রোজায় পানিশূন্যতার ভয়? যেভাবে সুস্থ থাকবেন

রোজায় পানিশূন্যতার ভয়? যেভাবে সুস্থ থাকবেন রোজায় হাইড্রেটেড থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রমজান মাসে বেশিরভাগ রোজাদারের ক্ষেত্রেই পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো ধরনের খাবার বা পানি গ্রহণ না করার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে কিছুটা পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে আপনি কিছু বিষয়ে সচেতন হলে রোজায় পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রমজানে পানিশূন্যতা রোধে কী করবেন- পর্যাপ্ত পানি পান করুন সেহরিতে কমপক্ষে ১-২ গ্লাস পানি পান করুন। কেবল ইফতারেই নয়, বরং রাতে যতটা সময় জেগে থাকবেন, কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করুন। তবে খাবার খাওয়ার মধ্যে বা সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পানি পান করবেন না। এতে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বরং খাবার খাওয়া ও পানি পানের মধ্যে অন্তত বিশ মিনিটের বিরতি রাখুন। যেসব খাবার বেশি খাবেন শসা, লেটুস এবং ফলের এর মতো পানি সমৃদ্ধ খাবার খান। অতিরিক্ত হাইড্রেশনের জন্য স্যুপ এবং মসুর ডাল জাতীয় খাবারও খেতে পারেন। এছাড়া বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর শরবত, স্মুদি ইত্যাদিও খেতে পারেন। ডাবের পানি রাখতে পারেন ইফতারে। এতে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি আরও অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপদান পাওয়া যাবে। ডিহাইড্রেশনের কারণ এড়িয়ে চলুন কিছু খাবার শরীরে পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে। সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন তরল খাবার হলেও চা, কোমল পানীয় কিংবা কফি রমজানে না খাওয়া কিংবা কম খাওয়াই ভালো। কারণ এগুলো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ। সেইসঙ্গে প্রস্রাবও বৃদ্ধি করে। প্রক্রিয়াজাত, ভাজা এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার গ্রহণ কমিয়ে দিন, যা তৃষ্ণা জাগায়। হালকা গরম পানি পান করুন হালকা গরম পানি পান করার অনেক উপকারিতা রয়েছে। ইফতারে আপনার ঠান্ডা শরবত খেতে ইচ্ছা হতেই পারে, তবে শরীরের ভালো জন্য হালকা গরম পানিই বেছে নিন। এই পানি আপনাকে হজমে সাহায্য করবে এবং শরীরকে বরফ-ঠান্ডা পানির চেয়ে তরল পদার্থ ভালোভাবে শোষণ করতে সাহায্য করবে।

ইফতারের পর অ্যাসিডিটি হয়? যা করবেন

ইফতারের পর অ্যাসিডিটি হয়? যা করবেন সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে নানান ধরনের খাবার খাওয়া হয়। মসলাদার খাবার, ডুবো তেলে ভাজা মুখরোচক খাবার খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে সচেতন থাকতে হবে। ইফতার ও সেহেরিতে মশলাদার ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তরল ও কম মশলাযুক্ত খাবার খেতে হবে। এছাড়াও খেতে হবে নির্দিষ্ট কিছু খাবার, যা অ্যাসিডিটি কমাতে সহায়ক। অ্যাসিডিটি দূর করতে কী খাবেন কলা তীব্র গ্যাস এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে খাদ্যতালিকায় কলা রাখুন। প্রতিদিন সেহরি বা ইফতারে একটি পাকা কলা খান। কলা পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে। এতে পটাসিয়াম ও প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড রয়েছে, যা পেটের আস্তরণকে আবৃত করে, অ্যাসিডিটির জ্বালাপোড়া কমায়। কলা হজম বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। ঠান্ডা দুধ ইফতারের পর অ্যাসিডিটি হলে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করুন। দুধ পেটের অ্যাসিডকে কমাতে সাহায্য করে। ঠান্ডা দুধ পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড কার্যকরভাবে শোষণ করে। তবে আপনার যদি ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স থাকে তাহলে দুধ পান না করাই ভালো। ডাবের পানি রোজায় অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগলে লেবুর শরবতের বদলে বেছে নিন প্রাকৃতিক পানীয়। সেটি হতে পারে ডাবের পানি। অ্যাসিডিটি কমাতে ডাবের পানি বিশেষভাবে কার্যকরী। ডাবের পানি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। সেইসঙ্গে এ পানিতে থাকে উপকারী মিনারেলসও। পুদিনা পাতা ইফতার করার পর অ্যাসিডিটি হলে কয়েকটি পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেয়ে নিন। চাইলে এক কাপ পানিতে কয়েকটি পুদিনা পাতা দিয়ে সেদ্ধ করে সেই পানিও পান করতে পারেন। এ পাতা অ্যাসিডিটি কমাতে সহায়ক। আদা অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে আদা কুচি করে কেটে লবণ দিয়ে খেতে পারেন। আদায় থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে সহায়ক। আদা খেতে অস্বস্তি লাগলে মৌরি চিবিয়ে খেতে পারেন। এটি পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশিতে প্রভাব ফেলে যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।

রোজায় সুস্থ থাকতে কী খাবেন

রোজায় সুস্থ থাকতে কী খাবেন রোজার সময়ে খাবারের রুটিন পুরোটাই বদলে যায়। তিনবেলা খাবারের বদলে তখন দুইবেলা খাবার প্রাধান্য পায়- সেহরি ও ইফতার। রোজায় কী খাবেন তা নির্ভর করে কোন খাবারগুলো আপনার শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে তার ওপর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পুষ্টিকর খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাতে সীমিত ক্যালোরি গ্রহণের পরেও আপনি সুস্থ ও সতেজ থাকতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় সুস্থ থাকতে কী খাবেন- প্রচুর প্রোটিন খান প্রোটিন এবং ওজন হ্রাস একসঙ্গে চলে। রোজার সময় প্রোটিন গ্রহণ বজায় রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শরীর চর্বি এবং কার্বোহাইড্রেটের মতো প্রোটিন ধরে রাখতে পারে না। এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখে, ওজন হ্রাসের সময় পেশী হ্রাস রোধ করে। সঠিকভাবে পুষ্ট এবং শক্তিশালী থাকার জন্য প্রতিদিন প্রস্তাবিত ৬০ গ্রাম বা তার বেশি প্রোটিন গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। মুরগির বুকের মাংস, ডিম, পনির, টক দই এবং বিভিন্ন ধরনের মাছ রাখতে পারেন খাবারের তালিকায়। ফাইবার ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক এবং বিশেষজ্ঞরা একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি আমাদের পাচনতন্ত্রকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। ফাইবারের রয়েছে অনেক উপকারিত। ছোলা, ফুলকপি, ব্রোকলি এবং মটরশুটি রাখতে পারেন খাবারের তালিকায়। স্বাস্থ্যকর চর্বি স্বাস্থ্যকর চর্বিতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ থাকে যেমন বি১২, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম এবং ওমেগা-৩। এগুলো আপনাকে শক্তি দিতে, রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং সুস্থ কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। যদিও স্বাস্থ্যকর চর্বিতে ক্যালোরি বেশি হতে পারে, তবুও রোজার সমেয় এগুলো খাবারের তালিকায় যোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো, বাদাম, জলপাই এবং তৈলাক্ত মাছ নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন।

ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন?

ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন? রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা সহজপাচ্য, পুষ্টিকর এবং শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে দই-চিড়া হতে পারে একটি চমৎকার স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এটি শুধু সুস্বাদু ও সহজপ্রস্তুত খাবারই নয়, বরং প্রচুর পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা শরীরের জন্য উপকারী। চলুন জেনে নিই দই চিড়ার উপকারিতা: ইফতারে চিড়া দই খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। এটি সহজপাচ্য, দ্রুত শক্তি প্রদানকারী, হজমে সহায়ক, পানিশূন্যতা দূরকারী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। যারা স্বাস্থ্যকর এবং হালকা কিছু খেতে চান, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ খাবার। চিড়া, যা শুকনো চাল থেকে তৈরি হয়, সহজে হজমযোগ্য এবং দ্রুত শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম। অন্যদিকে, দই প্রাকৃতিকভাবে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ একটি খাবার, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই দুই উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি চিড়া দই ইফতারের জন্য একদম সঠিক একটি খাবার, বিশেষত যারা স্বাস্থ্যসম্মত ও হালকা খাবার খেতে চান। দই- চিড়া খাওয়ার কারণ ও উপকারিতা তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে সারাদিন রোজা রাখার পর শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, কারণ শরীর দীর্ঘ সময় ধরে কোনো খাবার ও পানীয় পায় না। চিড়ায় প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) থাকে, যা দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। ফলে এটি ইফতারের জন্য একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। সহজে হজম হয় ও পাকস্থলীর জন্য আরামদায়ক অনেকেই ইফতারে ভারী ও তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন। চিড়া ও দই খুব সহজপাচ্য খাবার, যা হজমে সহায়তা করে এবং পাকস্থলীর জন্য আরামদায়ক। বিশেষ করে, দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান হজমশক্তি বাড়ায় ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমায়। পানিশূন্যতা দূর করে রমজানে দীর্ঘ সময় পানি পান না করার ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। দই শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করতে সাহায্য করে এবং ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখে। বিশেষ করে গরমের সময় রোজা রাখলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, যা পূরণ করতে দই বেশ কার্যকর। পেট ঠান্ডা রাখে ও অ্যাসিডিটি কমায় অনেকেই সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে ইফতারের সময় অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন। দই পাকস্থলীর জন্য একটি ঠান্ডা ও আরামদায়ক খাবার, যা গ্যাস্ট্রিক ও অম্লতার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্রোটিনের ভালো উৎস দই উচ্চমানের প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার, যা শরীরের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং পেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা রোজার সময়ও শারীরিক পরিশ্রম করেন বা ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য চিড়া দই একটি ভালো বিকল্প। এটি কম ক্যালোরিযুক্ত এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। হাড়ের জন্য উপকারী দইয়ে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে রোজার সময় শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ইফতারে দই খেলে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে (উৎসাহিত) করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া দইয়ের ভিটামিন ও মিনারেল শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়। ঘুম ভালো হয় ও মানসিক চাপ কমায় দইয়ে ট্রিপটোফ্যান নামে একটি উপাদান থাকে, যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে। রোজার সময় পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দই খাওয়া মানসিক প্রশান্তি আনতে পারে। তাই এই রমজানে তেল-মশলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর চিড়া দই রাখতে পারেন ইফতারিতে, যা আপনাকে সুস্থ ও সতেজ রাখবে।

রোজায় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে যা করবেন

রোজায় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে যা করবেন যদিও রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে তবে এর কারণে শরীর ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন- সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। মৃদু ব্যায়াম শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে। ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন। ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

ইফতারের পর শরীর ক্লান্ত লাগলে দূর করবেন যেভাবে

ইফতারের পর শরীর ক্লান্ত লাগলে দূর করবেন যেভাবে সারাদিন রোজার রাখার পর মাগরিবের আজান শুনে ইফতার করা হয়। টেবিলে সাজানো নানা পদের খাবার দেখে খাওয়ার আগ্রহ থাকে অনেক বেশি, কারণ আপনি সারাদিনের ক্ষুধার্ত। পেটপুরে মজার সব খাবার তো খেয়ে নিলেন, এরপর ভাবছেন মুহূর্তেই শক্তিশালী হয়ে যাবেন? আপনার প্রত্যাশা এমনটা থাকলেও আসলে তা হয় না। কারণ ইফতার খাওয়ার পরপরই আপনার ক্লান্ত লাগতে শুরু করে। একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে বেশি খাবার খেলে হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হয়ে যায়। তখন শরীরের রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রের দিকে চলে যায়, যাতে খাবার দ্রুত হজম হয়। ফলে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্নতা ও ক্লান্তি অনুভূত হয়। পানিশূন্যতা সারাদিন পানি না খাওয়ার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ইফতারে যদি পর্যাপ্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ক্লান্তি আরও বাড়ে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার ডুবো তেলে ভাজা খাবার, মসলাদার পদ ও অতিরিক্ত মিষ্টি শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এসব খাবার হজমে বেশি সময় নেয় এবং শরীরকে অবসন্ন করে তোলে। ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করার উপায় ধীরে ও পরিমিতভাবে খান- ইফতার শুরু করুন একটি খেজুর ও একগ্লাস পানি দিয়ে। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খান। এতে হজম সহজ হবে এবং শরীর ভারী লাগবে না। পানিশূন্যতা দূর করুন- ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সঙ্গে রাখতে পারেন ফল, ফলের রস, শরবত, ডাবের পানি। এগুলো শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। হালকা খাবার বেছে নিন- ভাজাপোড়া কমিয়ে ছোলা, ফল, সালাদ, স্যুপ বা হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এতে শক্তি মিলবে, কিন্তু অতিরিক্ত ভারী লাগবে না। এককাপ চা কিংবা কফি- ইফতারের কিছু সময় পর এক কাপ হালকা চা বা কফি পান করতে পারেন। এতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত বা খুব কড়া কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন- ইফতারের পরপরই শুয়ে পড়বেন না। ১০–১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয় এবং শরীর চাঙ্গা থাকে। নামাজ আদায় করুন- ইফতারের শুরুতে হালকা কিছু খেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে পারেন। এতে খাবার হজমের জন্য শরীর সময় পায়। নামাজ শেষে ধীরে ধীরে বাকি খাবার গ্রহণ করলে ক্লান্তি কম হয়। ইফতারের পর ক্লান্তি অনুভব করা স্বাভাবিক। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা শারীরিক নড়াচড়া এই সমস্যাকে অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। রমজানে সুস্থ থাকতে চাই সচেতনতা ও পরিমিত খাবার গ্রহণ।

ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি তৈরির রেসিপি

ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি তৈরির রেসিপি ইফতারে ঠান্ডা ঠান্ডা কোনো পানীয় না হলে কি চলে? অনেকে বাইরে থেকে কেনা ইন্সট্যান্ট শরবত গুলিয়ে খেয়ে থাকেন। এতে সাময়িক প্রশান্তি আর স্বাদ পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর বদলে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়ে স্মুদি তৈরি করে খেতে পারেন। তাতে যেমন প্রাণ জুড়াবে, তেমনই শরীরও ভালো থাকবে। আজ চলুন জেনে নেওয়া যাক, ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে : খেজুর- ১০-১২টি দুধ- ২ কাপ পাকা কলা- ২টি দই- ২ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া- ২ চা চামচ মধু- ২ চা চামচ বরফ- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন : প্রথমে পরিষ্কার ও গরম পানিতে খেজুরগুলো ভিজিয়ে রেখে নরম করে নিন। এবার পানি থেকে তুলে তার সঙ্গে কলা টুকরা করে মেশান। এরপর ব্লেন্ডারে সবগুলো উপকরণ নিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ভালোভাবে ব্লেন্ড করবেন যেন দানাদানা না থাকে। ব্লেন্ড হয়ে গেলে কাঁচের গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করবেন। উপরে বরফের টুকরা ছড়িয়ে দিন। এটি ইফতারের আগে আগে তৈরি করলে খেতে বেশি ভালোলাগবে। তৈরি করে বেশিক্ষণ রেখে দিলে স্বাদ পরিবর্তন হতে পারে।

ভালোবাসা দিবসে ভেঙে পড়েছে ইতালির বিখ্যাত ‘লাভার্স আর্চ’

ভালোবাসা দিবসে ভেঙে পড়েছে ইতালির বিখ্যাত ‘লাভার্স আর্চ’ ভালোবাসা দিবসে মানুষ আনন্দ আর স্মৃতির খোঁজে ছুটে যেতো ‘লাভার্স আর্চ’-এ। কিন্তু দিনটিতেই ভেঙে পড়ল ইতালির এই জনপ্রিয় পর্যটন স্থাপনা। ইতালির আদ্রিয়াটিক সাগর উপকূলে অবস্থিত বিখ্যাত পাথুরে কাঠামো ‘লাভার্স আর্চ’। ১৪ ফেব্রুয়ারি এটি হঠাৎ ধসে যায়। এই ঘটনা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘লাভার্স আর্চ’ ছিল প্রাকৃতিকভাবে তৈরি একটি পাথরের খিলান। এটি পুলিয়া অঞ্চলের মেলেনদুগ্নো শহরের কাছে সান্ত’আন্দ্রেয়া এলাকার অংশ। বহু বছর ধরে এটি প্রেমিক-প্রেমিকা ও নবদম্পতিদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হিসেবে স্বীকৃত। প্রেম বা বিয়ের প্রস্তাব, ছবি তোলা এবং ভ্রমণ স্মৃতির জন্য মানুষ এখানে ভিড় করত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্র উপকূলের ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানছিল। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের চাপেই শেষ পর্যন্ত পাথরের খিলানটি ভেঙে পড়ে। মেলেনদুগ্নোর মেয়র বলেন, এটি ভালোবাসা দিবসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত উপহার। তিনি জানান, এই ধস এলাকার ভাবমূর্তি ও পর্যটনের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি স্থাপনা ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়। উপকূলের আরও অনেক জায়গায় ফাটল দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ সামনে আরও ধসের আশঙ্কা রয়েছে। একে বলা হচ্ছে উপকূল ক্ষয় (সমুদ্রের ঢেউ ও আবহাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে ভূমি ভেঙে যাওয়া)। একই সময় ইতালির আয়োনিয়ান সাগর উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়ও বড় ক্ষতি হয়েছে। উজেন্তো থেকে গাল্লিপোলি পর্যন্ত দীর্ঘ সৈকত এলাকায় বালু সরে গেছে, ছোট পাহাড় ধসে পড়েছে এবং কিছু বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরে টানা খারাপ আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ ইতালিতে ক্ষতির পরিমাণ এক বিলিয়ন ইউরোর বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিসিলির নিসচেমি শহরে ভূমিধসের কারণে ১,৫০০-এর বেশি মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে।

প্রথম উদ্ভিদভোজী স্থলপ্রাণীর সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রথম উদ্ভিদভোজী স্থলপ্রাণীর সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে প্রাণের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে। বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এমন এক প্রাচীন প্রাণীর সন্ধান, যে ছিল গাছপালা খাওয়া স্থলপ্রাণীদের অন্যতম প্রথম সদস্য। প্রাণীটির আকার ছিল প্রায় একটি ফুটবলের মতো। এটি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াত প্রায় ৩০ কোটি ৭০ লাখ বছর আগে। এই প্রাণীর নাম Tyrannoroter heberti। সম্প্রতি গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ন্যাচার ইকোলোজি ইভোল্যুশন–এ। গবেষকদের মতে, এটি ছিল চার পা–ওয়ালা (টেট্রাপড অর্থাৎ চার অঙ্গবিশিষ্ট প্রাণী) স্থলপ্রাণীদের মধ্যে খুবই প্রাচীন একটি উদাহরণ। এই প্রাণীর মাথার হাড় পাওয়া গেছে কানাডার নোভা স্কশিয়ার কেপ ব্রেটন দ্বীপের একটি জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া গাছের গুঁড়ির ভেতর। স্থানীয় জীবাশ্মপ্রেমী ব্রায়ান হেবার্ট প্রথম এটি খুঁজে পান। তার নাম থেকেই প্রাণীটির নামকরণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীটির মুখ চওড়া ছিল এবং মুখের ভেতরে শক্ত ও মোটা দাঁত ছিল। এই দাঁতগুলো এমনভাবে সাজানো ছিল, যেন শক্ত গাছপালা ভালোভাবে চিবানো যায়। বিজ্ঞানীরা দাঁতের ক্ষয়চিহ্ন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন, এটি মূলত উদ্ভিদভোজী ছিল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা খুলি স্ক্যান করেন এবং থ্রি-ডি মডেল তৈরি করেন। এতে প্রাণীটির গঠন খুব কাছ থেকে বোঝা সম্ভব হয়। দেখতে এটি অনেকটা টিকটিকির মতো হলেও শরীর ছিল মোটা ও খাটো। গবেষকদের ধারণা, শুরুতে এই প্রাণী পোকামাকড় খেত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের ধরন বদলায় এবং ধীরে ধীরে গাছপালার ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। গাছপালা হজম করার জন্য এর পেট বড় ছিল এবং শরীরের ভেতরে উপকারী জীবাণু (যা খাবার হজমে সাহায্য করে) ছিল। এই আবিষ্কার থেকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন, স্থলে ওঠার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীরা গাছ খাওয়া শুরু করেছিল। অর্থাৎ স্থলজ জীবনের বিকাশ খুব দ্রুত ঘটেছিল। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশ শুকনো হয়ে গেলে অনেক গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। এতে এই ধরনের প্রাণীর খাবারের সংকট তৈরি হয় এবং এক সময় তারা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু শুরু। ভবিষ্যতে আরও জীবাশ্ম পাওয়া গেলে, স্থলপ্রাণীর বিবর্তন নিয়ে আরও নতুন তথ্য জানা যাবে।

বিশ্বের ৩ হাজারের বেশি হিমবাহ বিপজ্জনক গতিতে এগোচ্ছে

বিশ্বের ৩ হাজারের বেশি হিমবাহ বিপজ্জনক গতিতে এগোচ্ছে পাহাড়ের মাথায় জমে থাকা বিশাল বরফের স্তর—যাকে বলা হয় হিমবাহ। এই হিমবাহ হঠাৎ যদি খুব দ্রুত এগোতে শুরু করে, তাহলে কী হতে পারে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন ঘটনা এখন আর কল্পনা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যে হাজার হাজার হিমবাহ হঠাৎ গতিতে ছুটে চলেছে। এতে মানুষ ও পরিবেশ—দুটোই বড় ঝুঁকিতে পড়ছে। একটি নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ৩ হাজার ১০০টির বেশি হিমবাহে এই অস্বাভাবিক গতি দেখা গেছে। এর মধ্যে অন্তত ৮১টি হিমবাহকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব হিমবাহ হঠাৎ এগোলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ন্যাচার রিভিউস আর্থ এন্ড এনভাইরনমেন্ট (Nature Reviews Earth and Environment)-এ। গবেষণাটি করেছে যুক্তরাজ্যের University of Portsmouth। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এসব হিমবাহ মূলত আর্কটিক অঞ্চল, এশিয়ার উঁচু পাহাড়ি এলাকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালায় বেশি দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি হিমবাহের গতি বেড়েছে কারাকোরাম পর্বতমালায়। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এই ধরনের হিমবাহকে বলা হয় ‘সার্জিং গ্লেসিয়ার’। অর্থাৎ যেসব হিমবাহ সাধারণ সময়ের তুলনায় হঠাৎ অনেক দ্রুত চলতে শুরু করে। একজন বিজ্ঞানী বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে বলেন, এসব হিমবাহ অনেক দিন ধরে বরফ জমিয়ে রাখে, ঠিক সঞ্চয়ের মতো। এরপর হঠাৎ করে খুব দ্রুত সব বরফ এগিয়ে দেয়। এতে বড় বিপদ তৈরি হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমবাহের এই হঠাৎ গতি বাড়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কখন, কোথায় এবং কীভাবে এসব ঘটনা ঘটছে সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। এই ধরনের হিমবাহ ছয় ধরনের বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে—হিমবাহ হঠাৎ সামনে এগিয়ে যাওয়া, নদীর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, হিমবাহের নিচ থেকে হঠাৎ পানি বেরিয়ে আসা (বন্যার মতো), বরফের বিশাল অংশ ভেঙে পড়া, বরফে বড় বড় ফাটল তৈরি হওয়া এবং বড় বরফখণ্ড ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঘটনা পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। ঘরবাড়ি, রাস্তা ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখনই এসব হিমবাহের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। সময়মতো সতর্ক হলে বড় ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।