শরীরে ভিটামিনের অভাব? বুঝবেন যেভাবে

শরীরে ভিটামিনের অভাব? বুঝবেন যেভাবে আজকের এই দ্রুতগতির বিশ্বে যেখানে মানুষ প্রচুর প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়, অনেক সময় আবার ঠিকমতো খায় না এবং প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকে, সেখানে ভিটামিনের অভাব আরও সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠছে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এগুলো অলক্ষ্যে থেকে যায়। গুরুতর অসুস্থতার মতো এই সমস্যাগুলো সবসময় নিজেদের নিয়ে বড় ধরনের কোনো আওয়াজ তোলে না। অন্যদিকে, শরীর এমন কিছু নীরব সতর্ক সংকেত পাঠায় যা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়। সমস্যা হলো, এর লক্ষণগুলো সাধারণত মৃদু এবং খুব একটা সুনির্দিষ্ট নয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করাকে আরও কঠিন করে তোলে। এই পাঁচটি ছোট লক্ষণের অর্থ হতে পারে যে আপনার শরীরে ভিটামিনের অভাব রয়েছে- ১. সবসময় ক্লান্ত যদি আপনি পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন, তাহলে আপনি হয়তো পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ বা ভিটামিন ডি পাচ্ছেন না। এই পুষ্টি উপাদানগুলো স্নায়ু সচল রাখতে এবং শক্তি উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি এই প্রাথমিক লক্ষণটি উপেক্ষা করেন, তাহলে আপনি আরও বেশি ক্লান্ত বোধ করতে পারেন এবং কাজকর্মে কম সক্ষম হতে পারেন। এই আপাতদৃষ্টিতে ছোটখাটো সমস্যাগুলো ভিটামিনের অভাবের সতর্ক সংকেত হতে পারে, যা আমাদের মধ্যে অনেকেই ব্যস্ততার মাঝে উপেক্ষা করে থাকি। ২. চুল পড়া অল্প-স্বল্প চুল পড়া স্বাভাবিক, কিন্তু যদি এটি খুব বেশি বা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে এর কারণ হতে পারে আপনি পর্যাপ্ত আয়রন, বায়োটিন বা ভিটামিন ডি পাচ্ছেন না। চুলের গোড়ায় পুষ্টির একটি স্থির সরবরাহ প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্র ব্যাহত হতে পারে। ৩. মুখে বা ঠোঁটে ঘা বেশির ভাগ মানুষই মুখের কোণায় বারবার ফিরে আসা ঘা বা ফাটলের দিকে মনোযোগ দেয় না। কিন্তু এর মানে এও হতে পারে যে আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন, যেমন বি২, বি৬, এবং বি১২ পাচ্ছেন না। ত্বকে ওষুধ লাগালে হয়তো কিছুক্ষণের জন্য উপকার হতে পারে, কিন্তু আসল সমস্যাটি সাধারণত আরও গভীরে থাকে। ৪. হাতে ও পায়ে ঝিনঝিন করা হাতে-পায়ে কাঁটা ফোটার মতো অনুভূতি যা সহজে দূর হয় না, তাকে উপেক্ষা করবেন না। এটি একটি লক্ষণ হতে পারে যে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ না পাওয়ার কারণে আপনার স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর চিকিৎসা না করালে এটি আরও গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার কারণ হতে পারে। ৫. ফ্যাকাশে ত্বক এবং সহজে ভেঙে যাওয়া নখ যদি আপনার ত্বক অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে হয় বা আপনার নখ দুর্বল ও ভঙুর হয়, তাহলে আপনি হয়তো পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, ফোলেট বা ভিটামিন সি পাচ্ছেন না। এই পুষ্টি উপাদানগুলো রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

চৈত্র সংক্রান্তিতে পাতে যেসব খাবার রাখতে পারেন

চৈত্র সংক্রান্তিতে পাতে যেসব খাবার রাখতে পারেন আগামীকাল চৈত্রসংক্রান্তি, মানে চৈত্র মাসের শেষ তারিখ। একইসঙ্গে বাংলা বছরের শেষ দিন। এরপরদিন নতুন বছরের যাত্রা শুরু হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চৈত্রসংক্রান্তির খাবার ভিন্ন হয়ে থাকে। অমিল থাকলেও একটি জায়গায় সবাই এক, আর তা হলো এদিনে পাতে তিতা স্বাদের খাবার থাকে। ধারণা করা হয়, তিতা স্বাদ জীবনের কষ্ট, দুঃখ বা তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতীক। এই তিতা স্বাদের খাবার খেয়ে জীবনের সব স্বাদ (মিষ্টি, টক, তিতা) গ্রহণ করার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়াকে বোঝানো হয়। যাক সে কথা, এবারের চৈত্র সংক্রান্তিতে ঘরে কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করতে পারেন। কাঁচা কাঁঠালের তরকারি:চৈত্র সংক্রান্তির আরেকটি উল্লেখোগ্য খাবার কাঁঠালের তরকারি। কাঁচা কাঁঠালের নানা অংশ দিয়ে এই তরকারি রান্না করা হয়। গিমা শাক:গ্রামের গৃহিণীরা এ দিন গিমা শাক ও বেগুন দিয়ে তরকারি রান্না করেন। এ সব তরকারি খেতে দেওয়া হয় ব্রত পালনকারি নারীদের। নিম পাতা:নিমপাতা ও চাল ভেজে এক সঙ্গে খাওয়া চৈত্র সংক্রান্তির পুরনো ধারা। অনেকের ধারণা, এই খাবার খেলে সারা বছর সুস্থ থাকা সম্ভব। সজনের চচ্চড়ি : চৈত্র সংক্রান্তিতে অনেক বাড়িতে সজনে চচ্চড়ি রান্না হয়। তা দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। নিরামিষ তরকারি: ব্রত পালন করা নারীরা বিভিন্ন নিরামিষ তরকারি রান্না করেন। বিভিন্ন শাক দিয়ে এই রান্না করা হয়। তিতা ডাল : চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম খাবার তিতা ডাল। এটিই এই উৎসবের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত খাবার। নারকেল নাডু: এ দিন অনেক বাড়িতে নারকেলের নাডু বানানো হয়। অতিথি আপ্যায়নে চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম অনুসঙ্গ এই খাবার। চৈত্র সংক্রান্তিতে নকশী পিঠাও বানানো হয়।

স্ট্রবেরি জ্যাম তৈরির রেসিপি জেনে নিন

স্ট্রবেরি জ্যাম তৈরির রেসিপি জেনে নিন পাউরুটি কিংবা টোস্টের সঙ্গে জ্যাম মাখিয়ে খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এটি খুব আকর্ষণীয় একটি খাবার। বাইরে থেকে কেনা জ্যামের বদলে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন এই সুমিষ্ট পদ। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে স্ট্রবেরি। এই ফল দিয়ে জ্যাম তৈরি করে আপনি অনেকদিন সংরক্ষণ করতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, স্ট্রবেরি জ্যাম তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে স্ট্রবেরি- ১ কেজি চিনি- ৭৫০ গ্রাম লেবুর রস- ১টি।   যেভাবে তৈরি করবেন স্ট্রবেরিগুলো ধুয়ে টুকরা করে কেটে নিন। রান্নার পাত্রে স্ট্রবেরি, চিনি এবং লেবুর রস দিন। এবার মাঝারি আঁচে ফুটাতে থাকুন। ঘনঘন নাড়তে হবে যেন নিচে লেগে না যায়। এভাবে প্রায় আধা ঘণ্টা রান্না করতে হবে যতক্ষণ না মিশ্রণটি ঘন হয়ে আসে। উপরে ফেনা জমলে তা চামচের সাহায্যে তুলে ফেলুন। এ পর্যায়ে একটি প্লেটে কিছুটা জ্যাম তুলে রাখুন। যদি জমে যায় তাহলে বুঝবেন জ্যাম তৈরি। এবার নামিয়ে ঠান্ডা করে এয়ার টাইট বয়ামে সংরক্ষণ করুন।

গরমে হজমশক্তি বাড়ায় সজনে ডাঁটা

গরমে হজমশক্তি বাড়ায় সজনে ডাঁটা বসন্ত আগমনের সময় থেকেই বাজারে মিলছে সজনে ডাঁটা। মাছের তরকারি থেকে শুরু করে সরিষা দিয়ে সজনে ডাটা রান্না অনেকেরই পছন্দের। স্বাদের পাশাপাশি গরমের এই সবজিটি স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। সজনে ডাঁটায় প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, কপার, ফসফরাসের মতো নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এমনিতে বসন্ত আর গ্রীষ্মের মাঝখানের এই সময়টাতে সংক্রমণজনিত নানা সমস্যা বাড়ে। গ্রীষ্মে বিভিন্ন ধরনের অসুখের ঝুঁকি এড়াতে তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সজনে ডাঁটা রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। গরমে এই ডাঁটা খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়- পানিশূন্যতায় ঝুঁকি কমায় সজনে ডাঁটায় পানির পরিমাণ বেশি। এর ফলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে খেতে পারেন সজনে ডাঁটা। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতেও সজনে ডাঁটার ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিদিন এই ডাঁটা খেলে গরমে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে গরমে পেট খারাপ থেকে শুরু করে গ্যাস, অ্যাসিডিটিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শরীর থেকে অত্যধিক ঘাম বেরিয়ে যায় বলে, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও অনেকটা কমে যায়। সজনে ডাঁটায় থাকা পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন রোগের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি জোগায়। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডাঁটায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। হজমের সমস্যা কমে গরমে প্রায়ই হজমের সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সুস্থ থাকতে বাইরের খাবার খাওয়া এড়িয়ে জরুরি। সেই সঙ্গে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন সজনে ডাঁটা ।  পেটের সমস্যা কমাতে এই সবজির জুড়ি নেই।

কাঁচা কাঁঠালের কোফতা কারি তৈরির রেসিপি জেনে নিন

কাঁচা কাঁঠালের কোফতা কারি তৈরির রেসিপি জেনে নিন পাকা কাঁঠালই যে কেবল সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তা কিন্তু নয়, বরং আপনি এতদিনে কাঁচা কাঁঠালের অনেক গুণের কথাও জেনে থাকবেন। কাঁচা কাঁঠাল তো আর খেতে মিষ্টি কিংবা রসালো নয়, তাই এটি তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। চিংড়ি দিয়ে কাঁচা কাঁঠালের ভুনা কিংবা মাংসের সঙ্গে কাঁচা কাঁঠাল খাওয়া হয়েছে নিশ্চয়ই? এবার তবে জেনে নেন কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে কোফতা কারি তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে সেদ্ধ করা কাঁচা কাঁঠাল- ১ কাপ সেদ্ধ আলু- ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি- ২টি ধনিয়া পাতা কুচি- ২ টেবিল চামচ কাঁচা মরিচ কুচি- ৪টি জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ বেসন- ২ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া- ১ চা চামচ মরিচ গুঁড়া- ১ চা চামচ জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া- ১ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়া- ১ চা চামচ আদা বাটা- ১ চা চামচ রসুন বাটা- ১ চা চামচ পেঁয়াজ বাটা- ১ টেবিল চামচ আস্ত জিরা- ১ চা চামচ তেল- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন সেদ্ধ করে রাখা কাঁচা কাঁঠাল ও আলুর সঙ্গে লবণ, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনিয়াপাতা কুচি ও বেসন দিয়ে মেখে গোল গোল করে তেলে ভেজে তুলে রাখুন। এবার কড়াইতে বাকি তেলে আস্ত জিরা ফোড়ন দিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিন। পেঁয়াজ সোনালি হয়ে এলে তাতে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। কষানো হলে তাতে পরিমাণমতো পানি দিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে কোফতা দিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। ঝোল গাঢ় হয়ে উপরে তেল ভেসে উঠলে গরম মসলা গুঁড়া ও ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রকৃতি

মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রকৃতি নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—পৃথিবী এখন মানুষের চাহিদার চাপ সামলাতে প্রায় সীমায় পৌঁছে গেছে। বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮৩০ কোটি। কিন্তু গবেষকদের মতে, প্রকৃতি যত দ্রুত নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে, মানুষ তার চেয়ে অনেক দ্রুত সম্পদ ব্যবহার করছে ফ্লাইন্ডারস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কোরি ব্র্যাডশ’র নেতৃত্বে করা এই গবেষণা এনভাইরনমেন্টাল রিসার্স লেটারস -এ প্রকাশিত হয়েছে। দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, বর্তমানে মানুষের পরিবেশগত চাপ পৃথিবীর জৈব সক্ষমতার (প্রকৃতি যত সম্পদ পুনরায় তৈরি করতে পারে) তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। সহজভাবে বললে, বর্তমান জীবনধারা টিকিয়ে রাখতে পৃথিবীর মতো প্রায় ১.৮টি গ্রহ দরকার। গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালের পর জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করলে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে যে ভারসাম্য ছিল, তা ভেঙে যায়। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘নেতিবাচক জনসংখ্যাগত ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৬০-এর শেষ ভাগ বা ২০৭০-এর দিকে বিশ্ব জনসংখ্যা ১,১৭০ থেকে ১,২৪০ কোটির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। অধ্যাপক ব্র্যাডশ বলেন, পৃথিবী এখন যেভাবে সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আর বহন করতে পারছে না। এতে পরিবেশগত ঋণ (প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত চাপ), জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশের ক্ষয় দ্রুত বাড়ছে। গবেষকদের মতে, যদি সবাই পরিবেশের সীমার মধ্যে থেকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ জীবনযাপন করতে চায়, তাহলে টেকসই বিশ্ব জনসংখ্যা হওয়া উচিত প্রায় ২৫০ কোটি। সমাধান হিসেবে তারা শিক্ষার প্রসার, পরিবার পরিকল্পনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার, টেকসই নগর পরিকল্পনা এবং খাদ্য উৎপাদন ও ভোগব্যবস্থায় সংস্কারের কথা বলেছেন। গবেষকদের সতর্কবার্তা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংকট আরও গভীর হবে। তবে দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলে এখনো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

কুকুরছানাকে ‘স্কুলে’ ভর্তি, খরচ ২ লাখ টাকা !

কুকুরছানাকে ‘স্কুলে’ ভর্তি, খরচ ২ লাখ টাকা ! চীনে পোষা প্রাণির প্রতি ভালোবাসা আর যত্নের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক তরুণী। নিজের ছয় মাস বয়সী সাদা রঙের স্যাময়েড প্রজাতির কুকুরছানাকে তিনি ভর্তি করেছেন একটি বিশেষ কিন্ডারগার্টেনে-যেখানে পোষা প্রাণিদের আচরণ ও সামাজিক দক্ষতা শেখানো হয়। এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই লাখ টাকারও বেশি। তবে এটি শুধু সাধারণ দেখাশোনার জন্য নয় বরং এখানে কুকুরছানাটির জন্য রয়েছে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা। এই প্যাকেজের আওতায় প্রথমেই কুকুরছানাটির আচরণগত মূল্যায়ন করা হয়। তার স্বভাব, মেজাজ ও প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে সে অযথা ঘেউ ঘেউ না করে কিংবা আক্রমণাত্মক আচরণ না করে। পাশাপাশি অন্য প্রাণিদের সঙ্গে মিশে চলার দক্ষতাও শেখানো হয় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে। প্রতিদিন কুকুরছানাটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা এবং আবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে এই সেবায়। খাবারের ব্যবস্থাও আছে, তবে এর জন্য অতিরিক্ত খরচ দিতে হয়। এছাড়া মালিকরা অনলাইনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তাদের পোষা প্রাণীর ওপর নজর রাখতে পারেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে।কুকুরছানাটির মালিক, যিনি নিজের পরিচয় তাওতাও নামে জানিয়েছেন। তিনি বলেন- কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি তার পোষা প্রাণিকে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। তাই এই বিশেষ সেবাটি বেছে নিয়েছেন। চীনে এ ধরনের পোষা প্রাণির ‘কিন্ডারগার্টেন’ এখন আর নতুন কিছু নয়। নগর জীবনে অনেকেই পোষা প্রাণিকে পরিবারের সদস্যের মতো দেখেন, ফলে তাদের জন্য উন্নত সেবা গ্রহণের প্রবণতাও দ্রুত বাড়ছে। চায়না পেট ইন্ডাস্ট্রি হোয়াইট পেপার-২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে ২০২৫ সালে শহুরে পোষা প্রাণি শিল্পের বাজার প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ কোটি ইউয়ানে (প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলার) পৌঁছেছে। আগামী বছরগুলোতে তা আরও বড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে কি পুষ্টিগুণ কমে যায়

মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে কি পুষ্টিগুণ কমে যায় রোজকার ব্যস্ত জীবনে মাইক্রোওয়েভ যেন অনেকটা স্বস্তির নাম। সময় বাঁচাতে অনেকেই একদিন বেশি খাবার রান্না করে ফ্রিজে রেখে দেন। ফ্রিজ থেকে প্রয়োজন মতো খাবার বের করে গরম করে খেয়ে নেন। অধিকাংশ মায়েরা শিশুর খাবারও ওভেনে গরম করেন। মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে পুষ্টিগুণ কমে যায়, এই ধারণা অনেকেরই থাকে। ভারতীয় শিশুরোগ চিকিৎসক অর্পণ সাহা বলেন, ‘‘মাইক্রোওয়েভে ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের জন্য খাবার গরম গরলে কোনো অসুবিধা হয় না। যদি দুই থেকে তিন মিনিটের বেশি গরম করা হয়, তাহলে ভিটামিন সি আর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স একটু হলেও কমে। তাই খাবারের পুষ্টিগুণ অনেকটা কমে যায়, এ কথা বলা যায় না। অনেকেই মনে করেন মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ভারতীয় চিকিৎসকদের মতে, এমন ধারণাও ভুল। মাইক্রোওয়েভ থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় তা নন-আয়োনাইজিং, যা খাবারে থাকা জলীয় পদার্থকে গরম করে। এই রেডিয়েশন থেকে কোনো রকম রেডিয়োঅ্যাক্টিভিটি বা ক্যানসারের ঝুঁকি নেই। মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন – ভুলেও কোনো রকম প্লাস্টিকের প্লেট বা বাটিতে খাবার গরম করবেন না। খাবার গরম করুন কাচের পাত্রে। খুব বেশি সময় ধরে খাবার গরম করবেন না। অল্প সময়ের জন্য খাবার গরম করুন। ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য প্রথমে গরম করুন। তারপর কিছুক্ষণ রেখে আবারও ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড গরম করুন। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে শিশুর খাবার গরম করার পর ভালো করে মিশিয়ে তারপর শিশুকে খাওয়াবেন। অনেক সময় মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করার সময় কিছু কিছু জায়গায় বেশি গরম হয়ে যায়, কিছু জায়গা একেবারে ঠান্ডা থাকে। তাই গরম খাবারে যেন শিশুর জিভ পুড়ে না যায়, সেদিকে সতর্ক থাকুন।

তরমুজ-সাবুদানার ডেজার্ট তৈরির রেসিপি জেনে নিন

তরমুজ-সাবুদানার ডেজার্ট তৈরির রেসিপি জেনে নিন এই গরমে প্রাণ জুড়াতে ঠান্ডা ও সুস্বাদু কিছু খুঁজছেন নিশ্চয়ই? বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তরমুজ। এই ফল দিয়ে নানা ধরনের ডেজার্ট তৈরি করা যায়। সেসব ডেজার্ট খেতে দারুণ সুস্বাদু। আপনি কি কখনো তরমুজ-সাবুদানার ডেজার্ট তৈরি করেছেন? এটি তৈরি করা খুবই সহজ এবং খেতেও ভীষণ মজাদার। চলুন জেনে নেওয়া যাক তরমুজ-সাবুদানার ডেজার্ট তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে কিউব করে কাটা তরমুজ- ১ কাপ সেদ্ধ করা সাবুদানা- ১/২ কাপ দুধ- আধা লিটার কিউব করা যেকোনো জেলি- ১ কাপ রুহ আফজা- ৩ টেবিল চামচ কনডেন্সড মিল্ক- পরিমাণমতো বাদাম কুচি- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন সাবুদানা সেদ্ধ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। দুধ জ্বাল দিয়ে তাতে কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে নিন ঠান্ডা করে নিন। এবার একটি পাত্রে ঠান্ডা দুধ, সাবুদানা, জেলি ও রুহ আফজা মিশিয়ে নিন। সবার শেষে তাতে যোগ করুন কিউব করে কাটা তরমুজ। এরপর ফ্রিজে রেখে ভালো করে ঠান্ডা করে নিন। উপরে বাদাম কুচি সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ইতালি থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে ১২ টন কিটক্যাট চুরি

ইতালি থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে ১২ টন কিটক্যাট চুরি বিশ্বখ্যাত চকোলেট ব্র্যান্ড কিটক্যাটের এক বিশাল চালান রহস্যজনকভাবে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী জায়ান্ট কোম্পানি ‘নেসলে’ নিশ্চিত করেছে যে, প্রায় ১২ টন ওজনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি কিটক্যাট বারসহ একটি ট্রাক নিখোঁজ হয়েছে। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, বিশাল এই চকোলেটের চালান নিয়ে ট্রাকটি মধ্য ইতালির কারখানা থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যেই এটি উধাও হয়ে যায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ট্রাক বা মালামাল—কোনোটিরই হদিস পায়নি কর্তৃপক্ষ। ঠিক কোন স্থান থেকে ট্রাকটি নিখোঁজ হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রকাশ করেনি নেসলে। কিটক্যাটের বিখ্যাত বিজ্ঞাপন স্লোগান ‘হ্যাভ এ ব্রেক’ (একটু বিরতি নিন)-এর দিকে ইঙ্গিত করে নেসলের এক মুখপাত্র রসিকতা করে বলেন,‘আমরা মানুষকে কিটক্যাট দিয়ে বিরতি নিতে উৎসাহিত করি কিন্তু চোরেরা এই বার্তাটিকে একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলেছে এবং ১২ টন চকোলেট নিয়ে চম্পট দিয়েছে!’ তবে রসিকতার আড়ালে বড় উদ্বেগের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। এই চুরির ফলে ইউরোপের কিছু দেশের সুপারমার্কেটে কিটক্যাটের নতুন রেঞ্জের সংকট দেখা দিতে পারে। চুরি হওয়া এই চকোলেটগুলো অবৈধ বাজারে বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নেসলে জানিয়েছে, প্রতিটি প্যাকেটে থাকা অনন্য ‘ব্যাচ কোড’ স্ক্যান করে এই পণ্যগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। যদি কোনো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে এই কোড স্ক্যান করা হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিটক্যাট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। নেসলে এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ‘কার্গো চুরি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটির মতে, কার্গো চুরি বর্তমানে সব ধরনের ব্যবসার জন্যই একটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।