ইকুয়েডরের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় ব্রাজিলের

ইকুয়েডরের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইয়ে টানা চার ম্যাচ কেটেছে জয় শূন্য। এরপর কোপা আমেরিকাতেও সঙ্গী হয়েছে ভরাডুবি। ব্রাজিলের সময়টা বেশ খারাপ যাচ্ছিলো। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ দিয়ে সেই সময় পেছনে ফেলে জয়ের ধারায় ফিরলো দরিভাল জুনিয়রের দল। জয় পেতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে ব্রাজিলকে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের লড়াইয়ে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে ইকুয়েডরকে। বাংলাদেশ সময় শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। ঘরের মাঠে তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় তারা। তবে রদ্রিগোর ফ্রি কিকে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি লুইস এইহিক। দ্বাদশ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে রদ্রিগোর শট ফেরান ইকুয়েডর গোলরক্ষক হেরমান গালিনদেস। গোলের নেশায় ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠা ব্রাজিল একের পর এক আক্রমণ করে যেতে থাকে। তাতে ফল মেলে ৩০তম মিনিটে। লুকাস পাকেতার কাছ থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন রিয়াল তারকা রদ্রিগো। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেই ব্রাজিল বিরতিতে যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছিলো। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে সমতা প্রায় ফিরিয়েই ফেলেছিল ইকুয়েডর। বল পায়ে এগিয়ে যান কেভিন রদ্রিগেজ। তার পাস খুঁজে নেয় কেইসেদোকে। সামনে কেবল আলিসন। কেইসেদোর শট তিনি ঠেকালেও হাতে রাখতে পারেননি। ফিরতি শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দারুণ জমে ওঠে ম্যাচ। ৬৫তম মিনিটে গতি ও পায়ের কারিকুরিতে ঝলক দেখান ভিনিসিউস। তবে তার শট সহজেই ঠেকান ইকুয়েডর গোলরক্ষক। এরপর নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে একটি সুযোগ পায় ইকুয়েডর। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি তারা। এই নিয়ে ৭ ম্যাচে তৃতীয় জয় পেল ব্রাজিল। তাদের পয়েন্ট হলো ১০। পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে উঠে এলো পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে নেমে গেল ইকুয়েডর। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় আছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বড় ব্যবধানে চিলিকে হারালো মেসিহীন আর্জেন্টিনা

বড় ব্যবধানে চিলিকে হারালো মেসিহীন আর্জেন্টিনা ইনজুরির কারণে লিওনেল মেসি ছিলেন না। ম্যাচের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দল থেকে বিদায় নিয়েছেন আনহেল দি মারিয়াও। আক্রমণভাগের দুই অগ্রসৈনিকের অনুপস্থিতির কারণে অবশ্য খুব একটা ভুগতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। আজ ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে চিলিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। বুয়েনস এইরেসের এন্তাদিও মাস মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের জয়ে গোল করেছেন আলেক্সিস মাক আলিস্তার, হুলিয়ান আলভারেজ এবং বদলি নামা পাওলো দিবালা। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার বল পেলেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। তাদের বেশ কয়েকটি আক্রমণ প্রতিপক্ষের বক্সে গিয়ে প্রতিহত হয়। সুযোগ এসেছিল চিলির সামনেও। কিন্তু তাদের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য নতুন রূপে দেখা দেয় আর্জেন্টিনা। ৯১তম মিনিটে গারনাচোর অ্যাসিস্টে বদলি হিসেবে নামা দিবালার গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টাইনদের। এই জয়ে দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইয়ে ৭ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা। আগামী মঙ্গলবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
মোরসালিনের গোলেই জিতল বাংলাদেশ

মোরসালিনের গোলেই জিতল বাংলাদেশ ফিফা প্রীতি ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন শেখ মোরসালিন। যদিও এরপর আর কোনো গোল হয়নি। তাই জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে ম্যাচের পাঁচ মিনিটেই গোল করে দলকে লিড এনে দিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলার শেখ মোরসালিন। অনেকটা সৌভাগ্যপ্রসূত গোলেই দলকে এগিয়ে দেন তিনি। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে করা রাকিবের ক্রস ফিস্ট করে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করেন নেপালের গোলরক্ষক শেরিং ধেনদুপ। বল যেয়ে পড়ে মোরসালিনের পায়ে, সেখান থেকে বল জালে জড়াতে কোনও ভুল করেননি এই তরুণ তারকা। ১৮ মিনিটে সতীর্থের লং ক্রস গতি দিয়ে সাদউদ্দিনকে পেছনে ফেলে নিয়ন্ত্রণে নেন নিমা ওয়াংদি। কিন্তু তার শট পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন মিতুল মারমা। কর্নারে ইয়েশে গাইয়েতলসেনের হেড দূরের পোস্ট ঘেঁষে বরিয়ে যায়। বিরতির পর রাকিবের বদলি হিসেবে শাহরিয়ার ইমনকে নামান কোচ কাবরেরা। আর ভুটান নামে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে। ৫০ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে বাংলাদেশে জাল কাপায় ভুটান। তবে অফ সাইডের কারণে পরে গোল বাতিল হয়। বাকি সময়ে দুই দলই চেষ্টা করেছে, তবে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ভুটানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দশম জয়। দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচটি একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর।
ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই মেসি-রোনালদো

ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই মেসি-রোনালদো গত বুধবার রাতে ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’- এর পুরস্কার ব্যালন ডি’অর ২০২৪ এর ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৩ সালের পর প্রথমবার ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কেউই। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্যালন ব্যালন ডি’অরে আধিপত্য ছিল এই দুইজনের। গত ১৬ বছরের মধ্যে ১৩ বারই তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন পুরস্কারটা। তবে সময়ের পরিক্রমায় শেষ হতে যাচ্ছে মেসি-রোনালদোর আধিপত্য। দু’জনের কেউ এই বছরের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও জায়গা পাননি! মেসি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রেকর্ড আটবার। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবার পেয়েছেন রোনালদো। ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই দু’জনের বাইরে কেউ পুরস্কারটি জিততে পারেননি। ২০১৮ সালে লুকা মদ্রিচ মেসি-রোনালদোকে থামিয়ে হাতে নেন এই পুরস্কার। এবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের এই পুরস্কার জয়ের লড়াইয়ে আছেন বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার। এই তালিকায় এগিয়ে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহাম ও ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড। ব্যালন ডি’অরের জন্য ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা: জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ), রুবেন দিয়াস (ম্যানচেস্টার সিটি), ফিল ফোডেন (ম্যানচেস্টার সিটি), ফেদেরিকো ভালভের্দে (রিয়াল মাদ্রিদ), এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), আর্লিং হালান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি), নিকো উইলিয়ামস (অ্যাটলেটিকো বিলবাও), গ্রানিত জাকা (বায়ার লেভারকুজেন), আর্তেম দোভিক (জিরোনা/রোমা), টনি ক্রুস (রিয়াল মাদ্রিদ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), দানি ওলমো (লাইপজিগ/বার্সেলোনা), ফ্লোরিয়ান ভিরৎজ (বায়ার লেভারকুজেন), মার্টিন ওডেগোর (আর্সেনাল), মাটস হুমেলস (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি), হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ), ডেকলান রাইস (আর্সেনাল), ভিতিনিয়া (পিএসজি), কোল পালমার (ম্যানচেস্টার সিটি/চেলসি), দানি কারভাহাল (রিয়াল মাদ্রিদ), লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা), বুকায়ো সাকা (আর্সেনাল), হাকান কালহানোগলু (ইন্টার মিলান), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল), কিলিয়ান এমবাপে (পিএসজি/রিয়াল মাদ্রিদ), লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান), অ্যাডেমোলা লুকম্যান (আতালান্তা), আন্টোনিও রুডিগার (রিয়াল মাদ্রিদ), আলেক্স গ্রিমাল্দো (বায়ারলেভারকুজেন)।
কেন ট্রফি নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন শান্ত?

কেন ট্রফি নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন শান্ত? লিওনেল মেসিকে দেখে অুনপ্রাণিত হয়েই কি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ট্রফি নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন কিনা? এমন প্রশ্ন উঠতেই শান্ত জানালেন ভিন্ন কথা। শান্ত জানালেন তিনি মেসিকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নয়, সিরিজ জয়ের মুহূর্ত উপভোগ করতেই ট্রফিটি বিছানায় নিয়ে ঘুমিয়েছেন। পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এই জয়ের পরেই ট্রফি নিয়ে ঘুমানোর একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন শান্ত। আর তার এই এই ছবি দেখেই হয়তো মেসির কথাই মনে পড়ছে অনেকের। মেসিও বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফি নিয়ে এভাবেই ঘুমিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে শান্ত জানান, ‘জয়টা অনেক স্পেশাল ছিল। যেটা বললাম বাংলাদেশের (ক্রিকেটে) সবচেয়ে বড় অর্জন। মুহূর্তটি ভালোভাবে উপভোগ করতে মনে হলো ট্রফিটি নিয়েই ঘুমাই। কাউকে দেখে নয় জিনিসটা। লিওনেল মেসিকে দিয়েই (ট্রফি নিয়ে বিছানায় ঘুমোনো) শুরু হয়েছিল।’
হকির ওস্তাদ ফজলু আর নেই

হকির ওস্তাদ ফজলু আর নেই নাম হাজি মো. ফজলুল ইসলাম হলেও তাকে সবাই চেনেন ‘ওস্তাদ ফজলু’ নামে। বাংলাদেশের হকিতে যিনি পরিচিতি এক নাম। তিনি আজ চলে গেছেন না ফেরার দেশে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সাবেক এই হকি খেলোয়াড় মৃত্যুকালে স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। এমনিতে আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন। স্ট্রোক করার পর অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠে হকি অঙ্গনে ফিরেছিলেন। এবার আর ফেরা হয়নি। আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজ বাসার বারান্দায় হঠাতই পড়ে যান। হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ততক্ষণে সব শেষ। সকালেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন তিনি। বাংলাদেশের হকির পাইপলাইন ছিল বিকেএসপি ও পুরান ঢাকা। এই দুই জায়গা থেকেই মূলত হকি খেলোয়াড় উঠে আসত। পুরান ঢাকায় বছরের পর বছর হকি নিয়ে কাজ করেছেন ফজুল । অসংখ্য খেলোয়াড় তার হাতে তৈরি যারা এখন ও বিগত সময়ে জাতীয় দলে খেলেছেন।
পাকিস্তানে জেতা ট্রফি নিয়ে মেসির মতো পোজ শান্তর

পাকিস্তানে জেতা ট্রফি নিয়ে মেসির মতো পোজ শান্তর পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে নিজেদের মাটিতেই পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ। যার প্রতিফলন দেখা দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দেওয়া পোস্টে। আজ সিরিজের ট্রফি নিয়ে ঘুমানোর একটি ছবি নিজের অফিশিয়াল পেইজে শেয়ার করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ক্যাপশনে তিনি লিখেন, ‘শুভ সকাল। ’ তার দেওয়া এই পোস্টে ভক্তরা জানিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকের কাছে বিষয়টি ভালো লাগলেও অনেকে করেছেন সমালোচনা। ছবির কমেন্ট সেকশনে একজন লিখেছেন, ‘সাধারণ এই ট্রফি নিয়ে এই অবস্থা,, আইসিসি ট্রফি হলে কি যে করতো। যাইহোক গরীবের মেসিকে অভিনন্দন। ’আরেক কমেন্টে অন্যজন লিখেন, ‘ভাই এই সিরিজে অধিনায়কত্ব ছাড়া আপনার আর কি অবদান আছে জাতি জানতে চায়। ’ আরেকজন লিখেছেন, ‘নাটক কম করো পিও,এটা বিশ্বকাপ না। ’ তবে শুধু নেতিবাচক কমেন্ট না, অনেকেই শান্ত ও বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, ‘মেসির ছোটভাই। অভিনন্দন ভাই। আরো বিজয় দেখতে চাই। ’ আরেকজন কমেন্ট করেছেন, ‘ট্রফি বুকে জড়িয়ে ঘুম কেমন হলো ক্যাপ্টেন? এমন আরও প্রচুর ছবি দেখতে চাই। ’ প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটে জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে রাওয়ালপিন্ডিতে টস হেরে প্রথম ইনিংসে ২৭৪ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করে ২৬২ রান। পাকিস্তান পরের ইনিংসে ১৭২ রানে অলআউট হলে ১৮৫ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় বাংলাদেশের সামনে। এই রান সহজেই তাড়া করে ফলে বাংলাদেশ। সঙ্গে সিরিজও নিজেদের কর নেয় তারা।
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে বাংলাদেশের দরকার ১৮৫ রান

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে বাংলাদেশের দরকার ১৮৫ রান হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানার বোলিং তোপে তৃতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে ১৭২ রানে আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ। জেতার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৮৫ রান। ২ উইকেটে ৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তানের উইকেটে প্রথম হানা দেন তাসকিন আহমেদ। ৩৫ বলে ২০ রান করা সাইম আইয়ুবকে মিড অফে নাজমুল হোসেনের ক্যাচে পরিণত করেন এই পেসার। এরপর ৩৪ বলে ২৮ রান করে ওয়ানডে মেজাজে খেলতে থাকা শান মাসুদকে আউট করেন নাহিদ রানা। শান উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। এর পর একে একে বাবর আজম ও সাউদ শাকিলকেও ফেরান নাহিদ। এক সময় ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা পাকিস্তানকে টেসে তোলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা। তাদের ৫৫ রানের জুটিতে পাকিস্তান কিছুটা বিপদ কাটিয়ে উঠে। কিন্তু বিরতির পর তৃতীয় ওভারের পর পর দুই বলে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও মোহাম্মদ আলিকে আউট করেন হাসান মাহমুদ। ৭৩ বলে ৪৩ রান করেন রিজওয়ান। আবরারের উইকেট তুলে নেন নাহিদ। শেষদিক সালমানের ৪৭ রানে ভর করে অলআউট হওয়ার আগে পাকিস্তান তুলে ১৭২ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে লিড নেয় ১৮৪ রানের। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৫টি ও নাহিদ রানা নেন চারটি উইকেট।
হাসানের জোড়া আঘাতে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

হাসানের জোড়া আঘাতে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ সাদমান ইসলাম ক্যাচ মিস না করলে প্রথম বলেই আউট হতে পারতেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। কিন্তু এরপর যতটা সময় থেকেছেন, ততটা সময় বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে ছিলেন তিনি। আগা সালমানকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটছিলেন বড় জুটির দিকেই। কিন্তু দিনের দ্বিতীয় সেশনে তাকে সাজঘরে ফেরান হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশও পায় ব্রেকথ্রু। পরের বলেও উইকেটের দেখা পান হাসান, জাগিয়ে তোলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। যদিও সেটি হয়নি। তবে তার জোড়া আঘাতে জয়ের সুবাস বেশ ভালোভাবেই পাচ্ছে টাইগাররা। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষটিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ২৭৪ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করে ২৬২ রান। চতুর্থ দিনে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান করেছে পাকিস্তান। লিড নিয়েছে ১৫৭ রানের। আগা সালমান ২৪ ও আবরার আহমেদ ২ রানে ব্যাট করছেন। আগের দিন খুররাম শেহজাদ আউট হলে খেলা শেষ হয়ে যায়। এরপর চতুর্থ দিনের শুরুতে সায়েম আইয়ুবের সঙ্গী হন শান মাসুদ। দিনের নবম ওভারে তাদের জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। ড্রাইভ করতে গেলে মিড অফে তার দারুণ ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৩৫ বলে ২০ রান করে ফেরেন আইয়ুব। টানা ছয় ওভার করার পর তাসকিনকে সরিয়ে আনা হয় নাহিদ রানাকে। এই পেসার দুর্দান্ত এক স্পেলই করেন। টানা তিন ওভারে উইকেট পান। শুরুটা হয় পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদকে দিয়ে। গুড লেন্থের বল বেরিয়ে যাওয়ার সময় ড্রাইভ করতে যান শান মাসুদ, কিন্তু বল ব্যাট ছুয়ে যায় উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। ৩৪ বলে ২৮ রান করেন তিনি। পরের ওভারে এসে বাবর আজমও আউট হন। ১৮ বলে ১১ রান করার পর স্লিপে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। পরের বলেই আরও একটি উইকেট পেয়ে যেতে পারতেন নাহিদ। কিন্তু মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই রিজওয়ানের তুলে দেওয়া ক্যাচ বাঁ দিকে সরে নিতে পারেননি সাদমান। এরপরও অবশ্য উইকেট পেয়েছেন নাহিদ। ১০ বলে ২ রান করা সৌদ শাকিল নাহিদের বলেই ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক লিটনের হাতে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে অবশ্য বাংলাদেশকে ভুগতে হচ্ছে রিজওয়ানের ক্যাচ ছাড়ার জন্য। দ্বিতীয় সেশনে নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই পঞ্চম বলে রিজওয়ানকে (৪৩) ফেরান হাসান। অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন এই পাকিস্তানি ব্যাটার। পরের বলে স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ আলী।
অবশেষে ২৬২ রানে অলআউট বাংলাদেশ

অবশেষে ২৬২ রানে অলআউট বাংলাদেশ দীর্ঘদিন পর হাসলো লিটন দাসের ব্যাট। ক্রিজে ছিলেন শেষ ভরসা হয়ে।দলের বিপদে হাল ধরার পর তুলে নিয়েছেন অসাধারণ সেঞ্চুরি। এরপর ছুটছিলেন ১৫০-এর দিকেও। তবে সে পর্যন্ত যেতে পারেননি তিনি। তার থেমে যাওয়ায় লিডের দেখা পায়নি বাংলাদেশও। রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে করা ২৭৪ রানের জবাবে ২৬২ রানে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। পাকিস্তান লিড পেলো ১২ রানের। ফলে ১২ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নামবে স্বাগতিকরা। ২৬ রানেই ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ২৬২ পর্যন্ত যায় লিটন দাসের সেঞ্চুরি ও মেহেদী হাসান মিরাজের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে। লিটন-মিরাজ সপ্তম উইকেটে ১৬৫ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দিয়ে লড়াকু পুঁজির ভিত গড়ে দেন। ১৯১ রানের মাথায় মিরাজ ১২ চার ও ১ ছক্কায় ৭৮ রান করে ফিরলেও লিটন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ২২৮ বল খেলে ১৩টি চার ও ৪ ছক্কায় ১৩৮ রান করে আউট হন ২৬২ রানের মাথায়। সেই রানেই নাহিদ রানা এলবিডব্লিউ হলে অলআউট হয় বাংলাদেশ।বল হাতে পাকিস্তানের পেসার খুররম শাহজাদ ২১ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৯০ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নেন। আর মীর হামজা ও সালমান আগা নেন ২টি করে উইকেট। টেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ শুরু থেকেই চাপে পড়ে। অল্পের জন্য জাকির হাসান বেঁচে যান আবরার আহমেদ ক্যাচ ধরতে না পারায়। তার সামান্য সামনে পড়ে বল, যদিও উদযাপন করে ফেলেছিলেন আবরার। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে স্পষ্ট হয়, বল আগে পড়েছিল মাটিতে। এরপর জাকির আরও একবার সুযোগ পান। মীর হামজার বল জাকিরের প্যাডে লাগে, জোরালো আবেদনও হয়; কিন্তু আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউ নেয়নি পাকিস্তানও। পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে, স্টাম্পে আঘাত হানতো বল। পরের ওভারে এসেই অবশ্য জাকিরের উইকেট তুলে নেন খুররাম শেহজাদ। সেই আবরার আহমেদের হাতেই মিড উইকেট অঞ্চলে ক্যাচ দেন ১৬ বলে ১ রান করা এই ব্যাটার। পরের ওভারের প্রথম বলে সাদমান ইসলামকে বোল্ড করেন খুররাম। দুই বল পর একই ভাগ্য বরণ করতে হয় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। স্রেফ ৫ বলের ব্যবধানে তিন উইকেট তুলে বাংলাদেশকে পাহাড়সম চাপে ফেলে দেন খুররাম। পরে যত সময় গড়িয়েছে, তত সেটি বেড়েছে। উইকেটের দেখা পান সকাল থেকে দারুণ বল করা মীর হামজাও। ২ বলে কোনো রান করার আগেই তার লেগ স্টাম্পের বল ফ্লিক করতে গিয়ে মিড অনে সহজ ক্যাচ দেন মুমিনুল। অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানও পারেননি দলের হাল ধরতে। ৯ বলে ৩ রান করে মীর হামজার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুশফিক। খুররামের বলে এলবিডব্লিউ হন ১০ বলে ২ রান করা সাকিব। ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় ভেঙে পড়াটাই ছিল অনেকটা অনুমিত দৃশ্য। কিন্তু সেটি বদলে দেওয়ার কাজটি করেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের জুটিতে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর এসে দুজন হাফ সেঞ্চুরিও তুলে নেন। তাদের জুটি দেড়শ ছাড়ালে রেকর্ড গড়ে ফেলে। ৩০ রানের নিচে ৬ উইকেট হারানোর পর ১৫০ রানের জুটি হয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই। কিন্তু রেকর্ডের রানকে আর খুব বেশি বড় করতে পারেননি মিরাজ। খুররাম শেহজাদের কিছুটা লাফিয়ে উঠা বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে বোলারের হাতেই ক্যাচ দেন তিনি। ১২৪ বলে ৭৮ রান করেন মিরাজ। এরপর উইকেটে এসে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি তাসকিনও। ৫ বলে ১ রান করে এলবিডব্লিউ আউট হয়েছেন খুররামের পরের ওভারে। এরপরই চা বিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের আশা হয়ে ছিলেন লিটন। মিরাজ না পারলেও তিনি সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থেকে অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ১৭১ বলে স্পর্শ করেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি। দারুণ খেলতে থাকা লিটন শেষদিকে একাই হাল ধরেছিলেন। মিরাজের পর তাকে অনেকটা সময় সঙ্গ দিয়ে গেছেন হাসান মাহমুদ। ৫১ বলে ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন হাসান। তবে অপরপ্রান্তে লিটন নবম উইকেট হিসেবে বিদায় নেন। ২২৮ বল খেলে ১৩৮ রান করেন তিনি। ১৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস। লিটনের পর শেষদিকে নাহিদ রানা (০) দ্রুত বিদায় নিলে আর লিড পাওয়া হয়নি বাংলাদেশ।