নিষ্প্রভ মেসি, ড্র করল মায়ামি

নিষ্প্রভ মেসি, ড্র করল মায়ামি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ন্যাশভিল এসসির মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছে ইন্টার মায়ামি। এ ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি ছিলেন নিষ্প্রভ। প্রতিপক্ষের মাঠে বৃহস্পতিবার ভোরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিল মেসির মায়ামি, তবে আক্রমণে তুলনামূলক বেশি দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিক ন্যাশভিল। মায়ামি ৫৯ শতাংশ বল দখলে রেখে মোট পাঁচটি শট নেয়, যার মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ন্যাশভিল ১১টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মেসি বাঁ দিক দিয়ে দৌড়ে এসে একটি জোরালো শট নেন। তবে দারুণ দক্ষতায় সেটি রুখে দেন ন্যাশভিলের গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়াক। এটাই ছিল ম্যাচে মেসির একমাত্র লক্ষ্যে রাখা শট। ৬৫ মিনিটে গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পায় ন্যাশভিল। কর্নার থেকে আসা বলে রিড বেকার-হোয়াইটিং হেড নিলেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যই থাকে ম্যাচের ফল। ন্যাশভিলের বিপক্ষে এর আগে দারুণ ফর্মে ছিলেন মেসি। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছিলেন তিনি। সেই সময় ১২ গোলের পাশাপাশি পাঁচটি সহায়তাও করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে এবার গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচটি ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মায়ামিকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ভাগ্য নির্ধারণ হবে দ্বিতীয় লেগে। সেই ম্যাচে ফ্লোরিডার চেজ স্টেডিয়ামে ন্যাশভিলকে আতিথ্য দেবে মেসির মায়ামি।
পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার মুখে ভিনিসিয়ুস

পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার মুখে ভিনিসিয়ুস রিয়াল মাদ্রিদের বড় জয়ের রাতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পেনাল্টি মিস করার কারণে ম্যাচ শেষে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে এই ফরোয়ার্ডকে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করে দলকে এগিয়ে দেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল করার সুযোগ পায় রিয়াল মাদ্রিদ। পেনাল্টি পেলে স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে তার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। এই পেনাল্টি মিসের পরই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ম্যাচ শেষে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল উইঙ্গার স্টিভ ম্যাকম্যানামান ভিনিসিয়ুসের পেনাল্টি নেওয়ার কৌশল নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। ম্যাকম্যানামান বলেন, “আমি এ ধরনের পেনাল্টি পছন্দ করি না। যদি ‘পানেনকা’ স্টাইলে নেন, তাহলে গোল করতেই হবে। কারণ জোরে মারলে গোলরক্ষক ঠেকাতে পারে। এভাবে শট নেওয়ার মানে হলো একটু দেখানো। এটা খুবই বাজে পেনাল্টি ছিল। ম্যাচ যদি তখন ০-০ থাকত, সে কখনোই এমনভাবে পেনাল্টি নিত না ‘যদিও পেনাল্টি মিস করেছেন ভিনিসিয়ুস, তবু ম্যাচের সামগ্রিক চিত্র ছিল রিয়াল মাদ্রিদের দাপট। ভালভার্দের হ্যাটট্রিকে শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে স্পেনের এই ক্লাবটি।
অ্যাতলেতিকোয় বিধ্বস্ত টটেনহাম, আতালান্তাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন

অ্যাতলেতিকোয় বিধ্বস্ত টটেনহাম, আতালান্তাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো পর্বের প্রথম লেগে দুই ভিন্ন ম্যাচে একই রকম গল্প দেখা গেল। একদিকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইংলিশ ক্লাবকে বিধ্বস্ত করেছে অ্যাতলেতিকো, অন্যদিকে ইতালিয়ান প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। মাদ্রিদের মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে টটেনহামকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে অ্যাতলেতিকো। ম্যাচের শুরুতেই গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির একের পর এক ভুলে বিপর্যয়ে পড়ে টটেনহাম। প্রথম ১৫ মিনিটেই তিন গোল হজম করে বসে দলটি। ৬ মিনিটে কিনস্কির ভুল থেকে বল পেয়ে যান হুলিয়ান আলভারেজ, তার পাস থেকে গোল করেন মার্কোস লরেন্তে। এরপর ১৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান আঁতোয়ান গ্রিয়েজমান। এর এক মিনিট পর আবারও কিনস্কির ভুলে সহজ গোল পান আলভারেজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিনস্কিকে তুলে মাঠে নামানো হয় গুলিয়েলমো ভিকারিওকে। কিন্তু কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ৪–০ করেন রবিন লে নরমান্ড। পরে পেদ্রো একটি গোল শোধ করলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলভারেজ। শেষদিকে ডমিনিক সোলান্কে গোল করে ব্যবধান কমান। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল অ্যাতলেতিকো। অন্য ম্যাচে ইতালির আতালান্তার মাঠে গোল উৎসব করেছে বায়ার্ন। আতালান্তাকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে জার্মান জায়ান্টরা। এই জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মাইকেল ওলিসে। দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। এ ছাড়া গোল করেন জসিপ স্ট্যানিসিস, সের্জ গানাব্রি, নিকোলাস জ্যাকসন ও জামাল মুসিয়ালা। শেষদিকে মারিও প্যাসিালিক একটি সান্ত্বনার গোল করলেও তাতে বড় পরাজয় এড়াতে পারেনি আতালান্তা। প্রথম লেগের এমন বড় জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বায়ার্ন মিউনিখও।
সিটি তারকার ‘প্রেমে’ পড়েছেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ

সিটি তারকার ‘প্রেমে’ পড়েছেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ দীর্ঘদিন ধরেই মুগ্ধ ম্যানচেনস্টার সিটি তারকা রদ্রিতে। সিটির এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে ভবিষ্যতে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে দেখতে চান তিনি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠ শক্তিশালী করার জন্য রদ্রিকেই সবচেয়ে উপযুক্ত খেলোয়াড় মনে করেন পেরেজ। মাঝমাঠ থেকে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং দলকে ভারসাম্য দেওয়ার মতো একজন সংগঠক মিডফিল্ডারের খোঁজেই ছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এমনকি ক্লাবের ভেতরে পেরেজ নাকি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘যদি রদ্রি না হয়, তাহলে নতুন করে কাউকে সই করানোর প্রয়োজন নেই।’ তবে এই সম্ভাব্য ট্রান্সফার সহজ নয়। কারণ রদ্রির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে তাকে দলে ভেড়াতে চাইলে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে রিয়ালকে। ক্লাব ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, রদ্রির ফুটবল দক্ষতার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্ব ও পেশাদার মনোভাবও মুগ্ধ করেছে পেরেজকে। মাঠের বাইরে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ এবং পেশাদার ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও রিয়াল সভাপতির কাছে তাকে আরো বিশেষ করে তুলেছে। এদিকে সিটির হয়ে আবারও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলতে ফিরছেন রদ্রি। ম্যাচের পাশাপাশি এই সফরকে ঘিরে ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য ট্রান্সফার আলোচনা শুরু হয় কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
রেকর্ড ৯০০ গোলের দ্বারপ্রান্তে মেসি

রেকর্ড ৯০০ গোলের দ্বারপ্রান্তে মেসি রেকর্ড ভাঙাই তার কাজ, কিন্তু এবারের মাইলফলকটি একটু আলাদা। কিংবদন্তি থেকে অবিনশ্বর হয়ে ওঠার পথে মেসি দাঁড়িয়ে আছেন মাত্র এক কদমের দূরত্বে। ইন্টার মায়ামির হয়ে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোল করে নিজের পেশাদার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা ৮৯৯-এ পৌঁছে গেছেন মেসি। অর্থাৎ ৯০০ গোলের ঐতিহাসিক সীমা স্পর্শ করতে এখন তার প্রয়োজন মাত্র একটি গোল। যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডিসি ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। রেকর্ড ৭২ হাজার ৫৬ জন দর্শকের সামনে হওয়া এই ম্যাচে গোল করেন মেসি ও তার আর্জেন্টাইন সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। গোলটি ছিল তার স্বভাবসিদ্ধ দক্ষতার এক নিখুঁত উদাহরণ। গোলরক্ষক শন জনসনের ওপর দিয়ে বলকে আলতোভাবে তুলে জালে জড়ান তিনি। সেই মুহূর্তেই তার ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৮৯৯। ৩৮ বছর বয়সেও মেসির গোল করার ধারাবাহিকতা এখনো অবিশ্বাস্য। ২০২৩ সালের জুনে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্লাবটির হয়ে ইতিমধ্যে ৮০টি গোল করেছেন তিনি। মেসির পুরো ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা এখন বিভিন্ন দল মিলিয়ে বিস্তৃত এক ইতিহাস। স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার হয়ে তিনি করেছেন ৬৭২ গোল। ফরাসি ক্লাব পিএসজির হয়ে করেছেন ৩২ গোল। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা ১১৫। আর ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত করেছেন প্রায় ৮০ গোল। এই গোলগুলোর মাধ্যমে বার্সেলোনা, আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এবং ইন্টার মায়ামি-এই তিন দলের ইতিহাসেই সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের নামে লিখেছেন মেসি। তার এই ধারাবাহিকতা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল উদাহরণ। এখন ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে তার পরবর্তী গোলটির দিকে। সেই গোলটি হলেই মেসি পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
মেসির ‘৮৯৯’ গোলে মায়ামির জয়

মেসির ‘৮৯৯’ গোলে মায়ামির জয় লিওনেল মেসি আরেকটি ঐতিহাসিক গোলের মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তার গোলেই শনিবার ওয়াশিংটনের দল ডি.সি. ইউনাইটেডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। গত সপ্তাহে অরল্যান্ডোর বিপক্ষে ফ্লোরিডা ডার্বিতে জোড়া গোল করা মেসি এবারও গোলের দেখা পেয়েছেন। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নিখুঁত চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে মৌসুমে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। এই গোলের মাধ্যমে মায়ামির হয়ে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০-তে। সব মিলিয়ে তার ক্যারিয়ারের মোট গোল এখন ৮৯৯, অর্থাৎ ঐতিহাসিক ৯০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে তিনি মাত্র একটি গোল দূরে। আটবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারজয়ী এই তারকা আগামী জুনে ৩৯ বছরে পা দেবেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে বার্সেলোনার হয়ে তিনি করেছেন ৬৭২ গোল। পরে পিএসজির হয়ে করেছেন ৩২ গোল। এছাড়া আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ১১৫। শনিবারের এই জয়ে তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন মায়ামি। এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে এক সংবর্ধনায় অংশ নিয়েছিল দলটি। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে মেসির সতীর্থ ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলের অসাধারণ বাঁকানো শটে এগিয়ে যায় মায়ামি। এর দশ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। মাতেও সিলভেত্তির দারুণ থ্রু পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে এসে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে নিখুঁত ফিনিশে বল জালে পাঠান তিনি। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ডি.সি. ইউনাইটেড। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে ইসরায়েলের ফরোয়ার্ড তাই বারিবো একটি গোল শোধ করে দলকে আশা জাগান। তবে শেষ পর্যন্ত মায়ামির রক্ষণভাগ দৃঢ়তা ধরে রাখলে আর কোনো গোল করতে পারেনি প্রতিপক্ষ। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মেসির দল।
মোহামেডানকে হারিয়ে বসুন্ধরার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ফর্টিস

মোহামেডানকে হারিয়ে বসুন্ধরার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ফর্টিস বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে দারুণ ছন্দে থাকা ফর্টিস তুলে নিল আরও একটি জয়। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। আর তাতেই শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ফর্টিস। দুদলের পয়েন্টই এখন সমান। এই জয়ের পর ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে রয়েছে ফর্টিস। সমান ম্যাচে সমান সংখ্যক পয়েন্ট অর্জন করেছে বসুন্ধরা কিংসও। কিন্তু গোল ব্যবধানে ফর্টিসকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে অবস্থান করছে তারা। এদিকে পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে অবস্থান করছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ১০ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১০ পয়েন্ট। দিনের একমাত্র ম্যাচে খেলতে নেমে বল দখলে এগিয়ে ছিল মোহামেডানই। আর আক্রমণে প্রায় সমানতালেই খেলেছে দুদল। পুরো ম্যাচের ৫৫ শতাংশ সময় নিজেদের অধীনে বল ধরে রাখেন মোহামেডানের ফুটবলাররা। আর প্রতিপক্ষের গোলবার নিশানা করে ১৬টি শট নেয় তারা। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল চারটি। অন্যদিকে পুরো ম্যাচের ৪৫ শতাংশ সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বল ধরে রাখেন ফর্টিসের ফুটবলাররা। আর মোহামেডানের গোলবারে শট নেয় মোট ২০টি। এর মধ্যে লক্ষ্যে শট ছিল ছয়টি। ম্যাচের প্রথমবার লিড নেয় ফর্টিস। ২২তম মিনিটে গোল করে ফর্টিসকে এগিয়ে নেন গাম্বিয়ান ফুটবলার এসা জ্যালো। প্রথমার্ধে আর কোনো গোলটি হয়নি। ফলে এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ফর্টিস। এদিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে মোহমেডান। কিন্তু মিলছিল না কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা। উল্টো ৫২তম মিনিটে আরও এক গোল হজম করে সাদা-কালো জার্সিধারীরা। ফর্টিসের হয়ে দ্বিতীয় গোলটিও করেন এসা জ্যালো। ১২ মিনিট পর একটি গোল পরিশোধ করে মোহামেডান। পেনাল্টি কিক থেকে গোলটি করেন মোজাফফারভ। এরপর আর গোল হয়নি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ফর্টিসের।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সংবর্ধনায় মেসি-সুয়ারেজরা

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সংবর্ধনায় মেসি-সুয়ারেজরা মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছে ইন্টার মায়ামি। এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ সংবর্ধনা পেয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। আর এই জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়েই জীবনে প্রথমবারের মতো মার্কিন রাষ্ট্রপতির বাসভবন হোয়াইট হাউসে পা রাখলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রবেশ করেন ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক মেসি এবং ক্লাবের সহ-মালিক হোর্হে মাস। সাক্ষাৎকালে ট্রাম্পের হাতে নিজের স্বাক্ষর করা একটি গোলাপি ফুটবল তুলে দেন বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা। এছাড়া হোর্হে মাস ও দলের হেড কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন ইন্টার মায়ামির একটি জার্সি ও একটি ঘড়ি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেসি ও তার দলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ সত্যিকারের প্রতিভাবান মানুষদের সম্মান জানাচ্ছি। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো বলতে পারছি, ‘হোয়াইট হাউসে স্বাগতম, লিওনেল মেসি।’ এ সময় ট্রাম্প আরও জানান, তার ছেলে মেসির অনেক বড় ভক্ত এবং সে মেসিকে একজন অসাধারণ খেলোয়াড় ও মানুষ হিসেবে সম্মান করে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের ক্রীড়া ঐতিহ্য রয়েছে। বড় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বা লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর বিজয়ী দলকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই প্রথা মেনেই এই আয়োজন। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম এমএলএস কাপ জেতে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা ইন্টার মায়ামি। ওই মৌসুমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়ের (এমভিপি) পুরস্কারও জেতেন মেসি। রোমাঞ্চকর এই আয়োজনে লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো ডি পল, তাদেও আলেন্দেসহ মায়ামির পুরো দল উপস্থিত ছিল। এছাড়া এমএলএস কমিশনার ডন গারবার, সাবেক বেসবল তারকা অ্যালেক্স রদ্রিগেজ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও যোগ দেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দলটিকে তাঁর কার্যালয় ওভাল অফিসেও আমন্ত্রণ জানান।
তিন মাস আগেই শেষ ব্রাজিল তারকা রদ্রিগোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন

তিন মাস আগেই শেষ ব্রাজিল তারকা রদ্রিগোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন বিশ্বকাপ শুরু হতে„ এখনও তিন মাসের বেশি সময় বাকি। তার আগেই ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য দুঃসংবাদ। তিন মাস আগেই বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো ব্রাজিলের রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগোর। গুরুতর হাঁটুর চোটে মৌসুমের বাকি অংশ থেকেও ছিটকে গেছেন তিনি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার ডান হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ও ল্যাটেরাল মেনিস্কাস ছিঁড়ে গেছে। সোমবার লা লিগায় গেতাফের বিপক্ষে ১-০ গোলের অপ্রত্যাশিত হারের ম্যাচেই চোটটি পান রদ্রিগো। এর আগে কিছুদিন ধরে হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন বলে জানা গেছে। পরীক্ষার পর রিয়াল মাদ্রিদ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে তার এসিএল ও মেনিস্কাসে র্যাপচার ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন ব্রাজিল তারকা। তিনি লেখেন, ‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোর একটি। আমার জীবন ও ক্যারিয়ারে বড় একটি বাধা এসেছে। কিছুদিনের জন্য আমি যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তা করতে পারব না। ক্লাবের হয়ে মৌসুমের বাকি সময় এবং দেশের হয়ে বিশ্বকাপ- দুটোই মিস করব, যা আমার স্বপ্ন ছিল। এখন শক্ত থাকা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই।’ রদ্রিগোর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাকে প্রায় আট মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকবে এবং সুস্থতার অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে মাঠে ফেরার সময়সূচি। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এক বিবৃতিতে রদ্রিগোর প্রতি সংহতি জানিয়ে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে। তারা জানিয়েছে, জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডের ডান হাঁটুর এসিএল ও বাইরের মেনিস্কাসে গুরুতর চোট ধরা পড়েছে। ২০২৩ সালে একই ধরনের চোটে পড়েছিলেন নেইমার। রদ্রিগোর খবর শুনে তিনিও সামাজিক মাধ্যমে সমবেদনা জানান। তিনি লেখেন, ‘এই চোটের কষ্ট, দুশ্চিন্তা আর ভয় আমি জানি। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো মানসিকভাবে শক্ত থাকা। তুমি আরও শক্ত হয়ে ফিরবে।’ চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২৭ ম্যাচ খেলেছেন রদ্রিগো। করেছেন তিন গোল, সঙ্গে ছয়টি অ্যাসিস্ট। তার অনুপস্থিতি রিয়ালের আক্রমণভাগে বড় ধাক্কা হয়ে আসবে, আর ব্রাজিল জাতীয় দলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনাতেও তৈরি করবে নতুন সমীকরণ।
চীনের বিপক্ষে হার দিয়েই অভিষেক হলো বাংলার বাঘিনীদের

চীনের বিপক্ষে হার দিয়েই অভিষেক হলো বাংলার বাঘিনীদের এএফসি নারী এশিয়ান কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীন। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলতে গেছে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি, শারীরিক সক্ষমতায় চীনের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। এশিয়ান কাপে হার দিয়েই অভিষেক হলো বাংলার বাঘিনীদের, কিন্তু হারলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াই করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ঋতুপর্ণা-মারিয়ারা। মঙ্গলবার ওয়েস্টার্ন সিডনিতে এএফসি নারী এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ম্যাচের দুটি গোলই হয় প্রথমার্ধের শেষের দিকে। ৮৬ মিনিটে হালিমাকে তুলে মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়াকে মাঠে নামান কোচ পিটার বাটলার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক ঘটল বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত সুইডেন প্রবাসী আনিকার। চীনের র্যাংকিং ১৭, বাংলাদেশের ১১২ কাগজে-কলমে এটি ছিল স্পষ্ট অসম লড়াই। তবে মাঠে সেই ব্যবধান পুরোপুরি প্রতিফলিত হতে দেয়নি বাংলাদেশ নারী দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট জুড়ে তারা খেলেছে ইতিবাচক ফুটবল। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল ফিজিক্যাল ও টেকনিক্যাল দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও লড়াইয়ে পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। চীনকে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত। প্রথমার্ধের শেষ দুই মিনিটে দুই গোল করে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ বলের দখলে আগের চেয়ে উন্নতি করে এবং রক্ষণাত্মক খোলস ভেঙে আক্রমণের ধারাও বাড়ায়। বিরতির পর বাংলাদেশ তিন পরিবর্তন আনে উমহেলা, শিউলি ও নবীরনের জায়গায় নামেন তহুরা, হালিমা ও স্বপ্না। ৮৫ মিনিটে জাতীয় দলে অভিষেক হয় সুইডিশ প্রবাসী আনিকা রহমানের। চীনও দ্বিতীয়ার্ধে তিন পরিবর্তন করলেও আর গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ায় চলমান এএফসি নারী এশিয়ান কাপে রয়েছে ভিএআর প্রযুক্তি। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের একটি আক্রমণে পেনাল্টির সম্ভাবনা ভিএআরে পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত যায়নি বাংলাদেশের পক্ষে। ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি আসে ১৪তম মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পান ঋতুপর্ণা চাকমা। ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার বাঁ পায়ের শট প্রায় জালেই জড়িয়ে যাচ্ছিল। চীনের গোলরক্ষক চেন চেন পেছনে লাফিয়ে অসাধারণ সেভ না করলে সেটি হতে পারত টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল। ২২ মিনিটে চীন প্রথমবার বল জালে পাঠালেও ভিএআরে সেটি বাতিল হয়। অবশেষে ৪৪ মিনিটে ওয়াং শুয়াং দূরপাল্লার শটে গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। এক মিনিট পর ঝাং রুইয়ের শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের পায়ে লেগে জালে জড়ালে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।