নতুন বছরে সুস্থ থাকতে যা করবেন

নতুন বছরে সুস্থ থাকতে যা করবেন সুস্থতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। এটি আপনি ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন যখন অসুস্থতা এসে আপনাকে গ্রাস করবে। অসুখে ভুগে ভুগে উপলব্ধি হওয়ার থেকে আগে থেকেই যদি নিজের প্রতি যত্নশীল হন, তাহলে সুস্থ থাকার পথ অনেকটাই সহজ হবে। নতুন বছরে সফল হতে চান, ধনী হতে চান, সবকিছুই ঠিক আছে। তবে সবার আগে সুস্থ থাকা জরুরি। কারণ শরীর সুস্থ থাকলে বাকিসব অর্জন সহজ হয়ে যায়। নতুন বছরে সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে এই কাজগুলো করতে হবে- স্বাস্থ্যকর খাবার খান : সুস্থতার জন্য সবার আগে জরুরি স্বাস্থ্যকর খাবার। খাবার যদি স্বাস্থ্যকর না হয় তাহলে অসুখ-বিসুখ আসার দরজা খুলে যাবে। কারণ আমরা প্রতিদিন যা খাই, সেসব খাবার থেকেই আমাদের শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। তাই খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও জোরদার হয় না। টাটকা ও স্বাস্থ্যকর নিয়মিত খেতে হবে। এতে শরীর সুস্থ থাকবে। প্রয়োজনীয় ঘুম : ঘুম এমন একটি বিষয়, যা আমাদের বেশিরভাগই অবহেলা করি। সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের মতোই স্বাস্থ্যকর ঘুম জরুরি। রাতে আগে ঘুমিয়ে পড়া এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম জরুরি। রাতে বিছানায় যাওয়ার অন্তত ঘণ্টাখানেক আগে সব ধরনের ডিভাইস দূরে সরিয়ে রাখুন। এতে ঘুম ভালো হবে। অযথা রাত জাগবেন না। এতে স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শরীরচর্চা : আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই শরীরচর্চার প্রতি মনোযোগী নন। অনেকে আবার শরীরচর্চা বলতে বোঝেন কেবল জিমে গিয়ে ভারী ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ব্যায়াম করা। আসলে এটি সঠিক নয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাইরে আধা ঘণ্টার মতো হাঁটলেও আপনার শরীরচর্চার কাজ অনেকটাই হয়ে যাবে। এছাড়া সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটাও ভালো ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সময় ও সুযোগে মিললে জিমে গিয়েও শরীরচর্চা করতে পারেন। এতে শরীর সুস্থ থাকবে। ইতিবাচক থাকা : এটি মূলত দৃশ্যমান কোনো কাজ নয়। ইতিবাচকতা থাকতে হবে আপনার স্বভাবে। জীবনে চলার পথে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে দেখা হবে, নানাকিছু জমা হবে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে। আপনি যদি স্বভাব থেকে ইতিবাচকতা হারিয়ে ফেলেন তবে আপনারই ক্ষতি। কারণ নেতিবাচক স্বভাব আমাদের শরীর ও মনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আপনি যদি সবকিছুর মধ্য থেকে ইতিবাচকতা খুঁজে পান তাহলে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে। মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকবে।

১ জানুয়ারি এতো মানুষের জন্মদিন কেন?

১ জানুয়ারি এতো মানুষের জন্মদিন কেন? পহেলা জানুয়ারি অনেককেই জন্মদিন পালন করতে দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমেও অনেকেই তাদের বন্ধুদের জন্মদিনের ‍শুভেচ্ছা জানান জানুয়ারির ১ তারিখে। বলা যায়, বাংলাদেশের নাগরিকদের বিশাল একটা অংশ জন্মদিন পালন করেন বছরের প্রথম দিনে। তবে সত্যি সত্যিই কি এই নাগরিকদের সবার জন্ম বছরের প্রথম দিনেই। কিন্তু একই দিকে এই বিশাল সংখ্যক নাগরিকের জন্মগ্রহণের বিষয়টি কি সত্যি নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য! আসুন জেনে নেওয়া যাক। জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে জানুয়ারির এক তারিখের প্রাধান্য দেখা গেছে। শিশুদের নিয়ে কাজ করেন, এমন বিশেষজ্ঞরাও এই প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেছেন, ‘বিষয়টি এমন না যে, জানুয়ারির এক তারিখে বেশির ভাগ শিশুর জন্ম হচ্ছে। আসলে এখনও আমাদের দেশের বেশির ভাগ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে, বিশেষ করে যারা গ্রামীণ এলাকায় থাকে। সেখানে এখনও শিক্ষার হার ততটা ভালো না। ফলে অভিভাবকরাও জন্ম নিবন্ধনের ব্যাপারে ততটা সতর্ক নন। তিনি আরও বলেন, আমাদের জন্ম নিবন্ধনও সঠিকভাবে সঠিক তারিখে হয় না। বাড়িতে বা হাসপাতালে জন্ম নেয়া শিশুদেরও ঠিকভাবে নিবন্ধন হচ্ছে না। পরবর্তীতে যখন তারা স্কুলে ভর্তি হয় বা কোনো সার্টিফিকেট পরীক্ষার সময় তার জন্ম তারিখটা দরকার হয়। তখন অনেক সময় স্কুলের শিক্ষকরা ইচ্ছামতো একটি তারিখ বসিয়ে দেন। নতুন করে জন্মদিন বসাতে গিয়ে তারা একটি কমন তারিখে জন্মদিন বসিয়ে দেন, যা সহজে মনে রাখা যায়। দেখা যায়, বেশির ভাগ সময়েই সেটা জানুয়ারির এক তারিখ হয়ে থাকে। এ কারণে দেখা যায় এখানে এটা খুবই কমন যে, মানুষের দুইটা করে জন্মদিন থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, ভারত-পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানেও এই প্রবণতা রয়েছে। তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলছেন, অনেকের জন্ম তারিখ বানিয়ে দেয়া হলেও এই তারিখেও কিন্তু সত্যিকারে বাংলাদেশে অনেক শিশুর জন্ম হচ্ছে, যাদের জন্মদিন আসলেই ১ জানুয়ারি।

গুগলের নতুন ফিচার, বদলানো যাবে জিমেইল ঠিকানা

গুগলের নতুন ফিচার, বদলানো যাবে জিমেইল ঠিকানা ব্যবহারকারীদের বহুল প্রত্যাশিত একটি ফিচার নিয়ে কাজ করছে গুগল—এমনটাই দাবি করেছে একাধিক প্রতিবেদন। দীর্ঘদিন ধরেই জিমেইল ব্যবহারকারীরা একই ইমেইল আইডি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ, গুগল এখন পর্যন্ত জিমেইল ঠিকানা বা ইউজারনেম পরিবর্তনের কোনও সুযোগ দেয়নি। তবে সেই চিত্র বদলাতে পারে শিগগিরই। যদিও গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে গুগলের সাপোর্ট পেজে সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। সেখানে ‘Change Gmail address’ বা জিমেইল ঠিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি অপশন দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এটি চালু হলে গুগলের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত হিসেবেই ধরা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিমেইল আইডি বা ইউজারনেম পরিবর্তনের অর্থ হলো— ১০ বছর আগে খোলা কোনও অ্যাকাউন্টের ইউজারনেম নতুন করে সম্পাদনা বা আপডেট করা যাবে। গুগলের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, জিমেইল ঠিকানা পরিবর্তন করলেও পুরোনো ইউজারনেম বাতিল হবে না এবং ব্যবহারকারীদের কোনও তথ্য বা ডেটা হারানোর ঝুঁকিও থাকবে না। বরং ব্যবহারকারীরা একই অ্যাকাউন্টে পুরোনো ও নতুন—দুটি জিমেইল ঠিকানাই ব্যবহার করতে পারবেন। উভয় ঠিকানায় পাঠানো ইমেইলই পৌঁছাবে একই ইনবক্সে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরোনো জিমেইল আইডি দিয়েও অ্যাকাউন্টে লগইন করা যাবে। অর্থাৎ, ঠিকানা বদলালেও ব্যবহারকারীদের পুরোনো পরিচয় পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না।

শীতে হার্ট ভালো রাখতে কী খাবেন

শীতে হার্ট ভালো রাখতে কী খাবেন শীত তার নিজস্ব জাদু নিয়ে আসে – ঝলমলে সকাল, উজ্জ্বল রোদ, উষ্ণ পানীয় এবং আরামদায়ক খাবার। কিন্তু যারা তীব্র শীতের মধ্যে বাস করেন, তাদের জন্য এই ঋতু চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসে, বিশেষ করে হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য। শীতকালে সর্দি, ফ্লু এবং জ্বর বৃদ্ধি পেলেও, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের বৃদ্ধি। সুখবর হলো সহজ, সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে, আপনি আপনার হৃদযন্ত্রকে শীতকালেও ভালো রাখতে পারেন। তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরের প্রথম অগ্রাধিকার হলো উষ্ণতা বজায় রাখা। তাপ হ্রাস রোধ করতে, সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র রক্তনালীকে সংকুচিত করে, যা রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদয়ে অক্সিজেন ও পুষ্টির প্রবাহ কমায়। সংকুচিত নালীর মধ্য দিয়ে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখার জন্য হৃদপিণ্ডকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, যা হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। একই সময়ে, ঠান্ডা আবহাওয়া রক্তকে ঘন করে, কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং জমাট বাঁধার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় – যা সবই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। জেনে নিন, এই শীতে হৃদযন্ত্রকে কীভাবে রক্ষা করবেন। ১. স্মার্ট খাবার খান : শীতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ২. ভালো চর্বি বেছে নিন : শীতকাল হলো ভালো চর্বির প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ার ঋতু। সঠিক তেল নির্বাচন করা- যেমন চিনাবাদাম বা সূর্যমুখী তেলের সাথে সরিষার তেলের মিশ্রণ হৃদরোগ-প্রতিরক্ষামূলক মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সরবরাহ করতে সাহায্য করে LDL কোলেস্টেরল কমায়। স্যামন এবং সার্ডিনের মতো ফ্যাটি মাছে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাট তাদের প্রদাহ-বিরোধী উপকারিতা এবং হৃদস্পন্দনকে সহায়তা করে, ট্রাইগ্লিসারাইড কমায় এবং জমাট বাঁধার প্রবণতা কমায়। নিরামিষাশীদের জন্য, আখরোট, চিয়া বীজ এবং তিসির বীজ চমৎকার উদ্ভিদ-ভিত্তিক ওমেগা-৩ উৎস প্রদান করে। ৩. পুরো শস্য যোগ করুন : আস্ত শস্য হৃদযন্ত্রের জন্য একটি উপকারী খাবার। সাদা ভাত, নান এবং ময়দা-ভিত্তিক খাবারের পরিবর্তে বাদামি চাল, বার্লি, আস্ত গম, ওটস বা কুইনোয়ার মতো পরিশোধিত শস্যদানা ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি যেমন বি ভিটামিন, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়াম যোগ করে। ফাইবার কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে এবং স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখে। ৪. বাদাম খান : বাদাম একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। বাদাম, আখরোট এবং চিনাবাদাম স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন এবং ভিটামিন ই সরবরাহ করে, যখন তাদের আর্জিনিন উপাদান নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন বাড়ায়, রক্তনালীকে শিথিল করতে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন মাত্র এক মুঠো বাদামই উপকারিতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট। ৫. ফল এবং শাকসবজিতে পেট ভরে নিন : ফল এবং শাকসবজি রঙ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় খনিজ যোগ করে যা হৃদযন্ত্রকে শীতের চাপ সহ্য করতে সহায়তা করে। লাইকোপিন সমৃদ্ধ টমেটো এবং লাল মরিচ থেকে শুরু করে অ্যান্থোসায়ানিন-প্যাকড বেরি, মূলা এবং আঙুর পর্যন্ত, উদ্ভিদ-ভিত্তিক পুষ্টি রক্তনালীকে শক্তিশালী করে এবং প্রদাহ কমায়। আপনার প্লেটের অর্ধেক শাকসবজি দিয়ে পূরণ করুন এবং দিনে দুই থেকে তিনবার ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।

২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়তে চায় রাশিয়া

২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়তে চায় রাশিয়া চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও অবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাশিয়া। দেশটি জানিয়েছে, ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চায়। এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে রাশিয়ার চন্দ্র কর্মসূচি এবং যৌথ রাশিয়া-চীন গবেষণা স্টেশনে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা ল্যাভোচকিন অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি মহাকাশ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। যদিও সরাসরি ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এবং কুরচাতভ ইনস্টিটিউট (দেশটির শীর্ষ পারমাণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান) যুক্ত রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পারমাণবিক শক্তিভিত্তিক হবে (পারমাণবিক শক্তি মানে পরমাণু থেকে উৎপন্ন শক্তি)। রসকসমস বলেছে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে চাঁদে চলমান যান (রোভার), মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং গবেষণা স্টেশনের অন্যান্য স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে। তাদের মতে, এটি এককালীন অভিযানের যুগ শেষ করে চাঁদে স্থায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণার পথে বড় পদক্ষেপ। তবে রাশিয়া একা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, তারা ২০৩০ অর্থবছরের প্রথম ভাগের মধ্যেই চাঁদে একটি পারমাণবিক রিয়্যাক্টর (বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা) বসাতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, চাঁদে ঘাঁটি গড়তে হলে শক্তির বিকল্প নেই। এই শক্তি ভবিষ্যতে মানুষকে মঙ্গলে পাঠানোর পথও সহজ করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঁদে বিপুল পরিমাণ হিলিয়াম-৩ (একটি বিরল জ্বালানি উপাদান) ও দুষ্প্রাপ্য ধাতু রয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। এসব কারণেই চাঁদকে ঘিরে বিশ্বশক্তিগুলোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

সমুদ্রে সবচেয়ে জোরে শব্দ করে ছোট্ট এক চিংড়ি !

সমুদ্রে সবচেয়ে জোরে শব্দ করে ছোট্ট এক চিংড়ি ! সমুদ্রে সবচেয়ে জোরে শব্দ করা প্রাণী শুনলে অনেকেই তিমির কথা ভাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সমুদ্রের গভীরে সবচেয়ে জোরে শব্দ করে আঙুলের সমান ছোট একটি চিংড়ি। এই বিশেষ প্রজাতির নাম স্ন্যাপিং শ্রিম্প বা পিস্তল চিংড়ি। আকারে ছোট হলেও শব্দের দিক থেকে এরা বিশাল প্রাণীকেও ছাড়িয়ে গেছে। স্ন্যাপিং শ্রিম্পের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর একটি দাঁড়া সাঁড়াশির মতো। এই দাঁড়াটি তারা অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে। দাঁড়া খুব দ্রুত বন্ধ করার সময় পানির ভেতরে এক ধরনের শক্তিশালী প্রবাহ বা জেট তৈরি হয়। এতে পানিতে একটি ক্যাভিটেশন বাবল (তীব্র চাপের কারণে তৈরি বুদ্‌বুদ) সৃষ্টি হয়। সেই বুদ্‌বুদ ফেটে প্রচণ্ড শব্দ হয় এবং সামান্য আলোও দেখা যেতে পারে। এই ঘটনাকে বলা হয় শ্রিম্প লুমিনেসেন্স। জীববিজ্ঞানীদের মতে, রক কনসার্টের শব্দ সাধারণত ১১০ থেকে ১২০ ডেসিবেল হয়। একটি জেট ইঞ্জিনের শব্দ প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ ডেসিবেল। কিন্তু হাজার হাজার স্ন্যাপিং শ্রিম্প একসঙ্গে শব্দ করলে তা ২১০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ এই ছোট চিংড়ির দল জেট ইঞ্জিনের চেয়েও বেশি শব্দ করতে সক্ষম। এই তীব্র শব্দ সামুদ্রিক গবেষণার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করছে। বিজ্ঞানী রামেশ আইয়ার জানান, অনেক সময় এই চিংড়ির আওয়াজ জাহাজের ইঞ্জিনের শব্দকেও ঢেকে দেয়। ফলে সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি বা ম্যাপিং কাজে বাধা সৃষ্টি হয়। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে ডলফিন ও তিমির চলাচলের পথ পর্যবেক্ষণেও এই শব্দ সমস্যা তৈরি করছে। কার্টিন ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস্টিন এরবে বলেন, বিষয়টি এমন যেন আতশবাজির ভেতরে দাঁড়িয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করা। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে স্ন্যাপিং শ্রিম্পের শব্দ করার প্রবণতাও বাড়ছে। তবে এর একটি ইতিবাচক দিকও আছে। এক্সেটার ইউনিভার্সিটির গবেষক লুসিল চ্যাপুইসের মতে, এই চিংড়ির উপস্থিতি অনেক সময় সুস্থ ও প্রাণবন্ত প্রবাল প্রাচীরের সংকেত দেয়। অর্থাৎ সমস্যা থাকলেও, প্রকৃতির ভারসাম্য বোঝার ক্ষেত্রে এই শব্দ কখনো কখনো সহায়কও হতে পারে।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কী খাবেন

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কী খাবেন ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকের জন্যই জরুরি। আপনি হয়তো খেয়াল করলে পরিবারের কাউকে না কাউকে খাওয়া ও ঘুমের আগে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে দেখে থাকবেন। কার্বোহাইড্রেট-ভারী খাবারের পরে শক্তি হ্রাস পায়। যে কারণে হঠাৎ ক্ষুধা যা স্বাভাবিকের চেয়ে জরুরি বলে মনে হয়। মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে যার স্ট্রেসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এই দৈনন্দিন সংকেতগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার ওঠানামার ইঙ্গিত দেয়, এমনকী যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন তাদের ক্ষেত্রেও। তবে সুসংবাদ হলো যে রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রতিদিনের কিছু খাদ্যাভ্যাস সাহায্য করতে পারে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন? খাবারের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখুন- ১. প্রোটিন দিয়ে দিন শুরু করুন, শুধু কার্বোহাইড্রেট নয় : ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করা অনেক পরিবার তাড়াতাড়ি এটি শিখে ফেলে। টোস্ট, সিরিয়াল বা ফলের নাস্তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি এবং হ্রাসের কারণ হতে পারে। প্রোটিন যোগ করলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। সবজির সঙ্গে ডিম, বাদাম বা বীজের সঙ্গে দই, মসুর ডাল বা বিনস, গোটা শস্যদানা ইত্যাদি সকালের খাবারে রাখুন। ২. প্রতিটি খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখুন : কার্বোহাইড্রেটের ওপর বেশি নির্ভরশীলতা খাবার রক্তে শর্করার স্পাইক বাড়ায়। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ফাইবারের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট যুক্ত করলে রক্তে গ্লুকোজ আরও ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। শক্তির জন্য কার্বোহাইড্রেট, চিনির নিঃসরণ কমাতে প্রোটিন, টেকসই পূর্ণতার জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি, চিনির শোষণ কমাতে ফাইবার রাখুন প্রতিদিনের খাবারে। ৩. খাবার এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত বিরতিতে খান : খাবার এড়িয়ে যাওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির একটি সাধারণ কারণ। এর ফলে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় এবং দিনের শেষে অতিরিক্ত খাওয়া শুরু হয়। নিয়মিত বিরতিতে খাওয়ার অভ্যাস গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে, তীব্র ক্ষুধা কমায় এবং সারাদিন ধরে ভালোভাবে শক্তি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ৪. খাবারের মধ্যে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন : খাবারের মধ্যে বিস্কুট বা মিষ্টি খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি হতে পারে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার স্থিতিশীল শক্তি প্রদান করে এবং হঠাৎ ক্ষুধা রোধ করে। বাদাম বা বীজ, দই, সেদ্ধ ডিম, ভাজা ডাল ইত্যাদি খেতে পারেন। ৫. প্রতিটি খাবারে ফাইবার গ্রহণ বৃদ্ধি করুন : আঁশ রক্তে চিনির শোষণকে ধীর করে দেয় এবং খাবারের পরে গ্লুকোজের তীব্র বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখে। প্রাকৃতিকভাবে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে। শাক-সবজি, ত্বকের খোসাযুক্ত ফল, লেবু, গোটা শস্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে কাজ করে।

যে ৫ অভ্যাসে ফুসফুস ভালো থাকবে শীতে

যে ৫ অভ্যাসে ফুসফুস ভালো থাকবে শীতে শীতে সর্দি-হাঁচি-কাশির সমস্যা বেড়ে যায়। বেড়ে যায় শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও। ফুসফুস শ্বাসতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অসচেতনতার কারণে কিংবা জীবনযাপনের কিছু ভুলে সহজেই ঠান্ডা লাগতে পারে এবং ভাইরাস সংক্রমণে নিউমোনিয়া হয়ে যেতে পারে। তাই এসময় সুস্থ থাকতে বাড়তি সচেতনতার প্রয়োজন। নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিন শীতে মুখের পরিবর্তে নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিতে পারেন। এতে ফুসফুসে ঠান্ডা বাতাসের প্রবেশ ঠেকাতে পারবেন। নাকের মাধ্যমে শ্বাসগ্রহণ করলে বাতাস উষ্ণ হতে বেশি সময় পায়। ফুসফুস উষ্ণ বাতাস পেলে অসুস্থতার প্রবণতা কমে আসে। মাস্ক ব্যবহার করুন অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়া শ্বাসতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে বাইরে গেলে মাস্ক পরুন। এতে বাতাস ফুসফুসে প্রবেশের আগেই উষ্ণ হবে। এটা ফুসফুসের ওপর ঠান্ডা বাতাসের প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করবে। বাইরে গিয়ে শরীরচর্চা নয় তীব্র শীতে ঘরেই শরীরচর্চা করুন। বাইরে শরীরচর্চা করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। বাইরের ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাতে রাখুন শাক-সবজি ও ফল শীতে ফুসফুসের সুরক্ষায় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খান। বিশেষ করে পাতে ফল ও শাকসবজি রাখুন। তাজা ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, বাদাম, বীজ, বিনস, অলিভ অয়েল ও মাছ খান। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান পুষ্টিবিদদের মতে, ফুসফুসের সুস্থতায় প্রোটিন ভূমিকা রাখে। প্রোটিন সেই মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে, যা গভীর শ্বাসের সময় ফুসফুসকে প্রসারিত করে থাকে। পর্যাপ্ত প্রোটিন বিশেষ করে শিম জাতীয় সবজি, বাদাম, বীজ খেলে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হবে।

জুতা যেমন হওয়া চাই

জুতা যেমন হওয়া চাই হাঁটা সবারই প্রয়োজন, তবে নিয়মিত হাঁটার ক্ষেত্রে সঠিক জুতা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত জুতা হাঁটার সময় আরাম দেয়, পায়ের ব্যথা কমায় এবং আঘাতজনিত বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। সঠিক ওয়াকিং জুতা বেছে নেওয়ার সময় প্রথমেই জুতার সাইজের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। জুতার সাইজ পায়ের আকারের সঙ্গে মানানসই হওয়া উচিত; খুব বেশি টাইট বা অতিরিক্ত ঢিলেঢালা জুতা পরা ঠিক নয়। আঙুলের সামনে সামান্য ফাঁকা জায়গা থাকা দরকার, যাতে হাঁটার সময় চাপ না পড়ে। হাঁটার জুতার ওজন হালকা হওয়াই উত্তম। কারণ ভারী জুতা হাঁটার সময় পায়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। জুতার সোলের গঠন ও মানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আউটসোল বা নিচের অংশ রাবারের তৈরি হলে ভালো গ্রিপ পাওয়া যায় এবং পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। নন-সিøপ ডিজাইন থাকলে জুতা মাটি বা রাস্তার সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খায়। মিডসোল বা মাঝের অংশ হাঁটার সময় ধাক্কা ও কম্পনের প্রভাব কমায় এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। ইভিএ (ঊঠঅ) ফোম বা জেল কুশন প্রযুক্তিযুক্ত মিডসোল দীর্ঘক্ষণ হাঁটার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ইনসোল বা ভেতরের অংশে নরম কুশন থাকা উচিত, যাতে পায়ের তালুতে চাপ কম পড়ে। অর্থোপেডিক ইনসোল থাকলে পায়ের গঠন অনুযায়ী অতিরিক্ত সাপোর্ট পাওয়া যায়। যাদের পায়ের তালুর বাঁক বেশি বা কম, তাদের জন্য উপযুক্ত আর্চ সাপোর্ট থাকা জরুরি। একই সঙ্গে গোড়ালির জন্য ভালো সাপোর্ট থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার সময় গোড়ালি ও হাঁটু সুরক্ষিত থাকে। জুতার ওপরের অংশ এমন উপাদানে তৈরি হওয়া উচিত, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। জালযুক্ত বা ক্যানভাসের জুতা ঘাম শোষণ করে এবং পা ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখে। সিনথেটিক লেদারও আরামদায়ক হতে পারে। হাঁটার জুতার হিল খুব বেশি উঁচু বা খুব বেশি নিচু হওয়া উচিত নয়। সাধারণত শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৫ ইঞ্চি উচ্চতার হিল হাঁটার জন্য আরামদায়ক। সম্পূর্ণ সমান বা ফ্ল্যাট জুতা নিয়মিত হাঁটার জন্য উপযুক্ত নয়। জুতায় বাঁকানোর সুবিধা থাকা দরকার, যাতে সহজে পায়ের আঙুল ভাঁজ করা যায়; একেবারে শক্ত ও অনমনীয় জুতা হাঁটার জন্য ভালো নয়। লেইস বা ভেলক্রো স্ট্র্যাপ থাকলে জুতা পায়ে ভালোভাবে ফিট হয়। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য ভেলক্রো স্ট্র্যাপ সহজ ও সুবিধাজনক বিকল্প। দীর্ঘস্থায়ী ও ভালো মানের ব্র্যান্ডের জুতা নির্বাচন করা উচিত, যা সহজে নষ্ট হয় না। বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ ধরনের জুতা ব্যবহার করা দরকার। যেমন- প্লান্টার ফ্যাসাইটিস বা হিল স্পার থাকলে আর্চ সাপোর্ট ও হিল কুশনযুক্ত জুতা উপযোগী। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নরম ও সেলাইবিহীন ইনসোলযুক্ত জুতা প্রয়োজন, যাতে ঘর্ষণজনিত ক্ষত না হয়। ফ্ল্যাটফুট সমস্যায় বিশেষ ধরনের আর্চ সাপোর্টযুক্ত জুতা ব্যবহার করা উচিত। তবে এসব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সর্বোত্তম। ডা.এম ইয়াছিন আলী লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট

যেসব ভুলে দাঁত নষ্ট হয়

যেসব ভুলে দাঁত নষ্ট হয় দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি যেটি দেখা যায়, সেটি হলো এনামেল ক্ষয়। এবং এই সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো বেশিরভাগই নিজের ক্ষতি নিজেই করে। তবে সেটি যত্নের অভাবের কারণে নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাসের নীরব পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ঘটে থাকে। যা আমরা বুঝতেও পারি না। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আমাদের প্রতিদিনের কোন অভ্যাসগুলো দাঁত নষ্ট করে দিচ্ছে- যখন ‌ক্লিনার ব্রাশিং ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে অনেকে দ্রুত জোরালো ব্রাশ দিয়ে দিন শুরু করেন। কিন্তু জোরে ব্রাশ করলে দাঁত পরিষ্কার হয় এই বিশ্বাস একেবারেই ভুল। অতিরিক্ত ব্রাশ করা, বিশেষ করে শক্ত ব্রিস্টলযুক্ত টুথব্রাশ দিয়ে, দাঁতের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এটি এনামেল নামক পাতলা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্তর যা দাঁতকে ক্ষয় এবং সংবেদনশীলতা থেকে রক্ষা করে, তা ক্ষয় করতে পারে।   অ্যাসিড, চিনি এবং আধুনিক খাদ্য অ্যাসিড এবং চিনিযুক্ত খাবারের দিকে ঝোঁক এখনকার বেশিরভাগ মানুষের। এর মধ্যে রয়েছে ফিজি ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, সাইট্রাস-ভিত্তিক জুস, চা, কফি এবং বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি। প্রতিটি চুমুক বা কামড় যদিও আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকারক নয়, তবে দাঁতে অ্যাসিডের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে এনামেলকে ক্ষয় করে। হাইড্রেশনের উপেক্ষিত ভূমিকা লালা হলো মুখের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যাসিডকে নিউট্আল করে এবং খনিজ পদার্থ পূরণ করে যা এনামেলকে শক্তিশালী করে। তবুও, ক্যাফেইন দ্রুতগতির জীবনযাপনে ডিহাইড্রেশন এই সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। সারা দিন হাইড্রেটেড থাকার মতো সহজ অভ্যাস দাঁত রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর, কিন্তু উপেক্ষিত উপায়গুলোর মধ্যে একটি। DIY সাদা করার পেছনে বিপদ নিখুঁত হাসির সন্ধানে, সোশ্যাল মিডিয়া ঘরোয়া প্রতিকারকে জনপ্রিয় করে তুলেছে যা তাৎক্ষণিক সাদা করার প্রতিশ্রুতি দেয়, লেবুর রস এবং বেকিং সোডা থেকে শুরু করে আরও অনেককিছু। যদিও এগুলো অস্থায়ী উজ্জ্বলতা প্রদান করতে পারে, তবে এগুলো ঘষার সময় এনামেল ক্ষয় হয়। এর ফলে দাঁত সাময়িক ঝকঝকে হলেও পরে তা আরও হলুদ এবং সংবেদনশীল হয়ে যায়।