নারীর জন্য লালশাক খাওয়া যে কারণে জরুরি

নারীর জন্য লালশাক খাওয়া যে কারণে জরুরি নারীদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতি সবচেয়ে সাধারণ পুষ্টিগত উদ্বেগের মধ্যে একটি, বিশেষ করে মাসিক, সন্তান জন্মদানের পর রক্তক্ষরণ এবং পুষ্টির ঘাটতির কারণে। প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণের মধ্যে সাধারণত ক্লান্তি, চুল পড়া, ফ্যাকাশে ত্বক এবং ঘন ঘন দুর্বলতা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়রন সমৃদ্ধ লাল শাক স্বাস্থ্যকর আয়রনের মাত্রা অনেকটাই বাড়াতে পারে। এছাড়া লাল রঙের অন্যান্য শাক-সবজিও এই তালিকায় রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়ায যাক নারীর স্বাস্থ্যের জন্য লালশাক কেন জরুরি- ১. উদ্ভিদ-ভিত্তিক আয়রনের প্রাকৃতিক উৎস লালশাক নন-হিম আয়রনে সমৃদ্ধ, যা উদ্ভিদ-ভিত্তিক আয়রনের রূপ। হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য আয়রন অপরিহার্য, এটি লোহিত রক্তকণিকার (RCB) প্রোটিন যা সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে। নিয়মিত লালশাক খেলে তা আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে প্রজনন বয়সের নারীদের মধ্যে। ২. ভিটামিন সি এর সঙ্গে আয়রন শোষণ উন্নত করে লালশাকের একটি প্রধান সুবিধা হলো এতে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা আয়রনের শোষণ উন্নত করে। উদ্ভিদ-ভিত্তিক আয়রন প্রাণি-ভিত্তিক আয়রনের মতো সহজে শোষিত হয় না; তাই শোষণ বৃদ্ধির জন্য খাবারে লেবুর রস, টমেটো বা সাইট্রাস ফল যোগ করা উচিত। ৩. ফোলেট সমৃদ্ধ ভিটামিন বি৯, যা ফোলেট নামেও পরিচিত, সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা গঠনে অপরিহার্য। লাল শাকে ফোলেট থাকে এবং তাই এটি উপকারী, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় নারীদের জন্য, যেখানে তাদের পুষ্টির চাহিদা বেশি থাকে। ফোলেটের পর্যাপ্ত ব্যবহার ভ্রূণের বিকাশে সহায়তা করে এবং কিছু জন্মগত ত্রুটির ঘটনা রোধ করে। ৪. ক্লান্তি কমায় আয়রনের ঘাটতি হলে সাধারণত কম শক্তি এবং দুর্বলতা দেখা যায়। আয়রন ছাড়াও, লাল শাকে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম খনিজও থাকে, যা পেশী বিকাশ, শক্তি এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। সুস্থ হিমোগ্লোবিনের মাত্রার মাধ্যমে উন্নত অক্সিজেন সরবরাহ স্থায়ী ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। ৫. ফাইবার সমৃদ্ধ, কম ক্যালোরি লালশাকে প্রচুর পুষ্টি থাকে কিন্তু ক্যালোরি কম থাকে। এতে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা পাচনতন্ত্রে সাহায্য করে এবং পুষ্টির শোষণ বাড়ায়, পরোক্ষভাবে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। শরীরের হরমোন স্থিতিশীলতা এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক ওজনের ভারসাম্য নিশ্চিত করতেও এগুলো কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
রোজায় সুস্থ ও সতেজ থাকতে যা খাবেন
রোজায় সুস্থ ও সতেজ থাকতে যা খাবেন রোজায় সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে আসলে আলাদা করে তেমন কিছুই করতে হবে না, কেবল খাবারের দিকে একটু মনোযোগী হলেই যথেষ্ট। এই যেমন ইফতারে ভাজাপোড়া, মসলাদার খাবার আর কেমিক্যালযুক্ত পানীয় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা, পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। ইফতারে খুব বেশি খাবার একসঙ্গে না খাওয়া আর সাহরি বাদ না দেওয়া, এসব অভ্যাস মেনে চললে আপনি অনেকটাই সুস্থ থাকতে পারবেন। রোজায় নিজেকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে কিছু খাবার সঠিকভাবে খেতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক- পানীয় রোজায় সতেজ এবং হাইড্রেটেড থাকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজা রাখার ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে একটি। রমজানে হাইড্রেশন বজায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পান করার জন্য সময় কম থাকে। তাই পানীয় নির্বাচন করার সময় আপনাকে বিচক্ষণ হতে হবে, ক্যাফিনেটেড বা কার্বনেটেড পানীয়ের বদলে উপকারী পানীয় বেছে নিতে হবে। শক্তি বজায় রাখতে রমজানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শক্তি বজায় রাখা। ধীরগতির, তন্তুযুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর খাবার আপনার জন্য সবচেয়ে উপকারী হবে, কারণ চর্বি সঞ্চয়ের অর্থ সারা দিন নিয়মিতভাবে শক্তি নির্গত হবে। তবে গ্লুকোজ-জ্বালানিযুক্ত খাবার আপনাকে দ্রুত শক্তির বিস্ফোরণ ঘটাবে এবং অবশেষে ক্র্যাশের দিকে নিয়ে যাবে। পুষ্টিকর খাবার সারাদিন ধরে শক্তির চাহিদার ওপর ভিত্তি করে খাবার বেছে নিন। শক্তি বৃদ্ধিকারী গুণাবলী এবং ফাইবার, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং বি ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে খেজুর রোজা ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর পাশাপাশি এটি হজমে সহায়তা করতে এবং অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে। রোজা তীব্র ডিটক্সের মাধ্যমে শরীর পরিষ্কার করতে বাধ্য করে। পানি পান করা এবং পরিষ্কারভাবে খাওয়ার ফলে শারীরিক কার্যকারিতা উন্নত হয়। একইভাবে, দীর্ঘ সময় ধরে কিছু না খাওয়ার ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার হয় এবং পুষ্টির জন্য জায়গা তৈরি হয়।
ইফতারের টেবিলে রাখুন ফিশ ফিঙ্গার এবং গ্রিন চিকেন কাবাব

ইফতারের টেবিলে রাখুন ফিশ ফিঙ্গার এবং গ্রিন চিকেন কাবাব ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি তো ইফতারে রোজ রোজ খাওয়া হয়। স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে মাঝে মাঝে বাসায় বানিয়ে ফেলুন ফিশ ফিঙ্গার কিংবা গ্রিন চিকেন কাবাব। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী মোস্তারিনা পারভীন রুনি ফিশ ফিঙ্গার উপকরণ: রুই মাছ ২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ, আদা রসুন বাটা ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, সেদ্ধ করা আলু বড় ১টি, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, মটরশুটি ১ টেবিল চামচ, গরম মসলার গুড়া ১ চা চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, ধনিয়া পাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, ডিম ১টি, ব্রেডক্রাম পরিমাণমতো, ভাজার জন্য সাদা তেল পরিমাণ মতো, লবণ পরিমাণমতো। প্রস্তুত প্রণালি: রুই মাছ এক কাপ পানি, আদা-রসুন বাটা, হলুদ দিয়ে ভালো করে সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ করা হলে পানি ঝরিয়ে মাছের কাঁটা বেছে নিন। মটরশুটিও সেদ্ধ করে নিন। এবার আলু সেদ্ধ করে ম্যাশ করে মাছের সাথে মিশিয়ে তাতে ব্রেডক্রাম, তেল, ডিম বাদে সব উপকরণ একসাথে মেখে নিন। মাখানো হয়ে গেলে ফিঙ্গারশেপে বানিয়ে ডিমের গোলায় ডুবিয়ে ব্রেডক্রামে গড়িয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিন। গ্রিন চিকেন কাবাব উপকরণ: বোনলেস চিকেন ৫০০ গ্রাম, ধনিয়া পাতা বাটা আধা কাপ, পুদিনা পাতা বাটা ২ টেবিল চামচ, আদা রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, টক দই আধা কাপ, কাবাব মসলা ১ চা চামচ, জিরা গুড়া ১ চা চামচ, সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, গোল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, সাদা তেল পরিমাণমতো। প্রস্তুত প্রণালি: হাড়ছাড়া মুরগির বুকের মাংস চার কণা করে কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। সাদা তেল আর লেবুর রস বাদে সব উপকরণ মুরগির মাংসের সাথে ভালো করে মেখে নিন। মেরিনেট করে নরমাল ফ্রিজে ১ থেকে ২ ঘন্টা রাখুন। ফ্রিজ থেকে বের করে লেবুর রস দিন। ভালো করে নেড়েচেড়ে সাসলিকের কাঠিতে গেঁথে নিন। ননস্টিক ফ্রাই প্যানে অল্প আঁচে এপিঠ ওপিট ভালো করে ভেজে নিন। বাদামি রঙ আসলে নামিয়ে নিন পরিবেশন করুন মজাদার গ্রিন চিকেন কাবাব।
লালশাক খাওয়া যে কারণে জরুরি

লালশাক খাওয়া যে কারণে জরুরি নারীদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতি সবচেয়ে সাধারণ পুষ্টিগত উদ্বেগের মধ্যে একটি, বিশেষ করে মাসিক, সন্তান জন্মদানের পর রক্তক্ষরণ এবং পুষ্টির ঘাটতির কারণে। প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণের মধ্যে সাধারণত ক্লান্তি, চুল পড়া, ফ্যাকাশে ত্বক এবং ঘন ঘন দুর্বলতা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়রন সমৃদ্ধ লাল শাক স্বাস্থ্যকর আয়রনের মাত্রা অনেকটাই বাড়াতে পারে। এছাড়া লাল রঙের অন্যান্য শাক-সবজিও এই তালিকায় রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়ায যাক নারীর স্বাস্থ্যের জন্য লালশাক কেন জরুরি- ১. উদ্ভিদ-ভিত্তিক আয়রনের প্রাকৃতিক উৎস লালশাক নন-হিম আয়রনে সমৃদ্ধ, যা উদ্ভিদ-ভিত্তিক আয়রনের রূপ। হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য আয়রন অপরিহার্য, এটি লোহিত রক্তকণিকার (RCB) প্রোটিন যা সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে। নিয়মিত লালশাক খেলে তা আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে প্রজনন বয়সের নারীদের মধ্যে। ২. ভিটামিন সি এর সঙ্গে আয়রন শোষণ উন্নত করে লালশাকের একটি প্রধান সুবিধা হলো এতে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা আয়রনের শোষণ উন্নত করে। উদ্ভিদ-ভিত্তিক আয়রন প্রাণি-ভিত্তিক আয়রনের মতো সহজে শোষিত হয় না; তাই শোষণ বৃদ্ধির জন্য খাবারে লেবুর রস, টমেটো বা সাইট্রাস ফল যোগ করা উচিত। ৩. ফোলেট সমৃদ্ধ ভিটামিন বি৯, যা ফোলেট নামেও পরিচিত, সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা গঠনে অপরিহার্য। লাল শাকে ফোলেট থাকে এবং তাই এটি উপকারী, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় নারীদের জন্য, যেখানে তাদের পুষ্টির চাহিদা বেশি থাকে। ফোলেটের পর্যাপ্ত ব্যবহার ভ্রূণের বিকাশে সহায়তা করে এবং কিছু জন্মগত ত্রুটির ঘটনা রোধ করে। ৪. ক্লান্তি কমায় আয়রনের ঘাটতি হলে সাধারণত কম শক্তি এবং দুর্বলতা দেখা যায়। আয়রন ছাড়াও, লাল শাকে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম খনিজও থাকে, যা পেশী বিকাশ, শক্তি এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। সুস্থ হিমোগ্লোবিনের মাত্রার মাধ্যমে উন্নত অক্সিজেন সরবরাহ স্থায়ী ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। ৫. ফাইবার সমৃদ্ধ, কম ক্যালোরি লালশাকে প্রচুর পুষ্টি থাকে কিন্তু ক্যালোরি কম থাকে। এতে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা পাচনতন্ত্রে সাহায্য করে এবং পুষ্টির শোষণ বাড়ায়, পরোক্ষভাবে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। শরীরের হরমোন স্থিতিশীলতা এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক ওজনের ভারসাম্য নিশ্চিত করতেও এগুলো কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
রোজা রাখার মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতা

রোজা রাখার মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতা রোজা রাখার ফলে আমাদের শরীর নানাভাবে উপকার লাভ করে, একথা এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। তবে এখানেই শেষ নয়, শারীরিক নানা উপকারিতার পাশাপাশি রোজা রাখার অনেকগুলো মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। পুরো একমাস রোজা থাকার ফলে জীবনযাপনের অনেক বিষয়ই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, জন্মায় পরিমিতবোধ। রোজা মানুষকে আরও বেশি সংযত হতে শেখায়, শেখায় সহমর্মিতা। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজা রাখার কিছু মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে- আধ্যাত্মিকভাবে রমজান মাসে মানসিক স্বাস্থ্য আরও ধ্যানমগ্ন হয়ে ওঠে, যা আপনাকে দৈনন্দিন আরাম-আয়েশের সঙ্গে নিজেকে জড়িত করার পরিবর্তে আধ্যাত্মিক ক্ষমতায় প্রার্থনা এবং প্রতিফলিত করার সুযোগ দেয়। আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং সংযম রোজার বিশাল কারণ, যা আল্লাহর সঙ্গে আপনার সংযোগকে শক্তিশালী করে। এর কারণ হলো আপনি আপনার যা প্রয়োজন তা সরবরাহ করার এবং আপনার চাহিদা দূর করার জন্য তাঁর ওপর আস্থা স্থাপন করেন। আবেগগতভাবে রমজানে গভীর ইবাদতে মগ্ন হওয়া একটি গভীর আবেগগত অভিজ্ঞতা হতে পারে। মনের শান্তি থেকে তৃপ্তি পর্যন্ত, রমজান হলো আল্লাহ আপনাকে যা উপহার দিয়েছেন তা উপলব্ধি করার উপযুক্ত সময়। ইফতারের মুহূর্তটি এমন একটি সময় যা পরিবারের সঙ্গে কাটানো উচিত, যার ফলে এক মাসের ত্যাগের পরে ভালোবাসা এবং সান্ত্বনার অনুভূতি তৈরি হয়। অভ্যাসগতভাবে প্রত্যেকেই খারাপ অভ্যাস বা আসক্তির জন্য দোষী, তা যত তীব্র বা ছোটই হোক না কেন। তাই রমজানে আমরা সবাই নিজেদের উন্নতির জন্য কিছু করতে পারি। ধূমপান ত্যাগ করা, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা অথবা মিথ্যা বলা বন্ধ করা যাই হোক না কেন, রমজান হলো এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো আনার আদর্শ সময়। যদি আপনি আপনার খারাপ অভ্যাসগুলো দূর করতে প্রস্তুত না হন, তাহলে আপনি রমজানকে একগুঁয়েমি বা পরচর্চার মতো অপ্রীতিকর ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যর বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় হিসাবে বেছে নিতে পারেন। মুসলমানদের উচিত রমজানের সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমস্ত খারাপ ও ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করা, যার ফলে জীবনযাত্রা উন্নত হবে। জীবনযাত্রার উন্নতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও আপনি রমজানের রোজার উপকারিতা অনুভব করতে পারবেন।
চীনে মিলল কাঁটায় ঢাকা ডাইনোসর !

চীনে মিলল কাঁটায় ঢাকা ডাইনোসর ! ডাইনোসর মানেই বিশাল দেহ আর ভয়ংকর চেহারা—এমন ধারণাই সবার। কিন্তু এবার চীনে পাওয়া গেল এক ভিন্ন রকম ডাইনোসরের জীবাশ্ম। তার শরীরজুড়ে ছিল সজারুর মতো ফাঁপা কাঁটা। এমন বৈশিষ্ট্য আগে কোনো ডাইনোসরের মধ্যে দেখা যায়নি। চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের শিয়াওউজিয়াজি গ্রামের কাছে এই জীবাশ্মটি পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরটির নাম দিয়েছেন হাওলং ডোঙ্গি। প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আর্লি ক্রিটেশিয়াস যুগে এটি পৃথিবীতে বাস করত। এই জীবাশ্মটি একটি অল্পবয়সী ডাইনোসরের। এত ভালোভাবে সংরক্ষিত যে এর কোষ পর্যন্ত দেখা গেছে। গবেষকেরা এক্স-রে স্ক্যান ও অতি পাতলা অংশ কেটে উচ্চক্ষমতার মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করেন। তারা নিশ্চিত হন, কাঁটাগুলো হাড়ের অংশ নয়, বরং চামড়ার অংশ ছিল। হাওলং ডোঙ্গি ইগুয়ানোডন্টিয়া গোষ্ঠীর সদস্য। এরা ছিল তৃণভোজী ডাইনোসর। তাদের ঠোঁট ছিল চঞ্চুর মতো এবং পেছনের পা ছিল শক্তিশালী। ‘ইগুয়ানোডন্টিয়া’ শব্দের অর্থ ‘ইগুয়ানার দাঁত’, কারণ তাদের দাঁত আধুনিক ইগুয়ানার মতো ছিল। এই গোষ্ঠী প্রথম চিহ্নিত হয় ১৮২২ সালে। গবেষকদের মতে, সেই সময়ে চীনে ছোট আকারের মাংসাশী ডাইনোসরও ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এই ফাঁপা কাঁটা শিকারিদের ভয় দেখাতে বা দূরে রাখতে কাজে লাগত। অনেকটা আজকের সজারুর কাঁটার মতো। এছাড়া কাঁটাগুলো শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এমনকি আশপাশের নড়াচড়া টের পেতেও ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এটি যেহেতু অল্পবয়সী ডাইনোসর, বড় হলে কাঁটা থাকত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরও জীবাশ্ম মিললে এই রহস্যের সমাধান হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডের বরফ ভেতর থেকে নরম হচ্ছে, গলছে আগের চেয়ে দ্রুত !

গ্রিনল্যান্ডের বরফ ভেতর থেকে নরম হচ্ছে, গলছে আগের চেয়ে দ্রুত ! পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বরফস্তূপ গ্রিনল্যান্ড আইস শিট নিয়ে নতুন দুই গবেষণা বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। তারা বলছেন, এই বিশাল বরফস্তূপ ভেতর থেকে আগের ধারণার চেয়ে অনেক নরম। শুধু তাই নয়, ১৯৯০ সালের পর থেকে সেখানে অস্বাভাবিক হারে বরফ গলা বেড়েছে। প্রথম গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ক্রায়োস্ফিয়ার’ সাময়িকীতে। নরওয়ের বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা রাডার দিয়ে বরফের গভীরে অদ্ভুত স্তম্ভের মতো গঠন খুঁজে পান। তারা জানান, ভূত্বক থেকে উঠে আসা ভূ-তাপ বরফের নিচের অংশকে ধীরে ধীরে গরম করছে। এতে বরফ শক্ত থাকলেও ভেতরে ধীর গতিতে নড়াচড়া করছে। অনেকটা ফুটন্ত পানির ভেতর পাস্তা ঘোরার মতো। গবেষণার প্রধান রবার্ট ল বলেন, বরফের ভেতরে এভাবে ‘থার্মাল কনভেকশন’ (তাপের কারণে ভেতরে ঘূর্ণন) হবে—এটি আগে কল্পনাও করা হয়নি। উত্তর গ্রিনল্যান্ডে এই প্রক্রিয়া বেশি দেখা গেছে, যেখানে বরফের পুরুত্ব ২ হাজার ২০০ মিটারের বেশি। গবেষণায় বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলের গভীর বরফ আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি নরম। এতে ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠ কতটা বাড়বে, তার হিসাবও বদলে যেতে পারে। দ্বিতীয় গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ। বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জোসেপ বনসোমসের নেতৃত্বে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে চরম গলনের এলাকা প্রতি দশকে ২৮ লাখ বর্গকিলোমিটার হারে বেড়েছে। আগে প্রতি দশকে ১২.৭ গিগাটন বরফ গলত, এখন তা বেড়ে ৮২.৪ গিগাটনে পৌঁছেছে। ২০০০ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ ১০টি গলনের ঘটনার মধ্যে ৭টি ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এভাবে বরফ গলতে থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়বে। এতে উপকূলীয় দেশগুলো বড় ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি সমুদ্রের স্রোত ও বৈশ্বিক পরিবেশেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ক্যামেরায় ধরা পড়ল বজ্রঝড়ে গাছের মাথায় নীল আলোর ঝলক

ক্যামেরায় ধরা পড়ল বজ্রঝড়ে গাছের মাথায় নীল আলোর ঝলক বজ্রঝড়ের রাতে গাছের মাথায় নাকি হালকা নীল রঙের বিদ্যুতের ঝলক দেখা যায়—এমন ধারণা বিজ্ঞানীদের ছিল প্রায় একশ বছর ধরে। কিন্তু চোখে দেখা প্রমাণ ছিল না। এবার সেই রহস্যের পর্দা উঠল। যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রথমবারের মতো বাস্তব ঝড়ের মধ্যে গাছের চূড়ায় ক্ষীণ নীল বিদ্যুৎঝলক ধরতে পেরেছেন। এই ক্ষীণ ঝলককে বলা হয় ‘করোনা’ (খুব হালকা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ)। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’ সাময়িকীতে। গবেষণার প্রধান প্যাট্রিক ম্যাকফারল্যান্ড জানান, তারা একটি ২০১৩ সালের টয়োটা সিয়েনা গাড়িকে ছোট চলমান গবেষণাগারে পরিণত করেন। গাড়িতে বসানো হয় আবহাওয়া মাপার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র নির্ণায়ক (ইলেকট্রিক ফিল্ড ডিটেক্টর), লেজার যন্ত্র ও অতিবেগুনি রশ্মি ধরতে পারে এমন বিশেষ ক্যামেরা। কারণ এই ঝলক খালি চোখে দেখা যায় না। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে দলটি ফ্লোরিডা থেকে পেনসিলভানিয়া পর্যন্ত ঝড়ের পিছু নেয়। নর্থ ক্যারোলাইনার পেমব্রোকে একটি সুইটগাম গাছের ডগায় ক্যামেরা তাক করে তারা ৯০ মিনিটে ৪১টি করোনা দেখতে পান। প্রতিটি ঝলক সর্বোচ্চ তিন সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং এক পাতা থেকে আরেক পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। অন্য গাছেও একই দৃশ্য দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা বলেন, ঝড়ের মেঘে জমা বিদ্যুৎ মাটিতে বিপরীত চার্জ তৈরি করে। সেই চার্জ গাছের উঁচু পাতার ডগা দিয়ে বের হয়ে ক্ষীণ স্ফুলিঙ্গ তৈরি করে। ২০২২ সালের আগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব করোনা ‘হাইড্রক্সিল র্যাডিক্যাল’ (এক ধরনের রাসায়নিক কণা) তৈরি করে। এটি মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে সাহায্য করলেও ওজোন ও বায়ুদূষণও তৈরি করতে পারে। ল্যাবে দেখা গেছে, করোনা পাতার ডগা পুড়িয়ে দিতে পারে। গবেষকদের ধারণা, বহু বছর ধরে এমন ঘটনা গাছের বৃদ্ধি ও বিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত—ঝড়ের রাতে গাছের মাথায় সত্যিই লুকানো আলোর খেলা চলে।
রোজায় পানিশূন্যতার ভয়? যেভাবে সুস্থ থাকবেন

রোজায় পানিশূন্যতার ভয়? যেভাবে সুস্থ থাকবেন রোজায় হাইড্রেটেড থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রমজান মাসে বেশিরভাগ রোজাদারের ক্ষেত্রেই পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো ধরনের খাবার বা পানি গ্রহণ না করার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে কিছুটা পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে আপনি কিছু বিষয়ে সচেতন হলে রোজায় পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রমজানে পানিশূন্যতা রোধে কী করবেন- পর্যাপ্ত পানি পান করুন সেহরিতে কমপক্ষে ১-২ গ্লাস পানি পান করুন। কেবল ইফতারেই নয়, বরং রাতে যতটা সময় জেগে থাকবেন, কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করুন। তবে খাবার খাওয়ার মধ্যে বা সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পানি পান করবেন না। এতে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বরং খাবার খাওয়া ও পানি পানের মধ্যে অন্তত বিশ মিনিটের বিরতি রাখুন। যেসব খাবার বেশি খাবেন শসা, লেটুস এবং ফলের এর মতো পানি সমৃদ্ধ খাবার খান। অতিরিক্ত হাইড্রেশনের জন্য স্যুপ এবং মসুর ডাল জাতীয় খাবারও খেতে পারেন। এছাড়া বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর শরবত, স্মুদি ইত্যাদিও খেতে পারেন। ডাবের পানি রাখতে পারেন ইফতারে। এতে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি আরও অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপদান পাওয়া যাবে। ডিহাইড্রেশনের কারণ এড়িয়ে চলুন কিছু খাবার শরীরে পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে। সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন তরল খাবার হলেও চা, কোমল পানীয় কিংবা কফি রমজানে না খাওয়া কিংবা কম খাওয়াই ভালো। কারণ এগুলো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ। সেইসঙ্গে প্রস্রাবও বৃদ্ধি করে। প্রক্রিয়াজাত, ভাজা এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার গ্রহণ কমিয়ে দিন, যা তৃষ্ণা জাগায়। হালকা গরম পানি পান করুন হালকা গরম পানি পান করার অনেক উপকারিতা রয়েছে। ইফতারে আপনার ঠান্ডা শরবত খেতে ইচ্ছা হতেই পারে, তবে শরীরের ভালো জন্য হালকা গরম পানিই বেছে নিন। এই পানি আপনাকে হজমে সাহায্য করবে এবং শরীরকে বরফ-ঠান্ডা পানির চেয়ে তরল পদার্থ ভালোভাবে শোষণ করতে সাহায্য করবে।
ইফতারের পর অ্যাসিডিটি হয়? যা করবেন

ইফতারের পর অ্যাসিডিটি হয়? যা করবেন সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে নানান ধরনের খাবার খাওয়া হয়। মসলাদার খাবার, ডুবো তেলে ভাজা মুখরোচক খাবার খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে সচেতন থাকতে হবে। ইফতার ও সেহেরিতে মশলাদার ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তরল ও কম মশলাযুক্ত খাবার খেতে হবে। এছাড়াও খেতে হবে নির্দিষ্ট কিছু খাবার, যা অ্যাসিডিটি কমাতে সহায়ক। অ্যাসিডিটি দূর করতে কী খাবেন কলা তীব্র গ্যাস এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে খাদ্যতালিকায় কলা রাখুন। প্রতিদিন সেহরি বা ইফতারে একটি পাকা কলা খান। কলা পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে। এতে পটাসিয়াম ও প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড রয়েছে, যা পেটের আস্তরণকে আবৃত করে, অ্যাসিডিটির জ্বালাপোড়া কমায়। কলা হজম বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। ঠান্ডা দুধ ইফতারের পর অ্যাসিডিটি হলে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করুন। দুধ পেটের অ্যাসিডকে কমাতে সাহায্য করে। ঠান্ডা দুধ পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড কার্যকরভাবে শোষণ করে। তবে আপনার যদি ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স থাকে তাহলে দুধ পান না করাই ভালো। ডাবের পানি রোজায় অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগলে লেবুর শরবতের বদলে বেছে নিন প্রাকৃতিক পানীয়। সেটি হতে পারে ডাবের পানি। অ্যাসিডিটি কমাতে ডাবের পানি বিশেষভাবে কার্যকরী। ডাবের পানি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। সেইসঙ্গে এ পানিতে থাকে উপকারী মিনারেলসও। পুদিনা পাতা ইফতার করার পর অ্যাসিডিটি হলে কয়েকটি পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেয়ে নিন। চাইলে এক কাপ পানিতে কয়েকটি পুদিনা পাতা দিয়ে সেদ্ধ করে সেই পানিও পান করতে পারেন। এ পাতা অ্যাসিডিটি কমাতে সহায়ক। আদা অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে আদা কুচি করে কেটে লবণ দিয়ে খেতে পারেন। আদায় থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে সহায়ক। আদা খেতে অস্বস্তি লাগলে মৌরি চিবিয়ে খেতে পারেন। এটি পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশিতে প্রভাব ফেলে যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।