ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি তৈরির রেসিপি

ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি তৈরির রেসিপি ইফতারে ঠান্ডা ঠান্ডা কোনো পানীয় না হলে কি চলে? অনেকে বাইরে থেকে কেনা ইন্সট্যান্ট শরবত গুলিয়ে খেয়ে থাকেন। এতে সাময়িক প্রশান্তি আর স্বাদ পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর বদলে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়ে স্মুদি তৈরি করে খেতে পারেন। তাতে যেমন প্রাণ জুড়াবে, তেমনই শরীরও ভালো থাকবে। আজ চলুন জেনে নেওয়া যাক, ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে : খেজুর- ১০-১২টি দুধ- ২ কাপ পাকা কলা- ২টি দই- ২ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া- ২ চা চামচ মধু- ২ চা চামচ বরফ- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন : প্রথমে পরিষ্কার ও গরম পানিতে খেজুরগুলো ভিজিয়ে রেখে নরম করে নিন। এবার পানি থেকে তুলে তার সঙ্গে কলা টুকরা করে মেশান। এরপর ব্লেন্ডারে সবগুলো উপকরণ নিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ভালোভাবে ব্লেন্ড করবেন যেন দানাদানা না থাকে। ব্লেন্ড হয়ে গেলে কাঁচের গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করবেন। উপরে বরফের টুকরা ছড়িয়ে দিন। এটি ইফতারের আগে আগে তৈরি করলে খেতে বেশি ভালোলাগবে। তৈরি করে বেশিক্ষণ রেখে দিলে স্বাদ পরিবর্তন হতে পারে।

ভালোবাসা দিবসে ভেঙে পড়েছে ইতালির বিখ্যাত ‘লাভার্স আর্চ’

ভালোবাসা দিবসে ভেঙে পড়েছে ইতালির বিখ্যাত ‘লাভার্স আর্চ’ ভালোবাসা দিবসে মানুষ আনন্দ আর স্মৃতির খোঁজে ছুটে যেতো ‘লাভার্স আর্চ’-এ। কিন্তু দিনটিতেই ভেঙে পড়ল ইতালির এই জনপ্রিয় পর্যটন স্থাপনা। ইতালির আদ্রিয়াটিক সাগর উপকূলে অবস্থিত বিখ্যাত পাথুরে কাঠামো ‘লাভার্স আর্চ’। ১৪ ফেব্রুয়ারি এটি হঠাৎ ধসে যায়। এই ঘটনা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘লাভার্স আর্চ’ ছিল প্রাকৃতিকভাবে তৈরি একটি পাথরের খিলান। এটি পুলিয়া অঞ্চলের মেলেনদুগ্নো শহরের কাছে সান্ত’আন্দ্রেয়া এলাকার অংশ। বহু বছর ধরে এটি প্রেমিক-প্রেমিকা ও নবদম্পতিদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হিসেবে স্বীকৃত। প্রেম বা বিয়ের প্রস্তাব, ছবি তোলা এবং ভ্রমণ স্মৃতির জন্য মানুষ এখানে ভিড় করত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্র উপকূলের ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানছিল। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের চাপেই শেষ পর্যন্ত পাথরের খিলানটি ভেঙে পড়ে। মেলেনদুগ্নোর মেয়র বলেন, এটি ভালোবাসা দিবসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত উপহার। তিনি জানান, এই ধস এলাকার ভাবমূর্তি ও পর্যটনের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি স্থাপনা ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়। উপকূলের আরও অনেক জায়গায় ফাটল দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ সামনে আরও ধসের আশঙ্কা রয়েছে। একে বলা হচ্ছে উপকূল ক্ষয় (সমুদ্রের ঢেউ ও আবহাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে ভূমি ভেঙে যাওয়া)। একই সময় ইতালির আয়োনিয়ান সাগর উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়ও বড় ক্ষতি হয়েছে। উজেন্তো থেকে গাল্লিপোলি পর্যন্ত দীর্ঘ সৈকত এলাকায় বালু সরে গেছে, ছোট পাহাড় ধসে পড়েছে এবং কিছু বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরে টানা খারাপ আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ ইতালিতে ক্ষতির পরিমাণ এক বিলিয়ন ইউরোর বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিসিলির নিসচেমি শহরে ভূমিধসের কারণে ১,৫০০-এর বেশি মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে।

প্রথম উদ্ভিদভোজী স্থলপ্রাণীর সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রথম উদ্ভিদভোজী স্থলপ্রাণীর সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে প্রাণের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে। বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এমন এক প্রাচীন প্রাণীর সন্ধান, যে ছিল গাছপালা খাওয়া স্থলপ্রাণীদের অন্যতম প্রথম সদস্য। প্রাণীটির আকার ছিল প্রায় একটি ফুটবলের মতো। এটি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াত প্রায় ৩০ কোটি ৭০ লাখ বছর আগে। এই প্রাণীর নাম Tyrannoroter heberti। সম্প্রতি গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ন্যাচার ইকোলোজি ইভোল্যুশন–এ। গবেষকদের মতে, এটি ছিল চার পা–ওয়ালা (টেট্রাপড অর্থাৎ চার অঙ্গবিশিষ্ট প্রাণী) স্থলপ্রাণীদের মধ্যে খুবই প্রাচীন একটি উদাহরণ। এই প্রাণীর মাথার হাড় পাওয়া গেছে কানাডার নোভা স্কশিয়ার কেপ ব্রেটন দ্বীপের একটি জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া গাছের গুঁড়ির ভেতর। স্থানীয় জীবাশ্মপ্রেমী ব্রায়ান হেবার্ট প্রথম এটি খুঁজে পান। তার নাম থেকেই প্রাণীটির নামকরণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীটির মুখ চওড়া ছিল এবং মুখের ভেতরে শক্ত ও মোটা দাঁত ছিল। এই দাঁতগুলো এমনভাবে সাজানো ছিল, যেন শক্ত গাছপালা ভালোভাবে চিবানো যায়। বিজ্ঞানীরা দাঁতের ক্ষয়চিহ্ন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন, এটি মূলত উদ্ভিদভোজী ছিল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা খুলি স্ক্যান করেন এবং থ্রি-ডি মডেল তৈরি করেন। এতে প্রাণীটির গঠন খুব কাছ থেকে বোঝা সম্ভব হয়। দেখতে এটি অনেকটা টিকটিকির মতো হলেও শরীর ছিল মোটা ও খাটো। গবেষকদের ধারণা, শুরুতে এই প্রাণী পোকামাকড় খেত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের ধরন বদলায় এবং ধীরে ধীরে গাছপালার ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। গাছপালা হজম করার জন্য এর পেট বড় ছিল এবং শরীরের ভেতরে উপকারী জীবাণু (যা খাবার হজমে সাহায্য করে) ছিল। এই আবিষ্কার থেকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন, স্থলে ওঠার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীরা গাছ খাওয়া শুরু করেছিল। অর্থাৎ স্থলজ জীবনের বিকাশ খুব দ্রুত ঘটেছিল। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশ শুকনো হয়ে গেলে অনেক গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। এতে এই ধরনের প্রাণীর খাবারের সংকট তৈরি হয় এবং এক সময় তারা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু শুরু। ভবিষ্যতে আরও জীবাশ্ম পাওয়া গেলে, স্থলপ্রাণীর বিবর্তন নিয়ে আরও নতুন তথ্য জানা যাবে।

বিশ্বের ৩ হাজারের বেশি হিমবাহ বিপজ্জনক গতিতে এগোচ্ছে

বিশ্বের ৩ হাজারের বেশি হিমবাহ বিপজ্জনক গতিতে এগোচ্ছে পাহাড়ের মাথায় জমে থাকা বিশাল বরফের স্তর—যাকে বলা হয় হিমবাহ। এই হিমবাহ হঠাৎ যদি খুব দ্রুত এগোতে শুরু করে, তাহলে কী হতে পারে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন ঘটনা এখন আর কল্পনা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যে হাজার হাজার হিমবাহ হঠাৎ গতিতে ছুটে চলেছে। এতে মানুষ ও পরিবেশ—দুটোই বড় ঝুঁকিতে পড়ছে। একটি নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ৩ হাজার ১০০টির বেশি হিমবাহে এই অস্বাভাবিক গতি দেখা গেছে। এর মধ্যে অন্তত ৮১টি হিমবাহকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব হিমবাহ হঠাৎ এগোলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ন্যাচার রিভিউস আর্থ এন্ড এনভাইরনমেন্ট (Nature Reviews Earth and Environment)-এ। গবেষণাটি করেছে যুক্তরাজ্যের University of Portsmouth। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এসব হিমবাহ মূলত আর্কটিক অঞ্চল, এশিয়ার উঁচু পাহাড়ি এলাকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালায় বেশি দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি হিমবাহের গতি বেড়েছে কারাকোরাম পর্বতমালায়। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এই ধরনের হিমবাহকে বলা হয় ‘সার্জিং গ্লেসিয়ার’। অর্থাৎ যেসব হিমবাহ সাধারণ সময়ের তুলনায় হঠাৎ অনেক দ্রুত চলতে শুরু করে। একজন বিজ্ঞানী বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে বলেন, এসব হিমবাহ অনেক দিন ধরে বরফ জমিয়ে রাখে, ঠিক সঞ্চয়ের মতো। এরপর হঠাৎ করে খুব দ্রুত সব বরফ এগিয়ে দেয়। এতে বড় বিপদ তৈরি হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমবাহের এই হঠাৎ গতি বাড়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কখন, কোথায় এবং কীভাবে এসব ঘটনা ঘটছে সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। এই ধরনের হিমবাহ ছয় ধরনের বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে—হিমবাহ হঠাৎ সামনে এগিয়ে যাওয়া, নদীর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, হিমবাহের নিচ থেকে হঠাৎ পানি বেরিয়ে আসা (বন্যার মতো), বরফের বিশাল অংশ ভেঙে পড়া, বরফে বড় বড় ফাটল তৈরি হওয়া এবং বড় বরফখণ্ড ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঘটনা পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। ঘরবাড়ি, রাস্তা ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখনই এসব হিমবাহের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। সময়মতো সতর্ক হলে বড় ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

আলুর ডোনাট তৈরির সহজ রেসিপি জেনে নিন

আলুর ডোনাট তৈরির সহজ রেসিপি জেনে নিন ডোনাট বলতে আমরা সাধারণত মিষ্টি স্বাদই বুঝি। তবে আপনি কি জানেন, আলু দিয়ে ঝাল ঝাল স্বাদের ডোনাট তৈরি করা যায়? বাড়ি থাকা আলু ও অল্পকিছু উপাদান দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করতে পারবেন আলুর ডোনাট। ইফতার, বিকেলের নাস্তা, শিশুর টিফিন কিংবা বাড়িতে হঠাৎ মেহমান- যেকোনো আপ্যায়নে নাস্তায় রাখতে পারেন এই পদ। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আলুর ডোনাট তৈরির সহজ রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগব : সেদ্ধ আলু- ১ কাপ চটকানো সুজি- ​১ কাপ সাদা তিল- দেড় টেবিল চামচ কাঁচা মরিচ কুচি- ​৪-৫টি ধনিয়া পাতা কুচি- এক মুঠো চিলি ফ্লেক্স​- ১ চা চামচ জিরা- ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়া- ​১/২ চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া- ১ চা চামচ জিরা গুঁড়া- ১/২ চা চামচ ​লবণ- পরিমাণমতো পানি- পরিমাণমতো তেল- প্রয়োজন অনুযায়ী। যেভাবে তৈরি করবেন : কড়াইতে সামান্য তেল দিয়ে তাতে আলু সেদ্ধ, সুজি ও পানি বাদে সব উপকরণ দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। কষানো হলে তাতে এক গ্লাস পানি দিন। ফুটে উঠলে এক কাপ সুজি ও সেদ্ধ করে রাখা আলু দিয়ে দিন। এরপর ভালোভাবে নেড়েচেড়ে একটি ডো তৈরি করে নামিয়ে নিন। কিছুটা ঠান্ডা হয়ে এলে ডো থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে বলের মতো তৈরি করুন। এবার একটি করে বল নিয়ে হাতের তালুতে চেপে চ্যাপ্টা করুন। মাখঝানে আঙুল দিয়ে গর্ত করে দিন। এবার কড়াইতে তেল গরম দিন। গরম হয়ে এলে মাঝারি আঁচে ডোনাটগুলো মচমচে করে ভেজে তুলুন। এরপর পছন্দের কোনো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

ক্যারিয়ারে ভালো করতে চান? জেনে নিন কী করবেন

ক্যারিয়ারে ভালো করতে চান? জেনে নিন কী করবেন কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য সময়, ধৈর্য এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। সেইসঙ্গে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকুন বা বছরের পর বছর ধরে থাকুন না কেন, সমৃদ্ধি এবং উন্নতির সুযোগ সব সময় থাকে। ক্যারিয়ার বিষয়ক কিছু পরামর্শ আপনাকে কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং নিজ ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ও সফল ক্যারিয়ার অর্জনের লক্ষ্যে আপনাকে কিছু কাজ করতে হবে- ১. কমফোর্ট জোন থেকে বের হোন নতুন কিছু শেখার সময় আপনার পরবর্তী ভূমিকার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। নতুন এবং কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ করুন, যা প্রাথমিকভাবে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। আপস্কিলিং গ্রহণ করুন, যা আপনার ভূমিকার জন্য উন্নত দক্ষতা তৈরির প্রক্রিয়া, এবং রিস্কিলিং, যা ভিন্ন ভূমিকা অনুসরণ করার জন্য নতুন দক্ষতা শেখার প্রক্রিয়া। নেতৃত্বের দায়িত্বে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে এবং কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে ক্রস-ফাংশনালভাবে কাজ করে আপনি চ্যালেঞ্জিং নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। ২. মানুষের সঙ্গে পরিচিত হোন প্রত্যেক ব্যক্তিকে মূল্যবান এবং যোগ্য হিসেবে দেখাই ভালো। সুযোগ, রেফারেল এবং সমৃদ্ধি অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে আসতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি আপনার কাজের বাইরে একটি অস্থায়ী চাকরি করেন, তাহলে সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করলে তা আপনাকে আরও অনেক কাজের সুযোগ এনে দিতে পারে। ৩. সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকা নিজের কর্মক্ষেত্রে সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করুন এবং আপনার নির্ধারিত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। এতে কাজের প্রতি আপনার একনিষ্ঠতা প্রকাশ পাবে। যা একজন কর্মীর সফল হওয়ার জন্য সবার আগে জরুরি। তাই এদিকে খেয়াল রাখুন। ৪. আজীবন শিক্ষার্থী হয়ে উঠুন ক্যারিয়ারের যে পর্যায়েই থাকুন না কেন আপনি শিখতে পারবেন। যখন আপনি ক্রমাগত শিখবেন, তখন আরও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন এবং ক্যারিয়ারের পথে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারবেন। শেখার ইচ্ছা থাকা এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা অনেকেই মূল্যবান বলে মনে করেন। যে কোনো পেশাদার উন্নয়ন ইভেন্ট এবং প্রশিক্ষণ সেশনে যোগদান করুন। মনে রাখবেন, যত শিখবেন, ততই সফলতার দিকে এগিয়ে যাবেন। ৫. অধ্যবসায় গড়ে তুলুন আপনার কাজের একজন শীর্ষস্থানীয় পারফর্মার হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই ক্যারিয়ারের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আপনার অধ্যবসায় এবং বিকাশ চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একজন লেখক হন এবং কোনো সম্পাদক ক্রমাগত আপনার লেখাগুলো প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে একই সম্পাদক বা অন্য কোনো সম্পাদকের কাছে উপস্থাপন করার আগে আপনার ধারণাগুলো পরিমার্জন এবং বিকাশ করার চেষ্টা করুন। ৬. প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকা অপরিহার্য। যদি আপনার বসকে একটি নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে একটি প্রকল্প শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে সেই অনুযায়ী প্রকল্পটি শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। যেকোনো ব্যবসার জন্য সম্পর্ক অপরিহার্য এবং বিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একবার বিশ্বস্ততা অর্জন করলে আপনি আরও বেশি কাজের সুযোগ পাবেন। ৭. গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন অনেক সফল পেশাদার সফল হয়েছেন কারণ তারা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। একটি কৌতূহলী মনোভাব বজায় রাখুন এবং সমস্ত পেশাদার পরিবেশে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। এই অভ্যাস আপনার জ্ঞান তৈরি করতে পারে এবং শেখার প্রক্রিয়া ও উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। তবে অহেতুক প্রশ্ন করার অভ্যাস আপনাকে বিতর্কিত করতে পারে। তাই ভেবেচিন্তে কেবল প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করতে শিখুন।

কোন বয়সে কতটা সময় ঘুম প্রয়োজন?

কোন বয়সে কতটা সময় ঘুম প্রয়োজন? পৃথিবী যত কোলাহলপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং আমাদের স্ক্রিন যত উজ্জ্বল হচ্ছে, ততই পরিপূর্ণ আরামের ঘুম কঠিন হয়ে উঠছে। ঘুম কোনোবিলাসিতা নয়। এটি একটি জৈবিক প্রয়োজনীয়তা। শৈশবে মস্তিষ্কের বিকাশ থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় স্মৃতিশক্তি সুসংহতকরণ এবং পরবর্তীতে রোগ প্রতিরোধ পর্যন্ত, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ঘুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যত কম বয়সী হন, তত বেশি ঘুমের প্রয়োজন। বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বোত্তমভাবে কাজ করার জন্য সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এই সময়ের মধ্যে আমাদের শরীর ৯০ মিনিটের চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। সতেজ বোধ করার জন্য আপনার প্রতি ২৪ ঘণ্টা অন্তর এই চক্রগুলোর মধ্যে চার থেকে ছয়টি প্রয়োজন। প্রতিটি চক্রের চারটি স্বতন্ত্র ধাপ থাকে। তা হলো- এনআরইএম পর্যায় ১ (হালকা ঘুম): এই ‘ঘুমিয়ে পড়া’ পর্যায় ৫-১০ মিনিট স্থায়ী হয়। আপনার মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ধীর হতে শুরু করে, কিন্তু আপনি সহজেই জাগ্রত হন।   এনআরইএম পর্যায় ২ (হালকা ঘুম): এটি আপনার ঘুমের প্রায় ৫০% তৈরি করে। আপনার হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। এটি মস্তিষ্কের প্রক্রিয়াকরণ এবং স্মৃতিশক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনআরইএম পর্যায় ৩ (গভীর ঘুম): এটি পুনরুদ্ধারের পর্যায়। শরীর পেশী তৈরি করে, হাড় মেরামত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা এই পর্যায়ে কম সময় ব্যয় করি, যার ফলে হালকা ঘুম হয়। আরইএম ঘুম (স্বপ্নের ঘুম): প্রায় ৯০ মিনিটের মধ্যে, এই পর্যায়টি আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং শেখার জন্য অপরিহার্য। আপনার মস্তিষ্ক অত্যন্ত সক্রিয় থাকাকালীন, আপনার পেশীগুলো অস্থায়ী পক্ষাঘাতে প্রবেশ করে যাতে আপনি আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে না পারেন। বয়স অনুসারে প্রস্তাবিত ঘুমের সময়- ০-৩ মাস বয়সে ১৪-১৭ ঘণ্টা। ৪-১২ মাস বয়সে ১২-১৬ ঘণ্টা ১-৫ বছর বয়সে ১০-১৪ ঘণ্টা ৬-১২ বছর বয়সে ৯-১২ ঘণ্টা ১৩-১৮ বছর বয়সে ৮-১০ ঘণ্টা ১৯-৬৪ বছর বয়সে ৭-৯ ঘণ্টা ৬৫+ বছর বয়সে ৭-৯ ঘণ্টা। শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম ভালো মনোযোগ, মানসিক নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঝুঁকিও সমানভাবে বেশি। প্রাপ্তবয়স্করা নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুমালে ওজন বৃদ্ধি পারে, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি হতে পারে, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের মতো সমস্যা হতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ, ইতিহাস জানেন?

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ, ইতিহাস জানেন? আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দিনটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজন দেখা যায়। প্রিয়জনকে ফুল, কার্ড, উপহার দেওয়া, ঘুরতে বের হওয়া এসবের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন অনেকে। বাংলাদেশেও তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে দিনটি এখন উৎসবের রূপ নিয়েছে।বাংলাদেশে দিবসটি প্রবর্তন করেন সাংবাদিক শফিক রেহমান। ১৯৯৩ সালে তার সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা ‘যায়যায়দিন’-এ ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ‘ভালোবাসা সংখ্যা’ প্রকাশের পর দিনটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তা সামাজিক আয়োজনে পরিণত হয়। ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। প্রাচীন রোমে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ‘ফেব্রুয়ালিয়া’ বা ‘লুপারকালিয়া’ নামে একটি উৎসব পালিত হতো। ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে উর্বরতা ও সমৃদ্ধির কামনায় দেবতার উদ্দেশে পূজা দেওয়া হতো। ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল দেবী জুনোর সম্মানের দিন। তখনকার কিছু আচার-অনুষ্ঠান ছিল বিতর্কিত ও সহিংস প্রকৃতির। একই সময়ে লটারির মাধ্যমে তরুণ-তরুণীর সঙ্গী নির্বাচন করার প্রথাও চালু ছিল বলে ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ উল্লেখ করেন।   যেভাবে এলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আরেকটি প্রচলিত মতে, রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের আমলে খ্রিস্টান ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইন যুবকদের গোপনে বিয়ে দিতেন। সম্রাটের নির্দেশ অমান্য করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২৬৯ বা ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুর আগে এক তরুণীকে লেখা চিঠিতে তিনি ‘তোমার ভ্যালেন্টাইন’ বলে স্বাক্ষর করেছিলেন এ কাহিনি থেকেই দিবসটির নামকরণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। আরেকটি বর্ণনায় ভ্যালেন্টাইনকে একজন চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যিনি অসুস্থদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার স্মরণেই ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। মধ্যযুগে ইউরোপে দিবসটি দীর্ঘ সময় নিষিদ্ধ ছিল। পরে সাহিত্যিক জিওফ্রে চসার তার রচনায় এ দিনের উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে উইলিয়াম শেকসপিয়রসহ অন্যান্য লেখকের লেখায়ও ভালোবাসা দিবস স্থান পায়। ধীরে ধীরে এটি ইউরোপ ও আমেরিকায় জনপ্রিয় হয় এবং বাণিজ্যিক রূপ পায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এ দিনে বিপুল পরিমাণ শুভেচ্ছা কার্ড, ফুল ও উপহার বিক্রি হয়। তবে বিভিন্ন সময় ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে দিবসটি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার নজির রয়েছে। ইতিহাস ও মতভেদের ভেতর দিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি এখন বিশ্বব্যাপী ভালোবাসা প্রকাশের দিন হিসেবে পরিচিত। ব্যক্তিগত সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেকেই দিনটিকে মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা হিসেবে দেখেন।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসি চালুর আগে যা করবেন

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসি চালুর আগে যা করবেন গরমের শুরুতে দীর্ঘদিন পর আবার ফ্যান বা এসি ব্যবহার করার সময় হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এসি বা ফ্যান বন্ধ থাকলে তা চালানোর আগে কিছু বিষয় জানা খুব জরুরি। না হলে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। শীতের পুরোটা সময় ধরেই এসি বন্ধ থাকে। তাই গরমের শুরুতেই এসি চালানোর আগে বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। কীভাবে নিবেন তা জেনে নিন- ফ্যান চালু করার আগে, অবশ্যই সেটি ভালো করে পরিষ্কার করে নেবেন। যাতে ফ্যানের ওপরে কোনো ময়লা না থাকে। ডিটারজেন্টযুক্ত পানিতে কাপড় ভিজিয়ে মুছে নিতে পারেন। পারলে একজন মেরামতকারীকে ডেকে সিলিং ফ্যানের বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করে নিতে পারেন। টেবিল ফ্যান চালানোর আগেও তা ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। এক্ষেত্রে চিকন ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন। মনে রাখবেন, ফ্যান ও এসি একসঙ্গে না চালানোই ভালো। গরমের শুরুতে এসি চালানোর আগে এসি মেরামত করতে হবে। পেশাদারদের মাধ্যমে চেকআপ ও সার্ভিসিং করিয়ে নিন। এসির এয়ার ফিল্টারে কোনো ময়লা আছে কিনা কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগ, সকেট, ফিল্টার ঠিক আছে কিনা সেসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। আর না হয় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। দীর্ঘ সময় পর বন্ধ এসি চালু করতে গেলে এসি থেকে শব্দ হতে পারে। এমনকি পানিও পড়তে পারে। এসি অনেকদিন বন্ধ থাকলে এর কুলিং বা ঠাণ্ডা করার ক্ষমতা কমে যায়। এ ক্ষেত্রে এসির ভেতরের নেট খুলে ডাস্ট ক্লিনিং করে নিতে হবে। কুলিং যদি একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে এসির ভেতরে গ্যাস ফুরিয়ে গেছে। পরবর্তীতে গ্যাস রিফিল করে নিতে পারেন।

প্রতিদিন কলা খাওয়া কি নিরাপদ?

প্রতিদিন কলা খাওয়া কি নিরাপদ? কলা সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলের মধ্যে একটি। এটি আস্ত খাওয়ার পাশাপাশি স্মুদি, পাই এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। কলা উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার এবং পুষ্টিতেও সমৃদ্ধ। কিন্তু অনেকর মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, কলা কি আমাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়? ডায়াবেটিস রোগীরা কি কলা খেতে পারবেন? এমন আরও অনেক প্রশ্ন। চলুন জেনে নেওয়া যাক- কলায় কতটা চিনি থাকে? কলা তার সাশ্রয়ী মূল্য এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত। কিন্তু একটি কলায় কত চিনি থাকে? একটি মাঝারি আকারের কলা, যার ওজন প্রায় ১১৮ গ্রাম, তাতে প্রায় ১৪ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি থাকে। একটি কলায় চিনি মূলত ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ এবং সুক্রোজ থেকে আসে। যদিও ১৪ গ্রাম বেশি শোনাতে পারে, তবুও এটি প্রাকৃতিক চিনি যা ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। কলার ফাইবার রক্তে চিনির শোষণকে ধীর করতে সাহায্য করে, যা বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করে। পাকা কলায় সাধারণত কম পাকা কলার তুলনায় কিছুটা বেশি চিনি থাকে কারণ ফল পাকলে স্টার্চ চিনিতে পরিণত হয়। কলা পটাসিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং শক্তিও সরবরাহ করে। কলা কি রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়াতে পারে? এখন আসুন মূল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যাক – কলা কি রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়াতে পারে? হ্যাঁ, কলা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়াতে পারে কারণ এতে প্রাকৃতিক শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে যা শরীরে গ্লুকোজে পরিণত হয়। একটি মাঝারি কলায় প্রায় ২৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে, যার মধ্যে প্রায় ১৪ গ্রাম চিনিও থাকে। কলা খেলে আমাদের শরীর কার্বোহাইড্রেটগুলোকে গ্লুকোজে ভেঙে দেয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। তবে কলায় ফাইবারও থাকে, যা রক্তে শর্করার দ্রুত প্রবেশের গতি কমাতে সাহায্য করে। বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে, এই বৃদ্ধি স্থিতিশীল এবং ক্ষতিকারক নয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবারের পরিমাণের দিকে নজর রাখা উচিত এবং চিনির প্রভাব কমাতে কিছুটা কম পাকা কলা পছন্দ করতে পারেন। হ্যাঁ, রক্তে শর্করার ওপর কলার প্রভাব নির্ভর করতে পারে এটি কতটা পাকা তার ওপর। যখন একটি কলা সবুজ বা সামান্য হলুদ হয়, তখন এতে বেশি প্রতিরোধী স্টার্চ থাকে। প্রতিরোধী স্টার্চ ধীরে ধীরে হজম হয়, তাই এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ ধীরে ধীরে এবং কম বৃদ্ধি করে। কলা পাকলে স্টার্চ গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজের মতো সরল শর্করায় রূপান্তরিত হয়। এর ফলে পাকা কলার স্বাদ মিষ্টি হয় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যারা রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ আরও ভালো করতে চান, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তারা কম পাকা কলা বেছে নিয়ে পরিমিত পরিমাণে খেলে উপকৃত হতে পারেন। কলা কি ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে? ওজন কমাতে চাইলে কি কলা খাওয়া নিরাপদ? না, উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাদ্যের অংশ হিসেবে নিয়মিত খেলে কলা ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। একটি মাঝারি কলায় প্রায় ১০০-১১০ ক্যালোরি থাকে এবং এটি দ্রুত শক্তি প্রদানকারী কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে। প্রতিদিন দুধ, চিনাবাদাম মাখন, বাদাম বা ওটসের মতো ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে একাধিক কলা খেলে মোট ক্যালোরির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতিদিন কতগুলো কলা খাওয়া নিরাপদ? বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, প্রতিদিন একটি মাঝারি কলা খাওয়া নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়। একটি মাঝারি কলায় প্রায় ১০০-১১০ ক্যালোরি, ২৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং পটাসিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ফাইবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি থাকে। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবারের পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া উচিত কারণ কলা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। যাদের কিডনির সমস্যা আছে তাদের উচ্চ পটাশিয়ামের কারণে কলা সীমিত করা উচিত। ডায়াবেটিক্স রোগীদের জন্য কলা কি নিরাপদ? যদি আপনি ডায়াবেটিক্সের রোগী হন, তাহলে কলাকে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ করার আগে আপনাকে দুবার ভাবতে হতে পারে। ডায়াবেটিক্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য কলা নিরাপদ হতে পারে যদি সঠিক পরিমাণে এবং সুষম খাবারের অংশ হিসেবে খাওয়া যায়। কলায় প্রাকৃতিক চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তবে এটি ফাইবারও সরবরাহ করে, যা চিনির শোষণকে ধীর করতে সাহায্য করে।