গরমে হজমশক্তি বাড়ায় সজনে ডাঁটা

গরমে হজমশক্তি বাড়ায় সজনে ডাঁটা বসন্ত আগমনের সময় থেকেই বাজারে মিলছে সজনে ডাঁটা। মাছের তরকারি থেকে শুরু করে সরিষা দিয়ে সজনে ডাটা রান্না অনেকেরই পছন্দের। স্বাদের পাশাপাশি গরমের এই সবজিটি স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। সজনে ডাঁটায় প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, কপার, ফসফরাসের মতো নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এমনিতে বসন্ত আর গ্রীষ্মের মাঝখানের এই সময়টাতে সংক্রমণজনিত নানা সমস্যা বাড়ে। গ্রীষ্মে বিভিন্ন ধরনের অসুখের ঝুঁকি এড়াতে তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সজনে ডাঁটা রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। গরমে এই ডাঁটা খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়- পানিশূন্যতায় ঝুঁকি কমায় সজনে ডাঁটায় পানির পরিমাণ বেশি। এর ফলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে খেতে পারেন সজনে ডাঁটা। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতেও সজনে ডাঁটার ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিদিন এই ডাঁটা খেলে গরমে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে গরমে পেট খারাপ থেকে শুরু করে গ্যাস, অ্যাসিডিটিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শরীর থেকে অত্যধিক ঘাম বেরিয়ে যায় বলে, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও অনেকটা কমে যায়। সজনে ডাঁটায় থাকা পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন রোগের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি জোগায়। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডাঁটায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। হজমের সমস্যা কমে গরমে প্রায়ই হজমের সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সুস্থ থাকতে বাইরের খাবার খাওয়া এড়িয়ে জরুরি। সেই সঙ্গে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন সজনে ডাঁটা । পেটের সমস্যা কমাতে এই সবজির জুড়ি নেই।
কাঁচা কাঁঠালের কোফতা কারি তৈরির রেসিপি জেনে নিন

কাঁচা কাঁঠালের কোফতা কারি তৈরির রেসিপি জেনে নিন পাকা কাঁঠালই যে কেবল সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তা কিন্তু নয়, বরং আপনি এতদিনে কাঁচা কাঁঠালের অনেক গুণের কথাও জেনে থাকবেন। কাঁচা কাঁঠাল তো আর খেতে মিষ্টি কিংবা রসালো নয়, তাই এটি তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। চিংড়ি দিয়ে কাঁচা কাঁঠালের ভুনা কিংবা মাংসের সঙ্গে কাঁচা কাঁঠাল খাওয়া হয়েছে নিশ্চয়ই? এবার তবে জেনে নেন কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে কোফতা কারি তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে সেদ্ধ করা কাঁচা কাঁঠাল- ১ কাপ সেদ্ধ আলু- ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি- ২টি ধনিয়া পাতা কুচি- ২ টেবিল চামচ কাঁচা মরিচ কুচি- ৪টি জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ বেসন- ২ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া- ১ চা চামচ মরিচ গুঁড়া- ১ চা চামচ জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া- ১ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়া- ১ চা চামচ আদা বাটা- ১ চা চামচ রসুন বাটা- ১ চা চামচ পেঁয়াজ বাটা- ১ টেবিল চামচ আস্ত জিরা- ১ চা চামচ তেল- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন সেদ্ধ করে রাখা কাঁচা কাঁঠাল ও আলুর সঙ্গে লবণ, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনিয়াপাতা কুচি ও বেসন দিয়ে মেখে গোল গোল করে তেলে ভেজে তুলে রাখুন। এবার কড়াইতে বাকি তেলে আস্ত জিরা ফোড়ন দিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিন। পেঁয়াজ সোনালি হয়ে এলে তাতে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। কষানো হলে তাতে পরিমাণমতো পানি দিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে কোফতা দিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। ঝোল গাঢ় হয়ে উপরে তেল ভেসে উঠলে গরম মসলা গুঁড়া ও ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রকৃতি

মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রকৃতি নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—পৃথিবী এখন মানুষের চাহিদার চাপ সামলাতে প্রায় সীমায় পৌঁছে গেছে। বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮৩০ কোটি। কিন্তু গবেষকদের মতে, প্রকৃতি যত দ্রুত নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে, মানুষ তার চেয়ে অনেক দ্রুত সম্পদ ব্যবহার করছে ফ্লাইন্ডারস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কোরি ব্র্যাডশ’র নেতৃত্বে করা এই গবেষণা এনভাইরনমেন্টাল রিসার্স লেটারস -এ প্রকাশিত হয়েছে। দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, বর্তমানে মানুষের পরিবেশগত চাপ পৃথিবীর জৈব সক্ষমতার (প্রকৃতি যত সম্পদ পুনরায় তৈরি করতে পারে) তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। সহজভাবে বললে, বর্তমান জীবনধারা টিকিয়ে রাখতে পৃথিবীর মতো প্রায় ১.৮টি গ্রহ দরকার। গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালের পর জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করলে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে যে ভারসাম্য ছিল, তা ভেঙে যায়। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘নেতিবাচক জনসংখ্যাগত ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৬০-এর শেষ ভাগ বা ২০৭০-এর দিকে বিশ্ব জনসংখ্যা ১,১৭০ থেকে ১,২৪০ কোটির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। অধ্যাপক ব্র্যাডশ বলেন, পৃথিবী এখন যেভাবে সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আর বহন করতে পারছে না। এতে পরিবেশগত ঋণ (প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত চাপ), জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশের ক্ষয় দ্রুত বাড়ছে। গবেষকদের মতে, যদি সবাই পরিবেশের সীমার মধ্যে থেকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ জীবনযাপন করতে চায়, তাহলে টেকসই বিশ্ব জনসংখ্যা হওয়া উচিত প্রায় ২৫০ কোটি। সমাধান হিসেবে তারা শিক্ষার প্রসার, পরিবার পরিকল্পনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার, টেকসই নগর পরিকল্পনা এবং খাদ্য উৎপাদন ও ভোগব্যবস্থায় সংস্কারের কথা বলেছেন। গবেষকদের সতর্কবার্তা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংকট আরও গভীর হবে। তবে দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলে এখনো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
কুকুরছানাকে ‘স্কুলে’ ভর্তি, খরচ ২ লাখ টাকা !

কুকুরছানাকে ‘স্কুলে’ ভর্তি, খরচ ২ লাখ টাকা ! চীনে পোষা প্রাণির প্রতি ভালোবাসা আর যত্নের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক তরুণী। নিজের ছয় মাস বয়সী সাদা রঙের স্যাময়েড প্রজাতির কুকুরছানাকে তিনি ভর্তি করেছেন একটি বিশেষ কিন্ডারগার্টেনে-যেখানে পোষা প্রাণিদের আচরণ ও সামাজিক দক্ষতা শেখানো হয়। এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই লাখ টাকারও বেশি। তবে এটি শুধু সাধারণ দেখাশোনার জন্য নয় বরং এখানে কুকুরছানাটির জন্য রয়েছে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা। এই প্যাকেজের আওতায় প্রথমেই কুকুরছানাটির আচরণগত মূল্যায়ন করা হয়। তার স্বভাব, মেজাজ ও প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে সে অযথা ঘেউ ঘেউ না করে কিংবা আক্রমণাত্মক আচরণ না করে। পাশাপাশি অন্য প্রাণিদের সঙ্গে মিশে চলার দক্ষতাও শেখানো হয় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে। প্রতিদিন কুকুরছানাটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা এবং আবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে এই সেবায়। খাবারের ব্যবস্থাও আছে, তবে এর জন্য অতিরিক্ত খরচ দিতে হয়। এছাড়া মালিকরা অনলাইনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তাদের পোষা প্রাণীর ওপর নজর রাখতে পারেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে।কুকুরছানাটির মালিক, যিনি নিজের পরিচয় তাওতাও নামে জানিয়েছেন। তিনি বলেন- কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি তার পোষা প্রাণিকে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। তাই এই বিশেষ সেবাটি বেছে নিয়েছেন। চীনে এ ধরনের পোষা প্রাণির ‘কিন্ডারগার্টেন’ এখন আর নতুন কিছু নয়। নগর জীবনে অনেকেই পোষা প্রাণিকে পরিবারের সদস্যের মতো দেখেন, ফলে তাদের জন্য উন্নত সেবা গ্রহণের প্রবণতাও দ্রুত বাড়ছে। চায়না পেট ইন্ডাস্ট্রি হোয়াইট পেপার-২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে ২০২৫ সালে শহুরে পোষা প্রাণি শিল্পের বাজার প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ কোটি ইউয়ানে (প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলার) পৌঁছেছে। আগামী বছরগুলোতে তা আরও বড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে কি পুষ্টিগুণ কমে যায়

মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে কি পুষ্টিগুণ কমে যায় রোজকার ব্যস্ত জীবনে মাইক্রোওয়েভ যেন অনেকটা স্বস্তির নাম। সময় বাঁচাতে অনেকেই একদিন বেশি খাবার রান্না করে ফ্রিজে রেখে দেন। ফ্রিজ থেকে প্রয়োজন মতো খাবার বের করে গরম করে খেয়ে নেন। অধিকাংশ মায়েরা শিশুর খাবারও ওভেনে গরম করেন। মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে পুষ্টিগুণ কমে যায়, এই ধারণা অনেকেরই থাকে। ভারতীয় শিশুরোগ চিকিৎসক অর্পণ সাহা বলেন, ‘‘মাইক্রোওয়েভে ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের জন্য খাবার গরম গরলে কোনো অসুবিধা হয় না। যদি দুই থেকে তিন মিনিটের বেশি গরম করা হয়, তাহলে ভিটামিন সি আর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স একটু হলেও কমে। তাই খাবারের পুষ্টিগুণ অনেকটা কমে যায়, এ কথা বলা যায় না। অনেকেই মনে করেন মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ভারতীয় চিকিৎসকদের মতে, এমন ধারণাও ভুল। মাইক্রোওয়েভ থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় তা নন-আয়োনাইজিং, যা খাবারে থাকা জলীয় পদার্থকে গরম করে। এই রেডিয়েশন থেকে কোনো রকম রেডিয়োঅ্যাক্টিভিটি বা ক্যানসারের ঝুঁকি নেই। মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন – ভুলেও কোনো রকম প্লাস্টিকের প্লেট বা বাটিতে খাবার গরম করবেন না। খাবার গরম করুন কাচের পাত্রে। খুব বেশি সময় ধরে খাবার গরম করবেন না। অল্প সময়ের জন্য খাবার গরম করুন। ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য প্রথমে গরম করুন। তারপর কিছুক্ষণ রেখে আবারও ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড গরম করুন। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে শিশুর খাবার গরম করার পর ভালো করে মিশিয়ে তারপর শিশুকে খাওয়াবেন। অনেক সময় মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করার সময় কিছু কিছু জায়গায় বেশি গরম হয়ে যায়, কিছু জায়গা একেবারে ঠান্ডা থাকে। তাই গরম খাবারে যেন শিশুর জিভ পুড়ে না যায়, সেদিকে সতর্ক থাকুন।
তরমুজ-সাবুদানার ডেজার্ট তৈরির রেসিপি জেনে নিন

তরমুজ-সাবুদানার ডেজার্ট তৈরির রেসিপি জেনে নিন এই গরমে প্রাণ জুড়াতে ঠান্ডা ও সুস্বাদু কিছু খুঁজছেন নিশ্চয়ই? বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তরমুজ। এই ফল দিয়ে নানা ধরনের ডেজার্ট তৈরি করা যায়। সেসব ডেজার্ট খেতে দারুণ সুস্বাদু। আপনি কি কখনো তরমুজ-সাবুদানার ডেজার্ট তৈরি করেছেন? এটি তৈরি করা খুবই সহজ এবং খেতেও ভীষণ মজাদার। চলুন জেনে নেওয়া যাক তরমুজ-সাবুদানার ডেজার্ট তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে কিউব করে কাটা তরমুজ- ১ কাপ সেদ্ধ করা সাবুদানা- ১/২ কাপ দুধ- আধা লিটার কিউব করা যেকোনো জেলি- ১ কাপ রুহ আফজা- ৩ টেবিল চামচ কনডেন্সড মিল্ক- পরিমাণমতো বাদাম কুচি- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন সাবুদানা সেদ্ধ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। দুধ জ্বাল দিয়ে তাতে কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে নিন ঠান্ডা করে নিন। এবার একটি পাত্রে ঠান্ডা দুধ, সাবুদানা, জেলি ও রুহ আফজা মিশিয়ে নিন। সবার শেষে তাতে যোগ করুন কিউব করে কাটা তরমুজ। এরপর ফ্রিজে রেখে ভালো করে ঠান্ডা করে নিন। উপরে বাদাম কুচি সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
ইতালি থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে ১২ টন কিটক্যাট চুরি

ইতালি থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে ১২ টন কিটক্যাট চুরি বিশ্বখ্যাত চকোলেট ব্র্যান্ড কিটক্যাটের এক বিশাল চালান রহস্যজনকভাবে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী জায়ান্ট কোম্পানি ‘নেসলে’ নিশ্চিত করেছে যে, প্রায় ১২ টন ওজনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি কিটক্যাট বারসহ একটি ট্রাক নিখোঁজ হয়েছে। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, বিশাল এই চকোলেটের চালান নিয়ে ট্রাকটি মধ্য ইতালির কারখানা থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যেই এটি উধাও হয়ে যায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ট্রাক বা মালামাল—কোনোটিরই হদিস পায়নি কর্তৃপক্ষ। ঠিক কোন স্থান থেকে ট্রাকটি নিখোঁজ হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রকাশ করেনি নেসলে। কিটক্যাটের বিখ্যাত বিজ্ঞাপন স্লোগান ‘হ্যাভ এ ব্রেক’ (একটু বিরতি নিন)-এর দিকে ইঙ্গিত করে নেসলের এক মুখপাত্র রসিকতা করে বলেন,‘আমরা মানুষকে কিটক্যাট দিয়ে বিরতি নিতে উৎসাহিত করি কিন্তু চোরেরা এই বার্তাটিকে একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলেছে এবং ১২ টন চকোলেট নিয়ে চম্পট দিয়েছে!’ তবে রসিকতার আড়ালে বড় উদ্বেগের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। এই চুরির ফলে ইউরোপের কিছু দেশের সুপারমার্কেটে কিটক্যাটের নতুন রেঞ্জের সংকট দেখা দিতে পারে। চুরি হওয়া এই চকোলেটগুলো অবৈধ বাজারে বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নেসলে জানিয়েছে, প্রতিটি প্যাকেটে থাকা অনন্য ‘ব্যাচ কোড’ স্ক্যান করে এই পণ্যগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। যদি কোনো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে এই কোড স্ক্যান করা হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিটক্যাট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। নেসলে এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ‘কার্গো চুরি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটির মতে, কার্গো চুরি বর্তমানে সব ধরনের ব্যবসার জন্যই একটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তরমুজে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খাবেন যে কারণে

তরমুজে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খাবেন যে কারণে তরমুজ গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে অন্যতম। অনেক বাড়িতেই পরিবেশনের আগে এতে এক চিমটি লবণ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এই অভ্যাসটি এতটাই পরিচিত যে তা অলক্ষ্যে থেকে যায়, যদিও মিষ্টি ও রসালো স্বাদের জন্য পরিচিত একটি ফলের ক্ষেত্রে এটি অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতে পারে। ধীরে ধীরে এই ছোট বিষয়টি তরমুজ খাওয়ার পদ্ধতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে খুব কমই প্রশ্ন করা হয় বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের মতোই এর পেছনে সুবিধা বা ঐতিহ্যের চেয়েও বেশি কিছু রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন আপনার তরমুজে এক চিমটি লবণ দেওয়া উচিত এবং এটি আপনার শরীরে কী প্রভাব ফেলে- ১. প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ বাড়ায় এক চিমটি লবণ আসলে তরমুজের স্বাদকে আরও মিষ্টি করে তুলতে পারে। কারণ লবণ আমাদের স্বাদ গ্রহণকারী রিসেপ্টরগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে। eLife-এ প্রকাশিত ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে লবণের ক্লোরাইড আয়ন মিষ্টি স্বাদ গ্রহণকারী রিসেপ্টরগুলোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে, যা কম ঘনত্বে মিষ্টির অনুভূতি বাড়ায় এবং তিক্ততা কমায়। সহজ কথায়, লবণ ফলের প্রাকৃতিক শর্করাকে আরও তীব্র ও শক্তিশালী করে তোলে, যার ফলে প্রতিটি কামড় আরও সুস্বাদু মনে হয়। স্বাদের এই সূক্ষ্ম বৃদ্ধি সংবেদী বিজ্ঞানের একটি সুপরিচিত কৌশল এবং একারণেই স্বাভাবিকভাবে মিষ্টি খাবারে মিষ্টতা বাড়ানোর জন্য সামান্য লবণ ব্যবহার করা হয়। ২. হারানো ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপনে সাহায্য করে তরমুজে প্রাকৃতিকভাবেই পানির পরিমাণ বেশি থাকে, যা এটিকে সতেজকারক ও শরীরকে আর্দ্র রাখে। তবে এতে সোডিয়ামের পরিমাণ খুব কম থাকে, যা একটি অপরিহার্য ইলেক্ট্রোলাইট এবং শরীর ঘামের মাধ্যমে এটি হারায়, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায়। এক চিমটি লবণ যোগ করলে তা এই হারানো সোডিয়াম পূরণ করতে সাহায্য করে, যা শরীরে তরল ধারণ এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা ব্যাখ্যা করে যে, প্লাজমা ভলিউম বজায় রাখতে এবং শরীর থেকে পানি দ্রুত বের করে না দিয়ে তা ধরে রাখতে সোডিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৩. স্বাদের ভারসাম্য উন্নত করতে পারে কখনও কখনও তরমুজের স্বাদ পানসে বা অতিরিক্ত জলীয় মনে হতে পারে, বিশেষ করে যদি এটি পুরোপুরি পাকা না হয়। এক চিমটি লবণ স্বাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা প্রতিটি কামড়কে আরও তৃপ্তিদায়ক করে তোলে। এটি সামগ্রিক স্বাদকে আরও তীব্র করে এবং কাঁচা বা কম মিষ্টি ফলের কারণে সৃষ্ট স্বাদহীনতা কমিয়ে দেয়। ৪. হজমে সহায়তা করতে পারে অল্প পরিমাণে লবণ পাচক রস নিঃসরণে সাহায্য করতে পারে, যা শরীরের জন্য খাবার হজম করা সহজ করে তোলে। যদিও তরমুজ এমনিতেই সহজে হজম হয়, এই সামান্য সংযোজন খাওয়ার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে পারে, বিশেষ করে খাবারের পরে বা নাস্তা হিসেবে খেলে। ৫. মন দিয়ে খেতে উৎসাহিত করে তরমুজে লবণ যোগ করা একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু এটি প্রায়শই আপনার খাওয়ার গতি কমিয়ে দেয়। দ্রুত এক বাটি শেষ করার পরিবর্তে, আপনি প্রতিটি কামড় উপভোগ করতে শুরু করেন। এটি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে আরও তৃপ্তিদায়ক করে তোলে। কতটা লবণ যথেষ্ট? মূল বিষয় হলো পরিমিত ব্যবহার। এক চিমটিই যথেষ্ট। অতিরিক্ত লবণ ফলের স্বাভাবিক স্বাদকে ছাপিয়ে যেতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনি চাইলে, বাড়তি স্বাদের জন্য কালো লবণ ও লেবুর রসের মিশ্রণও যোগ করতে পারেন।
ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই তৈরির রেসিপি

ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই তৈরির রেসিপি বিকেলের নাস্তায় ঝটপট সুস্বাদু কিছু তৈরি করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন ফিশ ফ্রাই। এমনিতে মাছ খেতে খুব একটা পছন্দ না করলেও ফিশ ফ্রাই খেতে পছন্দ করে না, এমন মানুষ কমই আছেন। ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই তৈরি করে টক-মিষ্টি সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করলে বিকেলের আড্ডা কিংবা অতিথি আপ্যায়ন জমে যাবে বেশ। চলুন জেনে নেওয়া যাক ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে রুই মাছ- ৭-৮ পিস মরিচ গুঁড়া- আধা চা চামচ চালের গুঁড়া- ১ চা চামচ সাদা গোলমরিচ গুঁড়া- সামান্য পেঁয়াজ বাটা- ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা- ২ চা চামচ আদা বাটা- আধা চা চামচ চিলি সস- ১ টেবিল চামচ ফিশ সস- ২ চা চামচ ময়দা- ২ টেবিল চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার- ১ চা চামচ ডিম- ১টি লেবুর রস- ২ চা চামচ লবণ- স্বাদমতো তেল- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন মাছের টুকরাগুলো ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার তেল ছাড়া বাকি সব উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে ঘণ্টাখানেক মেরিনেট করে রাখুন। এরপর কড়াইতে তেল গরম হতে দিন। তেল গরম হলে তাতে মাছের টুকরা গুলো দিয়ে সোনালি করে ভেজে তুলুন। কিচেন টিস্যুর উপর ছড়িয়ে দিন যাতে বাড়তি তেল ঝরে যেতে পারে। এবার পছন্দসই যেকোনো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুস্বাদু ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই।
কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই তাড়ান মশা

কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই তাড়ান মশা গরমের শুরুতেই মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের ভেতরে আর বাইরে বেড়ে যায় মশার উৎপাত। ছোট এই পোকাটি শুধু বিরক্তিই করে না, বরং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। মশা তাড়ানোর জন্য বেশিরভাগ মানুষ রাসায়নিক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করেন। তবে অনেকে এসব জিনিস ব্যবহার করতে চান না। কীভাবে স্প্রে, কয়েল ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়াতে পারবেন, চলুন জেনে নিই- ঘরের আশেপাশে পানি জমতে দেবেন না মশা স্থির বা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই, ঘরের আশেপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না। টব, বালতি, কুলার এবং নর্দমায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন। এতে মশার লার্ভা বা ডিম থেকে বংশবৃদ্ধি হবে না। রসুনের স্প্রে রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যার গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। পানিতে রসুন ফুটিয়ে খুব সহজেই একটি রসুনের স্প্রে তৈরি করে নিতে পারেন। পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে তা জানালা, গাছপালা কিংবা ঘরের বাইরের বিভিন্ন জায়গায় ছিটিয়ে দিন। এটি মশাকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এসেনশিয়াল অয়েল এসেনশিয়াল অয়েল বা সুগন্ধি তেলও মশা তাড়াতে সাহায্য করে। লেমনগ্রাস অয়েল, ইউক্যালিপটাস অয়েল এবং টি-ট্রি অয়েলের গন্ধ পছন্দ করে না মশা। এই তেলগুলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে আপনার ঘরের ভেতরে স্প্রে করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে, এই মিশ্রণে তুলোর বল ডুবিয়ে দরজা ও জানালার কাছাকাছি রেখে দিতে পারেন। নিম পাতা প্রাচীনকালে মানুষ মশা তাড়ানোর জন্য শুকনো নিম পাতা পোড়াতেন। কারণ মশা এই গন্ধ একদমই সহ্য করতে পারে না। মশা দূরে রাখতে বারান্দা, বারান্দার বাইরের অংশ কিংবা বাগানে নিম পাতা পোড়াতে পারেন। জানালা ও দরজায় নেট লাগান ঘরে মশা প্রবেশ রোধ করার একটি সহজ উপায় হলো জানালা ও দরজায় মিহি জালি বা নেট লাগিয়ে নেওয়া। এতে ঘরের ভেতরে সতেজ বাতাস চলাচল করতে পারে এবং মশা ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। মশা তাড়ানোর গাছ কিছু কিছু গাছের তীব্র গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। বাড়িতে রাখতে পারেন সিট্রোনেলা, তুলসী, ল্যাভেন্ডার এবং পুদিনার মতো গাছগুলো। দরজা, জানালা কিংবা বারান্দার কাছাকাছি এই গাছগুলো লাগাতে পারেন। এই গাছগুলো যে কেবল মশাই তাড়াবে তা নয়, বরং আপনার ঘরের চারপাশের পরিবেশকে আরও সবুজ করে তুলবে এবং বাতাসের গুণমানও উন্নত করবে। পরিচ্ছন্নতা মশা তাড়াতে চাইলে ঘরের ভেতরে এবং আশেপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আবর্জনা কিংবা ঘন ঝোপঝাড় মশা বংশবিস্তারের উপযুক্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই, ঘর এবং চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। এভাবে মশার উপদ্রব বা সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।