেন না নেইমার। তার কথায়, অনুশীলন ও ম্যাচ খেলে তিনি নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং এখনও বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার আশা শেষ হয়ে যায়নি। নেইমারকে দলে না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আনচেলত্তি বলেছেন, তিনি এখনও শতভাগ ফিট নন। কোচের মতে, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে নিজের সেরা খেলাটা দেখাতে পারলেই আবার জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফুটবলার। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে ক্লাবের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে নেইমারের সামনে। সেই ম্যাচগুলোতে ভালো পারফরম্যান্স এবং চোটমুক্ত থাকতে পারলে আবারও ব্রাজিল দলে ফেরার দরজা খুলতে পারে তার জন্য।

শরিফুলকে বাংলায় স্বাগত জানাল পেশোয়ার জালমি

শরিফুলকে বাংলায় স্বাগত জানাল পেশোয়ার জালমি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে শরিফুল ইসলাম প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে ডাক পেয়েছেন। সব ঠিক থাকলে নাহিদ রানার সঙ্গে পেশোয়ার জালমিতে দেখা যাবে বাঁ–হাতি এই পেসারকে। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে পিএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। পোস্টে শরিফুলের ছবি দিয়ে তারা লিখেছে, ‘দ্য ইয়োলো (জার্সি) স্টর্ম তোমাকে পেয়ে আরও শক্তিশালী হলো। বাংলাদেশ এক্সপ্রেস এই বাঁ-হাতি পেসার হলুদ জার্সিতে পাকিস্তান সুপার লিগ মাতাতে প্রস্তুত। গতি, স্ট্রাইক ও ঝড়ের শক্তি–তোমাকে জালমি পরিবারে স্বাগতম।’ শরিফুলকে স্বাগত জানানোর অংশটি বাংলায় (ইংরেজি ভাষায়) লিখেছে পেশোয়ার। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পিএসএলের একাদশ আসর অনুষ্ঠিত হবে। মুস্তাফিজের সঙ্গে লাহোরের জার্সি গায়ে জড়াবেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনও। এছাড়া রিশাদ হোসেন রাওয়ালপিন্ডি (পিন্ডিজ) এবং পেশোয়ারের হয়ে খেলবেন শরিফুল ও নাহিদ রানা। ২৬ মার্চ পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স ও হায়রাবাদ হিউস্টন। অর্থাৎ, আসরের প্রথম দিনেই মাঠে নামার সুযোগ রয়েছে দুই বাংলাদেশি তারকা মুস্তাফিজ-ইমনের। অন্যদিকে, ২৮ মার্চ প্রথম ম্যাচ রয়েছে রিশাদ, রানা ও শরিফুলের। তিনজনই একাদশে থাকলে ওই ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে নামবেন। অর্থাৎ, রানা-শরিফুলের পেশোয়ার জালমি লড়বে রিশাদের রাওয়ালপিন্ডির বিপক্ষে। একইভাবে মুস্তাফিজ-ইমনের লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষেও ম্যাচ রয়েছে পেশোয়ার ও রাওয়ালপিন্ডির। ফলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সতীর্থদের মুখোমুখি লড়তে হতে পারে এবারের পিএসএলে। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন শরিফুল। চট্টগ্রাম রয়্যালসর হয়ে খেলতে নেমে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো আসরে ১২ ইনিংসে মাত্র ৫.৮৪ ইকোনমি রেটে ২৬ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। এতে তিনি বিপিএলের গত মৌসুমের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন এবং এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও গড়েন।

ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজরে ‘মেসি’

ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজরে ‘মেসি’ ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ ক্লাবের নজরে এখন ফরাসি তরুণ ফুটবলার রায়ানে মেসি। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার প্রতিভা মুগ্ধ করেছে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোকে। তবে এত আগ্রহের মধ্যেও তাকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় রেখেছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব নিওমে ধারে খেলছেন রায়ানে মেসি। তিনি মূলত চেলসির সিস্টার ক্লাব স্ট্রাসবুর্গের খেলোয়াড়। চেলসির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্লুকো তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেই তাকে বিভিন্ন ক্লাবে ধারে পাঠানো হচ্ছে। প্যারিসে জন্ম নেওয়া এই উইঙ্গারকে ২০২৪ সালে ফরাসি ক্লাব দিজোঁ থেকে দলে নেয় ব্লুকো। তার আগেই তিনি ফ্রান্সের বিখ্যাত ফুটবল একাডেমি ক্লেয়ারফন্টেইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে নজর কাড়েন। গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য অল্প বয়সেই তাকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে দিজোঁর একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর দ্রুতই উন্নতি করতে থাকেন মেসি। ১৬ বছর বয়সেই ক্লাবটির হয়ে সিনিয়র দলে অভিষেক ঘটে তার। এরপর অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য তাকে ধারে পাঠানো হয় পাও এফসি এবং বর্তমানে তিনি খেলছেন নিওমে। তার ধারাবাহিক উন্নতির কারণে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব ইতোমধ্যে তার খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ, স্পেনের বার্সেলোনা এবং ফ্রান্সের পিএসজি তাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে চেলসির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্লুকো পরিষ্কার করে জানিয়েছে, রায়ানে মেসিকে ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং ভবিষ্যতে তাকে বড় মঞ্চে তুলে আনতেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে তারা।পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী মৌসুমে তাকে স্ট্রাসবুর্গের মূল দলে খেলানোর কথা ছিল। তবে তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে সেই পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তনও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে বাংলাদেশ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের পর সিরিজ জয়ের উল্লাস। কনফেত্তি উড়ল, লাল-সবুজ রঙে রাঙানো ট্রফি নিতে উদযাপন চলল। এই জয়ের আনন্দে বাড়তি উচ্ছ্বাসের উপলক্ষ হয়ে এলো র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন ৯ নম্বরে। আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পরও র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে ছিল বাংলাদেশ। তবে ক্যারিবিয়ানদের সঙ্গে রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান ছিল স্রেফ ১। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতলেও পরের ম্যাচে বাজেভাবে হেরে যান মিরাজরা। শেষ ম্যাচে রোববার রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ১১ রানের জয়ে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতিও নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে সিরিজ শুরু করে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর এখন বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৯। দশে নেমে যাওয়া ক্যারিবিয়ানদের পয়েন্ট ৭৭। সিরিজ হারলেও পাকিস্তান রয়ে গেছে চার নম্বরেই। তবে রেটিং পয়েন্ট ১০৫ থেকে কমে হয়েছে তাদের ১০২। আগামী বছরের ৩১ মার্চ তারিখে র‌্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত হবে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা দলগুলির নাম। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র‌্যাঙ্কিংয়ের অন্য শীর্ষ ৮ দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে।

নাহিদ রানার যত্ন নিন- পাকিস্তান অধিনায়ক

নাহিদ রানার যত্ন নিন- পাকিস্তান অধিনায়ক   পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। গতকাল অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে বোলিংয়ে আগুন ঝরিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ৫ উইকেটের পর শেষ ওয়ানডেতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট। সব মিলিয়ে সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে প্লেয়ার অব দা সিরিজ পুরস্কারও জিতেছেন নাহিদ। আর তার কাছে ধরাশায়ী হয়ে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বললেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যথাযথ যত্ন নিলে দলের মেইন ম্যাচ হয়ে উঠবেন নাহিদ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে একাই পাকিস্তানের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন নাহিদ। আগুনঝরা ফাস্ট বোলিংয়ে সফরকারীদের প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে একাই আউট করে তিনি গড়েছিলেন রেকর্ড। সব মিলিয়ে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পেয়েছিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। পরের দুই ম্যাচেও বোলিংয়ের ধার ধরে রেখে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক ও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার আফ্রিদি। সিরিজের শেষ ম্যাচের পর টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার তাই নাহিদের যত্ন নেওয়ার পরামর্শই দিলেন। “বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নাহিদ অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা। বাংলাদেশের উচিত তার যত্ন নেওয়া। প্রতিটি ম্যাচে তাকে ব্যবহার না করে, শুধু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে খেলানো উচিত। তাহলে সে দলের জন্য মেইন ম্যান হতে পারবে।” সদ্য সমাপ্ত এই সিরিজের উইকেট পাকিস্তানের জন্য ছিল একরকম সারপ্রাইজের মতো। কারণ গত বছরের অক্টোবরে মিরপুরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পুরোপুরি স্পিনিং উইকেট বানিয়ে খেলেছিলেন বাংলাদেশ। সেখান থেকে পুরোপুরি বদলে ফেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবুজ ঘাসের উইকেটে খেলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাসরা। যেখানে ব্যাটার-বোলারের জন্য ছিল প্রায় সমান-সমান সুবিধা। যা কিছুটা অবাক করেছে আফ্রিদিকেও। “তারা এখানে যে সবশেষ সিরিজটি খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, পুরো ৫০ ওভার স্পিনার দিয়ে করিয়েছিল। আর এখন ছিল সবুজ উইকেট। তবে হ্যাঁ ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল উইকেট। সব মিলিয়ে উপভোগ্য ছিল।”

সাদাকাত-সালমানের ফিফটিতে পাকিস্তানের লড়াকু সংগ্রহ

সাদাকাত-সালমানের ফিফটিতে পাকিস্তানের লড়াকু সংগ্রহ মাআজ সাদাকাত ও সালমান আলী আগার অর্ধশতকে ভর করে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লড়াকু সংগ্রহ গড়েছে পাকিস্তান। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে শুরুটা দারুণভাবে কাজে লাগায় পাকিস্তানের ওপেনাররা। সাহিবজাদা ফারহান ও মাআজ সাদাকাত মিলে মাত্র ৭৭ বলে গড়ে তোলেন ১০৩ রানের ঝড়ো উদ্বোধনী জুটি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৪৬ বলে ৭৫ রান করেন সাদাকাত, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত মিরাজের বলেই থামে তার ইনিংস। সাদাকাত আউট হওয়ার পর দ্রুতই দুই উইকেট হারায় পাকিস্তান।  ৪৬ বলে ৩১ রান করা ফারহান তাসকিন আহমেদের শিকার হন, আর শামিল হোসেন আউট হন নাহিদ রানার বলে। এতে ১৯.৩ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১২২। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে আবারও শক্ত অবস্থানে নেন সালমান আলি আগা। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১০৯ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় পাকিস্তান। তবে এই জুটির সমাপ্তি হয় কিছুটা অদ্ভুতভাবে। নন-স্ট্রাইক প্রান্তে ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়ে বল তুলতে গিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক মিরাজের থ্রোতে রান আউট হন আঘা। সাজঘরে ফেরার আগে ৬২ বলে ৬৪ রান করেন তিনি, ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। একই ওভারে বিদায় নেন রিজওয়ানও। ৫৯ বলে ৪৪ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। এরপর হঠাৎই ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। শেষ পাঁচ উইকেট মাত্র ৪৩ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে তারা। ফলে ৩০০ রানের সম্ভাবনা জাগলেও শেষ পর্যন্ত ২৭৪ রানেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিশাদ হোসেন, নেন ৩ উইকেট। এছাড়া মেহেদি হাসান মিরাজ ২টি এবং নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।

বাংলাদেশের সামনে বাঁচা-মরার লড়াই, ইতিহাস কার পক্ষে?

বাংলাদেশের সামনে বাঁচা-মরার লড়াই, ইতিহাস কার পক্ষে?\ প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার গতির ঝলক আর ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সিরিজের শুরুটা দারুণ করেছিল টাইগাররা। তবে পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষের দাপটে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে স্বাগতিকদের।  প্রতিপক্ষের হয়ে ঝোড়ো ব্যাটিং করেন মাজ সাদাকাত। পাশাপাশি তার বাঁহাতি ঘূর্ণি বোলিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ফলে সহজ জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এই হারের পর তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। ফলে শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে কার্যত বাঁচা–মরার লড়াইয়ে। যে দল জিতবে, তার হাতেই উঠবে লাল-সবুজে মোড়ানো সিরিজের ট্রফি। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। রবিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। পরিসংখ্যান বলছে, এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কম নয়। এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের এক দিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ মোট ৭৯টি। এর মধ্যে ২৫টি সিরিজের ফল নির্ধারিত হয়েছে ২-১ ব্যবধানে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১২টি সিরিজ, আর ১৩টিতে হেরেছে। এই ২৫ সিরিজের মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা হয়েছিল ১৬ বার। এর মধ্যে আটবার শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করেছে বাংলাদেশ। বাকি আটবার জয় গেছে প্রতিপক্ষের ঘরে। ১-১ সমতা থেকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের যে আটটি ঘটনা আছে, তার ছয়বারই প্রথম ম্যাচ জয়ের পর দ্বিতীয়টিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর শেষ ম্যাচ জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এবারও ঠিক তেমন এক চ্যালেঞ্জের সামনে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে বাংলাদেশও গুটিয়ে যায় ঠিক ১১৪ রানে। তাই শেষ ম্যাচে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সই আবার দেখতে চাইবে স্বাগতিকরা। সাম্প্রতিক সময়েও এমন পরিস্থিতি সামলানোর নজির আছে বাংলাদেশের। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ হারার শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দলটি। একইভাবে ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হারলেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সেই কীর্তি গড়তে পারলে র‍্যাঙ্কিংয়েও মিলবে সুখবর। সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিততে পারলে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠবে বাংলাদেশ। আর শেষ ম্যাচ হারলে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানেই থাকতে হবে টাইগারদের। তবে অতীতে প্রথম ম্যাচ জয়ের পরও সিরিজ হারার তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর বাকি দুটি ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানের হার বাংলাদেশের

ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানের হার বাংলাদেশের বৃষ্টি-বিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ছন্দ হারিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ১২৮ রানে জিতে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় পাকিস্তান। মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ৪৭.৩ ওভারে তোলে ২৭৪ রান। পরে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। পাকিস্তানের বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাতের কারণে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা। পাকিস্তানের ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। ৭ বলে মাত্র ১ রান করে ফেরেন তিনি।  এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অপর ওপেনার সাইফ হাসানও। মোহাম্মদ ওয়াসিমের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। আব্দুল সামাদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১২ বলে দুই চারে ১২ রান করেন সাইফ। টপ অর্ডারের আরেক ধাক্কা আসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেটে। শাহিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন শান্ত। ২ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি। এই অবস্থায় ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭ রান। লিটন দাসের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। এর মধ্যেই মাঠে ঝড়ো বাতাস ও আশপাশে বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার।  রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আবার খেলা শুরু হয়। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজন মিলে ৪৮ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। লিটন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৩৩ বলে ৪১ রান করেন। তবে বাঁহাতি স্পিনার মাজ সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হলে ভেঙে যায় জুটি। লিটনের বিদায়ের পর দ্রুতই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। আফিফ হোসেন ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন, মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ১ রান করে ফিরেন। সাদাকাতের স্পিনে রিশাদ হোসেনও টিকতে পারেননি। এক প্রান্তে কিছুটা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন হৃদয়। কিন্তু হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৮ বলে ২৮ রান করে তার ইনিংস শেষ হলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরে মোস্তাফিজুর রহমানও রউফের বলে কট বিহাইন্ড হলে বাংলাদেশের নবম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল। তাসকিন আহমেদও বিদায় নেন ১৪ বলে ৫ রান করে। এর আগে পাকিস্তানের দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাটে দারুণ শুরু পেয়েছে সফরকারীরা। শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলেছেন সাদাকাত। মাত্র ৩১ বলে ফিফটির ঘরে পৌঁছান তিনি। তাদের শতরানের জুটি ভাঙেন অধিনায়ক মিরাজ। পাকিস্তানের শতরানের আগে বাংলাদেশ কোনো উইকেটের সুযোগ ই পায়নি। নাহিদ রানার ডেলিভারিতে সাহিবজাদা ফারহানের এলবিডব্লিউর আবেদন মেনে আউট দেন আম্পায়ার তানভির আহমেদ। তবে সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন ব্যাটসম্যান। তাতেই বদলে যায় সিদ্ধান্ত। সাদাকাতের বিপক্ষেও কট বিহাইন্ডের আবেদন করে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাসকিনের বল ব্যাটে লাগেনি, তাই রিভিউ হারাতে হয় স্বাগতিকদের। তবে ১৩তম ওভারের শেষ বলে আর শেষ রক্ষা হয়নি। মিরাজের বলে সহজেই বল তালুবন্দী করেন লিটন দাস। শুরুতে অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকলেও সাবলীল ছিলেন না ফারহান। রান তোলার গতি বাড়াতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত উইকেট দেন তিনি। তাসকিন আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন তাওহীদ হৃদয়। ফারহান ৪৬ বলে ৩১ করেন। এরপর কিছুক্ষণ পর আরেকটি সাফল্য পায় বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ঠিকঠাক লাগাতে পারেননি শামিল হুসাইন। ক্যাচ নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২২ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। সেখান থেকে ইনিংস সামলান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। দুজন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি।  পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ৩৪তম ওভারে পাকিস্তান স্পর্শ করে দুইশ রানের মাইলফলক।  ৫০ বলে ৫০ রান করা সালমান পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি। রিজওয়ানের সঙ্গে তার জুটি একশ ছাড়ায় মাত্র ১০৮ বলে। তবে নাটকীয়ভাবে ভাঙে এই জুটি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফ্লিক করে রিজওয়ান বল ফেরত দিলে ক্রিজের বাইরে ছিলেন সালমান। দ্রুত বল তুলে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন মিরাজ। ৬২ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদায় নেন রিজওয়ানও। ৫৯ বলে ৪৪ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। পরের ধাক্কা আসে হুসাইন তালাতের উইকেটে। ১৩ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন তালাত। এরপর রান আউটে ফেরেন আব্দুল সামাদ। মিডউইকেটে বল পাঠিয়ে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে বিপদে পড়েন তিনি।  অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম ছিলেন ব্যর্থ। তবে ফাহিম আশরাফ ১৫ বলে ১৪ রানের ক্যামিও উপহার দেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ২৭৪ রানে।

লিটনের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল মনে নেই সালমানের

লিটনের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল মনে নেই সালমানের বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজের সেই বিতর্কিত রান আউট ঘিরে মিরপুরের মাঠে তৈরি হয়েছিল চরম উত্তেজনা। আউটের সিদ্ধান্ত আসার পর পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগার সঙ্গে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বেশ কয়েক দফা বাক্যবিনিময় হতে দেখা যায়। বিশেষ করে উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসকে বেশ ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে সালমানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল। তবে ম্যাচ শেষে সেই তিক্ততা ভুলে শান্ত মেজাজেই ধরা দিলেন পাক অধিনায়ক। ঘটনাটি ঘটে যখন রান আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। শুরুতে সালমান বিষয়টি কিছুটা হালকাভাবে নিলেও আম্পায়ার আউটের সংকেত দেওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মিরাজের আন্ডারআর্ম থ্রোতে আউট হওয়া মেনে নিতে না পেরে সালমান মাঠেই মেজাজ হারান। সে সময় লিটন কুমার দাস, সাইফ হাসান ও আফিফ হোসেনের সঙ্গে তাকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। লিটন দাসের আগ্রাসী ভঙ্গি সে সময় পরিস্থিতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে লিটনের সঙ্গে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা জানতে চাওয়া হলে হাসিমুখেই উত্তর দেন সালমান। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, লিটনকে ঠিক কী বলেছিলাম তা এখন আর মনে করতে পারছি না। এটাও মনে নেই যে সে আমাকে কী বলছিল। তবে এটুকু নিশ্চিত, আমি যেমন ভালো কিছু বলিনি, সে-ও খুব একটা ভালো কিছু বলেনি। তবে ওটা স্রেফ ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট’ ছিল। এখন আমরা দুজনেই ঠিক আছি।” মাঠে হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে মেরে মেজাজ হারানোর বিষয়টি নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সালমান। তিনি মনে করেন, মাঠের প্রচণ্ড উত্তেজনার কারণেই এমনটা ঘটেছে। তার ভাষায়, ‘ঘটনার পরে কী হয়েছে তা সবাই দেখেছে। মুহূর্তের উত্তেজনায় অনেক কিছুই ঘটে যায়। তবে এরপর যা হয়েছে, সবটুকুই ওই সময়ের পরিস্থিতির কারণে। এটাকে বড় করে দেখার কিছু নেই।’ মাঠের লড়াই শেষে পাকিস্তান বড় জয় পেলেও মিরাজের রান আউট এবং লিটন-সালমানের সেই বাদানুবাদ ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে এখনো আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।

এফডিআর থেকে টাকা তোলার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন: বিসিবি

এফডিআর থেকে টাকা তোলার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন: বিসিবি কয়েকদিন আগে অভিযোগ উঠেছলো দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত বা এফডিআর থেকে টাকা তুলছে বিসিবি। আজ (শুক্রবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেটা অস্বীকার করেছে দেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা। শুক্রবার বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, ‘সম্প্রতি একটি খবর প্রচার করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের এফডিআর থেকে টাকা তুলছে । বিসিবির নজরে বিষয়টি এসেছে। বিসিবি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের খবর বিসিবির বর্তমান আর্থিক অবস্থা বা তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিবৃতিতে বিসিবি আরও জানায়, সব ধরনের খরচ বোর্ডের নিয়মে স্বচ্ছ প্রক্রিয়াতেই হচ্ছে, ‘বিসিবি তাদের যাবতীয় আর্থিক কর্মকাণ্ড ও খরচ বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন করে আসছে। বোর্ডের নিয়মিত আয়ের উৎস যেমন বাণিজ্যিক চুক্তি, বিভিন্ন ইভেন্ট এবং অন্যান্য বৈধ খাত থেকে আসা রাজস্ব দিয়েই সব ব্যয় মেটানো হয়। বিসিবি তার বর্তমান সম্পদ দিয়েই যেকোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করার মতো যথেষ্ট সামর্থ্য রাখে।