নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সূচিতে পরিবর্তন

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সূচিতে পরিবর্তন আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ১ থেকে ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। আজ সাফের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুধু বয়সভিত্তিক নারী সাফ নয়, দু’টি বয়সভিত্তিক ছেলেদের সাফের সূচিও পরিবর্তিত হয়েছে। অনূর্ধ্ব-২০ এর আয়োজক বাংলাদেশ হলেও ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ প্রতিযোগিতাটি আয়োজিত হবে প্রতিবেশি দেশ ভারতে। যা আগামী বছর ৫-১৫ নভেম্বর ভারতের মাটিতে আসর শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে পরিবর্তিত সূচিতে ৮-১৮ নভেম্বর হবে। এছাড়া পুরুষ সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ আসরের সময় নির্ধারিত হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর।

মালয়েশিয়াকে ২৯ রানে অলআউট করে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

মালয়েশিয়াকে ২৯ রানে অলআউট করে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মালয়েশিয়াকে হারিয়েছে ১২০ রানের বড় ব্যবধানে। দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ‘সুপার ফোর’ তথা সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এদিন বাংলাদেশ আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৪৯ রান করে। জবাবে ১৪.৫ ওভারে মাত্র ২৯ রানে গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়ার মেয়েরা। আর বাংলাদেশ জয় পায় ১২০ রানের ব্যবধানে। মালয়েশিয়ার ইনিংসে কেউ দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৫ রান করেন উদ্বোধনী ব্যাটার নূর আলিয়া বিনতি মোহদ হাইরুন। এছাড়া ইরদিনা বেহ নাবিল ৩, নূর ইজ্জাতুল  সাইয়াফিকা ৩, সুবিকা ১, নূর আইন বিনতি রোসলান ১, নুরিমান হিদায়াহ ২, নূর ইসমা দানিয়া বিনতি মোহদ দানিয়েল ১ ও নূর আলিয়া বাত্রিসিয়া নুরমিজান করেন ১ রান। বাকিরা সবাই আউট হন শূন্যরানে। বল হাতে বাংলাদেশের নিশিতা আক্তার নিশি ৩.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ৩ রান দিয়ে ৫টি উইকেট নেন। হাবিবা ইসলাম ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ৫ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। আনিসা আক্তার সোবা ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তার আগে বাংলাদেশের ইনিংসে জান্নাতুল মাওয়া ৪ চারে অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন। সাদিয়া আক্তার ৩ চার ও ১ ছক্কায় খেলেন অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংস। আর ফাহমিদা ছোয়া ২১ বলে ৩ চারে করেন ২৬ রান। এছাড়া মোসাম্মাত ইভা ১৯ ও সুমাইয়া আক্তার করেন ১২ রান। মালয়েশিয়ার মারসিয়া কিস্তিনা বিনতি আব্দুল্লাহ ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। আর নূর ইসমা দানিয়া ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন বাংলাদেশের জান্নাতুল মাওয়া। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে সুপার ফোরের খেলা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন সংস্করণের দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্যামি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন সংস্করণের দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্যামি আগামী এপ্রিল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন সংস্করণের কোচ হতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে শুরু হবে তার দায়িত্ব। আগামী মাসে পাকিস্তান সফরে শেষ হবে আন্দ্রে কোলির দায়িত্ব। এরপর দলের দায়িত্ব নেবেন স্যামি। কোচ হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশিত ছিল না স্যামির। নিজেরও ভাবনা ছিল না ক্যারিয়ার শেষে করাবেন কোচিং। কিন্তু হলো এমনটাই। দায়িত্ব পেতে উচ্ছ্বসিত তিনি। দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন ইতোমধ্যেই।  স্যামি বলেন, ‘যে কোনো সংস্করণে যে কোনো দায়িত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা দারুণ সম্মানের। যদিও এই খবরটি আমার কাছে ঠিক প্রত্যাশিত ছিল না। কোচিং করাব, এমন ভাবনাই আসলে নিজেকে নিয়ে ছিল না আমার। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে, যেভাবে এগোচ্ছে সবকিছু, এই দায়িত্বের প্রতি ভালোবাসা ও তাড়না আরো তীব্র হয়েছে আমার। ’ ‘আমি বিশ্বাস করি প্রক্রিয়ায়, যেটা আমি সাদা বলের ক্রিকেটে করতে সক্ষম হয়েছি এবং এই নতুন দায়িত্বেও আমি এর মধ্যেই এঁকে নিয়েছি, (টেস্ট ক্রিকেটে) সফল হতে হলে কোন কোন জায়গায় ও কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বাড়তি এই দায়িত্ব ও নতুন পথচলায় নিয়ে আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত এবং আমি ও আমার দল তৈরি থাকব। ’ খেলোয়াড়ি জীবন শেষে সামি গত বছরের মে মাসে দায়িত্ব নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির। তার কোচিংয়ে ২৮ ওয়ানডের ১৫টি জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সিরিজ জিতেছে সাতটির মধ্যে চারটি। টি-টোয়েন্টি জিতেছে ৩৫টির মধ্যে ২০টি। এই সংস্করণেও সিরিজ জিতেছে চারটি, হেরেছে তিনটি। আর টেস্ট ক্রিকেটে আন্দ্রে কোলির কোচিংয়ে ছয় সিরিজের একটিও জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ড্র ও হার আছে সমান তিনটি করে। এই সময়ে টেস্ট হেরেছে তারা সাতটি, জয় ও ড্র দুটি করে।

বিপিএলে চিটাগাং কিংসের কানাডিয়ান মডেল

বিপিএলে চিটাগাং কিংসের কানাডিয়ান মডেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আবেদন ক্রিকেটবিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। সেই লক্ষ্যে একাদশ আসরের আগে তারা নিত্য-নতুন অনেক উদ্যোগ নিচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও টুর্নামেন্টের আমেজ বাড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে নিজেদের মতো করে। নতুন করে পুরোনো মালিকানার অধীনে এবার বিপিএল খেলবে চিটাগাং কিংস। তারা শহীদ আফ্রিদিকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বানিয়ে শুরুতে বড় চমক দিয়েছিল। এবার নিয়োগ দিলো এক কানাডিয়ান মডেলকে। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সেখানে তারা জানায়, (ভারতীয় বংশোদ্ভূত) কানাডার মডেল-অভিনেত্রী, ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার ও ক্রিকেট প্রেজেন্টার ইয়েশা সাগরকে আসন্ন বিপিএলে চট্টগ্রাম কিংসের ‘অফিসিয়াল হোস্ট’ (উপস্থাপক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিপিএলই প্রথম নয়, এর আগে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ‍টুর্নামেন্টেও সঞ্চালনা করতে দেখা গেছে ইয়েশা সাগরকে। গত বছর কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে তার উপস্থিতি ক্রিকেটভক্তদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। ক্রীড়া উপস্থাপনার পাশাপাশি ইয়েশা ফিটনেস নিয়েও কাজ করেন। সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্য-সচেতনতার বিষয়ে মানুষকে প্রভাবিত করে আসছেন এই কানাডিয়ান মডেল। ফলে তার সঙ্গে চুক্তি রয়েছে খাদ্য ও পুষ্টিজনিত বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গে। কানাডার মডেল হিসেবে পরিচিতি পেলেও, ইয়েশা সাগর ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ১৯৯৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্মগ্রহণ করেন। এ ছাড়া পাঞ্জাবের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে ইয়েশার। এর আগে চট্টগ্রাম কিংস আসন্ন আসরের জন্য ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে শহীদ আফ্রিদিকে যুক্ত করে। বিপিএলের সঙ্গে শুরু থেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন সাবেক এই পাকিস্তানি কিংবদন্তি। এ ছাড়া দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারও বিপিএলে ফিরে ভালো দল গড়ারই চেষ্টা ছিল চট্টগ্রামের। সাকিব আল হাসান, শরিফুল ইসলামরা ছাড়াও বিদেশি ক্যাটাগরিতে মঈন আলি ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসদের দলে ভিড়িয়েছে চট্টলার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বিপিএলের একাদশ আসরের পর্দা উঠবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর।

চ্যাম্পিয়ন হয়ে র‌্যাংকিংয়ে ৭ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

চ্যাম্পিয়ন হয়ে র‌্যাংকিংয়ে ৭ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ গত অক্টোবরে ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। যার ছাপ পড়েছে র‌্যাংকিংয়েও। আজ ফিফার প্রকাশিত র‌্যাংকিয়য়ে সাত ধাপ এগিয়েছে তারা।  সাফে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। দুর্বল পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু করা আসরের পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ভারতকে হারায় ৩-১ ব্যবধানে। গ্রুপ সেরা হয়ে পরবর্তী পর্বে করে কোয়ালিফাই। বাকি ম্যাচগুলো দারুণভাবে জিতে ফাইনালে গত ৩০ অক্টোবরকে নেপালকে হারিয়ে ধরে রাখে সাফের মুকুট। এই টুর্নামেন্ট জিতে সাত ধাপ আগানো বাংলাদেশ এখন ১৩২ নম্বরে। এগিয়েছে ভুটানও। তিন ধাপ উন্নতিতে তাদের অবস্থান ১৭২ নম্বরে। এক ধাপ এগিয়ে ১৫৭ নম্বরে পাকিস্তান এবং এক ধাপ পিছিয়ে তাদের পরেই অবস্থান শ্রীলঙ্কার। এদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ফাইনালে হেরে শিরোপা খোয়ানো নেপাল চার ধাপ পিছিয়ে ১০৩ নম্বরে চলে গেছে। ভারতও পিছিয়েছে। এক দাপ অবনতিতে তাদের অবস্থান ৬৯ নম্বরে। এছাড়া র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক ধাপ করে আগানো স্পেন দ্বিতীয় এবং জার্মানি তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে দল ঘোষণা ওয়েস্ট উইন্ডিজের

বাংলাদেশের বিপক্ষে দল ঘোষণা ওয়েস্ট উইন্ডিজের বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতকাল ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ চলাকালে দল ঘোষণা করে ক্যারিবিয়ানরা। টেস্ট ও ওয়ানডেতে পারফর্ম করে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন কেসি কার্টি। এছাড়া চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন মারকুটে ব্যাটার জনসন চার্লস। তবে শেরফাইন রাদারফোর্ড ও ওয়ানডে অধিনায়ক শেই হোপকে পাচ্ছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিগ ব্যাশের জন্য এই দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬, ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিন ম্যাচ। সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সেন্ট ভিনসেন্টে।

চট্টগ্রামের দারুণ জয়ের দিনে রোমাঞ্চ ছড়াল খুলনা-বরিশাল

চট্টগ্রামের দারুণ জয়ের দিনে রোমাঞ্চ ছড়াল খুলনা-বরিশাল সিলেটের জিততে তখন প্রয়োজন ৭ বলে ২০, হাতে আছে ১ উইকেট। এমন অবস্থায় আহমেদ শরিফের করা ১৪তম ওভারের শেষ বলটা ছক্কায় উড়িয়ে দিলেন নাঈম আহমেদ। শেষ ওভারে ১৪ রানের সমীকরণেও আশা দেখেছিল সিলেট। তবে ইফরান হোসেনের বলে নাঈম আউট হতেই ১৪ রানের জয়ের আনন্দে মাতে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের অনায়াস জয়ের দিনে রোমাঞ্চের সবটা দেখিয়েছে খুলনা ও বরিশাল। ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত খেলেছে দুই দল। তাতে ম্যাচের পরতে পরতে উত্তেজনা ছড়িয়ে ১ রানের জয় পেয়েছে খুলনা। বরিশালের ওপেনার আব্দুল মজিদের মন্থর ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচটা নিজেদের করে নিয়েছে খুলনা।  বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সিলেট আউটার স্টেডিয়ামে খেলতে নামে চট্টগ্রাম ও সিলেট। ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে তামিম ইকবালের ঝড়ো ফিফটিতে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানের সংগ্রহ পায় চট্টগ্রাম। জবাব দিতে নেমে ১৪.২ ওভারে ১৩৩ রানেই থামে সিলেটের ইনিংস।

তামিমের ঝোড়ো ফিফটিতে জয় চট্টগ্রামের, ১ রানে হার বরিশালের

তামিমের ঝোড়ো ফিফটিতে জয় চট্টগ্রামের, ১ রানে হার বরিশালের এনসিএল টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় দিনে ঝোড়ো হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। এরপর জিতেছে তার দলও। হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বরিশালের আব্দুল মজিদও, তবে তার দল জয় পায়নি। চার উইকেট করে নিয়েছেন সিলেটের খালেদ ও বরিশালের কামরুল ইসলাম রাব্বি। একাডেমি মাঠে সিলেটকে ১২ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। শুরুতে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান করে চট্টগ্রাম। পরে ওই রান তাড়া করতে নেমে ১৪ ওভার দুই বল খেলে ১৩৩ রানে অলআউট হয় সিলেট।   এ ম্যাচে চট্টগ্রামের হয়ে ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরি করেন তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। স্রেফ ২৭ বলে অর্ধশত পূর্ণ করেন তিনি। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৩ বলে ৬৫ রান করে তোফায়েল আহমেদের বলে ক্যাচ আউট হন তিনি। ১৭ বলে ২৯ রান আসে আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাট থেকে। ১২ বলে ১৮ রান করেন সাব্বির হোসেন। সিলেটের হয়ে ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে চার উইকেট নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। রান তাড়ায় নামা সিলেটের হয়ে অনেকটা একাই লড়েন ওপেনার তৌফিক খান তুষার। ৭ চার ও ৬ ছক্কায় ৩৬ বলে ৭৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। কিন্তু দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তোফায়েল আহমেদ করেন ১১ বলে ১৪ রান। চট্টগ্রামের হয়ে তিন উইকেট করে নেন হাসান মুরাদ ও নাঈম হাসান। মূল মাঠে বরিশালের বিপক্ষে ১ রানে জয় পেয়েছে খুলনা। শুরুতে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান করে খুলনা। ওই রান তাড়ায় নেমে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১২৯ রানের বেশি করতে পারেনি বরিশাল। খুলনার হয়ে এই ম্যাচে সর্বোচ্চ রান আসে নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে। ৩৫ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। ৮ বলে ১৭ রান আসে জিয়াউর রহমানের ব্যাটে। ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে চার উইকেট নেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। রান তাড়ায় নামা বরিশালের হয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেন ওপেনার আব্দুল মজিদ। ৫৩ বলে ৫১ রান করে আউট হন তিনি। শেষদিকে ২৭ বলে ৪৩ রান করেন মঈন খান। তবে সেটি দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। খুলনার হয়ে দুই উইকেট করে নেন নাহিদুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান রানা।

বসুন্ধরা সিটিতে প্রদর্শিত হলো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি

বসুন্ধরা সিটিতে প্রদর্শিত হলো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ চারদিক থেকেই। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে এই আয়োজন ঘিরে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তারা এসে কেউ ছবি তুলে, কেউবা সেলফিতে ট্রফির সঙ্গে নিজেকে ফ্রেমবন্দি করে রেখেছেন। ট্রফি ছাড়াও এদিন দুটি মাসকট ছিল। সেগুলোর সঙ্গে ছবি তোলেন দর্শকরা। তাদের জন্য আলাদা করে ছিল গেমিং জোন। তাতে জিততে পারলে দেওয়া হয় পুরস্কারও।  ট্রফি দেখে উচ্ছ্বসিত এক দর্শনার্থী বলেন, ‘আশা করি, বাংলাদেশ একদিন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে আসবে। আমাদের সামনে ক্রিকেটাররা ট্রফি নিয়ে ঘুরবে। ছাদখোলা বাসে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ’ এর আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফিও প্রদর্শিত হয়েছিল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে। জনসাধারণ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল বিশ্বকাপ ট্রফিটি দেখতে। বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফিও প্রদর্শিত হয়েছিল বসুন্ধরা সিটিতে। এবার এলো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসে ট্রফিটি। গতকাল কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্টে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ১৩ ডিসেম্বর ট্রফি থাকবে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা রয়েছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এবারের আসর। যদিও ভেন্যু নিয়ে সংশয় কাটেনি। পাকিস্তানেই হবে নাকি হাইব্রিড মডেলে তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দুই ঢাকার জয়ের দিনে সিলেট ও বরিশালের হার

দুই ঢাকার জয়ের দিনে সিলেট ও বরিশালের হার সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে পরিসংখ্যান ছিল বিব্রতকর। সবশেষ ১১ ম্যাচের একটিও জিততে পারেনি ক্যারিবীয়রা। চলমান সিরিজে সব হিসেবনিকেশ বুঝিয়ে দিতেই যেন নেমেছে তারা। প্রথম ম্যাচে দারুণ এক জয়ের পর এবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখল শাই হোপের দল। বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ১০ বছর পর সিরিজও নিজেদের করে নিলো তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সবশেষ ২০১৪ সালে সিরিজ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর আর কোনো সিরিজেই সুবিধা করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। এক দশক পর সেই আক্ষেপে প্রলেপ টানল হোপের দল। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে ব্যাটিংটা মনমতো করতে পারেনি বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের ধারেকাছেও যেতে পারেনি। উইন্ডিজের বোলিং তোপে ২২৭ রানেই গুটিয়ে যায় মেহেদি হাসান মিরাজের দল। জবাব দিতে নেমে দাপুটে ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেট ও ৭৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ২ উইকেট হারালেও আরিফুল ইসলামের ৪৬ বলে ৯৪ রানের ইনিংসেই মূলত জয়ের দিকে ধাবিত হয় ঢাকা। তার ইনিংসে ছিল ৮টি ছক্কা ও ৬টি চারের মার। এর সঙ্গে শুভাগত হোমের সমান ২টি করে চার-ছক্কায় ১৮ বলে ৩১ রানে ভর করে জয় তুলে নেয় ঢাকা। দিনের অন্য ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে ঝড় তোলেন ঢাকা মেট্রোর টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার।  ইমরানুজ্জামানের ৩৩ বলে ৫৩, নাঈম শেখের ৩৫ বলে ৬৫ ও তাজিবুল ইসলামের ২৫ বলে ৩৬ রানের তিনটি ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানের পুঁজি পায় ঢাকা মেট্রো। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বিদায় নেন বরিশালের দুই ওপেনার। ওয়ানডাউনে নামা ফজলে মাহমুদ রাব্বি ৫২ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেললেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। শেষদিকে সোহাগ গাজী ৩২ বলে ৪০ করলেও টি-টোয়েন্টির চাহিদা মেটাতে পারেননি। ফলে ১৬২ রানেই থামতে হয় বরিশালকে।