৪৫টি নতুন গ্রহে জীবনের আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা

৪৫টি নতুন গ্রহে জীবনের আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা অসীম মহাকাশে কী আমরা একা? এই প্রশ্ন মানুষের বহু দিনের। এবার সেই প্রশ্নের উত্তরের দিকে আরেক ধাপ এগোলেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় তারা এমন ৪৫টি গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজারের বেশি ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ (আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহ) আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে পাথুরে গ্রহগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কারণ এসব গ্রহে পানি থাকার সম্ভাবনা বেশি—আর পানি মানেই জীবনের মূল উপাদান। এই গবেষণায় কিছু পরিচিত গ্রহ যেমন প্রোক্সিমা সেন্টরি বি, ট্রাপিস্ট-১এফ, কেপলার-১৮৬এফ-এর পাশাপাশি নতুন কিছু গ্রহ যেমন টিওআই-৭১৫ বি-ও রয়েছে। এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্রের এমন একটি জায়গায় ঘোরে, যাকে ‘গোল্ডিলক্স জোন’ বলা হয়। সহজ ভাষায়, এই জায়গার তাপমাত্রা এমন থাকে যেখানে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে—না খুব গরম, না খুব ঠান্ডা। গবেষণায় ইউরোপের গাইয়া মিশন এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্র থেকে প্রায় পৃথিবীর মতোই শক্তি পায়। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক জায়গাগুলোর একটি হলো ট্রাপিস্ট-১ সিস্টেম, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে। এখানে চারটি গ্রহ এমন অঞ্চলে আছে, যেখানে জীবন থাকতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ এলএইচএস ১১৪০ বি। নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এখানে প্রচুর পানি থাকতে পারে এবং এর বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাস বেশি থাকতে পারে। এছাড়া আরও ২৪টি গ্রহ পাওয়া গেছে, যেগুলো কখনো এই উপযুক্ত অঞ্চলে ঢোকে, আবার কখনো বের হয়ে যায় (এগুলো উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে)। এগুলো নিয়ে গবেষণা করলে বোঝা যাবে—একটি গ্রহ কতটা তাপ বা বিকিরণ সহ্য করেও বাসযোগ্য থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই তালিকা ভবিষ্যতে আরও গবেষণায় সাহায্য করবে। আর একদিন হয়তো মানুষ জানতে পারবে—পৃথিবীর বাইরে কোথাও কি সত্যিই জীবন আছে।

ছুটিতে একঘেয়েমি দূর করার কিছু কার্যকর কৌশল

ছুটিতে একঘেয়েমি দূর করার কিছু কার্যকর কৌশল প্রতিদিনের ইঁদুর দৌড় আর কাজের পাহাড় পেরিয়ে আমাদের শরীর ও মন যখন ক্লান্ত, তখন ছুটি মানেই মনে হয় একটু শান্তি। অনেকে ঘুরতে ভালোবাসলেও, ক্লান্তির কারণে বাড়ির আরাম ছেড়ে বের হতে চান না অনেকেই। তাদের জন্য সমাধান একটাই- বাড়িতেই ছুটি কাটানো। সামান্য কিছু অদলবদল আর নিজের জন্য একটু সময় বের করলেই আপনার ঘর হয়ে উঠতে পারে ছুটির স্বর্গরাজ্য। ছুটির আমেজ আনতে ঘরের সাজে আনুন নতুনত্ব। বছরের অন্য সময়ের একঘেয়েমি কাটাতে ব্যবহার করুন উজ্জ্বল রঙের চাদর, পর্দা বা কুশন কভার। হলুদ, সবুজ বা কমলা রঙের ছোঁয়া ঘরকে সজীব করে তুলবে। বারান্দার কোণে বা ছাদের একপাশে বেতের মোড়া আর পছন্দের কিছু গাছ দিয়ে তৈরি করুন নিজের রিডিং কর্নার। এক কাপ চা আর প্রিয় বই নিয়ে সেখানে কাটিয়ে দিতে পারেন অলস দুপুর। সারা বছর স্মার্টফোন আর ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখে আমরা ক্লান্ত। এই ছুটিতে সেগুলোকে বিশ্রাম দিন। ডিজিটাল ক্যামেরা বা হ্যান্ডিক্যাম বের করে বাড়ির সদস্যদের ছোট ছোট মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করুন। ফোনের প্লে-লিস্ট নয়, ধুলো ঝেড়ে বের করুন পুরনো সিডি প্লেয়ার বা রেকর্ড। মন চাইলে রং-তুলি নিয়ে বসে পড়ুন অনেকদিন না করা শখের কাজে। ছুটি মানেই ডায়েটকে ছুটি দিয়ে ভালো মন্দ খাওয়া। চাইলে ইউটিউব দেখে নতুন কোনো ভিনদেশি রান্না ট্রাই করতে পারেন, অথবা স্রেফ পছন্দের রেস্তোরাঁ থেকে আনিয়ে নিতে পারেন মনের মতো খাবার। পাশাপাশি নিজের যত্ন নিতে বাড়িতেই বুক করতে পারেন স্পা বা বিউটি ট্রিটমেন্টের পরিষেবা। গা এলিয়ে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ দেখার জন্য তো স্মার্ট টিভি বা হোম থিয়েটার রইলই। সবচেয়ে জরুরি হলো প্রিয়জনদের সময় দেওয়া। ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে বাড়ির লোকেদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিন, পুরনো কথা ঝালিয়ে নিন। চাইলে বন্ধুদের ডেকে ছোটখাটো একটা হাউস পার্টিও করে ফেলা যায়। মনে রাখবেন, ছুটি মানে কেবল জায়গা পরিবর্তন নয়, ছুটি মানে মনের প্রশান্তি। আপনার ঘর যদি হয় সেই শান্তির ঠিকানা, তবে তার চেয়ে আরামদায়ক আর কী-ই বা হতে পারে।

ফ্রিজে বরফ জমলে যেভাবে পরিষ্কার করবেন

ফ্রিজে বরফ জমলে যেভাবে পরিষ্কার করবেন নিয়মিত ব্যবহারের কারণে মাছ-মাংসের রক্ত জমে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে ফ্রিজ। এ অবস্থায় ফ্রিজ পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজনীয়। তবে অনেকেই ফ্রিজ পরিষ্কার করার সময় ভুলভাবে পরিষ্কার করেন, যে কারণে ফ্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফ্রিজ বন্ধ করে খাবার সরানো প্রথমেই ফ্রিজের প্লাগ খুলে ফেলতে হবে। নিরাপত্তার জন্য এটি জরুরি। ভেতরের সব খাবার বের করে বরফ প্যাক বা কুলার ব্যাগে রাখুন, যাতে ঠাণ্ডা থাকে। ফ্রিজের চারপাশে পুরু তোয়ালে বিছিয়ে দিতে হবে যাতে গলে যাওয়া পানি শুষে নেয়। গরম পানির বাটি দিয়ে বাষ্পের কাজ এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ উপায়। একটি ‘হিট-প্রুফ’ বাটিতে ফুটন্ত গরম পানি নিয়ে ফ্রিজের ভেতরে একটা তোয়ালের ওপর রাখতে হবে। দরজা বন্ধ করে ১০-১৫ মিনিট রাখলে বরফ আলগা করে দেবে বাষ্প। নরম হয়ে গেলে প্লাস্টিকের চামচ দিয়ে চেঁছে তুলতে হবে বরফ। পুরু বরফ হলে দুয়েকবার গরম পানি বদলে দিতে হতে পারে। প্লাস্টিক বা কাঠের চামচ দিয়ে চাঁছা কখনও ধাতব ছুরি বা চামচ ব্যবহার করা যাবে না। করলে ফ্রিজের ভেতরের প্লাস্টিক লাইনিং বা কুলিং কয়েল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্লাস্টিকের স্প্যাচুলা, আইস স্ক্র্যাপার বা কাঠের চামচ দিয়ে ধীরে ধীরে বরফ তুলতে হবে। জোরে চাপ দেওয়া যাবে না, আলতো করে তুলতে হবে বরফ গললে। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে গরম বাতাস হেয়ার ড্রায়ার মাঝারি বা কম তাপে চালিয়ে বরফের ওপর দূর থেকে গরম বাতাস দিতে হবে। এক পর্যায়ে বরফ গলতে শুরু করলে প্লাস্টিকের চামচ দিয়ে তুলে ফেলতে হবে। সতর্ক সাথে কাজটি করতে হবে, পানি বা বরফের সংস্পর্শে হেয়ার ড্রায়ার যেন না আসে। এই পদ্ধতিতে বরফ দ্রুত গলে। গরম ভেজা তোয়ালের কৌশল পুরু তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে বরফের ওপর রেখে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করে রাখতে হবে। পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পর দরজা খুললে দেখা যাবে, বরফ আলগা হয়ে গেছে। বরফ বেশি পুরু হলে দুতিনবার করতে হতে পারে। টেবিল ফ্যানের সাহায্য হেয়ার ড্রায়ার না থাকলে ফ্রিজ খুলে একটা টেবিল ফ্যান চালিয়ে দিতে হবে। এতে বাইরের গরম বাতাস ফ্রিজের ভেতরে ঢুকবে। কোনো অতিরিক্ত তাপ ছাড়াই ধীরে ধীরে বরফ গলতে থাকবে। বরফ গলার পর পরিষ্কার করা বরফ গলে গেলে ফ্রিজের ভেতরটা হালকা গরম পানিতে ভেজানো সাবানযুক্ত কাপড় দিয়ে মুছে ফেলার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। আর্দ্রতা থাকলে আবার বরফ জমবে। ফ্রিজ চালু করে ঠাণ্ডা হতে দিন, তারপর খাবার সাজিয়ে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বরফ জমা ঠেকাতে ১। প্রতিবার ব্যবহারের পর দরজা ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে। ২। দরজা বেশিক্ষণ খোলা রাখা যাবে না। ৩। দরজার সিল পরখ করতে হবে। ফাঁক বা ফাটল থাকলে মেরামত করা জরুরি। ৪। গরম খাবার ফ্রিজে রাখার আগে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। ৫। ফ্রিজ অতিরিক্ত বোঝাই করা যাবে না। বাতাস চলাচলের জন্য জায়গা রাখুন।

ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে যা যা চেক করা জরুরি

ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে যা যা চেক করা জরুরি রমজান প্রায় শেষ, ঘনিয়ে এসেছে ঈদুল ফিতর। ছুটির সুযোগে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে। তবে এই সময় বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি না নিলে ফিরে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। ছুটিতে যাওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করলে ঝামেলা অনেকটাই কমবে— দরজা-জানালা ঠিকভাবে বন্ধ করুন শুধু গেট তালা দিলেই হবে না, বাসার সব দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। এতে চুরি বা বৃষ্টির পানি ঢোকার ঝুঁকি কমে। বিদ্যুৎ সংযোগ নিরাপদে রাখুন অপ্রয়োজনীয় লাইট, ফ্যান বন্ধ করুন। টিভি, চার্জার, মাইক্রোওয়েভসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনপ্লাগ করে রাখলে আগুন লাগার ঝুঁকি কমে এবং অপ্রয়োজনীয় বিলও এড়ানো যায়। গ্যাস লাইন বন্ধ করুন রান্নাঘরের চুলা ও সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ আছে কিনা নিশ্চিত করুন। এটি নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। পানির ট্যাপ পরীক্ষা করুন সব ট্যাপ বন্ধ আছে কিনা দেখে নিন। সম্ভব হলে মেইন লাইন বন্ধ রাখুন, এতে পানি অপচয় ও বাসা ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে। ফ্রিজ খালি বা প্রস্তুত রাখুন সহজে নষ্ট হয় এমন খাবার ফেলে দিন বা আগে খেয়ে শেষ করুন। দীর্ঘদিন ফ্রিজ বন্ধ থাকলে দুর্গন্ধ এড়াতে দরজা সামান্য খোলা রাখা যেতে পারে। মূল্যবান জিনিস নিরাপদে রাখুন টাকা, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লকারে রাখুন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের কাছে রাখতে পারেন। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীকেও বিষয়টি জানিয়ে যান। ছোট ছোট এই প্রস্তুতিগুলোই আপনার ঈদের আনন্দকে নির্ভার করতে পারে। পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে চাইলে বাসা রেখে যাওয়ার আগে একটু সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

ঈদের আপনার জন্য ‘হেয়ার স্টাইল’

ঈদের আপনার জন্য ‘হেয়ার স্টাইল’ ঈদের দিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় দ্বিধাটা শুরু হয় চুল নিয়ে-খোঁপা না বেণি? নাকি স্রেফ খোলা চুল? এবারের ঈদে সমসাময়িক ট্রেন্ড ও ধ্রুপদি সাজের মিশেলে আপনার জন্য রইল ‘হেয়ার স্টাইল গাইড’। ধ্রুপদি মাধুর্য : ফুলে সাজা খোঁপা শাড়ির সঙ্গে খোঁপাকে বলা হয় ‘এভারগ্রিন’ ফ্যাশন। ঈদের দাওয়াতের জন্য প্রথমেই চুল ভালোভাবে আঁচড়ে নিয়ে সিঁথির পেছনে হালকা পনিটেইল করে নিন। এবার প্রতিটি গোছ আলাদা করে ববি পিন দিয়ে আটকে একটি ভরাট খোঁপায় রূপ দিন। খোঁপা বড় দেখাতে ভিতরের দিকে উল্টো ব্রাশ করে নিতে পারেন। সাজে আভিজাত্য আনতে খোঁপায় জড়িয়ে নিন দোলনচাঁপা, জারবারা অথবা লাল গোলাপ। আধুনিকতার ছোঁয়া : খোলা চুলে ‘বিচ ওয়েভ’ ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সঙ্গে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্টাইল হলো ‘বিচ ওয়েভ’ বা ঢেউ খেলানো চুল। এই লুক পেতে চুলে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করে কিছুটা রাফ করে নিন, এরপর টং বা কার্লিং মেশিন দিয়ে হালকা কোঁকড়া করে হাত দিয়ে ছাড়িয়ে নিন। এই এলোমেলো অথচ গোছানো ঢেউ খেলানো চুল চেহারা দেবে আভিজাত্য। ঝটপট সাজ : টুইস্ট খোঁপা ঈদের ব্যস্ততার মাঝে যারা দ্রুত সাজতে চান, তাদের জন্য টুইস্ট খোঁপা সেরা। কপালের সামনের চুলগুলো ফুলিয়ে পনিটেইল করুন। এরপর ধাপে ধাপে ঝুঁটি বেঁধে মাঝখান দিয়ে উল্টো করে ঘুরিয়ে নিন। এভাবে চার-পাঁচটি ধাপ শেষ করে কাঁধের কাছে সাধারণ খোঁপা করে আটকে দিন। খুব কম সময়েই পেয়ে যাবেন জমকালো এক ‘পার্টি লুক’। ফিউশন স্টাইল : ফাংকি বেণি ও বান ঈদের বিকালে যারা সালোয়ার কামিজ বা ফিউশন পোশাক (স্কার্ট-টপ বা পালাজ্জো) পরবেন, তারা বেছে নিতে পারেন ‘ফাংকি বেণি’। একপাশে সিঁথি করে একদিক থেকে চিকন বেণি টেনে অন্যপাশে এলোমেলো করে পেঁচিয়ে নিন। অন্যদিকে বানের চারপাশ দিয়ে পুঁতির মালা জড়িয়ে আনুন ‘রয়্যাল’ লুক। খোলা চুলে ফ্যাশন করতে চাইলে একপাশে বেণি করে বাকি চুলে কার্ল বা স্ট্রেট লুক দিতে পারেন।

সফলতার জন্য কী করবেন?

সফলতার জন্য কী করবেন? সাফল্য হলো নিজেকে ভেতর থেকে সমৃদ্ধ করা, কেবল সম্পদ বা খ্যাতি দ্বারা এটি সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। সাফল্য অর্জনের জন্য যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তার মিশ্রণ প্রয়োজন, যা আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং গঠনমূলকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করে। অধ্যবসায় এবং ধৈর্য হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী, কারণ অর্থপূর্ণ সাফল্য অনিবার্য বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং স্থিতিস্থাপকতার মাধ্যমে তৈরি হয়। সাফল্য কী? এটি কি একটি অর্জন? নাকি সম্পদ? সম্ভবত স্বীকৃতি? ঠিক আছে, সাফল্যকে সংজ্ঞায়িত করা সত্যিই সহজ নয়। কারও কারও কাছে এর অর্থ তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানো হতে পারে। অন্যদের কাছে এটি ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি বা অভ্যন্তরীণ শান্তি। সংজ্ঞা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। সময় এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে এটি বিকশিত হতে পারে, এমনকি অগ্রাধিকারের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। এর অর্থ যাই হোক না কেন, আমরা সবাই সাফল্যের পেছনে ছুটছি। অতএব, সাফল্য বোঝার জন্য খ্যাতি, মর্যাদা বা সম্পদের প্রচলিত ধারণার বাইরে তাকাতে হবে। এখানে কিছু মূল নীতি রয়েছে যা আপনার মনে রাখা উচিত। সাফল্য একটি ব্যক্তিগত যাত্রা সাফল্যের কোনো সার্বজনীন সংজ্ঞা নেই। আপনি যাকে সাফল্য বলে মনে করেন তা অন্য কারও কাছে একই অর্থ বহন করতে পারে না। শুধু তাই নয়, আপনি আজ যা সাফল্য বলে ধরে নিচ্ছেন তা আগামীকাল একই রকম না-ও লাগতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষাগত বা ক্যারিয়ারের অর্জন জীবনের প্রথম দিকে সাফল্যের মতো মনে হতে পারে। পরে এটি ব্যক্তিগত শান্তি, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং একটি নিরাপদ সহায়তা ব্যবস্থা থাকার দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে। সাফল্যের এই দিকটি বোঝা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তি এবং আবেগের মধ্যে ভারসাম্য সাফল্য অর্জনের জন্য, আপনার যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং মানসিক সচেতনতা উভয়েরই প্রয়োজন। সমস্যা বিশ্লেষণ, তথ্যবহুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর কৌশল বিকাশের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং সুষ্ঠু বিচারের প্রয়োজন এমন পেশাদার ক্ষেত্রগুলোতে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে, আবেগগত বুদ্ধিমত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী মানসিক বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ব্যক্তিরা চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে, কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে এবং পরিপক্কতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সাফল্য অর্জনের জন্য যুক্তি এবং আবেগ উভয়কেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বেশিরভাগ সময় মানুষকে তাদের আবেগ দমন করতে শেখানো হয়। তবে আবেগ উপেক্ষা করলে সমস্যা দূর হয় না। প্রকৃতপক্ষে, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স মানুষকে নেতিবাচক অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে চিন্তাভাবনা করে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করে। অধ্যবসায় এবং অধ্যবসায় আপনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিন বা বিষয়বস্তু তৈরিতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী হন, অধ্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, রোম একদিনে তৈরি হয়নি। অর্থপূর্ণ কিছু অর্জনের জন্য সর্বদা প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আপনাকে প্রতি মুহূর্তে সচেতন হতে হবে। বাধা এবং বিপত্তি যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে আপনাকে মনোনিবেশ করতে হবে। ধৈর্য আপনার যাত্রায় দেখা প্রতিটি ব্যক্তি কেন সফল হয় না তা ভেবে দেখেছেন? ধারাবাহিকতার মতো ধৈর্যও জরুরি। আপনার হয়তো উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং কঠোর পরিশ্রম করার ইচ্ছা থাকতে পারে, কিন্তু ধৈর্যের ক্ষেত্রে যদি আপনি ব্যর্থ হন, তাহলে তা ফলপ্রসূ হবে না। আপনি হয়তো সব প্রচেষ্টা দিয়ে জয়ী হবেন না, আর ঠিক এই কারণেই ধৈর্য গুরুত্বপূর্ণ।

 ঘরে বসেই তৈরি করুন রঙিন-স্বাস্থ্যকর কোণ মেহেদি

 ঘরে বসেই তৈরি করুন রঙিন-স্বাস্থ্যকর কোণ মেহেদি ঈদ মানেই শুধুই নতুন পোশাক বা মিষ্টি নয়, নারীদের জন্য এক অন্যতম আনন্দের অংশ হলো মেহেদি। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীরা বিশেষ অনুষ্ঠানে মেহেদি সাজের জন্য মুখিয়ে থাকেন। বিশেষ করে বিয়ের আগে ঘটা করে মেহেদি উৎসবের আয়োজন করা হয়। ঈদ আসছে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে, আর বাজারে এখন মেহেদি কেনাকাটা শুরুর সময়। কিন্তু ভালো ও অর্গ্যানিক মেহেদি পাওয়া যেন এখন চ্যালেঞ্জ, কারণ বাজার ভরপুর ভেজাল ও মানহীন মেহেদিতে। তবে এখন ঘরে বসেই সহজভাবে স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল রঙের কোণ মেহেদি তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় উপকরণ ১. হেনা পাউডার ১/৪ কাপ (২৫ গ্রাম) ২. চিনি ২ চা চামচ (৮ গ্রাম) ৩. এসেনশিয়াল অয়েল ২ চা চামচ (ল্যাভেন্ডা, টি ট্রি বা ইউক্যালিপটাস) ৪. লেবুর রস সামান্য তৈরি করার পদ্ধতি একটি পরিষ্কার পাত্রে হেনা পাউডার নিন। এতে চিনি ও এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করুন। চিনি মেহেদি শুকিয়ে যাওয়ার পরও ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকতে সাহায্য করে। লেবুর রস মিশিয়ে উপকরণগুলো একসঙ্গে ভালোভাবে মেশান। প্রয়োজনে হ্যান্ড বিটার ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, এই মিশ্রণে পানি ব্যবহার করবেন না। মিশ্রণটি প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা একটি গরম স্থানে ২৪ ঘণ্টা রাখুন। উত্তম তাপমাত্রা ৭৫-৮৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২৩-৩০° সেলসিয়াস)। ২৪ ঘণ্টা পর মিশ্রণ আবার বিট করুন এবং হাতে একটু লাগিয়ে পরীক্ষা করুন। যদি সুন্দর উজ্জ্বল কুমড়ার কমলা রঙের দাগ হয়, তবে মেহেদি প্রস্তুত। না হলে আরও কয়েক ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। কোণে ভরা ও ব্যবহার মেহেদি ছেঁকে নিতে একটি পলিথিন ও পাতলা মোজা ব্যবহার করুন। এরপর র‌্যাপিং পেপার দিয়ে কোণের আকার তৈরি করুন এবং পিন ব্যবহার করে মুখ বন্ধ করুন। পলিথিনে ফুটো করে মেহেদি পেস্ট ঢেলে দিন এবং নিচের অংশ স্কচটেপ দিয়ে সিল করুন। এভাবে ঘরে বসে তৈরি কোণ মেহেদি হবে স্বাস্থ্যকর, সুন্দর রঙের এবং ত্বকের কোনো ক্ষতি করবে না। ঈদে নিজের হাতে তৈরি এই মেহেদি ব্যবহার করলে মেহেদি লাগানোর আনন্দও দ্বিগুণ হবে।

সার্বক্ষণিক ইবাদত আল্লাহর জিকির

সার্বক্ষণিক ইবাদত আল্লাহর জিকির আজ (১৩ মার্চ ২০২৬) ২৩ রমজান দিবাগত রাতে ইশার পর ২৪তম দিনের তারাবিহ নামাজে আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে কোরআনের ২৭ নং পারা তিলাওয়াত করা হবে। এ পারায় রয়েছে সুরা যারিয়াতের শেষার্ধ, সুরা তুর, সুরা কামার, সুরা রহমান, সুরা ওয়াকিয়া ও সুরা হাদিদ। পবিত্র কোরআনের এ অংশে আমাদের দৈনন্দিন জীবন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষা ও দিক-নির্দেশনা রয়েছে: প্রবৃত্তি ও শয়তান যখন আমাদের গোনাহের প্ররোচনা দেয়, তখন আমাদের কর্তব্য শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য ছুটে গিয়ে আল্লাহ তাআলার শরণাপন্ন হওয়া। আল্লাহ তাআলার আশ্রয় গ্রহণ করা। তিনি আমাদের শয়তান ও প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। কোনো গুনাহ হয়ে গেলেও দ্রুত তওবা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, (হে নবী আপনি বলুন) তোমরা আল্লাহর দিকে ছুটে যাও। আমি তো তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী। (সুরা যারিয়াত: ৫০)   তাসবিহ, আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও স্মরণ মুমিনের সার্বক্ষণিক ইবাদত। দিনের বিভিন্ন সময় ও অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি তোমার রবের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তুমি শয্যা ত্যাগ কর এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা কর রাতে ও তারকার অস্ত গমনের পর। (সুরা তুর: ৪৮, ৪৯) ইসলামে সৎ ও সত্যবাদী ব্যবসায়ীর বিশেষ মর্যাদা আছে। যারা ইনসাফ, সততা ও সত্যবাদিতা বজায় রেখে ব্যবসা করে, মাপে কম দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে প্রতারণার আশ্রয় নেয় না, ধোঁকা দেয় না, কাউকে ঠকায় না। বেচাকেনার ক্ষেত্রে মাপে কম দেওয়াসহ যে কোনো রকম প্রতারণা হারাম ও অত্যন্ত গর্হিত পাপ। বেচাকেনায় যথাযথভাবে ওজন করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে ওজন প্রতিষ্ঠা কর এবং ওজনকৃত বস্তু কম দিও না। (সুরা রহমান: ৯) ইসলামে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদ ব্যয়, জাকাত ও নফল সদকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। জাকাত ফরজ ইবাদত, ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। এ ছাড়া বেশি বেশি নফল সদকা করাও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। ইমানের পরে সম্পদ ব্যয় করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ইমান আন এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন, তা থেকে ব্যয় কর। তোমাদের মধ্যে যারা ইমান আনে ও (আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী) ব্যয় করে তাদের জন্য রয়েছে বিরাট প্রতিদান। (সুরা হাদিদ: ৭)

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখছেন? যেসব সমস্যা হতে পারে

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখছেন? যেসব সমস্যা হতে পারে অনেকেই রাতে মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন। আবার সকালবেলা উঠেই হাতে মোবাইল নেন। ঘেুম ভাঙা চোখে সামাজিক মাধ্যম স্ক্রল করেন। নিয়মিত এ ধরনের অভ্যাস শরীর ও মনের উপর ব্যাপক চাপ তৈরি করে। যেমন- মস্তিষ্কের উপর চাপ সৃষ্টি ঘুমোনোর সময়ে মস্তিষ্কও বিশ্রাম নেয়। তখন ডেল্টা মোডে থাকে। ঘুম ভাঙার সময়ে থিটা মোডে পৌঁছে যায়। এর পরে যখন আলফা মোড আসে, তখন ঘুম ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কও সক্রিয় হয় না। মস্তিষ্ক যে স্তরে সক্রিয় হয়, তাকে বিটা মোড বলে। কিন্তু কেউ যদি চোখ খোলা মাত্রই মোবাইল ঘাঁটে, একের পর এক তথ্য দেখতে থাকে, তখনই মস্তিষ্ককে হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে যেতে হয়। অর্থাৎ, মস্তিষ্ক ডেল্টা মোড থেকে সরাসরি বিটা মোডে পৌঁছে যায়। এটা মস্তিষ্কের উপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। মানসিক চাপ বাড়ে ঘুম থেকে ওঠার সময়ে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে। সেই সময় আবার যদি ফোন দেখেন তাহলে মস্তিষ্কের উপর আরও চাপ বাড়ে। মোবাইলের পর্দায় উঠে আসা বিভিন্ন কনটেন্ট, মেসেজ মানসিক চাপ বাড়ায়। এর ফলে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা যেমন বাড়ে,তেমনি মানসিক ক্লান্তিও বাড়ে। তৈরি হয় অ্যাংজ়াইটি। ঘুম উঠে মোবাইল ঘাটাঘাটি এই অভ্যাস মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে । চোখের ক্ষতি হয় ঘুম ঘুম চোখে মোবাইল দেখলে চোখেরও ক্ষতি হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখলে ফোনের নীল রশ্মি চোখের উপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে অনেক সময় ড্রাই আইজ়ের সমস্যা দেখা দেয়। কাজে মনোযোগ আসে না ঘুম থেকে উঠে মোবাইল দেখার অভ্যাস গোটা দিনটা নষ্ট করে দিতে পারে। এই অভ্যাস মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়। এতে কাজে উৎসাহও পাওয়া যায় না। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য বা সমালোচনা এমনভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে যে, সারাদিন ওই সব বিষয়ই মাথায় চলতে থাকে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে স্মার্টফোনের নীল আলো মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। এই হরমোন ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ে মোবাইল স্ক্রল করলে হরমোনের মাত্রা কমে যায়, ঘুম আসে না। আবার ঘুম থেকে উঠে মোবাইল ঘাঁটাঘাটি করলেও এই হরমোনের নিঃসরণেও বাধা তৈরি হয়। শরীরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। এর ফলেঅনিদ্রার সমস্যা বাড়ে। ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পরে মোবাইলে হাত দেওয়া উচিত।

রান্না করা মুরগির মাংস কতক্ষণ ফ্রিজে রাখা যাবে?

রান্না করা মুরগির মাংস কতক্ষণ ফ্রিজে রাখা যাবে? রান্না করা যেসব খাবার ফ্রিজে বেশি সংরক্ষণ করা হয়, তার মধ্যে মুরগির মাংস অন্যতম। অনেকে একসঙ্গে অনেকখানি মাংস রান্না করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় বের খেয়ে থাকেন। কেউ আবার বার্গারের পেটি, চিকেন ফ্রাই, চিকেন নাগেটস ইত্যাদিও সংরক্ষণ করেন। তবে, খাদ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়। রান্না করা মুরগি কতক্ষণ নিরাপদে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে এবং খাওয়া অনিরাপদ হয়ে ওঠে? খাদ্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সঠিকভাবে রান্না করা খাবারও যদি খুব বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা হয় তবে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ফ্রিজে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার অর্থ অবশিষ্ট খাবারের শেলফ লাইফ সীমিত থাকে। সঠিক সংরক্ষণের সময়কাল, হিমায়ন তাপমাত্রা এবং নষ্ট হওয়ার সতর্কতা লক্ষণ জানা থাকলে খাবারের সঠিক ব্যবহার করা ও সুস্থ থাকা সহজ হয়। রান্না করা মুরগি কতক্ষণ আপনার ফ্রিজে নিরাপদে থাকতে পারে : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (USDA) এর খাদ্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা বলছে যে, রান্না করা মুরগি সাধারণত তিন থেকে চার দিনের জন্য ফ্রিজে নিরাপদে সংরক্ষণ করা যেতে পারে যদি তাপমাত্রা ৪০°F (৪°C) বা তার নিচে থাকে। USDA খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা বলছে যে এই সময়সীমা বেশিরভাগ রান্না করা মুরগির খাবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমন গ্রিল করা, ভাজা, বা স্যুপ বা ক্যাসেরোল তৈরিতে ব্যবহৃত মুরগি। তিন থেকে চার দিনের পরে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এর বেশি সময় ধরে ফ্রিজে থাকা অবশিষ্টাংশ ফেলে দেওয়া উচিত। রান্না করা মুরগি কেন খুব বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায় না রেফ্রিজারেশন ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ধীর করে দেয়, তবে এটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে না। কিছু অণুজীব ঠান্ডা থাকলেও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলেছে যে, খাবার থেকে মানুষকে অসুস্থ করে তোলে এমন ব্যাকটেরিয়া এমন খাবারেও বৃদ্ধি পেতে পারে যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বা খুব বেশি সময় ধরে ফ্রিজে রাখা হয়েছে। হাঁস-মুরগিতে পাওয়া কিছু সাধারণ ব্যাকটেরিয়া হল: সালমোনেলা ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ক্লোস্ট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেন এই ব্যাকটেরিয়াগুলো বিশ্বজুড়ে খাদ্যজনিত অসুস্থতার সবচেয়ে সাধারণ কারণের মধ্যে একটি। সিডিসির মতে, দূষিত খাবার কখনও কখনও স্বাভাবিক দেখাতে পারে, যার অর্থ কেবল গন্ধ বা স্বাদ নির্ভরযোগ্যভাবে নির্দেশ করতে পারে না যে খাবারটি নিরাপদ কিনা। ফ্রিজে রান্না করা মুরগি সংরক্ষণের সঠিক উপায় খাদ্য সুরক্ষা সংস্থাগুলো জোর দেয় যে, কীভাবে অবশিষ্টাংশ সংরক্ষণ করা হয়, তা কতক্ষণ নিরাপদ থাকে তার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখুন ইউএসডিএ খাদ্য সুরক্ষা সুপারিশ অনুসারে, রান্না করা খাবার রান্না করার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখা উচিত। যদি আশেপাশের তাপমাত্রা 90°F (32°C) এর বেশি হয়, তাহলে খাবারটি এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখা উচিত। বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার করুন রান্না করা মুরগি বায়ুরোধী পাত্রে অথবা শক্তভাবে সিল করা প্যাকেজিংয়ে রাখা উচিত। এটি আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমায়। রেফ্রিজারেটরের নিরাপদ তাপমাত্রা বজায় রাখুন মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলে যে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ধীর করার জন্য, রেফ্রিজারেটরগুলিকে ৪০°F (৪°C) বা তার কম তাপমাত্রায় রাখা উচিত। অবশিষ্টাংশ ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন ছোট পাত্রে অবশিষ্টাংশ রাখলে তা দ্রুত ঠান্ডা হতে সাহায্য করে, যা ঠান্ডা হওয়ার সময় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়। রান্না করা মুরগি নষ্ট হয়ে যাওয়ার লক্ষণ যদিও আপনি সঠিক সময়ের জন্য মুরগি রাখেন, তবুও পরিস্থিতি ঠিক না থাকলে তা নষ্ট হতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করা উচিত। গন্ধের পরিবর্তন: নষ্ট হয়ে যাওয়া মুরগির গন্ধ টক বা খারাপ হতে পারে। গঠনের পরিবর্তন: যদি রান্না করা মুরগি পাতলা বা আঠালো মনে হয়, তাহলে এর অর্থ হতে পারে যে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। রঙের পরিবর্তন: যদি রান্না করা মুরগির রঙ ধূসর বা একটু সবুজ হয়ে যায়, তাহলে এটি আর খাওয়া নিরাপদ না-ও থাকতে পারে। রান্না করা মুরগি কি বেশিক্ষণ ধরে হিমায়িত করা যায়? রান্না করা মুরগি হিমায়িত করলে তা সংরক্ষণে অনেক বেশি সময় ধরে টিকে থাকতে পারে। USDA বলে যে, রান্না করা মুরগি সাধারণত দুই থেকে ছয় মাস ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। হিমায়িত তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ হয়। তবে হিমায়িত করলে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয় না। অবশিষ্ট মুরগি কেন সঠিকভাবে পুনরায় গরম করা উচিত? খাদ্য নিরাপদ রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো অবশিষ্ট খাবার সঠিকভাবে পুনরায় গরম করা। USDA খাদ্য সুরক্ষা ও পরিদর্শন পরিষেবা বলে যে, অবশিষ্ট খাবার ১৬৫°F (৭৪°C) এর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রায় না পৌঁছানো পর্যন্ত গরম করা উচিত। এই তাপমাত্রা সেই ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলে যা খাবার সংরক্ষণের সময় বেড়ে উঠতে পারে।