ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে যা যা চেক করা জরুরি

ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে যা যা চেক করা জরুরি রমজান প্রায় শেষ, ঘনিয়ে এসেছে ঈদুল ফিতর। ছুটির সুযোগে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে। তবে এই সময় বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি না নিলে ফিরে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। ছুটিতে যাওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করলে ঝামেলা অনেকটাই কমবে— দরজা-জানালা ঠিকভাবে বন্ধ করুন শুধু গেট তালা দিলেই হবে না, বাসার সব দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। এতে চুরি বা বৃষ্টির পানি ঢোকার ঝুঁকি কমে। বিদ্যুৎ সংযোগ নিরাপদে রাখুন অপ্রয়োজনীয় লাইট, ফ্যান বন্ধ করুন। টিভি, চার্জার, মাইক্রোওয়েভসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনপ্লাগ করে রাখলে আগুন লাগার ঝুঁকি কমে এবং অপ্রয়োজনীয় বিলও এড়ানো যায়। গ্যাস লাইন বন্ধ করুন রান্নাঘরের চুলা ও সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ আছে কিনা নিশ্চিত করুন। এটি নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। পানির ট্যাপ পরীক্ষা করুন সব ট্যাপ বন্ধ আছে কিনা দেখে নিন। সম্ভব হলে মেইন লাইন বন্ধ রাখুন, এতে পানি অপচয় ও বাসা ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে। ফ্রিজ খালি বা প্রস্তুত রাখুন সহজে নষ্ট হয় এমন খাবার ফেলে দিন বা আগে খেয়ে শেষ করুন। দীর্ঘদিন ফ্রিজ বন্ধ থাকলে দুর্গন্ধ এড়াতে দরজা সামান্য খোলা রাখা যেতে পারে। মূল্যবান জিনিস নিরাপদে রাখুন টাকা, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লকারে রাখুন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের কাছে রাখতে পারেন। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীকেও বিষয়টি জানিয়ে যান। ছোট ছোট এই প্রস্তুতিগুলোই আপনার ঈদের আনন্দকে নির্ভার করতে পারে। পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে চাইলে বাসা রেখে যাওয়ার আগে একটু সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

ঈদের আপনার জন্য ‘হেয়ার স্টাইল’

ঈদের আপনার জন্য ‘হেয়ার স্টাইল’ ঈদের দিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় দ্বিধাটা শুরু হয় চুল নিয়ে-খোঁপা না বেণি? নাকি স্রেফ খোলা চুল? এবারের ঈদে সমসাময়িক ট্রেন্ড ও ধ্রুপদি সাজের মিশেলে আপনার জন্য রইল ‘হেয়ার স্টাইল গাইড’। ধ্রুপদি মাধুর্য : ফুলে সাজা খোঁপা শাড়ির সঙ্গে খোঁপাকে বলা হয় ‘এভারগ্রিন’ ফ্যাশন। ঈদের দাওয়াতের জন্য প্রথমেই চুল ভালোভাবে আঁচড়ে নিয়ে সিঁথির পেছনে হালকা পনিটেইল করে নিন। এবার প্রতিটি গোছ আলাদা করে ববি পিন দিয়ে আটকে একটি ভরাট খোঁপায় রূপ দিন। খোঁপা বড় দেখাতে ভিতরের দিকে উল্টো ব্রাশ করে নিতে পারেন। সাজে আভিজাত্য আনতে খোঁপায় জড়িয়ে নিন দোলনচাঁপা, জারবারা অথবা লাল গোলাপ। আধুনিকতার ছোঁয়া : খোলা চুলে ‘বিচ ওয়েভ’ ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সঙ্গে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্টাইল হলো ‘বিচ ওয়েভ’ বা ঢেউ খেলানো চুল। এই লুক পেতে চুলে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করে কিছুটা রাফ করে নিন, এরপর টং বা কার্লিং মেশিন দিয়ে হালকা কোঁকড়া করে হাত দিয়ে ছাড়িয়ে নিন। এই এলোমেলো অথচ গোছানো ঢেউ খেলানো চুল চেহারা দেবে আভিজাত্য। ঝটপট সাজ : টুইস্ট খোঁপা ঈদের ব্যস্ততার মাঝে যারা দ্রুত সাজতে চান, তাদের জন্য টুইস্ট খোঁপা সেরা। কপালের সামনের চুলগুলো ফুলিয়ে পনিটেইল করুন। এরপর ধাপে ধাপে ঝুঁটি বেঁধে মাঝখান দিয়ে উল্টো করে ঘুরিয়ে নিন। এভাবে চার-পাঁচটি ধাপ শেষ করে কাঁধের কাছে সাধারণ খোঁপা করে আটকে দিন। খুব কম সময়েই পেয়ে যাবেন জমকালো এক ‘পার্টি লুক’। ফিউশন স্টাইল : ফাংকি বেণি ও বান ঈদের বিকালে যারা সালোয়ার কামিজ বা ফিউশন পোশাক (স্কার্ট-টপ বা পালাজ্জো) পরবেন, তারা বেছে নিতে পারেন ‘ফাংকি বেণি’। একপাশে সিঁথি করে একদিক থেকে চিকন বেণি টেনে অন্যপাশে এলোমেলো করে পেঁচিয়ে নিন। অন্যদিকে বানের চারপাশ দিয়ে পুঁতির মালা জড়িয়ে আনুন ‘রয়্যাল’ লুক। খোলা চুলে ফ্যাশন করতে চাইলে একপাশে বেণি করে বাকি চুলে কার্ল বা স্ট্রেট লুক দিতে পারেন।

সফলতার জন্য কী করবেন?

সফলতার জন্য কী করবেন? সাফল্য হলো নিজেকে ভেতর থেকে সমৃদ্ধ করা, কেবল সম্পদ বা খ্যাতি দ্বারা এটি সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। সাফল্য অর্জনের জন্য যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তার মিশ্রণ প্রয়োজন, যা আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং গঠনমূলকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করে। অধ্যবসায় এবং ধৈর্য হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী, কারণ অর্থপূর্ণ সাফল্য অনিবার্য বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং স্থিতিস্থাপকতার মাধ্যমে তৈরি হয়। সাফল্য কী? এটি কি একটি অর্জন? নাকি সম্পদ? সম্ভবত স্বীকৃতি? ঠিক আছে, সাফল্যকে সংজ্ঞায়িত করা সত্যিই সহজ নয়। কারও কারও কাছে এর অর্থ তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানো হতে পারে। অন্যদের কাছে এটি ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি বা অভ্যন্তরীণ শান্তি। সংজ্ঞা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। সময় এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে এটি বিকশিত হতে পারে, এমনকি অগ্রাধিকারের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। এর অর্থ যাই হোক না কেন, আমরা সবাই সাফল্যের পেছনে ছুটছি। অতএব, সাফল্য বোঝার জন্য খ্যাতি, মর্যাদা বা সম্পদের প্রচলিত ধারণার বাইরে তাকাতে হবে। এখানে কিছু মূল নীতি রয়েছে যা আপনার মনে রাখা উচিত। সাফল্য একটি ব্যক্তিগত যাত্রা সাফল্যের কোনো সার্বজনীন সংজ্ঞা নেই। আপনি যাকে সাফল্য বলে মনে করেন তা অন্য কারও কাছে একই অর্থ বহন করতে পারে না। শুধু তাই নয়, আপনি আজ যা সাফল্য বলে ধরে নিচ্ছেন তা আগামীকাল একই রকম না-ও লাগতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষাগত বা ক্যারিয়ারের অর্জন জীবনের প্রথম দিকে সাফল্যের মতো মনে হতে পারে। পরে এটি ব্যক্তিগত শান্তি, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং একটি নিরাপদ সহায়তা ব্যবস্থা থাকার দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে। সাফল্যের এই দিকটি বোঝা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তি এবং আবেগের মধ্যে ভারসাম্য সাফল্য অর্জনের জন্য, আপনার যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং মানসিক সচেতনতা উভয়েরই প্রয়োজন। সমস্যা বিশ্লেষণ, তথ্যবহুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর কৌশল বিকাশের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং সুষ্ঠু বিচারের প্রয়োজন এমন পেশাদার ক্ষেত্রগুলোতে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে, আবেগগত বুদ্ধিমত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী মানসিক বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ব্যক্তিরা চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে, কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে এবং পরিপক্কতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সাফল্য অর্জনের জন্য যুক্তি এবং আবেগ উভয়কেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বেশিরভাগ সময় মানুষকে তাদের আবেগ দমন করতে শেখানো হয়। তবে আবেগ উপেক্ষা করলে সমস্যা দূর হয় না। প্রকৃতপক্ষে, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স মানুষকে নেতিবাচক অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে চিন্তাভাবনা করে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করে। অধ্যবসায় এবং অধ্যবসায় আপনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিন বা বিষয়বস্তু তৈরিতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী হন, অধ্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, রোম একদিনে তৈরি হয়নি। অর্থপূর্ণ কিছু অর্জনের জন্য সর্বদা প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আপনাকে প্রতি মুহূর্তে সচেতন হতে হবে। বাধা এবং বিপত্তি যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে আপনাকে মনোনিবেশ করতে হবে। ধৈর্য আপনার যাত্রায় দেখা প্রতিটি ব্যক্তি কেন সফল হয় না তা ভেবে দেখেছেন? ধারাবাহিকতার মতো ধৈর্যও জরুরি। আপনার হয়তো উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং কঠোর পরিশ্রম করার ইচ্ছা থাকতে পারে, কিন্তু ধৈর্যের ক্ষেত্রে যদি আপনি ব্যর্থ হন, তাহলে তা ফলপ্রসূ হবে না। আপনি হয়তো সব প্রচেষ্টা দিয়ে জয়ী হবেন না, আর ঠিক এই কারণেই ধৈর্য গুরুত্বপূর্ণ।

 ঘরে বসেই তৈরি করুন রঙিন-স্বাস্থ্যকর কোণ মেহেদি

 ঘরে বসেই তৈরি করুন রঙিন-স্বাস্থ্যকর কোণ মেহেদি ঈদ মানেই শুধুই নতুন পোশাক বা মিষ্টি নয়, নারীদের জন্য এক অন্যতম আনন্দের অংশ হলো মেহেদি। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীরা বিশেষ অনুষ্ঠানে মেহেদি সাজের জন্য মুখিয়ে থাকেন। বিশেষ করে বিয়ের আগে ঘটা করে মেহেদি উৎসবের আয়োজন করা হয়। ঈদ আসছে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে, আর বাজারে এখন মেহেদি কেনাকাটা শুরুর সময়। কিন্তু ভালো ও অর্গ্যানিক মেহেদি পাওয়া যেন এখন চ্যালেঞ্জ, কারণ বাজার ভরপুর ভেজাল ও মানহীন মেহেদিতে। তবে এখন ঘরে বসেই সহজভাবে স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল রঙের কোণ মেহেদি তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় উপকরণ ১. হেনা পাউডার ১/৪ কাপ (২৫ গ্রাম) ২. চিনি ২ চা চামচ (৮ গ্রাম) ৩. এসেনশিয়াল অয়েল ২ চা চামচ (ল্যাভেন্ডা, টি ট্রি বা ইউক্যালিপটাস) ৪. লেবুর রস সামান্য তৈরি করার পদ্ধতি একটি পরিষ্কার পাত্রে হেনা পাউডার নিন। এতে চিনি ও এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করুন। চিনি মেহেদি শুকিয়ে যাওয়ার পরও ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকতে সাহায্য করে। লেবুর রস মিশিয়ে উপকরণগুলো একসঙ্গে ভালোভাবে মেশান। প্রয়োজনে হ্যান্ড বিটার ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, এই মিশ্রণে পানি ব্যবহার করবেন না। মিশ্রণটি প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা একটি গরম স্থানে ২৪ ঘণ্টা রাখুন। উত্তম তাপমাত্রা ৭৫-৮৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২৩-৩০° সেলসিয়াস)। ২৪ ঘণ্টা পর মিশ্রণ আবার বিট করুন এবং হাতে একটু লাগিয়ে পরীক্ষা করুন। যদি সুন্দর উজ্জ্বল কুমড়ার কমলা রঙের দাগ হয়, তবে মেহেদি প্রস্তুত। না হলে আরও কয়েক ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। কোণে ভরা ও ব্যবহার মেহেদি ছেঁকে নিতে একটি পলিথিন ও পাতলা মোজা ব্যবহার করুন। এরপর র‌্যাপিং পেপার দিয়ে কোণের আকার তৈরি করুন এবং পিন ব্যবহার করে মুখ বন্ধ করুন। পলিথিনে ফুটো করে মেহেদি পেস্ট ঢেলে দিন এবং নিচের অংশ স্কচটেপ দিয়ে সিল করুন। এভাবে ঘরে বসে তৈরি কোণ মেহেদি হবে স্বাস্থ্যকর, সুন্দর রঙের এবং ত্বকের কোনো ক্ষতি করবে না। ঈদে নিজের হাতে তৈরি এই মেহেদি ব্যবহার করলে মেহেদি লাগানোর আনন্দও দ্বিগুণ হবে।

সার্বক্ষণিক ইবাদত আল্লাহর জিকির

সার্বক্ষণিক ইবাদত আল্লাহর জিকির আজ (১৩ মার্চ ২০২৬) ২৩ রমজান দিবাগত রাতে ইশার পর ২৪তম দিনের তারাবিহ নামাজে আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে কোরআনের ২৭ নং পারা তিলাওয়াত করা হবে। এ পারায় রয়েছে সুরা যারিয়াতের শেষার্ধ, সুরা তুর, সুরা কামার, সুরা রহমান, সুরা ওয়াকিয়া ও সুরা হাদিদ। পবিত্র কোরআনের এ অংশে আমাদের দৈনন্দিন জীবন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষা ও দিক-নির্দেশনা রয়েছে: প্রবৃত্তি ও শয়তান যখন আমাদের গোনাহের প্ররোচনা দেয়, তখন আমাদের কর্তব্য শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য ছুটে গিয়ে আল্লাহ তাআলার শরণাপন্ন হওয়া। আল্লাহ তাআলার আশ্রয় গ্রহণ করা। তিনি আমাদের শয়তান ও প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। কোনো গুনাহ হয়ে গেলেও দ্রুত তওবা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, (হে নবী আপনি বলুন) তোমরা আল্লাহর দিকে ছুটে যাও। আমি তো তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী। (সুরা যারিয়াত: ৫০)   তাসবিহ, আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও স্মরণ মুমিনের সার্বক্ষণিক ইবাদত। দিনের বিভিন্ন সময় ও অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি তোমার রবের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তুমি শয্যা ত্যাগ কর এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা কর রাতে ও তারকার অস্ত গমনের পর। (সুরা তুর: ৪৮, ৪৯) ইসলামে সৎ ও সত্যবাদী ব্যবসায়ীর বিশেষ মর্যাদা আছে। যারা ইনসাফ, সততা ও সত্যবাদিতা বজায় রেখে ব্যবসা করে, মাপে কম দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে প্রতারণার আশ্রয় নেয় না, ধোঁকা দেয় না, কাউকে ঠকায় না। বেচাকেনার ক্ষেত্রে মাপে কম দেওয়াসহ যে কোনো রকম প্রতারণা হারাম ও অত্যন্ত গর্হিত পাপ। বেচাকেনায় যথাযথভাবে ওজন করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে ওজন প্রতিষ্ঠা কর এবং ওজনকৃত বস্তু কম দিও না। (সুরা রহমান: ৯) ইসলামে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদ ব্যয়, জাকাত ও নফল সদকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। জাকাত ফরজ ইবাদত, ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। এ ছাড়া বেশি বেশি নফল সদকা করাও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। ইমানের পরে সম্পদ ব্যয় করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ইমান আন এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন, তা থেকে ব্যয় কর। তোমাদের মধ্যে যারা ইমান আনে ও (আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী) ব্যয় করে তাদের জন্য রয়েছে বিরাট প্রতিদান। (সুরা হাদিদ: ৭)

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখছেন? যেসব সমস্যা হতে পারে

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখছেন? যেসব সমস্যা হতে পারে অনেকেই রাতে মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন। আবার সকালবেলা উঠেই হাতে মোবাইল নেন। ঘেুম ভাঙা চোখে সামাজিক মাধ্যম স্ক্রল করেন। নিয়মিত এ ধরনের অভ্যাস শরীর ও মনের উপর ব্যাপক চাপ তৈরি করে। যেমন- মস্তিষ্কের উপর চাপ সৃষ্টি ঘুমোনোর সময়ে মস্তিষ্কও বিশ্রাম নেয়। তখন ডেল্টা মোডে থাকে। ঘুম ভাঙার সময়ে থিটা মোডে পৌঁছে যায়। এর পরে যখন আলফা মোড আসে, তখন ঘুম ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কও সক্রিয় হয় না। মস্তিষ্ক যে স্তরে সক্রিয় হয়, তাকে বিটা মোড বলে। কিন্তু কেউ যদি চোখ খোলা মাত্রই মোবাইল ঘাঁটে, একের পর এক তথ্য দেখতে থাকে, তখনই মস্তিষ্ককে হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে যেতে হয়। অর্থাৎ, মস্তিষ্ক ডেল্টা মোড থেকে সরাসরি বিটা মোডে পৌঁছে যায়। এটা মস্তিষ্কের উপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। মানসিক চাপ বাড়ে ঘুম থেকে ওঠার সময়ে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে। সেই সময় আবার যদি ফোন দেখেন তাহলে মস্তিষ্কের উপর আরও চাপ বাড়ে। মোবাইলের পর্দায় উঠে আসা বিভিন্ন কনটেন্ট, মেসেজ মানসিক চাপ বাড়ায়। এর ফলে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা যেমন বাড়ে,তেমনি মানসিক ক্লান্তিও বাড়ে। তৈরি হয় অ্যাংজ়াইটি। ঘুম উঠে মোবাইল ঘাটাঘাটি এই অভ্যাস মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে । চোখের ক্ষতি হয় ঘুম ঘুম চোখে মোবাইল দেখলে চোখেরও ক্ষতি হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখলে ফোনের নীল রশ্মি চোখের উপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে অনেক সময় ড্রাই আইজ়ের সমস্যা দেখা দেয়। কাজে মনোযোগ আসে না ঘুম থেকে উঠে মোবাইল দেখার অভ্যাস গোটা দিনটা নষ্ট করে দিতে পারে। এই অভ্যাস মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়। এতে কাজে উৎসাহও পাওয়া যায় না। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য বা সমালোচনা এমনভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে যে, সারাদিন ওই সব বিষয়ই মাথায় চলতে থাকে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে স্মার্টফোনের নীল আলো মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। এই হরমোন ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ে মোবাইল স্ক্রল করলে হরমোনের মাত্রা কমে যায়, ঘুম আসে না। আবার ঘুম থেকে উঠে মোবাইল ঘাঁটাঘাটি করলেও এই হরমোনের নিঃসরণেও বাধা তৈরি হয়। শরীরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। এর ফলেঅনিদ্রার সমস্যা বাড়ে। ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পরে মোবাইলে হাত দেওয়া উচিত।

রান্না করা মুরগির মাংস কতক্ষণ ফ্রিজে রাখা যাবে?

রান্না করা মুরগির মাংস কতক্ষণ ফ্রিজে রাখা যাবে? রান্না করা যেসব খাবার ফ্রিজে বেশি সংরক্ষণ করা হয়, তার মধ্যে মুরগির মাংস অন্যতম। অনেকে একসঙ্গে অনেকখানি মাংস রান্না করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় বের খেয়ে থাকেন। কেউ আবার বার্গারের পেটি, চিকেন ফ্রাই, চিকেন নাগেটস ইত্যাদিও সংরক্ষণ করেন। তবে, খাদ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়। রান্না করা মুরগি কতক্ষণ নিরাপদে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে এবং খাওয়া অনিরাপদ হয়ে ওঠে? খাদ্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সঠিকভাবে রান্না করা খাবারও যদি খুব বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা হয় তবে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ফ্রিজে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার অর্থ অবশিষ্ট খাবারের শেলফ লাইফ সীমিত থাকে। সঠিক সংরক্ষণের সময়কাল, হিমায়ন তাপমাত্রা এবং নষ্ট হওয়ার সতর্কতা লক্ষণ জানা থাকলে খাবারের সঠিক ব্যবহার করা ও সুস্থ থাকা সহজ হয়। রান্না করা মুরগি কতক্ষণ আপনার ফ্রিজে নিরাপদে থাকতে পারে : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (USDA) এর খাদ্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা বলছে যে, রান্না করা মুরগি সাধারণত তিন থেকে চার দিনের জন্য ফ্রিজে নিরাপদে সংরক্ষণ করা যেতে পারে যদি তাপমাত্রা ৪০°F (৪°C) বা তার নিচে থাকে। USDA খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা বলছে যে এই সময়সীমা বেশিরভাগ রান্না করা মুরগির খাবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমন গ্রিল করা, ভাজা, বা স্যুপ বা ক্যাসেরোল তৈরিতে ব্যবহৃত মুরগি। তিন থেকে চার দিনের পরে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এর বেশি সময় ধরে ফ্রিজে থাকা অবশিষ্টাংশ ফেলে দেওয়া উচিত। রান্না করা মুরগি কেন খুব বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায় না রেফ্রিজারেশন ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ধীর করে দেয়, তবে এটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে না। কিছু অণুজীব ঠান্ডা থাকলেও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলেছে যে, খাবার থেকে মানুষকে অসুস্থ করে তোলে এমন ব্যাকটেরিয়া এমন খাবারেও বৃদ্ধি পেতে পারে যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বা খুব বেশি সময় ধরে ফ্রিজে রাখা হয়েছে। হাঁস-মুরগিতে পাওয়া কিছু সাধারণ ব্যাকটেরিয়া হল: সালমোনেলা ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ক্লোস্ট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেন এই ব্যাকটেরিয়াগুলো বিশ্বজুড়ে খাদ্যজনিত অসুস্থতার সবচেয়ে সাধারণ কারণের মধ্যে একটি। সিডিসির মতে, দূষিত খাবার কখনও কখনও স্বাভাবিক দেখাতে পারে, যার অর্থ কেবল গন্ধ বা স্বাদ নির্ভরযোগ্যভাবে নির্দেশ করতে পারে না যে খাবারটি নিরাপদ কিনা। ফ্রিজে রান্না করা মুরগি সংরক্ষণের সঠিক উপায় খাদ্য সুরক্ষা সংস্থাগুলো জোর দেয় যে, কীভাবে অবশিষ্টাংশ সংরক্ষণ করা হয়, তা কতক্ষণ নিরাপদ থাকে তার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখুন ইউএসডিএ খাদ্য সুরক্ষা সুপারিশ অনুসারে, রান্না করা খাবার রান্না করার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখা উচিত। যদি আশেপাশের তাপমাত্রা 90°F (32°C) এর বেশি হয়, তাহলে খাবারটি এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখা উচিত। বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার করুন রান্না করা মুরগি বায়ুরোধী পাত্রে অথবা শক্তভাবে সিল করা প্যাকেজিংয়ে রাখা উচিত। এটি আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমায়। রেফ্রিজারেটরের নিরাপদ তাপমাত্রা বজায় রাখুন মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলে যে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ধীর করার জন্য, রেফ্রিজারেটরগুলিকে ৪০°F (৪°C) বা তার কম তাপমাত্রায় রাখা উচিত। অবশিষ্টাংশ ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন ছোট পাত্রে অবশিষ্টাংশ রাখলে তা দ্রুত ঠান্ডা হতে সাহায্য করে, যা ঠান্ডা হওয়ার সময় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়। রান্না করা মুরগি নষ্ট হয়ে যাওয়ার লক্ষণ যদিও আপনি সঠিক সময়ের জন্য মুরগি রাখেন, তবুও পরিস্থিতি ঠিক না থাকলে তা নষ্ট হতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করা উচিত। গন্ধের পরিবর্তন: নষ্ট হয়ে যাওয়া মুরগির গন্ধ টক বা খারাপ হতে পারে। গঠনের পরিবর্তন: যদি রান্না করা মুরগি পাতলা বা আঠালো মনে হয়, তাহলে এর অর্থ হতে পারে যে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। রঙের পরিবর্তন: যদি রান্না করা মুরগির রঙ ধূসর বা একটু সবুজ হয়ে যায়, তাহলে এটি আর খাওয়া নিরাপদ না-ও থাকতে পারে। রান্না করা মুরগি কি বেশিক্ষণ ধরে হিমায়িত করা যায়? রান্না করা মুরগি হিমায়িত করলে তা সংরক্ষণে অনেক বেশি সময় ধরে টিকে থাকতে পারে। USDA বলে যে, রান্না করা মুরগি সাধারণত দুই থেকে ছয় মাস ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। হিমায়িত তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ হয়। তবে হিমায়িত করলে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয় না। অবশিষ্ট মুরগি কেন সঠিকভাবে পুনরায় গরম করা উচিত? খাদ্য নিরাপদ রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো অবশিষ্ট খাবার সঠিকভাবে পুনরায় গরম করা। USDA খাদ্য সুরক্ষা ও পরিদর্শন পরিষেবা বলে যে, অবশিষ্ট খাবার ১৬৫°F (৭৪°C) এর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রায় না পৌঁছানো পর্যন্ত গরম করা উচিত। এই তাপমাত্রা সেই ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলে যা খাবার সংরক্ষণের সময় বেড়ে উঠতে পারে।

আপনাদের সম্পর্ক কি সুন্দর? 

আপনাদের সম্পর্ক কি সুন্দর?  অনেকেই বলে থাকেন যে, যখন আপনি একটি ভালো সম্পর্কের মধ্যে থাকেন, তখন সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই প্রবাহিত হয়। অন্যরা যুক্তি দেবেন যে ভালোবাসায় অনায়াসে কিছু হয় না। সম্ভবত উভয়ই ঠিক। যাই হোক না কেন, আপনি যখন একটি সুস্থ সম্পর্কের মধ্যে থাকবেন তখন আপনি অবশ্যই বুঝতে পারবেন। ভাবছেন আপনার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তা আছে কি না? চলুন মিলিয়ে নেওয়া যাক- সব পরিস্থিতিতে সম্মানজনক আচরণ দ্বন্দ্ব যেকোনো অংশীদারিত্বের একটি অংশ। কিন্তু আপনি বা আপনার সঙ্গী কীভাবে এটি মোকাবেলা করবেন? লৌহমুষ্টি দিয়ে নাকি ধৈর্য এবং বোধগম্যতার সাথে? মনে রাখবেন যে যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান সবার আগে জরুরি। যদি আপনার সঙ্গী আপনার প্রতি রাগের সময়ও শ্রদ্ধাশীল থাকে, তবে বুঝে নেবেন আপনার সম্পর্ক সঠিক পথে চলছে। কারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, শ্রদ্ধা ভালোবাসার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি দ্বিমত পোষণ করতে পারেন যখন ভিন্ন মূল্যবোধ, পটভূমি এবং লালন-পালনের দুটি মানুষ একটি জীবন ভাগ করে নেয়, তখন মতবিরোধ অবশ্যই ঘটবে। এই সত্যটি বোঝাই একটি সম্পর্ককে কার্যকর করে তোলে। সঙ্গীর প্রতিটি মতামতের সাথে আপনাকে একমত হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু আপনার মতামত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও উচিত নয়। সহাবস্থানের এটাই সূক্ষ্ম শিল্প। রাজনীতি হোক, অভিভাবকত্বের নীতি হোক, অথবা ফ্যাশনের জ্ঞান, ক্ষমতার লড়াইয়ে না গিয়েও আপনি আপনার অবস্থান ধরে রাখতে পারেন। কাজ ভাগ করে নেওয়া নিজেদের কাজগুলো আপনারা মিলেমিলে করেন, যে যেটাতে দক্ষ, সেভাবে ভাগ করে নেন? এমনটা যদি থাকে, বুঝে নেবেন আপনি একটি সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্ক বয়ে যাচ্ছেন। সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় অংশীদারই অবদান রাখে। হতে পারে শুক্রবার রাতে একজন রান্না করা এবং অন্যজন পরিষ্কার করার মতো সহজ একটি উদাহরণ। ধারণাটি হলো রুমমেটের মতো কাজ ভাগ করে নেওয়া নয়, বরং একে অন্যের বোঝা ভাগ করে নেওয়া। দুজনেই সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি সম্পর্কে থাকার অর্থ হলো সব সময় একে-অন্যের পাশে থাকা। শুধুমাত্র ভালো দিনগুলোতে নয়, বরং সেই দিনগুলিতেও যখন সবকিছু ভেঙে পড়ছে। একটি সুস্থ অংশীদারিত্বে উভয়ই উপস্থিত হয়। এখানে প্রতিশ্রুতি পারস্পরিক। তারা উভয়েই সম্পর্কের মধ্যে উপস্থিত। তারা একে অপরের পাশে সব সময় থাকে। নিজেকে প্রকাশ করার স্বাধীনতা সঙ্গী পাশে থাকাকালীনও যদি আপনাকে অন্য কারো মতো ভান করতে না হয়, তাহলে এটি একটি ভালো সম্পর্কের একটি অবিশ্বাস্য লক্ষণ। নিজের স্বভাবের মতো হতে পারা এবং অন্য কারো মতো জাহির না করা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কের মধ্যে নিজেকে প্রকাশ করার স্বাধীনতা হলো একটি গ্রিন সিগনাল।

ব্যর্থ সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার দিন আজ

ব্যর্থ সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার দিন আজ জীবনের প্রতিটি সম্পর্ক সফল হবে – এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবু প্রতিটি সম্পর্ক মানুষকে কিছু না কিছু শেখায়। আর সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় আজকের এই দিন – ব্যর্থ সম্পর্কের বোঝা পেছনে ফেলে নতুনভাবে শুরু করার দিন বা মুভ অন ডে। অনেকের কাছে আজকের এই ৯ মার্চ কেবল একটি প্রতীকী দিন। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা সম্পর্কের কষ্ট, অনুশোচনা বা স্মৃতির ভার বয়ে চলেছেন, তাদের জন্য এই দিনটি হতে পারে নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার উপলক্ষ। কেন ভাঙা সম্পর্ক থেকে বের হওয়া জরুরি একটি ব্যর্থ সম্পর্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। হতাশা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া কিংবা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভয় – এসব অনুভূতি স্বাভাবিক। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, দীর্ঘদিন অতীতের কষ্ট আঁকড়ে ধরে থাকলে ব্যক্তিগত উন্নতি থেমে যেতে পারে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, মানসিক সুস্থতার জন্য কখনো কখনো অতীতকে ছেড়ে দেওয়া এবং নতুন বাস্তবতাকে গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক শুধু দুজন মানুষের বন্ধন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অভ্যাস, স্মৃতি, পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তাই বিচ্ছেদ মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়, অনেক সময় একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকেও হারানো। সম্পর্ক ভাঙার মতো মানসিক চাপের ঘটনা মানুষের আবেগ, ঘুম এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সঠিক সমর্থন ও সময় পেলে বেশিরভাগ মানুষই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। এগিয়ে যাওয়ার জন্য কী করা যেতে পারে ১. নিজেকে সময় দিন বিচ্ছেদের পর দুঃখ বা রাগ অনুভব করা অস্বাভাবিক নয়। অনুভূতিগুলোকে অস্বীকার না করে সময় দিন নিজেকে। ২. নিজের প্রতি যত্নশীল হোন পছন্দের কাজ করা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা নতুন কোনো দক্ষতা শেখা – এগুলো মানসিকভাবে শক্ত হতে সাহায্য করে। ৩. অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন ভাঙা সম্পর্ক মানেই ব্যর্থতা নয়। বরং এটি ভবিষ্যতে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি শিক্ষা হতে পারে। ৪. ভবিষ্যতের দিকে তাকান জীবনের সম্ভাবনা কোনো একটি সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়। সামনে আরও নতুন মানুষ, নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন গল্প অপেক্ষা করে থাকে। অনেক সময় মানুষ ভাঙা সম্পর্কের স্মৃতি এত শক্ত করে ধরে রাখে যে নতুন করে জীবন শুরু করার সাহস পায় না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জীবন সবসময় সামনে এগিয়ে যায়। তাই কখনো কখনো সবচেয়ে বড় সাহসিকতার কাজ হলো – পেছনের দরজাটি বন্ধ করে সামনে থাকা পথটিকে বেছে নেওয়া।

দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস কমাবেন যেভাবে

দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস কমাবেন যেভাবে অনেকেরই খুব দ্রুত খাবার খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। অফিসের তাড়া, কাজের চাপ, সময়ের অভাব আবার কেউ বা এমনিতেই তাড়াহুড়া করে খাবার খান। চিকিৎসকদের মতে, তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়। এতে নিজের অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়। এর ফলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা যখন খাবার খাই তখন শরীরের ভেতরে কিছু হরমোন কাজ করতে শুরু করে। এই হরমোনগুলো মস্তিষ্ককে জানায় পেট ভরেছে কিনা। এই বার্তার মস্তিষ্কে পৌঁছতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু কেউ যদি খুব দ্রুত খাবার খেয়ে ফেলেন, তাহলে শরীরের ‘পেট ভরে গিয়েছে’ সংকেত পাওয়ার আগেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে এবং সময়ের সঙ্গে ওজন বাড়তে শুরু করে। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত খাওয়ার কারণে শুধু ওজনই বাড়ে না, হজমের সমস্যাও হতে পারে। কারণ খাবার ভালো করে চিবিয়ে না খেলে তা পেটের জন্য হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে গ্যাস,পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসক আরও বলেছেন, আজকাল অনেকেই প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ফাস্ট ফুড বেশি খেয়ে থাকেন। এই ধরনের খাবার সাধারণত খুব দ্রুত খাওয়া যায় এবং এতে ক্যালরিও বেশি থাকে। এর ফলে মানুষ বুঝতে না পেরে অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস কমাতে কিছু উপায় বেছে নিতে পারেন। যেমন- খাওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে খাবারের গন্ধ নিন বা ভাল করে দেখে নিন। এতে শরীর ধীরে ধীরে খাবারের জন্য প্রস্তুত হবে এবং খাওয়ার গতি কিছুটা কমবে। প্রতিটি খাবার ধীরে ধীরে ও ভালো করে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি গ্রাস অন্তত ২০ থেকে ৩০ বার চিবিয়ে খাওয়া ভালো। এতে খাবার সহজে হজম হয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনাও কমে। এছাড়া এক একটি গ্রাস নেওয়ার মাঝে কয়েক সেকেন্ড বিরতি নেওয়াও উপকারী। এতে শরীর বুঝতে পারে পেট কতটা ভরেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় নিয়ে খাবার খেলে যেমন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তেমনি হজম ভালো হয়।