কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখবে পেস্তা বাদাম

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখবে পেস্তা বাদাম যেকোনো ধরনের মিষ্টান্ন যেমন পায়েস-ফিরনিতে খোসা ছাড়ানো কয়েক টুকরো পেস্তা দিলেই খাবারের কদর বেড়ে যায়। তবে শুধু তো খাবারের স্বাদ নয়, পেস্তা খাওয়া শরীরের জন্যও ভালো। অন্যান্য বাদামের চেয়ে দাম একটু বেশি বলে অনেকে তা খেতে চান না। কিন্তু প্রতিদিন মাত্র দুইটি পেস্তা খেলে যদি ওষুধ খরচ বেঁচে যায়, তবে একটু দামি হলেও খাওয়া যেতেই পারে। – পেস্তায় রয়েছে সহজপাচ্য ফাইবার, প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ওমেগা-৩। চোখ, চুল, ত্বক, হার্ট- সবই ভালো রাখে এই ড্রাই ফ্রুট। – ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রোটিনের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। এই বাদামে প্রোটিনের পরিমাণ অন্যান্য বাদামের চেয়ে বেশি। পেস্তায় ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ অনেক কম। তাই রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ভয় নেই। – অন্ত্রে উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে পেস্তা। যা বিপাকক্রিয়া ও হজম সংক্রান্ত সমস্যা নিরাময়ে করে এবং পরিপাকতন্ত্রের খেয়াল রাখে। – পেস্তাবাদামে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণ বেশি। শরীরে ইনফ্ল্যামেশন প্রদাহজনিত সমস্যাগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এই বাদাম। পেস্তায় রয়েছে লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স, যা শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে সুগারকে নিয়ন্ত্রণ করে। পেস্তা হাই ফাইবার ও হাই কোয়ালিটি প্রোটিনে সমৃদ্ধ। যা ফেরায় স্বাস্থ্যের হালো। ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। এতে আছে টোকেফেরল, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।পেস্তায় আছে ভরপুর ভিটামিন ই। যা ত্বক ও চুলের শুষ্কতা কমায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে খেলেই এর পুষ্টিগুণে ঝলমল করবে ত্বক ও চুল।
গরমে পান্তা ভাত কেন খাবেন?

গরমে পান্তা ভাত কেন খাবেন? পান্তা ভাত শুধু পহেলা বৈশাখের খাবার নয় বরং সারা বছর এটি খাওয়া যায়। গবেষণায় প্রমাণিত, গরম ভাতের চেয়ে পান্তা অনেক বেশি পুষ্টিকর। বিশেষ করে গরমকালে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে এর জুড়ি নেই। দশ-বারো ঘণ্টা ধরে সারা রাত রেখে দেওয়ার ফলে পানি ও ভাতের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। এসময় পানির নিচে থাকা ভাত বাতাসের অর্থাৎ অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসতে পারে না। পুষ্টিবিদরা বলছেন, পানির কারণে ভাতের এই ফারমেন্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। এর ফলে পান্তা ভাতের পুষ্টিগুণ বেড়ে যায়। এই গরমে পান্তা ভাত খেলে যেসব উপকারিকতা মেলে- ১. ফার্মেন্টেশনের ফলে পান্তা ভাতে ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা বেড়ে যায়। এই পুষ্টি শরীরের ক্লান্তি ভাব কমাতে এবং দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে অনিদ্রার সমস্যা দূর করে। ২. পান্তা ভাতে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রনের মতো পুষ্টি রয়েছে। এ কারণে দিনে অন্তত একবেলা পান্তা ভাত খেলেও দেহে পুষ্টির ঘাটতি দূর হবে। এছাড়া এই খাবারে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ৩. দেহের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে পান্তা ভাত। গরমে গ্যাস, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দূরে থাকবে এই খাবার খেলে। নিয়মিত পান্তা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে যাবে। ৪. যারা উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, টাইপ- টু ডায়াবেটিসের মতো রোগে ভুগছেন তারাও পান্তা ভাত খেতে পারেন। পান্তা খেলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। পাতা ভাতে থাকা প্রবায়োটিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ৫. পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা করে। এই খাবারে যেহেতু তরলের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই শরীরকে হাইড্রেটেডও রাখে পান্তা ভাত।
তরমুজের আইসক্রিম তৈরির রেসিপি

তরমুজের আইসক্রিম তৈরির রেসিপি গরমে প্রাণ জুড়াতে মিষ্টি ও রসালো স্বাদের তরমুজ খেতে কে না চায়। এই তরমুজ দিয়ে কিন্তু সুস্বাদু অনেক খাবারও তৈরি করা যায়। আপনি নিশ্চয়ই তরমুজের পুডিং কিংবা জ্যাম খেয়েছেন? আচ্ছা, কখনো কি তরমুজের আইসক্রিম খেয়েছেন? বাড়িতে এটি আপনি কিন্তু খুব সহজেই তৈরি করে নিতে পারবেন। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক, তরমুজের আইসক্রিম তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে : তরমুজ- ২ কাপ কনডেন্সড মিল্ক- ১/২ কাপ হুইপিং ক্রিম- ১ কাপ। যেভাবে তৈরি করবেন : তরমুজ ব্লেন্ড করে ছাঁকনি দিয়ে রসটুকু ছেঁকে নিন। এবার হুইপিং ক্রিম ইলেকট্রিক বিটার বা হ্যান্ড হুইস্ক দিয়ে হুইপ করে নিন। এরপর তার সঙ্গে তরমুজের রস ও কনডেন্সড মিল্ক আলতো ভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি আইসক্রিম কন্টেইনারে ঢেলে বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা রেখে জমিয়ে নিন। হয়ে গেলে বের করে পরিবেশন করুন ঠান্ডা ঠান্ডা তরমুজের আইসক্রিম।
আমার কম কাজ করলেও চলে : স্পর্শিয়া

আমার কম কাজ করলেও চলে : স্পর্শিয়া ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ অর্চিতা স্পর্শিয়া। পর্দায় তাকে নিয়মিত দেখা গেলেও ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কাজের সংখ্যা নিয়ে খুব একটা তাড়াহুড়ো নেই তার। সমসাময়িক অনেকের তুলনায় কেন তাকে পর্দায় কম দেখা যায়, সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন তিনি নিজেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনযাপন ও কাজের ধরণ নিয়ে কথা বলেন এই অভিনেত্রী। পর্দার স্পর্শিয়াকে দেখে অনেকে অনেক কিছু ভাবলেও বাস্তবে তিনি নিজেকে অত্যন্ত অলস বলে দাবি করেন। নিজের কাজ এবং ব্যক্তিত্ব নিয়ে অর্চিতা স্পর্শিয়া বলেন, ‘আমি কম কাজ করি কারণ আমি খুব আইলসা। আমি খুবই অলস। এবং আমার জীবনে যেহেতু খুব একটা ডিমান্ড নেই আমি খুবই সাধারণ মানুষ।’ জনসাধারণের মনে তারকাদের জীবন নিয়ে অনেক সময় ভুল ধারণা থাকে। সেই বিষয়টি নিয়ে অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘আমাকে বাইরে থেকে দেখলে অনেকে মনে করে যে আমি খুব মুডি বা খুব হাই-ফাই লাইফস্টাইল আমার, ওরকম কিছু না।’ শেষে বলেন, ‘আমি খুবই সাধারণ মানুষ, আমার জীবনযাপন খুবই সাধারণ। আমার খুব চাওয়া-পাওয়া নাই জীবনে, তো যে কারণে আমার কম কাজ করলেও চলে।’
শরীরে ভিটামিনের অভাব? বুঝবেন যেভাবে

শরীরে ভিটামিনের অভাব? বুঝবেন যেভাবে আজকের এই দ্রুতগতির বিশ্বে যেখানে মানুষ প্রচুর প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়, অনেক সময় আবার ঠিকমতো খায় না এবং প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকে, সেখানে ভিটামিনের অভাব আরও সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠছে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এগুলো অলক্ষ্যে থেকে যায়। গুরুতর অসুস্থতার মতো এই সমস্যাগুলো সবসময় নিজেদের নিয়ে বড় ধরনের কোনো আওয়াজ তোলে না। অন্যদিকে, শরীর এমন কিছু নীরব সতর্ক সংকেত পাঠায় যা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়। সমস্যা হলো, এর লক্ষণগুলো সাধারণত মৃদু এবং খুব একটা সুনির্দিষ্ট নয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করাকে আরও কঠিন করে তোলে। এই পাঁচটি ছোট লক্ষণের অর্থ হতে পারে যে আপনার শরীরে ভিটামিনের অভাব রয়েছে- ১. সবসময় ক্লান্ত যদি আপনি পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন, তাহলে আপনি হয়তো পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ বা ভিটামিন ডি পাচ্ছেন না। এই পুষ্টি উপাদানগুলো স্নায়ু সচল রাখতে এবং শক্তি উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি এই প্রাথমিক লক্ষণটি উপেক্ষা করেন, তাহলে আপনি আরও বেশি ক্লান্ত বোধ করতে পারেন এবং কাজকর্মে কম সক্ষম হতে পারেন। এই আপাতদৃষ্টিতে ছোটখাটো সমস্যাগুলো ভিটামিনের অভাবের সতর্ক সংকেত হতে পারে, যা আমাদের মধ্যে অনেকেই ব্যস্ততার মাঝে উপেক্ষা করে থাকি। ২. চুল পড়া অল্প-স্বল্প চুল পড়া স্বাভাবিক, কিন্তু যদি এটি খুব বেশি বা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে এর কারণ হতে পারে আপনি পর্যাপ্ত আয়রন, বায়োটিন বা ভিটামিন ডি পাচ্ছেন না। চুলের গোড়ায় পুষ্টির একটি স্থির সরবরাহ প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্র ব্যাহত হতে পারে। ৩. মুখে বা ঠোঁটে ঘা বেশির ভাগ মানুষই মুখের কোণায় বারবার ফিরে আসা ঘা বা ফাটলের দিকে মনোযোগ দেয় না। কিন্তু এর মানে এও হতে পারে যে আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন, যেমন বি২, বি৬, এবং বি১২ পাচ্ছেন না। ত্বকে ওষুধ লাগালে হয়তো কিছুক্ষণের জন্য উপকার হতে পারে, কিন্তু আসল সমস্যাটি সাধারণত আরও গভীরে থাকে। ৪. হাতে ও পায়ে ঝিনঝিন করা হাতে-পায়ে কাঁটা ফোটার মতো অনুভূতি যা সহজে দূর হয় না, তাকে উপেক্ষা করবেন না। এটি একটি লক্ষণ হতে পারে যে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ না পাওয়ার কারণে আপনার স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর চিকিৎসা না করালে এটি আরও গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার কারণ হতে পারে। ৫. ফ্যাকাশে ত্বক এবং সহজে ভেঙে যাওয়া নখ যদি আপনার ত্বক অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে হয় বা আপনার নখ দুর্বল ও ভঙুর হয়, তাহলে আপনি হয়তো পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, ফোলেট বা ভিটামিন সি পাচ্ছেন না। এই পুষ্টি উপাদানগুলো রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
চৈত্র সংক্রান্তিতে পাতে যেসব খাবার রাখতে পারেন

চৈত্র সংক্রান্তিতে পাতে যেসব খাবার রাখতে পারেন আগামীকাল চৈত্রসংক্রান্তি, মানে চৈত্র মাসের শেষ তারিখ। একইসঙ্গে বাংলা বছরের শেষ দিন। এরপরদিন নতুন বছরের যাত্রা শুরু হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চৈত্রসংক্রান্তির খাবার ভিন্ন হয়ে থাকে। অমিল থাকলেও একটি জায়গায় সবাই এক, আর তা হলো এদিনে পাতে তিতা স্বাদের খাবার থাকে। ধারণা করা হয়, তিতা স্বাদ জীবনের কষ্ট, দুঃখ বা তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতীক। এই তিতা স্বাদের খাবার খেয়ে জীবনের সব স্বাদ (মিষ্টি, টক, তিতা) গ্রহণ করার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়াকে বোঝানো হয়। যাক সে কথা, এবারের চৈত্র সংক্রান্তিতে ঘরে কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করতে পারেন। কাঁচা কাঁঠালের তরকারি:চৈত্র সংক্রান্তির আরেকটি উল্লেখোগ্য খাবার কাঁঠালের তরকারি। কাঁচা কাঁঠালের নানা অংশ দিয়ে এই তরকারি রান্না করা হয়। গিমা শাক:গ্রামের গৃহিণীরা এ দিন গিমা শাক ও বেগুন দিয়ে তরকারি রান্না করেন। এ সব তরকারি খেতে দেওয়া হয় ব্রত পালনকারি নারীদের। নিম পাতা:নিমপাতা ও চাল ভেজে এক সঙ্গে খাওয়া চৈত্র সংক্রান্তির পুরনো ধারা। অনেকের ধারণা, এই খাবার খেলে সারা বছর সুস্থ থাকা সম্ভব। সজনের চচ্চড়ি : চৈত্র সংক্রান্তিতে অনেক বাড়িতে সজনে চচ্চড়ি রান্না হয়। তা দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। নিরামিষ তরকারি: ব্রত পালন করা নারীরা বিভিন্ন নিরামিষ তরকারি রান্না করেন। বিভিন্ন শাক দিয়ে এই রান্না করা হয়। তিতা ডাল : চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম খাবার তিতা ডাল। এটিই এই উৎসবের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত খাবার। নারকেল নাডু: এ দিন অনেক বাড়িতে নারকেলের নাডু বানানো হয়। অতিথি আপ্যায়নে চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম অনুসঙ্গ এই খাবার। চৈত্র সংক্রান্তিতে নকশী পিঠাও বানানো হয়।
স্ট্রবেরি জ্যাম তৈরির রেসিপি জেনে নিন

স্ট্রবেরি জ্যাম তৈরির রেসিপি জেনে নিন পাউরুটি কিংবা টোস্টের সঙ্গে জ্যাম মাখিয়ে খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এটি খুব আকর্ষণীয় একটি খাবার। বাইরে থেকে কেনা জ্যামের বদলে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন এই সুমিষ্ট পদ। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে স্ট্রবেরি। এই ফল দিয়ে জ্যাম তৈরি করে আপনি অনেকদিন সংরক্ষণ করতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, স্ট্রবেরি জ্যাম তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে স্ট্রবেরি- ১ কেজি চিনি- ৭৫০ গ্রাম লেবুর রস- ১টি। যেভাবে তৈরি করবেন স্ট্রবেরিগুলো ধুয়ে টুকরা করে কেটে নিন। রান্নার পাত্রে স্ট্রবেরি, চিনি এবং লেবুর রস দিন। এবার মাঝারি আঁচে ফুটাতে থাকুন। ঘনঘন নাড়তে হবে যেন নিচে লেগে না যায়। এভাবে প্রায় আধা ঘণ্টা রান্না করতে হবে যতক্ষণ না মিশ্রণটি ঘন হয়ে আসে। উপরে ফেনা জমলে তা চামচের সাহায্যে তুলে ফেলুন। এ পর্যায়ে একটি প্লেটে কিছুটা জ্যাম তুলে রাখুন। যদি জমে যায় তাহলে বুঝবেন জ্যাম তৈরি। এবার নামিয়ে ঠান্ডা করে এয়ার টাইট বয়ামে সংরক্ষণ করুন।
গরমে হজমশক্তি বাড়ায় সজনে ডাঁটা

গরমে হজমশক্তি বাড়ায় সজনে ডাঁটা বসন্ত আগমনের সময় থেকেই বাজারে মিলছে সজনে ডাঁটা। মাছের তরকারি থেকে শুরু করে সরিষা দিয়ে সজনে ডাটা রান্না অনেকেরই পছন্দের। স্বাদের পাশাপাশি গরমের এই সবজিটি স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। সজনে ডাঁটায় প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, কপার, ফসফরাসের মতো নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এমনিতে বসন্ত আর গ্রীষ্মের মাঝখানের এই সময়টাতে সংক্রমণজনিত নানা সমস্যা বাড়ে। গ্রীষ্মে বিভিন্ন ধরনের অসুখের ঝুঁকি এড়াতে তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সজনে ডাঁটা রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। গরমে এই ডাঁটা খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়- পানিশূন্যতায় ঝুঁকি কমায় সজনে ডাঁটায় পানির পরিমাণ বেশি। এর ফলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে খেতে পারেন সজনে ডাঁটা। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতেও সজনে ডাঁটার ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিদিন এই ডাঁটা খেলে গরমে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে গরমে পেট খারাপ থেকে শুরু করে গ্যাস, অ্যাসিডিটিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শরীর থেকে অত্যধিক ঘাম বেরিয়ে যায় বলে, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও অনেকটা কমে যায়। সজনে ডাঁটায় থাকা পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন রোগের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি জোগায়। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডাঁটায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। হজমের সমস্যা কমে গরমে প্রায়ই হজমের সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সুস্থ থাকতে বাইরের খাবার খাওয়া এড়িয়ে জরুরি। সেই সঙ্গে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন সজনে ডাঁটা । পেটের সমস্যা কমাতে এই সবজির জুড়ি নেই।
কাঁচা কাঁঠালের কোফতা কারি তৈরির রেসিপি জেনে নিন

কাঁচা কাঁঠালের কোফতা কারি তৈরির রেসিপি জেনে নিন পাকা কাঁঠালই যে কেবল সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তা কিন্তু নয়, বরং আপনি এতদিনে কাঁচা কাঁঠালের অনেক গুণের কথাও জেনে থাকবেন। কাঁচা কাঁঠাল তো আর খেতে মিষ্টি কিংবা রসালো নয়, তাই এটি তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। চিংড়ি দিয়ে কাঁচা কাঁঠালের ভুনা কিংবা মাংসের সঙ্গে কাঁচা কাঁঠাল খাওয়া হয়েছে নিশ্চয়ই? এবার তবে জেনে নেন কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে কোফতা কারি তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে সেদ্ধ করা কাঁচা কাঁঠাল- ১ কাপ সেদ্ধ আলু- ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি- ২টি ধনিয়া পাতা কুচি- ২ টেবিল চামচ কাঁচা মরিচ কুচি- ৪টি জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ বেসন- ২ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া- ১ চা চামচ মরিচ গুঁড়া- ১ চা চামচ জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া- ১ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়া- ১ চা চামচ আদা বাটা- ১ চা চামচ রসুন বাটা- ১ চা চামচ পেঁয়াজ বাটা- ১ টেবিল চামচ আস্ত জিরা- ১ চা চামচ তেল- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন সেদ্ধ করে রাখা কাঁচা কাঁঠাল ও আলুর সঙ্গে লবণ, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনিয়াপাতা কুচি ও বেসন দিয়ে মেখে গোল গোল করে তেলে ভেজে তুলে রাখুন। এবার কড়াইতে বাকি তেলে আস্ত জিরা ফোড়ন দিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিন। পেঁয়াজ সোনালি হয়ে এলে তাতে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। কষানো হলে তাতে পরিমাণমতো পানি দিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে কোফতা দিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। ঝোল গাঢ় হয়ে উপরে তেল ভেসে উঠলে গরম মসলা গুঁড়া ও ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রকৃতি

মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রকৃতি নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—পৃথিবী এখন মানুষের চাহিদার চাপ সামলাতে প্রায় সীমায় পৌঁছে গেছে। বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮৩০ কোটি। কিন্তু গবেষকদের মতে, প্রকৃতি যত দ্রুত নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে, মানুষ তার চেয়ে অনেক দ্রুত সম্পদ ব্যবহার করছে ফ্লাইন্ডারস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কোরি ব্র্যাডশ’র নেতৃত্বে করা এই গবেষণা এনভাইরনমেন্টাল রিসার্স লেটারস -এ প্রকাশিত হয়েছে। দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, বর্তমানে মানুষের পরিবেশগত চাপ পৃথিবীর জৈব সক্ষমতার (প্রকৃতি যত সম্পদ পুনরায় তৈরি করতে পারে) তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। সহজভাবে বললে, বর্তমান জীবনধারা টিকিয়ে রাখতে পৃথিবীর মতো প্রায় ১.৮টি গ্রহ দরকার। গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালের পর জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করলে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে যে ভারসাম্য ছিল, তা ভেঙে যায়। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘নেতিবাচক জনসংখ্যাগত ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৬০-এর শেষ ভাগ বা ২০৭০-এর দিকে বিশ্ব জনসংখ্যা ১,১৭০ থেকে ১,২৪০ কোটির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। অধ্যাপক ব্র্যাডশ বলেন, পৃথিবী এখন যেভাবে সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আর বহন করতে পারছে না। এতে পরিবেশগত ঋণ (প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত চাপ), জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশের ক্ষয় দ্রুত বাড়ছে। গবেষকদের মতে, যদি সবাই পরিবেশের সীমার মধ্যে থেকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ জীবনযাপন করতে চায়, তাহলে টেকসই বিশ্ব জনসংখ্যা হওয়া উচিত প্রায় ২৫০ কোটি। সমাধান হিসেবে তারা শিক্ষার প্রসার, পরিবার পরিকল্পনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার, টেকসই নগর পরিকল্পনা এবং খাদ্য উৎপাদন ও ভোগব্যবস্থায় সংস্কারের কথা বলেছেন। গবেষকদের সতর্কবার্তা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংকট আরও গভীর হবে। তবে দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলে এখনো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।