জেনে নিন বিটরুটের হালুয়া তৈরির রেসিপি

জেনে নিন বিটরুটের হালুয়া তৈরির রেসিপি হালুয়ার স্বাদ কে না পছন্দ করেন! বিশেষ করে মিষ্টি খাবার খেতে যারা বেশি ভালোবাসেন, তাদের কাছে পছন্দের একটি পদ হলো হালুয়া। অতিথি আপ্যায়নে বা বিশেষ কোনো আয়োজনে থাকে নানা স্বাদের হালুয়া। সাধারণত আমাদের দেশে ছোলার ডাল কিংবা সুজির হালুয়া বেশি খাওয়া হয়। তবে আরও অনেক কিছু দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু হালুয়া। আজ চলুন জেনে নেওয়া যাক বিটরুটের হালুয়া তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে : বিটরুট- ১টি লবণ- ১ চিমটি সুজি- ১/২কাপ ময়দা- ১/২কাপ ঘি- ১/২ কাপ এলাচ- ২টি গুঁড়া দুধ- ৩ টেবিল চামচ পানি- পরিমাণমতো গোলাপ জল- ১/২চা চামচ কিশমিশ, বাদাম ও কোকোনাট পাউডার- সাজানোর জন্য। যেভাবে তৈরি করবেন প্রথমে বিটরুট ধুয়ে গ্রেট করে তারপর ব্লেন্ড করে নিন। এবার বিটের রসটুকু ছেঁকে নিন। একটি ননস্টিক কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে ময়দা ও সুজি একসঙ্গে মিশিয়ে অনবরত নেড়েচেড়ে ভেজে নিন। একটু লালচে ভাব হয়ে এলে তাতে বিটের রস, চিনি ও গুঁড়া দুধ মিশিয়ে নেড়েচেড়ে নিন। হালুয়া কড়াইয়ের গা ছেড়ে এলে গোলাপজল ও কাজু পেস্তা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর পছন্দমতো শেইপে কেটে নিন। উপরে কোকোনাট পাউডার ও কিশমিশ-বাদাম ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।
সুস্থ কিডনির রহস্য লুকিয়ে আছে যেসব খাবারে
সুস্থ কিডনির রহস্য লুকিয়ে আছে যেসব খাবারে রক্ত পরিশোধন, শরীরের বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিন) অপসারণ এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সামলায় কিডনি। তবে বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাপন আর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। কেবল পর্যাপ্ত পানি খেলেই কিডনি রক্ষা পায় না, প্রয়োজন সঠিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার হাতের কাছে থাকা কিছু সাধারণ খাবারই হতে পারে কিডনির সুরক্ষাকবচ। জেনে নিন কী কী রাখবেন আপনার দৈনন্দিন তালিকায়- ফুলকপি ও পেঁয়াজ : ডিটক্সের হাতিয়ার কিডনি থেকে টক্সিন বের করে দিতে ফুলকপির জুড়ি নেই। এটি ভিটামিন সি, ফোলেট এবং ফাইবার সমৃদ্ধ, যা শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়ায় দারুণ কাজ করে। অন্যদিকে, যারা পটাশিয়ামের ভয়ে সবজি বাছেন, তাদের জন্য পেঁয়াজ আদর্শ। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যেমন- অ্যাসিলিন ও কোয়ারসেটিন কিডনির ওপর চাপ কমিয়ে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফল যখন মহৌষধ : আপেল ও তরমুজ কিডনিকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণে দ্রুত কাজ করে। এছাড়া আপেলের উচ্চ ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শুধু কিডনির প্রদাহই কমায় না, বরং রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। তেল ও ভেষজ গুণ : রান্নায় স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস হিসেবে জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার কিডনি রোগীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। পাশাপাশি যারা ওজন কমাতে গ্রিন টি খান, তারা জেনে খুশি হবেন যে এটি কিডনির জন্য একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে কাজ করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাগুণ কিডনির কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রসুন ও সামুদ্রিক মাছ : প্রদাহবিরোধী বা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানে ঠাসা রসুন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়া খাদ্যতালিকায় স্যামন বা টুনার মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ রাখা জরুরি। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমিয়ে কিডনির সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।
এপস্টেইন আইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত গোপন কম্পাউন্ড

এপস্টেইন আইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত গোপন কম্পাউন্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত লিটল সেন্ট জেমস ও গ্রেট সেন্ট জেমস। এই দুই দ্বীপকে জেফরি এপস্টেইন পরিণত করেছিলেন একটি গোপন কম্পাউন্ডে। আর এখানেই তিনি মানবপাচারের শিকার নারী ও শিশুদের এনে আটক রাখতেন। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, দুটি দ্বীপ মিলিয়ে মোট আয়তন ছিল প্রায় ২৩৭ একর। বাহ্যিকভাবে দ্বীপগুলো ছিল অভিজাত অতিথিদের জন্য বিলাসী স্বর্গ। আদতে বাস্তবে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য এটি ছিল নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে ঘেরা এক ভয়াবহ ফাঁদ। দ্বীপগুলোর বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থাই জেফরি এপস্টেইনের কার্যক্রম পরিচালনাকে আরও সহজ করে তোলে। এই দ্বীপে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ভবন, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে অতিথিদের চলাফেরা ধারণ করার ব্যবস্থাও ছিল বলে জানা যায়। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, দ্বীপ দুটিতে ব্যক্তিগত জেট, হেলিপ্যাডসহ নানা বিলাসী সুবিধা থাকলেও সেগুলো পরিচালিত হতো কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দ্বীপগুলো কার্যত একটি ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের সাধারণ পর্যটকের ছদ্মবেশে সেন্ট থমাস বিমানবন্দর দিয়ে এই দ্বীপে আনা হতো। এরপর তাদের দ্বীপে নিয়ে গিয়ে বন্দী করে রাখা হতো। তারা বাইরের দুনিয়া থেকে ওই দ্বীপের মতো নির্জন আর একা হয়ে পড়তেন।
আকাশে দেখা গেল ফেব্রুয়ারির ‘স্নো মুন’, আসছে সুপারমুন ও চন্দ্রগ্রহণ

আকাশে দেখা গেল ফেব্রুয়ারির ‘স্নো মুন’, আসছে সুপারমুন ও চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশ সময় গত সোমবার ভোরে আকাশে দেখা গেছে ফেব্রুয়ারির পূর্ণিমা, যাকে ‘স্নো মুন’ নামে ডাকা হয়। উত্তর আমেরিকায় এ সময় তুষারপাত বেশি হয় বলে এই নামটি জনপ্রিয়। পূর্ণিমার চাঁদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেই দেখা যায়। বাংলাদেশে রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চাঁদ ছিল প্রায় পূর্ণিমার মতো উজ্জ্বল। আর্থস্কাই-এর তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণিমা সর্বোচ্চ উজ্জ্বল হয়েছিল রবিবার বিকাল ৫টা ৯ মিনিটে (ইস্টার্ন টাইম)। বাংলাদেশ সময় তা ছিল সোমবার ভোর ৪টা ৯ মিনিটে। ফলে দেশে চাঁদ দেখার সবচেয়ে ভালো সময় ছিল রবিবার রাত এবং সোমবার ভোর। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিজ্ঞানী নোয়া পেট্রো জানান, পূর্ণিমার সময় চাঁদের পৃষ্ঠে আলো-অন্ধকার অংশ খালি চোখেও দেখা যায়। টেলিস্কোপ বা দূরবীন ব্যবহার করলে চাঁদের গর্ত (ক্রেটার) ও বিভিন্ন গঠন আরও স্পষ্ট বোঝা সম্ভব। এদিকে আকাশপ্রেমীদের জন্য সামনে আরও কয়েকটি বড় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা রয়েছে। ফারমার্স অ্যালমানাকের তালিকা অনুযায়ী, ৩ মার্চ আবার পূর্ণিমা হবে (ওয়ার্ম মুন)। একই দিনে এশিয়া অঞ্চলের আকাশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যেতে পারে। চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ লালচে দেখাতে পারে, যাকে অনেকে ‘ব্লাড মুন’ (রক্তিম চাঁদ) বলেন। এছাড়া ২০২৬ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেখা যেতে পারে সুপারমুন ; চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি চলে এলে এটি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দৃশ্য উপভোগ করতে শহরের অতিরিক্ত আলো এড়িয়ে খোলা জায়গা বেছে নেওয়া ভালো। আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশ থেকেও এসব ঘটনা সহজে দেখা যাবে।
হঠাৎ চোখ কেঁপে ওঠা বা লাফালে করণীয় কী

হঠাৎ চোখ কেঁপে ওঠা বা লাফালে করণীয় কী হঠাৎ চোখ কেঁপে ওঠা বা লাফিয়ে ওঠা একটি পরিচিত, কিন্তু অনেকের কাছেই উদ্বেগজনক সমস্যার মধ্যে একটি। নারী-পুরুষ উভয়েরই অমূল্য সম্পদ হলো তাদের দুটি চোখ। এই চোখ দিয়েই আমরা রঙিন দুনিয়ার নানা দৃশ্য উপভোগ করি। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কোনো অজানা কারণে হঠাৎ চোখ কেঁপে ওঠে কেন? অনেকেই চোখ কাঁপাকে কোনো অঘটনের পূর্বাভাস বলে মনে করেন, যদিও বাস্তবে এর পেছনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে চোখের এই অনিয়ন্ত্রিত কাঁপা বা লাফিয়ে ওঠাকে বলা হয় মাইয়োকিমিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে এক-দুবার চোখ কাঁপা সাধারণত স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে যদি এটি অতিরিক্ত হয় বা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে অবশ্যই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চোখের পাতা কেঁপে ওঠার পেছনে কয়েকটি গুরুতর কারণ থাকতে পারে। মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বেশি ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে চোখ কাঁপতে পারে। এ ছাড়া বাতাসের ধুলাবালি, ময়লা, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসা কিংবা চোখে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সচেতন হলে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চোখের পাতা লাফালে প্রথমেই চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও অন্যান্য ডিজিটাল পর্দার ব্যবহার সীমিত করা উচিত এবং কম আলোয় চোখের কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করতে হবে এবং চা-কফির পরিমাণও কমিয়ে দেওয়া ভালো। দূষিত বাতাসের কারণে সমস্যা হলে রোদচশমা ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে। তবে গুরুতর দৃষ্টিগত সমস্যা, পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা কিংবা অ্যালার্জির কারণে যদি চোখ কাঁপা শুরু হয়, তাহলে অবশ্যই একজন দক্ষ চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। কারণ দৃষ্টিগত সমস্যায় ধীরে ধীরে চোখের জ্যোতি কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ভবিষ্যতে চোখের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। চোখের পাতা লাফালে প্রাথমিকভাবে পানি পান বাড়াতে হবে এবং প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে ডাব, দুধ, ডিম, বাদাম ও মৌসুমি ফলমূল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। পুষ্টির ভারসাম্যহীনতার কারণে চোখ কাঁপা শুরু হলে চিকিৎসকরা সাধারণত শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি রয়েছে বলে ধারণা করেন। এ ক্ষেত্রে সঠিক ডায়েট প্ল্যান ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চোখ কাঁপার মতো সমস্যার সম্মুখীন হলে দেরি না করে প্রথমেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাতেও উপকার না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। প্রফেসর ডা. সৈয়দ একে আজাদ লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন
রাতে চুল বেঁধে ঘুমানো কি ভালো?

রাতে চুল বেঁধে ঘুমানো কি ভালো? রাতে ঘুমানোর আগে অনেকেই চুল শক্ত করে বেঁধে ঘুমান। তারা মনে করেন চুল বেঁধে ঘুমালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। কিন্তু রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে চুল শক্ত করে বাঁধলে গোড়ায় টান পড়ে। এ কারণে চুল বেশি পরিমাণে ঝরে যায়। আবার পুরো খুলে রাখলেও বিপদ। বালিশের সঙ্গে ঘষে ঘষে চুলের ডগা ফেটে যেতে পারে। তাই চুল ভালো রাখতে হালকা পনিটেল বা ঢিলেঢালা বেণী করে ঘুমানো ভালো। এতে ঘষাঘষি কম হয়। জটও কম পড়বে। চাইলে স্যাটিন কাপড়ের হেয়ার ক্যাপ মাথায় পরে ঘুমোতে পারেন। এতে চুল আরও সুরক্ষিত থাকে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে হালকা হেয়ার সিরাম মাখতে পারেন। ঘরোয়া টোটকা হিসেবে মাখতে পারেন অ্যালোভেরা জেলও। ভেজা চুল নিয়ে কখনোই ঘুমাতে যাবেন না। তাতে চুল ঝরার পরিমাণ বেড়ে যায়। ঘুমানোর আগে স্যাটিনের হেয়ার ক্যাপ, বালিশের কভারও ব্যবহার করতে পারেন।
কুমড়ার বীজ বেশি খেলে শরীরে যা ঘটে

কুমড়ার বীজ বেশি খেলে শরীরে যা ঘটে কুমড়োর বীজ ছোট, মুচমুচে এবং একসঙ্গে অনেক খেলেও অরুচি হয় না, যার ফলে ইচ্ছার চেয়ে বেশি খাওয়া খুব সহজ হয়ে যায়। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থে ভরপুর এই বীজ পরিমিত পরিমাণে খেলে বেশ কিছু উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ পুষ্টিকর খাবারের মতো কুমড়ার বীজও একসঙ্গে বেশি খেয়ে ফেললে আমাদের শরীর অস্বস্তি বোধ করতে পারে। অতিরিক্ত কুমড়ার বীজ খাওয়ার ফলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কুমড়ার বীজ বেশি খেলে কী হয়- ১. পেট ফাঁপা এবং গ্যাস হতে পারে : কুমড়ার বীজে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা পরিমিত পরিমাণে খেলে হজমে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত ফাইবার অন্ত্রকে চাপে ফেলতে পারে, যার ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং পেটে চাপ তৈরি হয়। জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণকারীদের পেট ফাঁপা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ ফাইবার অন্ত্রে গাঁজন বৃদ্ধি করে এবং উপজাত হিসেবে গ্যাস তৈরি করে। ২. কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হতে পারে : কুমড়ার বীজ অতিরিক্ত খেলে স্বাভাবিক মলত্যাগ ব্যাহত হতে পারে কারণ এতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের ফাইবার থাকে। অত্যধিক অদ্রবণীয় ফাইবার অপাচ্য পদার্থকে খুব দ্রুত অন্ত্রের মধ্য দিয়ে ঠেলে দিতে পারে, যার ফলে আলগা মল তৈরি হয়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে একই ফাইবার বর্জ্য পদার্থকে শক্ত করে কোষ্ঠকাঠিন্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ৩. পেটে ক্র্যাম্প এবং বদহজম : কুমড়ার বীজের একটি শক্ত বাইরের স্তর থাকে এবং এতে চর্বি থাকে যা পেট ভেঙে ফেলতে বেশি সময় নেয়। একবারে অনেক বেশি খাওয়ার ফলে পেটে ক্র্যাম্প, ভারী হওয়া বা বদহজম হতে পারে। কুমড়ার বীজ উষ্ণ প্রকৃতির এবং সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রের লোকেদের অ্যাসিডিটি বা বদহজম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ৪. বেশি ক্যালোরি গ্রহণ : কুমড়ার বীজ পুষ্টিকর কিন্তু এতে ক্যালোরিও বেশি থাকে। এক কাপ ভাজা কুমড়ার বীজে প্রায় ২৮৫ ক্যালোরি থাকে, যা আপনার দৈনন্দিন চাহিদার চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়। যদি অতিরিক্ত খাওয়া অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে এই লুকানো ক্যালোরিগুলো ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। ৫. সোডিয়াম গ্রহণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে : অনেক প্যাকেজ করা কুমড়ার বীজ প্রচুর লবণাক্ত থাকে, যা অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চ সোডিয়াম গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ফলে পানি ধরে রাখা, পেটফাঁপা এবং তৃষ্ণার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সাময়িকভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে

পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে চুলের যত্নে পেঁয়াজের ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক আগে থেকে। এতে থাকা সালফার মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। হেয়ার ফলিকল মজবুত করে। এখন শুধু চুলের যত্নেই নয়, রূপচর্চায়ও ব্যবহৃত হচ্ছে এ উপাদান। রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা, তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে এর জন্য জানতে হবে পেঁয়াজের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং বলিরেখা দূর হবে। পেঁয়াজের রস ও মধু : পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। এই প্যাক মুখে মেখে মিনিট দশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক মাখলে যেমন ত্বকের পোরস পরিষ্কার হবে, তেমনই বাড়বে রক্ত সঞ্চালন। পেঁয়াজের রস ও টক দই : পেঁয়াজের রসের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে মুখে মাখলে আলাদা করে এক্সফোলিয়েট করার প্রয়োজন পড়বে না। ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই উঠে যাবে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। পেঁয়াজের রস ও লেবুস : দ্রুত ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ মুখে মেখে মিনিট দশেক অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা : শুষ্ক খসখসে ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়াতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন অ্যালোভেরা। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। পেঁয়াজের রস ও বেসন : তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা দূর করতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে বেসন মিশিয়ে নিন। এই প্যাক মুখে মাখুন। ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এই মিশ্রণ। ত্বকের টেক্সচারও ভালো করে।
চুলকানি ত্বকের ঘরোয়া সমাধান

চুলকানি ত্বকের ঘরোয়া সমাধান জীবনে একবারও ত্বকে চুলকানি হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা হয়তো। খুব সাধারণ এই ব্যাপারটি অসহ্যকর একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন ত্বকের চুলকানি বেড়ে যায়। অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আশ্রয় নেয় নানান মলম বা ক্রিমের যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়ার আছে প্রাকৃতিক কিছু উপায়। ঘরোয়া এই উপায়গুলোতে খুব সহজেই ত্বকের ক্ষতি ছাড়াই চুলকানির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন আপনি। জেনে নিন চুলকানির ঘরোয়া কিছু প্রতিকার সম্পর্কে। লেবু: লেবুর রসে আছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকের চুলকানি কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। চুলকানির প্রতিকার পাওয়ার জন্য লেবুর রস ব্যবহার করাও খুব সহজ। ত্বকের যে স্থানে চুলকানি অনুভূত হচ্ছে সেখানে লেবুর রস লাগিয়ে শুকিয়ে ফেলুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। তুলসী পাতা: তুলসী পাতায় আছে ইউজেনল যা একটি অ্যান্সথেটিক উপাদান। এই উপাদানটি চুলকানি কমিয়ে দিতে সহায়ক। এক মগ ফুটন্ত পানিতে ১৫/২০টি তুলসী পাতা জ্বাল দিয়ে নির্যাস বের করে নিন। এরপর একটি পরিষ্কার টাওয়েলে পানিটি লাগিয়ে হালকা গরম থাকা অবস্থাতেই চুলকানির স্থানে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ আরাম অনুভূত হবে। পুদিনা পাতা: পুদিনা পাতারও আছে অ্যান্সথেটিক ও ইনফ্লেমেটরি উপাদান। চুলকানির প্রতিষেধক হিসেবে তাই পুদিনা পাতাও অত্যন্ত উপকারী। এক মগ ফুটন্ত পানিতে এক আউন্স পুদিনা পাতা জ্বাল দিয়ে নির্যাস তৈরি করে নিন। এরপর এই পানিটি চুলকানির স্থানে লাগিয়ে রাখুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। অ্যালোভেরা: ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহারের কথা তো সবাই জানেন। চুলকানি প্রতিকারেও অ্যালোভেরার জুড়ি নেই। ত্বকের যে স্থানে চুলকানি হচ্ছে সেখানে একটি তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে রস বের করে লাগিয়ে রাখুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। বেকিং সোডা: বেকিং সোডা ত্বকের পিএইচ ভারসাম্যহীনতাকে মোকাবেলা করতে পারে এবং আপনার ত্বকের অ্যালার্জি প্রশমিত করতে প্রদাহ বিরোধী হিসাবে কাজ করে।
ত্বকের বয়স ধরে রাখুন প্রাকৃতিক উপায়ে

ত্বকের বয়স ধরে রাখুন প্রাকৃতিক উপায়ে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ছাপ পড়ে ত্বকেও। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন নামক প্রোটিনের ঘাটতি দেখা যায়। যার ফলে স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ঝুলে পড়ে ত্বক। মুখে দেখা দেয় বলিরেখা ও রিঙ্কেলস। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার কারণেও অনেকের অল্প বয়সেই ত্বকে ভাঁজ পড়তে পারে। এ সমস্যা দূর করতে অনেকেই কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম বা চিকিৎসার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে প্রাকৃতিক উপায়েও বলিরেখা প্রতিরোধ ও কমানো সম্ভব। যেমন- নিয়মিত মুখে তেল বা ময়শ্চারাইজার ব্যবহার ত্বককে ময়শ্চারাইজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল বা আর্গন অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এ সব তেল ত্বককে গভীর ভাবে হাইড্রেট করে। এর ফলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না । প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন দেহ ও ত্বকের হাইড্রেশন বজায় রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন দূর করে ত্বককে ভিতর থেকে নরম ও উজ্জ্বল রাখে পানি। সেই সঙ্গে পুরনো মৃত কোষ সরিয়ে দেয়। সঠিক খাদ্যাভাস নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি, ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন ফল, শাক-সবজি, বাদাম এবং মাছ রাখুন। এগুলো ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচুন : সরাসরি সূর্যের আলো থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে। এর ফলে ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস কমানো : ত্বক সুন্দর রাখতে পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম প্রয়োজন। স্ট্রেস কমালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। নেই সঙ্গে বলিরেখার প্রবণতা কমে। প্রাকৃতিক ফেস মাস্ক ব্যবহার: মধু, অ্যালোভেরা জেল, নারকেল দুধ অথবা দই দিয়ে ফেস মাস্ক করলে ত্বক নরম ও টানটান থাকে। সপ্তাহে ২-৩ বার এই ধরনের মাস্ক মুখে লাগালে উপকার পাবেন। নিয়মিত ব্যায়াম ও মুখের ব্যায়াম: ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। যার ফলে ত্বক সতেজ থাকে। এর পাশাপাশি মুখের বিশেষ ব্যায়াম করলে মুখের পেশি টোন করে, বলিরেখা কমে। এছাড়া মুখের ব্যায়াম করলে কোলাজেনের উৎপাদনও বাড়ে। এতে ত্বক থাকে টানটান ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।