নেইমারকে দলে রাখতে কোচের সঙ্গে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের আলোচনা

নেইমারকে দলে রাখতে কোচের সঙ্গে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের আলোচনা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমারের ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। ‘ব্রাজিল ২৪৭’ ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লুলা নিজেই এ কথা জানান। নেইমারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত মতামতও সেখানে তুলে ধরেন লুলা। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার আনচেলত্তির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তখন আনচেলত্তিই আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার কি মনে হয় নেইমারকে দলে ডাকা উচিত?” আমি বললাম,দেখুন, সে যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকে, তার ফুটবলীয় সামর্থ্য আছে।’’ গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের অনুষ্ঠানে একটি লুলা এবং আনচেলত্তির দেখা হয়। আগামী নারী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ব্রাজিল। সেই অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গে ছবি তোলেন এবং প্রেসিডেন্ট লুলা রসিকতা করে আনচেলত্তিকে তাঁর প্রিয় ক্লাব করিন্থিয়ানসের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধও জানান। নেইমারের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে লুলা উদাহরণ হিসেবে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রসঙ্গ টানেন, ‘আমাদের আগে জানতে হবে সে নিজে (দলে ফিরতে) চায় কি না। যদি চায়, তবে তাকে পেশাদার হতে হবে। শুধু নামের জোরে (বিশ্বকাপে) যেতে পারে না, ফুটবলীয় প্রতিভা দিয়েই ফিরতে হবে। সে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিংবা মেসিকে অনুসরণ করতে পারে; তবে ফিরতে পারবে জাতীয় দলে।’ চোট ও ফিটনেস সমস্যায় দুই বছরের বেশি সময় ব্রাজিল জাতীয় দলের বাইরে নেইমার। কোচ আনচেলত্তি বারবার বলেছেন, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকতে নেইমারকে ফিটনেস ফিরে পেতে হবে। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে নেইমার সান্তোসের হয়ে আজ মাঠে নেমেছিলেন। কোপা সুদামেরিকানায় প্যারাগুয়ের ক্লাব রেকোলেতার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচের ৪ মিনিটে গোল করেন নেইমার। ম্যাচ শেষে ভিলা বেলমিরোর ভিআইপি গ্যালারিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন নেইমার। সেখানে সমর্থকেরা সান্তোসের প্রতি নেইমারের সম্মানবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নিজের জার্সিতে সান্তোসের লোগোর দিকে আঙুল উঁচিয়ে নেইমার জবাব দেন, ‘আমি শ্রদ্ধা করি, অন্তর থেকেই শ্রদ্ধা করি।’ ইএসপিএনের ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে নেইমার সমর্থকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি নষ্ট হয়ে গেছি? আমি তো এখানে নিজের সবটুকু নিংড়ে দিচ্ছি, ভাই।’ ম্যাচ শেষে ‘মিক্সড জোনে’ সমর্থকদের সঙ্গে সেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন নেইমার, ‘আমাদের খেলা নিয়ে সমর্থকরা সমালোচনা করবেন, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু যখন বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়, তখন সেটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমি নিজের কাজের প্রতি সৎ, যতটা প্রয়োজন তার চেয়েও বেশি শ্রম দিই; তাই আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক নয়…সমর্থকেরা মাঝেমধ্যে সীমা ছাড়িয়ে যান, এমনভাবে অপমান করেন যে খুব কষ্ট লাগে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৫ লজ্জাজনক হার

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৫ লজ্জাজনক হার প্রতিটি বিশ্বকাপই আমাদের জন্য কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেয়, তবে সেই সব স্মৃতি সবসময় উদযাপনের মতো আনন্দদায়ক হয় না। ‘গ্রেটেস্ট শো অর্ন আর্থ’ নামক প্রতিযোগিতায় অম্ল-মধূর অনেক গল্পই অমর হয়ে আছে। মাঠে একদল যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরার উল্লাসে মাতে, ঠিক তখনই অন্য কোনো দল এমন এক নেতিবাচক ইতিহাস তৈরি করে যা কেউ মনে রাখতে চায় না – লজ্জাজনক হার, অবিশ্বাস্য বিপর্যয় আর এমন যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স যা ফুটবল বিশ্বে এক একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকে। সাবেক আয়োজক দেশ থেকে শুরু করে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অভিষেক হওয়া দলের ট্রেজেডি – যারা শুধু ব্যর্থই হয়নি, বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখিয়েছে বিপর্যয়ের নজির সৃষ্টি করে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগে ফিরে দেখা যাক কয়েকটি করুণ সেই ইতিহাস। বলিভিয়া (১৯৫০) আজ পর্যন্ত আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপের মধ্যে অন্যতম অদ্ভুত এক আসর ছিল ১৯৫০ ব্রাজিল বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপের ফরম্যাট ছিল একেবারেই ভিন্নরকম – গ্রুপগুলোতে দলের সংখ্যা সমান ছিল না, এমনকি প্রথাগত নকআউট পর্বের বদলে রাখা হয়েছিল একটি ফাইনাল গ্রুপ। ফ্রান্স নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বলিভিয়া পড়ে যায় অদ্ভুত এক ‘দুই দলের’ গ্রুপে। ফলে তাদের ভাগ্য ঝুলে ছিল মাত্র একটি ম্যাচের ওপর, যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল সেবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। ২ জুলাই অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি আদতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই ছিল না, ছিল উরুগুয়ের একতরফা দাপট। ৮-০ গোলে বলিভিয়াকে বিধ্বস্ত করে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই শেষ করে দেয় উরুগুয়ে। নানা অনিয়ম আর অদ্ভুত সব ঘটনায় ভরা সেই টুর্নামেন্টে বলিভিয়ার এই বিশাল ব্যবধানের হার ইতিহাসের অন্যতম একপেশে লড়াইয়ের মুহূর্ত হিসেবে আজও টিকে আছে। গ্রিস (১৯৯৪) চার দশকেরও বেশি সময় পর, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এক দুঃস্বপ্নময় অভিষেকের সাক্ষী হয় গ্রিস। তাদের সেই বিশ্বকাপ অভিযান সম্ভবত সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই আইকনিক গোলটির কারণে। এই গোলটি ছিল আর্জেন্টিনা দলের হয়ে এই কিংবদন্তির শেষ আন্তর্জাতিক গোল। আর্জেন্টিনার ৪-০ ব্যবধানের জয়ে যে গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হয়ে আছে। তবে সেটি ছিল গ্রিসের দুর্গতির শুরু মাত্র। এরপর নাইজেরিয়া এবং বুলগেরিয়ার কাছেও তারা হার মানে, এবং কোনো ম্যাচেই একটি গোলও শোধ করতে পারেনি। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সময় গ্রিস ১০টি গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল পাঠাতে পারেনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যর্থ দলগুলোর তালিকায় নিজেদের নাম খোদাই করে ফেলে তারা। এই ভরাডুবির প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎক্ষণিক—ম্যাচ শেষ হওয়া মাত্রই প্রধান কোচ আলকেতাস পানাগুলিয়াস পদত্যাগ করেন। হাইতি (১৯৭৪) ১৯৭৪ বিশ্বকাপে এমন বেশ কিছু দল অংশ নিয়েছিল যারা বিশ্বমঞ্চে লড়াই করতেই রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল হাইতি। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে ক্যারিবিয়ান এই দলটি শুরুতে কিছুটা সম্ভাবনার ঝলক দেখালেও শেষ পর্যন্ত বড় দলগুলোর গতির সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারেনি। ইতালি, পোল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে তাদের গোল ব্যবধান দাঁড়ায় -১২ । হাইতির এই পারফরম্যান্স সেই সময়ে ফুটবলের উদীয়মান দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর বিশাল ব্যবধানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছিল। জায়ার (১৯৭৪) একই টুর্নামেন্টে এমন একটি দলের অভিষেক হয়েছিল, যাদের পারফরম্যান্সকে আজও অনেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বাজে’ হিসেবে গণ্য করেন; আর সেই দলটি হলো জায়ার। নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ আসরে জায়ার তাদের তিনটি ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরেছিল। একটি গোলও করতে না পারা দলটি হজম করেছিল মোট ১৪টি গোল। বিশেষ করে যুগোস্লাভিয়ার কাছে তাদের ৯-০ গোলের হার আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যবধানের পরাজয় হয়ে আছে। এল সালভাদর (১৯৮২) আট বছর পর, ১৯৮২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে এল সালভাদরও ঠিক একই পর্যায়ের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। তাদের সেই বিশ্বকাপ যাত্রা সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে উদ্বোধনী ম্যাচেই হাঙ্গেরির কাছে ১০-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারের কারণে। এই একটি ম্যাচের ফলই টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশা কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল তাদের। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বেলজিয়াম ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এল সালভাদর কিছুটা লড়াই করতে পারলেও, ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। টুর্নামেন্ট শেষে দেখা যায়, এল সালভাদর মাত্র ১টি গোল করতে পারলেও হজম করেছে মোট ১৩টি গোল; যা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল দলগুলোর তালিকায় উপরের দিকেই আছে।

বাংলাদেশকে জবাব দিতে পূর্ণ শক্তির পরিকল্পনায় নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশকে জবাব দিতে পূর্ণ শক্তির পরিকল্পনায় নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। আজ প্রথমবারের মতো অনুশীলনও করেছে তারা। পরে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসেন কোচ রব ওয়াল্টার। সেখানে কথা বলেছেন প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দলের পেস ইউনিট নিয়ে। স্পিনিং উইকেট বানানোর দরকার নেই বলেও মনে করেন তিনি। অতীতে স্পিন নির্ভর উইকেট বানিয়ে সফরকারীদের ফাঁদে ফেলার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। তবে গেল মাসে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পিন সহায়ক উইকেটের বদলে স্পোর্টিং উইকেটে বানিয়েছিল টাইগাররা। আসন্ন সিরিজেও বাংলাদেশের স্পিন উইকেট বানানোর প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন এই কোচ। ওয়াল্টার বলছিলেন, ‘আসলে আমার মনে হয় বাংলাদেশের দলের দারুণ কিছু পেসার রয়েছে। তাদের মনে হয় স্পিন উইকেট বানানোর দরকার নেই। ফলে আমাদের নিজেদের শক্তিমত্তা অনুযায়ী প্ল্যান করে মাঠে তা কাজে লাগাতে হবে।’ ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন মোকাবিলা করতেই হবে। ফলে নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে। আমরা এখানের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পিচ দেখেছি, একদমই ভিন্নরকম স্পিন পেসের লড়াই মনে হয়েছে। আমরা নিজেদের দুই ধরনের উইকেটের জন্যই প্রস্তুত রেখেছি।’ পরে বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে ওয়াল্টার জানান, ‘অবশ্যই ভিন্ন ধরনের কন্ডিশন এখানে। আমরা চেষ্টা করছি সবকিছু বুঝে নিতে। এখানে অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় তো লাগবে। প্রথম ম্যাচের আগে যে কয়দিন সময় পেয়েছি তা হয়ত ভালোভাবে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তবে এখানে শ্রীলঙ্কায় ‘এ’ দলের সিরিজ খেলে অনেকে এসেছে। সব মিলিয়ে ভালোই লাগছে।’ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ১৭ এপ্রিল। ২০ তারিখ একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। এরপর চট্টগ্রামে ২৩ এপ্রিল ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ। একই মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হবে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল। দুই দলের শেষ টি-টোয়েন্টি হবে ২ মে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

ডোপিং পরীক্ষায় যুক্ত হলেন অভিষেক-অক্ষর

ডোপিং পরীক্ষায় যুক্ত হলেন অভিষেক-অক্ষর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা এবং অক্ষর প্যাটেল। ফাইনালে অভিষেকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দারুণ সূচনা করেছিল স্বাগতিকরা। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টে বল হাতে নৈপ্যুনের পাশাপাশি অসাধারণ ফিল্ডিং করেছেন অক্ষর প্যাটেল। বিশ্বকাপ শেষে অভিষেক সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং অক্ষর দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (নাডা) বা জাতীয় ডোপিং বিরোধী সংস্থা তাদের ডোপিং পরীক্ষার তালিকা যুক্ত করেছে। স্মৃতি মান্ধানা এবং শ্রেয়াস আইয়ারের পরিবর্তে এই দুই ক্রিকেটারকে তাদের অবস্থান জানাতে হবে এবং ডোপ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় তাদের উপস্থিতি থাকতে হবে। অভিষেক শর্মা এবং অক্ষর প্যাটেল হলেন নাডা-রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুলে সর্বশেষ যুক্ত হওয়া খেলোয়াড়। এই দীর্ঘ তালিকায় বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ভারতীয় ক্রিকেটারসহ ৩৪৮ জন ক্রীড়াবিদ রয়েছেন। অভিষেক শর্মা এবং অক্ষর প্যাটেল ছাড়াও দেশটির টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিল এই তালিকার অন্যতম হাই-প্রোফাইল নাম। উল্লেখ্য, ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (নাডা) বিভিন্ন ক্রীড়া শাখার অ্যাথলিটদের ওপর নজর রাখে। এর প্রধান কাজ হলো খেলোয়াড়রা মাঠে তাদের পারফরম্যান্স উন্নত করার জন্য কোনো নিষিদ্ধ ড্রাগ গ্রহণ করছে কিনা তা পরীক্ষা করা।অ্যান্টি-ডোপিং টেস্টিং পুল হলো সেইসব অ্যাথলিটদের একটি তালিকা, যাদেরকে নাডার কাছে তাদের অবস্থান জানাতে এবং প্রতিদিন একটি পূর্ব-নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুল এর কোনো অ্যাথলিট যদি এই শর্তগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে নাডা তাকে ডোপিং লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে এবং সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এভাবে অ্যান্টি-ডোপিং টেস্টিং পুল নাডাকে শুধুমাত্র ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের মূল ভিত্তি রক্ষা করতেই সাহায্য করে না, বরং অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি দিতেও সহায়তা করে।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা আইসিসির

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা আইসিসির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আসন্ন নারী টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড ৮.৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৫ কোটি টাকা) প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে। ইংল্যান্ডে জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে আগের আসরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এবারের আসরে দলসংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২ করা হয়েছে এবং গ্রুপপর্বের ম্যাচও ২০ থেকে বেড়ে ৩০টিতে উন্নীত হয়েছে। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২.৩৪ মিলিয়ন ডলার, যা আগের আসরের সমান। রানার্স-আপ দল পাবে ১.১৭ মিলিয়ন ডলার। সেমিফাইনালে পরাজিত দুই দল প্রত্যেকে পাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। গ্রুপপর্বে প্রতিটি জয়ের জন্য থাকবে ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার পুরস্কার। তবে এবার একটি বড় পরিবর্তন হলো—নকআউট পর্বে উঠতে না পারা দলগুলোর জন্য আলাদা পজিশনভিত্তিক পুরস্কার বাতিল করা হয়েছে। ফলে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা কিছু দল আগের তুলনায় কম অর্থ পেতে পারে। প্রতিটি দলের জন্য ন্যূনতম অংশগ্রহণ ফি ১১২,৫০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৪৭,৫০০ ডলার করা হয়েছে। এতে নকআউট পর্বে পৌঁছানো দলগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। সেমিফাইনালে হারা দল পাবে অন্তত ৯২২,৫০০ ডলার, রানার্স-আপ পাবে অন্তত ১,৪১৭,৫০০ ডলার, চ্যাম্পিয়ন দল পাবে কমপক্ষে ২,৫৮৭,৫০০ ডলার। ২০২৩ সালে আইসিসি পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের জন্য সমান পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলেই ২০২৪ আসরে পুরস্কার তহবিলে বিশাল বৃদ্ধি দেখা যায়, যা ২.৪৫ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৭.৯৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে চলতি বছরের ১২ জুন, যেখানে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে এজবাস্টনে। ফাইনাল ৫ জুলাই, ঐতিহ্যবাহী লর্ডস স্টেডিয়ামে।

অ্যাটলেটিকোর মাঠে বার্সার বাঁচামরার লড়াই

অ্যাটলেটিকোর মাঠে বার্সার বাঁচামরার লড়াই লা লিগায় এস্পানিওলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ডার্বি জয়ের পর এবার ইউরোপীয় মঞ্চে বড় পরীক্ষার সামনে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এস্তাদিও মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে তারা মুখোমুখি হবে স্বাগতিক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের। প্রথম লেগে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বার্সেলোনার জন্য এই ম্যাচটি ‘ডু অর ডাই’। তবে দুই গোলের ব্যবধান ফুটবলে অজেয় নয়—৯০ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে যাওয়ার সুযোগ এখনও আছে। তবে কাজটা মোটেও সহজ নয়। অ্যাটলেটিকোর কোচ ডিয়েগো সিমিওনে প্রথম লেগের লিড ধরে রাখার ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তার দল সাধারণত শক্ত রক্ষণভাগ গড়ে তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে এবং সুযোগ পেলে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করার চেষ্টা করে। অ্যাটলেটিকো শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক প্রেসিং করে বার্সাকে চমকে দিতে পারে, এরপর লিড পেলে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সিমিওনের পরিকল্পনা যাই হোক, তার খেলোয়াড়রা সেটি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত। এছাড়া ঘরের মাঠের সমর্থন অ্যাটলেটিকোর বড় শক্তি। ইউরোপীয় রাতে মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামের পরিবেশ প্রতিপক্ষের জন্য একপ্রকার ‘প্রেশার কুকার’ হয়ে ওঠে, যা বার্সেলোনার মানসিক দৃঢ়তাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে। অন্যদিকে, বার্সেলোনা এই ম্যাচে নামছে তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রাফিনহাকে ছাড়াই, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা। এছাড়া মাঠের অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে অ্যাটলেটিকো এগিয়ে থাকলেও বার্সেলোনার জন্য সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। কোচ হ্যান্সি ফ্লিক এবং তার শিষ্যদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ—সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করা। দীর্ঘদিন ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউট পর্বে স্মরণীয় রাত উপহার দিতে পারেনি বার্সেলোনা। এই ম্যাচটি হতে পারে সেই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ।

আম্পায়ারকে বল না দেওয়ায় শাস্তি ডেভিডের, জরিমানা হার্দিকের

আম্পায়ারকে বল না দেওয়ায় শাস্তি ডেভিডের, জরিমানা হার্দিকের আইপিএলের শুরু থেকেই ব্যাট হাসছে টিম ডেভিডের। তাতে গ্যালারির চতুর্দিকে বলকে পাঠিয়ে দর্শকদের দিচ্ছেন নির্মল আনন্দ। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে গতকালের ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার দিয়েছেন বিনোদন। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২১২.৫০ স্ট্রাইকরেটে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস খেলেছেন ডেভিড। পরে তার ঝোড়ো ইনিংসটিও পেয়েছে পূর্ণতা। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ১৮ রানের জয় পেয়েছে তার দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়লেও পরে ডেভিডকে শুনতে হয়েছে দুঃসংবাদ। আম্পায়ারের নির্দেশনা অমান্য করায় শাস্তি পেতে হয়েছে তাকে। শুধু ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানাই নয়, ৩০ বছর বয়সী ব্যাটারের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে ১টি ডিমেরিট পয়েন্টও। ম্যাচে একবার নয়, আম্পায়ারের নির্দেশনা দুইবার অমান্য করেছেন ডেভিড। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরু ইনিংসের ১৮তম ওভারে। বল পরিবর্তন করার পর আম্পায়ার তা চাইলে ডেভিড না দিয়ে পরিবর্তিত বলকে সিম অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষার জন্য ছুঁড়ে মারেন তিনি। আর দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০তম ওভারে। এবারও তিনি আম্পায়ারের নিদের্শনা মানেননি। এরই শাস্তি হিসেবে আইপিএল আচরণবিধির ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরিমানা করেন ম্যাচ রেফারি। ডেভিড শাস্তি মেনে নেওয়ায় শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। এদিকে, হার্দিক পান্ডিয়ার হয়েছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। ম্যাচ হারার পর জরিমানা গুনেছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানস অধিনায়ক। মন্থর ওভার রেটের কারণে ১২ লাখ রুপি জরিমানা দিতে হয়েছে তাকে।

বাংলাদেশের কোচ হতে আগ্রহী জার্মান অ্যান্টোইন হে

বাংলাদেশের কোচ হতে আগ্রহী জার্মান অ্যান্টোইন হে সান মারিনোর বিপক্ষে জুনের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগেই জাতীয় দলের ডাগআউটে দেখা যাবে নতুন কোচ। দুই বছরের চুক্তিতে কোচ নিয়োগ দিতে চাচ্ছে বাফুফে। হাভিয়ের কাবরেরার মেয়াদ ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে চার বছরের বেশি সময় থাকা এই কোচের সঙ্গে চুক্তি বাড়াতে আগ্রহী নয় বাফুফে। নতুন কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে নজরে এসেছে অভিজ্ঞ জার্মান কোচ অ্যান্টোইন হের। হামজা-শমিতদের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।  অ্যান্টোইন হে উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী কোচ, যার এশিয়া ও আফ্রিকার ফুটবলে দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি এরই মধ্যে মায়ানমার, রুয়ান্ডা, কেনিয়া, লাইবেরিয়া, গাম্বিয়া এবং লেসোথো জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বাহরাইন ও লিবিয়া ফুটবল ফেডারেশনে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবেও তার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।  খেলোয়াড় হিসেবে তিনি জার্মান বুন্দেসলিগার শালকে ০৪ ও ফরচুনা ডুসেলডর্ফের মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন। বাফুফের মানদণ্ড অনুযায়ী, নতুন কোচকে অবশ্যই এশীয় ফুটবল সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। অ্যান্টোইন হে মায়ানমার জাতীয় দলের হয়ে দুই মেয়াদে চার বছর কাজ করায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবল পরিবেশ সম্পর্কে বেশ অভিজ্ঞ। পিছিয়ে থাকা দলকে বড় মঞ্চে তুলে আনার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। মায়ানমার ও রুয়ান্ডার মতো দলের সঙ্গে তার অতীত রেকর্ড এমনই বলছে। সর্বশেষ আলজেরিয়ান ইএস শেতিফে গত বছর যোগ দেন তিনি। তবে তিন মাসের বেশি টিকতে পারেননি। নতুন কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে বাফুফের আরেকটি বড় চিন্তা বাজেট। কাবরেরা পারিশ্রমিক পেতেন প্রায় ১৪ হাজার ডলারের। যদিও শুরুতে ২০২২ সালে যখন প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশের কোচ হন তখন তার বেতন ছিল ৮ হাজার ডলার। তবে সব ছাপিয়ে টেকনিক্যাল স্কিলকে জোর দেওয়া হবে বেশি। অ্যান্টোইন হে ছাড়াও বাফুফের কোচ হতে আবেদন এসেছে রোমানিয়ান, ফরাসি ও পর্তুগিজ কোচের। 

বিমানে বোমার ভুয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে গ্রেপ্তার আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার

বিমানে বোমার ভুয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে গ্রেপ্তার আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার একটা প্র্যাঙ্ক বা মজার ছলে করা কর্মকাণ্ডের মূল্য কতটা হতে পারে, সেটা হাঁড়ে হাঁড়েই টের পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার এমিলিয়ানো ইনদ্রেজ্জি। পুলিশের হাতে তো গ্রেপ্তার হয়েছেনই, এমনকি ক্যারিয়ারও শেষের পথে ৩২ বছর বয়সী এ ডিফেন্ডারের! তা ইনদ্রেজ্জি কী করেছেন? আর্জেন্টাইন ক্লাব জিমনাসিয়ায় খেলা এ ডিফেন্ডার প্র্যাঙ্ক করে বিমানে বোমার আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সে অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুসারে, হুসুই বিমানবন্দরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। বুয়েনস আইরেস গামী একটি ফ্লাইটে মজা করে ‘বোমা’ বলে চিৎকার করেছিলেন ইনদ্রেজ্জি। বিমানটি উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে তাঁর এমন চিৎকারে বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী প্রটোকলও চালু হয়ে যায়। বিমানটি দ্রুত খালি করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ডেকে পুরো বিমানটি তল্লাশি করা হয়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি বোমার আতঙ্কটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। বিমানে কোনো সন্দেহজনক বস্তুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপরই রানওয়েতে থাকা ইনদ্রেজ্জিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হাতকড়া পরিয়ে ৩২ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া আতঙ্ক সৃষ্টি ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটনোর অভিযোগ আনা হয়েছে। দুটোই গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইনদ্রেজ্জির এমন ‘প্রাঙ্কের’ ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে তাঁর ক্লাব জিমনাসিয়া লিখেছে, ‘এটি ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং ক্লাব এ ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছে।’ অন্যদিকে ক্লাব সভাপতি এটিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করে ইনদ্রেজ্জির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ক্লাবের সুনাম নষ্ট করে বা ক্রীড়া মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো আচরণ আমরা সহ্য করব না।’ এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো এরইমধ্যে ইনদ্রেজ্জির এমন কর্মকাণ্ডকে ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বোকামিপূর্ণ প্র্যাঙ্ক বলে আখ্যা দিয়েছে।

লাবুশেনের ব্যাটে হায়দ্রাবাদের টানা জয়

লাবুশেনের ব্যাটে হায়দ্রাবাদের টানা জয় মারনাস লাবুশেনের ৫৩ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংসে পিসিএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ছয় উইকেটে হারিয়ে হায়দ্রাবাদ কিংসমেন। এতে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে টেবিলের ছয় নম্বরে উঠে এলো লাবুশেনের নেতৃত্বাধীন দলটি। রবিবার ১২ এপ্রিল করাচিতে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় হায়দরাবাদ। ডেভন কনওয়ে এবং সামির মিনহাসের ব্যাটে ভালো শুরু পায় ইসলামাবাদ। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৫৬ রান। মোহাম্মদ আলির বলে বোল্ড হয়ে ২২ রান করে ফেরেন মিনহাস। এরপর কনওয়েকে সঙ্গ দিতে আসেন মোহাম্মদ ফাইক। তাদের জুটি বেশি দীর্ঘ হয়নি। ১৪ বলে ১৮ রান করে ফেরেন ফাইক। এরপর জাতীয় দলের সতীর্থ চ্যাপম্যানকে নিয়ে এগোতে থাকেন কনওয়ে। তবে দলীয় ১০৫ রানে আউট হন কনওয়ে, করেন ৪৫ রান। এরপর চ্যাপম্যান ছাড়া আর কেউ বলার মতো রান করতে পারেনি। এই কিউই ব্যাটার ৩০ বলে ৪২ করেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানে থামে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের ইনিংস। হায়দরাবাদের হয়ে ১৮ রানে ৪ উইকেট নেন আসিফ মেহমুদ। ২ উইকেট পান মোহাম্মদ আলী। আর একটি উইকেট নেন গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদও ভালো শুরু পায়। মাআজ সাদাকাত ও অধিনায়ক লাবুশেনের ব্যাট থেকে আসে ৫০ রান। সাদাকাত ৩০ করে ফিরলে লাবুশেনের সঙ্গে জুটি বাধেন সাইম আইয়ুব। এই দুইজন মিলে গড়েন ৬০ রানের জুটি। আইয়ুব ৩৫ করে ফিরলেও দলকে জয়ের দিকে নিতে থাকেন অজি ব্যাটার লাবুশেন। মাঝে ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেই, ম্যাক্সওয়েল ক্রিজে নামার পর সব সমীকরণ সহজ হয়ে যায়। অভিজ্ঞ এই অজি অলরাউন্ডার ৯ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। লাবুশেন থাকেন ৬১ রানে অপরাজিত। ১১ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় হায়দরাবাদ। ইসলামাবাদের হয়ে দুইটি করে উইকেট নেন গ্রিন ও ফাহিম আশরাফ।