অ্যাটলেটিকোর মাঠে বার্সার বাঁচামরার লড়াই

অ্যাটলেটিকোর মাঠে বার্সার বাঁচামরার লড়াই লা লিগায় এস্পানিওলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ডার্বি জয়ের পর এবার ইউরোপীয় মঞ্চে বড় পরীক্ষার সামনে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এস্তাদিও মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে তারা মুখোমুখি হবে স্বাগতিক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের। প্রথম লেগে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বার্সেলোনার জন্য এই ম্যাচটি ‘ডু অর ডাই’। তবে দুই গোলের ব্যবধান ফুটবলে অজেয় নয়—৯০ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে যাওয়ার সুযোগ এখনও আছে। তবে কাজটা মোটেও সহজ নয়। অ্যাটলেটিকোর কোচ ডিয়েগো সিমিওনে প্রথম লেগের লিড ধরে রাখার ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তার দল সাধারণত শক্ত রক্ষণভাগ গড়ে তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে এবং সুযোগ পেলে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করার চেষ্টা করে। অ্যাটলেটিকো শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক প্রেসিং করে বার্সাকে চমকে দিতে পারে, এরপর লিড পেলে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সিমিওনের পরিকল্পনা যাই হোক, তার খেলোয়াড়রা সেটি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত। এছাড়া ঘরের মাঠের সমর্থন অ্যাটলেটিকোর বড় শক্তি। ইউরোপীয় রাতে মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামের পরিবেশ প্রতিপক্ষের জন্য একপ্রকার ‘প্রেশার কুকার’ হয়ে ওঠে, যা বার্সেলোনার মানসিক দৃঢ়তাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে। অন্যদিকে, বার্সেলোনা এই ম্যাচে নামছে তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রাফিনহাকে ছাড়াই, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা। এছাড়া মাঠের অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে অ্যাটলেটিকো এগিয়ে থাকলেও বার্সেলোনার জন্য সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। কোচ হ্যান্সি ফ্লিক এবং তার শিষ্যদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ—সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করা। দীর্ঘদিন ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউট পর্বে স্মরণীয় রাত উপহার দিতে পারেনি বার্সেলোনা। এই ম্যাচটি হতে পারে সেই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ।
বাংলাদেশের কোচ হতে আগ্রহী জার্মান অ্যান্টোইন হে

বাংলাদেশের কোচ হতে আগ্রহী জার্মান অ্যান্টোইন হে সান মারিনোর বিপক্ষে জুনের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগেই জাতীয় দলের ডাগআউটে দেখা যাবে নতুন কোচ। দুই বছরের চুক্তিতে কোচ নিয়োগ দিতে চাচ্ছে বাফুফে। হাভিয়ের কাবরেরার মেয়াদ ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে চার বছরের বেশি সময় থাকা এই কোচের সঙ্গে চুক্তি বাড়াতে আগ্রহী নয় বাফুফে। নতুন কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে নজরে এসেছে অভিজ্ঞ জার্মান কোচ অ্যান্টোইন হের। হামজা-শমিতদের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অ্যান্টোইন হে উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী কোচ, যার এশিয়া ও আফ্রিকার ফুটবলে দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি এরই মধ্যে মায়ানমার, রুয়ান্ডা, কেনিয়া, লাইবেরিয়া, গাম্বিয়া এবং লেসোথো জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বাহরাইন ও লিবিয়া ফুটবল ফেডারেশনে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবেও তার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি জার্মান বুন্দেসলিগার শালকে ০৪ ও ফরচুনা ডুসেলডর্ফের মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন। বাফুফের মানদণ্ড অনুযায়ী, নতুন কোচকে অবশ্যই এশীয় ফুটবল সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। অ্যান্টোইন হে মায়ানমার জাতীয় দলের হয়ে দুই মেয়াদে চার বছর কাজ করায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবল পরিবেশ সম্পর্কে বেশ অভিজ্ঞ। পিছিয়ে থাকা দলকে বড় মঞ্চে তুলে আনার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। মায়ানমার ও রুয়ান্ডার মতো দলের সঙ্গে তার অতীত রেকর্ড এমনই বলছে। সর্বশেষ আলজেরিয়ান ইএস শেতিফে গত বছর যোগ দেন তিনি। তবে তিন মাসের বেশি টিকতে পারেননি। নতুন কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে বাফুফের আরেকটি বড় চিন্তা বাজেট। কাবরেরা পারিশ্রমিক পেতেন প্রায় ১৪ হাজার ডলারের। যদিও শুরুতে ২০২২ সালে যখন প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশের কোচ হন তখন তার বেতন ছিল ৮ হাজার ডলার। তবে সব ছাপিয়ে টেকনিক্যাল স্কিলকে জোর দেওয়া হবে বেশি। অ্যান্টোইন হে ছাড়াও বাফুফের কোচ হতে আবেদন এসেছে রোমানিয়ান, ফরাসি ও পর্তুগিজ কোচের।
বিমানে বোমার ভুয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে গ্রেপ্তার আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার

বিমানে বোমার ভুয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে গ্রেপ্তার আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার একটা প্র্যাঙ্ক বা মজার ছলে করা কর্মকাণ্ডের মূল্য কতটা হতে পারে, সেটা হাঁড়ে হাঁড়েই টের পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার এমিলিয়ানো ইনদ্রেজ্জি। পুলিশের হাতে তো গ্রেপ্তার হয়েছেনই, এমনকি ক্যারিয়ারও শেষের পথে ৩২ বছর বয়সী এ ডিফেন্ডারের! তা ইনদ্রেজ্জি কী করেছেন? আর্জেন্টাইন ক্লাব জিমনাসিয়ায় খেলা এ ডিফেন্ডার প্র্যাঙ্ক করে বিমানে বোমার আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সে অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুসারে, হুসুই বিমানবন্দরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। বুয়েনস আইরেস গামী একটি ফ্লাইটে মজা করে ‘বোমা’ বলে চিৎকার করেছিলেন ইনদ্রেজ্জি। বিমানটি উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে তাঁর এমন চিৎকারে বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী প্রটোকলও চালু হয়ে যায়। বিমানটি দ্রুত খালি করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ডেকে পুরো বিমানটি তল্লাশি করা হয়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি বোমার আতঙ্কটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। বিমানে কোনো সন্দেহজনক বস্তুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপরই রানওয়েতে থাকা ইনদ্রেজ্জিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হাতকড়া পরিয়ে ৩২ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া আতঙ্ক সৃষ্টি ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটনোর অভিযোগ আনা হয়েছে। দুটোই গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইনদ্রেজ্জির এমন ‘প্রাঙ্কের’ ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে তাঁর ক্লাব জিমনাসিয়া লিখেছে, ‘এটি ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং ক্লাব এ ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছে।’ অন্যদিকে ক্লাব সভাপতি এটিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করে ইনদ্রেজ্জির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ক্লাবের সুনাম নষ্ট করে বা ক্রীড়া মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো আচরণ আমরা সহ্য করব না।’ এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো এরইমধ্যে ইনদ্রেজ্জির এমন কর্মকাণ্ডকে ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বোকামিপূর্ণ প্র্যাঙ্ক বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইউরোপীয় ফুটবলে পুরুষ দলের ডাগআউটে প্রথম নারী প্রধান কোচ

ইউরোপীয় ফুটবলে পুরুষ দলের ডাগআউটে প্রথম নারী প্রধান কোচ ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ফুটবল লিগের ইতিহাসে সূচনা হলো এক নতুন অধ্যায়ের। জার্মানির বুন্দেসলিগা ক্লাব ইউনিয়ন বার্লিনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী মারি-লুইস। এতে ইউরোপে প্রথম নারী হিসেবে পুরুষ দলের প্রধান কোচের ডাগআউটে দাঁড়ানোর ইতিহাস গড়লেন তিনি। শনিবার পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল এফসি হেইডেনহেইমের কাছে ৩-১ গোলে হারে ইউনিয়ন বার্লিন। এই হারের পরই কোচ স্টিফেন বমগার্টকে বরখাস্ত করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে লিগ টেবিলের ১১ নম্বরে থাকলেও ২০২৬ সালে খেলা ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছে তারা। রেলিগেশন জোন থেকে ১১ পয়েন্ট দূরে থাকলেও দলের টানা এমন ব্যর্থতায় শঙ্কিত বোর্ড। তাই মৌসুমের বাকি ৫ ম্যাচের জন্য দলের হাল ধরার বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মারি-লুইসকে। ক্লাবের ডিরেক্টর হর্স্ট হেল্ড এই পরিবর্তন প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, লিগ পজিশন দিয়ে তারা নিজেদের ভুল আড়াল করতে চান না। দলের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়ায় একটি নতুন সূচনার লক্ষ্যেই কোচ ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মারি-লুইসের জন্য ইতিহাস গড়া অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইউনিয়ন বার্লিনের সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়ে বুন্দেসলিগার প্রথম নারী সহকারী কোচ হওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। এমনকি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধান কোচ নেলান্দ বিয়েলিকা নিষিদ্ধ থাকায় ডার্মস্টাডের বিপক্ষে ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন মারি-লুইস। সাবেক জার্মান ইয়ুথ ইন্টারন্যাশনাল এবং টারবাইন পটসডামের হয়ে নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী এই ফুটবলার জুলাই ২০২৫ থেকে ইউনিয়ন বার্লিনের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান মৌসুম শেষে তিনি ক্লাবটির নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর মারি-লুইস বলেন, ‘পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে ব্যবধান খুব বেশি নয়, তাই বুন্দেসলিগায় আমাদের অবস্থান এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ক্লাব আমার ওপর যে ভরসা রেখেছে তাতে আমি আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি, লিগে টিকে থাকার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পয়েন্ট অর্জন করতে পারব।
৯ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও সতর্ক বার্সা

৯ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও সতর্ক বার্সা দারুণ ছন্দে থাকা বার্সেলোনা লা লিগার শিরোপার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেলেও এখনই উচ্ছ্বাসে ভাসতে নারাজ কোচ হান্সি ফ্লিক। এস্পানিওলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টানা ৮ ম্যাচ জয়ের ধারা বজায় রেখে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে কাতালানরা। তবে ফ্লিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন- “লড়াই এখনও শেষ হয়নি। এই ডার্বিতে জোড়া গোল করেন ফেরান তোরেস, আর গোলের খাতায় নাম লেখান লামিনে ইয়ামাল ও মার্কাস র্যাশফোর্ড। ফলে লিগের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করে বার্সা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক বলেন, “৯ পয়েন্টের ব্যবধান ভালো, কিন্তু কাজ এখনও বাকি। এখনই যদি ভাবি সব শেষ, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় ভুল। শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সেরাটা খেলতেই হবে। এই ম্যাচটি ছিল ফেরান তোরেসের জন্যও বিশেষ। দীর্ঘ ১৩ ম্যাচ গোলহীন থাকার পর অবশেষে জোড়া গোল করে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন তিনি। তোরেস বলেন, “ফরোয়ার্ডদের বিচার হয় গোল দিয়ে। কিছুদিন গোল পাচ্ছিলাম না। কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল। বাইরে অনেক কথা হয়, বেশিরভাগই নেতিবাচক। তবে আমি জানি, পরিশ্রম করলে ফল আসবেই।
মুসলিমবিরোধী স্লোগান: স্প্যানিশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ফিফার তদন্ত শুরু

মুসলিমবিরোধী স্লোগান: স্প্যানিশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ফিফার তদন্ত শুরু গত সপ্তাহে মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিরোধী স্লোগান শোনা যাওয়ার ঘটনায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কিছু স্প্যানিশ সমর্থক ‘যদি তুমি না লাফাও, তবে তুমি মুসলিম’, এর মতো বিতর্কিত ও বিদ্বেষপূর্ণ স্লোগান দেন। ঘটনার পর ফিফা ভিডিও ফুটেজ, ম্যাচ রেফারি এবং নিরাপত্তা দলের প্রতিবেদন পরীক্ষা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইএসপিএন জানিয়েছে, স্প্যানিশ ফেডারেশনকে বড় জরিমানা অথবা স্টেডিয়াম দর্শকশূন্য রাখার মতো শাস্তি দেওয়া হতে পারে। ফিফার মুখপাত্র বলেন, ‘মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরএফইএফের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ পাশাপাশি বার্সেলোনার স্থানীয় পুলিশও ইসলামবিরোধী ও বর্ণবাদী স্লোগান নিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন আরএফইএফ সভাপতি রাফায়েল লুজান এবং স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তবে সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামাল, তিনি মুসলিম ও মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বংশোদ্ভূত। ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল দুই বছর আগে স্পেনের ইউরো জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি দলের ভরসা। ইয়ামাল ম্যাচের পর ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম। স্টেডিয়ামে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল—যদি তুমি না লাফাও, তবে তুমি মুসলিম। এটি ব্যক্তিগত নয়, তবে একজন মুসলিম হিসেবে এটি চরম অবমাননাকর এবং অসহনীয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্টেডিয়ামের ভিতরে ধর্মকে বিদ্রূপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অজ্ঞতা এবং বর্ণবাদ। ফুটবল উপভোগ করার জন্য, নিজের দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য, কাউকে তার পরিচয় বা বিশ্বাসের কারণে অসম্মান করার জন্য নয়।’
ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ, প্রথম প্রতিপক্ষ সান মারিনো

ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ, প্রথম প্রতিপক্ষ সান মারিনো দেশের ফুটবলে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামী ৫ জুন ইউরোপের ছোট রাষ্ট্র সান মারিনোর বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক ফিফা টায়ার-১ প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সান মারিনোর মাটিতে, যা বাংলাদেশের জন্য প্রথম ইউরোপ সফর। এর মাধ্যমে ইউরোপের মাটিতে খেলার নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবে দলটি। এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ঐতিহাসিক। বাংলাদেশ প্রথমবার কোনো ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি হবে, আর সান মারিনো খেলবে তাদের ইতিহাসে প্রথম কোনো এশিয়ান দলের বিপক্ষে। দুই দেশের ফুটবল সংস্থাই ম্যাচটি নিয়ে বেশ আশাবাদী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।
লাখ টাকা করে পুরস্কার সাফজয়ী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের

লাখ টাকা করে পুরস্কার সাফজয়ী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা বাংলাদেশ ফুটবল দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে সরকার। সোমবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাতে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। নগদ অর্থের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে বিশেষ ক্রীড়া কার্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এমন সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী। সাফের ট্রফিটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান তিনি। মিঠু বলেন, ‘নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কোনো ফুটবল দল হিসেবে আমরা এই শিরোপা জিতলাম। আমাদের দলের সকল খেলোয়াড়ের একটা বড় ইচ্ছা আছে আমরা এই ট্রফিটা সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা উনার সাথে দেখা করে এই অর্জনের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।’ বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তাবিথ আউয়াল স্যার আমাদের অনেক খেয়াল রাখছেন এবং আমাদের সব দাবি-দাওয়া পূরণ করছেন। এমনকি জাতীয় দলের সাথে আমাদেরকেও ফাইভ স্টার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিচর্যা পেলে আমরা ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারবো।’
নতুন স্টেডিয়ামে মেসির প্রথম গোল তবুও আক্ষেপ মায়ামির

নতুন স্টেডিয়ামে মেসির প্রথম গোল তবুও আক্ষেপ মায়ামির মিয়ামির নতুন স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করে মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন লিওনেল মেসি। তবে ইন্টার মিয়ামি অস্টিন এফসির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে। ২৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার নতুন ন্যু স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের অন্যতম মালিক ডেভিড বেকহ্যামসহ অনেক তারকা। বহু বছরের চেষ্টার পর মিয়ামিতে স্থায়ী ঘর পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আবেগাপ্লুত হন বেকহ্যাম। তিনি বলেন, “এই স্টেডিয়ামকে জীবন্ত হতে দেখা খুবই বিশেষ মুহূর্ত। এটা আমাদের জন্য স্বপ্নপূরণ। উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলেও ম্যাচে চমক দেখায় অস্টিন। মাত্র ছয় মিনিটে গুইহার্মে বিরো কর্নার থেকে হেড করে অস্টিনকে এগিয়ে দেন, অ্যাসিস্ট করেন ফাকুন্ডো টরেস। পিছিয়ে পড়া মিয়ামির হয়ে দ্রুতই জবাব দেন মেসি। ইয়ান ফ্রে’র ক্রস থেকে হেড করে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি। এরপর বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলের দেখা পায়নি মিয়ামি। বরং ৫৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে আবারও এগিয়ে যায় অস্টিন। জোসেফ রোসালেস বাড়ানো পাসে জেইডেন নেলসন গোল করে অস্টিনকে আবারও লিড উপহার দেন। পিছিয়ে পড়ার পর কোচ জেভিয়ার মাশ্চেরানো ৭৩তম মিনিটে মাঠে নামান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজকে। ৮১তম মিনিটে সুয়ারেজের কল্যাণে সমতায় ফেরে মিয়ামি। মেসির কর্নার থেকে বল পেয়ে পোস্টের কাছ থেকে জালে পাঠান তিনি। শেষদিকে সুয়ারেজ আরেকটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
সুলিভান ব্রাদার্সের বাংলাদেশে আসার গল্প শুরু

সুলিভান ব্রাদার্সের বাংলাদেশে আসার গল্প শুরু টাইব্রেকারে শেষ শট গোল দিলেই বাংলাদেশের হাতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব- ২০ দক্ষিণ এশিয়ান পুরুষ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি। আলতো ছোঁয়ায় দারুণ আত্মবিশ্বাসী শট নেন রোনান সুলিভান, বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস। ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ- এই ম্যাচের গ্যালারি দেখে মনেই হতে পারে যেন বাংলাদেশ স্বাগতিক দেশ। কারণ মালদ্বীপের মালে শহরের জাতীয় স্টেডিয়ামের দর্শকসারির একটা বড় অংশজুড়ে ছিলেন মালদ্বীপে পেশার খাতিরে পারি জমানো প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আর শেষ শটটিও নিয়েছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি, যিনি আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলবেন, এটা নিশ্চিত ছিলেন না দুই মাস আগেও। ১২ নম্বর জার্সি পরা রোনান সুলিভান যেভাবে শেষ শটে ভারতীয় যুব দলের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেন, এই শটটি ঐতিহাসিকভাবে ফুটবলে পানেনকা হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার আন্তোনিন পানেনকা এমনভাবে শট নেন যেটা ডানেও না বামে না, একদম আলতো টোকায় গোলরক্ষক বরাবর মারা হয়, এতে ধীরগতি ও আগেই একদিকে ঝাঁপ দেওয়ার কারণে মিস করেন কিপার। ঠিক এই শটের পুনরাবৃত্তি ঘটান রোনান সুলিভান। সুদূর আমেরিকা থেকে তার ভাই কুইন সুলিভান খেলা দেখছিলেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ড্রেসিংরুম থেকে, সেখানে তার পোস্ট করা ভিডিওতে চিৎকার করে বলেন, ‘চিপ ইট’ অর্থাৎ বল চিপ করো, রোনান করলেন তাই, বাংলাদেশের একটি দলের জয়ের উল্লাস দেখা গেছে আমেরিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ লিগের একটি দলের ড্রেসিংরুমে। রোনান এর আগে বাংলাদেশের হয়ে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ফাইনালে আনার পেছনে বড় অবদান রাখেন। শিরোপা জয়ের পেছনে অবদান ছিল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব- ২০ জাতীয় দলের গোলকিপার ইসমাইল হোসেইন মাহিনেরও। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো পক্ষ গোল দিতে পারেনি, টাইব্রেকারে তিনি ভারতীয় দলের প্রথম পেনাল্টি ঠেকিয়ে বাংলাদেশ দলের শিরোপা জয়ের আশা জাগিয়ে তোলেন। খাবারের ভিডিও থেকে বাংলাদেশ দলে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বেড়ে ওঠেন কুইন সুলিভান। সুলিভান ভাইদের মধ্যে এখন কুইন সবচেয়ে জনপ্রিয়। এমনকি অনেকে আশা করছেন তিনি এবারে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলেও খেলতে পারেন। ইতোমধ্যে তিনি যুব বিশ্বকাপ খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে এবং নিয়মিত ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে মেজর সকার লিগে খেলছেন, যেই লিগে খেলছেন লিওনেল মেসি। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকেই এই তরুণ ফুটবলারের গল্পে হঠাৎ করেই উঠে এসেছে বাংলাদেশের কথা। লিওনেল মেসির বিপক্ষে মাঠে কুইন সুলিভান স্থানীয় ক্লাব ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের একটি ভিডিওতে খাবারের স্বাদ নিতে গিয়ে নিজেদের পারিবারিক শিকড়ের কথা বলতে গিয়ে আলোচনায় আসে তাদের বাংলাদেশি বংশসূত্র। এরপরই শুরু হয় অনুসন্ধান, যা শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পর্যন্ত। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ফিলাডেলফিয়ার এক প্রবাসী বাংলাদেশির পরিচালিত লবঙ্গ কাবাব অ্যান্ড ক্যাফেতে বসে আছেন কুইন। সামনে ধোঁয়া ওঠা নান, সঙ্গে গরু ও খাসির ঝোল। খেতে খেতেই তিনি গল্প করছিলেন নিজের শিকড় নিয়ে, বাংলাদেশের সঙ্গে তার নাড়ির টান নিয়ে। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও পরে প্রকাশ করে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কুইন তখন সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও ভালোবেসে তার নানীর কথা বলেছিলেন। তিনি জানান, তার নানী ঢাকার মেয়ে। সেখান থেকে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে, ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভ্যানিয়ায় এবং সেখান থেকেই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি জাতিসংঘেও কাজ করেছেন। পরে জানা যায়, কুইনের সেই নানীর নাম সুলতানা আলম। তিনি বিয়ে করেন ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভ্যানিয়ার জার্মান অধ্যাপক ক্লাউস ক্রিপেনডর্ফকে। সুলিভানরা চার ভাই- রোনান ও ডেক্ল্যান এখন বাংলাদেশ বয়সভিত্তিক দলের সাথে, আর কুইন ও ক্যাভান সুলিভান যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল খেলছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ডিজিটাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য অমিত হাসান জানান, এই চার ভাইয়ের নানী সুলতানা আলম একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভ্যানিয়ায় পড়াশোনা করতে গিয়ে এক জার্মান প্রফেসরকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির মেয়ের ঘরে জন্ম চার ভাইয়ের, যারা এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল খেলায় নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলছেন। বাংলাদেশি ক্রীড়া প্রতিবেদক রিফাত মাসুদ বলেন, একটি ভিডিওতে খাবারের স্বাদ নিতে গিয়ে নিজেদের পারিবারিক শিকড়ের কথা তুলে আনার বিষয়টি একটি অনলাইন পেইজ সেইভ বাংলাদেশ ফুটবল প্রথমে খেয়াল করে। ক্লাবের ভিডিওতে তাদের বাঙালি পরিচয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পর পেইজটি সুলতানা আলমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। সেখান থেকেই এই ফুটবলারদের সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যোগাযোগের পথ তৈরি হয়। সুলিভান পরিবারে ফুটবল যেন রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। তাদের বাবা ব্রেন্ডান সুলিভান অস্ট্রেলিয়ার এ লিগে ছয় বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে পাঁচটি ক্লাবে খেলেছেন। এর আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভ্যানিয়ায় খেলেছেন এবং পরে কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মা হেইকে ডিভিশন ওয়ান পর্যায়ে ফুটবল খেলেছেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী দলের অধিনায়ক ছিলেন। চার ভাইয়ের মধ্যে কুইন সুলিভান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুব দলে খেলেছেন এবং ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে মাঠে নামছেন। তার ছোট ভাই ক্যাভানও যুক্তরাষ্ট্রের যুব আন্তর্জাতিক দলে খেলেন, বলা হয়ে থাকে এই ক্যাভান নাকি এই চার ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান। বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন যমজ ভাই ডেকলান ও রোনান, তারা আমেরিকায় বর্তমানে ওয়াইএসসি একাডেমিতে পড়াশোনা করছেন এবং এমএলএস নেক্সটের সহযোগী ক্লাব এফসি ডেলকোর হয়ে খেলছেন। এই পরিবারের পরিবারের ফুটবল ঐতিহ্য আরও বিস্তৃত। তাদের চাচাতো ভাই ক্রিস অলব্রাইট যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ফুটবলার ছিলেন এবং ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে খেলেছেন। এছাড়া তাদের নানা ল্যারি সুলিভান ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কোচ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।