এক দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ

এক দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ বাঙালির রান্নাঘরে আর কোনো তরকারি থাকুক বা না থাকুক আলুর সরব উপস্থিতি অবশ্যই দেখা যায়। ভাজি, ভুনা, তরকারি, ভর্তা সবকিছুতেই এই সবজি ব্যবহার করা হয়। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, প্রতিদিন আলু খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য আদৌ উপকারি? আর দিনে কতটুকু আলু খাওয়া নিরাপদ? চলুন জেনে নিই পুষ্টিবিদরা এ সম্পর্কে কী বলেন? পুষ্টিবিদদের মতে, আলু খাওয়া বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক পরিমাণে ও সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করে খেলে আলু শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। সাধারণত একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে মাঝারি আকারের এক থেকে দুইটি আলু খেতে পারেন। ওজনের হিসাবে যা ১০০ থেকে ১৫০ গ্রামের সমান। তবে যেভাবে ইচ্ছে আলু খেলে চলবে না। ভাজা বা অতিরিক্ত তেল মসলা দিয়ে রান্না করা আলু খাওয়া যাবে না। আলুতে আছে শর্করা, যা শরীরে শক্তি জোগায়। তাই পরিশ্রমী মানুষ বা যারা শারীরিক কাজ করেন, তাদের জন্য আলু ভালো শক্তির উৎস হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা খাদ্য আঁশ হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আলু খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে থাকে। আলুতে থাকা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পটাশিয়াম। এই খনিজ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এছাড়াও আলুতে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি৬ থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। উপকারি হলেও আলু খাওয়ার ব্যাপারে কিছু সতর্কতা মানা জরুরি। এই সবজিটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আলু পরিমিত খাওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিন আলু না খাওয়াই ভালো। খেলেও অল্প পরিমাণে এবং অন্যান্য শাকসবজির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া উচিত। এছাড়া যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরও বুঝেশুনে আলু খেতে হবে। সেদ্ধ বা অল্প তেলে রান্না করা আলু পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস বা বেশি তেলে ভাজা আলু খেলে কমবে না ওজন। সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, আলু খারাপ নয়, খারাপ হলো এটি অতিরিক্ত খাওয়া এবং ভুল রান্নার পদ্ধতি। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পরিমাণ মেনে, ভারসাম্য রেখে আলু রাখতেই পারেন। এতে কোনো ক্ষতি হবে না। বরং মিলবে উপকার।
হাই প্রোটিন ডায়েটে যে ৩ ভুল করা যাবে না

হাই প্রোটিন ডায়েটে যে ৩ ভুল করা যাবে না মানুষ যখন প্রোটিন গ্রহণ বাড়ায় তখন অনেকেই অলসতা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা সাধারণত অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করে। দ্রুত ধারণা করা যায় যে প্রোটিনই এর জন্য দায়ী। পুষ্টিবিদদের মতে, সমস্যাটি প্রোটিন নিজে নয় বরং এটি বৃদ্ধি করার কারণে ঘটতে পারে। প্রোটিন কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি গ্রহণের সময় মানুষ কী ভুল করে তা জেনে নিন। প্রোটিন শরীরের বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাজকে সাহায্য করে। টিস্যু মেরামত থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা এবং পেশী তৈরিতে সহায়তা করা এর কাজ। এটি এমন কিছু যা আমাদের সত্যিই প্রয়োজন। কিন্তু অস্বস্তি তখনই শুরু হয় যখন মানুষ অন্য কোথাও সঠিক সমন্বয় না করে তাদের প্রোটিন গ্রহণ বাড়ায়। বেশি প্রোটিন মানে শরীরের আরও পানি, স্থির ফাইবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের প্রয়োজন যাতে হজম এবং সামগ্রিক ভারসাম্য ঠিক থাকে। এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা না হলে শরীর চাপ অনুভব করে এবং প্রোটিনকে এই ঘাটতি থেকে আসা প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী করা হয়, পুষ্টির কারণে নয়। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার সময় যে ৩টি ভুল এড়িয়ে চলবেন- ১. পর্যাপ্ত পানি পান না করা : প্রোটিন বেশি গ্রহণের ফলে বেশি ইউরিয়া তৈরি হয়। এটি একটি বর্জ্য পদার্থ যা কিডনি বের করে দেয়। প্রোটিনের পাশাপাশি পানির পরিমাণ বৃদ্ধি না পেলে শরীর এই বোঝা পরিষ্কার করতে কষ্ট পায়। তখন মাথাব্যথা, ক্লান্তি, প্রস্রাবের গাঢ় রঙ, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। প্রোটিন ডিহাইড্রেট করে না, অপর্যাপ্ত হাইড্রেশন তৈরি করে। যদি প্রোটিন গ্রহণ বেড়ে যায়, তাহলে পানির পরিমাণও বাড়াতে হবে। ২. ফাইবার কমানো : অনেকে প্রোটিন বাড়ানোর সঙ্গেসঙ্গে অজান্তেই প্লেট থেকে ফাইবার সরিয়ে ফেলেন। যেহেতু প্রোটিন শেক এবং পাউডারের ফাইবার খুব কম বা কোনো ফাইবার থাকে না, তাই পূর্ণ খাবারের পরিবর্তে খেলে পাচনতন্ত্রের সমস্যা হয়। পর্যাপ্ত ফাইবার এবং পর্যাপ্ত পানি ছাড়া হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। যে কারণে উচ্চ-প্রোটিন খাবারে কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ হয়ে ওঠে। সমস্যাটি প্রোটিন নয় বরং ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্য এবং ডালের অভাব যা অন্ত্রকে সচল রাখে। ৩. ফল এবং শাক-সবজি না খাওয়া : এটি সবচেয়ে উপেক্ষিত ভুলের মধ্যে একটি। কিছু প্রাণিজ প্রোটিন শরীরের খাদ্যতালিকায় অ্যাসিডের ভার বাড়ায়। ফল এবং শাক-সবজি এটি মোকাবিলা করতে সাহায্য করে কারণ সেগুলো পটাসিয়াম সরবরাহ করে। পটাসিয়াম হলো একটি খনিজ যা অ্যাসিডকে নিউট্রাল করে এবং শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখে। পটাসিয়ামের মাত্রা কম হলে পেট ফাঁপা, পেশীতে ক্র্যাম্প, রক্তচাপের ওঠানামা, কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। উচ্চ প্রোটিন কম পটাসিয়ামের সঙ্গে মিলিত হলে এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়।
জেনে নিন বিটরুটের হালুয়া তৈরির রেসিপি

জেনে নিন বিটরুটের হালুয়া তৈরির রেসিপি হালুয়ার স্বাদ কে না পছন্দ করেন! বিশেষ করে মিষ্টি খাবার খেতে যারা বেশি ভালোবাসেন, তাদের কাছে পছন্দের একটি পদ হলো হালুয়া। অতিথি আপ্যায়নে বা বিশেষ কোনো আয়োজনে থাকে নানা স্বাদের হালুয়া। সাধারণত আমাদের দেশে ছোলার ডাল কিংবা সুজির হালুয়া বেশি খাওয়া হয়। তবে আরও অনেক কিছু দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু হালুয়া। আজ চলুন জেনে নেওয়া যাক বিটরুটের হালুয়া তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে : বিটরুট- ১টি লবণ- ১ চিমটি সুজি- ১/২কাপ ময়দা- ১/২কাপ ঘি- ১/২ কাপ এলাচ- ২টি গুঁড়া দুধ- ৩ টেবিল চামচ পানি- পরিমাণমতো গোলাপ জল- ১/২চা চামচ কিশমিশ, বাদাম ও কোকোনাট পাউডার- সাজানোর জন্য। যেভাবে তৈরি করবেন প্রথমে বিটরুট ধুয়ে গ্রেট করে তারপর ব্লেন্ড করে নিন। এবার বিটের রসটুকু ছেঁকে নিন। একটি ননস্টিক কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে ময়দা ও সুজি একসঙ্গে মিশিয়ে অনবরত নেড়েচেড়ে ভেজে নিন। একটু লালচে ভাব হয়ে এলে তাতে বিটের রস, চিনি ও গুঁড়া দুধ মিশিয়ে নেড়েচেড়ে নিন। হালুয়া কড়াইয়ের গা ছেড়ে এলে গোলাপজল ও কাজু পেস্তা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর পছন্দমতো শেইপে কেটে নিন। উপরে কোকোনাট পাউডার ও কিশমিশ-বাদাম ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।
সুস্থ কিডনির রহস্য লুকিয়ে আছে যেসব খাবারে
সুস্থ কিডনির রহস্য লুকিয়ে আছে যেসব খাবারে রক্ত পরিশোধন, শরীরের বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিন) অপসারণ এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সামলায় কিডনি। তবে বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাপন আর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। কেবল পর্যাপ্ত পানি খেলেই কিডনি রক্ষা পায় না, প্রয়োজন সঠিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার হাতের কাছে থাকা কিছু সাধারণ খাবারই হতে পারে কিডনির সুরক্ষাকবচ। জেনে নিন কী কী রাখবেন আপনার দৈনন্দিন তালিকায়- ফুলকপি ও পেঁয়াজ : ডিটক্সের হাতিয়ার কিডনি থেকে টক্সিন বের করে দিতে ফুলকপির জুড়ি নেই। এটি ভিটামিন সি, ফোলেট এবং ফাইবার সমৃদ্ধ, যা শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়ায় দারুণ কাজ করে। অন্যদিকে, যারা পটাশিয়ামের ভয়ে সবজি বাছেন, তাদের জন্য পেঁয়াজ আদর্শ। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যেমন- অ্যাসিলিন ও কোয়ারসেটিন কিডনির ওপর চাপ কমিয়ে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফল যখন মহৌষধ : আপেল ও তরমুজ কিডনিকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণে দ্রুত কাজ করে। এছাড়া আপেলের উচ্চ ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শুধু কিডনির প্রদাহই কমায় না, বরং রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। তেল ও ভেষজ গুণ : রান্নায় স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস হিসেবে জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার কিডনি রোগীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। পাশাপাশি যারা ওজন কমাতে গ্রিন টি খান, তারা জেনে খুশি হবেন যে এটি কিডনির জন্য একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে কাজ করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাগুণ কিডনির কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রসুন ও সামুদ্রিক মাছ : প্রদাহবিরোধী বা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানে ঠাসা রসুন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়া খাদ্যতালিকায় স্যামন বা টুনার মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ রাখা জরুরি। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমিয়ে কিডনির সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।
এপস্টেইন আইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত গোপন কম্পাউন্ড

এপস্টেইন আইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত গোপন কম্পাউন্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত লিটল সেন্ট জেমস ও গ্রেট সেন্ট জেমস। এই দুই দ্বীপকে জেফরি এপস্টেইন পরিণত করেছিলেন একটি গোপন কম্পাউন্ডে। আর এখানেই তিনি মানবপাচারের শিকার নারী ও শিশুদের এনে আটক রাখতেন। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, দুটি দ্বীপ মিলিয়ে মোট আয়তন ছিল প্রায় ২৩৭ একর। বাহ্যিকভাবে দ্বীপগুলো ছিল অভিজাত অতিথিদের জন্য বিলাসী স্বর্গ। আদতে বাস্তবে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য এটি ছিল নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে ঘেরা এক ভয়াবহ ফাঁদ। দ্বীপগুলোর বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থাই জেফরি এপস্টেইনের কার্যক্রম পরিচালনাকে আরও সহজ করে তোলে। এই দ্বীপে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ভবন, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে অতিথিদের চলাফেরা ধারণ করার ব্যবস্থাও ছিল বলে জানা যায়। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, দ্বীপ দুটিতে ব্যক্তিগত জেট, হেলিপ্যাডসহ নানা বিলাসী সুবিধা থাকলেও সেগুলো পরিচালিত হতো কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দ্বীপগুলো কার্যত একটি ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের সাধারণ পর্যটকের ছদ্মবেশে সেন্ট থমাস বিমানবন্দর দিয়ে এই দ্বীপে আনা হতো। এরপর তাদের দ্বীপে নিয়ে গিয়ে বন্দী করে রাখা হতো। তারা বাইরের দুনিয়া থেকে ওই দ্বীপের মতো নির্জন আর একা হয়ে পড়তেন।
আকাশে দেখা গেল ফেব্রুয়ারির ‘স্নো মুন’, আসছে সুপারমুন ও চন্দ্রগ্রহণ

আকাশে দেখা গেল ফেব্রুয়ারির ‘স্নো মুন’, আসছে সুপারমুন ও চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশ সময় গত সোমবার ভোরে আকাশে দেখা গেছে ফেব্রুয়ারির পূর্ণিমা, যাকে ‘স্নো মুন’ নামে ডাকা হয়। উত্তর আমেরিকায় এ সময় তুষারপাত বেশি হয় বলে এই নামটি জনপ্রিয়। পূর্ণিমার চাঁদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেই দেখা যায়। বাংলাদেশে রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চাঁদ ছিল প্রায় পূর্ণিমার মতো উজ্জ্বল। আর্থস্কাই-এর তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণিমা সর্বোচ্চ উজ্জ্বল হয়েছিল রবিবার বিকাল ৫টা ৯ মিনিটে (ইস্টার্ন টাইম)। বাংলাদেশ সময় তা ছিল সোমবার ভোর ৪টা ৯ মিনিটে। ফলে দেশে চাঁদ দেখার সবচেয়ে ভালো সময় ছিল রবিবার রাত এবং সোমবার ভোর। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিজ্ঞানী নোয়া পেট্রো জানান, পূর্ণিমার সময় চাঁদের পৃষ্ঠে আলো-অন্ধকার অংশ খালি চোখেও দেখা যায়। টেলিস্কোপ বা দূরবীন ব্যবহার করলে চাঁদের গর্ত (ক্রেটার) ও বিভিন্ন গঠন আরও স্পষ্ট বোঝা সম্ভব। এদিকে আকাশপ্রেমীদের জন্য সামনে আরও কয়েকটি বড় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা রয়েছে। ফারমার্স অ্যালমানাকের তালিকা অনুযায়ী, ৩ মার্চ আবার পূর্ণিমা হবে (ওয়ার্ম মুন)। একই দিনে এশিয়া অঞ্চলের আকাশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যেতে পারে। চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ লালচে দেখাতে পারে, যাকে অনেকে ‘ব্লাড মুন’ (রক্তিম চাঁদ) বলেন। এছাড়া ২০২৬ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেখা যেতে পারে সুপারমুন ; চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি চলে এলে এটি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দৃশ্য উপভোগ করতে শহরের অতিরিক্ত আলো এড়িয়ে খোলা জায়গা বেছে নেওয়া ভালো। আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশ থেকেও এসব ঘটনা সহজে দেখা যাবে।
হঠাৎ চোখ কেঁপে ওঠা বা লাফালে করণীয় কী

হঠাৎ চোখ কেঁপে ওঠা বা লাফালে করণীয় কী হঠাৎ চোখ কেঁপে ওঠা বা লাফিয়ে ওঠা একটি পরিচিত, কিন্তু অনেকের কাছেই উদ্বেগজনক সমস্যার মধ্যে একটি। নারী-পুরুষ উভয়েরই অমূল্য সম্পদ হলো তাদের দুটি চোখ। এই চোখ দিয়েই আমরা রঙিন দুনিয়ার নানা দৃশ্য উপভোগ করি। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কোনো অজানা কারণে হঠাৎ চোখ কেঁপে ওঠে কেন? অনেকেই চোখ কাঁপাকে কোনো অঘটনের পূর্বাভাস বলে মনে করেন, যদিও বাস্তবে এর পেছনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে চোখের এই অনিয়ন্ত্রিত কাঁপা বা লাফিয়ে ওঠাকে বলা হয় মাইয়োকিমিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে এক-দুবার চোখ কাঁপা সাধারণত স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে যদি এটি অতিরিক্ত হয় বা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে অবশ্যই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চোখের পাতা কেঁপে ওঠার পেছনে কয়েকটি গুরুতর কারণ থাকতে পারে। মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বেশি ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে চোখ কাঁপতে পারে। এ ছাড়া বাতাসের ধুলাবালি, ময়লা, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসা কিংবা চোখে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সচেতন হলে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চোখের পাতা লাফালে প্রথমেই চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও অন্যান্য ডিজিটাল পর্দার ব্যবহার সীমিত করা উচিত এবং কম আলোয় চোখের কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করতে হবে এবং চা-কফির পরিমাণও কমিয়ে দেওয়া ভালো। দূষিত বাতাসের কারণে সমস্যা হলে রোদচশমা ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে। তবে গুরুতর দৃষ্টিগত সমস্যা, পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা কিংবা অ্যালার্জির কারণে যদি চোখ কাঁপা শুরু হয়, তাহলে অবশ্যই একজন দক্ষ চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। কারণ দৃষ্টিগত সমস্যায় ধীরে ধীরে চোখের জ্যোতি কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ভবিষ্যতে চোখের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। চোখের পাতা লাফালে প্রাথমিকভাবে পানি পান বাড়াতে হবে এবং প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে ডাব, দুধ, ডিম, বাদাম ও মৌসুমি ফলমূল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। পুষ্টির ভারসাম্যহীনতার কারণে চোখ কাঁপা শুরু হলে চিকিৎসকরা সাধারণত শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি রয়েছে বলে ধারণা করেন। এ ক্ষেত্রে সঠিক ডায়েট প্ল্যান ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চোখ কাঁপার মতো সমস্যার সম্মুখীন হলে দেরি না করে প্রথমেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাতেও উপকার না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। প্রফেসর ডা. সৈয়দ একে আজাদ লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন
রাতে চুল বেঁধে ঘুমানো কি ভালো?

রাতে চুল বেঁধে ঘুমানো কি ভালো? রাতে ঘুমানোর আগে অনেকেই চুল শক্ত করে বেঁধে ঘুমান। তারা মনে করেন চুল বেঁধে ঘুমালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। কিন্তু রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে চুল শক্ত করে বাঁধলে গোড়ায় টান পড়ে। এ কারণে চুল বেশি পরিমাণে ঝরে যায়। আবার পুরো খুলে রাখলেও বিপদ। বালিশের সঙ্গে ঘষে ঘষে চুলের ডগা ফেটে যেতে পারে। তাই চুল ভালো রাখতে হালকা পনিটেল বা ঢিলেঢালা বেণী করে ঘুমানো ভালো। এতে ঘষাঘষি কম হয়। জটও কম পড়বে। চাইলে স্যাটিন কাপড়ের হেয়ার ক্যাপ মাথায় পরে ঘুমোতে পারেন। এতে চুল আরও সুরক্ষিত থাকে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে হালকা হেয়ার সিরাম মাখতে পারেন। ঘরোয়া টোটকা হিসেবে মাখতে পারেন অ্যালোভেরা জেলও। ভেজা চুল নিয়ে কখনোই ঘুমাতে যাবেন না। তাতে চুল ঝরার পরিমাণ বেড়ে যায়। ঘুমানোর আগে স্যাটিনের হেয়ার ক্যাপ, বালিশের কভারও ব্যবহার করতে পারেন।
কুমড়ার বীজ বেশি খেলে শরীরে যা ঘটে

কুমড়ার বীজ বেশি খেলে শরীরে যা ঘটে কুমড়োর বীজ ছোট, মুচমুচে এবং একসঙ্গে অনেক খেলেও অরুচি হয় না, যার ফলে ইচ্ছার চেয়ে বেশি খাওয়া খুব সহজ হয়ে যায়। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থে ভরপুর এই বীজ পরিমিত পরিমাণে খেলে বেশ কিছু উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ পুষ্টিকর খাবারের মতো কুমড়ার বীজও একসঙ্গে বেশি খেয়ে ফেললে আমাদের শরীর অস্বস্তি বোধ করতে পারে। অতিরিক্ত কুমড়ার বীজ খাওয়ার ফলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কুমড়ার বীজ বেশি খেলে কী হয়- ১. পেট ফাঁপা এবং গ্যাস হতে পারে : কুমড়ার বীজে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা পরিমিত পরিমাণে খেলে হজমে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত ফাইবার অন্ত্রকে চাপে ফেলতে পারে, যার ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং পেটে চাপ তৈরি হয়। জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণকারীদের পেট ফাঁপা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ ফাইবার অন্ত্রে গাঁজন বৃদ্ধি করে এবং উপজাত হিসেবে গ্যাস তৈরি করে। ২. কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হতে পারে : কুমড়ার বীজ অতিরিক্ত খেলে স্বাভাবিক মলত্যাগ ব্যাহত হতে পারে কারণ এতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের ফাইবার থাকে। অত্যধিক অদ্রবণীয় ফাইবার অপাচ্য পদার্থকে খুব দ্রুত অন্ত্রের মধ্য দিয়ে ঠেলে দিতে পারে, যার ফলে আলগা মল তৈরি হয়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে একই ফাইবার বর্জ্য পদার্থকে শক্ত করে কোষ্ঠকাঠিন্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ৩. পেটে ক্র্যাম্প এবং বদহজম : কুমড়ার বীজের একটি শক্ত বাইরের স্তর থাকে এবং এতে চর্বি থাকে যা পেট ভেঙে ফেলতে বেশি সময় নেয়। একবারে অনেক বেশি খাওয়ার ফলে পেটে ক্র্যাম্প, ভারী হওয়া বা বদহজম হতে পারে। কুমড়ার বীজ উষ্ণ প্রকৃতির এবং সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রের লোকেদের অ্যাসিডিটি বা বদহজম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ৪. বেশি ক্যালোরি গ্রহণ : কুমড়ার বীজ পুষ্টিকর কিন্তু এতে ক্যালোরিও বেশি থাকে। এক কাপ ভাজা কুমড়ার বীজে প্রায় ২৮৫ ক্যালোরি থাকে, যা আপনার দৈনন্দিন চাহিদার চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়। যদি অতিরিক্ত খাওয়া অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে এই লুকানো ক্যালোরিগুলো ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। ৫. সোডিয়াম গ্রহণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে : অনেক প্যাকেজ করা কুমড়ার বীজ প্রচুর লবণাক্ত থাকে, যা অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চ সোডিয়াম গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ফলে পানি ধরে রাখা, পেটফাঁপা এবং তৃষ্ণার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সাময়িকভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে

পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে চুলের যত্নে পেঁয়াজের ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক আগে থেকে। এতে থাকা সালফার মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। হেয়ার ফলিকল মজবুত করে। এখন শুধু চুলের যত্নেই নয়, রূপচর্চায়ও ব্যবহৃত হচ্ছে এ উপাদান। রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা, তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে এর জন্য জানতে হবে পেঁয়াজের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং বলিরেখা দূর হবে। পেঁয়াজের রস ও মধু : পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। এই প্যাক মুখে মেখে মিনিট দশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক মাখলে যেমন ত্বকের পোরস পরিষ্কার হবে, তেমনই বাড়বে রক্ত সঞ্চালন। পেঁয়াজের রস ও টক দই : পেঁয়াজের রসের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে মুখে মাখলে আলাদা করে এক্সফোলিয়েট করার প্রয়োজন পড়বে না। ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই উঠে যাবে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। পেঁয়াজের রস ও লেবুস : দ্রুত ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ মুখে মেখে মিনিট দশেক অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা : শুষ্ক খসখসে ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়াতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন অ্যালোভেরা। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। পেঁয়াজের রস ও বেসন : তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা দূর করতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে বেসন মিশিয়ে নিন। এই প্যাক মুখে মাখুন। ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এই মিশ্রণ। ত্বকের টেক্সচারও ভালো করে।