ইতালি থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে ১২ টন কিটক্যাট চুরি

ইতালি থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে ১২ টন কিটক্যাট চুরি বিশ্বখ্যাত চকোলেট ব্র্যান্ড কিটক্যাটের এক বিশাল চালান রহস্যজনকভাবে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী জায়ান্ট কোম্পানি ‘নেসলে’ নিশ্চিত করেছে যে, প্রায় ১২ টন ওজনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি কিটক্যাট বারসহ একটি ট্রাক নিখোঁজ হয়েছে। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, বিশাল এই চকোলেটের চালান নিয়ে ট্রাকটি মধ্য ইতালির কারখানা থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যেই এটি উধাও হয়ে যায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ট্রাক বা মালামাল—কোনোটিরই হদিস পায়নি কর্তৃপক্ষ। ঠিক কোন স্থান থেকে ট্রাকটি নিখোঁজ হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রকাশ করেনি নেসলে। কিটক্যাটের বিখ্যাত বিজ্ঞাপন স্লোগান ‘হ্যাভ এ ব্রেক’ (একটু বিরতি নিন)-এর দিকে ইঙ্গিত করে নেসলের এক মুখপাত্র রসিকতা করে বলেন,‘আমরা মানুষকে কিটক্যাট দিয়ে বিরতি নিতে উৎসাহিত করি কিন্তু চোরেরা এই বার্তাটিকে একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলেছে এবং ১২ টন চকোলেট নিয়ে চম্পট দিয়েছে!’ তবে রসিকতার আড়ালে বড় উদ্বেগের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। এই চুরির ফলে ইউরোপের কিছু দেশের সুপারমার্কেটে কিটক্যাটের নতুন রেঞ্জের সংকট দেখা দিতে পারে। চুরি হওয়া এই চকোলেটগুলো অবৈধ বাজারে বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নেসলে জানিয়েছে, প্রতিটি প্যাকেটে থাকা অনন্য ‘ব্যাচ কোড’ স্ক্যান করে এই পণ্যগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। যদি কোনো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে এই কোড স্ক্যান করা হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিটক্যাট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। নেসলে এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ‘কার্গো চুরি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটির মতে, কার্গো চুরি বর্তমানে সব ধরনের ব্যবসার জন্যই একটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তরমুজে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খাবেন যে কারণে

তরমুজে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খাবেন যে কারণে তরমুজ গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে অন্যতম। অনেক বাড়িতেই পরিবেশনের আগে এতে এক চিমটি লবণ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এই অভ্যাসটি এতটাই পরিচিত যে তা অলক্ষ্যে থেকে যায়, যদিও মিষ্টি ও রসালো স্বাদের জন্য পরিচিত একটি ফলের ক্ষেত্রে এটি অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতে পারে। ধীরে ধীরে এই ছোট বিষয়টি তরমুজ খাওয়ার পদ্ধতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে খুব কমই প্রশ্ন করা হয় বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের মতোই এর পেছনে সুবিধা বা ঐতিহ্যের চেয়েও বেশি কিছু রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন আপনার তরমুজে এক চিমটি লবণ দেওয়া উচিত এবং এটি আপনার শরীরে কী প্রভাব ফেলে- ১. প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ বাড়ায় এক চিমটি লবণ আসলে তরমুজের স্বাদকে আরও মিষ্টি করে তুলতে পারে। কারণ লবণ আমাদের স্বাদ গ্রহণকারী রিসেপ্টরগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে। eLife-এ প্রকাশিত ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে লবণের ক্লোরাইড আয়ন মিষ্টি স্বাদ গ্রহণকারী রিসেপ্টরগুলোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে, যা কম ঘনত্বে মিষ্টির অনুভূতি বাড়ায় এবং তিক্ততা কমায়। সহজ কথায়, লবণ ফলের প্রাকৃতিক শর্করাকে আরও তীব্র ও শক্তিশালী করে তোলে, যার ফলে প্রতিটি কামড় আরও সুস্বাদু মনে হয়। স্বাদের এই সূক্ষ্ম বৃদ্ধি সংবেদী বিজ্ঞানের একটি সুপরিচিত কৌশল এবং একারণেই স্বাভাবিকভাবে মিষ্টি খাবারে মিষ্টতা বাড়ানোর জন্য সামান্য লবণ ব্যবহার করা হয়। ২. হারানো ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপনে সাহায্য করে তরমুজে প্রাকৃতিকভাবেই পানির পরিমাণ বেশি থাকে, যা এটিকে সতেজকারক ও শরীরকে আর্দ্র রাখে। তবে এতে সোডিয়ামের পরিমাণ খুব কম থাকে, যা একটি অপরিহার্য ইলেক্ট্রোলাইট এবং শরীর ঘামের মাধ্যমে এটি হারায়, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায়। এক চিমটি লবণ যোগ করলে তা এই হারানো সোডিয়াম পূরণ করতে সাহায্য করে, যা শরীরে তরল ধারণ এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা ব্যাখ্যা করে যে, প্লাজমা ভলিউম বজায় রাখতে এবং শরীর থেকে পানি দ্রুত বের করে না দিয়ে তা ধরে রাখতে সোডিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৩. স্বাদের ভারসাম্য উন্নত করতে পারে কখনও কখনও তরমুজের স্বাদ পানসে বা অতিরিক্ত জলীয় মনে হতে পারে, বিশেষ করে যদি এটি পুরোপুরি পাকা না হয়। এক চিমটি লবণ স্বাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা প্রতিটি কামড়কে আরও তৃপ্তিদায়ক করে তোলে। এটি সামগ্রিক স্বাদকে আরও তীব্র করে এবং কাঁচা বা কম মিষ্টি ফলের কারণে সৃষ্ট স্বাদহীনতা কমিয়ে দেয়। ৪. হজমে সহায়তা করতে পারে অল্প পরিমাণে লবণ পাচক রস নিঃসরণে সাহায্য করতে পারে, যা শরীরের জন্য খাবার হজম করা সহজ করে তোলে। যদিও তরমুজ এমনিতেই সহজে হজম হয়, এই সামান্য সংযোজন খাওয়ার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে পারে, বিশেষ করে খাবারের পরে বা নাস্তা হিসেবে খেলে। ৫. মন দিয়ে খেতে উৎসাহিত করে তরমুজে লবণ যোগ করা একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু এটি প্রায়শই আপনার খাওয়ার গতি কমিয়ে দেয়। দ্রুত এক বাটি শেষ করার পরিবর্তে, আপনি প্রতিটি কামড় উপভোগ করতে শুরু করেন। এটি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে আরও তৃপ্তিদায়ক করে তোলে। কতটা লবণ যথেষ্ট? মূল বিষয় হলো পরিমিত ব্যবহার। এক চিমটিই যথেষ্ট। অতিরিক্ত লবণ ফলের স্বাভাবিক স্বাদকে ছাপিয়ে যেতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনি চাইলে, বাড়তি স্বাদের জন্য কালো লবণ ও লেবুর রসের মিশ্রণও যোগ করতে পারেন।

ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই তৈরির রেসিপি

ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই তৈরির রেসিপি বিকেলের নাস্তায় ঝটপট সুস্বাদু কিছু তৈরি করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন ফিশ ফ্রাই। এমনিতে মাছ খেতে খুব একটা পছন্দ না করলেও ফিশ ফ্রাই খেতে পছন্দ করে না, এমন মানুষ কমই আছেন। ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই তৈরি করে টক-মিষ্টি সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করলে বিকেলের আড্ডা কিংবা অতিথি আপ্যায়ন জমে যাবে বেশ। চলুন জেনে নেওয়া যাক ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে রুই মাছ- ৭-৮ পিস মরিচ গুঁড়া- আধা চা চামচ চালের গুঁড়া- ১ চা চামচ সাদা গোলমরিচ গুঁড়া- সামান্য পেঁয়াজ বাটা- ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা- ২ চা চামচ আদা বাটা- আধা চা চামচ চিলি সস- ১ টেবিল চামচ ফিশ সস- ২ চা চামচ ময়দা- ২ টেবিল চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার- ১ চা চামচ ডিম- ১টি লেবুর রস- ২ চা চামচ লবণ- স্বাদমতো তেল- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন মাছের টুকরাগুলো ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার তেল ছাড়া বাকি সব উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে ঘণ্টাখানেক মেরিনেট করে রাখুন। এরপর কড়াইতে তেল গরম হতে দিন। তেল গরম হলে তাতে মাছের টুকরা গুলো দিয়ে সোনালি করে ভেজে তুলুন। কিচেন টিস্যুর উপর ছড়িয়ে দিন যাতে বাড়তি তেল ঝরে যেতে পারে। এবার পছন্দসই যেকোনো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুস্বাদু ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই।

কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই তাড়ান মশা

কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই তাড়ান মশা গরমের শুরুতেই মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের ভেতরে আর বাইরে বেড়ে যায় মশার উৎপাত। ছোট এই পোকাটি শুধু বিরক্তিই করে না, বরং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। মশা তাড়ানোর জন্য বেশিরভাগ মানুষ রাসায়নিক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করেন। তবে অনেকে এসব জিনিস ব্যবহার করতে চান না। কীভাবে স্প্রে, কয়েল ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়াতে পারবেন, চলুন জেনে নিই- ঘরের আশেপাশে পানি জমতে দেবেন না মশা স্থির বা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই, ঘরের আশেপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না। টব, বালতি, কুলার এবং নর্দমায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন। এতে মশার লার্ভা বা ডিম থেকে বংশবৃদ্ধি হবে না। রসুনের স্প্রে রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যার গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। পানিতে রসুন ফুটিয়ে খুব সহজেই একটি রসুনের স্প্রে তৈরি করে নিতে পারেন। পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে তা জানালা, গাছপালা কিংবা ঘরের বাইরের বিভিন্ন জায়গায় ছিটিয়ে দিন। এটি মশাকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এসেনশিয়াল অয়েল এসেনশিয়াল অয়েল বা সুগন্ধি তেলও মশা তাড়াতে সাহায্য করে। লেমনগ্রাস অয়েল, ইউক্যালিপটাস অয়েল এবং টি-ট্রি অয়েলের গন্ধ পছন্দ করে না মশা। এই তেলগুলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে আপনার ঘরের ভেতরে স্প্রে করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে, এই মিশ্রণে তুলোর বল ডুবিয়ে দরজা ও জানালার কাছাকাছি রেখে দিতে পারেন। নিম পাতা প্রাচীনকালে মানুষ মশা তাড়ানোর জন্য শুকনো নিম পাতা পোড়াতেন। কারণ মশা এই গন্ধ একদমই সহ্য করতে পারে না। মশা দূরে রাখতে বারান্দা, বারান্দার বাইরের অংশ কিংবা বাগানে নিম পাতা পোড়াতে পারেন। জানালা ও দরজায় নেট লাগান ঘরে মশা প্রবেশ রোধ করার একটি সহজ উপায় হলো জানালা ও দরজায় মিহি জালি বা নেট লাগিয়ে নেওয়া। এতে ঘরের ভেতরে সতেজ বাতাস চলাচল করতে পারে এবং মশা ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। মশা তাড়ানোর গাছ কিছু কিছু গাছের তীব্র গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। বাড়িতে রাখতে পারেন সিট্রোনেলা, তুলসী, ল্যাভেন্ডার এবং পুদিনার মতো গাছগুলো। দরজা, জানালা কিংবা বারান্দার কাছাকাছি এই গাছগুলো লাগাতে পারেন। এই গাছগুলো যে কেবল মশাই তাড়াবে তা নয়, বরং আপনার ঘরের চারপাশের পরিবেশকে আরও সবুজ করে তুলবে এবং বাতাসের গুণমানও উন্নত করবে। পরিচ্ছন্নতা মশা তাড়াতে চাইলে ঘরের ভেতরে এবং আশেপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আবর্জনা কিংবা ঘন ঝোপঝাড় মশা বংশবিস্তারের উপযুক্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই, ঘর এবং চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। এভাবে মশার উপদ্রব বা সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

চল্লিশের পর প্রোটিন জরুরি কেন?

চল্লিশের পর প্রোটিন জরুরি কেন? বার্ধক্যের ধারণাটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। লক্ষ্য বদলে গেছে, এখন আর শুধু বেশিদিন বেঁচে থাকাটা মুখ্য নয়, বরং পরিপূর্ণ, উদ্যমী এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করাটাই মূল লক্ষ্য। চল্লিশের পরের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগের প্রজন্মের একই বয়সের মানুষের তুলনায় আজকের মানুষ অনেক বেশি সক্রিয়, সচেতন এবং নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক। চল্লিশ ও পঞ্চাশের কোঠায় থাকা ব্যক্তিরা এখন আর ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন না; বরং, তারা নিজেদের জীবনকে আরও উন্নত করতে সক্রিয় হচ্ছেন। এই বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে খাদ্যের সঙ্গে এক নতুন সম্পর্ক। আমরা কতটা সুস্থভাবে বার্ধক্যে পৌঁছাব, তাতে পুষ্টি একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করে চল্লিশের দশকেই এই সম্পর্ককে আরও গভীর করা প্রয়োজন। একটি সুষম খাদ্যতালিকা অপরিহার্য হয়ে ওঠে, এর বাইরে শরীরের জন্য যা ক্রমশ প্রয়োজন তা হলো প্রোটিনের ওপর সচেতনভাবে মনোযোগ দেওয়া। পর্যাপ্ত প্রোটিন ছাড়া শরীর ধীরে ধীরে পেশী হারাতে থাকে, যা শক্তি, সচলতা এবং সার্বিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। আগে প্রোটিনকে মূলত ক্রীড়াবিদ, বডিবিল্ডার বা বাড়ন্ত শিশুদের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। তবে জীবনের সকল পর্যায়ে পেশী শক্তি, সচলতা এবং সার্বিক প্রাণশক্তি বজায় রাখার জন্য প্রোটিন একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। সচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রোটিন এখন আরও উদ্দেশ্যমূলক এবং অর্থবহ খাদ্যাভ্যাসে রূপান্তরিত হচ্ছে, বিশেষ করে ৪০-এর কাছাকাছি এবং তার বেশি বয়সী সুস্থ বয়স্কদের মধ্যে, যারা সক্রিয়ভাবে এটি গ্রহণ করছেন। ৪০-এর পরে প্রোটিন কেন অপরিহার্য হয়ে ওঠে বেশিরভাগ ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস মূলত শস্য-কেন্দ্রিক, যেখানে কার্যকরী পুষ্টির চেয়ে তৃপ্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। যদিও এই ধরনের খাবার শক্তি জোগায়, তবে এতে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব থাকে, যার ফলে দৈনন্দিন পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। একটি মেডিকেল রিসার্চ (ICMR-NIN, 2024) অনুসারে, প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ০.৮-১.০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়, এবং বয়স্কদের জন্য এর চাহিদা আরও বেশি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে ৭০%-এরও বেশি মানুষ এটি পূরণ করতে ব্যর্থ হন এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ অনেকটা হ্রাস পায়। এই ঘাটতি ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং এর ফলে পেশীর পরিমাণ কমে যায়, রোগ থেকে সেরে উঠতে দেরি হয়, ক্লান্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন শক্তি ও স্বনির্ভরতা হ্রাস পায়। বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি হলো পেশীর পরিমাণ এবং শক্তির ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়া, এই অবস্থাকে সারকোপেনিয়া বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়ায়, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা বাজার করার জিনিসপত্র বহন করার মতো সাধারণ কাজগুলোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বার্ধক্যকালে, শরীরে অ্যানাবলিক রেজিস্ট্যান্সও দেখা দেয়, যেখানে কঙ্কাল পেশীগুলো টিস্যু তৈরি ও মেরামতের জন্য খাদ্য থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন ব্যবহারে কম দক্ষ হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, পেশীর ক্ষয় রোধ করতে এবং শক্তি ও শরীরের অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলো বজায় রাখতে অধিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণের প্রয়োজন হয়। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি সুস্থ বার্ধক্য মানে চরম ডায়েট বা স্বল্পমেয়াদী সমাধান নয়, এর মূল বিষয় হলো এমন ধারাবাহিক ও টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলা যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে সহায়তা করে। সাধারণ ও পরিচিত খাবারের অদলবদলই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ গমের আটার পরিবর্তে প্রোটিন-সমৃদ্ধ বা প্রোটিন-বর্ধিত আটা ব্যবহার করা, খাবারে পনির, সয়া বা প্রাণিজ প্রোটিন যোগ করা, ধীরে ধীরে দৈনিক প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে পারে। এই পরিবর্তনগুলোর বাইরে, দিনের সবচেয়ে ভারী খাবারগুলো বিশেষ করে সকালের নাস্তা এবং রাতের খাবার নিয়ে নতুন করে ভাবা সবচেয়ে কার্যকর পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি। শর্করা-বহুল সকালের নাস্তার পরিবর্তে হোল-গ্রেইন ওটসের মতো বিকল্প বেছে নিতে পারেন, যা প্রাকৃতিকভাবে প্রোটিন এবং দ্রবণীয় ফাইবার সরবরাহ করে, এটি একটি ছোট পরিবর্তন হলেও এর প্রভাব অনেক বড়। এই ধরনের অভ্যাস শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে, গ্লুকোজের আকস্মিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে, পেশী ও হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে এবং দিনের বাকি অংশের জন্য একটি শক্তিশালী পুষ্টির ভিত্তি তৈরি করে। খাবারে উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত সিরিয়াল, প্রোটিন-সমৃদ্ধ আটা এবং প্রাকৃতিকভাবে প্রোটিন-সমৃদ্ধ উপাদানও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি সুষম প্লেটে বিভিন্ন বেলার খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে উচ্চ-মানের প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকা উচিত।

বসন্তে পড়ালেখা কমিয়ে প্রেম করার পরামর্শ দিল চীনা বিশ্ববিদ্যালয়

বসন্তে পড়ালেখা কমিয়ে প্রেম করার পরামর্শ দিল চীনা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার বাইরে একটু ভিন্ন বার্তা দিয়ে আলোচনায় এসেছে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। বসন্তের ছুটিতে শিক্ষার্থীদের ফুল উপভোগ করার পাশাপাশি প্রেমে পড়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। রয়টার্স এর এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সিচুয়ান সাউথওয়েস্ট ভোকেশনাল কলেজ অব এভিয়েশন তাদের উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বসন্তকালীন ছুটির প্রতিপাদ্য হিসেবে ফুল দেখা ও রোমান্স উপভোগের কথা জানিয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে বইপত্র সরিয়ে রেখে ছুটি উপভোগের আহ্বান জানানো হয়। এর আগে চীন গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালুর ঘোষণা দেয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ানো এবং তরুণদের মধ্যে পারিবারিক জীবন গঠনে আগ্রহ তৈরি করা। পর্যাপ্ত অবসর সময় তরুণদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করা হচ্ছে। চীনে টানা কয়েক বছর ধরে জন্মহার কমছে। ২০২৫ সালে দেশটির জনসংখ্যা আরও কমে গেছে এবং জন্মহার নেমেছে রেকর্ড নিম্নে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন এনডিআরসি শিশু বান্ধব উন্নয়ন জোরদারে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ ও খেলাধুলা খাতে উন্নয়ন বাড়িয়ে শিশু বান্ধব শহর গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ট্রাভেল কোম্পানি ট্রিপ এর সহ প্রতিষ্ঠাতা জেমস লিয়াং বলেন, সন্তান লালন পালনের জন্য সময় ও আর্থিক সক্ষমতা জরুরি। এ ক্ষেত্রে তরুণদের সচেতন করতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।

আখের রস কি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করে?

আখের রস কি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করে? তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম থেকে বাঁচতে আমরা অনেকেই স্বভাবতই শীতল পানীয়ের দিকে হাত বাড়াই। লেবুর শরবত থেকে শুরু করে ঠান্ডা লাচ্ছি পর্যন্ত, স্বস্তি দেওয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী পানীয়ের অভাব নেই। সেসবের মধ্যে আখের রসও একটি জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে পরিচিত। এটি সতেজ ও প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি স্বাদের পানীয় শরীরকে ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। আখের রস কি সত্যিই আপনাকে হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা করে বা প্রচণ্ড গরমে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জোগায়? পুষ্টিবিদদের মতে, আখের রসকে গ্রীষ্মের একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে গ্রহণ করার আগে এটি সম্পর্কে বেশ কিছু ভুল ধারণা বোঝা জরুরি। আখের রস কি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো না। পুষ্টিবিদদের মতে, আখের রস হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা করে না। হিট স্ট্রোক একটি গুরুতর অবস্থা যা তখন ঘটে যখন শরীর তার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, যা প্রায়শই ডিহাইড্রেশন এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়ে থাকে। আখের রস পান করলে সতেজ অনুভূতি হলেও, এই অবস্থা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান এটি সরবরাহ করে না। এটি কি সত্যিই ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়? আখের রস নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর মধ্যে একটি হলো, এটি ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়ের মতো কাজ করে। ঘামলে আমাদের শরীর প্রতি লিটারে প্রায় ৯০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম হারায়। এর তুলনায়, এক গ্লাস আখের রসে মাত্র ১১-১৭ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। এই পার্থক্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। শরীরকে তরল ধরে রাখতে এবং হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সোডিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত সোডিয়াম ছাড়া হাইড্রেটেড থাকা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এক্ষেত্রে আপনি আপনার শরীরকে সত্যিকারের রিহাইড্রেট করার পরিবর্তে মূলত চিনির পানি পান করছেন। লেবুর রসের সঙ্গে এক চিমটি লবণের মতো মিশিয়ে নিন, এতে হারানো ইলেক্ট্রোলাইট পুনরায় পূরণ করতে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি বিবেচনা করার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চিনির পরিমাণ। এক গ্লাস আখের রসে ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম চিনি থাকতে পারে। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে খালি পেটে বা বেশি পরিমাণে পান করলে। যদিও এটি আপনাকে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে, তবে এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্যভাবে সহায়ক নয়। পুষ্টির বাইরেও, রাস্তার ধারের আখের রসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয়। পরিবর্তে আপনার কী পান করা উচিত? আপনার লক্ষ্য যদি হয় শরীরকে আর্দ্র রাখা এবং তাপজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমানো, তবে আপনার শরীরে পানির প্রধান উৎস হওয়া উচিত সাধারণ পানি। ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রাখতে এতে লেবু এবং এক চিমটি লবণ যোগ করুন। এমন পানীয়ের ওপর মনোযোগ দিন যা শরীরকে আর্দ্র রাখতে সত্যিই সাহায্য করে। গরমের দিনে আখের রস সতেজ অনুভূতি দিতে পারে, কিন্তু এটি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ বা শরীরে সঠিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সমাধান নয়। এর কম সোডিয়াম, উচ্চ চিনির মাত্রা এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে এর ওপর নির্ভর না করে মাঝে মাঝে এটি পান করাই শ্রেয়।

৪৫টি নতুন গ্রহে জীবনের আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা

৪৫টি নতুন গ্রহে জীবনের আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা অসীম মহাকাশে কী আমরা একা? এই প্রশ্ন মানুষের বহু দিনের। এবার সেই প্রশ্নের উত্তরের দিকে আরেক ধাপ এগোলেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় তারা এমন ৪৫টি গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজারের বেশি ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ (আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহ) আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে পাথুরে গ্রহগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কারণ এসব গ্রহে পানি থাকার সম্ভাবনা বেশি—আর পানি মানেই জীবনের মূল উপাদান। এই গবেষণায় কিছু পরিচিত গ্রহ যেমন প্রোক্সিমা সেন্টরি বি, ট্রাপিস্ট-১এফ, কেপলার-১৮৬এফ-এর পাশাপাশি নতুন কিছু গ্রহ যেমন টিওআই-৭১৫ বি-ও রয়েছে। এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্রের এমন একটি জায়গায় ঘোরে, যাকে ‘গোল্ডিলক্স জোন’ বলা হয়। সহজ ভাষায়, এই জায়গার তাপমাত্রা এমন থাকে যেখানে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে—না খুব গরম, না খুব ঠান্ডা। গবেষণায় ইউরোপের গাইয়া মিশন এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্র থেকে প্রায় পৃথিবীর মতোই শক্তি পায়। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক জায়গাগুলোর একটি হলো ট্রাপিস্ট-১ সিস্টেম, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে। এখানে চারটি গ্রহ এমন অঞ্চলে আছে, যেখানে জীবন থাকতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ এলএইচএস ১১৪০ বি। নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এখানে প্রচুর পানি থাকতে পারে এবং এর বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাস বেশি থাকতে পারে। এছাড়া আরও ২৪টি গ্রহ পাওয়া গেছে, যেগুলো কখনো এই উপযুক্ত অঞ্চলে ঢোকে, আবার কখনো বের হয়ে যায় (এগুলো উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে)। এগুলো নিয়ে গবেষণা করলে বোঝা যাবে—একটি গ্রহ কতটা তাপ বা বিকিরণ সহ্য করেও বাসযোগ্য থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই তালিকা ভবিষ্যতে আরও গবেষণায় সাহায্য করবে। আর একদিন হয়তো মানুষ জানতে পারবে—পৃথিবীর বাইরে কোথাও কি সত্যিই জীবন আছে।

ছুটিতে একঘেয়েমি দূর করার কিছু কার্যকর কৌশল

ছুটিতে একঘেয়েমি দূর করার কিছু কার্যকর কৌশল প্রতিদিনের ইঁদুর দৌড় আর কাজের পাহাড় পেরিয়ে আমাদের শরীর ও মন যখন ক্লান্ত, তখন ছুটি মানেই মনে হয় একটু শান্তি। অনেকে ঘুরতে ভালোবাসলেও, ক্লান্তির কারণে বাড়ির আরাম ছেড়ে বের হতে চান না অনেকেই। তাদের জন্য সমাধান একটাই- বাড়িতেই ছুটি কাটানো। সামান্য কিছু অদলবদল আর নিজের জন্য একটু সময় বের করলেই আপনার ঘর হয়ে উঠতে পারে ছুটির স্বর্গরাজ্য। ছুটির আমেজ আনতে ঘরের সাজে আনুন নতুনত্ব। বছরের অন্য সময়ের একঘেয়েমি কাটাতে ব্যবহার করুন উজ্জ্বল রঙের চাদর, পর্দা বা কুশন কভার। হলুদ, সবুজ বা কমলা রঙের ছোঁয়া ঘরকে সজীব করে তুলবে। বারান্দার কোণে বা ছাদের একপাশে বেতের মোড়া আর পছন্দের কিছু গাছ দিয়ে তৈরি করুন নিজের রিডিং কর্নার। এক কাপ চা আর প্রিয় বই নিয়ে সেখানে কাটিয়ে দিতে পারেন অলস দুপুর। সারা বছর স্মার্টফোন আর ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখে আমরা ক্লান্ত। এই ছুটিতে সেগুলোকে বিশ্রাম দিন। ডিজিটাল ক্যামেরা বা হ্যান্ডিক্যাম বের করে বাড়ির সদস্যদের ছোট ছোট মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করুন। ফোনের প্লে-লিস্ট নয়, ধুলো ঝেড়ে বের করুন পুরনো সিডি প্লেয়ার বা রেকর্ড। মন চাইলে রং-তুলি নিয়ে বসে পড়ুন অনেকদিন না করা শখের কাজে। ছুটি মানেই ডায়েটকে ছুটি দিয়ে ভালো মন্দ খাওয়া। চাইলে ইউটিউব দেখে নতুন কোনো ভিনদেশি রান্না ট্রাই করতে পারেন, অথবা স্রেফ পছন্দের রেস্তোরাঁ থেকে আনিয়ে নিতে পারেন মনের মতো খাবার। পাশাপাশি নিজের যত্ন নিতে বাড়িতেই বুক করতে পারেন স্পা বা বিউটি ট্রিটমেন্টের পরিষেবা। গা এলিয়ে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ দেখার জন্য তো স্মার্ট টিভি বা হোম থিয়েটার রইলই। সবচেয়ে জরুরি হলো প্রিয়জনদের সময় দেওয়া। ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে বাড়ির লোকেদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিন, পুরনো কথা ঝালিয়ে নিন। চাইলে বন্ধুদের ডেকে ছোটখাটো একটা হাউস পার্টিও করে ফেলা যায়। মনে রাখবেন, ছুটি মানে কেবল জায়গা পরিবর্তন নয়, ছুটি মানে মনের প্রশান্তি। আপনার ঘর যদি হয় সেই শান্তির ঠিকানা, তবে তার চেয়ে আরামদায়ক আর কী-ই বা হতে পারে।

ফ্রিজে বরফ জমলে যেভাবে পরিষ্কার করবেন

ফ্রিজে বরফ জমলে যেভাবে পরিষ্কার করবেন নিয়মিত ব্যবহারের কারণে মাছ-মাংসের রক্ত জমে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে ফ্রিজ। এ অবস্থায় ফ্রিজ পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজনীয়। তবে অনেকেই ফ্রিজ পরিষ্কার করার সময় ভুলভাবে পরিষ্কার করেন, যে কারণে ফ্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফ্রিজ বন্ধ করে খাবার সরানো প্রথমেই ফ্রিজের প্লাগ খুলে ফেলতে হবে। নিরাপত্তার জন্য এটি জরুরি। ভেতরের সব খাবার বের করে বরফ প্যাক বা কুলার ব্যাগে রাখুন, যাতে ঠাণ্ডা থাকে। ফ্রিজের চারপাশে পুরু তোয়ালে বিছিয়ে দিতে হবে যাতে গলে যাওয়া পানি শুষে নেয়। গরম পানির বাটি দিয়ে বাষ্পের কাজ এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ উপায়। একটি ‘হিট-প্রুফ’ বাটিতে ফুটন্ত গরম পানি নিয়ে ফ্রিজের ভেতরে একটা তোয়ালের ওপর রাখতে হবে। দরজা বন্ধ করে ১০-১৫ মিনিট রাখলে বরফ আলগা করে দেবে বাষ্প। নরম হয়ে গেলে প্লাস্টিকের চামচ দিয়ে চেঁছে তুলতে হবে বরফ। পুরু বরফ হলে দুয়েকবার গরম পানি বদলে দিতে হতে পারে। প্লাস্টিক বা কাঠের চামচ দিয়ে চাঁছা কখনও ধাতব ছুরি বা চামচ ব্যবহার করা যাবে না। করলে ফ্রিজের ভেতরের প্লাস্টিক লাইনিং বা কুলিং কয়েল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্লাস্টিকের স্প্যাচুলা, আইস স্ক্র্যাপার বা কাঠের চামচ দিয়ে ধীরে ধীরে বরফ তুলতে হবে। জোরে চাপ দেওয়া যাবে না, আলতো করে তুলতে হবে বরফ গললে। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে গরম বাতাস হেয়ার ড্রায়ার মাঝারি বা কম তাপে চালিয়ে বরফের ওপর দূর থেকে গরম বাতাস দিতে হবে। এক পর্যায়ে বরফ গলতে শুরু করলে প্লাস্টিকের চামচ দিয়ে তুলে ফেলতে হবে। সতর্ক সাথে কাজটি করতে হবে, পানি বা বরফের সংস্পর্শে হেয়ার ড্রায়ার যেন না আসে। এই পদ্ধতিতে বরফ দ্রুত গলে। গরম ভেজা তোয়ালের কৌশল পুরু তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে বরফের ওপর রেখে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করে রাখতে হবে। পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পর দরজা খুললে দেখা যাবে, বরফ আলগা হয়ে গেছে। বরফ বেশি পুরু হলে দুতিনবার করতে হতে পারে। টেবিল ফ্যানের সাহায্য হেয়ার ড্রায়ার না থাকলে ফ্রিজ খুলে একটা টেবিল ফ্যান চালিয়ে দিতে হবে। এতে বাইরের গরম বাতাস ফ্রিজের ভেতরে ঢুকবে। কোনো অতিরিক্ত তাপ ছাড়াই ধীরে ধীরে বরফ গলতে থাকবে। বরফ গলার পর পরিষ্কার করা বরফ গলে গেলে ফ্রিজের ভেতরটা হালকা গরম পানিতে ভেজানো সাবানযুক্ত কাপড় দিয়ে মুছে ফেলার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। আর্দ্রতা থাকলে আবার বরফ জমবে। ফ্রিজ চালু করে ঠাণ্ডা হতে দিন, তারপর খাবার সাজিয়ে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বরফ জমা ঠেকাতে ১। প্রতিবার ব্যবহারের পর দরজা ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে। ২। দরজা বেশিক্ষণ খোলা রাখা যাবে না। ৩। দরজার সিল পরখ করতে হবে। ফাঁক বা ফাটল থাকলে মেরামত করা জরুরি। ৪। গরম খাবার ফ্রিজে রাখার আগে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। ৫। ফ্রিজ অতিরিক্ত বোঝাই করা যাবে না। বাতাস চলাচলের জন্য জায়গা রাখুন।