যে ৫ অভ্যাসে ফুসফুস ভালো থাকবে শীতে

যে ৫ অভ্যাসে ফুসফুস ভালো থাকবে শীতে শীতে সর্দি-হাঁচি-কাশির সমস্যা বেড়ে যায়। বেড়ে যায় শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও। ফুসফুস শ্বাসতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অসচেতনতার কারণে কিংবা জীবনযাপনের কিছু ভুলে সহজেই ঠান্ডা লাগতে পারে এবং ভাইরাস সংক্রমণে নিউমোনিয়া হয়ে যেতে পারে। তাই এসময় সুস্থ থাকতে বাড়তি সচেতনতার প্রয়োজন। নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিন শীতে মুখের পরিবর্তে নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিতে পারেন। এতে ফুসফুসে ঠান্ডা বাতাসের প্রবেশ ঠেকাতে পারবেন। নাকের মাধ্যমে শ্বাসগ্রহণ করলে বাতাস উষ্ণ হতে বেশি সময় পায়। ফুসফুস উষ্ণ বাতাস পেলে অসুস্থতার প্রবণতা কমে আসে। মাস্ক ব্যবহার করুন অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়া শ্বাসতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে বাইরে গেলে মাস্ক পরুন। এতে বাতাস ফুসফুসে প্রবেশের আগেই উষ্ণ হবে। এটা ফুসফুসের ওপর ঠান্ডা বাতাসের প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করবে। বাইরে গিয়ে শরীরচর্চা নয় তীব্র শীতে ঘরেই শরীরচর্চা করুন। বাইরে শরীরচর্চা করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। বাইরের ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাতে রাখুন শাক-সবজি ও ফল শীতে ফুসফুসের সুরক্ষায় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খান। বিশেষ করে পাতে ফল ও শাকসবজি রাখুন। তাজা ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, বাদাম, বীজ, বিনস, অলিভ অয়েল ও মাছ খান। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান পুষ্টিবিদদের মতে, ফুসফুসের সুস্থতায় প্রোটিন ভূমিকা রাখে। প্রোটিন সেই মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে, যা গভীর শ্বাসের সময় ফুসফুসকে প্রসারিত করে থাকে। পর্যাপ্ত প্রোটিন বিশেষ করে শিম জাতীয় সবজি, বাদাম, বীজ খেলে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হবে।
জুতা যেমন হওয়া চাই

জুতা যেমন হওয়া চাই হাঁটা সবারই প্রয়োজন, তবে নিয়মিত হাঁটার ক্ষেত্রে সঠিক জুতা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত জুতা হাঁটার সময় আরাম দেয়, পায়ের ব্যথা কমায় এবং আঘাতজনিত বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। সঠিক ওয়াকিং জুতা বেছে নেওয়ার সময় প্রথমেই জুতার সাইজের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। জুতার সাইজ পায়ের আকারের সঙ্গে মানানসই হওয়া উচিত; খুব বেশি টাইট বা অতিরিক্ত ঢিলেঢালা জুতা পরা ঠিক নয়। আঙুলের সামনে সামান্য ফাঁকা জায়গা থাকা দরকার, যাতে হাঁটার সময় চাপ না পড়ে। হাঁটার জুতার ওজন হালকা হওয়াই উত্তম। কারণ ভারী জুতা হাঁটার সময় পায়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। জুতার সোলের গঠন ও মানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আউটসোল বা নিচের অংশ রাবারের তৈরি হলে ভালো গ্রিপ পাওয়া যায় এবং পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। নন-সিøপ ডিজাইন থাকলে জুতা মাটি বা রাস্তার সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খায়। মিডসোল বা মাঝের অংশ হাঁটার সময় ধাক্কা ও কম্পনের প্রভাব কমায় এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। ইভিএ (ঊঠঅ) ফোম বা জেল কুশন প্রযুক্তিযুক্ত মিডসোল দীর্ঘক্ষণ হাঁটার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ইনসোল বা ভেতরের অংশে নরম কুশন থাকা উচিত, যাতে পায়ের তালুতে চাপ কম পড়ে। অর্থোপেডিক ইনসোল থাকলে পায়ের গঠন অনুযায়ী অতিরিক্ত সাপোর্ট পাওয়া যায়। যাদের পায়ের তালুর বাঁক বেশি বা কম, তাদের জন্য উপযুক্ত আর্চ সাপোর্ট থাকা জরুরি। একই সঙ্গে গোড়ালির জন্য ভালো সাপোর্ট থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার সময় গোড়ালি ও হাঁটু সুরক্ষিত থাকে। জুতার ওপরের অংশ এমন উপাদানে তৈরি হওয়া উচিত, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। জালযুক্ত বা ক্যানভাসের জুতা ঘাম শোষণ করে এবং পা ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখে। সিনথেটিক লেদারও আরামদায়ক হতে পারে। হাঁটার জুতার হিল খুব বেশি উঁচু বা খুব বেশি নিচু হওয়া উচিত নয়। সাধারণত শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৫ ইঞ্চি উচ্চতার হিল হাঁটার জন্য আরামদায়ক। সম্পূর্ণ সমান বা ফ্ল্যাট জুতা নিয়মিত হাঁটার জন্য উপযুক্ত নয়। জুতায় বাঁকানোর সুবিধা থাকা দরকার, যাতে সহজে পায়ের আঙুল ভাঁজ করা যায়; একেবারে শক্ত ও অনমনীয় জুতা হাঁটার জন্য ভালো নয়। লেইস বা ভেলক্রো স্ট্র্যাপ থাকলে জুতা পায়ে ভালোভাবে ফিট হয়। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য ভেলক্রো স্ট্র্যাপ সহজ ও সুবিধাজনক বিকল্প। দীর্ঘস্থায়ী ও ভালো মানের ব্র্যান্ডের জুতা নির্বাচন করা উচিত, যা সহজে নষ্ট হয় না। বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ ধরনের জুতা ব্যবহার করা দরকার। যেমন- প্লান্টার ফ্যাসাইটিস বা হিল স্পার থাকলে আর্চ সাপোর্ট ও হিল কুশনযুক্ত জুতা উপযোগী। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নরম ও সেলাইবিহীন ইনসোলযুক্ত জুতা প্রয়োজন, যাতে ঘর্ষণজনিত ক্ষত না হয়। ফ্ল্যাটফুট সমস্যায় বিশেষ ধরনের আর্চ সাপোর্টযুক্ত জুতা ব্যবহার করা উচিত। তবে এসব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সর্বোত্তম। ডা.এম ইয়াছিন আলী লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট
যেসব ভুলে দাঁত নষ্ট হয়

যেসব ভুলে দাঁত নষ্ট হয় দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি যেটি দেখা যায়, সেটি হলো এনামেল ক্ষয়। এবং এই সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো বেশিরভাগই নিজের ক্ষতি নিজেই করে। তবে সেটি যত্নের অভাবের কারণে নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাসের নীরব পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ঘটে থাকে। যা আমরা বুঝতেও পারি না। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আমাদের প্রতিদিনের কোন অভ্যাসগুলো দাঁত নষ্ট করে দিচ্ছে- যখন ক্লিনার ব্রাশিং ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে অনেকে দ্রুত জোরালো ব্রাশ দিয়ে দিন শুরু করেন। কিন্তু জোরে ব্রাশ করলে দাঁত পরিষ্কার হয় এই বিশ্বাস একেবারেই ভুল। অতিরিক্ত ব্রাশ করা, বিশেষ করে শক্ত ব্রিস্টলযুক্ত টুথব্রাশ দিয়ে, দাঁতের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এটি এনামেল নামক পাতলা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্তর যা দাঁতকে ক্ষয় এবং সংবেদনশীলতা থেকে রক্ষা করে, তা ক্ষয় করতে পারে। অ্যাসিড, চিনি এবং আধুনিক খাদ্য অ্যাসিড এবং চিনিযুক্ত খাবারের দিকে ঝোঁক এখনকার বেশিরভাগ মানুষের। এর মধ্যে রয়েছে ফিজি ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, সাইট্রাস-ভিত্তিক জুস, চা, কফি এবং বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি। প্রতিটি চুমুক বা কামড় যদিও আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকারক নয়, তবে দাঁতে অ্যাসিডের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে এনামেলকে ক্ষয় করে। হাইড্রেশনের উপেক্ষিত ভূমিকা লালা হলো মুখের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যাসিডকে নিউট্আল করে এবং খনিজ পদার্থ পূরণ করে যা এনামেলকে শক্তিশালী করে। তবুও, ক্যাফেইন দ্রুতগতির জীবনযাপনে ডিহাইড্রেশন এই সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। সারা দিন হাইড্রেটেড থাকার মতো সহজ অভ্যাস দাঁত রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর, কিন্তু উপেক্ষিত উপায়গুলোর মধ্যে একটি। DIY সাদা করার পেছনে বিপদ নিখুঁত হাসির সন্ধানে, সোশ্যাল মিডিয়া ঘরোয়া প্রতিকারকে জনপ্রিয় করে তুলেছে যা তাৎক্ষণিক সাদা করার প্রতিশ্রুতি দেয়, লেবুর রস এবং বেকিং সোডা থেকে শুরু করে আরও অনেককিছু। যদিও এগুলো অস্থায়ী উজ্জ্বলতা প্রদান করতে পারে, তবে এগুলো ঘষার সময় এনামেল ক্ষয় হয়। এর ফলে দাঁত সাময়িক ঝকঝকে হলেও পরে তা আরও হলুদ এবং সংবেদনশীল হয়ে যায়।
ত্বকের যত্নে পেঁপে

ত্বকের যত্নে পেঁপে একদিকে ঘরের কাজ, অন্যদিকে অফিস সামলানো। সব মিলিয়ে অনেকে নারীই আলাদাভাবে ত্বকের পরিচর্যা করার সময় পান না। ঘরোয়াভাবে ত্বকের যত্ন নিতে চাইলেও অনেক সময় হাতের কাছে ঠিকঠাক সব উপাদান পাওয়া যায় না। কিন্তু যদি একটি মাত্র বেস উপাদান দিয়েই ত্বকের নানা সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় তাহলে কেমন হয়? আমাদের হাতের কাছেই এমন সব উপাদান আছে যা একটুখানি মুখে মেখে নিলেই ত্বক পায় পরিপূর্ণ পুষ্টি। এতে ত্বকের বেশ কিছু সমস্যাও কমে। যেমন, পাকা পেঁপে। ত্বকের একাধিক সমস্যার সমাধান করা যায় পাকা পেঁপে ব্যবহার করে। যেমন- ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে চাইলে পাকা পেঁপে বেছে নিন। আধা কাপ পরিমাণে পেঁপে চটকে তাতে একটা গোটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ পুরো মুখে, গলায়, হাতে মেখে আধঘণ্টা রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি ধুয়ে ফেলবেন। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। গোড়ালির ফাটাভাব কমাতে ফাটা গোড়ালির জন্য পাকা পেঁপে কাজে লাগাতে পারেন। পেঁপে চটকে নিন, গোড়ালির ফাটা জায়গাগুলোয় লাগান। বিশ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। গোড়ালির ফাটা, শুকনো চামড়া, চুলকানি বা লালচেভাব, সবই কমে যাবে। পা ধুয়ে নেওয়ার পর খানিকটা অলিভ অয়েল পায়ে মেখে নিন। দাগছোপ দূর করতে ব্রণের দাগ থেকে শুরু করে হাঁটু বা কনুইয়ের কালচেভাব, সবই কমাতে পারে পেঁপে। এজন্য দরকার কাঁচা পেঁপে। ব্লেন্ডারে দিয়ে পেঁপের টুকরোটা থেঁতো করে নিন। এখন এতে একচাচামচ পাতিলেবুর রস মেশান। এবার এই মিশ্রণটা কনুই আর হাঁটুতে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ব্রণর দাগের উপরেও লাগাতে পারেন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত কয়েকবার করলে দাগ হালকা হতে শুরু করবে। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে পেঁপেতে থাকা আলফা হাইড্রক্সিল অ্যাসিড ত্বকের বলিরেখা রোধ করে। এর পাশাপাশি পেঁপেতে থাকা ভিটামিন ই আর সি ত্বক তরতাজা করে তোলে। আধাকাপ পরিমাণে পাকা পেঁপে চটকে তাতে এক টেবিলচামচ দুধ আর অল্প মধু মিশিয়ে মুখে গলায় লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।
কোন রঙের খাবার খেলে কী হয়

কোন রঙের খাবার খেলে কী হয় রঙ ছাড়া জীবন কেমন হয়? একঘেয়ে, নিস্তেজ এবং অনুপ্রেরণাহীন। খাবারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। রঙহীন প্লেট কেবল ম্লানই দেখায় না, খাওয়ার আগ্রহও কমিয়ে দেয়। আমরা প্রথম কামড় খাওয়ার আগেই চোখ দিয়ে খাই। আমরা খাবার দেখি এবং গন্ধ পাই, আমাদের মস্তিষ্ক এক ধরনের সংকেতের সৃষ্টি করে যা শরীরকে হজমের জন্য প্রস্তুত করে। কিন্তু দৃশ্যমান আবেদনের বাইরেও, একটি রঙিন প্লেট পুষ্টির শক্তি। প্রকৃতি উদ্ভিদ রঞ্জক ব্যবহার করে ফল এবং শাকসবজিকে প্রাণবন্ত রঙে রঙিন করে। এর মধ্যে ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড এবং অ্যান্থোসায়ানিন রয়েছে। এই রঞ্জকগুলো ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট নামেও পরিচিত। এগুলো আমাদের শরীর দ্বারা উৎপাদিত হতে পারে না, তবে বিভিন্ন রোগ, প্রদাহ, সংক্রমণ এবং কিছু নির্দিষ্ট ক্যান্সার থেকে আমাদের রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন রঙের খাবারে কী পুষ্টি থাকে- * লাল রঙের খাবার লাল ফল এবং সবজির জন্য লাইকোপিন নামক রঞ্জক পদার্থ দায়ী, যা পরিচিত সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মধ্যে একটি। এ ধরনের খাবার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে লাইকোপিন চোখের ম্যাকুলার ক্ষতিও ধীর করতে কাজ করে। প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এবং স্তন ক্যান্সারের অগ্রগতি ধীর করতে কাজ করে লাল রঙের খাবার। এছাড়া এ ধরনের খাবার অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে মস্তিষ্কের কোষকে রক্ষা করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়-হৃদরোগের জন্য প্রধান ঝুঁকির কারণ। উৎস: টমেটো, তরমুজ, গোলাপী পেয়ারা, জাম্বুরা, লাল গাজর। * কমলা এবং হলুদ এই রৌদ্রোজ্জ্বল রঙগুলো বিটা-ক্রিপ্টোক্সানথিন থেকে আসে, যা কোষ যোগাযোগ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সমর্থন করার জন্য পরিচিত একটি যৌগ। বার্ধক্য, প্রদাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগকে ত্বরান্বিত করে এমন ফ্রি র্যাডিকেলকে নিউট্রাল করতে কাজ করে। দৃষ্টিশক্তি এবং ত্বক সুস্থ রাখতেও কাজ করে। উৎস: আম, পেঁপে, কমলা, কুমড়া, হলুদ ক্যাপসিকাম। * সবুজ খাবার সবুজ রঙের খাবারের জন্য ক্লোরোফিল দায়ী। এটি প্রকৃতির কিছু সমৃদ্ধ পুষ্টি উপাদান বহন করে। এর বিটা ক্যারোটিন এথেরোস্ক্লেরোসিস, ক্যান্সার, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং ডিএনএ ক্ষতি প্রতিরোধে সহায়তা করে। ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে, এলডিএল কোলেস্টেরল কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ভিটামিন কে এবং পটাসিয়াম রক্ত জমাট বাঁধা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য। সালফোরাফেন এবং আইসোথিওসায়ানেট ডিটক্সিফিকেশনে সহায়তা করে, কোলন স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। উৎস: পালং শাক, ব্রকলি, কেল, সজনে ডাটা, মেথি, সবুজ ভেষজ, অ্যাসপারাগাস, কিউই, বাঁধাকপি, স্প্রাউট, গ্রিন টি।
শীতে রান্নাঘরে তেলাপোকা? জেনে নিন তাড়ানোর উপায়

শীতে রান্নাঘরে তেলাপোকা? জেনে নিন তাড়ানোর উপায় তাপমাত্রা কমে গেলে অনেক পোকামাকড় অদৃশ্য হয়ে যায়, কিন্তু শীতকালে তেলাপোকা অদৃশ্য হয় না। শীতের সময়ে আপনার বাড়ির কেন্দ্রস্থলে, অর্থাৎ রান্নাঘরে তেলাপোকার উপদ্রব বেড়ে যেতে পারে। সিঙ্কের কাছে, ক্যাবিনেটের ভিতরে বা সংরক্ষিত শস্যের আশেপাশে তাদের দেখা মিলতে পারে। এটি একটি বিরক্তিকর এবং সেইসঙ্গে অস্বাস্থ্যকর বিষয়। শীতের সময়ে আপনার মজাদার খাবার খাওয়ার আনন্দ নষ্ট করে দিতে পারে এই তেলাপোকা। চলুন জেনে নেওয়া যাক শীতকালে রান্নাঘর থেকে তেলাপোকা তাড়ানোর উপায়- * উষ্ণ লুকানোর জায়গা এবং প্রবেশের স্থানগুলো সিল করুন তেলাপোকা শীতকালীন আস্তানা পছন্দ করে যেমন ক্যাবিনেটের পেছনে ফাটল, গ্যাস পাইপের কাছে ফাঁক এবং সিঙ্কের নিচের জায়গা। সিলিকন সিল্যান্ট বা ফিলার ব্যবহার করে এই প্রবেশের স্থানগুলো সিল করুন, বিশেষ করে প্লাম্বিং এবং দেয়ালের জয়েন্টগুলোর চারপাশে। রেফ্রিজারেটর এবং মাইক্রোওয়েভের পেছনের মতো উষ্ণ জায়গাগুলোতে মনোযোগ দিন। একবার এই কোণগুলো ব্লক হয়ে গেলে, তেলাপোকাগুলো তাদের নিরাপদ আশ্রয় হারাবে এবং বাইরে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হবে। এই পদক্ষেপটি শীতকালে সবচেয়ে ভালো কাজ করে কারণ তেলাপোকা কম সক্রিয় থাকে এবং বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে ঘরে আটকে রাখা সহজ। *রাতে সিঙ্ক শুকনো রাখুন শীতকালে রান্নাঘর দীর্ঘ সময় স্যাঁতসেঁতে থাকে, যার ফলে সিঙ্ক এবং ড্রেন একটি প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। রাতের খাবারের পরে সিঙ্কটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন এবং ধীরগতির লিক দ্রুত মেরামত করুন। অবশিষ্টাংশ ভেঙে ফেলার জন্য সপ্তাহে একবার বা দুইবার লবণ বা বেকিং সোডা মিশ্রিত গরম পানি ড্রেনে ঢেলে দিন। ভেজা স্পঞ্জ বা কাপড় রাতারাতি রেখে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। পানির প্রবেশ বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আর্দ্রতা ছাড়া তেলাপোকা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে, বিশেষ করে ঠান্ডা মাসগুলোতে। *স্টোরেজে তেজপাতা এবং লবঙ্গ ব্যবহার করুন তেজপাতা এবং লবঙ্গ হলো প্রাকৃতিক তেলাপোকা প্রতিরোধক যা শীতকালে আশ্চর্যজনকভাবে ভালো কাজ করে। কয়েকটি তেজপাতা গুঁড়া করে শস্যের পাত্র, ড্রয়ার এবং অন্ধকার কোণে রাখুন। মসলার তাকের কাছে আস্ত রাখুন। এর তীব্র সুগন্ধ তেলাপোকাকে দূরে রাখতে কাজ করে। যার ফলে রাসায়নিক ছাড়াই তেলাপোকা দূরে রাখা সম্ভব হয়। যেহেতু শীতকালে বেশিরভাগ সময় জানালা বন্ধ থাকে, তাই এই গন্ধ দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, যা ঠান্ডা ঋতুতে এই পদ্ধতিটিকে আরও কার্যকর করে তোলে।
কোমরের ডিস্ক সরে গেলে যা করবেন

কোমরের ডিস্ক সরে গেলে যা করবেন সায়াটিক নার্ভ নামে একটি স্নায়ু রয়েছে আমাদের দেহে। এটি মেরুদণ্ডের কোমরের অংশ থেকে উৎপত্তি হয়ে ঊরুর পেছন দিক দিয়ে হাঁটুর নিচের মাংসপেশির মধ্য দিয়ে পায়ের আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত। কোনো কারণে এই নার্ভের ওপর চাপ পড়লে কোমর থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে যায়। একে বলে সায়াটিকা। অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনো সময় এ ব্যথায় আক্রান্ত হয়। ব্যথার অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হলো মেরুদণ্ডের কোমরের অংশের ডিস্ক সরে গিয়ে স্নায়ুতে চাপ পড়া। পুরুষ বা নারীর যে কেউ ৩০ থেকে ৫০ বয়সের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কোমরের ডিস্ক বা নরম হাড় সরে যায়, বয়সজনিত ক্ষয়বাত, কোমরের শক্ত হাড় সরে গেলে, লাম্বার স্পাইনাল স্টেনসিস চলাচলের পথ সরু হয়ে গেলে, পিরিফর্মিস নামক মাংসপেশিতে টান পড়লে এ ধরনের ব্যথা হয়। সবসময় ভারী জিনিস উঠানো, ঝাড়ু দেওয়া, টিউবওয়েল চাপা, একনাগাড়ে অনেকক্ষণ বসে কাজ করা, কোমরের ঝাঁকুনি লাগে এমন কাজ, মোটরসাইকেল বা সাইকেলে দীর্ঘ ভ্রমণ করলে এমনটা হতে পারে। কোমর নাড়াতে, ঘোরাতে তীব্র ব্যথা লাগা, সামনে ঝুঁকে কাজ করার সময় ব্যথা তীব্র হয়, ব্যথা ঊরুর পেছনে, হাঁটুর নিচের মাংসপেশিতে, এমনকি পায়ের তলা ও আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়, কিছুক্ষণ হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা ও ঝিঁঝি বাড়ে, বসলে আবার কমে যায়, আক্রান্ত পায়ে শিরশির অনুভূতি, অবশ ও ভার ভার ভাব, সুচ ফোটানোর অনুভূতি লাগা, হাঁচি বা কাশি দিলে, পায়খানা কষা হলে ব্যথা বেড়ে যায়। সাধারণত তিন ধাপে চিকিৎসা করা হয়। কনজারভেটিভ চিকিৎসা, ইন্টারভেনশন (ইঞ্জেকশন) চিকিৎসা, অপারেশন করা হয়। কনজারভেটিভ চিকিৎসা মূলত জীবনযাপনে পরিবর্তন, ফিজিওথেরাপি, ব্যায়াম ও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। ফিজিওথেরাপি এ রোগের একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। বয়স্কদের যেহেতু এ রোগ বেশি হয়, তাই ওষুধের ব্যবহারই উত্তম। একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দেন। এর মধ্যে শর্ট-ওয়েভ থেরাপি, ট্রাকশন থেরাপি, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, নার্ভ ইস্টিমুলেশন থেরাপি দিয়ে থাকেন। চিকিৎসক মূলত ব্যথানাশক ওষুধ, মাংসপেশি শিথিল করার ওষুধ ও দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ দিয়ে থাকেন। ইন্টারভেনশন (কোমরে ইঞ্জেকশন) মেশিনের মাধ্যমে কোমরের জয়েন্টের ভেতরে নার্ভ বা স্নায়ুর গোড়ায় দেওয়া হয়। ফলে স্নায়ুমূলের উত্তেজনা কমে যায়, যা কোমরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অপারেশনের মাধ্যমেও এর চিকিৎসা করা হয়। বেশি নরম বিছানায় না ঘুমানো, কোমর বাঁকা করে কোনো কাজ না করা, সামনে ঝুঁকে ভারী কিছু না তোলা, ব্যথা থাকলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া, বাথরুমে হাইকমোড ব্যবহার করা, ব্যথা থাকলে ব্যায়াম না করা, শোয়া থেকে উঠার সময় একদিকে কাত হয়ে হাতে ভর দিয়ে ওঠা, চেয়ারে সোজা হয়ে বসে কাজ করা, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে না থাকা, কাজের সময় বা উঁচু-নিচু স্থানে ভ্রমণের সময় কোমরে বেল্ট ব্যবহার করার মাধ্যমে রোগ থেমে মুক্তি মেলে।
বাড়িতেই বানান বড়দিনের বিশেষ লগ কেক

বাড়িতেই বানান বড়দিনের বিশেষ লগ কেক আগামীকাল বড়দিন। আনন্দঘন সময়ের মধ্যে দিয়ে পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে সকাল থেকে রাত অব্দি কাটবে। এদিন বাড়িতেই প্রিয় লগ কেক বানিয়ে প্রিয়জনদের চমকে দিন। উপকরণ: স্পঞ্জ কেকের জন্য– ডিম চারটি, চিনি আধা কাপ, ময়দা আধা কাপ, কোকো পাউডার দুই টেবিল চামচ, বেকিং পাউডার আধা চা চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স এক চা চামচ, লবণ এক চিমটি। ফিলিংয়ের জন্য হুইপিং ক্রিম এক কাপ, আইসিং সুগার দুই টেবিল চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স আধা চা চামচ। চকলেট কোটিংয়ের জন্য ডার্ক চকলেট ২০০ গ্রাম, ফ্রেশ ক্রিম-হেভি ক্রিম আধা কাপ, বাটার এক টেবিল চামচ। প্রস্তুত প্রণালি: স্পঞ্জ কেক তৈরির জন্য ওভেন ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে প্রিহিট করুন। ডিম ও চিনি ভালো করে ফেটিয়ে নিন। ময়দা, কোকো পাউডার, বেকিং পাউডার ও লবণ একসঙ্গে চেলে মিশিয়ে নিন। ভ্যানিলা এসেন্স যোগ করুন। বেকিং ট্রেতে বাটার পেপার দিয়ে ব্যাটার ঢালুন। ১০-১২ মিনিট বেক করুন। হালকা গরম অবস্থায় কাপড়ের ওপর উল্টে ধীরে ধীরে রোল করে রাখুন। হুইপিং ক্রিম ও আইসিং সুগার বিট করে শক্ত করুন। রোল খোলা হলে ভেতরে ক্রিম লাগান। আবার শক্ত করে রোল করুন। এবার চকলেট ও ক্রিম গলান। বাটার মিশিয়ে মসৃণ করুন। কেকের ওপর ঢেলে ছুরি বা স্প্যাটুলা দিয়ে গাছের ছালের মতো দাগ টানুন।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে গোলাপজলের সঙ্গে কী মেশালে

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে গোলাপজলের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের যত্নে বহু বছর ধরে গোলাপজল ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি ত্বক পরিষ্কার করে। একইসঙ্গে ত্বক হাইড্রেট করতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে যদি কিছু বিশেষ জিনিস যোগ করেন, তাহলে কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এ মিশ্রণ একটানা ৩০ দিন ব্যবহার করলে, ত্বক অনেকটা উজ্জ্বল হবে। মধু : মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। এটি ত্বককে গভীরভাবে পুষ্টি জোগায়। এতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের সংক্রমণ এবং ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও, মধু ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল করে। পাশাপাশি এটি বলিরেখা কমাতেও সাহায্য করে। গোলাপজলের সঙ্গে আধা চা চামচ মধু যোগ করুন। এরপর এটি মুখে লাগিয়ে ৫-৭ মিনিট আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। অ্যালোভেরা জেল : অ্যালোভেরার গুণ অনেক। এটি ত্বকে গভীরভাবে পুষ্টি জোগায় এবং আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেলে প্রদাহ-বিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ব্রণ এবং ব্রণের জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। আধা চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে এক চা চামচ গোলাপ জল ও মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল : ভিটামিন ই ত্বক মেরামত এবং বলিরেখা কমাতে কার্যকর। এটি ত্বককে তরুণ ও সুস্থ রাখে। সঙ্গে কালো দাগ- ছোপ কমায়। এমনকি এটি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকেও রক্ষা করে। একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিন। ক্যাপসুল থেকে তেল বের করে গোলাপজল, অ্যালোভেরা জেল ও মধুর মিশ্রণে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি আলতো করে মুখে-ঘাড়ে লাগান। আঙুলের সাহায্যে ৫-৭ মিনিট বৃত্তাকার গতিতে ম্যাসাজ করুন। এরপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এটি লাগান।
এখনই শীতে হাত-পা ফাটা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবস্থা নিন

এখনই শীতে হাত-পা ফাটা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবস্থা নিন শীতকাল মানেই এক অন্যরকম অনুভূতি। তবে এর মাঝেই অনেকের জীবনে নেমে আসে অস্বস্তি। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, প্রাণহীন ও খসখসে। বিশেষ করে ঠোঁট, হাত-পা ফাটার সমস্যা বেশি দেখা দেয়। সারাক্ষণ জ্বালা, চুলকানি কিংবা ব্যথায় একেবারেই স্বস্তি থাকে না। কিন্তু এ জন্য মন খারাপ করার কারণ নেই। ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে খুব সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। শীতের সময় হাত-পা ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ, ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা। ঠান্ডা বাতাস, কম আর্দ্রতা এবং ত্বকের প্রতি অবহেলা- এ তিনটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে ত্বককে রুক্ষ করে তোলে। অনেক সময় সঠিক পরিচর্যার অভাবে এই রুক্ষতা বাড়তে বাড়তে ত্বক ফেটে যায়। তাই শীতের শুরু থেকেই নিয়মিত ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। গোসলের পর ও হাত-পা ধুয়েই ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হাত-পা ফাটার সমস্যা এড়ানো যায়। অনেকে মনে করেন, শীতকালে রোদের ক্ষতি কম, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি মোটেও তা নয়। শীতের রোদও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই হাত-পা ও খোলা জায়গায় সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা উচিত। এটি ত্বক রুক্ষ হওয়া থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি বয়সের ছাপ পড়াও কমায়। শীতকালে শরীরের কিছু অংশ তুলনামূলকভাবে বেশি রুক্ষ হয়ে ওঠে। যেমন- হাঁটু, গোঁড়ালি ও কনুই। এ জায়গাগুলোয় নিয়মিত যত্ন না নিলে দ্রুত ফাটল ধরতে পারে। এসব ক্ষেত্রে গ্লিসারিন খুব কার্যকর। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এ জায়গাগুলোয় গ্লিসারিন লাগালে ত্বক নরম থাকে। যদি রুক্ষতা বেশি হয়, তবে সপ্তাহে একবার লেবু ও মধু মিশিয়ে হালকা মেসেজ করা যেতে পারে। এতে মৃত কোষ দূর হবে এবং ত্বক ফিরে পাবে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। বাইরে থেকে ফিরে কুসুম গরম পানিতে সামান্য সোডা মিশিয়ে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখাও বেশ উপকারী। এরপর চিনি, লবণ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পায়ের তলায় আলতো করে মেসেজ করলে মৃত চামড়া উঠে যায়। খুব বেশি ফাটা না থাকলে ঝামা দিয়ে পায়ের তলা ঘষে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সম্ভব হলে মাসে অন্তত একবার মেনিকিউর ও পেডিকিউর করালে হাত-পায়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যাদের শীতে পা ফাটার প্রবণতা বেশি, তারা এখন থেকেই নিয়মিত মোজা পরার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শুষ্কতা অনেকটাই কমবে। শীতকালে শুধু ত্বক নয়, নখও হয়ে ওঠে শুষ্ক ও দুর্বল। ফলে নখ ভেঙে যাওয়া বা ফেটে যেতে পারে। এ থেকে রক্ষা পেতে ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি নখকে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি নখভাঙা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও গরম পানি ও অল্প শ্যাম্পু মিশিয়ে নখ ভিজিয়ে রাখা নখের যত্নে কার্যকর। শীতকালে প্রায় সবারই ঠোঁট ফাটে। এর প্রধান কারণ ঠোঁটের ত্বক খুবই পাতলা এবং এতে তেলগ্রন্থি কম থাকে। ফলে শুষ্কতা দ্রুত দেখা দেয়। এ সময় নিয়মিত লিপবাম, চ্যাপস্টিক বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা জরুরি। লিপস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই বা সানস্ক্রিনযুক্ত লিপস্টিক বেছে নেওয়া ভালো। চেষ্টা করুন ঠোঁট যেন সব সময় আর্দ্র থাকে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ঠোঁটে গ্লিসারিন লাগান। ডা. তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী লেখক : চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ